🎉 3-Day Free Trial — All premium features unlocked, zero credit card required ● 📚 28+ Expert Guides published and growing every week
Back to Blog
HSC

লেকচার শিট: অধ্যায় ১১: জীবপ্রযুক্তি

By admin 8 views
লেকচার শিট

অধ্যায় ১১: জীবপ্রযুক্তি

একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী

পরিচিতি

এই পাঠে যা শিখবে
  • কৃষিতে জিনপ্রযুক্তির ব্যবহার ও ট্রান্সজেনিক ফসলের ধারণা।
  • পতঙ্গনিরোধী ফসল, Bt-ফসল এবং Bt-বেগুনের বৈশিষ্ট্য ও উপকারিতা।
  • বাংলাদেশে GM ফসলের ব্যবহার, সম্ভাব্য প্রভাব এবং পরিবেশগত গুরুত্ব।
  • রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তির মাধ্যমে ইনসুলিন, ইন্টারফেরন, TPA ও EPO উৎপাদন।
  • জিন থেরাপি এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানে জীবপ্রযুক্তির ভূমিকা।
  • বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ, দূষণ হ্রাস ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় জীবপ্রযুক্তির প্রয়োগ।

আগে যা জানা দরকার

জিন হলো বংশগত বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী DNA-এর অংশ। DNA, ক্রোমোজোম, জিন, প্লাজমিড ও এনজাইম সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা থাকলে এই অধ্যায়টি সহজ হবে। রেস্ট্রিকশন এনজাইম DNA কাটে এবং লাইগেজ এনজাইম DNA খণ্ড জোড়ে। রিকম্বিনেন্ট DNA হলো ভিন্ন উৎসের DNA খণ্ড যুক্ত করে তৈরি DNA।

এই অধ্যায় কেন গুরুত্বপূর্ণ?

কৃষিতে রোগ ও পতঙ্গনিরোধী ফসল উৎপাদন, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং পরিবেশ রক্ষায় জীবপ্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। চিকিৎসায় মানব ইনসুলিন, ইন্টারফেরন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদার্থ তৈরিতে এর ভূমিকা রয়েছে। পরীক্ষায় সংজ্ঞা, সুবিধা-অসুবিধা, প্রক্রিয়ার ধাপ এবং Bt-বেগুন ও ইনসুলিন উৎপাদন প্রায়ই গুরুত্বপূর্ণ।

এক নজরে

ক্রম বিষয়
১কৃষিতে জিনপ্রযুক্তির ব্যবহার
২পতঙ্গনিরোধী ফসল ও Bt-বেগুন
৩বাংলাদেশে GM ফসল ও এর প্রভাব
৪চিকিৎসাবিজ্ঞানে রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি
৫পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও জীবপ্রযুক্তির প্রয়োগ

কৃষিতে জিনপ্রযুক্তির ব্যবহার

কৃষিতে জিনপ্রযুক্তি ব্যবহার করে উদ্ভিদের কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি করা যায়। যেমন—পতঙ্গনিরোধী ফসল, আগাছানাশক-সহনশীল ফসল, রোগপ্রতিরোধী জাত এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ ধান তৈরি করা সম্ভব।

সংজ্ঞা: কোনো জীবের নির্দিষ্ট জিন পৃথক করে রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তির মাধ্যমে অন্য জীবের কোষে স্থাপন করে নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীব সৃষ্টি করাকে জিনপ্রযুক্তির প্রয়োগ বলা হয়। এ ধরনের উদ্ভিদকে ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ বলা হয়।

১. পতঙ্গনিরোধী ফসল

Bacillus thuringiensis নামের ব্যাকটেরিয়া পতঙ্গের জন্য বিষাক্ত একটি প্রোটিন তৈরি করে। এই ব্যাকটেরিয়া থেকে বিষাক্ত প্রোটিন তৈরির জিন উদ্ভিদে স্থানান্তর করলে উদ্ভিদটি নিজেই পতঙ্গনাশক প্রোটিন তৈরি করে। এভাবে Bt তুলা, Bt ভুট্টা ও অন্যান্য পতঙ্গনিরোধী ফসল সৃষ্টি করা হয়।

পতঙ্গনিরোধী ফসলে পোকার আক্রমণ কমে যায়। ফলে ফলন বৃদ্ধি পায়, রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার কমে এবং উৎপাদন ব্যয়ও হ্রাস পায়। মাটি, পানি ও বায়ুদূষণ কমে। মানুষের স্বাস্থ্য এবং জলজ পরিবেশও ক্ষতিকর কীটনাশকের প্রভাব থেকে রক্ষা পায়।

উদাহরণ: ইউরোপিয়ান কর্ন-বোরারের লার্ভা ভুট্টার কাণ্ড খেয়ে ফলন কমায়। Bacillus thuringiensis-এর বিষাক্ত প্রোটিন তৈরির জিন ভুট্টায় স্থাপন করলে ভুট্টা গাছটি পতঙ্গনিরোধী হয়।

২. আগাছানাশক-সহনশীল উদ্ভিদ

গ্লাইফোসেট একটি কার্যকর আগাছানাশক। কিন্তু এটি আগাছার সঙ্গে ফসল উদ্ভিদকেও নষ্ট করতে পারে। কিছু ব্যাকটেরিয়া এমন এনজাইম তৈরি করে, যা গ্লাইফোসেট ভেঙে দিতে পারে। সেই জিন পৃথক করে রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তির মাধ্যমে তুলা ও সয়াবিনে স্থাপন করা হয়েছে। ফলে ট্রান্সজেনিক তুলা ও সয়াবিন গাছে গ্লাইফোসেট প্রয়োগ করলেও ফসল নষ্ট হয় না, কিন্তু আগাছা দমন হয়।

৩. পশমের মান উন্নয়ন

ভেড়ার পশমের মান উন্নত করতে সালফারসমৃদ্ধ খাদ্য দরকার। রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তির মাধ্যমে সালফারসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদনকারী জিন ভেড়ার দেহে স্থানান্তর করা হয়েছে। এই ট্রান্সজেনিক ভেড়া যে ঘাস খায়, তাতে অতিরিক্ত সালফারসমৃদ্ধ খাদ্য দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। ফলে উন্নতমানের পশম পাওয়া যায়।

৪. সুপার রাইস বা গোল্ডেন রাইস

ভিটামিন-A-এর অভাবে শিশুদের রাতকানা ও অন্ধত্ব হতে পারে। এশিয়ার মানুষের প্রধান খাদ্য ভাত হওয়ায় ধানের মধ্যে ভিটামিন-A তৈরির ক্ষমতা আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ড্যাফোডিল থেকে বিটা-ক্যারোটিন তৈরির চারটি জিন এবং অতিরিক্ত আয়রন তৈরির জিন জাপোনিকা ধানে স্থাপন করে সুপার রাইস বা গোল্ডেন রাইস সৃষ্টি করা হয়েছে।

৫. অন্যান্য ব্যবহার

  • ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও কীটপতঙ্গ-প্রতিরোধী ফসলের জাত উদ্ভাবন করা যায়।
  • ভাইরাসের coat protein জিন ব্যবহার করে ভাইরাস-প্রতিরোধী তামাক এবং রিংস্পট-প্রতিরোধী পেঁপে তৈরি হয়েছে।
  • নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী ব্যাকটেরিয়া থেকে nif জিন E. coli-তে স্থানান্তর করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এর মাধ্যমে ফসলের নাইট্রোজেনের চাহিদা পূরণ এবং উৎপাদন ব্যয় কমানো সম্ভব হতে পারে।
  • জোনাকি পোকার luciferase-সম্পর্কিত জিন উদ্ভিদে স্থাপন করে দ্যুতিময় উদ্ভিদ সৃষ্টি করা যায়। এ ধরনের উদ্ভিদের পাতা থেকে অন্ধকারে আলো বিকিরিত হয়।
শিক্ষকের টিপস: Bt মনে রাখবে “Bacteria toxin” হিসেবে—Bt জিন উদ্ভিদকে পতঙ্গনিরোধী করে। আর গোল্ডেন রাইস মনে রাখবে “ভাতের মাধ্যমে ভিটামিন-A”।
পরীক্ষায় যেভাবে আসে: Bt ফসলের সুবিধা লিখতে হলে চারটি বিষয় লিখবে—ফলন বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস, কীটনাশকের ব্যবহার কমা এবং পরিবেশদূষণ হ্রাস।

দ্রুত যাচাই

১। Bt তুলা কীভাবে পতঙ্গনিরোধী হয়?

