🎉 3-Day Free Trial — All premium features unlocked, zero credit card required ● 📚 28+ Expert Guides published and growing every week
Back to Blog
HSC

লেকচার শিট: অধ্যায় ৬: ব্রায়োফাইটা ও টেরিডোফাইটা

By admin 7 views
লেকচার শিট

অধ্যায় ৬: ব্রায়োফাইটা ও টেরিডোফাইটা

একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী

পরিচিতি

এই পাঠে যা শিখবে
  • এপিডার্মাল বা ত্বকীয় টিস্যুতন্ত্রের গঠন, উপাঙ্গ ও কাজ ব্যাখ্যা করতে পারবে।
  • গ্রাউন্ড বা মৌলিক টিস্যুতন্ত্রের বিভিন্ন অঞ্চল শনাক্ত করতে পারবে।
  • জাইলেম, ফ্লোয়েম ও ভাসকুলার টিস্যুতন্ত্রের গঠন ও কাজ বুঝবে।
  • ভাসকুলার বান্ডলের প্রকারভেদ—সমপার্শ্বীয়, সমদ্বিপার্শ্বীয়, রেডিয়াল ও কেন্দ্রিক—তুলনা করতে পারবে।
  • পত্ররন্ধ্র, প্রস্বেদন ও সংশ্লিষ্ট শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারবে।
  • উদ্ভিদের মূল ও কাণ্ডের অভ্যন্তরীণ গঠন চিত্র দেখে শনাক্ত করতে পারবে।

আগে যা জানা দরকার

উদ্ভিদদেহ কোষ, টিস্যু ও টিস্যুতন্ত্র নিয়ে গঠিত—এ ধারণা মনে রাখবে।

প্যারেনকাইমা, কোলেনকাইমা ও স্ক্লেরেনকাইমা টিস্যুর মৌলিক বৈশিষ্ট্য জানা থাকলে এই পাঠ সহজ হবে।

সালোকসংশ্লেষণ, শ্বসন, পানি শোষণ এবং উদ্ভিদের মূল, কাণ্ড ও পাতার সাধারণ গঠন সম্পর্কেও ধারণা থাকা দরকার।

এই অধ্যায় কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উদ্ভিদের ত্বকীয় টিস্যু বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে, জাইলেম পানি ও খনিজ লবণ পরিবহন করে এবং ফ্লোয়েম প্রস্তুত খাদ্য পরিবহন করে। প্রস্বেদন উদ্ভিদে পানি ওঠা, তাপ নিয়ন্ত্রণ ও খনিজ পরিবহনে সহায়তা করে।

পরীক্ষায় টিস্যুতন্ত্রের সংজ্ঞা, ভাসকুলার বান্ডলের শ্রেণিবিন্যাস, জাইলেম-ফ্লোয়েমের পার্থক্য, পত্ররন্ধ্র ও প্রস্বেদনের গুরুত্ব নিয়মিত আসে। তাই গঠন, কাজ ও তুলনামূলক বিষয়গুলো ভালোভাবে শিখবে।

এক নজরে

ক্রমবিষয়
১এপিডার্মাল বা ত্বকীয় টিস্যুতন্ত্র
২গ্রাউন্ড বা মৌলিক টিস্যুতন্ত্র
৩ভাসকুলার টিস্যুতন্ত্র ও পরিবহন টিস্যু
৪ভাসকুলার বান্ডল ও অভ্যন্তরীণ গঠন
৫প্রস্বেদন, পত্ররন্ধ্র ও শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া

এপিডার্মাল বা ত্বকীয় টিস্যুতন্ত্র

উদ্ভিদের দেহের বাইরের আবরণকে আমরা ত্বক বলি। এই ত্বক উদ্ভিদকে বাইরের আঘাত, অতিরিক্ত পানি হারানো ও নানা প্রতিকূল অবস্থা থেকে রক্ষা করে। ত্বকের সঙ্গে পত্ররন্ধ্র, রোম, মূলরোম ইত্যাদি বিশেষ গঠনও যুক্ত থাকে।

সংজ্ঞা: যে টিস্যুতন্ত্র উদ্ভিদ অঙ্গের বহিঃআবরণ বা ত্বক সৃষ্টি করে, তাকে এপিডার্মাল বা ত্বকীয় টিস্যুতন্ত্র (Epidermal tissue system) বলে। কাণ্ড, শাখা-প্রশাখা, পাতা, ফুল, ফল ও বীজের ত্বক এই তন্ত্রের অন্তর্গত।

