🎉 3-Day Free Trial — All premium features unlocked, zero credit card required ● 📚 28+ Expert Guides published and growing every week
Back to Blog
HSC

লেকচার শিট: অধ্যায় ৮: টিস্যু ও টিস্যুতন্ত্র

By admin 6 views
লেকচার শিট

অধ্যায় ৮: টিস্যু ও টিস্যুতন্ত্র

একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী

পরিচিতি

এই পাঠে যা শিখবে
  • সালোকসংশ্লেষণের হার বা সালোকসংশ্লেষণ কোয়েন্ট (P.Q) নির্ণয় করতে পারবে।
  • আলো, তাপমাত্রা, CO2 ও ক্লোরোফিল কীভাবে সালোকসংশ্লেষণের হার নিয়ন্ত্রণ করে তা ব্যাখ্যা করতে পারবে।
  • সালোকসংশ্লেষণের গুরুত্ব এবং উৎপন্ন খাদ্যের ব্যবহার বুঝতে পারবে।
  • শ্বসনের ধারণা, শ্বসনিক বস্তু এবং সবাত ও অবাত শ্বসনের পার্থক্য লিখতে পারবে।
  • গ্লাইকোলাইসিস, ক্রেবস চক্র এবং ইলেকট্রন স্থানান্তর পর্যায়ের স্থান, ধাপ ও উৎপন্ন পদার্থ ব্যাখ্যা করতে পারবে।

আগে যা জানা দরকার

সবুজ উদ্ভিদের ক্লোরোপ্লাস্টে ক্লোরোফিল থাকে এবং ক্লোরোফিল সূর্যের আলো শোষণ করে।

সালোকসংশ্লেষণে CO2 ও পানি ব্যবহার করে খাদ্য তৈরি হয় এবং O2 নির্গত হয়।

কোষে সাইটোপ্লাজম ও মাইটোকন্ড্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু; ATP হলো কোষের শক্তির মুদ্রা।

এই পাঠ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

সালোকসংশ্লেষণ খাদ্য, শক্তি ও অক্সিজেনের প্রধান উৎস। জীবজগতের খাদ্যশৃঙ্খল এবং পরিবেশের ভারসাম্য এ প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল।

শ্বসনের মাধ্যমে খাদ্যে সঞ্চিত শক্তি ATP-তে রূপান্তরিত হয়, যা জীবের বিভিন্ন কাজ পরিচালনা করে।

পরীক্ষায় P.Q-এর সূত্র, শ্বসনের সমীকরণ, গ্লাইকোলাইসিসের নিট উৎপাদন, ক্রেবস চক্র এবং ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইন থেকে সংক্ষিপ্ত ও সৃজনশীল প্রশ্ন আসে।

এক নজরে

ক্রম আলোচ্য বিষয়
১সালোকসংশ্লেষণের হার ও নিয়ন্ত্রণ
২সালোকসংশ্লেষণের গুরুত্ব ও খাদ্যের ব্যবহার
৩শ্বসনের ধারণা, উপাদান ও প্রকারভেদ
৪গ্লাইকোলাইসিস, ক্রেবস চক্র ও ইলেকট্রন স্থানান্তর

সালোকসংশ্লেষণের হার ও নিয়ন্ত্রণ

সালোকসংশ্লেষণে সবুজ উদ্ভিদ বায়ু থেকে CO₂ গ্রহণ করে এবং O₂ ত্যাগ করে। গ্রহণ করা CO₂-এর সাহায্যে কার্বোহাইড্রেট বা খাদ্য তৈরি হয়। সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ে যে পরিমাণ CO₂ গ্রহণ করা হয়, তার প্রায় সমপরিমাণ O₂ ত্যাগ করা হয়। এই অনুপাত থেকেই সালোকসংশ্লেষণের হার বা সালোকসংশ্লেষণ কোয়েন্ট (Photosynthetic Quotient বা P.Q.) নির্ণয় করা হয়।

সংজ্ঞা: নির্দিষ্ট সময়ে সালোকসংশ্লেষণের সময় ত্যাগ করা O₂ এবং গ্রহণ করা CO₂-এর পরিমাণের অনুপাতকে সালোকসংশ্লেষণের হার বা P.Q. বলে।

সূত্র: P.Q. = O₂ ত্যাগের পরিমাণ ÷ CO₂ গ্রহণের পরিমাণ

সালোকসংশ্লেষণে সাধারণ অবস্থায় O₂ ত্যাগ ও CO₂ গ্রহণের পরিমাণ সমান হয়। তাই—

উদাহরণ: যদি O₂ ত্যাগের পরিমাণ ১ একক এবং CO₂ গ্রহণের পরিমাণ ১ একক হয়, তবে
P.Q. = ১ ÷ ১ = ১

অতএব, সাধারণ অবস্থায় সালোকসংশ্লেষণের P.Q.-এর মান ১। CO₂-এর পরিমাণ কমে গেলে সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। আবার CO₂-এর পরিমাণ বাড়লে হারও বৃদ্ধি পায়।

সালোকসংশ্লেষণের হার নিয়ন্ত্রণের উপায়

১. আলো: আলোর প্রকৃতি, তীব্রতা ও আলোককাল—এই তিনটি বৈশিষ্ট্য সালোকসংশ্লেষণের হারে প্রভাব ফেলে। আলোর কার্যকরী বর্ণালি ও শোষণ বর্ণালি থেকে দেখা যায়, লাল ও নীল আলো সালোকসংশ্লেষণে সর্বাধিক সক্রিয়। তবে শুধু আলোর রং পরিবর্তন করলেই হার যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ করা যায় না; আলোর তীব্রতাও গুরুত্বপূর্ণ।

আলোর তীব্রতা ১০০ ফুট-ক্যান্ডেল থেকে বাড়িয়ে ৩০০০ ফুট-ক্যান্ডেল পর্যন্ত নিলে সালোকসংশ্লেষণের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত হতে পারে। তীব্র সূর্যালোকে ১০,০০০–১২,০০০ ফুট-ক্যান্ডেল পর্যন্ত আলো পাওয়া যায়। কৃত্রিম পরিবেশে নির্দিষ্ট পরিমাণ আলো দিয়ে সালোকসংশ্লেষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

আলোককালও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ ১৪–১৬ ঘণ্টার আলো সব সময় কাজে লাগে না। কারণ, আলোতে তৈরি খাদ্য আলো-নিরপেক্ষ পর্যায়ে একই হারে ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। প্রায় ১০–১২ ঘণ্টা আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

২. তাপমাত্রা: তাপমাত্রা সালোকসংশ্লেষণের একটি প্রভাবক। তাপমাত্রা পরিবর্তন করে মূলত আলো-নিরপেক্ষ পর্যায়ের ক্যালভিন চক্রের হার নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সাধারণ অবস্থায় ১০°–৪০° সে. তাপমাত্রায় সালোকসংশ্লেষণের হার বাড়তে থাকে। ৩০°–৩৫° সে. তাপমাত্রায় হার সর্বোচ্চ হয়।

৩. CO₂-এর ঘনত্ব: বায়ুতে CO₂-এর পরিমাণ সাধারণত ০.০৩–০.০৪%। পরিবেশে CO₂-এর ঘনত্ব বাড়ালে সালোকসংশ্লেষণের হার বাড়ে। প্রায় ০.৮–১% CO₂ পর্যন্ত অনেক উদ্ভিদে হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে যেতে পারে। তবে বিভিন্ন উদ্ভিদের সহনশীলতা ও সর্বোচ্চ হার পাওয়ার ঘনত্ব ভিন্ন হতে পারে।

৪. ক্লোরোফিল: ক্লোরোফিল প্রধানত ক্লোরোপ্লাস্টে থাকে এবং পাতায় এর পরিমাণ বেশি। এটি সূর্যের আলোকশক্তি শোষণ করে সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহারের উপযোগী করে। তাই ক্লোরোফিলের উপস্থিতি সালোকসংশ্লেষণের জন্য অপরিহার্য।