উত্তর দেখোBt ব্যাকটেরিয়ার বিষাক্ত প্রোটিন তৈরির জিন তুলা গাছে স্থাপন করা হয়। ফলে তুলা গাছ নিজেই পতঙ্গের জন্য বিষাক্ত প্রোটিন তৈরি করে।

২। গোল্ডেন রাইস তৈরির প্রধান উদ্দেশ্য কী?

উত্তর দেখোভিটামিন-A-এর অভাব পূরণ করে রাতকানা ও ভিটামিন-A-ঘটিত অন্ধত্ব কমানো।

পতঙ্গনিরোধী ফসল ও Bt-বেগুন

অনেক কীটপতঙ্গ ফসলের কাণ্ড, পাতা, ফুল ও ফল নষ্ট করে। ফলে ফলন কমে এবং কৃষককে বারবার কীটনাশক স্প্রে করতে হয়। জিনপ্রযুক্তির সাহায্যে এমন ফসল সৃষ্টি করা যায়, যে ফসল নিজেই নির্দিষ্ট কীটপতঙ্গের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী।

সংজ্ঞা: যে ফসলের জিনোমে Bacillus thuringiensis ব্যাকটেরিয়ার কীটনাশক-প্রোটিন তৈরির জিন যুক্ত করা হয় এবং যে ফসল ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গ প্রতিরোধ করতে পারে, তাকে পতঙ্গনিরোধী ফসল বলে। এ ধরনের ফসলকে সাধারণভাবে Bt ফসলও বলা হয়।

Bt জিন কীভাবে কাজ করে?

Bacillus thuringiensis বা Bt ব্যাকটেরিয়া একটি বিশেষ প্রোটিন তৈরি করে। এই প্রোটিন নির্দিষ্ট কীটপতঙ্গের জন্য বিষাক্ত, কিন্তু মানুষের জন্য তুলনামূলকভাবে অ-বিষাক্ত। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে এই প্রোটিন তৈরির জিন ফসলের কোষে প্রবেশ করানো হয়। পরে ফসলের কোষে বিষাক্ত প্রোটিন তৈরি হয়। ফলে কীটপতঙ্গ ফসল আক্রমণ করলে মারা যায় বা ফসলের ক্ষতি করতে পারে না।

Bt ফসলের কার্যপ্রণালি1Bt ব্যাকটেরিয়াথেকে জিন পৃথক2জিন ফসলের কোষেপ্রবেশ করানো3ফসলের কোষে Btপ্রোটিন তৈরি4কীটপতঙ্গের আক্রমণকমে5ফলন বৃদ্ধি ওকীটনাশকের ব্যবহারহ্রাস
Bt জিন ফসলকে নির্দিষ্ট কীটপতঙ্গের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী করে।

ইউরোপিয়ান কর্ন-বোরার প্রতিরোধী ভুট্টা

ইউরোপিয়ান কর্ন-বোরার এক ধরনের মথ। এর লার্ভা ভুট্টা গাছের কাণ্ডের ভিতর ঢুকে কাণ্ড কেটে খায়। এর ফলে ভুট্টার ফলন শতকরা ৪০ ভাগ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। Bt ব্যাকটেরিয়ার কীটপতঙ্গ-নাশক প্রোটিন তৈরির জিন ভুট্টা গাছে প্রবেশ করিয়ে প্রতিরোধী ভুট্টার জাত সৃষ্টি করা হয়েছে। এই ভুট্টা গাছে উৎপন্ন প্রোটিন কর্ন-বোরারের জন্য বিষাক্ত। তাই গাছ আক্রান্ত হয় না বা ক্ষতি অনেক কম হয়।

উদাহরণ: Bt-বেগুন তৈরির সময় Bacillus thuringiensis ব্যাকটেরিয়ার ক্রিস্টাল প্রোটিন জিন Cry1Ac বেগুনের জিনোমে যুক্ত করা হয়। ফলে বেগুনগাছ নির্দিষ্ট ক্ষতিকারক পোকার বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়।

Bt-বেগুনের উৎপাদন ও সুবিধা

সাধারণ বেগুনে কাণ্ড ও ফলে পোকার আক্রমণ হলে কৃষককে কীটনাশক স্প্রে করতে হয়। Bt-বেগুনে Cry1Ac জিনের কারণে পোকার ক্ষতি কম হয়। তাই—

  • কীটনাশক কিনতে ও স্প্রে করতে হয় না বা ব্যবহার অনেক কমে যায়।
  • উৎপাদন ব্যয় কমে এবং কৃষকের শ্রম ও সময় সাশ্রয় হয়।
  • কীটনাশকজনিত কৃষকের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমে।
  • পোকার আক্রমণ কম থাকায় ফলন বৃদ্ধি পেতে পারে।
  • মাটি, পানি ও বায়ুতে কীটনাশকের দূষণ কমে।
  • বৃষ্টির পানির সঙ্গে বিষ পুকুর, নদী-নালা ও খালে কম যায়; ফলে জলজ উদ্ভিদ, মাছ ও অন্যান্য প্রাণী রক্ষা পায়।

Bt তুলা গাছেও পোকার জন্য বিষাক্ত প্রোটিন তৈরি হয়। ফলে তুলার ফলন বৃদ্ধি পায়, উৎপাদন ব্যয় কমে এবং জমির উপরিভাগের মাটি, পানি ও বায়ুদূষণ হ্রাস পায়।

বায়ো-ইনসেক্টিসাইড হিসেবে Bt

Bt ব্যাকটেরিয়া বাংলাদেশে বিভিন্ন মাটিতে পাওয়া যায়। গবেষণাগারে এই ব্যাকটেরিয়া অধিক পরিমাণে উৎপাদন করে বায়ো-ইনসেক্টিসাইড হিসেবে বেগুন ও অন্যান্য ফসলে প্রয়োগ করা যায়। এতে ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ হয় এবং রাসায়নিক কীটনাশকের তুলনায় পরিবেশ ও মানবদেহের ক্ষতি কম হয়।

Sterile Insect Technique বা SIT

SIT একটি পরিবেশবান্ধব পতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি; এটি রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি নয়। এ পদ্ধতিতে প্রধানত বিকিরণ প্রয়োগ করে ক্ষতিকারক পতঙ্গের পুরুষগুলোকে বন্ধ্যা করা হয়। পরে এসব বন্ধ্যা পুরুষ পতঙ্গ পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া হয়। তারা স্ত্রী পতঙ্গের সঙ্গে মিলিত হলেও স্ত্রী পতঙ্গ কার্যকর ডিম দিতে পারে না। ফলে নতুন প্রজন্ম তৈরি হয় না এবং ধীরে ধীরে ক্ষতিকারক পতঙ্গের সংখ্যা কমে যায়। মশা, পঙ্গপাল ও অন্যান্য ক্ষতিকারক পতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে SIT ব্যবহার করা যায়।

শিক্ষকের টিপস: মনে রাখবে—Bt = বীজে বা ফসলে কীটপতঙ্গের বিরুদ্ধে প্রোটিন। আর SIT = Sterile male, অর্থাৎ বন্ধ্যা পুরুষ ছেড়ে নতুন প্রজন্ম বন্ধ করা। SIT-কে রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি লিখবে না।
পরীক্ষায় যেভাবে আসে: “Bt-বেগুনের সুবিধা লেখো”—উত্তরে অবশ্যই কীটনাশকের ব্যবহার ও ব্যয় কমা, ফলন বৃদ্ধি, কৃষকের স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস এবং মাটি-পানি-বায়ু ও জলজ পরিবেশের দূষণ কমার কথা লিখবে।

দ্রুত যাচাই

১। Bt-বেগুনে কোন জিন যুক্ত করা হয় এবং তা কী তৈরি করে?

