🎉 3-Day Free Trial — All premium features unlocked, zero credit card required ● 📚 28+ Expert Guides published and growing every week
Back to Blog
HSC

লেকচার শিট: অধ্যায় ৭: নগ্নবীজী ও আবৃতবীজী উদ্ভিদ

By admin 7 views
লেকচার শিট

অধ্যায় ৭: নগ্নবীজী ও আবৃতবীজী উদ্ভিদ

একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী

পরিচিতি

এই পাঠে যা শিখবে
  • কোষে পানি চলাচল, অভিস্রবণ, প্লাজমোলাইসিস, টারজিডিটি ও ইমবাইবিশন ব্যাখ্যা করতে পারবে।
  • সালোকসংশ্লেষণের ভিত্তি, প্রয়োজনীয় উপাদান, ক্লোরোপ্লাস্ট ও রঞ্জক পদার্থ চিনতে পারবে।
  • ফটোসিস্টেম, আলোকনির্ভর বিক্রিয়া, ATP, NADPH + H⁺ ও ফটোফসফোরাইলেশন বুঝতে পারবে।
  • আলোক-নিরপেক্ষ পর্যায়ে কার্বন বিজারণ ও ক্যালভিন চক্রের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারবে।
  • আলো, তাপমাত্রা, CO₂, পানি ও ক্লোরোফিল কীভাবে সালোকসংশ্লেষণের হার নিয়ন্ত্রণ করে তা বিশ্লেষণ করতে পারবে।

আগে যা জানা দরকার

উদ্ভিদকোষের কোষপ্রাচীর, কোষঝিল্লি, প্রোটোপ্লাজম ও ক্লোরোপ্লাস্টের গঠন সম্পর্কে ধারণা থাকা দরকার।
অভিস্রবণ, ব্যাপন, পানি শোষণ এবং জাইলেমের মাধ্যমে পানি পরিবহন সম্পর্কে জানা থাকলে বিষয়টি সহজ হবে।
শর্করা, অক্সিজেন, কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং শক্তির মৌলিক ধারণাও প্রয়োজন।

এই অধ্যায় কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উদ্ভিদ কীভাবে পানি গ্রহণ করে এবং সূর্যালোকের শক্তি ব্যবহার করে শর্করা তৈরি করে—এই অধ্যায়ে তা জানা যায়। সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য ও অক্সিজেন উৎপন্ন হয়, তাই জীবজগতের জন্য এর গুরুত্ব অপরিসীম। পরীক্ষায় সংজ্ঞা, সমীকরণ, ফটোসিস্টেম, ফটোফসফোরাইলেশন, ক্যালভিন চক্র এবং সীমাবদ্ধতা ফ্যাক্টর থেকে প্রশ্ন আসে।

এক নজরে

ক্রমবিষয়
১কোষে পানি চলাচল ও ইমবাইবিশন
২সালোকসংশ্লেষণের ভিত্তি, অঙ্গ ও রঞ্জক
৩ফটোসিস্টেম ও আলোকনির্ভর বিক্রিয়া
৪আলোক-নিরপেক্ষ পর্যায় ও কার্বন বিজারণ
৫সালোকসংশ্লেষণের নিয়ামক ও হার

কোষে পানি চলাচল ও ইমবাইবিশন

উদ্ভিদকোষে পানির চলাচল প্রধানত অভিস্রবণ (osmosis) প্রক্রিয়ায় ঘটে। অর্ধভেদ্য পর্দার মাধ্যমে কম ঘন দ্রবণ থেকে বেশি ঘন দ্রবণের দিকে দ্রাবক, অর্থাৎ পানি, যাওয়াকে অভিস্রবণ বলে। কোষে পানি প্রবেশ বা বের হওয়ার ফলে কোষের আকার ও প্রোটোপ্লাজমের অবস্থার পরিবর্তন হয়।

মূল সংজ্ঞা

অভিস্রবণিক চাপ (Osmotic pressure): অভিস্রবণ বন্ধ করতে কোনো দ্রবণের উপর যে সর্বনিম্ন চাপ প্রয়োগ করতে হয়, তাকে ওই দ্রবণের অভিস্রবণিক চাপ বলে।

বহিঃঅভিস্রবণ (Exosmosis): কোষের ভেতর থেকে পানি বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া।

অন্তঃঅভিস্রবণ (Endosmosis): কোষের বাইরে থেকে পানি কোষের ভেতরে প্রবেশের প্রক্রিয়া।

১. বহিঃঅভিস্রবণ ও প্লাজমোলাইসিস

কোনো উদ্ভিদকোষকে বেশি ঘন দ্রবণে রাখলে কোষের ভেতরের দ্রবণ তুলনামূলকভাবে কম ঘন হয়। তখন অভিস্রবণের নিয়মে কোষের পানি অর্ধভেদ্য কোষঝিল্লি অতিক্রম করে বাইরে চলে যায়। এই পানিবের হওয়ার প্রক্রিয়াই বহিঃঅভিস্রবণ।

  1. কোষকে ঘন দ্রবণে রাখা হয়।
  2. কোষের পানি বাইরে বেরিয়ে যায়।
  3. কোষের রস ও প্রোটোপ্লাজমের আয়তন কমে যায়।
  4. প্রোটোপ্লাজম কোষপ্রাচীর থেকে সরে গিয়ে সংকুচিত হয়।

বহিঃঅভিস্রবণের ফলে কোষের প্রোটোপ্লাজম সংকুচিত হওয়াকে প্লাজমোলাইসিস (Plasmolysis) বা প্রোটোপ্লাজম সংকোচন বলে। এখানে মনে রাখতে হবে, প্লাজমোলাইসিসের সরাসরি কারণ হলো কোষ থেকে পানির বেরিয়ে যাওয়া।

২. অন্তঃঅভিস্রবণ, টারজিডিটি ও টারগার প্রেসার

কোষকে কম ঘন দ্রবণে রাখলে বাইরের দ্রবণে পানির পরিমাণ বেশি থাকে। তাই পানি কোষের ভেতরে প্রবেশ করে। এই প্রক্রিয়াকে অন্তঃঅভিস্রবণ বলে। পানি গ্রহণের ফলে কোষ স্ফীত ও দৃঢ় হয়। এই স্ফীত অবস্থার নাম টারজিডিটি (Turgidity) বা স্ফীতি।

টারজিডিটির ফলে কোষের প্রোটোপ্লাজম কোষপ্রাচীরের উপর যে চাপ সৃষ্টি করে, তাকে টারগার প্রেসার (Turgor pressure) বা স্ফীতি চাপ বলে। অর্থাৎ, অন্তঃঅভিস্রবণে পানি প্রবেশ করে টারজিডিটি সৃষ্টি করে এবং সেই স্ফীতির ফলেই টারগার প্রেসার তৈরি হয়।

উদাহরণ

শুকনো কিশমিশ পানিতে রাখলে কিশমিশ পানি শোষণ করে ফুলে ওঠে। এখানে পানির প্রবেশ অন্তঃঅভিস্রবণের সঙ্গে তুলনীয়। আবার কিশমিশকে ঘন চিনির দ্রবণে রাখলে পানি বাইরে বেরিয়ে গিয়ে এটি কুঁচকে যেতে পারে—এটি বহিঃঅভিস্রবণের উদাহরণ।

৩. ইমবাইবিশন

কোনো কোনো জড়ীয় তন্তু বা আংশিক তন্তুযুক্ত পদার্থ কর্তৃক তরল পদার্থ শোষণের বিশেষ প্রক্রিয়াকে ইমবাইবিশন (Imbibition) বলে। এ ক্ষেত্রে পদার্থটি তরল শোষণ করে ফুলে ওঠে। যে পদার্থ পানি শোষণ করে স্ফীত হয়, তাকে হাইগ্রোস্কোপিক পদার্থ (Hygroscopic substance) বলে।