শিক্ষকের টিপস: মনে রাখবে—“আলো খাদ্য তৈরির শক্তি দেয়, CO₂ খাদ্যের কার্বন দেয়, তাপমাত্রা বিক্রিয়ার গতি নিয়ন্ত্রণ করে, আর ক্লোরোফিল আলো শোষণ করে।” P.Q.-তে লব্ধাংশে O₂ এবং হরে CO₂ থাকবে।

পরীক্ষায় যেভাবে আসে: P.Q.-এর সংজ্ঞা, সূত্র ও মান; লাল-নীল আলোর কার্যকারিতা; ৩০°–৩৫° সে. তাপমাত্রায় সর্বোচ্চ হার; এবং ক্লোরোফিলের অবস্থান ও কাজ—এসব সংক্ষিপ্ত প্রশ্নে আসতে পারে।

দ্রুত যাচাই

১. P.Q.-এর সূত্রটি লেখো এবং সাধারণ অবস্থায় এর মান কত?

উত্তর দেখোP.Q. = O₂ ত্যাগের পরিমাণ ÷ CO₂ গ্রহণের পরিমাণ। সাধারণ অবস্থায় মান ১।

২. সালোকসংশ্লেষণের হারে তাপমাত্রার প্রভাব কী?

উত্তর দেখো১০°–৪০° সে. তাপমাত্রায় হার বাড়ে এবং ৩০°–৩৫° সে. তাপমাত্রায় সর্বোচ্চ হয়।

সালোকসংশ্লেষণের গুরুত্ব ও উৎপন্ন খাদ্যের ব্যবহার

সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালোকের সাহায্যে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি থেকে খাদ্য তৈরি করে। এই খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়াই সালোকসংশ্লেষণ। উদ্ভিদের ক্লোরোপ্লাস্টে ক্লোরোফিল সূর্যের আলোকশক্তি শোষণ করে। সেই শক্তি রাসায়নিক শক্তি হিসেবে খাদ্যে সঞ্চিত হয়। তাই সালোকসংশ্লেষণ শুধু উদ্ভিদের খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়া নয়; সমগ্র জীবজগতের খাদ্য ও শক্তির মূল ভিত্তি।

সংজ্ঞা: সবুজ উদ্ভিদ ক্লোরোফিলের উপস্থিতিতে সূর্যালোকের সাহায্যে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি ব্যবহার করে খাদ্য তৈরি করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে—এই প্রক্রিয়াকে সালোকসংশ্লেষণ বলে।

সালোকসংশ্লেষণের গুরুত্ব

  1. উদ্ভিদের খাদ্য প্রস্তুত: সবুজ উদ্ভিদ নিজের প্রয়োজনীয় খাদ্য নিজেই তৈরি করে। উদ্ভিদের জীবনধারণ ও স্বাভাবিক বৃদ্ধির মৌলিক চাহিদা এ প্রক্রিয়ায় পূরণ হয়।
  2. প্রাণিকূলের খাদ্যের উৎস: প্রাণীরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সবুজ উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল। তৃণভোজী প্রাণী সরাসরি উদ্ভিদ খায়। মাংসাশী প্রাণী তৃণভোজী প্রাণী খাওয়ায় পরোক্ষভাবে উদ্ভিদের ওপর নির্ভর করে। তাই মানুষসহ সমগ্র প্রাণিকূলের খাদ্যের প্রধান উৎস সালোকসংশ্লেষণ।
  3. জীবজগতের শক্তির উৎস: সূর্যের শক্তি সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্যে রাসায়নিক শক্তি হিসেবে সঞ্চিত হয়। আমরা খাদ্যশস্য, তেলবীজ, মাংস ও দুধ থেকে যে শক্তি পাই, তার মূল উৎস সূর্যালোক। খাদ্যের প্রাথমিক উৎপাদন না হলে জীবের কোনো কাজের জন্য শক্তি পাওয়া যেত না।
  4. পরিবেশ পরিশোধন: সালোকসংশ্লেষণের সময় উদ্ভিদ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে। কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রাণিকূলের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, আর অক্সিজেন শ্বসনের জন্য অপরিহার্য। এভাবে উদ্ভিদ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে।
  5. উদ্ভিদের বৃদ্ধি: উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও দেহ গঠনের জন্য খাদ্য, শক্তি ও অন্যান্য উপাদান দরকার। এগুলো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে আসে।
  6. মানবসভ্যতায় অবদান: কয়লা, কাগজ, রাবার, রেয়ন, সেলোফেন, টারপেনটাইন, মোমবাতি ও রেজিনের মতো উপাদান প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সালোকসংশ্লেষণের সঙ্গে সম্পর্কিত।
সালোকসংশ্লেষণে খাদ্যের ব্যবহার1সূর্যালোকের শক্তিশোষণ2ক্লোরোপ্লাস্টেস্টার্চ তৈরি3স্টার্চ থেকেগ্লুকোজ4গ্লুকোজ থেকেসুক্রোজ5সঞ্চালন, ব্যবহারও সঞ্চয়
সালোকসংশ্লেষণে উৎপন্ন খাদ্যের ধাপে ধাপে ব্যবহার

উৎপন্ন খাদ্য কোথায় যায়?

সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে ক্লোরোপ্লাস্টে প্রথমে শ্বেতসার বা স্টার্চ তৈরি হয়। স্টার্চ কঠিন পদার্থ হওয়ায় উদ্ভিদ এটি সরাসরি সঞ্চালন করতে পারে না। তাই পাতায় তৈরি স্টার্চ প্রথমে গ্লুকোজে এবং পরে সুক্রোজে পরিণত হয়। সুক্রোজ উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গে সঞ্চালিত হয়।

সুক্রোজের একটি অংশ বিপাকক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়। শ্বসনের সময় খাদ্য ভেঙে শক্তি উৎপন্ন হয়; সেই শক্তি উদ্ভিদের বিভিন্ন কাজ চালাতে ব্যবহৃত হয়। অতিরিক্ত অংশ ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চিত থাকে। আবার এই খাদ্যের কিছু অংশ থেকে চর্বি ও আমিষজাতীয় খাদ্যও তৈরি হতে পারে।

উদাহরণ: পাতায় তৈরি স্টার্চ সরাসরি অন্য অঙ্গে যায় না। এটি প্রথমে গ্লুকোজ, পরে সুক্রোজে রূপান্তরিত হয়। সুক্রোজ উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গে পৌঁছে কোথাও শ্বসনে শক্তি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়, আবার কোথাও ভবিষ্যতের জন্য জমা থাকে।
শিক্ষকের টিপস: মনে রাখবে—“স্টার্চ → গ্লুকোজ → সুক্রোজ → সঞ্চালন।” সাধারণ ভুল হলো স্টার্চ সরাসরি উদ্ভিদের সব অঙ্গে সঞ্চালিত হয় মনে করা। আসলে সঞ্চালনের প্রধান রূপ হলো সুক্রোজ।
পরীক্ষায় যেভাবে আসে: সালোকসংশ্লেষণের গুরুত্ব লিখতে খাদ্য, শক্তি, পরিবেশ পরিশোধন, উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং মানবসভ্যতায় অবদানের কথা ধারাবাহিকভাবে লিখবে। উৎপন্ন খাদ্যের ব্যবহারে স্টার্চের গ্লুকোজ ও সুক্রোজে রূপান্তর অবশ্যই উল্লেখ করবে।

দ্রুত যাচাই

১। সালোকসংশ্লেষণে সূর্যালোকের শক্তি কীভাবে সংরক্ষিত হয়?

উত্তর দেখোখাদ্যে রাসায়নিক শক্তি হিসেবে সূর্যালোকের শক্তি সঞ্চিত হয়।

২। স্টার্চ উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গে কীভাবে সঞ্চালিত হয়?

