জীব পরিবেশের জড় উপাদান—মাটি, পানি, বায়ু, তাপ ও আর্দ্রতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য তৈরি করে এবং প্রাণীরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সেই খাদ্যের ওপর নির্ভর করে। খাদ্যশৃঙ্খলের প্রতিটি স্তরে শক্তির কিছু অংশ তাপ হিসেবে পরিবেশে ফিরে যায়। জীবের গঠন ও আচরণ তার বাসস্থানের পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
পুকুর, চারণভূমি, বন ও সুন্দরবনের মতো পরিবেশ কীভাবে কাজ করে, তা বুঝতে এই অধ্যায় সাহায্য করে। জলদূষণ, বনভূমি ধ্বংস, বিষাক্ত পদার্থের বায়োম্যাগনিফিকেশন এবং প্রজাতির বিলুপ্তি সম্পর্কে সচেতন হতে এটি প্রয়োজনীয়। পরীক্ষায় সংজ্ঞা, পার্থক্য, খাদ্যশৃঙ্খল, শক্তির দশমাংশ নিয়ম, অভিযোজনের বৈশিষ্ট্য এবং সংরক্ষণ পদ্ধতি থেকে প্রশ্ন আসে।
| ক্রম | আলোচ্য বিষয় |
|---|---|
| ১ | বাস্তুতন্ত্র ও শক্তি প্রবাহ |
| ২ | জীবের অভিযোজন |
| ৩ | বায়োম ও বৃহৎ বাস্তুতন্ত্র |
| ৪ | জীববৈচিত্র্য ও বিলুপ্তি |
| ৫ | জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ |
কোনো পুকুর, চারণভূমি, উদ্যান বা নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাসকারী জীবসমাজ এবং সেই স্থানের জড় পরিবেশের মধ্যে যে নিয়মিত ও গতিময় ক্রিয়া-বিক্রিয়া ঘটে, তাকে বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem) বলে। এখানে জীব ও জড় উপাদান পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল।
জড় উপাদান হলো মাটি, পানি, বায়ু, তাপ ও আর্দ্রতা। জীব উপাদান হলো উদ্ভিদ, প্রাণী, ছত্রাক ও অণুজীব। জীব উপাদান প্রধানত তিন ধরনের—উৎপাদক, খাদক ও বিয়োজক।
খাদ্যশৃঙ্খলে খাদ্য ও শক্তি এক জীব থেকে অন্য জীবে যায়। যেমন: ধানগাছ → ঘাসফড়িং → ব্যাঙ → সাপ → বাজপাখি। একই বাস্তুতন্ত্রে একাধিক খাদ্যশৃঙ্খল পরস্পর যুক্ত হলে খাদ্যজাল (Food web) সৃষ্টি হয়।
খাদ্যশৃঙ্খলের বিভিন্ন খাদ্যস্তরকে পিরামিডের মতো দেখালে তাকে ইকোলজিক্যাল পিরামিড বলে। এটি তিন প্রকার:
সূর্য হলো শক্তির মূল উৎস। উৎপাদক সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে সৌরশক্তি খাদ্যে সঞ্চয় করে। এরপর খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে শক্তি উৎপাদক থেকে প্রাথমিক, গৌণ ও তৃতীয়ভোজী খাদকদের মধ্যে যায়। প্রতিটি স্তরে শ্বসনের ফলে শক্তির কিছু অংশ তাপ হিসেবে পরিবেশে ফিরে যায়। তাই শক্তি একমুখীভাবে প্রবাহিত হয় এবং একবার ব্যবহৃত শক্তি পুনরায় ব্যবহার করা যায় না।
শক্তির দশমাংশ নিয়ম: এক খাদ্যস্তর থেকে পরবর্তী খাদ্যস্তরে গড়ে মাত্র ১০% শক্তি স্থানান্তরিত হয়। যেমন, হরিণ ১০০ কেজি তৃণ খেলে প্রায় ১০ কেজি তার দেহ গঠনে লাগে। বাঘ হরিণের ১০ কেজি মাংস খেলে প্রায় ১ কেজি তার দেহ গঠনে লাগে। এই মতবাদ Lindenmann (১৯৪২) প্রবর্তন করেন।
পরিবেশের বিষাক্ত পদার্থ খাদ্যশৃঙ্খলের নিম্নস্তর থেকে উচ্চস্তরে গেলে তার ঘনত্ব ক্রমে বেড়ে যায়। এই প্রক্রিয়াকে বায়োম্যাগনিফিকেশন (Biological magnification) বলে। ১৯৫০-এর দশকে আমেরিকায় ফসলে DDT ব্যবহারের ফলে খাদ্যশৃঙ্খলের উচ্চস্তরের ঈগল বা বাজপাখির দেহে বিষাক্ত পদার্থ বেশি জমে তারা প্রায় নিশ্চিহ্ন হতে বসেছিল। পরে DDT নিষিদ্ধ করা হয়।
১। মৃত জীবদেহ পচিয়ে সরল পদার্থে পরিণত করে কোন জীব?
২। শক্তির দশমাংশ নিয়মে ১০০ কেজি খাদ্য থেকে পরবর্তী স্তরে কত কেজি শক্তি বা দেহভর স্থানান্তরিত হয়?