কাঠ, স্পঞ্জ, রাবার, প্রোটিন ও জেলাটিন হাইগ্রোস্কোপিক পদার্থের উদাহরণ। ইমবাইবিশনে পদার্থের তন্তু বা কণার মধ্যে তরল জমা হয় এবং পদার্থের আয়তন বৃদ্ধি পায়। এটি অভিস্রবণ থেকে আলাদা; কারণ ইমবাইবিশনে অর্ধভেদ্য পর্দা থাকা আবশ্যক নয়।

শিক্ষকের টিপস

“বাইরে বের হয়—বহিঃঅভিস্রবণ, ভেতরে ঢোকে—অন্তঃঅভিস্রবণ।” পানি ঢুকলে কোষ ফুলে টারজিড হয়; পানি বের হলে প্রোটোপ্লাজম সংকুচিত হয়ে প্লাজমোলাইসিস হয়।

পরীক্ষায় যেভাবে আসে

প্লাজমোলাইসিসের কারণ, টারজিডিটি ও টারগার প্রেসারের সম্পর্ক এবং ইমবাইবিশনের উদাহরণ লিখতে বলা হতে পারে। সংজ্ঞার সঙ্গে “পানি বেরিয়ে যাওয়া” বা “পানি প্রবেশ” কথাটি অবশ্যই লিখবে।

দ্রুত যাচাই

১. বহিঃঅভিস্রবণের ফলে কোষে কী ঘটে?

উত্তর দেখোকোষের পানি বাইরে বেরিয়ে যায় এবং প্রোটোপ্লাজম সংকুচিত হয়ে প্লাজমোলাইসিস ঘটে।

২. ইমবাইবিশন ও টারজিডিটির একটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর দেখোইমবাইবিশনে হাইগ্রোস্কোপিক পদার্থ তরল শোষণ করে ফুলে ওঠে; টারজিডিটিতে অন্তঃঅভিস্রবণের ফলে জীবন্ত কোষ পানি গ্রহণ করে স্ফীত হয়।

সালোকসংশ্লেষণের ভিত্তি, অঙ্গ ও রঞ্জক

সবুজ উদ্ভিদ সূর্যের আলোকশক্তি ব্যবহার করে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও পানি থেকে শর্করা তৈরি করে। এ সময় অক্সিজেন উপজাত পদার্থ হিসেবে পরিবেশে মুক্ত হয়। শর্করায় আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তি হিসেবে সঞ্চিত থাকে।

সংজ্ঞা: সবুজ উদ্ভিদ-কোষের ক্লোরোফিল আলোকশক্তিকে ATP ও NADPH + H⁺-এ সঞ্চিত রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে এবং সেই শক্তি ব্যবহার করে CO₂ ও পানি থেকে শর্করা তৈরি করে O₂ নির্গত করে—এই শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াকে সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) বলে।

প্রয়োজনীয় উপাদান ও উৎপাদিত পদার্থ

  • CO₂: শর্করা তৈরির প্রধান কাঁচামাল।
  • পানি: ফটোলাইসিসের মাধ্যমে ইলেকট্রন, H⁺ ও O₂ উৎপন্ন করে।
  • সূর্যালোক: প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করে।
  • ক্লোরোফিল: আলো শোষণ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে।

উৎপন্ন পদার্থ হলো কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা এবং O₂। সামগ্রিক সমীকরণটি হলো:

6CO₂ + 12H₂O → C₆H₁₂O₆ + 6H₂O + 6O₂

অর্থাৎ, ১ অণু হেক্সোজ শর্করা তৈরিতে ৬ অণু CO₂ ও ৬ অণু পানি লাগে। সমীকরণে উৎপন্ন ৬ অণু পানি উপজাত পদার্থ; ব্যবহৃত পানি ও উৎপন্ন পানি এক নয়।

উদাহরণ: ফটোলাইসিসে পানির একটি অণু ভেঙে O₂, 2H⁺ এবং ইলেকট্রন উৎপন্ন হয়। O₂ পরিবেশে বেরিয়ে যায়, আর H⁺ ও ইলেকট্রন NADP-কে বিজারিত করে NADPH + H⁺ তৈরিতে সাহায্য করে।

জারণ-বিজারণ ও পানির সালোকবিভাজন

সালোকসংশ্লেষণ একটি জারণ-বিজারণ প্রক্রিয়া। পানির জারণের ফলে O₂ মুক্ত হয়। অন্যদিকে CO₂ হাইড্রোজেন গ্রহণ করে বিজারিত হয়ে শর্করায় পরিণত হয়। আলোর উপস্থিতিতে পানি ভেঙে O₂, 2H⁺ ও e⁻ উৎপন্ন হওয়াকে পানির সালোকবিভাজন (Photolysis) বলে।

সালোকসংশ্লেষণের স্থান ও অঙ্গ

সালোকসংশ্লেষণের প্রধান স্থান হলো ক্লোরোপ্লাস্ট। এর গ্রানার থাইলাকয়েডে আলোকনির্ভর বিক্রিয়ার উপাদান থাকে এবং স্ট্রোমায় কার্বন বিজারণের বিক্রিয়া ঘটে। পাতার মেসোফিল টিস্যুতে ক্লোরোপ্লাস্ট বেশি থাকে। দ্বিবীজপত্রী পাতায় মেসোফিল দুটি অংশে বিভক্ত:

  • প্যালিসেড প্যারেনকাইমা: উপরের পৃষ্ঠের দিকে ঘনভাবে সাজানো দণ্ডাকার কোষ; এতে ক্লোরোপ্লাস্ট বেশি থাকায় সালোকসংশ্লেষণ বেশি হয়।
  • স্পঞ্জি প্যারেনকাইমা: নিচের দিকে ফাঁকযুক্ত গোলাকার কোষ; ফাঁকগুলোর মাধ্যমে গ্যাস চলাচল করে।

স্টোমাটার মাধ্যমে CO₂ পাতায় প্রবেশ করে এবং O₂ বাইরে বের হয়।

সালোকসংশ্লেষণের রঞ্জক

রঞ্জকপ্রকার ও রংভূমিকা
ক্লোরোফিলক্লোরোফিল-a: হলুদ-সবুজ; ক্লোরোফিল-b: নীলাভ-সবুজমূল রঞ্জক; আলোকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে
ক্যারোটিনয়েডসক্যারোটিন: কমলা; জ্যান্থোফিল: হলুদআনুষঙ্গিক বা অ্যান্টেনা রঞ্জক; শক্তি ক্লোরোফিল-a-তে দেয়
ফাইকোবিলিনসফাইকোসায়ানিন: নীল; ফাইকোইরিথ্রিন: লালবিশেষত শৈবালে সহায়ক রঞ্জক

আলোর বর্ণালি

দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় ৩৯০–৭৬০ nm। সাতটি রং হলো—বেগুনি, নীল, নীলাভ-সবুজ, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল। এদের আদ্যাক্ষর দিয়ে VIBGYOR মনে রাখা যায়। প্রায় ৪০০ nm বেগুনি, ৪৫০ nm নীল, ৫০০ nm সবুজ, ৫৫০ nm হলুদ, ৬০০ nm কমলা এবং ৬৫০–৭০০ nm লাল অঞ্চলের আলো।

শোষণ বর্ণালি: পতিত আলোর বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্য কোনো রঞ্জক কতটা শোষণ করে, তার চিত্র।

কার্যকর বর্ণালি: বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোতে সালোকসংশ্লেষণের কার্যকারিতা বা হার বোঝায়। বেগুনি-নীল ও কমলা-লাল আলো বেশি ব্যবহৃত হয়; লাল আলোতে সালোকসংশ্লেষণ বেশি হয়।

সালোকসংশ্লেষণের মূল ধারা1CO₂ ও পানি গ্রহণ2ক্লোরোফিল আলোশোষণ3শর্করা তৈরি4O₂ নির্গমন
ক্লোরোপ্লাস্টে সংঘটিত সালোকসংশ্লেষণের সংক্ষিপ্ত ধাপ
শিক্ষকের টিপস: “ক্লোরোফিল মূল, ক্যারোটিনয়েড ও ফাইকোবিলিন সহায়ক”—এই বাক্যটি মনে রাখো। VIBGYOR-এ V থেকে R পর্যন্ত রংগুলোর ক্রম মনে রাখবে।
পরীক্ষায় যেভাবে আসে: পানির সালোকবিভাজনে উৎপন্ন O₂ পানির উৎস থেকেই আসে। আবার সালোকসংশ্লেষণের স্থান ক্লোরোপ্লাস্ট; শুধু পাতা নয়, সবুজ শৈবাল ও অন্যান্য সবুজ অংশেও এটি ঘটে।

দ্রুত যাচাই

১. সালোকসংশ্লেষণের প্রধান কাঁচামাল ও প্রধান রঞ্জক কোন দুটি?