উত্তর দেখোস্টার্চ প্রথমে গ্লুকোজ এবং পরে সুক্রোজে পরিণত হয়; সুক্রোজ বিভিন্ন অঙ্গে সঞ্চালিত হয়।

শ্বসনের ধারণা, উপাদান ও প্রকারভেদ

জীবকোষে প্রতিনিয়ত নানা রাসায়নিক ক্রিয়া-বিক্রিয়া ঘটে। এসব কাজ সম্পন্ন করার জন্য শক্তি দরকার। খাদ্যদ্রব্যে সঞ্চিত শক্তি একবারে সম্পূর্ণ মুক্ত হয় না; বিভিন্ন এনজাইমের নিয়ন্ত্রণে ধাপে ধাপে মুক্ত হয়। এই ধীর ও পর্যায়ক্রমিক প্রক্রিয়াই শ্বসন। মনে রাখতে হবে, শ্বসন শুধু শ্বাস নেওয়া নয়; এটি কোষের ভিতরে সংঘটিত একটি জটিল রাসায়নিক প্রক্রিয়া।

সংজ্ঞা: যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবকোষস্থ জটিল জৈব যৌগ জারিত হয়ে তার সঞ্চিত স্থিতিশক্তি রাসায়নিক গতিশক্তিতে পরিণত হয়, তাকে শ্বসন বলে। তাই শ্বসন হলো শক্তি নির্গতকারী জটিল জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার সমষ্টি।

শ্বসনের উপাদান বা শ্বসনিক বস্তু

যেসব যৌগ শ্বসন প্রক্রিয়ায় জারিত হয়ে সরল পদার্থে পরিণত হয়, সেগুলোকে শ্বসনিক বস্তু বলে। প্রধান শ্বসনিক বস্তু হলো—

  • কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা; বিশেষ করে গ্লুকোজ,
  • প্রোটিন বা আমিষ,
  • চর্বি,
  • জৈবিক অ্যাসিড।

কার্বোহাইড্রেট শ্বসনে শক্তির প্রধান উৎস। স্টার্চ বা অন্যান্য শর্করা প্রথমে গ্লুকোজে পরিণত হয়। পরে গ্লুকোজ বিভিন্ন এনজাইম-নিয়ন্ত্রিত ধাপে জারিত হয়ে শক্তি উৎপন্ন করে। উৎপন্ন শক্তি ATP-তে সঞ্চিত থাকে এবং কোষের বিভিন্ন শক্তি-প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহৃত হয়।

শ্বসন অঙ্গ

উদ্ভিদের প্রতিটি জীবকোষে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা শ্বসন চলতে থাকে। কোষের সাইটোপ্লাজম এবং মাইটোকন্ড্রিয়া শ্বসনের প্রধান অঙ্গ। শ্বসনের প্রথম ধাপ গ্লাইকোলাইসিস সাইটোপ্লাজমে ঘটে। পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো মাইটোকন্ড্রিয়ায় সম্পন্ন হয়।

শ্বসনের প্রকারভেদ

অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তার ওপর ভিত্তি করে শ্বসন দুই প্রকার।

বিষয় সবাত শ্বসন অবাত শ্বসন
অক্সিজেন মুক্ত অক্সিজেন প্রয়োজন মুক্ত অক্সিজেন প্রয়োজন হয় না
জারণ শ্বসনিক বস্তু সম্পূর্ণ জারিত হয় শ্বসনিক বস্তু আংশিক জারিত হয়
ফলাফল CO₂, H₂O ও অধিক শক্তি উৎপন্ন হয় স্বল্প শক্তি উৎপন্ন হয়
শ্বসনের প্রধান ধারা1শ্বসনিক বস্তু2এনজাইম-নিয়ন্ত্রিতজারণ3শক্তি মুক্তি4ATP উৎপাদন
শ্বসনে জটিল খাদ্য সরল পদার্থে পরিণত হয় এবং শক্তি ATP-তে সঞ্চিত হয়।

উদাহরণ: সবাত শ্বসনে এক অণু গ্লুকোজ অক্সিজেনের উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ জারিত হয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড, পানি ও অধিক পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করে। সামগ্রিক সমীকরণটি হলো:

C6H12O6 + 6O2 + 6H2O + 36ADP + 36Pi → 6CO2 + 12H2O + 36ATP

এখানে মোট ATP উৎপাদন ৩৬টি; কিছু হিসাব অনুযায়ী ৩৮টি ATP ধরা হয়।

শিক্ষকের টিপস: “সবাত = বাতাসসহ”—এইভাবে মনে রাখো। সবাত শ্বসনে অক্সিজেন থাকে, খাদ্য সম্পূর্ণ জারিত হয় এবং শক্তি বেশি উৎপন্ন হয়। অবাত শ্বসনে অক্সিজেন থাকে না, খাদ্য আংশিক জারিত হয় এবং শক্তি কম উৎপন্ন হয়। শ্বসনকে কখনো শুধু শ্বাস নেওয়ার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবে না।

পরীক্ষায় যেভাবে আসে: সংজ্ঞায় অবশ্যই “জটিল জৈব যৌগের জারণ”, “শক্তি নির্গমন” এবং “জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার সমষ্টি”—এই ভাবগুলো লিখবে। সবাত শ্বসনের সমীকরণে CO2, H2O এবং ATP উল্লেখ করবে।

দ্রুত যাচাই

১। শ্বসনিক বস্তু কী? দুটি উদাহরণ লেখো।

উত্তর দেখোযেসব যৌগ শ্বসনে জারিত হয়ে সরল পদার্থে পরিণত হয়, সেগুলো শ্বসনিক বস্তু। উদাহরণ: কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন।

২। সবাত ও অবাত শ্বসনের প্রধান পার্থক্য কী?

উত্তর দেখোসবাত শ্বসনে মুক্ত অক্সিজেন লাগে এবং অধিক শক্তি উৎপন্ন হয়; অবাত শ্বসনে মুক্ত অক্সিজেন লাগে না এবং স্বল্প শক্তি উৎপন্ন হয়।

সবাত শ্বসনের প্রথম ধাপ: গ্লাইকোলাইসিস

সবাত শ্বসনের প্রথম ধাপ হলো গ্লাইকোলাইসিস (Glycolysis)। এই প্রক্রিয়ায় একটি ৬-কার্বনবিশিষ্ট গ্লুকোজ অণু ভেঙে দুটি ৩-কার্বনবিশিষ্ট পাইরুভিক অ্যাসিড অণু তৈরি হয়। এটি কোষের সাইটোপ্লাজমে সংঘটিত হয়। গ্লাইকোলাইসিসের জন্য সরাসরি অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় না। তাই এটি সবাত ও অবাত—উভয় ধরনের শ্বসনের প্রথম ধাপ।

সংজ্ঞা: যে প্রক্রিয়ায় একটি গ্লুকোজ অণু বিভিন্ন এনজাইম-নিয়ন্ত্রিত বিক্রিয়ার মাধ্যমে ভেঙে দুটি পাইরুভিক অ্যাসিড অণুতে পরিণত হয়, তাকে গ্লাইকোলাইসিস বলে। বিজ্ঞানী Embden, Meyerhof ও Parnas-এর নাম অনুসারে একে EMP পথও বলা হয়।