পরিবেশের সঙ্গে জীবের সম্পর্ক খুব ঘনিষ্ঠ। সব পরিবেশে সব ধরনের জীব বাঁচতে পারে না। যে পরিবেশে কোনো জীব জন্মায় ও বেঁচে থাকে, সেই পরিবেশের উপযোগী নানা গঠনগত ও আচরণগত বৈশিষ্ট্য তার মধ্যে দেখা যায়। যেমন—জলজ উদ্ভিদের দেহ পানিতে ভাসার উপযোগী, মরু উদ্ভিদের দেহ পানি সঞ্চয় ও পানি অপচয় রোধের উপযোগী।
জলজ উদ্ভিদকে অবস্থানের ভিত্তিতে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
গাঠনিক অভিযোজন: নিমজ্জিত উদ্ভিদের কাণ্ড নরম, সরু ও ফাঁপা; পাতাও পাতলা ও নরম। মূল দুর্বল বা অনুন্নত হতে পারে। কাণ্ড ও পাতায় বড় বায়ুকুঠুরি থাকে, যা ভাসতে সাহায্য করে। কচুরিপানার পত্রবৃন্তেও বায়ুকুঠুরি থাকে।
অভ্যন্তরীণ অভিযোজন: কাণ্ড ও পাতায় বায়ুকুঠুরি অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড ধরে রাখে। নিমজ্জিত উদ্ভিদের পাতা ও কাণ্ডে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে। যান্ত্রিক টিস্যু ও পরিবহন টিস্যু কম বা অপর্যাপ্ত। নিমজ্জিত পাতায় সাধারণত স্টোমাটা থাকে না; ভাসমান পাতায় স্টোমাটা উপরিভাগে থাকে।
শারীরবৃত্তীয় অভিযোজন: মূলরোমের প্রয়োজন কম থাকায় দেহের বিভিন্ন অংশ দিয়ে পানি শোষিত হয়। কম আলোতেও কাণ্ড ও পাতার ক্লোরোফিল সালোকসংশ্লেষণে সাহায্য করে। প্রস্বেদন কম হয়, কারণ পানি শোষণের জন্য প্রস্বেদন-টানের প্রয়োজন নেই।
জলজ প্রাণীর চলাচলের জন্য পাখনা থাকে এবং ভারসাম্য রক্ষায় সুষম পেশি ও পটকা বা বায়ুথলি সাহায্য করে। মাছ পানিতে শ্বাস নেওয়ার উপযোগী। ব্যাঙ, কাঁকড়া, কুমির ও সাপেরও জলজ পরিবেশে চলাচল ও অক্সিজেন গ্রহণের বিশেষ ব্যবস্থা থাকে।
মরু উদ্ভিদ: মরুভূমিতে পানি কম ও বাষ্পীভবন বেশি। তাই কাণ্ড বা পাতায় পানি সঞ্চয়, গভীর মূল, পুরু মোমযুক্ত কিউটিকল, ছোট পাতা বা কাঁটায় রূপান্তর এবং গর্তে থাকা স্টোমাটা দেখা যায়। ফণীমনসা, ঘৃতকুমারী ও খেজুর এর উদাহরণ। মরু প্রাণীরা দিনের তাপ এড়িয়ে গর্তে থাকে, রাতে চলাফেরা করে এবং দীর্ঘদিন পানি ছাড়া থাকতে পারে।
হ্যালোফাইট: লবণাক্ত মাটি ও পানিতে জন্মানো উদ্ভিদকে হ্যালোফাইট বলে। ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ এর অন্তর্ভুক্ত। এদের কাণ্ড ও পাতা রসালো, শ্বাসমূল বা নিউম্যাটোফোর থাকে এবং মূলের ভিতরে বায়ুকুঠুরি থাকে। জোয়ার-ভাটার টান সহ্য করতে ঠেসমূলও থাকে। রাইজোফোরা মাতৃউদ্ভিদে অঙ্কুরোদ্গমের উদাহরণ।
লবণাক্ত পরিবেশের প্রাণীরা লোনা পানি গ্রহণ ও ত্যাগে অভ্যস্ত। কচ্ছপ জোয়ারের সময় উপকূলে এসে ডিম পাড়ে; মাছ, পাখি, কুমির ও হরিণ সুন্দরবনের এই পরিবেশে অভিযোজিত।
মেসোফাইট হলো পর্যাপ্ত মিঠা পানিযুক্ত মাটিতে জন্মানো উদ্ভিদ। আম, জাম, কাঁঠাল, নিম ও কলা এর উদাহরণ।
১। মুক্ত-ভাসমান ও মূল-ভাসমান উদ্ভিদের প্রধান পার্থক্য কী?
২। হ্যালোফাইটে শ্বাসমূল কেন থাকে?