উত্তর দেখোCO₂ হলো প্রধান কাঁচামাল এবং ক্লোরোফিল হলো প্রধান রঞ্জক।

২. পানির সালোকবিভাজনে কী কী উৎপন্ন হয়?

উত্তর দেখোঅক্সিজেন, 2H⁺ বা প্রোটন এবং ইলেকট্রন উৎপন্ন হয়।

ফটোসিস্টেম ও আলোকনির্ভর বিক্রিয়া

সালোকসংশ্লেষণের আলোকনির্ভর পর্যায়ে সূর্যালোকের শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এই পর্যায়ে ক্লোরোফিল আলো শোষণ করে এবং ATP ও NADPH + H⁺ তৈরি হয়। একই সঙ্গে পানি ভেঙে অক্সিজেন উৎপন্ন হয়। এই বিক্রিয়াগুলো ক্লোরোপ্লাস্টের থাইলাকয়েড মেমব্রেনে সংঘটিত হয়।

সংজ্ঞা: ক্লোরোফিল অণুসমূহ এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত ইলেকট্রন গ্রহীতারা একসঙ্গে একটি একক হিসেবে অবস্থান করলে তাকে ফটোসিস্টেম (Photosystem) বলে। থাইলাকয়েড মেমব্রেনে দুই ধরনের ফটোসিস্টেম থাকে—ফটোসিস্টেম-১ (PS-I) ও ফটোসিস্টেম-২ (PS-II)।

ফটোসিস্টেমের গঠন

প্রতিটি ফটোসিস্টেমের তিনটি প্রধান অংশ থাকে। প্রথমত, আলো-শোষণ অংশ। এখানে ক্লোরোফিল ও ক্যারোটিনয়েড আলো শোষণ করে। এই শক্তি ধাপে ধাপে বিক্রিয়া কেন্দ্রে পৌঁছে। দ্বিতীয়ত, বিক্রিয়া কেন্দ্র। একটি বিশেষ ক্লোরোফিল-a অণু এবং তার সঙ্গে যুক্ত প্রোটিন নিয়ে এটি গঠিত। তৃতীয়ত, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইন (ETC)। এটি একাধিক ইলেকট্রন বাহকের ধারাবাহিক ব্যবস্থা।

PS-I-এর বিক্রিয়া কেন্দ্রের ক্লোরোফিল-a ৭০০ nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো বেশি শোষণ করে। তাই তাকে P700 বলা হয়। PS-II-এর বিক্রিয়া কেন্দ্রের ক্লোরোফিল-a ৬৮০ nm আলো বেশি শোষণ করে। তাই তাকে P680 বলা হয়। উভয় ফটোসিস্টেমই থাইলাকয়েড মেমব্রেনে অবস্থিত।

ATP ও NADPH + H⁺

ADP-এর সঙ্গে অজৈব ফসফেট (Pi) যুক্ত হয়ে ATP তৈরি হয়।

ADP + Pi → ATP + H₂O

ATP-তে প্রচুর শক্তি সঞ্চিত থাকে। প্রয়োজনের সময় এই শক্তি কোষের বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়। তাই ATP-কে জৈব মুদ্রা বা শক্তিমুদ্রা বলা হয়। NADP একটি কো-এনজাইম। ইলেকট্রন ও প্রোটন গ্রহণ করে NADP থেকে NADPH + H⁺ তৈরি হয়। পরবর্তী কার্বন বিজারণ পর্যায়ে ATP ও NADPH + H⁺ CO₂ থেকে শর্করা তৈরিতে শক্তি ও বিজারণ ক্ষমতা সরবরাহ করে।

অচক্রীয় ফটোফসফোরাইলেশন

যে প্রক্রিয়ায় PS-II থেকে উৎক্ষিপ্ত ইলেকট্রন PS-II-তে ফিরে না এসে PS-I-এ যায়, তাকে অচক্রীয় ফটোফসফোরাইলেশন বলে। এতে PS-I ও PS-II উভয়ই অংশগ্রহণ করে।

  1. PS-II আলো শোষণ করলে P680-এর দুটি ইলেকট্রন শক্তিসম্পন্ন হয়ে বেরিয়ে যায়।
  2. ইলেকট্রন দুটি ফিয়োফাইটিন, প্লাস্টোকুইনন, সাইটোক্রোম ও প্লাস্টোসায়ানিনের মাধ্যমে অগ্রসর হয়।
  3. এই ইলেকট্রন পরিবহনের সময় নির্গত শক্তিতে ADP ও Pi যুক্ত হয়ে ATP তৈরি হয়।
  4. আলোর প্রভাবে পানি ভেঙে 2H⁺, ইলেকট্রন ও O₂ উৎপন্ন হয়। পানির ইলেকট্রন PS-II-এর ঘাটতি পূরণ করে এবং O₂ বায়ুতে মুক্ত হয়।
  5. ইলেকট্রন PS-I-এর P700-এ পৌঁছায়। আলোতে P700 থেকে ইলেকট্রন বের হয়ে ফেরিডক্সিন ও NADP reductase-এর মাধ্যমে NADP-কে বিজারিত করে NADPH + H⁺ তৈরি করে।
অচক্রীয় ফটোফসফোরাইলেশন1PS-II ও P680 আলোশোষণ2পানি ভাঙন: O₂, H⁺ও ইলেকট্রন3ইলেকট্রন বাহক →ATP উৎপাদন4PS-I ও P700 আলোশোষণ5NADP বিজারণ →NADPH + H⁺
এখানে PS-II ও PS-I উভয়ই অংশগ্রহণ করে; ইলেকট্রন PS-II-তে ফিরে আসে না।

চক্রীয় ফটোফসফোরাইলেশন

যে প্রক্রিয়ায় PS-I থেকে বের হওয়া ইলেকট্রন বিভিন্ন বাহকের মধ্য দিয়ে ঘুরে ATP তৈরি করে আবার PS-I-এর P700-এ ফিরে আসে, তাকে চক্রীয় ফটোফসফোরাইলেশন বলে। এতে কেবল PS-I অংশগ্রহণ করে। এখানে পানি ভাঙে না, O₂ ও NADPH + H⁺ তৈরি হয় না; শুধু ATP তৈরি হয়।

উদাহরণ: P700 থেকে ইলেকট্রন → ফেরিডক্সিন → প্লাস্টোকুইনন → সাইটোক্রোম → প্লাস্টোসায়ানিন → আবার P700। এই পথে ইলেকট্রনের শক্তি ব্যবহার করে ATP তৈরি হয়।
শিক্ষকের টিপস: “অচক্রীয় = দুই ফটোসিস্টেম, ATP + NADPH + O₂”; “চক্রীয় = এক PS-I, শুধু ATP।” P680 মনে রাখবে PS-II-এর জন্য, আর P700 মনে রাখবে PS-I-এর জন্য।
পরীক্ষায় যেভাবে আসে: অচক্রীয় প্রক্রিয়ায় পানির ফটোলাইসিস ও O₂ উৎপাদন হয়; চক্রীয় প্রক্রিয়ায় এগুলো হয় না। অচক্রীয় প্রক্রিয়ায় PS-I ও PS-II, কিন্তু চক্রীয় প্রক্রিয়ায় শুধু PS-I অংশ নেয়।

দ্রুত যাচাই ১: অচক্রীয় ফটোফসফোরাইলেশনে কোন দুটি ফটোসিস্টেম অংশগ্রহণ করে?