ধাপগুলো একে একে

  1. গ্লুকোজ ATP থেকে একটি ফসফেট গ্রহণ করে গ্লুকোজ-৬-ফসফেট হয়। এখানে ১টি ATP ব্যয় হয়।
  2. গ্লুকোজ-৬-ফসফেট পরিবর্তিত হয়ে ফ্রুক্টোজ-৬-ফসফেটে পরিণত হয়।
  3. ফ্রুক্টোজ-৬-ফসফেট আরও একটি ATP থেকে ফসফেট গ্রহণ করে ফ্রুক্টোজ-১,৬-বিসফসফেট হয়। এখানে দ্বিতীয় ATP ব্যয় হয়।
  4. ফ্রুক্টোজ-১,৬-বিসফসফেট ভেঙে দুটি ৩-কার্বনবিশিষ্ট যৌগ তৈরি করে—৩-ফসফোগ্লিসারালডিহাইড ও ডাইহাইড্রক্সি অ্যাসিটোন ফসফেট।
  5. ডাইহাইড্রক্সি অ্যাসিটোন ফসফেট আইসোমারেজের সাহায্যে ৩-ফসফোগ্লিসারালডিহাইডে পরিণত হয়। ফলে দুটি ট্রায়োজ অণু পরবর্তী বিক্রিয়ায় অংশ নেয়।
  6. ৩-ফসফোগ্লিসারালডিহাইড জারিত হয়ে NADH + H⁺ তৈরি করে এবং ১,৩-বিসফসফোগ্লিসারিক অ্যাসিডে পরিণত হয়।
  7. ১,৩-বিসফসফোগ্লিসারিক অ্যাসিড থেকে ফসফেট স্থানান্তরের মাধ্যমে ATP তৈরি হয় এবং ৩-ফসফোগ্লিসারিক অ্যাসিড গঠিত হয়।
  8. ৩-ফসফোগ্লিসারিক অ্যাসিড → ২-ফসফোগ্লিসারিক অ্যাসিড → ফসফোইনল পাইরুভিক অ্যাসিড (PEP) হয়।
  9. PEP থেকে আরও একটি ATP তৈরি হয় এবং পাইরুভিক অ্যাসিড উৎপন্ন হয়।
  10. দুটি ট্রায়োজ অণু থেকে এই বিক্রিয়াগুলো দুবার হওয়ায় শেষ পর্যন্ত দুটি পাইরুভিক অ্যাসিড তৈরি হয়।
গ্লাইকোলাইসিসের সারাংশ1গ্লুকোজ2২ ATP ব্যয়3দুটি ট্রায়োজ4৪ ATP ও ২ NADH +H⁺ উৎপাদন5২ পাইরুভিকঅ্যাসিড
গ্লাইকোলাইসিস সাইটোপ্লাজমে সংঘটিত হয় এবং অক্সিজেনের সরাসরি প্রয়োজন হয় না।

উদাহরণ: গ্লাইকোলাইসিসে প্রথমে ২ অণু ATP ব্যয় হয়। পরে ৪ অণু ATP তৈরি হয়। তাই নিট ATP লাভ = ৪ − ২ = ২ অণু ATP। একই সঙ্গে ২ অণু NADH + H⁺ এবং ২ অণু পাইরুভিক অ্যাসিড উৎপন্ন হয়।

গ্লাইকোলাইসিসের নিয়ন্ত্রণ

ATP দ্রুত ব্যবহৃত হলে গ্লাইকোলাইসিসের হার বাড়ে; ATP-এর ব্যবহার কম হলে হার কমে। গ্লুকোজ সরবরাহও এ প্রক্রিয়ার হার নিয়ন্ত্রণ করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক এনজাইম হলো ফসফোফ্রুক্টোকাইনেজ। এটি ফ্রুক্টোজ-৬-ফসফেটকে ফ্রুক্টোজ-১,৬-বিসফসফেটে রূপান্তর করে। ATP এই এনজাইমের কাজ বাধাগ্রস্ত করে, আর ADP কাজটি উদ্দীপিত করে।

গুরুত্ব ও গ্লুকোনিওজেনেসিস

গ্লাইকোলাইসিসে পাইরুভিক অ্যাসিড তৈরি হয়, যা পরবর্তী শ্বসন ধাপের প্রধান উপাদান। উৎপন্ন ATP ও NADH + H⁺ কোষের শক্তি জোগায়। এ পথের বিভিন্ন মধ্যবর্তী পদার্থ থেকে অন্যান্য কোষীয় উপাদানও তৈরি হতে পারে। গ্লাইকোলাইসিসের বিপরীত পথে গ্লুকোজ তৈরির প্রক্রিয়াকে গ্লুকোনিওজেনেসিস বলে। উদ্ভিদের বীজে এ প্রক্রিয়ায় সঞ্চিত খাদ্য থেকে গ্লুকোজ বা সুক্রোজ তৈরি হয়ে অঙ্কুরিত চারাকে সাহায্য করে।

শিক্ষকের টিপস: মনে রাখবে—“২ ATP লাগে, ৪ ATP আসে, নিট থাকে ২ ATP; সঙ্গে ২ NADH + H⁺ এবং ২ পাইরুভেট।” গ্লাইকোলাইসিসকে মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রক্রিয়া লিখবে না; এটি সাইটোপ্লাজমে ঘটে।

পরীক্ষায় যেভাবে আসে: গ্লাইকোলাইসিসের সংজ্ঞা, স্থান, অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তা, ATP-এর হিসাব, উৎপন্ন পদার্থ এবং ফসফোফ্রুক্টোকাইনেজের নিয়ন্ত্রণের ভূমিকা লিখতে বলা হতে পারে।

দ্রুত যাচাই

১। গ্লাইকোলাইসিস কোথায় সংঘটিত হয় এবং এর জন্য কি অক্সিজেন দরকার?

উত্তর দেখোগ্লাইকোলাইসিস সাইটোপ্লাজমে সংঘটিত হয় এবং সরাসরি অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় না।

২। গ্লাইকোলাইসিসে নিট কত ATP ও কত NADH + H⁺ উৎপন্ন হয়?

উত্তর দেখোনিট ২ অণু ATP এবং ২ অণু NADH + H⁺ উৎপন্ন হয়।

ক্রেবস চক্র ও ইলেকট্রন স্থানান্তর

গ্লাইকোলাইসিসে এক অণু গ্লুকোজ ভেঙে দুই অণু পাইরুভিক অ্যাসিড তৈরি হয়। এরপর পাইরুভিক অ্যাসিড মাইটোকন্ড্রিয়ার ম্যাট্রিক্সে প্রবেশ করে। সেখানে এটি অ্যাসিটাইল-CoA-তে পরিণত হয়ে ক্রেবস চক্রে প্রবেশ করে। তাই অ্যাসিটাইল-CoA হলো গ্লাইকোলাইসিস ও ক্রেবস চক্রের সংযোগকারী রাসায়নিক উপাদান।

সংজ্ঞা: মাইটোকন্ড্রিয়ার ম্যাট্রিক্সে অ্যাসিটাইল-CoA-এর জারণের মাধ্যমে ধারাবাহিক চক্রাকার বিক্রিয়ায় CO₂, NADH + H⁺, FADH₂ ও ATP উৎপন্ন হওয়ার প্রক্রিয়াকে ক্রেবস চক্র বা ট্রাইকার্বক্সিলিক অ্যাসিড চক্র (TCA cycle) বলে।

১. পাইরুভিক অ্যাসিড থেকে অ্যাসিটাইল-CoA

৩-কার্বনবিশিষ্ট পাইরুভিক অ্যাসিড পাইরুভেট ডিহাইড্রোজিনেজ এনজাইম-কমপ্লেক্সের সাহায্যে তিনটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়।

  1. একটি কার্বন CO₂ হিসেবে বের হয়ে যায়। এটি ডিকার্বক্সিলেশন।
  2. একটি NADH + H⁺ উৎপন্ন হয়। এটি অক্সিডেশন।
  3. অবশিষ্ট ২-কার্বনবিশিষ্ট অ্যাসিটিক অ্যাসিড Co-A-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে অ্যাসিটাইল-CoA তৈরি করে।

এই ধাপে, প্রতি পাইরুভিক অ্যাসিড থেকে ১টি CO₂, ১টি NADH + H⁺ এবং ১টি অ্যাসিটাইল-CoA উৎপন্ন হয়। এক অণু গ্লুকোজ থেকে দুই অণু পাইরুভিক অ্যাসিড তৈরি হয় বলে এই ধাপে মোট ২টি CO₂ ও ২টি NADH + H⁺ উৎপন্ন হয়। পাইরুভিক অ্যাসিড থেকে অ্যাসিটাইল-CoA তৈরি হওয়া ক্রেবস চক্রের অংশ নয়; এটি চক্রে প্রবেশের প্রস্তুতিপর্ব।