একটি ছোট বাস্তুতন্ত্র হতে পারে পুকুর, উদ্যান বা চারণভূমি। কিন্তু একই ধরনের জলবায়ু, মাটি, উদ্ভিদ ও প্রাণী নিয়ে গঠিত বিশাল অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্রকে বলা হয় বায়োম (Biome)। তাই বায়োমকে বৃহৎ বাস্তুতন্ত্রও বলা হয়। কোনো অঞ্চলের তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, মাটির প্রকৃতি এবং সেখানে থাকা উদ্ভিদ ও প্রাণী মিলেই ওই অঞ্চলের বায়োমের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে।
সংজ্ঞা: একই ধরনের জলবায়ু, মাটি, উদ্ভিদ ও প্রাণী নিয়ে গঠিত বৃহৎ ও সুসংঘবদ্ধ বাস্তুতন্ত্রকে বায়োম বলে।
বায়োম নির্ধারণের বিষয়টি ধাপে ধাপে বোঝো—
যেসব বায়োম স্থলভাগে অবস্থিত, তাদের স্থলজ বায়োম (Terrestrial biome) বলে। স্থলজ বায়োমের উদাহরণ হলো মরুভূমি বায়োম। এখানে বৃষ্টিপাত, মাটির ধরন ও তাপমাত্রার ওপর উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবন নির্ভর করে।
যে ভৌগোলিক অঞ্চলে বার্ষিক বৃষ্টিপাত ২৫ সেমি বা ১০ ইঞ্চির কম, তাকে মরুভূমি বলা হয়। মরুভূমিতে বাষ্পীভবন অনেক বেশি এবং মাটিতে বালির পরিমাণ বেশি থাকে। মাটিতে পুষ্টি থাকলেও পানির অভাবে উদ্ভিদের বৃদ্ধি সীমিত হয়। এখানে দিনে ও রাতে তাপমাত্রার পার্থক্য ৩০°C পর্যন্ত হতে পারে।
মরুভূমির উদ্ভিদকে জেরোফাইট বলা হয়। ক্যাকটাস, বাবলা, কিছু ইউফোরবিয়া, লিলি ও অ্যাগাভেসিস এ ধরনের উদ্ভিদের উদাহরণ। এদের অনেকেই CAM উদ্ভিদ। মরুভূমির উদ্ভিদ পানি সঞ্চয় করে, মূলের সাহায্যে অল্প পানিও শোষণ করে এবং কাণ্ড বা পাতার মাধ্যমে পানি বেরিয়ে যাওয়া কমায়। পাতাগুলো ছোট বা কাঁটায় রূপান্তরিত হওয়ায় বাষ্পমোচন কম হয়। পুরু কিউটিকল ও মোমের আবরণও পানি সংরক্ষণে সাহায্য করে।
উদাহরণ: ক্যাকটাসের পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত। ফলে পাতার পৃষ্ঠ কমে যায় এবং পানি অপচয় কম হয়। এর কাণ্ড রসালো হওয়ায় পানি সঞ্চয় করতে পারে। তাই অল্প বৃষ্টির মরুভূমিতেও ক্যাকটাস বেঁচে থাকে।
মরুভূমির প্রাণীরা তীব্র আলো, উচ্চ তাপ এবং পানির স্বল্পতার সঙ্গে অভিযোজিত। অনেক প্রাণী দিনের বেলায় গর্তে লুকিয়ে থাকে এবং রাতে বের হয়। এরা নিশাচর। উট দীর্ঘ সময় পানি পান না করে থাকতে পারে এবং খাদ্য থেকে প্রয়োজনীয় পানি পেতে পারে।
প্রতিটি বায়োমে উদ্ভিদ ও প্রাণী পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। উদ্ভিদ খাদ্য ও আশ্রয় দেয়, আবার প্রাণীরা খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে উদ্ভিদের সঙ্গে যুক্ত থাকে। পরিবেশের পরিবর্তন হলে এই পারস্পরিক নির্ভরতা নষ্ট হয়ে জীববৈচিত্র্য কমে যেতে পারে।
শিক্ষকের টিপস: বায়োম মনে রাখবে—জলবায়ু → মাটি → উদ্ভিদ → প্রাণী। মরুভূমির ক্ষেত্রে মনে রাখো: কম বৃষ্টি, বেশি বাষ্পীভবন, বেশি তাপমাত্রার পার্থক্য, জেরোফাইট উদ্ভিদ।
পরীক্ষায় যেভাবে আসে: বায়োমের সংজ্ঞা, মরুভূমির বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, জেরোফাইটের বৈশিষ্ট্য এবং মরুভূমির প্রাণীদের অভিযোজন সংক্ষেপে লিখতে পারে। ২৫ সেমি বা ১০ ইঞ্চির কম বৃষ্টিপাত—এই সংখ্যাটি মনে রাখবে।
১। বায়োম নির্ধারণে কোন চারটি বিষয় প্রধান?
২। মরুভূমির উদ্ভিদকে জেরোফাইট বলা হয় কেন?