উত্তর দেখোPS-I ও PS-II উভয়ই অংশগ্রহণ করে।

দ্রুত যাচাই ২: চক্রীয় ফটোফসফোরাইলেশনে কোন কোন পদার্থ উৎপন্ন হয়?

উত্তর দেখোশুধু ATP উৎপন্ন হয়; পানি ভাঙন, O₂ ও NADPH + H⁺ উৎপন্ন হয় না।

আলোক-নিরপেক্ষ পর্যায় ও কার্বন বিজারণ

সালোকসংশ্লেষণের আলোকনির্ভর পর্যায়ে থাইলাকয়েড মেমব্রেনে ATP ও NADPH + H⁺ তৈরি হয়। এরপর ক্লোরোপ্লাস্টের স্ট্রোমাতে CO₂ ব্যবহার করে শর্করা তৈরির পর্যায় শুরু হয়। এই পর্যায়কে আলোক-নিরপেক্ষ পর্যায় বা কার্বন বিজারণ বলা হয়।

সংজ্ঞা: আলোকনির্ভর পর্যায়ে উৎপন্ন ATP ও NADPH + H⁺ ব্যবহার করে CO₂ বিজারিত হয়ে কার্বোহাইড্রেট তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়াকে আলোক-নিরপেক্ষ পর্যায় বা কার্বন বিজারণ বলে।

স্থান ও বৈশিষ্ট্য

  • এই পর্যায়ের বিক্রিয়াগুলো ক্লোরোপ্লাস্টের স্ট্রোমাতে ঘটে।
  • এখানে আলোর প্রত্যক্ষ প্রয়োজন হয় না। তাই একে আলোক-নিরপেক্ষ পর্যায় বলা হয়।
  • তবে আলো থাকলে এই পর্যায় ভালোভাবে চলে; কারণ আলো থাকলেই ATP ও NADPH + H⁺ সরবরাহ নিশ্চিত হয় এবং স্টোমাটা খোলা থাকায় CO₂ প্রবেশ করতে পারে।
  • ATP শক্তি সরবরাহ করে এবং NADPH + H⁺ বিজারণের জন্য হাইড্রোজেন ও ইলেকট্রন সরবরাহ করে। তাই এ দুটিকে আত্তীকরণ শক্তি বলা হয়।

ক্যালভিন চক্রের পরিচয়

১৯৪৯–১৯৫৪ সালে মেলভিন ক্যালভিন ও তাঁর সহযোগীরা Chlorella শৈবালে তেজস্ক্রিয় ¹⁴C ব্যবহার করে এই চক্রাকার গতিপথ আবিষ্কার করেন। এজন্য ক্যালভিন ১৯৬১ সালে নোবেল পুরস্কার পান। ক্যালভিন চক্রে CO₂-এর গ্রহীতা হলো ৫-কার্বনবিশিষ্ট RuBP বা রাইবিউলোজ ১,৫-বিসফসফেট।

CO₂-কে RuBP-এর সঙ্গে যুক্ত করতে সাহায্য করে এনজাইম রুবিসকো। রুবিসকো হলো রাইবিউলোজ বিসফসফেট কার্বক্সিলেজ/অক্সিজেনেজ-এর সংক্ষিপ্ত নাম।

ক্যালভিন চক্রের প্রধান ধাপ1কার্বক্সিলেশন2ফসফোরাইলেশন3বিজারণ4RuBP পুনর্গঠন
ATP ও NADPH + H⁺ ব্যবহার করে CO₂ থেকে শর্করা তৈরির চক্র

ক্যালভিন চক্রের ধাপ

  1. কার্বক্সিলেশন: এক কার্বনবিশিষ্ট CO₂, রুবিসকোর সাহায্যে পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট RuBP-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। প্রথমে একটি অস্থায়ী ছয়-কার্বন যৌগ তৈরি হয়। পরে এটি ভেঙে দুটি ৩-ফসফোগ্লিসারিক অ্যাসিড বা 3-PGA তৈরি করে। 3-PGA-ই ক্যালভিন চক্রের প্রথম স্থায়ী পদার্থ।
  2. ফসফোরাইলেশন: ATP-এর সাহায্যে 3-PGA ফসফেট গ্রহণ করে উচ্চশক্তিসম্পন্ন যৌগে পরিণত হয়। এ ধাপে ATP খরচ হয় এবং ADP তৈরি হয়।
  3. বিজারণ: NADPH + H⁺ থেকে হাইড্রোজেন ও ইলেকট্রন গ্রহণ করে যৌগটি বিজারিত হয়ে PGAL বা ৩-কার্বনবিশিষ্ট শর্করায় পরিণত হয়। PGAL-এর কিছু অংশ থেকে কার্বোহাইড্রেট তৈরি হয়।
  4. RuBP পুনর্গঠন: অবশিষ্ট PGAL অণুগুলো ATP-এর শক্তি ব্যবহার করে পুনরায় RuBP তৈরি করে। ফলে পরবর্তী চক্রের জন্য CO₂ গ্রহীতা প্রস্তুত থাকে।
উদাহরণ: এক চক্রে ১২টি 3-PGA তৈরি হয়। 3-PGA প্রথম স্থায়ী পদার্থ এবং এটি ৩-কার্বনবিশিষ্ট। তাই ক্যালভিন চক্রকে C₃ চক্র বলা হয়। আম, জাম ও ধান হলো C₃ উদ্ভিদের উদাহরণ।

অতিরিক্ত ব্যাখ্যাকার্বন বিজারণের আরও দুটি গতিপথ হলো C₄ চক্র ও CAM প্রক্রিয়া। অর্থাৎ CO₂ থেকে কার্বোহাইড্রেট তৈরির পৃথক গতিপথ হিসেবে ক্যালভিন চক্র, C₄ চক্র এবং CAM প্রক্রিয়াকে ধরা হয়।

শিক্ষকের টিপস: ধাপগুলো মনে রাখো—কার্বন যোগ → ফসফেট যোগ → বিজারণ → RuBP ফিরে পাওয়া। মনে রেখো, “আলোক-নিরপেক্ষ” মানে আলোতে চলবে না—এমন নয়; শুধু আলো সরাসরি বিক্রিয়ায় অংশ নেয় না।
পরীক্ষায় যেভাবে আসে: 3-PGA হলো প্রথম স্থায়ী পদার্থ, RuBP হলো CO₂ গ্রহীতা এবং রুবিসকো হলো CO₂ সংযোজনকারী এনজাইম—এই তিনটি তথ্য গুলিয়ে ফেলবে না।

দ্রুত যাচাই

১। আলোক-নিরপেক্ষ পর্যায় কোথায় ঘটে?

উত্তর দেখোক্লোরোপ্লাস্টের স্ট্রোমাতে।

২। ক্যালভিন চক্রকে C₃ চক্র বলা হয় কেন?

উত্তর দেখোকারণ এর প্রথম স্থায়ী পদার্থ 3-PGA একটি ৩-কার্বনবিশিষ্ট যৌগ।

সালোকসংশ্লেষণের নিয়ামক ও হার

সালোকসংশ্লেষণের হার বলতে নির্দিষ্ট সময়ে উদ্ভিদ কত দ্রুত CO₂ গ্রহণ করে খাদ্য তৈরি ও O₂ ত্যাগ করছে, তা বোঝায়। এই হার আলো, তাপমাত্রা, CO₂, পানি, ক্লোরোফিল, এনজাইম, প্রোটোপ্লাজম ও পটাসিয়ামের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

সংজ্ঞা ও সূত্র: সালোকসংশ্লেষণের হার বা ফটোসিনথেটিক কোয়েশেন্ট (Photosynthetic Quotient, P.Q.) হলো নির্দিষ্ট সময়ে ত্যাগ করা O₂-এর পরিমাণ ও গ্রহণ করা CO₂-এর পরিমাণের অনুপাত।
P.Q. = O₂ ত্যাগের পরিমাণ ÷ CO₂ গ্রহণের পরিমাণ = ১ ÷ ১ = ১