উত্তর দেখোCry1Ac জিন যুক্ত করা হয়। এটি কীটপতঙ্গের জন্য বিষাক্ত ক্রিস্টাল প্রোটিন তৈরি করে।

২। SIT পদ্ধতিতে কীভাবে পতঙ্গের সংখ্যা কমানো হয়?

উত্তর দেখোপুরুষ পতঙ্গকে বন্ধ্যা করে পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া হয়। ফলে স্ত্রী পতঙ্গ কার্যকর ডিম দিতে পারে না এবং নতুন প্রজন্ম সৃষ্টি হয় না।

বাংলাদেশে GM ফসল ও এর প্রভাব

প্রথমে বুঝে নিই, GM ফসল কী। জেনেটিক মডিফিকেশনের মাধ্যমে কোনো ফসলের রোগ, পোকা বা অন্য ক্ষতিকর কারণ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়িয়ে যে ফসল উৎপাদন করা হয়, তাকে GM ফসল (Genetically Modified crop) বলে।

সংজ্ঞা: জিনপ্রযুক্তির মাধ্যমে ফসলের জিনোমে কাঙ্ক্ষিত জিন সংযোজন করে উৎপাদিত উন্নত ফসলই GM ফসল।

বাংলাদেশের প্রথম GM খাদ্যফসল

বাংলাদেশে প্রথম GM খাদ্যফসল হলো Bt-বেগুন। ২৭ জানুয়ারি ২০১৪ সালে বাংলাদেশ সরকার Bt-বেগুন চাষের অনুমোদন দেয়। এর চারটি জাত নির্বাচিত কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

Bt-বেগুন তৈরির জন্য Bacillus thuringiensis নামের একটি সাধারণ ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করা হয়েছে। এই ব্যাকটেরিয়া থেকে কীটের জন্য বিষাক্ত ক্রিস্টাল প্রোটিন তৈরির Cry1Ac জিন পৃথক করে বেগুনের জিনোমে সংযোজন করা হয়। ফলে বেগুন গাছ নিজেই এমন প্রোটিন তৈরি করে, যা নির্দিষ্ট ক্ষতিকারক পোকার বিরুদ্ধে কাজ করে।

Bt-বেগুন তৈরির ধারণা1Bacillusthuringiensisথেকে Cry1Ac জিন2বেগুনের জিনোমেজিন সংযোজন3পোকা-প্রতিরোধীBt-বেগুন4কীটনাশক কমব্যবহার ও ফলনবৃদ্ধি
জিন সংযোজনের মাধ্যমে Bt-বেগুনের বৈশিষ্ট্য তৈরি হয়।

সাধারণ বেগুন ও Bt-বেগুনের পার্থক্য

এক ধরনের ক্ষতিকারক পোকা সাধারণ বেগুন গাছের কাণ্ড ও ফলে আক্রমণ করে। ফলে বেগুন নষ্ট হয় এবং ফলন কমে যায়। এই আক্রমণ ঠেকাতে কৃষককে বারবার কীটনাশক স্প্রে করতে হয়।

অন্যদিকে Bt-বেগুনে Cry1Ac জিনের কারণে উৎপন্ন প্রোটিন নির্দিষ্ট পোকার জন্য বিষাক্ত। তাই পোকা সহজে গাছের কাণ্ড ও ফল নষ্ট করতে পারে না। ফলে ফসল রক্ষা পায় এবং ফলন বাড়ে বা কমে না।

উদাহরণ: সাধারণ বেগুনে পোকার আক্রমণ হলে কৃষককে কীটনাশক কিনে স্প্রে করতে হয়। Bt-বেগুনে পোকার আক্রমণ কম হওয়ায় কীটনাশকের প্রয়োজন কমে, উৎপাদন খরচ কমে এবং ফলন বাড়ে।

Bt-বেগুন চাষের সম্ভাব্য উপকারিতা

  1. কীটনাশক কিনতে ও বারবার স্প্রে করতে হয় না; তাই কৃষকের উৎপাদন খরচ কমে।
  2. কৃষককে কীটনাশক স্প্রে করার সময় বিষক্রিয়ার ঝুঁকিতে পড়তে হয় না।
  3. ভোক্তার দেহে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ প্রবেশের ঝুঁকি কমে।
  4. বৃষ্টির পানির সঙ্গে কীটনাশক নদী, খাল, বিল ও পুকুরে জমা হওয়ার সম্ভাবনা কমে।
  5. জলজ উদ্ভিদ, মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর ক্ষতি কম হয়।
  6. মাটি ও পার্শ্ববর্তী পরিবেশ কম বিষাক্ত থাকে এবং উৎপাদন বাড়ে।

GM ফসলের নিরাপত্তা

GM ফসল নিরাপদ কি না, তা পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন করতে হয়। Bt-বেগুনের Cry1Ac প্রোটিন নির্দিষ্ট ক্ষতিকারক পোকার জন্য বিষাক্ত হলেও মানুষের জন্য বিষাক্ত নয়—এমন ফল পরীক্ষায় পাওয়া গেছে। Bt-বেগুন উদ্ভাবনের পর উন্নত দেশের ১০টির অধিক গবেষণাগারে মাছ, মুরগি, ছাগল, গরু ও ইঁদুরের ওপর গবেষণা করা হয়েছে। এসব পরীক্ষায় কোনো ক্ষতিকর প্রভাব দেখা যায়নি।

তাই Bt-বেগুনের নিরাপত্তা বিচার করতে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা, খাদ্যনিরাপত্তা ও পরিবেশগত প্রভাব—সব দিক বিবেচনা করা জরুরি।

শিক্ষকের টিপস: মনে রাখবে—Bt = ব্যাকটেরিয়া থেকে পোকা-প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্য। Bt-বেগুন পোকাকে লক্ষ্য করে; এটি মানুষের জন্য বিষাক্ত—এ কথা ঠিক নয়।
পরীক্ষায় যেভাবে আসে: “Bt-বেগুন কীভাবে তৈরি হয় এবং এর উপকারিতা লেখ”—উত্তরে অবশ্যই Bacillus thuringiensis, Cry1Ac জিন, বেগুনের জিনোম, কীটনাশক কম ব্যবহার, ফলন বৃদ্ধি ও পরিবেশরক্ষার কথা লিখবে।

দ্রুত যাচাই ১: Bt-বেগুন তৈরিতে কোন জিন বেগুনের জিনোমে সংযোজন করা হয়?

উত্তর দেখোCry1Ac ক্রিস্টাল প্রোটিন জিন।

দ্রুত যাচাই ২: Bt-বেগুন চাষে জলাশয়ের কী উপকার হয়?