একটি অঞ্চলে বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ, প্রাণী ও অন্যান্য জীবের উপস্থিতি, তাদের বৈচিত্র্য এবং বিস্তারকে জীববৈচিত্র্য বলা হয়। পৃথিবীর সব অঞ্চলে একই জীব পাওয়া যায় না। জলবায়ু, মাটি, পানি, তাপমাত্রা ও পরিবেশের পার্থক্যের কারণে জীবের বিস্তারও ভিন্ন হয়। কোনো জীবের বিস্তার কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলে সীমাবদ্ধ হলে তাকে স্থানিক (Endemic) উদ্ভিদ বা প্রাণী বলা হয়।
সংজ্ঞা মনে রাখো: নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলের বাইরে যে উদ্ভিদ বা প্রাণী পাওয়া যায় না, তাকে স্থানিক উদ্ভিদ বা প্রাণী বলে।
কোনো প্রজাতির শেষ জীবটিও মারা গেলে সেই প্রজাতি বিলুপ্ত হয়েছে বলা হয়। আবার অল্প সময়ের মধ্যে পৃথিবীর বহু প্রজাতি বিলুপ্ত হলে তাকে গণবিলুপ্তি (Mass extinction) বলে। পৃথিবীতে এ ধরনের গণবিলুপ্তি পাঁচবার ঘটেছে। প্রথম গণবিলুপ্তি ঘটেছিল প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন বছর আগে, অর্ডোভিসিয়ান যুগের শেষ দিকে। তখন প্রায় ৮৫% প্রজাতি বিলুপ্ত হয়। সর্বশেষ গণবিলুপ্তি ঘটেছিল প্রায় ৭০–৬০ মিলিয়ন বছর আগে; তখন প্রায় ৭৬% প্রজাতি বিলুপ্ত হয়।
জীববৈচিত্র্য কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো আবাসস্থল ধ্বংস, অতিরিক্ত শিকার, দূষণ, বন উজাড়, জলাভূমি ভরাট, জলবায়ু ও পরিবেশের পরিবর্তন এবং মানুষের অনিয়ন্ত্রিত কার্যকলাপ। কোনো প্রজাতির সংখ্যা কমতে কমতে যখন বিলুপ্তির আশঙ্কা দেখা দেয়, তখন তাকে বিলুপ্তপ্রায় বা বিপন্নপ্রায় বলা হয়।
অতিরিক্ত ব্যাখ্যাপ্রজাতি রক্ষার জন্য তার স্বাভাবিক আবাসস্থল সংরক্ষণ, শিকার বন্ধ করা এবং প্রজননের সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি।
উদাহরণ: তালিপাম (Corypha taliera Roxb.) বৃহত্তর বাংলার স্থানিক ও বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় থাকা গাছটি ২০১০ সালে ফুল ও ফল উৎপাদন করে এবং ২০১২ সালে মারা যায়। তার ফল থেকে চারা তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে লাগানো হয়েছে।
| উদ্ভিদ | বৈজ্ঞানিক নাম | বিস্তৃতি বা অবস্থান |
|---|---|---|
| তালিপাম | Corypha taliera | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস |
| মুক্তিকা ঝাঁপি | Aldrovanda vesiculosa | রাজশাহীর পাটিয়া বিল; বর্তমানে বাংলাদেশে আর পাওয়া যায় না বলে ধারণা |
| ক্ষুদে বড়লা | Knema bengalensis | কক্সবাজারের টেকনাফ |
| কোরকন্দ | Licuala peltata | চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেটের পাহাড়ি বন |
| রোটালা | Rotala simpliciuscula | চট্টগ্রাম; পরে আর সংগ্রহ করা যায়নি |
মুক্তিকা ঝাঁপি জলজ উদ্ভিদ; কোরকন্দের পাতা ছাতা ও ঘরের ছাউনিতে ব্যবহৃত হয়। ক্ষুদে বড়লার স্ত্রী গাছ খুঁজে বীজ সংগ্রহ করে চারা তৈরি করা দরকার। রোটালা ও কোরকন্দকে ইন-সিটু এবং এক্স-সিটু—দুই পদ্ধতিতেই সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের বিপন্নপ্রায় প্রাণীর মধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগার—Panthera tigris, রাজশকুন—Sarcogyps calvus, ঘড়িয়াল—Gavialis gangeticus এবং ইরাবতী ডলফিন—Orcaella brevirostris উল্লেখযোগ্য। রাজশকুন বাংলাদেশে বর্তমানে আর দেখা যায় না। ঘড়িয়াল অতি বিপন্ন; এটি মাছভুক এবং নদীর বালুতটে স্ত্রী ঘড়িয়াল ৩০–৫০টি ডিম পাড়ে।
শিক্ষকের টিপস: স্থানিক মানে “শুধু নির্দিষ্ট স্থানে”; বিলুপ্তপ্রায় মানে “বিলুপ্তির ঝুঁকিতে”—দুটি এক নয়। উদ্ভিদের নাম মনে রাখো: তা-মু-ক্ষু-কো-রো = তালিপাম, মুক্তিকা ঝাঁপি, ক্ষুদে বড়লা, কোরকন্দ, রোটালা।
পরীক্ষায় যেভাবে আসে: গণবিলুপ্তির সংজ্ঞা, স্থানিক জীবের সংজ্ঞা, তালিপাম বা ঘড়িয়ালের বৈজ্ঞানিক নাম, এবং বাংলাদেশের বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদের বিস্তৃতি—ছক বা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নে আসতে পারে।
১। স্থানিক উদ্ভিদ বা প্রাণী কাকে বলে?
২। ঘড়িয়ালের বৈজ্ঞানিক নাম কী?