প্রধান নিয়ামকগুলোর প্রভাব

  1. আলো: আলোর প্রকৃতি, তীব্রতা ও আলোককাল—এই তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। লাল ও নীল আলোতে সালোকসংশ্লেষণ বেশি হয়। আলোর তীব্রতা বাড়ালে প্রথমে সালোকসংশ্লেষণের হার বাড়ে; পরে একটি স্থির হারে পৌঁছে যায়। কৃত্রিম পরিবেশে আলো ১০০ ফুট-ক্যান্ডল থেকে ৩,০০০ ফুট-ক্যান্ডল পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
  2. তাপমাত্রা: সাধারণত ১০°–৩০°সে. তাপমাত্রায় হার ক্রমশ বাড়ে। ৩০°–৩৫°সে. তাপমাত্রায় হার সর্বাধিক হয়। ৩৫°সে.-এর বেশি হলে হার হঠাৎ কমে যায়। তাপমাত্রা প্রধানত আলো-নিরপেক্ষ পর্যায়ের ক্যালভিন চক্রকে প্রভাবিত করে।
  3. CO₂: CO₂ সালোকসংশ্লেষণের প্রধান কাঁচামাল। CO₂ সরবরাহ বাড়ালে হারও বাড়ে, কিন্তু একটি নির্দিষ্ট সীমার পর হার কমতে পারে। যেমন, কোনো পাতার ঘণ্টায় ১০ মিলিগ্রাম CO₂ ব্যবহারের ক্ষমতা থাকলেও যদি ১ মিলিগ্রাম সরবরাহ করা হয়, তবে CO₂ সীমাবদ্ধ নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে।
  4. পানি: পানি মূলরোম দিয়ে শোষিত হয়ে জাইলেমের মাধ্যমে পাতায় পৌঁছায়। পানি ফটোলাইসিসে ভেঙে O₂, H⁺ ও ইলেকট্রন সৃষ্টি করে। তাই পানির অভাবে সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়।
  5. ক্লোরোফিল: ক্লোরোফিল আলোকশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে। এর অনুপস্থিতিতে সালোকসংশ্লেষণ চলতে পারে না।
  6. এনজাইম, প্রোটোপ্লাজম ও পটাসিয়াম: এনজাইমের পরিমাণ বাড়লে হার বাড়ে, কারণ ধারাবাহিক বিক্রিয়াগুলো এনজাইম দ্বারা পরিচালিত হয়। প্রোটোপ্লাজমে পানি ও রাসায়নিক পদার্থের পরিমাণও হার নির্ধারণ করে। পটাসিয়াম শ্বসনের অনুঘটক হিসেবে এবং পদার্থ পরিবহনে K⁺-এর মাধ্যমে সাহায্য করে।

সীমাবদ্ধতা ফ্যাক্টর নীতি

লিবিগের ন্যূনতমের নীতি অনুযায়ী, একাধিক নিয়ামক কোনো শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করলে যে নিয়ামকটি সবচেয়ে কম অনুকূল, সেটিই প্রক্রিয়ার হার নির্ধারণ করে। ব্ল্যাকম্যান এই ধারণার ভিত্তিতে সীমাবদ্ধতা ফ্যাক্টর নীতি দেন। অর্থাৎ, সবচেয়ে ধীরগতির নিয়ামক সালোকসংশ্লেষণের গতি সীমাবদ্ধ করে।

উদাহরণ: আলো ও পানি যথেষ্ট থাকলেও যদি CO₂-এর সরবরাহ কম থাকে, তবে CO₂-ই সীমাবদ্ধতা ফ্যাক্টর হবে। CO₂ বাড়ালে হার বাড়বে। কিন্তু CO₂ অনুকূল মাত্রায় পৌঁছালে অন্য কোনো নিয়ামক, যেমন তাপমাত্রা, সীমাবদ্ধতা ফ্যাক্টর হয়ে যাবে।

কৃত্রিম পরিবেশে নিয়ন্ত্রণ

কাচের ঘর বা কৃত্রিম পরিবেশে আলোর তীব্রতা ও সময়কাল নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তাপমাত্রা ৩০°–৩৫°সে.-এর কাছাকাছি রাখা এবং উপযুক্ত পরিমাণ CO₂ সরবরাহ করলে হার বাড়ানো যায়। তবে অতিরিক্ত তাপ বা CO₂ দিলে হার কমতে পারে এবং পাতায় ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে। বিভিন্ন উদ্ভিদের উপযুক্ত CO₂ মাত্রা ভিন্ন; গমে প্রায় ০.১৫% CO₂-তে এবং ভুট্টায় প্রায় ১.১% CO₂-তে সর্বোচ্চ হার পাওয়ার উল্লেখ আছে।

শিক্ষকের টিপস: মনে রাখবে—“আলো শুরু করায়, ক্লোরোফিল ধরে, পানি O₂ দেয়, CO₂ খাদ্য দেয়, এনজাইম গতি বাড়ায়।” P.Q.-তে O₂ উপরে এবং CO₂ নিচে থাকবে।
পরীক্ষায় যেভাবে আসে: ৩০°–৩৫°সে. হলো অনুকূল তাপমাত্রা; ৩৫°সে.-এর বেশি হলে হার কমে। P.Q.-এর সাধারণ মান ১, কারণ O₂ ত্যাগ ও CO₂ গ্রহণের পরিমাণ সাধারণত সমান।

দ্রুত যাচাই

১। সালোকসংশ্লেষণে ৩৫°সে.-এর বেশি তাপমাত্রায় হার কমে কেন?

উত্তর দেখোঅতিরিক্ত তাপমাত্রায় সালোকসংশ্লেষণের এনজাইমীয় বিক্রিয়া ব্যাহত হয়; তাই হার দ্রুত কমে।

২। P.Q. = ১ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর দেখোনির্দিষ্ট সময়ে ত্যাগ করা O₂ ও গ্রহণ করা CO₂-এর পরিমাণ সমান—এটাই P.Q. = ১-এর অর্থ।

উদাহরণ ও সমাধান

উদাহরণ ১: সালোকসংশ্লেষণের সমীকরণ থেকে হিসাব

সমস্যা: ১ অণু হেক্সোজ শর্করা তৈরিতে কত অণু CO₂ ও H₂O লাগে? এ সময় কত অণু O₂ উৎপন্ন হয়?

  1. সূত্র: 6CO₂ + 12H₂O → C₆H₁₂O₆ + 6H₂O + 6O₂
  2. সমীকরণের বাম পাশে CO₂-এর সহগ ৬। তাই প্রয়োজনীয় CO₂ = ৬ অণু।
  3. সমীকরণের বাম পাশে ব্যবহৃত H₂O-এর সহগ ১২। তাই প্রয়োজনীয় H₂O = ১২ অণু।
  4. সমীকরণের ডান পাশে উৎপন্ন O₂-এর সহগ ৬। তাই উৎপন্ন O₂ = ৬ অণু।
  5. উৎপন্ন পানির ৬ অণু উপজাত পদার্থ হিসেবে তৈরি হয়; এটি ব্যবহৃত ১২ অণু পানির সঙ্গে এক নয়।

চূড়ান্ত উত্তর: ১ অণু হেক্সোজ শর্করার জন্য ৬ অণু CO₂ ও ১২ অণু H₂O ব্যবহৃত হয় এবং ৬ অণু O₂ উৎপন্ন হয়।

উদাহরণ ২: সালোকসংশ্লেষণ হার বা P.Q নির্ণয়

সমস্যা: একটি উদ্ভিদ ১০ মিলিলিটার CO₂ গ্রহণ করে ১০ মিলিলিটার O₂ ত্যাগ করল। উদ্ভিদটির P.Q কত?