উত্তর দেখোকীটনাশক বৃষ্টির পানির সঙ্গে জলাশয়ে কম জমে; ফলে জলজ উদ্ভিদ, মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর ক্ষতি কম হয়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি

চিকিৎসাবিজ্ঞানে রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রযুক্তির সাহায্যে বিভিন্ন ধরনের টিকা, হরমোন, অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিজেন উৎপাদন করা যায়। রোগ শনাক্তকরণেও জিন প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। মানুষের কোনো নির্দিষ্ট জিনে ত্রুটি থাকলে সেই ত্রুটি খুঁজে সংশোধনের ক্ষেত্রেও এ প্রযুক্তি আশার আলো দেখাচ্ছে।

সংজ্ঞা: বিভিন্ন উৎসের কাঙ্ক্ষিত DNA খণ্ডকে উপযুক্ত বাহক DNA বা প্লাসমিডের সঙ্গে যুক্ত করে যে নতুন DNA তৈরি করা হয়, তাকে রিকম্বিনেন্ট DNA বলে। এই DNA ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে প্রবেশ করিয়ে কাঙ্ক্ষিত প্রোটিন উৎপাদন করা যায়।

১. মানব ইনসুলিন উৎপাদন

ইনসুলিন অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্সের বিটা-কোষ থেকে নিঃসৃত একটি হরমোন। এটি রক্তে থাকা গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা কমিয়ে স্বাভাবিক রাখে। ইনসুলিন কম নিঃসৃত হলে বা অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে যায় এবং ডায়াবেটিস হয়। তাই ডায়াবেটিস রোগীর ইনসুলিন ইনজেকশন প্রয়োজন।

ইনসুলিন ৫১টি অ্যামিনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত। এর দুটি পলিপেপটাইড শৃঙ্খল আছে—চেইন A-তে ২১টি এবং চেইন B-তে ৩০টি অ্যামিনো অ্যাসিড। দুটি ডিসালফাইড বন্ধনের মাধ্যমে চেইন দুটি যুক্ত থাকে। এর রাসায়নিক সংকেত C257H383N65O77S6 এবং আণবিক ভর ৫৮০৮।

উদাহরণ: মানুষের ইনসুলিন উৎপাদনকারী জিন ১১ নম্বর ক্রোমোজোমের ছোট বাহুর DNA-তে থাকে। এই জিন E. coli-এর প্লাসমিডে স্থাপন করে রিকম্বিনেন্ট প্লাসমিড তৈরি করা হয়। পরে তা E. coli-তে প্রবেশ করিয়ে মানব ইনসুলিন উৎপাদন করা হয়। Eli Lilly & Company ১৯৮২ সালে ‘হিউমুলিন’ নামে মানব ইনসুলিন বাজারজাত করে।

ইনসুলিন উৎপাদনের ধাপ

  1. মানব DNA থেকে রেস্ট্রিকশন এনজাইমের সাহায্যে ইনসুলিন জিন পৃথক করা হয়।
  2. E. coli থেকে বাহক প্লাসমিড পৃথক করা হয় এবং রেস্ট্রিকশন এনজাইম দিয়ে প্লাসমিডে স্থান তৈরি করা হয়।
  3. ইনসুলিন জিনটি প্লাসমিডে বসিয়ে লাইগেজ এনজাইম দিয়ে যুক্ত করা হয়। ফলে রিকম্বিনেন্ট প্লাসমিড তৈরি হয়।
  4. তাপ শক বা ইলেকট্রিক পালস পদ্ধতিতে রিকম্বিনেন্ট প্লাসমিড E. coli-তে প্রবেশ করানো হয়।
  5. ফারমেন্টেশন ট্যাঙ্কে GMO E. coli-এর সংখ্যা বাড়ানো হয় এবং ইনসুলিন উৎপাদন করানো হয়।
  6. কোষ লাইসিস করে ইনসুলিন পৃথক করা, বিশুদ্ধ করা এবং নির্দিষ্ট পরিমাণে সংরক্ষণ করা হয়।
E. coli-তে মানব ইনসুলিন উৎপাদন1মানব DNA থেকেইনসুলিন জিন পৃথক2প্লাসমিডে জিনস্থাপন3রিকম্বিনেন্টপ্লাসমিড E.coli-তে প্রবেশ4ফারমেন্টেশনট্যাঙ্কে সংখ্যাবৃদ্ধি5ইনসুলিন পৃথক ওবিশুদ্ধকরণ
রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তিতে ইনসুলিন উৎপাদনের ক্রম

২. ইন্টারফেরন

ইন্টারফেরন হলো আক্রান্ত কোষ থেকে নিঃসৃত প্রতিরক্ষামূলক প্রোটিন। এটি ভাইরাসের প্রোটিন সংশ্লেষণ বন্ধ করে ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি রোধ করে। ফলে আশপাশের সুস্থ কোষ ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়। রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তিতে অধিক পরিমাণে ইন্টারফেরন উৎপাদন করা যায়। জটিল হেপাটাইটিস-বি, যক্ষ্মা ও বিভিন্ন প্যাপিলোমার চিকিৎসায় এটি ব্যবহৃত হয়। ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি রোধেও এর সম্ভাব্য ব্যবহার রয়েছে।

৩. TPA ও EPO

TPA (Tissue Plasminogen Activator) রক্তের নিষ্ক্রিয় প্লাসমিনোজেনকে সক্রিয় প্লাসমিনে পরিণত করতে সাহায্য করে। ফলে রক্তনালির জমাট রক্ত গলে যায়। তাই হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের রোগীর চিকিৎসায় TPA ব্যবহার করা হয়। মানুষের কোষের TPA mRNA থেকে cDNA তৈরি করে তা প্লাসমিডে যুক্ত করা হয় এবং E. coli-তে প্রবেশ করিয়ে TPA উৎপাদন করা হয়।

EPO (Erythropoietin) কিডনি থেকে নিঃসৃত হরমোন। এটি অস্থিমজ্জাকে উদ্দীপিত করে লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদন বাড়ায়। কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিসের ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দিলে রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তিতে উৎপাদিত EPO ইনজেকশন দেওয়া হয়।

৪. জিন থেরাপি

কোনো রোগের জন্য দায়ী ত্রুটিপূর্ণ জিনকে সংশোধন করে তার স্থানে সঠিক জিন প্রবেশ করানোর পদ্ধতিকে জিন থেরাপি বলে। সরাসরি সংশোধিত কোষ প্রবেশ করানো যায় অথবা ভাইরাসকে বাহক হিসেবে ব্যবহার করে সংশোধিত জিন আক্রান্ত কোষে পৌঁছে দেওয়া যায়।

শিক্ষকের টিপস: ইনসুলিন গ্লুকোজ কমায়, ইন্টারফেরন ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি রোধ করে, TPA জমাট রক্ত গলায় এবং EPO লোহিত রক্তকণিকা বাড়ায়—“গ্লুকোজ, ভাইরাস, জমাট, রক্ত” এই ক্রমটি মনে রাখো।
পরীক্ষায় যেভাবে আসে: মানব ইনসুলিন উৎপাদনের ধাপ, ইন্টারফেরনের কাজ, TPA-এর ভূমিকা, EPO-এর ব্যবহার এবং জিন থেরাপির সংজ্ঞা সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন বা সৃজনশীল প্রশ্নে আসতে পারে।

দ্রুত যাচাই ১: ইনসুলিনের চেইন A ও B-তে যথাক্রমে কতটি অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে?

উত্তর দেখোচেইন A-তে ২১টি এবং চেইন B-তে ৩০টি অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে।

দ্রুত যাচাই ২: TPA ও EPO-এর প্রধান কাজ কী?