পৃথিবীতে অসংখ্য উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীব বাস করে। এদের অনেক প্রজাতি বর্তমানে কমে যাচ্ছে। কিছু প্রজাতি আর কোনো অঞ্চলে দেখা যায় না, আবার কিছু প্রজাতি পৃথিবী থেকেই বিলুপ্ত হয়েছে। বাংলাদেশেও আগে সাধারণভাবে দেখা যেত—এমন অনেক জীব এখন বিরল বা বিপন্ন। তাই বিপন্ন ও বিলুপ্তপ্রায় জীব শনাক্ত করে তাদের সংরক্ষণ করা জরুরি।
জীববৈচিত্র্য কমে যাওয়ার প্রধান কারণগুলো ধাপে ধাপে বোঝো।
অতিরিক্ত ব্যাখ্যাপ্রকৃতির নিজস্ব আবাসস্থলে কোনো জীবকে রক্ষা করাকে ইন-সিটু সংরক্ষণ (in-situ conservation) বলে। যেমন—বন, অভয়ারণ্য, জাতীয় উদ্যান বা জলাভূমির মধ্যে জীবকে সংরক্ষণ করা। এখানে জীব তার স্বাভাবিক পরিবেশ, খাদ্যজাল ও অন্যান্য জীবের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে বেঁচে থাকে।
অতিরিক্ত ব্যাখ্যাপ্রাকৃতিক আবাসস্থলের বাইরে কোনো জীবকে সংরক্ষণ করাকে এক্স-সিটু সংরক্ষণ (ex-situ conservation) বলে। যেমন—উদ্ভিদ উদ্যান, বীজ ভাণ্ডার, চিড়িয়াখানা বা গবেষণাগারে সংরক্ষণ।
| বিষয় | ইন-সিটু | এক্স-সিটু |
|---|---|---|
| স্থান | নিজস্ব আবাসস্থল | আবাসস্থলের বাইরে |
| উদাহরণ | বন ও অভয়ারণ্য | বীজ ভাণ্ডার ও উদ্ভিদ উদ্যান |
বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদের বীজ সংগ্রহ করে নিরাপদে রাখা হয়। সেই বীজ থেকে চারা উৎপাদন করা যায়। স্ত্রী গাছ পাওয়া গেলে তার বীজ সংগ্রহ করে সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব। প্রয়োজনে কলম বা টিস্যু কালচারের মাধ্যমে দ্রুত অনেক চারা তৈরি করা হয়। পরে উপযুক্ত আবাসস্থলে চারাগুলো লাগিয়ে পুনঃপ্রবর্তন করা হয়।
সংরক্ষিত জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্র পরস্পর নির্ভরশীল। উৎপাদক, খাদক ও বিয়োজক মিলেই বাস্তুতন্ত্র গঠিত। কোনো একটি প্রজাতি কমে গেলে খাদ্যশৃঙ্খল ও খাদ্যজালে ভারসাম্য নষ্ট হয়। তাই বন, নদী, জলাভূমি ও সুন্দরবনের মতো বাস্তুতন্ত্র রক্ষা না করলে জীববৈচিত্র্যও রক্ষা করা যাবে না।
মানুষকে অতিরিক্ত শিকার ও আহরণ বন্ধ করতে হবে, দূষণ কমাতে হবে, বন ও জলাভূমি রক্ষা করতে হবে এবং সংরক্ষিত এলাকায় আইন মানতে হবে।
১। ইন-সিটু ও এক্স-সিটু সংরক্ষণের প্রধান পার্থক্য কী?
২। তালিপাম সংরক্ষণে কী কী পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছে?
নিচের উদাহরণগুলো বাস্তুতন্ত্র, শক্তি প্রবাহ, অভিযোজন, জীববৈচিত্র্য ও সংরক্ষণ—এই অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ধারণাগুলো পরীক্ষার উপযোগী করে সাজানো হয়েছে। প্রতিটি উত্তরে সংজ্ঞা, কারণ ও উদাহরণ ঠিকভাবে লিখবে।
উদাহরণ ১: দশমাংশ নিয়মে শক্তির হিসাব
সমস্যা: একটি হরিণ ১০০ কেজি তৃণ আহার করল। হরিণের দেহে কত কেজি ভর সঞ্চিত হবে? পরে একটি বাঘ যদি হরিণের ১০ কেজি মাংস খায়, তবে বাঘের দেহে কত কেজি ভর সঞ্চিত হবে?
চূড়ান্ত উত্তর: হরিণের দেহে ১০ কেজি এবং বাঘের দেহে ১ কেজি ভর সঞ্চিত হবে। এই নীতিই শক্তি প্রবাহের দশমাংশ নিয়ম। Lindenmann ১৯৪২ সালে মতবাদটি প্রবর্তন করেন।
উদাহরণ ২: খাদ্যশৃঙ্খল ও খাদ্যস্তর নির্ণয়
সমস্যা: “ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন → জুপ্ল্যাঙ্কটন → ছোট মাছ → বড় মাছ → মাছরাঙা”—এই খাদ্যশৃঙ্খলে উৎপাদক, প্রাথমিক খাদক, গৌণ খাদক ও সর্বোচ্চ খাদক শনাক্ত করো।
চূড়ান্ত উত্তর: উৎপাদক—ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন; প্রাথমিক খাদক—জুপ্ল্যাঙ্কটন; গৌণ খাদক—ছোট মাছ; পরবর্তী খাদক—বড় মাছ; সর্বোচ্চ খাদক—মাছরাঙা।
উদাহরণ ৩: জলজ ও মরু উদ্ভিদের অভিযোজন
সমস্যা: কচুরিপানা ও মরু উদ্ভিদের দুটি করে অভিযোজন লেখো এবং কারণ ব্যাখ্যা করো।
চূড়ান্ত উত্তর: জলজ উদ্ভিদের অভিযোজনের প্রধান উদ্দেশ্য ভাসতে ও পানিতে গ্যাস বিনিময় করতে সাহায্য করা; মরু উদ্ভিদের অভিযোজনের প্রধান উদ্দেশ্য পানি সঞ্চয় ও পানির অপচয় রোধ করা।
উদাহরণ ৪: জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের মডেল উত্তর
সমস্যা: তালিপাম, মুক্তিকা ঝাঁপি ও কোরকন্দের মতো বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ সংরক্ষণে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়?