  1. সূত্র: P.Q = O₂ ত্যাগের পরিমাণ ÷ CO₂ গ্রহণের পরিমাণ
  2. এখানে O₂ ত্যাগের পরিমাণ = ১০ মিলিলিটার এবং CO₂ গ্রহণের পরিমাণ = ১০ মিলিলিটার।
  3. মান বসিয়ে: P.Q = ১০ ÷ ১০
  4. হিসাব: P.Q = ১
  5. অতএব, সমপরিমাণ CO₂ গ্রহণ ও O₂ ত্যাগ হলে P.Q-এর মান ১ হয়।

চূড়ান্ত উত্তর: উদ্ভিদটির সালোকসংশ্লেষণ হার বা P.Q = ১।

উদাহরণ ৩: CO₂-কে সীমাবদ্ধতা ফ্যাক্টর হিসেবে ব্যাখ্যা

সমস্যা: একটি পাতা প্রতি ঘণ্টায় ১০ মিলিগ্রাম CO₂ ব্যবহার করতে পারে, কিন্তু তাকে প্রথমে প্রতি ঘণ্টায় মাত্র ১ মিলিগ্রাম CO₂ দেওয়া হলো। পরে CO₂ সরবরাহ ১ থেকে ১০ মিলিগ্রাম করা হলে কী ঘটবে?

  1. প্রদত্ত তথ্য: পাতার সর্বোচ্চ ব্যবহারক্ষমতা = ১০ মিলিগ্রাম/ঘণ্টা; প্রাথমিক সরবরাহ = ১ মিলিগ্রাম/ঘণ্টা।
  2. সরবরাহ ১ মিলিগ্রাম হওয়ায় পাতার প্রয়োজনের তুলনায় CO₂ কম। তাই CO₂ এখানে সীমাবদ্ধতা ফ্যাক্টর।
  3. CO₂ সরবরাহ ১ থেকে ২, ২ থেকে ৩ মিলিগ্রাম/ঘণ্টা বাড়ালে সালোকসংশ্লেষণের হারও বাড়বে।
  4. সরবরাহ ১০ মিলিগ্রাম/ঘণ্টায় পৌঁছালে পাতা তার সর্বোচ্চ ক্ষমতায় CO₂ ব্যবহার করবে এবং হার সর্বোচ্চ হবে।
  5. ১০ মিলিগ্রাম/ঘণ্টার বেশি CO₂ দিলে অতিরিক্ত CO₂ আর হার বাড়াবে না; অন্য কোনো ফ্যাক্টর সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি করতে পারে।

চূড়ান্ত উত্তর: ১ থেকে ১০ মিলিগ্রাম/ঘণ্টা পর্যন্ত CO₂ বাড়ালে সালোকসংশ্লেষণের হার বাড়বে; ১০ মিলিগ্রাম/ঘণ্টায় সর্বোচ্চ হবে।

উদাহরণ ৪: অচক্রীয় ও চক্রীয় ফটোফসফোরাইলেশনের পার্থক্য

সমস্যা: অচক্রীয় ও চক্রীয় ফটোফসফোরাইলেশন কীভাবে আলাদা করবে?

  1. অচক্রীয় প্রক্রিয়া: PS-II ও PS-I উভয় ফটোসিস্টেম অংশগ্রহণ করে। PS-II থেকে উৎক্ষিপ্ত ইলেকট্রন PS-I-এ যায় এবং PS-II-তে ফিরে আসে না। পানির ফটোলাইসিসে O₂, প্রোটন ও ইলেকট্রন তৈরি হয়। ফলে ATP এবং NADPH + H⁺ উভয়ই উৎপন্ন হয়।
  2. চক্রীয় প্রক্রিয়া: শুধু PS-I অংশগ্রহণ করে। P700 থেকে উৎক্ষিপ্ত ইলেকট্রন ফেরিডক্সিন, প্লাস্টোকুইনন, সাইটোক্রোম ও প্লাস্টোসায়ানিনের মাধ্যমে ঘুরে আবার P700-এ ফিরে আসে।
  3. চক্রীয় প্রক্রিয়ায় পানি ভাঙে না এবং O₂ বা NADPH + H⁺ উৎপন্ন হয় না; প্রধান উৎপাদ হলো ATP।

চূড়ান্ত উত্তর: অচক্রীয় ফটোফসফোরাইলেশনে PS-I ও PS-II অংশ নিয়ে ATP, NADPH + H⁺ ও O₂ তৈরি করে; চক্রীয় ফটোফসফোরাইলেশনে শুধু PS-I অংশ নিয়ে কেবল ATP তৈরি করে।

সংজ্ঞা, সূত্র ও সারসংক্ষেপ

পরিভাষা সংজ্ঞা বা সূত্র কখন ব্যবহার করবে
অভিস্রবণিক চাপ অভিস্রবণ বন্ধ করতে দ্রবণের উপর প্রয়োজনীয় চাপ। কোষে পানি চলাচল ব্যাখ্যায়।
প্লাজমোলাইসিস বহিঃঅভিস্রবণে পানি বেরিয়ে প্রোটোপ্লাজম সংকুচিত হওয়া। ঘন দ্রবণে কোষের অবস্থা লিখতে।
টারজিডিটি ও টারগার প্রেসার পানি গ্রহণে কোষ স্ফীত হওয়া; প্রোটোপ্লাজমের কোষপ্রাচীরে সৃষ্ট চাপ। পাতার দৃঢ়তা বোঝাতে।
ইমবাইবিশন জড়ীয় তন্তু বা আংশিক তন্তু পদার্থের তরল শোষণ। হাইগ্রোস্কোপিক পদার্থ: কাঠ, স্পঞ্জ, রাবার। বীজ বা শুকনো পদার্থের পানি শোষণে।
সালোকসংশ্লেষণ আলোকশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়া। 6CO₂ + 12H₂O → C₆H₁₂O₆ + 6H₂O + 6O₂ সামগ্রিক সমীকরণে।
ক্লোরোপ্লাস্ট ও রঞ্জক ক্লোরোপ্লাস্ট প্রধান সালোকসংগ্রাহী অঙ্গাণু; রঞ্জক হলো ক্লোরোফিল, ক্যারোটিনয়েড ও ফাইকোবিলিন। সালোকসংশ্লেষণের স্থান ও উপাদান লিখতে।
ফটোসিস্টেম আলো-শোষক রঞ্জক, বিক্রিয়া কেন্দ্র ও ETC-এর একক। PS-I = P700; PS-II = P680। আলোকনির্ভর বিক্রিয়া ব্যাখ্যায়।
ফটোলাইসিস আলোর উপস্থিতিতে H₂O ভেঙে O₂, 2H⁺ ও e⁻ উৎপন্ন হওয়া। অচক্রীয় ফটোফসফোরাইলেশনে।
ATP ও NADPH + H⁺ ATP: ADP + Pi → ATP; উভয়ই আত্তীকরণ শক্তি। CO₂ বিজারণে শক্তি ও বিজারক হিসেবে।
ফটোফসফোরাইলেশন আলোকশক্তিতে ATP সৃষ্টি। অচক্রীয়ে PS-I ও PS-II, চক্রীয়তে শুধু PS-I অংশ নেয়। দুই প্রকারের পার্থক্যে।
আলোক-নিরপেক্ষ পর্যায় স্ট্রোমায় ATP ও NADPH + H⁺ ব্যবহার করে CO₂ থেকে শর্করা তৈরি; ক্যালভিন, C₄ ও CAM পথ আছে। কার্বন বিজারণ বোঝাতে।
ক্যালভিন চক্র CO₂ গ্রহীতা RuBP; প্রথম স্থায়ী পদার্থ 3-PGA, তাই C₃ চক্র। এনজাইম: RuBisCO। অধিকাংশ উদ্ভিদ, যেমন আম, জাম, ধান।
সীমাবদ্ধতা ফ্যাক্টর সবচেয়ে ধীর ফ্যাক্টরই প্রক্রিয়ার হার নিয়ন্ত্রণ করে—ল অব লিমিটিং ফ্যাক্টর। অনুকূল তাপমাত্রা 30–35°C। আলো, CO₂, পানি ও তাপের প্রভাব বিশ্লেষণে।
সালোকসংশ্লেষণ হার বা P.Q P.Q = O₂ ত্যাগের পরিমাণ ÷ CO₂ গ্রহণের পরিমাণ = 1। হার নির্ণয়ে।
মূল কথা
  • পাতার মেসোফিলের ক্লোরোপ্লাস্টে সালোকসংশ্লেষণ ঘটে।
  • ক্লোরোফিল-a মূল রঞ্জক; অন্য রঞ্জকগুলো অ্যান্টেনা রঞ্জক।
  • আলোকনির্ভর পর্যায়ে ATP, NADPH + H⁺ ও O₂ তৈরি হয়।
  • অচক্রীয় পথে পানি ভাঙে; চক্রীয় পথে শুধু ATP তৈরি হয়।
  • কার্বন বিজারণ স্ট্রোমায় ঘটে এবং RuBP CO₂ গ্রহণ করে।
  • লাল ও নীল আলো সালোকসংশ্লেষণে বেশি কার্যকর।
  • সবচেয়ে কম অনুকূল ফ্যাক্টরই সালোকসংশ্লেষণের হার সীমাবদ্ধ করে।
  • CO₂, আলো, তাপ, পানি, ক্লোরোফিল ও এনজাইম হার নিয়ন্ত্রণ করে।