২. ক্রেবস চক্রের ধাপ

প্রথমে ২-কার্বনবিশিষ্ট অ্যাসিটাইল-CoA, ৪-কার্বনবিশিষ্ট অক্সালোঅ্যাসিটিক অ্যাসিডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ৬-কার্বনবিশিষ্ট সাইট্রিক অ্যাসিড তৈরি করে। Co-A আলাদা হয়ে যায়। এরপর সাইট্রিক অ্যাসিড আইসোসাইট্রিক অ্যাসিডে রূপান্তরিত হয়।

আইসোসাইট্রিক অ্যাসিড থেকে CO₂ ও NADH + H⁺ উৎপন্ন হয়ে আলফা-কিটোগ্লুটারিক অ্যাসিড তৈরি হয়। পরে আলফা-কিটোগ্লুটারিক অ্যাসিড থেকে আবার CO₂ ও NADH + H⁺ উৎপন্ন হয়ে সাকসিনাইল-CoA তৈরি হয়। সাকসিনাইল-CoA থেকে সাকসিনিক অ্যাসিড হওয়ার সময় সাবস্ট্রেট-লেভেল ফসফোরাইলেশনে ১টি ATP তৈরি হয়।

সাকসিনিক অ্যাসিড জারিত হয়ে ফিউমারিক অ্যাসিডে পরিণত হয় এবং ১টি FADH₂ তৈরি হয়। পরে ফিউমারিক অ্যাসিড → ম্যালিক অ্যাসিড → অক্সালোঅ্যাসিটিক অ্যাসিড হয়। অক্সালোঅ্যাসিটিক অ্যাসিড আবার অ্যাসিটাইল-CoA গ্রহণ করে নতুন চক্র শুরু করে।

ক্রেবস চক্রের প্রধান ধারা1পাইরুভিক অ্যাসিড→ অ্যাসিটাইল-CoA2অ্যাসিটাইল-CoA +অক্সালোঅ্যাসিটিকঅ্যাসিড →সাইট্রিক অ্যাসিড3সাইট্রিক অ্যাসিড→ CO₂, NADH + H⁺4সাকসিনাইল-CoA →ATP, সাকসিনিকঅ্যাসিড5সাকসিনিক অ্যাসিড→ FADH₂6ম্যালিক অ্যাসিড →অক্সালোঅ্যাসিটিকঅ্যাসিড
অক্সালোঅ্যাসিটিক অ্যাসিড পুনরায় তৈরি হয়ে চক্রটি চলতে থাকে।
উদাহরণ: এক অণু গ্লুকোজ থেকে দুই অণু পাইরুভিক অ্যাসিড হয়। তাই ক্রেবস চক্র দুইবার ঘোরে। ক্রেবস চক্রে মোট ৬টি CO₂, ৬টি NADH + H⁺, ২টি FADH₂ এবং ২টি ATP উৎপন্ন হয়।

৩. ক্রেবস চক্রের নিয়ন্ত্রণ

ক্রেবস চক্রের প্রধান নিয়ন্ত্রক এনজাইম হলো আইসোসাইট্রেট ডিহাইড্রোজিনেজ। ADP ও NAD⁺ এই চক্রকে উদ্দীপিত করে। ATP এবং NADH + H⁺ বেশি জমা হলে চক্রের গতি কমে যায় বা চক্র বন্ধ হতে পারে।

৪. ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইন

গ্লাইকোলাইসিস ও ক্রেবস চক্রে উৎপন্ন NADH + H⁺ এবং FADH₂-তে উচ্চশক্তিসম্পন্ন ইলেকট্রন থাকে। এগুলো পুনরায় জারিত না হলে শ্বসন বন্ধ হয়ে যাবে। মাইটোকন্ড্রিয়ার অন্তঃঝিল্লিতে চারটি মাল্টি-প্রোটিন কমপ্লেক্স ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইন গঠন করে। এই চেইনে ইলেকট্রন এক প্রোটিন থেকে অন্য প্রোটিনে স্থানান্তরিত হয়।

ইলেকট্রন স্থানান্তরের সময় মুক্ত শক্তি ব্যবহার করে ADP-এর সঙ্গে অজৈব ফসফেট (Pi) যুক্ত হয়ে ATP তৈরি হয়। এই প্রক্রিয়াকে অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন বলে। শেষে অক্সিজেন ইলেকট্রনের চূড়ান্ত গ্রহণকারী হিসেবে কাজ করে এবং হাইড্রোজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পানি তৈরি করে।

শিক্ষকের টিপস: “ম্যাট্রিক্সে ক্রেবস, অন্তঃঝিল্লিতে ইলেকট্রন”—এই বাক্যটি মনে রাখো। ক্রেবস চক্রের প্রধান উৎপাদন NADH + H⁺ ও FADH₂; আর ইলেকট্রন চেইনের প্রধান ফল ATP ও পানি।
পরীক্ষায় যেভাবে আসে: ক্রেবস চক্রের স্থান, অ্যাসিটাইল-CoA-এর উৎপত্তি, নিয়ন্ত্রক এনজাইম, অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন এবং অক্সিজেনের চূড়ান্ত ইলেকট্রন গ্রহণকারী ভূমিকা অবশ্যই লিখবে।

দ্রুত যাচাই ১: অ্যাসিটাইল-CoA কোন দুটি প্রক্রিয়ার সংযোগকারী উপাদান?

উত্তর দেখোগ্লাইকোলাইসিস ও ক্রেবস চক্রের।

দ্রুত যাচাই ২: ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইনে অক্সিজেনের ভূমিকা কী?

উত্তর দেখোঅক্সিজেন চূড়ান্ত ইলেকট্রন গ্রহণকারী হিসেবে কাজ করে এবং পানি তৈরি করে।

উদাহরণ ও সমাধান

নিচের উদাহরণগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ো। প্রতিটি সমাধানে প্রথমে কী জানতে চাওয়া হয়েছে, তারপর সূত্র বা যুক্তি, হিসাব এবং শেষে উত্তর দেওয়া হয়েছে।

উদাহরণ ১: সালোকসংশ্লেষণের হার নির্ণয়

একটি উদ্ভিদ নির্দিষ্ট সময়ে ১০ একক CO₂ গ্রহণ করে ১০ একক O₂ ত্যাগ করল। সালোকসংশ্লেষণের হার বা P.Q নির্ণয় করো।

  1. সালোকসংশ্লেষণের হার নির্ণয়ের সূত্র লিখি:
    P.Q = O₂ ত্যাগের পরিমাণ ÷ CO₂ গ্রহণের পরিমাণ
  2. প্রদত্ত মান সূত্রে বসাই:
    P.Q = ১০ ÷ ১০
  3. হিসাব করি:
    P.Q = ১

চূড়ান্ত উত্তর: সালোকসংশ্লেষণের হার বা P.Q = ১।

অর্থাৎ, এ ক্ষেত্রে শোষিত CO₂ এবং ত্যাগ করা O₂-এর পরিমাণ সমান।

উদাহরণ ২: সালোকসংশ্লেষণের হার নিয়ন্ত্রণ

একটি কৃত্রিম পরিবেশে উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণের হার কমে গেছে। আলো, তাপমাত্রা, CO₂ ও ক্লোরোফিলের সাহায্যে কীভাবে হারটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়—মডেল উত্তর দাও।