চূড়ান্ত উত্তর: আবাসস্থল রক্ষা, চারা উৎপাদন, জলাভূমি সংরক্ষণ এবং উদ্ভিদ উদ্যান বা গবেষণাকেন্দ্রে চাষ—এসবের মাধ্যমে বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ সংরক্ষণ করা যায়।
| পরিভাষা | সংজ্ঞা বা সূত্র | কখন ব্যবহার করবে |
|---|---|---|
| বাস্তুতন্ত্র | জীবসমাজ, জড় উপাদান ও তাদের পারস্পরিক ক্রিয়ার গতিময় পদ্ধতি। | পুকুর, উদ্যান বা চারণভূমির পরিবেশ ব্যাখ্যায়। |
| উৎপাদক | স্বভোজী সবুজ উদ্ভিদ; সালোকসংশ্লেষণে খাদ্য তৈরি করে। | খাদ্যশৃঙ্খলের প্রথম স্তর নির্ণয়ে। |
| মোট ও নিট উৎপাদন | নিট উৎপাদন = মোট উৎপাদন − শ্বসনে ব্যবহৃত অংশ; উৎপাদনের হারই উৎপাদনশীলতা। | উৎপাদক কত শক্তি সঞ্চয় করেছে তা হিসাব করতে। |
| খাদক ও বিয়োজক | খাদক উৎপাদক থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে খাদ্য গ্রহণ করে; ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক মৃতদেহ পচিয়ে সরল পদার্থে পরিণত করে। | বাস্তুতন্ত্রের জীব উপাদান চিহ্নিত করতে। |
| খাদ্যশৃঙ্খল ও খাদ্যজাল | উৎপাদক → প্রাথমিক খাদক → গৌণ খাদক → তৃতীয় খাদক; একাধিক শৃঙ্খলের সমন্বয়ে খাদ্যজাল। | শক্তি ও খাদ্য স্থানান্তরের ক্রম দেখাতে। |
| ইকোলজিক্যাল পিরামিড | সংখ্যা, বায়োমাস বা শক্তির ভিত্তিতে খাদ্যস্তরগুলোর পিরামিড। | খাদ্যস্তর তুলনা করতে। |
| শক্তি প্রবাহ ও দশমাংশ নিয়ম | শক্তি একমুখীভাবে প্রবাহিত হয়; পরবর্তী স্তরে প্রায় ১০% শক্তি যায়। Lindenmann, ১৯৪২। | শক্তি কেন ক্রমে কমে, তা ব্যাখ্যায়। |
| বায়োম্যাগনিফিকেশন | খাদ্যশৃঙ্খলের উচ্চস্তরে বিষাক্ত পদার্থের ঘনত্ব বৃদ্ধি। | DDT-এর মতো বিষের প্রভাব ব্যাখ্যায়। |
| অভিযোজন | নির্দিষ্ট পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য জীবের অর্জিত গঠনগত, শারীরবৃত্তীয় ও আচরণগত বৈশিষ্ট্য। | জলজ, মরু ও লবণাক্ত জীবের বৈশিষ্ট্য লিখতে। |
| হাইড্রোফাইট, জেরোফাইট, হ্যালোফাইট, মেসোফাইট | জলজ, শুষ্ক, লবণাক্ত ও স্বাভাবিক মিঠা পানির পরিবেশের উদ্ভিদ। | উদ্ভিদের বাসস্থানভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাসে। |
| বায়োম ও জীববৈচিত্র্য | একই জলবায়ু, মাটি, উদ্ভিদ ও প্রাণীসমৃদ্ধ বৃহৎ বাস্তুতন্ত্র হলো বায়োম; জীবের বৈচিত্র্য হলো জীববৈচিত্র্য। | বৃহৎ ভৌগোলিক অঞ্চল ও সংরক্ষণ আলোচনা করতে। |
| স্থানিক, গণবিলুপ্তি, ইন-সিটু ও এক্স-সিটু | স্থানিক জীব নির্দিষ্ট অঞ্চলের বাইরে নেই; গণবিলুপ্তি বহু প্রজাতির একসঙ্গে বিলুপ্তি; নিজ আবাসে সংরক্ষণ ইন-সিটু, আবাসের বাইরে সংরক্ষণ এক্স-সিটু। | বিলুপ্তি ও সংরক্ষণ পদ্ধতি লিখতে। |
বাস্তুতন্ত্রের জড় উপাদান কোনটি?
ক) ছত্রাক খ) মাটি গ) ঘাসফড়িং ঘ) ব্যাকটেরিয়া
নিচের কোনটি প্রাথমিক খাদক?
ক) সাপ খ) বাজপাখি গ) জুপ্ল্যাঙ্কটন ঘ) বড় মাছ
শক্তির পিরামিডে সাধারণত কোন খাদ্যস্তরে শক্তির পরিমাণ সর্বাধিক থাকে?
ক) তৃতীয়ভোজী খ) গৌণ খাদক গ) প্রাথমিক খাদক ঘ) উৎপাদক
শক্তি প্রবাহের দশমাংশ নিয়ম প্রবর্তন করেন কে?
ক) ওয়ার্মিং খ) লিন্ডেম্যান গ) ডারউইন ঘ) মেন্ডেল
নিচের কোনটি মূল-ভাসমান জলজ উদ্ভিদ?
ক) হাইড্রিলা খ) কচুরিপানা গ) শাপলা ঘ) কলমিশাক
মরু উদ্ভিদের পাতায় কাঁটা সৃষ্টি হওয়ার প্রধান কারণ কী?
ক) পানি শোষণ বৃদ্ধি করা খ) পানির অপচয় রোধ করা গ) খাদ্য তৈরি বন্ধ করা ঘ) গ্যাস বিনিময় বৃদ্ধি করা
লবণাক্ত মাটির উদ্ভিদের বিশেষ শ্বাস অঙ্গ কোনটি?
ক) মূলরোম খ) বায়ুথলি গ) শ্বাসমূল বা নিউম্যাটোফোর ঘ) কণ্টক
খাদ্যশৃঙ্খলের নিম্নস্তর থেকে উচ্চস্তরে বিষাক্ত পদার্থের ঘনত্ব বৃদ্ধি পাওয়াকে কী বলে?