পরীক্ষা প্রস্তুতি

(ক) বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ)

১। কোনো জড়ীয় তন্তু বা আংশিক তন্তু পদার্থ কর্তৃক তরল শোষণের বিশেষ প্রক্রিয়াকে কী বলে?

  • ক) অভিস্রবণ
  • খ) ইমবাইবিশন
  • গ) প্লাজমোলাইসিস
  • ঘ) টারজিডিটি

২। সালোকসংশ্লেষণের প্রধান অঙ্গ কোনটি?

  • ক) মূল
  • খ) কাণ্ড
  • গ) পাতা
  • ঘ) ফুল

৩। ফটোসিস্টেম-১-এর বিক্রিয়া কেন্দ্রের নাম কী?

  • ক) P450
  • খ) P680
  • গ) P700
  • ঘ) P760

৪। সালোকসংশ্লেষণের আলোকনির্ভর বিক্রিয়া কোথায় সংঘটিত হয়?

  • ক) ক্লোরোপ্লাস্টের স্ট্রোমায়
  • খ) থাইলাকয়েড মেমব্রেনে
  • গ) কোষপ্রাচীরে
  • ঘ) নিউক্লিয়াসে

৫। পানির সালোকবিভাজনে কোনটি উৎপন্ন হয়?

  • ক) O₂, H⁺ ও ইলেকট্রন
  • খ) CO₂, ATP ও গ্লুকোজ
  • গ) NADP, O₂ ও CO₂
  • ঘ) RuBP, ATP ও পানি

৬। ক্যালভিন চক্রের প্রথম স্থায়ী পদার্থ কোনটি?

  • ক) RuBP
  • খ) 3-PGA
  • গ) BPGA
  • ঘ) গ্লুকোজ

৭। সালোকসংশ্লেষণের আলোক-নিরপেক্ষ পর্যায় কোথায় সংঘটিত হয়?

  • ক) গ্রানায়
  • খ) থাইলাকয়েডের লুমেনে
  • গ) ক্লোরোপ্লাস্টের স্ট্রোমায়
  • ঘ) মাইটোকন্ড্রিয়ায়

৮। সালোকসংশ্লেষণের জন্য সাধারণত কোন তাপমাত্রায় হার সর্বাধিক হয়?

  • ক) ০–১০°সে.
  • খ) ১০–২০°সে.
  • গ) ৩০–৩৫°সে.
  • ঘ) ৪০–৫০°সে.

(খ) সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

  1. প্লাজমোলাইসিস ও টারজিডিটি বলতে কী বোঝ?
  2. সালোকসংশ্লেষণে ক্লোরোফিল ও আনুষঙ্গিক রঞ্জকের ভূমিকা লেখ।
  3. অচক্রীয় ও চক্রীয় ফটোফসফোরাইলেশনের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখ।
  4. লিমিটিং ফ্যাক্টর বা সীমাবদ্ধতা ফ্যাক্টর কী? একটি উদাহরণ দাও।

(গ) সৃজনশীল প্রশ্ন

একজন শিক্ষার্থী একটি সবুজ উদ্ভিদের পাতাকে পর্যাপ্ত সূর্যালোক, পানি ও বায়ুতে রাখল। পাতার ক্লোরোপ্লাস্টে আলোকনির্ভর বিক্রিয়ায় পানি ভেঙে অক্সিজেন উৎপন্ন হলো এবং ATP ও NADPH + H⁺ তৈরি হলো। পরে এই উপাদানগুলো ব্যবহার করে ক্লোরোপ্লাস্টের স্ট্রোমায় CO₂ থেকে শর্করা তৈরি হলো। পরীক্ষায় দেখা গেল, তাপমাত্রা ৩০°সে. থেকে ৩৫°সে. পর্যন্ত সালোকসংশ্লেষণের হার বাড়ছে; কিন্তু এর বেশি তাপমাত্রায় হার কমে যাচ্ছে।

ক) জ্ঞান — ১
পানির সালোকবিভাজন কী?

খ) অনুধাবন — ২
ATP-কে শক্তির মুদ্রা বলা হয় কেন?

গ) প্রয়োগ — ৩
উদ্দীপকের আলোকনির্ভর ও আলোক-নিরপেক্ষ পর্যায়ের স্থান, কাঁচামাল ও উৎপাদন তুলনা কর।

ঘ) উচ্চতর দক্ষতা — ৪
উদ্দীপকে তাপমাত্রাকে কীভাবে সীমাবদ্ধতা ফ্যাক্টর হিসেবে চিহ্নিত করা যায়? যদি কোনো পাতায় ৬ একক O₂ নির্গত এবং ৬ একক CO₂ শোষিত হয়, তবে সালোকসংশ্লেষণীয় কোয়েশেন্ট (P.Q) নির্ণয় কর।

উত্তর

MCQ-এর সঠিক উত্তর

১। খ — ইমবাইবিশন
২। গ — পাতা
৩। গ — P700
৪। খ — থাইলাকয়েড মেমব্রেনে
৫। ক — O₂, H⁺ ও ইলেকট্রন
৬। খ — 3-PGA
৭। গ — ক্লোরোপ্লাস্টের স্ট্রোমায়
৮। গ — ৩০–৩৫°সে.

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের মডেল উত্তর

১। বহিঃঅভিস্রবণের ফলে কোষের পানি বাইরে বেরিয়ে গেলে প্রোটোপ্লাজম সংকুচিত হয়। এই অবস্থাকে প্লাজমোলাইসিস বলে। আবার অন্তঃঅভিস্রবণের ফলে কোষ পানি গ্রহণ করে স্ফীত হলে তাকে টারজিডিটি বলে।

২। ক্লোরোফিল সূর্যালোক শোষণ করে আলোকশক্তিকে ATP ও NADPH + H⁺-এর রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে। ক্যারোটিনয়েডস ও ফাইকোবিলিনস আনুষঙ্গিক বা অ্যান্টেনা রঞ্জক। তারা আলো শোষণ করে সেই শক্তি ক্লোরোফিল-a-কে প্রদান করে।

৩। অচক্রীয় ফটোফসফোরাইলেশনে PS-I ও PS-II উভয়ই অংশ নেয়; চক্রীয় ফটোফসফোরাইলেশনে কেবল PS-I অংশ নেয়। অচক্রীয় প্রক্রিয়ায় ATP, NADPH + H⁺ ও O₂ উৎপন্ন হয়; চক্রীয় প্রক্রিয়ায় শুধু ATP উৎপন্ন হয় এবং O₂ নির্গত হয় না।

৪। একাধিক ফ্যাক্টর কোনো শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করলে যে ফ্যাক্টরটির গতি বা পরিমাণ সবচেয়ে কম, সেটিই প্রক্রিয়ার হার সীমাবদ্ধ করে। একে লিমিটিং ফ্যাক্টর বলে। যেমন, পর্যাপ্ত আলো ও পানি থাকলেও CO₂ কম হলে CO₂ সালোকসংশ্লেষণের সীমাবদ্ধতা ফ্যাক্টর হবে।