এপিডার্মিস ও এপিব্লেমা

কাণ্ড ও পাতার বাইরের ত্বককে এপিডার্মিস (epidermis) বলে। মূলের বাইরের আবরণকে এপিব্লেমা (epiblema) বা মূলত্বক বলে। প্রাথমিক অবস্থায় ত্বকীয় টিস্যু থেকেই এই তন্ত্র গঠিত হয়।

এপিডার্মিস সাধারণত একসারি প্যারেনকাইমা কোষ দিয়ে গঠিত। কোষগুলো আয়তাকার ও ঘনভাবে সাজানো থাকে। সাধারণত তাদের মধ্যে আন্তঃকোষীয় ফাঁক থাকে না; তবে টমেটো বা লেটুসে ফাঁক দেখা যেতে পারে। কোনো কোনো উদ্ভিদের পাতায় একাধিক সারি কোষও থাকে; যেমন—বট ও পাকুড়।

প্রতিটি কোষে অল্প সাইটোপ্লাজম, একটি নিউক্লিয়াস ও একটি কোষগহ্বর থাকে। সাধারণত রক্ষীকোষ ছাড়া এপিডার্মিসের কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে না। বাইরের প্রাচীরে কিউটিন বা সুবেরিন জমে পুরু মোমের মতো স্তর তৈরি করে। এই স্তরকে কিউটিকল বলে। কিউটিকল পানি অপচয় কমায় এবং ছত্রাকের আক্রমণ থেকে ভেতরের টিস্যুকে রক্ষা করে।

Ficus, Pinus ও ধানজাতীয় উদ্ভিদের পাতায় সিলিকা জমতে পারে। কোনো কোনো পাতায় মিউসিলেজ জমে। ঘাসের পাতায় বড়, স্বচ্ছ বুলিফর্ম কোষ থাকে। এগুলো পানি সঞ্চয় করে এবং পাতার প্রসারণ ও বিকাশে সাহায্য করে।

এপিডার্মিসের উপাঙ্গ

এপিডার্মিস থেকে উৎপন্ন বিশেষ গঠনগুলোকে এপিডার্মিসের উপাঙ্গ বলে। রোম বা ট্রাইকোম এককোষী বা বহুকোষী, সরল বা শাখাযুক্ত হতে পারে। কিছু ট্রাইকোম গ্রন্থিযুক্ত হয়ে আঁটা, গন্ধ বা বিষাক্ত পদার্থ নিঃসরণ করে। বিশেষ ধরনের রোমকে আঁশ বলে। বিশেষ বহুকোষী ট্রাইকোম হলো কোলেটার্স। পানি ধারণকারী বিশেষ ট্রাইকোমকে থলি বলা হয়। মূলের এককোষী রোম পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করে।

উদাহরণ: মূলের এপিব্লেমা থেকে মূলরোম তৈরি হয়। এই মূলরোম মাটি থেকে পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করে।

স্টোমাটা বা পত্ররন্ধ্র

পাতা ও কচি কাণ্ডের ত্বকে থাকা অতি ক্ষুদ্র বিশেষ ছিদ্রকে স্টোমাটা বা পত্ররন্ধ্র বলে। প্রতিটি পত্ররন্ধ্র দুটি অর্ধচন্দ্রাকৃতি রক্ষীকোষ দ্বারা বেষ্টিত। রক্ষীকোষে নিউক্লিয়াস ও ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে। পত্ররন্ধ্রের চারপাশের ভিন্ন আকৃতির কোষকে সহযোগী কোষ বলে। এর নিচে বড় বায়ুকুঠুরি থাকে, যাকে সাব-স্টোমাটাল বায়ুকুঠুরি বা শ্বাসকুঠুরি বলে। রক্ষীকোষ পত্ররন্ধ্রের খোলা ও বন্ধ হওয়া নিয়ন্ত্রণ করে।

পত্ররন্ধ্র দিয়ে সালোকসংশ্লেষণে CO₂ গ্রহণ ও O₂ ত্যাগ হয়, শ্বসনে O₂ গ্রহণ ও CO₂ ত্যাগ হয় এবং প্রস্বেদন ঘটে। সাধারণত দিনে পত্ররন্ধ্র খোলা ও রাতে বন্ধ থাকে।