ক) অভিযোজন খ) বায়োম্যাগনিফিকেশন গ) উৎপাদনশীলতা ঘ) প্রস্বেদন
বাস্তুতন্ত্র কাকে বলে? এর জীব উপাদানগুলো লেখো।
শক্তি প্রবাহ একমুখী কেন?
জীবের অভিযোজন বলতে কী বোঝ? জলজ উদ্ভিদের দুটি গাঠনিক অভিযোজন লেখো।
দশমাংশ নিয়মের সাহায্যে হিসাব করো: একটি হরিণ ১০০ কেজি ঘাস খেলে তার দেহে কত কেজি ভর সঞ্চিত হবে? ঐ হরিণের ১০ কেজি মাংস একটি বাঘ খেলে বাঘের দেহে কত কেজি ভর সঞ্চিত হবে?
উদ্দীপক: একটি পুকুরে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন, জুপ্ল্যাঙ্কটন, ছোট মাছ, বড় মাছ ও মাছরাঙা রয়েছে। পুকুরের পাশে কৃষিজমিতে কীটনাশক ব্যবহার করা হলে কিছু বিষাক্ত পদার্থ পানিতে মিশে যায়। পরে দেখা গেল, পুকুরের উচ্চস্তরের প্রাণীদের দেহে বিষাক্ত পদার্থের পরিমাণ বেশি। পুকুরের জলজ উদ্ভিদগুলো পানিতে নিমজ্জিত, ভাসমান ও মূল-ভাসমান—এই তিন ধরনের।
ক. জ্ঞানমূলক—১ খাদ্যজাল কী?
খ. অনুধাবনমূলক—২ পুকুরের ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনকে উৎপাদক বলা হয় কেন?
গ. প্রয়োগমূলক—৩ উদ্দীপকের খাদ্যশৃঙ্খলটি লেখো এবং শক্তি প্রবাহের দুটি বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উচ্চতর দক্ষতামূলক—৪ উদ্দীপকে বর্ণিত বিষাক্ত পদার্থের বিস্তার ও জলজ উদ্ভিদের অভিযোজন বিশ্লেষণ করো।
| প্রশ্ন | সঠিক উত্তর | কারণ |
|---|---|---|
| ১ | খ) মাটি | মাটি বাস্তুতন্ত্রের জড় উপাদান। |
| ২ | গ) জুপ্ল্যাঙ্কটন | এরা সরাসরি ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন খায়। |
| ৩ | ঘ) উৎপাদক | উৎপাদক স্তরে শক্তি সর্বাধিক। |
| ৪ | খ) লিন্ডেম্যান | লিন্ডেম্যান ১৯৪২ সালে মতবাদটি দেন। |
| ৫ | গ) শাপলা | শাপলার মূল মাটিতে যুক্ত, পাতা পানির উপর ভাসে। |
| ৬ | খ) পানির অপচয় রোধ করা | পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত হলে প্রস্বেদন কমে। |
| ৭ | গ) শ্বাসমূল বা নিউম্যাটোফোর | শ্বাসমূলের মাধ্যমে অক্সিজেন গ্রহণ করা হয়। |
| ৮ | খ) বায়োম্যাগনিফিকেশন | উচ্চ খাদ্যস্তরে বিষের ঘনত্ব বাড়ে। |
কোনো স্থানের জীব সম্প্রদায়, জড় উপাদান এবং তাদের পারস্পরিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ার গতিময় পদ্ধতিকে বাস্তুতন্ত্র বলে। এর জীব উপাদান হলো উৎপাদক, খাদক ও বিয়োজক।
উৎপাদক সূর্যের শক্তি খাদ্যে সঞ্চয় করে। খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে এই শক্তি এক খাদ্যস্তর থেকে পরবর্তী স্তরে যায়। প্রতিটি স্তরে শ্বসনের সময় শক্তির কিছু অংশ তাপ হিসেবে পরিবেশে ফিরে যায়। ব্যবহৃত শক্তি পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। তাই শক্তি প্রবাহ একমুখী।
কোনো নির্দিষ্ট পরিবেশে বসবাসের জন্য জীব যে গঠনগত, শারীরবৃত্তীয় ও আচরণগত বৈশিষ্ট্য অর্জন করে, তাকে অভিযোজন বলে। জলজ উদ্ভিদের দুটি গাঠনিক অভিযোজন হলো—কাণ্ড ও পাতায় বড় বায়ুকুঠুরি থাকে এবং দেহ নরম, দুর্বল ও পাতলা হয়।
দশমাংশ নিয়ম অনুযায়ী খাদ্যের প্রায় ১০ শতাংশ ভর পরবর্তী খাদকটির দেহ গঠনে সঞ্চিত হয়।
হরিণের দেহে সঞ্চিত ভর = ১০০ × ১০/১০০ = ১০ কেজি।
বাঘের দেহে সঞ্চিত ভর = ১০ × ১০/১০০ = ১ কেজি।
অতএব, হরিণের দেহে ১০ কেজি এবং বাঘের দেহে ১ কেজি ভর সঞ্চিত হবে।
ক. কোনো বাস্তুতন্ত্রে একাধিক খাদ্যশৃঙ্খল পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হলে খাদ্যজাল সৃষ্টি হয়।
খ. ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন সবুজ ও ক্লোরোফিলযুক্ত অতি ক্ষুদ্র উদ্ভিদ। এরা সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে সূর্যের আলো ব্যবহার করে নিজের খাদ্য তৈরি করে। তাই এরা উৎপাদক।
গ. উদ্দীপকের খাদ্যশৃঙ্খল হলো—
ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন → জুপ্ল্যাঙ্কটন → ছোট মাছ → বড় মাছ → মাছরাঙা