  1. আলো: আলোর তীব্রতা বাড়ালে সাধারণত সালোকসংশ্লেষণের হার বাড়ে। লাল ও নীল আলো বেশি কার্যকর। তবে অতিরিক্ত আলো সব সময় উপকারী নয়। আলোককালও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
  2. তাপমাত্রা: ১০°–৪০° সে. পর্যন্ত তাপমাত্রা বাড়লে হার বৃদ্ধি পায়। ৩০°–৩৫° সে. তাপমাত্রায় হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। তাপমাত্রা মূলত আলো-নিরপেক্ষ পর্যায়ের ক্যালভিন চক্রকে প্রভাবিত করে।
  3. CO₂: পরিবেশে CO₂-এর পরিমাণ বাড়ালে সালোকসংশ্লেষণের হার বৃদ্ধি পায়। সাধারণভাবে ০.৮%–১% CO₂ পর্যন্ত হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত হতে পারে।
  4. ক্লোরোফিল: ক্লোরোফিল সূর্যের আলোকশক্তি শোষণ করে। তাই পাতায় পর্যাপ্ত ক্লোরোফিল থাকা জরুরি।

চূড়ান্ত উত্তর: উপযুক্ত আলো, ৩০°–৩৫° সে. তাপমাত্রা, যথেষ্ট CO₂ এবং পর্যাপ্ত ক্লোরোফিল নিশ্চিত করলে সালোকসংশ্লেষণের হার নিয়ন্ত্রণ ও বৃদ্ধি করা যায়।

উদাহরণ ৩: গ্লাইকোলাইসিসে ATP-এর হিসাব

এক অণু গ্লুকোজের গ্লাইকোলাইসিসে মোট কত ATP উৎপন্ন হয় এবং নিট ATP কত?

  1. গ্লাইকোলাইসিসের প্রথম দিকে গ্লুকোজ থেকে ফ্রুক্টোজ-১,৬-বিসফসফেট তৈরিতে ATP ব্যয় হয়।
    ATP ব্যয় = ২ অণু
  2. পরবর্তী ধাপে দুই অণু ট্রায়োজ থেকে ATP উৎপন্ন হয়।
    উৎপন্ন ATP = ৪ অণু
  3. নিট ATP নির্ণয় করি:
    নিট ATP = মোট উৎপন্ন ATP − ব্যবহৃত ATP
    = ৪ − ২
    = ২ অণু
  4. এ প্রক্রিয়ায় আরও উৎপন্ন হয়:
    NADH + H⁺ = ২ অণু
    পাইরুভিক অ্যাসিড = ২ অণু

চূড়ান্ত উত্তর: গ্লাইকোলাইসিসে মোট ATP উৎপন্ন হয় ৪ অণু, কিন্তু ব্যবহৃত ২ অণু বাদ দিলে নিট ATP থাকে ২ অণু।

উদাহরণ ৪: এক অণু গ্লুকোজে NADH ও FADH₂ উৎপাদন

এক অণু গ্লুকোজ সম্পূর্ণ জারিত হলে গ্লাইকোলাইসিস, অ্যাসিটাইল Co-A গঠন ও ক্রেবস চক্র মিলিয়ে কত NADH + H⁺ এবং FADH₂ উৎপন্ন হয়?

  1. গ্লাইকোলাইসিসে উৎপন্ন হয়:
    NADH + H⁺ = ২ অণু
  2. দুটি পাইরুভিক অ্যাসিড থেকে অ্যাসিটাইল Co-A তৈরির সময় উৎপন্ন হয়:
    NADH + H⁺ = ২ অণু
  3. ক্রেবস চক্রে উৎপন্ন হয়:
    NADH + H⁺ = ৬ অণু এবং FADH₂ = ২ অণু
  4. সুতরাং মোট NADH + H⁺:
    ২ + ২ + ৬ = ১০ অণু

চূড়ান্ত উত্তর: এক অণু গ্লুকোজে মোট ১০ অণু NADH + H⁺ এবং ২ অণু FADH₂ উৎপন্ন হয়। এগুলোর উচ্চ-শক্তির ইলেকট্রন ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইনে প্রবেশ করে ATP তৈরিতে সাহায্য করে।

সংজ্ঞা, সূত্র ও সারসংক্ষেপ

পরিভাষা সংজ্ঞা বা সূত্র কখন ব্যবহার করবে
সালোকসংশ্লেষণের হার বা P.Q P.Q = O₂ ত্যাগের পরিমাণ ÷ CO₂ গ্রহণের পরিমাণ = ১/১ = ১ সালোকসংশ্লেষণের হার ও খাদ্য উৎপাদনের ধারণা পেতে
সালোকসংশ্লেষণ নিয়ন্ত্রণ আলো, তাপ, CO₂ ও ক্লোরোফিলের প্রভাবে হার পরিবর্তিত হয়। লাল ও নীল আলো বেশি সক্রিয়; ৩০°–৩৫° সে. তাপমাত্রায় হার সর্বোচ্চ। উদ্ভিদের খাদ্য উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ ব্যাখ্যা করতে
উৎপন্ন খাদ্যের ব্যবহার স্টার্চ → গ্লুকোজ → সুক্রোজ; সুক্রোজ পরিবাহিত হয়ে শ্বসনে শক্তি দেয় এবং অতিরিক্ত অংশ সঞ্চিত হয়। খাদ্য কোথায় যায়—এ প্রশ্নে
শ্বসন জটিল জৈব যৌগের জারণ-বিজারণে সঞ্চিত শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়া। শ্বসনের সংজ্ঞা লিখতে
সবাত ও অবাত শ্বসন সবাতে O₂ লাগে ও সম্পূর্ণ জারণ হয়; অবাতে O₂ লাগে না, আংশিক জারণ ও কম শক্তি উৎপন্ন হয়। প্রকারভেদ তুলনা করতে
সবাত শ্বসনের সমীকরণ C₆H₁₂O₆ + 6O₂ + 6H₂O + 36ADP + 36Pi → 6CO₂ + 12H₂O + 36ATP; মোট ৩৮ ATP রাসায়নিক সংকেত ও শক্তি উৎপাদনে
গ্লাইকোলাইসিস বা EMP পথ সাইটোপ্লাজমে ১ গ্লুকোজ → ২ পাইরুভিক অ্যাসিড; নিট ২ ATP ও ২ NADH + H⁺। সবাত ও অবাত উভয় শ্বসনের প্রথম ধাপ লিখতে
ক্রেবস বা TCA চক্র মাইটোকন্ড্রিয়ার ম্যাট্রিক্সে অ্যাসিটাইল-Co-A সম্পূর্ণ জারিত হয়; প্রতি গ্লুকোজে ৮ NADH + H⁺ ও ২ FADH₂ উৎপন্ন হয়। দ্বিতীয় ধাপ ও CO₂ উৎপাদন ব্যাখ্যা করতে
ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইন মাইটোকন্ড্রিয়ার অভ্যন্তরীণ ঝিল্লিতে ইলেকট্রন স্থানান্তরের সময় ADP + Pi → ATP; অক্সিজেনের সাহায্যে পানি তৈরি হয়। তৃতীয় ধাপ ও অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন লিখতে
মূল কথাগুলো:
১। CO₂ কমলে সালোকসংশ্লেষণের হার কমে।
২। আলো, তাপ, CO₂ ও ক্লোরোফিল সালোকসংশ্লেষণ নিয়ন্ত্রণ করে।
৩। সালোকসংশ্লেষণ খাদ্য ও অক্সিজেনের প্রধান উৎস।
৪। শ্বসনের প্রধান অঙ্গ সাইটোপ্লাজম ও মাইটোকন্ড্রিয়া।
৫। গ্লাইকোলাইসিস অক্সিজেন-নিরপেক্ষ প্রথম ধাপ।
৬। অ্যাসিটাইল-Co-A গ্লাইকোলাইসিস ও ক্রেবস চক্রের সংযোগকারী।
৭। ক্রেবস চক্রে অধিকাংশ CO₂ ও বিজারিত বাহক তৈরি হয়।
৮। ATP হলো কোষীয় কাজের শক্তির মুদ্রা।

পরীক্ষা প্রস্তুতি

ক. বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ)

১। সালোকসংশ্লেষণের হার বা P.Q নির্ণয়ের সঠিক সূত্র কোনটি?