পত্ররন্ধ্রের প্রকারভেদ

  • ডায়াসাইটিক: দুটি সহযোগী কোষ রক্ষীকোষের সঙ্গে সমকোণে থাকে।
  • প্যারাসাইটিক: দুটি সহযোগী কোষ রক্ষীকোষের সমান্তরালে থাকে।
  • অ্যানিসোসাইটিক: তিনটি সহযোগী কোষ থাকে; একটি ছোট।
  • টেট্রাসাইটিক: চারটি সহযোগী কোষ থাকে।
  • অ্যাকটিনোসাইটিক: অনেক কোষ বৃত্তাকারে থাকে।
  • অ্যানোমোসাইটিক: সহযোগী কোষ সাধারণ ত্বকীয় কোষ থেকে পৃথক করা যায় না।
শিক্ষকের টিপস: “রক্ষীকোষ রন্ধ্রকে রক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ করে”—এই বাক্যটি মনে রাখো। মূলরোম শোষণ করে, বুলিফর্ম কোষ পানি ধরে, আর রক্ষীকোষ পত্ররন্ধ্র নিয়ন্ত্রণ করে।
পরীক্ষায় যেভাবে আসে: এপিডার্মিস ও এপিব্লেমার পার্থক্য, কিউটিকলের কাজ, পত্ররন্ধ্রের গঠন এবং ছয় ধরনের স্টোমাটার বৈশিষ্ট্য লিখতে বলা হতে পারে।

সারকথা: ত্বকীয় টিস্যুতন্ত্র সুরক্ষা, গ্যাসের আদান-প্রদান, পানি ও খনিজ শোষণ, পানি সংরক্ষণ, খাদ্য তৈরি এবং প্রস্বেদন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

দ্রুত যাচাই ১: মূলের বহিরাবরণকে কী বলে?

উত্তর দেখোএপিব্লেমা বা মূলত্বক।

দ্রুত যাচাই ২: পত্ররন্ধ্রের খোলা ও বন্ধ হওয়া কোন কোষ নিয়ন্ত্রণ করে?

উত্তর দেখোরক্ষীকোষ।

গ্রাউন্ড বা মৌলিক টিস্যুতন্ত্র

উদ্ভিদদেহে ত্বকীয় টিস্যুতন্ত্র ও ভাসকুলার টিস্যুতন্ত্র বাদ দিলে যে অংশ অবশিষ্ট থাকে, তাকে গ্রাউন্ড বা মৌলিক টিস্যুতন্ত্র বলে। উদ্ভিদদেহের অধিকাংশ অংশ এই তন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত। সাধারণত প্যারেনকাইমা টিস্যু দিয়ে এটি গঠিত হয়। তবে কোনো কোনো অংশে প্যারেনকাইমা, কোলেনকাইমা ও স্ক্লেরেনকাইমা—তিন ধরনের টিস্যুই থাকতে পারে।

সংজ্ঞা: ত্বকীয় ও পরিবহন টিস্যু ছাড়া উদ্ভিদদেহের অন্যান্য অংশের টিস্যুগুলো নিয়ে গঠিত তন্ত্রকে গ্রাউন্ড বা মৌলিক টিস্যুতন্ত্র বলে।

উদ্ভিদদেহে বিস্তৃতি

এপিডার্মিসের নিচ থেকে শুরু করে ভাসকুলার বান্ডল বাদ দিয়ে কেন্দ্র পর্যন্ত অংশ গ্রাউন্ড টিস্যুতন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত। পাতায় এটি মেসোফিল নামে পরিচিত। মূল ও দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের কাণ্ডে এই তন্ত্রকে প্রধানত বহিঃস্টেলার ও অন্তঃস্টেলার—দুই অঞ্চলে ভাগ করা যায়।

স্টিল (Stele): ভাসকুলার বান্ডলসহ কেন্দ্র পর্যন্ত উদ্ভিদের অভ্যন্তরের অংশকে স্টিল বলে। স্টিলের বাইরের অংশ হলো বহিঃস্টেলার অঞ্চল এবং স্টিলের ভেতরের অংশ হলো অন্তঃস্টেলার অঞ্চল।

১. বহিঃস্টেলার অঞ্চল

স্টিলের বাইরের অংশকে বহিঃস্টেলার অঞ্চল বলে। এর প্রধান অংশগুলো হলো অন্তঃত্বক, কর্টেক্স ও অন্তঃস্তর।