উত্তর দেখোTPA রক্তের জমাট গলাতে সাহায্য করে এবং EPO লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদন বাড়ায়।

পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও জীবপ্রযুক্তির প্রয়োগ

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না করলে পরিবেশ দূষিত হয়। কলকারখানা, খনি, কৃষিকাজ ও চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে নানা ধরনের বর্জ্য বের হয়। এসব বর্জ্য মাটি, পানি ও বায়ুকে দূষিত করতে পারে। তাই বর্জ্যকে নিয়ন্ত্রণ করা, পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা এবং ক্ষতিকর উপাদান কমিয়ে পরিবেশবান্ধবভাবে ব্যবহার করা জরুরি। এই কাজে জীবপ্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সংজ্ঞা: বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখা এবং পরিবেশ দূষণকারী উপাদানকে নিয়ন্ত্রণ বা পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করে ব্যবহার করাকে পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বলে। জীবপ্রযুক্তিতে জীবাণু বা পরিবর্তিত জীব ব্যবহার করে এই কাজ সম্পন্ন করা হয়।

জীবপ্রযুক্তির ভূমিকা

কিছু বর্জ্য জটিল এবং বিষাক্ত হওয়ায় সরাসরি পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া যায় না। জীবাণু এসব জটিল বর্জ্যকে ভেঙে অপেক্ষাকৃত সহজ উপাদানে পরিণত করতে পারে। ফলে বর্জ্যের বিষাক্ততা ও দূষণ ক্ষমতা কমে যায়। এভাবে জীবাণু ব্যবহার করে পরিবেশের ক্ষতি কমানো যায়।

কলকারখানা ও খনি থেকে সালফাইড, সীসা, পারদ, কপারসহ নানা বিষাক্ত পদার্থ নির্গত হতে পারে। এগুলো মাটি ও পানিতে জমে জীবজগতের ক্ষতি করে। জীবাণু ও তাদের ক্রিয়ার সাহায্যে এসব বর্জ্যের কিছু অংশ ভেঙে সহজ উপাদানে রূপান্তর করা যায়। এতে দূষণ কমে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সহজ হয়।

অতিরিক্ত ব্যাখ্যাএই পদ্ধতিতে প্রথমে বর্জ্য শনাক্ত করা হয়। এরপর উপযুক্ত জীবাণু বা জীবাণুর তৈরি এনজাইম বর্জ্যের সংস্পর্শে আনা হয়। জীবাণু জটিল পদার্থ ভেঙে অপেক্ষাকৃত সরল পদার্থে পরিণত করে। শেষে অবশিষ্ট পদার্থ পরীক্ষা করে নিরাপদভাবে ব্যবহার বা অপসারণ করা হয়।

জীবপ্রযুক্তিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা1বিষাক্ত বর্জ্যশনাক্তকরণ2উপযুক্ত জীবাণুব্যবহার3জটিল বর্জ্য ভাঙন4সহজ উপাদানেরূপান্তর5দূষণ কমানো ওপুনঃব্যবহার
জীবাণুর সাহায্যে জটিল বর্জ্যকে সহজ উপাদানে রূপান্তর করা হয়।
উদাহরণ: কলকারখানা বা খনি থেকে নির্গত সালফাইড, সীসা, পারদ ও কপারযুক্ত বর্জ্য পরিবেশ দূষণ করে। জীবাণুর সাহায্যে এসব জটিল বর্জ্য ভেঙে সহজ উপাদানে পরিণত করা হলে দূষণ কমে এবং পরিবেশ ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হয়।

ট্রান্সজেনিক প্রাণীর ব্যবহার

জীবপ্রযুক্তির আরেকটি প্রয়োগ হলো ট্রান্সজেনিক প্রাণী উৎপাদন। ট্রান্সজেনিক প্রাণীর দেহে নির্দিষ্ট কাঙ্ক্ষিত জিন যুক্ত করা হয়। তাদের জৈব-বিশ্লেষক (bioreactor) হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এসব প্রাণীর দুধ, রক্ত বা পেশি থেকে প্রয়োজনীয় ঔষধীয় উপাদান সংগ্রহ করা সম্ভব। এর ফলে চিকিৎসার জন্য দরকারি পদার্থ উৎপাদনের নতুন সুযোগ তৈরি হয়।

কৃষিতে জীবপ্রযুক্তি ফলন বাড়ায়, কীটনাশকের ব্যবহার ও উৎপাদন ব্যয় কমায়। চিকিৎসায় রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তির মাধ্যমে ইনসুলিন, ইন্টারফেরন, TPA ও EPO-এর মতো ঔষধীয় উপাদান তৈরি করা যায়। পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় জীবাণু বর্জ্য ভেঙে দূষণ কমায়। তাই জীবপ্রযুক্তি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং পরিবেশ সংরক্ষণ—তিন ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষকের টিপস: মনে রাখবে—“ভাঙে, বাঁচায়, বানায়”। জীবাণু বর্জ্য ভাঙে, পরিবেশ বাঁচায়; আর ট্রান্সজেনিক প্রাণী ঔষধীয় উপাদান বানাতে সাহায্য করে। Bt ফসলের ব্যবহার পরিবেশ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও এটি সরাসরি বর্জ্য ভাঙার পদ্ধতি নয়।
পরীক্ষায় যেভাবে আসে: “পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় জীবপ্রযুক্তির ভূমিকা ব্যাখ্যা করো”—উত্তরে প্রথমে সংজ্ঞা লিখবে, তারপর বিষাক্ত বর্জ্য ও জীবাণুর ভূমিকা, জটিল বর্জ্য ভেঙে সহজ উপাদানে রূপান্তর, এবং ট্রান্সজেনিক প্রাণী থেকে ঔষধীয় উপাদান সংগ্রহের কথা লিখবে।

দ্রুত যাচাই

১। পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বলতে কী বোঝ?

উত্তর দেখোবর্জ্য ও দূষণকারী উপাদান নিয়ন্ত্রণ বা পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করে পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখাকে পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বলে।

২। ট্রান্সজেনিক প্রাণীকে কীভাবে ব্যবহার করা যায়?

উত্তর দেখোট্রান্সজেনিক প্রাণীকে জৈব-বিশ্লেষক হিসেবে ব্যবহার করে তাদের দুধ, রক্ত বা পেশি থেকে প্রয়োজনীয় ঔষধীয় উপাদান সংগ্রহ করা যায়।

উদাহরণ ও সমাধান

নিচের উদাহরণগুলো পরীক্ষার সৃজনশীল ও রচনামূলক প্রশ্নের উত্তর লেখার পদ্ধতি দেখায়। প্রতিটি উত্তরে প্রথমে ধারণা, পরে কারণ ও ফলাফল ধারাবাহিকভাবে লিখবে।

উদাহরণ ১: পতঙ্গনিরোধী ফসলের উপকারিতা ব্যাখ্যা করো।

  1. উৎস জিন: Bacillus thuringiensis ব্যাকটেরিয়া থেকে পতঙ্গের জন্য বিষাক্ত প্রোটিন তৈরির জিন নেওয়া হয়।
  2. জিন সংযোজন: রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তির মাধ্যমে এই জিন ফসল উদ্ভিদের DNA-তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ফলে ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ তৈরি হয়।
  3. কাজ: উদ্ভিদে উৎপন্ন বিষাক্ত প্রোটিন ক্ষতিকারক কীট-পতঙ্গের বিরুদ্ধে কাজ করে। কিন্তু এটি মানুষের জন্য বিষাক্ত নয়।
  4. ফলাফল: পোকার আক্রমণ কমে, ফসল নষ্ট হয় না এবং ফলন বৃদ্ধি পায়। রাসায়নিক ইনসেক্টিসাইড কম বা একেবারেই ব্যবহার করতে হয় না।
  5. পরিবেশগত সুবিধা: মাটি, বায়ু, পানি ও জলজ ইকোসিস্টেম কীটনাশকের দূষণ থেকে রক্ষা পায়। কৃষকের উৎপাদন ব্যয়ও কমে।

চূড়ান্ত উত্তর: পতঙ্গনিরোধী ফসল খাদ্য উৎপাদন বাড়ায়, উৎপাদন ব্যয় কমায় এবং মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষা করে।