  • ক) CO₂ গ্রহণের পরিমাণ ÷ O₂ ত্যাগের পরিমাণ
  • খ) O₂ ত্যাগের পরিমাণ ÷ CO₂ গ্রহণের পরিমাণ
  • গ) O₂ গ্রহণের পরিমাণ ÷ CO₂ ত্যাগের পরিমাণ
  • ঘ) CO₂ ত্যাগের পরিমাণ ÷ O₂ গ্রহণের পরিমাণ

২। সালোকসংশ্লেষণে সর্বাধিক সক্রিয় আলোর বর্ণ কোন দুটি?

  • ক) সবুজ ও হলুদ
  • খ) লাল ও নীল
  • গ) কমলা ও সবুজ
  • ঘ) হলুদ ও বেগুনি

৩। গ্লাইকোলাইসিস কোথায় সংঘটিত হয়?

  • ক) মাইটোকন্ড্রিয়ার ম্যাট্রিক্সে
  • খ) ক্লোরোপ্লাস্টে
  • গ) সাইটোপ্লাজমে
  • ঘ) নিউক্লিয়াসে

৪। গ্লাইকোলাইসিসের শেষ উৎপাদন কোনটি?

  • ক) অ্যাসিটাইল Co-A
  • খ) পাইরুভিক অ্যাসিড
  • গ) সাইট্রিক অ্যাসিড
  • ঘ) ল্যাকটিক অ্যাসিড

৫। গ্লাইকোলাইসিসে নিট কত অণু ATP উৎপন্ন হয়?

  • ক) ১
  • খ) ২
  • গ) ৪
  • ঘ) ৬

৬। অ্যাসিটাইল Co-A কোন দুটি পর্যায়ের সংযোগকারী উপাদান?

  • ক) সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসন
  • খ) গ্লাইকোলাইসিস ও ক্রেবস চক্র
  • গ) ক্রেবস চক্র ও আলোক পর্যায়
  • ঘ) অবাত শ্বসন ও সালোকসংশ্লেষণ

৭। ক্রেবস চক্র কোথায় সংঘটিত হয়?

  • ক) সাইটোপ্লাজমে
  • খ) মাইটোকন্ড্রিয়ার বাইরের ঝিল্লিতে
  • গ) মাইটোকন্ড্রিয়ার ম্যাট্রিক্সে
  • ঘ) ক্লোরোপ্লাস্টের গ্রানায়

৮। ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইনে ADP ও Pi থেকে ATP তৈরির প্রক্রিয়াকে কী বলে?

  • ক) সাবস্ট্রেট লেভেল ফসফোরাইলেশন
  • খ) অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন
  • গ) ফটোফসফোরাইলেশন
  • ঘ) ডিফসফোরাইলেশন

খ. সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

  1. সালোকসংশ্লেষণের হার বা P.Q কী? এর সাধারণ মান কত?
  2. সালোকসংশ্লেষণে উৎপন্ন খাদ্য উদ্ভিদে কীভাবে ব্যবহৃত ও সঞ্চিত হয়?
  3. সবাত ও অবাত শ্বসনের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
  4. গ্লাইকোলাইসিসের শক্তি লাভ সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।

গ. সৃজনশীল প্রশ্ন

একজন শিক্ষার্থী দুটি সবুজ উদ্ভিদকে দুটি ভিন্ন পরিবেশে রাখল। প্রথম উদ্ভিদটি পর্যাপ্ত আলো, উপযুক্ত তাপমাত্রা ও বেশি CO₂-যুক্ত পরিবেশে ছিল। দ্বিতীয় উদ্ভিদটি অন্ধকার ও কম CO₂-যুক্ত পরিবেশে ছিল। পরে দেখা গেল, প্রথম উদ্ভিদে বেশি শর্করা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, একটি কোষে গ্লুকোজ ভেঙে পাইরুভিক অ্যাসিড, অ্যাসিটাইল Co-A এবং শেষে CO₂, H₂O ও ATP উৎপন্ন হয়েছে।

ক) গ্লাইকোলাইসিস কী? ১

খ) সালোকসংশ্লেষণে CO₂-এর পরিমাণ বাড়লে হার বৃদ্ধি পায় কেন? ২

গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত কোষে গ্লুকোজ থেকে পাইরুভিক অ্যাসিড উৎপন্ন হওয়ার ধাপটি ব্যাখ্যা করো। ৩

ঘ) উদ্দীপকের কোষে সবাত শ্বসনের তিনটি পর্যায় ধারাবাহিকভাবে বিশ্লেষণ করো। ৪

উত্তর

MCQ-এর সঠিক উত্তর

প্রশ্ন ১ ২ ৩ ৪ ৫ ৬ ৭ ৮
উত্তর খ খ গ খ খ খ গ খ

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের মডেল উত্তর

১। নির্দিষ্ট সময়ে সালোকসংশ্লেষণে ত্যাগ করা O₂ ও গ্রহণ করা CO₂-এর পরিমাণের অনুপাতকে সালোকসংশ্লেষণের হার বা P.Q বলে। সূত্র: P.Q = O₂ ত্যাগের পরিমাণ ÷ CO₂ গ্রহণের পরিমাণ। সাধারণভাবে এটি ১।

২। ক্লোরোপ্লাস্টে উৎপন্ন স্টার্চ প্রথমে গ্লুকোজে এবং পরে সুক্রোজে পরিণত হয়। সুক্রোজ উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গে পরিবাহিত হয়। এর এক অংশ বিপাকক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়, এক অংশ শ্বসনে ভেঙে শক্তি দেয় এবং অতিরিক্ত অংশ ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চিত থাকে। এ খাদ্য থেকে চর্বি ও আমিষও তৈরি হতে পারে।

৩। সবাত শ্বসনে মুক্ত অক্সিজেন প্রয়োজন হয় এবং খাদ্য সম্পূর্ণ জারিত হয়ে CO₂, H₂O ও অধিক শক্তি উৎপন্ন করে। অবাত শ্বসনে মুক্ত অক্সিজেন লাগে না; খাদ্য আংশিক জারিত হয় এবং অল্প শক্তি উৎপন্ন হয়।

৪। গ্লাইকোলাইসিসে প্রথমে ২ অণু ATP ব্যয় হয়। পরে ৪ অণু ATP ও ২ অণু NADH + H⁺ উৎপন্ন হয়। তাই নিট ATP = ৪ − ২ = ২ অণু ATP। এছাড়া ২ অণু পাইরুভিক অ্যাসিড এবং ২ অণু NADH + H⁺ উৎপন্ন হয়।

সৃজনশীল প্রশ্নের মডেল উত্তর

ক) যে প্রক্রিয়ায় এক অণু গ্লুকোজ বিভিন্ন এনজাইম-নিয়ন্ত্রিত বিক্রিয়ায় ভেঙে দুই অণু পাইরুভিক অ্যাসিডে পরিণত হয়, তাকে গ্লাইকোলাইসিস বলে। এটি সাইটোপ্লাজমে সংঘটিত হয়।

খ) সালোকসংশ্লেষণে CO₂ কার্বোহাইড্রেট তৈরির অন্যতম কাঁচামাল। পরিবেশে CO₂-এর পরিমাণ বাড়লে নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত কার্বোহাইড্রেট তৈরির উপাদান বেশি পাওয়া যায়। তাই সালোকসংশ্লেষণের হারও বৃদ্ধি পায়। তবে বিভিন্ন উদ্ভিদের সর্বোচ্চ সহনীয় CO₂ ঘনত্ব ভিন্ন হতে পারে।