অন্তঃত্বক (Hypodermis): ত্বকের নিচে অবস্থিত কোলেনকাইমা বা স্ক্লেরেনকাইমার এক বা একাধিক স্তরকে অন্তঃত্বক বলে। এটি সাধারণত কাণ্ডে থাকে; মূলে সাধারণত থাকে না। কাণ্ডকে যান্ত্রিক দৃঢ়তা দেওয়া এবং ভেতরের অংশকে রক্ষা করা এর কাজ।

কর্টেক্স (Cortex): অন্তঃত্বকের নিচ থেকে অন্তঃস্তর পর্যন্ত বিস্তৃত বহুতরবিশিষ্ট অংশকে কর্টেক্স বলে। এটি প্রধানত প্যারেনকাইমা দিয়ে গঠিত এবং কোষগুলোর মধ্যে আন্তঃকোষীয় ফাঁক থাকে। মূলের কর্টেক্স পানি ও খাদ্য সঞ্চয় করে। কাণ্ডের কর্টেক্স সঞ্চয়, দৃঢ়তা ও সালোকসংশ্লেষণে সাহায্য করে।

অন্তঃস্তর বা এন্ডোডার্মিস (Endodermis): কর্টেক্সের নিচে একসারি কোষের স্তর হলো অন্তঃস্তর। এর কোষপ্রাচীরে লম্বালম্বি ও অনুভূমিকভাবে সুবেরিন জমে ক্যাসপারিয়ান স্ট্রিপ তৈরি হয়। এটি মূলের পানি ও দ্রবীভূত পদার্থের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে এবং অভ্যন্তরীণ অংশকে রক্ষা করে। অন্তঃস্তরের বিশেষ পাতলা প্রাচীরযুক্ত কোষকে প্যাসেজ কোষ বলে।

২. অন্তঃস্টেলার অঞ্চল

অন্তঃস্তরের নিচ থেকে পেরিসাইকলের ভেতর দিয়ে কেন্দ্র পর্যন্ত বিস্তৃত অংশকে অন্তঃস্টেলার অঞ্চল বলে। এর প্রধান অংশ পেরিসাইকল, মজ্জা ও মজ্জা রশ্মি।

পেরিসাইকল বা পরিচক্র: অন্তঃস্তরের নিচে এবং ভাসকুলার বান্ডলের বাইরে অবস্থিত এক বা একাধিক স্তরের বিশেষ টিস্যু হলো পেরিসাইকল। এটি খাদ্য সঞ্চয় ও কাণ্ডকে দৃঢ়তা দেয়। পার্শ্বীয় মূল সৃষ্টি এবং গৌণ ভাসকুলার টিস্যু তৈরিতেও এর ভূমিকা আছে।

মজ্জা বা মেডুলা: ভাসকুলার বান্ডল দ্বারা পরিবেষ্টিত কেন্দ্রীয় অংশকে মজ্জা বলে। এটি সাধারণত প্যারেনকাইমা দিয়ে গঠিত এবং খাদ্য সঞ্চয় করে। স্ক্লেরেনকাইমা থাকলে মজ্জা দৃঢ়তা প্রদান করে।

মজ্জা রশ্মি: দুটি ভাসকুলার বান্ডলের মধ্য দিয়ে মজ্জা যখন পেরিসাইকলের দিকে রশ্মির মতো বিস্তৃত হয়, তখন তাকে মজ্জা রশ্মি বলে। এটি পানি ও খাদ্য পরিবহন, সঞ্চয় এবং প্রয়োজনে গৌণ টিস্যু সৃষ্টিতে সাহায্য করে।

পাতার গ্রাউন্ড টিস্যু: মেসোফিল

পাতার গ্রাউন্ড টিস্যুকে মেসোফিল বলে। এটি ক্লোরোপ্লাস্টসমৃদ্ধ, পাতলা প্রাচীরবিশিষ্ট প্যারেনকাইমা কোষ দিয়ে গঠিত। দ্বিবীজপত্রী পাতায় মেসোফিল দুই ভাগে বিভক্ত—পালিসেড প্যারেনকাইমা ও স্পঞ্জি প্যারেনকাইমা। পালিসেড কোষগুলো লম্বা, ঘন সন্নিবেশিত ও পাতার পৃষ্ঠের সঙ্গে লম্বভাবে থাকে। স্পঞ্জি কোষগুলো অনিয়ত, গোলাকার বা ডিম্বাকার এবং তাদের মধ্যে আন্তঃকোষীয় ফাঁক থাকে। উভয় অংশই সালোকসংশ্লেষণে খাদ্য তৈরি করে।