উদাহরণ ২: বাংলাদেশে Bt-বেগুন চাষের প্রয়োজনীয়তা ও প্রভাব লেখো।

  1. Bt-বেগুনে Bacillus thuringiensis থেকে পাওয়া Cry1Ac ক্রিস্টাল প্রোটিন জিন বেগুনের জিনোমে প্রবেশ করানো হয়েছে।
  2. সাধারণ বেগুনে কাণ্ড ও ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ হলে কৃষককে বারবার কীটনাশক স্প্রে করতে হয়।
  3. Bt-বেগুনে উৎপন্ন Cry1Ac প্রোটিন নির্দিষ্ট পোকার জন্য বিষাক্ত হওয়ায় পোকার আক্রমণ কমে যায়।
  4. কৃষককে কীটনাশক কিনতে ও স্প্রে করতে হয় না। ফলে উৎপাদন খরচ কমে এবং ফলন বাড়ে।
  5. কীটনাশক খাদ্য, মাটি, নদী-নালা ও জলাশয়ে জমা হওয়ার ঝুঁকি কমে। স্প্রে করার সময় কৃষকের বিষক্রিয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।
  6. পরীক্ষায় Bt-জিনের প্রোটিন নির্দিষ্ট পোকার জন্য বিষাক্ত হলেও মানুষের জন্য বিষাক্ত নয় বলে প্রমাণিত হয়েছে।

চূড়ান্ত উত্তর: Bt-বেগুন কৃষকের অর্থনৈতিক লাভ, নিরাপদ খাদ্য, মাটি ও জলজ পরিবেশ সংরক্ষণে সহায়তা করে।

উদাহরণ ৩: রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তিতে মানব ইনসুলিন উৎপাদনের ধাপগুলো লেখো।

  1. মানব DNA থেকে ১১ নম্বর ক্রোমোজোমের ছোট বাহুতে অবস্থিত ইনসুলিন উৎপাদনকারী জিন পৃথক করা হয়।
  2. রেস্ট্রিকশন এনজাইম দিয়ে E. coli-এর প্লাসমিড কেটে ইনসুলিন জিন বসানোর স্থান তৈরি করা হয়।
  3. ইনসুলিন জিনটি প্লাসমিডের কাটা অংশে বসিয়ে DNA লাইগেজ এনজাইমের সাহায্যে যুক্ত করা হয়। এতে রিকম্বিনেন্ট প্লাসমিড তৈরি হয়।
  4. তাপ শক বা ইলেকট্রিক পালস পদ্ধতিতে রিকম্বিনেন্ট প্লাসমিড E. coli কোষে প্রবেশ করানো হয়।
  5. এই GMO E. coli-কে ফারমেন্টেশন ট্যাঙ্কে দ্রুত বংশবৃদ্ধি করানো হয়। প্রতিটি কোষ ইনসুলিন উৎপাদন করে।
  6. কোষ লাইসিস করে ইনসুলিন সংগ্রহ, বিশুদ্ধ ও নির্দিষ্ট মাত্রায় প্যাকেটজাত করা হয়।

চূড়ান্ত উত্তর: Eli Lilly & Company উৎপাদিত মানব ইনসুলিন ‘হিউমুলিন’ নামে ১৯৮২ সালে বাজারজাত করে।

উদাহরণ ৪: পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় জীবপ্রযুক্তির দুটি প্রয়োগ ব্যাখ্যা করো।

  1. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: কলকারখানা ও খনি থেকে সালফাইড, সীসা, মারকারি, কপারসহ বিষাক্ত বর্জ্য বের হয়। জীবাণু এসব বর্জ্যের কিছু অংশ ভেঙে অপেক্ষাকৃত সহজ উপাদানে পরিণত করতে পারে। এতে দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ সম্ভব হয়।
  2. স্টেরাইল ইনসেক্ট টেকনিক: ক্ষতিকারক পতঙ্গের পুরুষগুলোকে প্রধানত রেডিয়েশন প্রয়োগ করে বন্ধ্যা করা হয়।
  3. বন্ধ্যা পুরুষের সঙ্গে মিলনের পর স্ত্রী পতঙ্গ কার্যকরী ডিম উৎপাদন করতে পারে না। ফলে নতুন প্রজন্ম কমে যায়।
  4. এটি রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি নয়; এটি পরিবেশবান্ধব পতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি। মশা, পঙ্গপাল ও অন্যান্য ক্ষতিকারক পতঙ্গ দমনে এর ব্যবহার রয়েছে।

চূড়ান্ত উত্তর: জীবপ্রযুক্তি বর্জ্য দূষণ কমায় এবং রাসায়নিক পতঙ্গনাশকের বিকল্প হিসেবে পরিবেশ রক্ষায় সাহায্য করে।

সংজ্ঞা, সূত্র ও সারসংক্ষেপ

পরিভাষা সংজ্ঞা বা সূত্র কখন প্রয়োগ
রিকম্বিনেন্ট DNA ভিন্ন উৎসের DNA খণ্ড যুক্ত করে তৈরি DNA। কাঙ্ক্ষিত জিন অন্য জীবের কোষে প্রবেশ করাতে।
ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ বাহ্যিক কাঙ্ক্ষিত জিনযুক্ত উদ্ভিদ। রোগ, পোকা বা আগাছানাশক-সহনশীল জাত তৈরিতে।
Bt ফসল Bacillus thuringiensis-এর Cry জিনযুক্ত ফসল; পোকার জন্য বিষাক্ত প্রোটিন তৈরি করে। পতঙ্গের আক্রমণ কমাতে; যেমন Bt-বেগুন ও Bt-cotton।
গোল্ডেন রাইস বিটা-ক্যারোটিন ও অতিরিক্ত আয়রন তৈরির জিনযুক্ত ধান। ভিটামিন-A-এর অভাব ও রাতকানা কমাতে।
SIT পুরুষ পতঙ্গকে বন্ধ্যা করে স্ত্রীকে কার্যকর ডিম দিতে বাধা দেওয়া। মশা, পঙ্গপাল ও ক্ষতিকারক পতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে।
GM ফসল জিন পরিবর্তনের মাধ্যমে রোগ-বালাই প্রতিরোধী ফসল। বাংলাদেশের প্রথম GM খাদ্য ফসল: Bt-বেগুন।
ইনসুলিন A-চেইন ২১ + B-চেইন ৩০ = মোট ৫১ অ্যামিনো অ্যাসিড; রাসায়নিক সংকেত C257H383N65O77S6। রক্তের অতিরিক্ত গ্লুকোজ কমাতে।
ইন্টারফেরন ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি বন্ধকারী প্রতিরক্ষামূলক প্রোটিন। ভাইরাসজনিত রোগের চিকিৎসায়।
TPA ও EPO TPA রক্তের জমাট গলায়; EPO অস্থিমজ্জায় RBC উৎপাদন উদ্দীপিত করে। স্ট্রোক/হার্ট অ্যাটাক এবং কিডনি রোগজনিত রক্তশূন্যতায়।
জিন থেরাপি ত্রুটিপূর্ণ জিন সরিয়ে সংশোধিত জিন প্রবেশ করানো। বংশগত রোগের কারণ সংশোধনে।
পরিবেশ ব্যবস্থাপনা দূষণকারী বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ বা পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করে ব্যবহার। কারখানা ও খনির বিষাক্ত বর্জ্য জীবাণু দিয়ে ভাঙতে।
মূল কথা:
১। Bt-ফসল পোকা দমন করে এবং কীটনাশকের ব্যবহার কমায়।
২। Bt-বেগুন বাংলাদেশের প্রথম অনুমোদিত GM খাদ্য ফসল।
৩। গোল্ডেন রাইস ভিটামিন-A ঘাটতি মোকাবিলায় সহায়ক।
৪। রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তিতে জিন, প্লাসমিড ও E. coli গুরুত্বপূর্ণ।
৫। GMO E. coli ব্যবহার করে মানব-ইনসুলিন উৎপাদন করা যায়।
৬। ইন্টারফেরন ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি বাধা দেয়।
৭। TPA রক্তের জমাট গলায় এবং EPO RBC উৎপাদন বাড়ায়।
৮। জীবাণু বর্জ্য ভেঙে পরিবেশ দূষণ কমাতে সাহায্য করে।