শক্তি প্রবাহের প্রথম বৈশিষ্ট্য হলো এটি একমুখী। সূর্য থেকে শক্তি উৎপাদকের দেহে আসে এবং পরে খাদকদের মধ্যে প্রবাহিত হয়; কিন্তু ব্যবহৃত শক্তি পুনরায় ফিরে আসে না। দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হলো খাদ্যস্তর পরিবর্তনের সঙ্গে শক্তির পরিমাণ কমে যায়। প্রতিটি স্তরে শ্বসনের সময় শক্তির কিছু অংশ তাপ হিসেবে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘ. কৃষিজমির কীটনাশক পানিতে মিশে প্রথমে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের দেহে জমা হতে পারে। জুপ্ল্যাঙ্কটন ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন খাওয়ার ফলে বিষ তাদের দেহে প্রবেশ করে। এরপর ছোট মাছ, বড় মাছ এবং শেষে মাছরাঙার দেহে বিষাক্ত পদার্থের ঘনত্ব ক্রমে বেড়ে যায়। খাদ্যশৃঙ্খলের নিম্নস্তর থেকে উচ্চস্তরে বিষের ঘনত্ব বৃদ্ধির এই প্রক্রিয়াকে বায়োম্যাগনিফিকেশন বলে। DDT-এর মতো বিষাক্ত পদার্থের কারণে উচ্চস্তরের পাখি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
উদ্দীপকের জলজ উদ্ভিদের অভিযোজনও বিভিন্ন রকম। নিমজ্জিত উদ্ভিদ সম্পূর্ণ পানির নিচে থাকে এবং সাধারণত তাদের পাতায় বায়ুরন্ধ্র থাকে না। মুক্ত-ভাসমান উদ্ভিদ মাটির সঙ্গে যুক্ত না থেকে পানির উপর ভাসে; তাদের কাণ্ড ও পাতায় বায়ুকুঠুরি থাকে। মূল-ভাসমান উদ্ভিদের মূল মাটিতে যুক্ত থাকে, কিন্তু পাতা পানির উপর ভাসে। এসব বায়ুকুঠুরি উদ্ভিদকে ভাসতে সাহায্য করে।
এই অধ্যায়ে সংজ্ঞা, উদাহরণ, খাদ্যস্তর, অভিযোজন ও সংরক্ষণ-পদ্ধতি গুলিয়ে ফেলা সহজ। নিচের ভুলগুলো ভালোভাবে ঠিক করে নাও।
| ভুল | সঠিক |
|---|---|
| উৎপাদককে পরভোজী বলা। | উৎপাদক স্বভোজী; সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য তৈরি করে। |
| খাদক ও বিয়োজকের কাজ এক মনে করা। | খাদক খাদ্য গ্রহণ করে; বিয়োজক মৃতদেহ পচিয়ে সরল পদার্থে পরিণত করে। |
| খাদ্যশৃঙ্খলকে শক্তির চক্র বলা। | শক্তি একমুখীভাবে প্রবাহিত হয় এবং প্রতিটি স্তরে কমে যায়। |
| দশমাংশ নিয়মে ১০০ কেজির সবটাই পরের স্তরে যায় ভাবা। | প্রায় ১০ শতাংশ শক্তি বা ভর পরবর্তী স্তরে সঞ্চারিত হয়। |
| মুক্ত-ভাসমান ও মূল-ভাসমান উদ্ভিদ গুলিয়ে ফেলা। | মুক্ত-ভাসমানের শিকড় মাটিতে যুক্ত নয়; মূল-ভাসমানের শিকড় মাটিতে যুক্ত থাকে। |
| জেরোফাইটে পাতার কিউটিকল পাতলা বলা। | জেরোফাইটে কিউটিকল পুরু ও মোমযুক্ত; রন্ধ্র ক্রিপ্টে থাকতে পারে। |
| হ্যালোফাইটের শ্বাসমূলকে সাধারণ মূল বলা। | শ্বাসমূল মাটির ওপর উঠে O2 গ্রহণে সাহায্য করে। |
| বায়োম ও বাস্তুতন্ত্র একই আকারের ভাবা। | বায়োম হলো একই জলবায়ু ও জীবসমন্বিত বৃহৎ বাস্তুতন্ত্র। |
উৎসাহ: সংজ্ঞা, উদাহরণ ও কারণ-ফল ধারাবাহিকভাবে অনুশীলন করলে এই অধ্যায়ে ভালো নম্বর পাওয়া সম্ভব।
ADMISSION TEST PREPARATION অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী How to use this sheet ★★★ = the par
ADMISSION TEST PREPARATION অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী How to use this sheet ★★★ = the p
এইচএসসি সাজেশন (একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি) অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন / অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন / অধ্যায় ৩: কোষ রসায়ন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত
লেকচার শিট অধ্যায় ১১: জীবপ্রযুক্তি একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পরিচিতি এই পাঠে যা শিখবে কৃষিতে জিনপ্রযুক্তির ব্
লেকচার শিট অধ্যায় ১০: উদ্ভিদ প্রজনন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পরিচিতি এই পাঠে যা শিখবে ডিম্বকের প্রধান অংশ এব
লেকচার শিট অধ্যায় ৯: উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পরিচিতি এই পাঠে যা শিখবে C₃ ও C₄ উদ্ভিদের প