উদাহরণ: কচু মূলের প্রস্থচ্ছেদে বাইরে থেকে ভেতরে মূলত্বক, বহুতর কর্টেক্স, একসারি অন্তঃস্তর, পেরিসাইকল, ভাসকুলার বান্ডল ও কেন্দ্রীয় মজ্জা দেখা যায়। কর্টেক্স খাদ্য সঞ্চয় করে এবং মূলরোম পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করে।
শিক্ষকের টিপস: মনে রাখো—“ত্বকের নিচে অন্তঃত্বক, তার ভেতরে কর্টেক্স, তারপর অন্তঃস্তর; আরও ভেতরে পেরিসাইকল, মজ্জা ও মজ্জা রশ্মি।” অন্তঃত্বক (hypodermis) ও অন্তঃস্তর (endodermis) এক জিনিস নয়।
পরীক্ষায় যেভাবে আসে: সংজ্ঞা, স্টিলের ধারণা, ক্যাসপারিয়ান স্ট্রিপের কাজ, পেরিসাইকলের ভূমিকা এবং পালিসেড-স্পঞ্জি প্যারেনকাইমার পার্থক্য লিখতে বলা হয়। গ্রাউন্ড টিস্যুতন্ত্রের প্রধান কাজ হলো বিপাক, খাদ্য ও পানি সঞ্চয়, সালোকসংশ্লেষণ এবং যান্ত্রিক দৃঢ়তা প্রদান।

দ্রুত যাচাই

১. অন্তঃস্তরের কোষপ্রাচীরে কোন বিশেষ গঠন দেখা যায়?

উত্তর দেখোক্যাসপারিয়ান স্ট্রিপ।

২. পাতার গ্রাউন্ড টিস্যুকে কী বলা হয়?

উত্তর দেখোমেসোফিল। দ্বিবীজপত্রী পাতায় এটি পালিসেড ও স্পঞ্জি প্যারেনকাইমায় বিভক্ত।

ভাসকুলার টিস্যুতন্ত্র ও পরিবহন টিস্যু

উদ্ভিদের মূল, কাণ্ড, পাতা ও অন্যান্য অংশের মধ্যে পানি, খনিজ লবণ এবং প্রস্তুত খাদ্য চলাচলের জন্য বিশেষ টিস্যুতন্ত্র থাকে। এই তন্ত্রকে ভাসকুলার বা পরিবহন টিস্যুতন্ত্র বলে। এর প্রধান দুটি উপাদান হলো—জাইলেম ও ফ্লোয়েম।

সংজ্ঞা: জাইলেম ও ফ্লোয়েমের সমন্বয়ে গঠিত যে টিস্যুতন্ত্র উদ্ভিদের পানি, খনিজ লবণ ও প্রস্তুত খাদ্য পরিবহন করে, তাকে ভাসকুলার টিস্যুতন্ত্র বা পরিবহন টিস্যুতন্ত্র বলে।

১. ভাসকুলার টিস্যুতন্ত্রের উপাদান

জাইলেম ও ফ্লোয়েম পৃথকভাবে অথবা পাশাপাশি অবস্থান করে একটি ভাসকুলার বান্ডল গঠন করে। এক বা একাধিক ভাসকুলার বান্ডল নিয়ে ভাসকুলার টিস্যুতন্ত্র তৈরি হয়। দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদে জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মাঝখানে সাধারণত ক্যাম্বিয়াম থাকে। একবীজপত্রী উদ্ভিদের বান্ডলে সাধারণত ক্যাম্বিয়াম থাকে না।

২. জাইলেম টিস্যু

জাইলেম মূল থেকে পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে পানি ও দ্রবীভূত খনিজ লবণ পরিবহন করে। জাইলেম চার ধরনের উপাদানে গঠিত—ট্রাকিড, ভেসেল, জাইলেম ফাইবার ও জাইলেম প্যারেনকাইমা।

  • ট্রাকিড: সরু, গর্তযুক্ত জাইলেম কোষ। এগুলো পানি পরিবহনে সাহায্য করে।
  • ভেসেল বা নালিকা: বড় গর্তযুক্ত কোষসমষ্টি। পরপর কোষ যুক্ত হয়ে নালির মতো গঠন তৈরি করে এবং পানি দ্রুত পরিবহন করে।
  • জাইলেম ফাইবার: শক্ত ও পুরুপ্রাচীরবিশিষ্ট উপাদান। এটি উদ্ভিদকে যান্ত্রিক দৃঢ়তা দেয়।
  • জাইলেম প্যারেনকাইমা: জীবিত কোষ। এটি খাদ্য সঞ্চয় এবং পার্শ্বীয় পরিবহনে সহায়তা করে।