গ) গ্লাইকোলাইসিসে গ্লুকোজ প্রথমে ATP থেকে ফসফেট নিয়ে গ্লুকোজ-৬-ফসফেট হয়। পরে এটি ফ্রুক্টোজ-৬-ফসফেটে এবং আরও একটি ATP-এর ফসফেট গ্রহণ করে ফ্রুক্টোজ-১,৬-বিসফসফেটে পরিণত হয়। ছয়-কার্বনবিশিষ্ট এই যৌগ ভেঙে দুইটি তিন-কার্বনবিশিষ্ট যৌগ তৈরি করে। পরবর্তী বিক্রিয়ায় এগুলো থেকে ATP ও NADH + H⁺ উৎপন্ন হয় এবং শেষে দুই অণু পাইরুভিক অ্যাসিড তৈরি হয়।

ঘ) সবাত শ্বসনের প্রথম পর্যায় হলো গ্লাইকোলাইসিস। এটি সাইটোপ্লাজমে ঘটে এবং এক অণু গ্লুকোজ থেকে দুই অণু পাইরুভিক অ্যাসিড, নিট দুই অণু ATP ও দুই অণু NADH + H⁺ উৎপন্ন হয়।

দ্বিতীয় পর্যায়ে পাইরুভিক অ্যাসিড মাইটোকন্ড্রিয়ার ম্যাট্রিক্সে প্রবেশ করে। প্রথমে এটি CO₂ ত্যাগ, NADH + H⁺ উৎপাদন এবং Co-A-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে অ্যাসিটাইল Co-A তৈরি করে। অ্যাসিটাইল Co-A ক্রেবস চক্রে প্রবেশ করে। এ চক্রে CO₂, ATP, NADH + H⁺ ও FADH₂ উৎপন্ন হয়।

তৃতীয় পর্যায়ে NADH + H⁺ ও FADH₂ ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইনে ইলেকট্রন সরবরাহ করে। মাইটোকন্ড্রিয়ার অভ্যন্তরীণ ঝিল্লিতে ইলেকট্রন স্থানান্তরের সময় শক্তি নির্গত হয়। সেই শক্তিতে ADP ও Pi যুক্ত হয়ে ATP তৈরি করে। অক্সিজেন ইলেকট্রনের শেষ গ্রহীতা হিসেবে পানি তৈরিতে অংশ নেয়। এই ATP উৎপাদনকে অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন বলা হয়।

সাধারণ ভুল ও রিভিশন

এই অধ্যায়ে সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসনের ধাপগুলোতে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই তথ্য গুলিয়ে ফেলে। নিচের ভুলগুলো ভালোভাবে সংশোধন করো।

ভুল সঠিক
P.Q = CO₂ গ্রহণ ÷ O₂ ত্যাগ লেখা। P.Q = O₂ ত্যাগের পরিমাণ ÷ CO₂ গ্রহণের পরিমাণ; সাধারণত মান ১।
তাপমাত্রা বাড়িয়ে আলোক পর্যায় নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তাপমাত্রা প্রধানত আলো-নিরপেক্ষ পর্যায়ের ক্যালভিন চক্রকে প্রভাবিত করে।
ক্লোরোফিল খাদ্য হিসেবে কাজ করে। ক্লোরোফিল সূর্যের আলোকশক্তি শোষণ করে।
গ্লাইকোলাইসিসে অক্সিজেন আবশ্যক। গ্লাইকোলাইসিস অক্সিজেন ছাড়াই হতে পারে এবং এটি সবাত ও অবাত উভয় শ্বসনের প্রথম ধাপ।
গ্লাইকোলাইসিসে মোট ৪টি ATP লাভ হয়। ২টি ATP ব্যয় ও ৪টি ATP উৎপন্ন হয়; নিট লাভ ২টি ATP।
ক্রেবস চক্র সাইটোপ্লাজমে ঘটে। ক্রেবস চক্র মাইটোকন্ড্রিয়ার ম্যাট্রিক্সে ঘটে।
পাইরুভিক অ্যাসিডই সরাসরি ক্রেবস চক্রে প্রবেশ করে। পাইরুভিক অ্যাসিড থেকে অ্যাসিটাইল-Co-A তৈরি হয়ে চক্রে প্রবেশ করে।
ইলেকট্রন স্থানান্তর শৃঙ্খলে CO₂ শেষ উৎপাদন। অক্সিজেন ইলেকট্রনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পানি তৈরি করে এবং ATP উৎপন্ন হয়।

রিভিশন চেকলিস্ট

  • P.Q-এর সংজ্ঞা, সূত্র ও মান ব্যাখ্যা করতে পারি।
  • আলো, তাপ, CO₂ ও ক্লোরোফিলের নিয়ন্ত্রণ বুঝিয়ে বলতে পারি।
  • সালোকসংশ্লেষণের গুরুত্ব লিখতে পারি।
  • উৎপন্ন সুক্রোজের ব্যবহার ও সঞ্চয় ব্যাখ্যা করতে পারি।
  • শ্বসনের সংজ্ঞা ও শ্বসনিক বস্তু উল্লেখ করতে পারি।
  • সবাত ও অবাত শ্বসনের পার্থক্য লিখতে পারি।
  • গ্লাইকোলাইসিসের স্থান, ধাপ ও নিট উৎপাদন লিখতে পারি।
  • অ্যাসিটাইল-Co-A গঠন ও ক্রেবস চক্রের ধাপ সাজাতে পারি।
  • ইলেকট্রন স্থানান্তর, অক্সিজেনের ভূমিকা ও ATP উৎপাদন ব্যাখ্যা করতে পারি।

উৎসাহ: ধাপগুলো ধারাবাহিকভাবে মনে রাখলে এই অধ্যায়ে ভালো নম্বর পাওয়া অবশ্যই সম্ভব।

⚡ Related Tools — Try These Next
📋
MCQ Practice
Topic-wise timed tests
🏛
University Guide
All 22 universities
🧑
Ask Kabir
Expert advisor
🏆
Scholarships
Find funding
Browse all 18+ tools →
🎓 Planning to apply? Browse our complete university admission guide → with requirements, fees, and cutoffs for all 22 major universities in Bangladesh.

সম্পর্কিত পোস্ট / Related posts

HSC
HSC

Admission Test Prep: অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন

ADMISSION TEST PREPARATION অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী How to use this sheet ★★★ = the par

HSC
HSC

Admission Test Prep: অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন

ADMISSION TEST PREPARATION অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী How to use this sheet ★★★ = the p

HSC
HSC

এইচএসসি সাজেশন: অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন / অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন / অধ্যায় ৩: কোষ রসায়ন

এইচএসসি সাজেশন (একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি) অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন / অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন / অধ্যায় ৩: কোষ রসায়ন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত

HSC
HSC

লেকচার শিট: অধ্যায় ১২: জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ

লেকচার শিট অধ্যায় ১২: জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পরিচিতি এই পাঠে যা শিখবে বাস্

HSC
HSC

লেকচার শিট: অধ্যায় ১১: জীবপ্রযুক্তি

লেকচার শিট অধ্যায় ১১: জীবপ্রযুক্তি একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পরিচিতি এই পাঠে যা শিখবে কৃষিতে জিনপ্রযুক্তির ব্

HSC
HSC

লেকচার শিট: অধ্যায় ১০: উদ্ভিদ প্রজনন

লেকচার শিট অধ্যায় ১০: উদ্ভিদ প্রজনন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পরিচিতি এই পাঠে যা শিখবে ডিম্বকের প্রধান অংশ এব

🎓
আরও লেকচার শিট, মডেল টেস্ট ও প্র্যাকটিস — AlphaGenEduMore lecture sheets, board questions and MCQ practice for every class, free on alphagenedu.com
AlphaGenEdu-তে যান →
Kabir — Ask me about admissions! 🎓

AdmissionPaths Support

🟢 Online · How can we help?
🧑
Ask Kabir
Admission advisor · 20+ yrs
💬
Live Support Chat
AI-powered · instant replies
🎫
Submit a Ticket
Response within 24 hours
❓
Browse FAQ
Quick answers
🤖
AdmissionPaths Support
🟢 AI-powered · replies instantly