সৃজনশীল প্রশ্নের মডেল উত্তর

ক) আলোর উপস্থিতিতে পানি ভেঙে O₂, H⁺ বা প্রোটন এবং ইলেকট্রন উৎপন্ন হওয়াকে পানির সালোকবিভাজন বা ফটোলাইসিস বলে।

খ) ATP-তে প্রচুর রাসায়নিক শক্তি সঞ্চিত থাকে। কোষের বিভিন্ন কাজে প্রয়োজন হলে ATP তার শক্তি সরবরাহ করে। সালোকসংশ্লেষণের আলোক-নিরপেক্ষ পর্যায়ে CO₂ থেকে শর্করা তৈরির জন্য ATP ব্যবহৃত হয়। তাই ATP-কে জৈব মুদ্রা বা শক্তির মুদ্রা বলা হয়।

গ)

বিষয় আলোকনির্ভর পর্যায় আলোক-নিরপেক্ষ পর্যায়
স্থান থাইলাকয়েড মেমব্রেন ক্লোরোপ্লাস্টের স্ট্রোমা
প্রয়োজন আলো ও পানি CO₂, ATP ও NADPH + H⁺
উৎপাদন ATP, NADPH + H⁺ ও O₂ কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা

ঘ) তাপমাত্রা ৩০°সে. থেকে ৩৫°সে. পর্যন্ত বাড়লে সালোকসংশ্লেষণের হার বাড়ছে। ৩৫°সে.-এর বেশি হলে হার হঠাৎ কমে যাচ্ছে। তাই এই পর্যায়ে তাপমাত্রাই সালোকসংশ্লেষণের সীমাবদ্ধতা ফ্যাক্টর।

সালোকসংশ্লেষণীয় কোয়েশেন্ট,

P.Q = O₂ ত্যাগের পরিমাণ ÷ CO₂ গ্রহণের পরিমাণ

প্রদত্ত, O₂ ত্যাগ = ৬ একক এবং CO₂ গ্রহণ = ৬ একক।

P.Q = ৬ ÷ ৬ = ১

অতএব, পাতাটির সালোকসংশ্লেষণীয় কোয়েশেন্টের মান ১।

সাধারণ ভুল ও রিভিশন

পরীক্ষায় ভালো করতে সংজ্ঞা, স্থান, ধাপ ও সংখ্যাগুলো আলাদা করে মনে রাখো। নিচের ভুলগুলো বিশেষভাবে এড়িয়ে চলবে।

ভুল সঠিক
প্লাজমোলাইসিসকে পানি কোষে প্রবেশ বলা। বহিঃঅভিস্রবণে পানি বেরিয়ে প্রোটোপ্লাজম সংকুচিত হওয়াই প্লাজমোলাইসিস।
ইমবাইবিশনকে অভিস্রবণ মনে করা। জড়ীয় তন্তু বা হাইগ্রোস্কোপিক পদার্থের তরল শোষণই ইমবাইবিশন।
সালোকসংশ্লেষণের স্থান শুধু পাতার ত্বক বলা। প্রধান স্থান ক্লোরোপ্লাস্ট; পাতার মেসোফিল কোষে এগুলো বেশি থাকে।
PS-I-এর P680 এবং PS-II-এর P700 লেখা। PS-I-এর বিক্রিয়া কেন্দ্র P700, PS-II-এর বিক্রিয়া কেন্দ্র P680।
আলোকনির্ভর বিক্রিয়া স্ট্রোমাতে ঘটে বলা। আলোকনির্ভর বিক্রিয়া থাইলাকয়েড মেমব্রেনে; অন্ধকার পর্যায় স্ট্রোমাতে ঘটে।
চক্রীয় ফটোফসফোরাইলেশনে PS-I ও PS-II দুটিই অংশ নেয় বলা। চক্রীয় প্রক্রিয়ায় শুধু PS-I অংশ নেয় এবং ATP তৈরি হয়।
সালোকসংশ্লেষণের অক্সিজেন CO₂ থেকে আসে বলা। পানির ফটোলাইসিসে অক্সিজেন উৎপন্ন ও নির্গত হয়।

রিভিশন চেকলিস্ট

  • প্লাজমোলাইসিস, টারজিডিটি, টারগার প্রেসার ও ইমবাইবিশনের সংজ্ঞা বলতে পারি।
  • সালোকসংশ্লেষণের উপাদান, উৎপাদ ও সামগ্রিক সমীকরণ লিখতে পারি।
  • ক্লোরোপ্লাস্ট, মেসোফিল, স্টোমাটা ও থাইলাকয়েডের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে পারি।
  • ক্লোরোফিল, ক্যারোটিনয়েডস ও ফাইকোবিলিনস শনাক্ত করতে পারি।
  • P700, P680 এবং ফটোসিস্টেমের তিনটি অংশ মনে আছে।
  • ATP, NADPH + H⁺ ও আত্তীকরণ শক্তির সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে পারি।
  • অচক্রীয় ও চক্রীয় ফটোফসফোরাইলেশনের পার্থক্য লিখতে পারি।
  • ফটোলাইসিস ও পানির উৎস থেকে অক্সিজেন নির্গমন বুঝিয়ে বলতে পারি।
  • ক্যালভিন চক্র, কার্বক্সিলেশন এবং C₃ উদ্ভিদের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারি।
  • আলো, তাপ, CO₂ ও সীমাবদ্ধতা ফ্যাক্টরের প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারি।

নিয়মিত সংজ্ঞা ও ধাপ লিখে অনুশীলন করলে এই অধ্যায়ে অবশ্যই ভালো করবে।

⚡ Related Tools — Try These Next
📋
MCQ Practice
Topic-wise timed tests
🏛
University Guide
All 22 universities
🧑
Ask Kabir
Expert advisor
🏆
Scholarships
Find funding
Browse all 18+ tools →
🎓 Planning to apply? Browse our complete university admission guide → with requirements, fees, and cutoffs for all 22 major universities in Bangladesh.

সম্পর্কিত পোস্ট / Related posts

HSC
HSC

Admission Test Prep: অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন

ADMISSION TEST PREPARATION অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী How to use this sheet ★★★ = the par

HSC
HSC

Admission Test Prep: অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন

ADMISSION TEST PREPARATION অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী How to use this sheet ★★★ = the p

HSC
HSC

এইচএসসি সাজেশন: অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন / অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন / অধ্যায় ৩: কোষ রসায়ন

এইচএসসি সাজেশন (একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি) অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন / অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন / অধ্যায় ৩: কোষ রসায়ন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত

HSC
HSC

লেকচার শিট: অধ্যায় ১২: জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ

লেকচার শিট অধ্যায় ১২: জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পরিচিতি এই পাঠে যা শিখবে বাস্

HSC
HSC

লেকচার শিট: অধ্যায় ১১: জীবপ্রযুক্তি

লেকচার শিট অধ্যায় ১১: জীবপ্রযুক্তি একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পরিচিতি এই পাঠে যা শিখবে কৃষিতে জিনপ্রযুক্তির ব্

HSC
HSC

লেকচার শিট: অধ্যায় ১০: উদ্ভিদ প্রজনন

লেকচার শিট অধ্যায় ১০: উদ্ভিদ প্রজনন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পরিচিতি এই পাঠে যা শিখবে ডিম্বকের প্রধান অংশ এব

🎓
আরও লেকচার শিট, মডেল টেস্ট ও প্র্যাকটিস — AlphaGenEduMore lecture sheets, board questions and MCQ practice for every class, free on alphagenedu.com
AlphaGenEdu-তে যান →
Kabir — Ask me about admissions! 🎓

AdmissionPaths Support

🟢 Online · How can we help?
🧑
Ask Kabir
Admission advisor · 20+ yrs
💬
Live Support Chat
AI-powered · instant replies
🎫
Submit a Ticket
Response within 24 hours
❓
Browse FAQ
Quick answers
🤖
AdmissionPaths Support
🟢 AI-powered · replies instantly