অতিরিক্ত ব্যাখ্যাপরিণত জাইলেমের ট্রাকিড, ভেসেল ও ফাইবার সাধারণত মৃত এবং লিগনিনযুক্ত পুরু প্রাচীরবিশিষ্ট হয়। তাই জাইলেম একই সঙ্গে পরিবহন ও দৃঢ়তা প্রদান করে।

৩. প্রোটোজাইলেম ও মেটাজাইলেম

জাইলেমের যে অংশ আগে সৃষ্টি হয়, তাকে প্রোটোজাইলেম বলে। পরে সৃষ্টি হওয়া অংশ হলো মেটাজাইলেম। কাণ্ডে প্রোটোজাইলেম কেন্দ্রের দিকে এবং মেটাজাইলেম পরিধির দিকে থাকলে তাকে এন্ডার্ক বিন্যাস বলে। মূলে প্রোটোজাইলেম পরিধির দিকে এবং মেটাজাইলেম কেন্দ্রে থাকলে তাকে এক্সার্ক বলে। পাতায় এদের অবস্থান মেসার্ক বিন্যাস নামে পরিচিত।

পরিবহনের প্রধান ধারা1মূল থেকে পানি ওখনিজ লবণ গ্রহণ2জাইলেমের মাধ্যমেকাণ্ড ও পাতায়পরিবহন3পাতায় খাদ্য তৈরি4ফ্লোয়েমেরমাধ্যমে খাদ্যপরিবহন
জাইলেম ঊর্ধ্বমুখী পানি ও খনিজ পরিবহন করে; ফ্লোয়েম প্রস্তুত খাদ্য বিভিন্ন অংশে পাঠায়।

৪. ফ্লোয়েম টিস্যু

ফ্লোয়েম পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে প্রস্তুত খাদ্য উদ্ভিদের মূল, কাণ্ড, কুঁড়ি, ফুল ও ফলের মতো বিভিন্ন অংশে পরিবহন করে। ফ্লোয়েম চার ধরনের উপাদানে গঠিত—সিভটিউব, সঙ্গীকোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা ও ফ্লোয়েম ফাইবার।

  • সিভটিউব: পরিণত অবস্থায় নিউক্লিয়াস থাকে না; খাদ্য পরিবহনের প্রধান পথ।
  • সঙ্গীকোষ: বড় নিউক্লিয়াস ও ঘন সাইটোপ্লাজমযুক্ত কোষ। এটি সিভটিউবকে নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
  • ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা: খাদ্য সঞ্চয় ও পরিবহনে সহায়তা করে।
  • ফ্লোয়েম ফাইবার: দৃঢ়তা প্রদান করে। সেকেন্ডারি ফ্লোয়েমের ফাইবারকে বাস্ট ফাইবার বলে; পাটের আঁশ বাস্ট ফাইবারের উদাহরণ।
উদাহরণ: মূল মাটি থেকে পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করলে জাইলেম তা পাতায় পৌঁছে দেয়। পাতায় সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে তৈরি খাদ্য ফ্লোয়েমের সাহায্যে মূল ও কাণ্ডে পৌঁছায়।
শিক্ষকের টিপস: মনে রাখবে—জাইলেম = জল এবং ফ্লোয়েম = খাদ্য। এন্ডার্ক কাণ্ডে, এক্সার্ক মূলে এবং মেসার্ক পাতায় দেখা যায়।
পরীক্ষায় যেভাবে আসে: ক্যাম্বিয়াম থাকলে বান্ডল মুক্ত এবং ক্যাম্বিয়াম না থাকলে বান্ডল বদ্ধ হয়। ভাসকুলার বান্ডল শুধু পরিবহন করে না; জাইলেম ফাইবার ও ফ্লোয়েম ফাইবারের মাধ্যমে উদ্ভিদকে যান্ত্রিক দৃঢ়তাও দেয়।

দ্রুত যাচাই ১: জাইলেমের চারটি উপাদানের নাম লেখো।

উত্তর দেখোট্রাকিড, ভেসেল, জাইলেম ফাইবার ও জাইলেম প্যারেনকাইমা।

দ্রুত যাচাই ২: মূলে প্রোটোজাইলেম ও মেটাজাইলেমের বিন্যাস কী?