পরীক্ষা প্রস্তুতি

(ক) বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ)

  1. Bacillus thuringiensis থেকে উদ্ভিদে কোন ধরনের পদার্থ উৎপন্ন হয়?
    ক) ভিটামিন-A   খ) কীটপতঙ্গের জন্য বিষাক্ত প্রোটিন   গ) ইনসুলিন   ঘ) ইন্টারফেরন
  2. বাংলাদেশে প্রথম GM খাদ্য ফসল হিসেবে কোনটি চাষের অনুমোদন পায়?
    ক) গোল্ডেন রাইস   খ) Bt-কটন   গ) Bt-বেগুন   ঘ) ট্রান্সজেনিক আলু
  3. Bt-বেগুনে অন্তর্ভুক্ত করা হয় কোন জিনটি?
    ক) nif জিন   খ) Cry1Ac জিন   গ) EPO জিন   ঘ) TPA জিন
  4. গোল্ডেন রাইসে প্রধানত কোন পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি পূরণের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে?
    ক) ভিটামিন-A   খ) ভিটামিন-C   গ) ভিটামিন-K   ঘ) ভিটামিন-B12
  5. মানব ইনসুলিন উৎপাদনে কোন ব্যাকটেরিয়া বাহক হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
    ক) E. coli   খ) Bacillus thuringiensis   গ) Agrobacterium tumefaciens   ঘ) Rhizobium
  6. ইন্টারফেরনের প্রধান কাজ কী?
    ক) রক্তে গ্লুকোজ বাড়ানো
    খ) ভাইরাসের প্রোটিন সংশ্লেষণ ও বংশবৃদ্ধিতে বাধা দেওয়া
    গ) রক্ত জমাট বাঁধানো
    ঘ) RBC ধ্বংস করা
  7. TPA-এর সাহায্যে কোন সমস্যা সমাধান করা হয়?
    ক) রক্তে গ্লুকোজের আধিক্য   খ) রক্তনালিতে জমাট বাঁধা রক্ত   গ) ভিটামিন-A-এর ঘাটতি   ঘ) পশমের নিম্নমান
  8. পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় জীবপ্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার হলো—
    ক) বর্জ্যকে জীবাণুর মাধ্যমে সহজ উপাদানে ভাঙা
    খ) মাটিতে বিষাক্ত পদার্থ বাড়ানো
    গ) নদীতে বর্জ্য ফেলা
    ঘ) কীটনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধি করা

(খ) সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

  1. পতঙ্গনিরোধী ফসল কী? এর দুটি সুবিধা লেখো।
  2. Bt-বেগুন ও সাধারণ বেগুনের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
  3. রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তির মাধ্যমে ইনসুলিন উৎপাদনের প্রধান ধাপগুলো লেখো।
  4. ইন্টারফেরন কী? চিকিৎসাক্ষেত্রে এর একটি ব্যবহার লেখো।

(গ) সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক: একটি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে এমন একটি বেগুনের জাত তৈরি করা হলো, যার জিনোমে Bacillus thuringiensis-এর Cry1Ac জিন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই বেগুনে ফল ও কাণ্ডে আক্রমণকারী ক্ষতিকারক পোকার ক্ষতি কমে যায়। ফলে কৃষককে কম কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। একই গবেষণা কেন্দ্রে মানুষের ইনসুলিন জিন E. coli-এর প্লাসমিডে যুক্ত করে রিকম্বিনেন্ট DNA তৈরি করা হলো। পরে এই DNA ব্যাকটেরিয়ায় প্রবেশ করিয়ে ফারমেন্টেশন ট্যাঙ্কে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়। অন্যদিকে, কারখানার বর্জ্য জীবাণুর সাহায্যে ভেঙে সহজ উপাদানে পরিণত করার ব্যবস্থাও নেওয়া হলো।

ক) GM ফসল কী? [১]

খ) Bt-বেগুন চাষে পরিবেশ কীভাবে উপকৃত হয়? [২]

গ) উদ্দীপকে বর্ণিত পদ্ধতিতে ইনসুলিন উৎপাদনের ধাপগুলো ব্যাখ্যা করো। [৩]

ঘ) কৃষি, চিকিৎসা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় জীবপ্রযুক্তির সম্মিলিত গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো। [৪]

উত্তর

MCQ-এর উত্তর দেখো ১। খ
২। গ
৩। খ
৪। ক
৫। ক
৬। খ
৭। খ
৮। ক

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের মডেল উত্তর

১। জেনেটিক প্রকৌশলের মাধ্যমে এমন ফসল তৈরি করা হয়, যা ক্ষতিকারক পতঙ্গের আক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারে; তাকে পতঙ্গনিরোধী ফসল বলে। এ ফসলের দুটি সুবিধা হলো—ফলন বৃদ্ধি পায় এবং রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার ও উৎপাদন ব্যয় কমে। এ ছাড়া মাটি, পানি, বায়ু ও মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষা পায়।

২। সাধারণ বেগুনে কাণ্ড ও ফলে ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণ হয় এবং নিয়মিত কীটনাশক স্প্রে করতে হয়। Bt-বেগুনে Cry1Ac জিন থাকায় পোকার জন্য বিষাক্ত প্রোটিন তৈরি হয়; তাই পোকার আক্রমণ কমে এবং কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না।

৩। প্রথমে মানব DNA থেকে ইনসুলিন উৎপাদনকারী জিন পৃথক করা হয়। এরপর E. coli-এর প্লাসমিড পৃথক করে রেস্ট্রিকশন এনজাইম দিয়ে কাটা হয়। ইনসুলিন জিনটি প্লাসমিডে বসিয়ে লাইগেজ এনজাইমের সাহায্যে যুক্ত করা হয়। এতে রিকম্বিনেন্ট প্লাসমিড তৈরি হয়। তা E. coli-তে প্রবেশ করিয়ে ফারমেন্টেশন ট্যাঙ্কে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়। শেষে কোষ ভেঙে ইনসুলিন পৃথক ও বিশুদ্ধ করা হয়।

৪। ইন্টারফেরন হলো আক্রান্ত কোষ থেকে নিঃসৃত প্রতিরক্ষামূলক প্রোটিন। এটি ভাইরাসের প্রোটিন সংশ্লেষণ ও বংশবৃদ্ধিতে বাধা দেয়। রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তির মাধ্যমে অধিক পরিমাণে ইন্টারফেরন উৎপাদন করা যায় এবং হেপাটাইটিস-বি, যক্ষ্মা ও কিছু প্যাপিলোমার চিকিৎসায় এটি ব্যবহৃত হয়।

সৃজনশীল প্রশ্নের মডেল উত্তর

ক) জেনেটিক মডিফিকেশনের মাধ্যমে কোনো ফসলের রোগ-বালাই বা ক্ষতিকারক জীব প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করে উৎপাদিত ফসলকে GM ফসল বলে।

খ) Bt-বেগুনে Cry1Ac জিনের কারণে পোকার জন্য বিষাক্ত প্রোটিন তৈরি হয়। ফলে রাসায়নিক কীটনাশক কম ব্যবহার করতে হয়। বৃষ্টির পানির সঙ্গে কীটনাশক নদী, খাল, বিল ও পুকুরে জমা না হওয়ায় জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণী রক্ষা পায়। মাটি ও পরিবেশও কম বিষাক্ত হয়।