উত্তর দেখোমূলে প্রোটোজাইলেম পরিধির দিকে এবং মেটাজাইলেম কেন্দ্রের দিকে থাকে; এই বিন্যাসকে এক্সার্ক বলে।

ভাসকুলার বান্ডলের প্রকারভেদ ও উদ্ভিদের অভ্যন্তরীণ গঠন

জাইলেম ও ফ্লোয়েম একত্রে বা পৃথকভাবে অবস্থান করে ভাসকুলার বান্ডল গঠন করে। জাইলেম মূল থেকে পাতা ও সবুজ অংশে পানি ও খনিজ লবণ পরিবহন করে। ফ্লোয়েম পাতায় প্রস্তুত খাদ্য উদ্ভিদের অন্যান্য অংশে পৌঁছে দেয়। বান্ডলের প্রকৃতি বোঝার জন্য প্রথমে জাইলেম ও ফ্লোয়েমের আপেক্ষিক অবস্থান দেখতে হবে।

সংজ্ঞা: জাইলেম ও ফ্লোয়েমের তুলনামূলক অবস্থানের ভিত্তিতে গঠিত পরিবহন টিস্যুর গুচ্ছকে ভাসকুলার বান্ডল বলে। এর প্রধান কাজ পানি, খনিজ লবণ ও প্রস্তুত খাদ্য পরিবহন এবং উদ্ভিদকে যান্ত্রিক দৃঢ়তা দেওয়া।
ভাসকুলার বান্ডলের শ্রেণিবিন্যাস1ভাসকুলার বান্ডল2সংযুক্ত, রেডিয়ালবা কেন্দ্রিক3সমপার্শ্বীয় বাসমদ্বিপার্শ্বীয়4মুক্ত বা বন্ধ
জাইলেম ও ফ্লোয়েমের অবস্থান দেখে বান্ডল শনাক্ত করা হয়।

১. সংযুক্ত, রেডিয়াল ও কেন্দ্রিক বান্ডল

  1. সংযুক্ত (Conjoint): জাইলেম ও ফ্লোয়েম একই ব্যাসার্ধে পাশাপাশি থাকে। সপুষ্পক উদ্ভিদের কাণ্ডে এটি সাধারণ।
  2. রেডিয়াল (Radial): জাইলেম ও ফ্লোয়েম পৃথক ব্যাসার্ধে অবস্থান করে। সপুষ্পক উদ্ভিদের মূলে এ ধরনের বান্ডল দেখা যায়।
  3. কেন্দ্রিক (Concentric): জাইলেম বা ফ্লোয়েমের একটি কেন্দ্রে থাকে এবং অন্যটি তাকে চারদিক থেকে ঘিরে রাখে। এটি সাধারণত বদ্ধ এবং টেরিডোফাইটে বেশি দেখা যায়।

২. সংযুক্ত বান্ডলের প্রকার

সমপার্শ্বীয় (Collateral): জাইলেম ভেতরের দিকে এবং ফ্লোয়েম পরিধির দিকে পাশাপাশি থাকে।

  • মুক্ত সমপার্শ্বীয়: জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মাঝখানে ক্যাম্বিয়াম থাকে। দ্বিবীজপত্রী ও নগ্নবীজী উদ্ভিদের কাণ্ডে দেখা যায়।
  • বন্ধ সমপার্শ্বীয়: জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মাঝে ক্যাম্বিয়াম থাকে না। একবীজপত্রী উদ্ভিদের কাণ্ডে দেখা যায়।
  • সমদ্বিপার্শ্বীয় (Bicollateral): জাইলেমের দুই পাশে ফ্লোয়েম থাকে। জাইলেমের উভয় পাশে ক্যাম্বিয়াম থাকায় এটি সব সময় মুক্ত। লাউ ও কুমড়ার কাণ্ডে দেখা যায়।

কেন্দ্রিক বান্ডলে জাইলেম কেন্দ্রে থাকলে হ্যাড্রোসেন্ট্রিক বা জাইলেম-কেন্দ্রিক বলা হয়; যেমন—Pteris ও Lycopodium। ফ্লোয়েম কেন্দ্রে থাকলে লেপ্টোসেন্ট্রিক বা ফ্লোয়েম-কেন্দ্রিক বলা হয়; যেমন—Dracaena।