গ) ইনসুলিন উৎপাদনের ধাপগুলো হলো—

  1. মানব DNA থেকে ইনসুলিন উৎপাদনকারী জিন পৃথক করা।
  2. E. coli-এর প্লাসমিডকে রেস্ট্রিকশন এনজাইম দিয়ে কেটে ইনসুলিন জিনের জন্য স্থান তৈরি করা।
  3. ইনসুলিন জিনকে প্লাসমিডে বসিয়ে লাইগেজ এনজাইম দিয়ে যুক্ত করা। এতে রিকম্বিনেন্ট প্লাসমিড তৈরি হয়।
  4. রিকম্বিনেন্ট প্লাসমিড E. coli-তে প্রবেশ করানো।
  5. ফারমেন্টেশন ট্যাঙ্কে GMO E. coli-এর সংখ্যা বৃদ্ধি করা।
  6. কোষ লাইসিস করে ইনসুলিন পৃথক করা এবং পরে বিশুদ্ধ করা।

ঘ) জীবপ্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষিতে অধিক ফলনশীল, রোগপ্রতিরোধী ও পতঙ্গনিরোধী ফসল উৎপাদন করা যায়। Bt-বেগুনে কীটনাশকের ব্যবহার কমে, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পায় এবং মাটি, পানি ও মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষা পায়। গোল্ডেন রাইসের মাধ্যমে ভিটামিন-A-এর ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করা হচ্ছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইনসুলিন, ইন্টারফেরন, TPA ও EPO উৎপাদন করা হয়। ইনসুলিন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, ইন্টারফেরন ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি বাধা দেয়, TPA রক্তের জমাট গলায় এবং EPO কিডনি রোগীর রক্তশূন্যতা কমাতে সাহায্য করে।

পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় জীবাণু বর্জ্য ভেঙে সহজ উপাদানে পরিণত করতে পারে। ফলে শিল্পকারখানা ও খনির বর্জ্যজনিত দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তাই জীবপ্রযুক্তি খাদ্য উৎপাদন, রোগ চিকিৎসা এবং পরিবেশ সংরক্ষণ—তিন ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ।

সাধারণ ভুল ও রিভিশন

অধ্যায়টি ভালোভাবে লিখতে হলে জিনপ্রযুক্তির ব্যবহার, উদাহরণ এবং ফলাফল আলাদা করে মনে রাখতে হবে। নিচের ভুলগুলো পরীক্ষায় বেশি দেখা যায়।

ভুল সঠিক
Bt-কে সাধারণ কীটনাশক মনে করা। Bt হলো Bacillus thuringiensis ব্যাকটেরিয়া; এর Cry1Ac বা বিষাক্ত প্রোটিনের জিন ফসলে যুক্ত করা হয়।
Bt-বেগুন ও Bt-কটনকে একই ফসল বলা। দুটিই পতঙ্গনিরোধী GM ফসল, কিন্তু ফসল ও প্রয়োগের ক্ষেত্র আলাদা।
SIT-কে রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি বলা। SIT-তে পুরুষ পতঙ্গকে বন্ধ্যা করে প্রজনন কমানো হয়; এটি রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি নয়।
গোল্ডেন রাইসকে সরাসরি ভিটামিন-A বলা। এতে বিটা-ক্যারোটিন তৈরির জিন থাকে, যা ভিটামিন-A-এর ঘাটতি কমাতে সাহায্য করে।
ইনসুলিনের উৎস ও কাজ গুলিয়ে ফেলা। ইনসুলিন অগ্ন্যাশয়ের বিটা-কোষ থেকে নিঃসৃত হয় এবং রক্তের গ্লুকোজ কমায়।
প্লাসমিডে জিন বসানোর ধাপ বাদ দেওয়া। রেস্ট্রিকশন এনজাইমে কাটা, লাইগেজে যুক্ত, E. coli-তে প্রবেশ, বংশবৃদ্ধি ও বিশুদ্ধকরণ—ধাপগুলো ধারাবাহিকভাবে লিখতে হবে।
TPA ও EPO-এর কাজ এক করা। TPA রক্তের জমাট ভাঙে; EPO অস্থিমজ্জায় RBC উৎপাদনে উদ্দীপনা দেয়।

রিভিশন চেকলিস্ট

  • কৃষিতে জিনপ্রযুক্তির অন্তত পাঁচটি ব্যবহার ব্যাখ্যা করতে পারি।
  • আগাছানাশক-সহনশীল উদ্ভিদ তৈরির পদ্ধতি লিখতে পারি।
  • Bt-বেগুনের উৎপাদন ও পরিবেশগত সুবিধা বলতে পারি।
  • বাংলাদেশের প্রথম GM খাদ্য ফসলের নাম ও বৈশিষ্ট্য জানি।
  • গোল্ডেন রাইসের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে পারি।
  • মানব ইনসুলিন উৎপাদনের ফ্লোচার্ট আঁকতে পারি।
  • ইন্টারফেরন, TPA ও EPO-এর কাজ তুলনা করতে পারি।
  • জিন থেরাপির দুটি পদ্ধতি লিখতে পারি।
  • জীবপ্রযুক্তিতে পরিবেশ ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারি।

ধাপ, উদাহরণ ও সুবিধাগুলো যুক্ত করে লিখলে এই অধ্যায়ে ভালো নম্বর পাওয়া সম্ভব।

⚡ Related Tools — Try These Next
📋
MCQ Practice
Topic-wise timed tests
🏛
University Guide
All 22 universities
🧑
Ask Kabir
Expert advisor
🏆
Scholarships
Find funding
Browse all 18+ tools →
🎓 Planning to apply? Browse our complete university admission guide → with requirements, fees, and cutoffs for all 22 major universities in Bangladesh.

সম্পর্কিত পোস্ট / Related posts

HSC
HSC

Admission Test Prep: অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন

ADMISSION TEST PREPARATION অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী How to use this sheet ★★★ = the par

HSC
HSC

Admission Test Prep: অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন

ADMISSION TEST PREPARATION অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী How to use this sheet ★★★ = the p

HSC
HSC

এইচএসসি সাজেশন: অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন / অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন / অধ্যায় ৩: কোষ রসায়ন

এইচএসসি সাজেশন (একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি) অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন / অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন / অধ্যায় ৩: কোষ রসায়ন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত

HSC
HSC

লেকচার শিট: অধ্যায় ১২: জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ

লেকচার শিট অধ্যায় ১২: জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পরিচিতি এই পাঠে যা শিখবে বাস্

HSC
HSC

লেকচার শিট: অধ্যায় ১০: উদ্ভিদ প্রজনন

লেকচার শিট অধ্যায় ১০: উদ্ভিদ প্রজনন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পরিচিতি এই পাঠে যা শিখবে ডিম্বকের প্রধান অংশ এব

HSC
HSC

লেকচার শিট: অধ্যায় ৯: উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব

লেকচার শিট অধ্যায় ৯: উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পরিচিতি এই পাঠে যা শিখবে C₃ ও C₄ উদ্ভিদের প

🎓
আরও লেকচার শিট, মডেল টেস্ট ও প্র্যাকটিস — AlphaGenEduMore lecture sheets, board questions and MCQ practice for every class, free on alphagenedu.com
AlphaGenEdu-তে যান →
Kabir — Ask me about admissions! 🎓

AdmissionPaths Support

🟢 Online · How can we help?
🧑
Ask Kabir
Admission advisor · 20+ yrs
💬
Live Support Chat
AI-powered · instant replies
🎫
Submit a Ticket
Response within 24 hours
❓
Browse FAQ
Quick answers
🤖
AdmissionPaths Support
🟢 AI-powered · replies instantly