উদাহরণ: কচু মূলের রেডিয়াল বান্ডলে জাইলেম ও ফ্লোয়েম পৃথক ব্যাসার্ধে থাকে। তাই মূলের বান্ডল শনাক্ত করতে পাশাপাশি নয়, পৃথক অবস্থান খুঁজবে।

৩. একবীজপত্রী মূলের অভ্যন্তরীণ গঠন

কচু, ধান, গম ও ভুট্টা একবীজপত্রী উদ্ভিদের উদাহরণ। কচু মূলের পরিধি থেকে কেন্দ্রে সাজানো অংশগুলো হলো:

  1. এপিব্লেমা বা মূলত্বক: একসারি ঘন প্যারেনকাইমা কোষ। মূলরোমের সাহায্যে পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করে এবং ভেতরের অংশ রক্ষা করে।
  2. কর্টেক্স: বহুস্তরীয় পাতলা প্রাচীরের প্যারেনকাইমা কোষ এবং আন্তঃকোষীয় ফাঁক থাকে। খাদ্য সঞ্চয় করে।
  3. এন্ডোডার্মিস: একসারি ঘন কোষের স্তর। কর্টেক্স থেকে পরিবহনপথ পৃথক করে এবং পানির প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে।
  4. পেরিসাইকল: এন্ডোডার্মিসের ভেতরে অবস্থিত। পার্শ্বীয় মূল সৃষ্টি করতে পারে।
  5. ভাসকুলার বান্ডল: রেডিয়াল এবং সাধারণত বহু-জাইলেমযুক্ত। জাইলেম ও ফ্লোয়েম পৃথক ব্যাসার্ধে থাকে।
  6. মজ্জা: কেন্দ্রে অবস্থিত বড় প্যারেনকাইমা অঞ্চল। খাদ্য সঞ্চয় করে।
অতিরিক্ত ব্যাখ্যা একবীজপত্রী কাণ্ডে ভাসকুলার বান্ডল সাধারণত বিক্ষিপ্তভাবে ছড়ানো এবং বন্ধ সমপার্শ্বীয় হয়। কাণ্ডের গ্রাউন্ড টিস্যু স্পষ্ট কর্টেক্স ও মজ্জায় বিভক্ত নয়। একবীজপত্রী পাতায় বান্ডলগুলো সমান্তরাল শিরার সঙ্গে সাজানো থাকে; জাইলেম সাধারণত ওপরের দিকে এবং ফ্লোয়েম নিচের দিকে থাকে।
শিক্ষকের টিপস: “মূল = রেডিয়াল, কাণ্ড = সংযুক্ত”—এই সম্পর্কটি মনে রাখো। আর “ক্যাম্বিয়াম আছে = মুক্ত, নেই = বন্ধ”। কেন্দ্রিক বান্ডলে জাইলেম বা ফ্লোয়েমের একটি অংশ মাঝখানে থাকবে।
পরীক্ষায় যেভাবে আসে: কচু মূলের বান্ডল শনাক্ত করতে লিখবে—এটি রেডিয়াল; কারণ জাইলেম ও ফ্লোয়েম পৃথক ব্যাসার্ধে অবস্থিত। একবীজপত্রী কাণ্ডের বান্ডল—বন্ধ সমপার্শ্বীয়; কারণ ক্যাম্বিয়াম অনুপস্থিত।

দ্রুত যাচাই

১. লাউয়ের কাণ্ডে কোন ধরনের ভাসকুলার বান্ডল থাকে?

উত্তর দেখোসমদ্বিপার্শ্বীয় ও মুক্ত বান্ডল। জাইলেমের দুই পাশে ফ্লোয়েম এবং ক্যাম্বিয়াম থাকে।

২. কচু মূলের এপিব্লেমা ও এন্ডোডার্মিসের একটি করে কাজ লেখো।

উত্তর দেখোএপিব্লেমা মূলরোমের সাহায্যে পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করে। এন্ডোডার্মিস পানির প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে।

প্রস্বেদন, পত্ররন্ধ্র ও সংশ্লিষ্ট শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া

উদ্ভিদ মূলরোমের মাধ্যমে মাটি থেকে পানি শোষণ করে। এই পানির অধিকাংশই পাতার পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে জলীয়বাষ্প হিসেবে বায়ুমণ্ডলে বের হয়ে যায়। উদ্ভিদদেহ থেকে বাষ্পাকারে পানির এই নির্গমনকে প্রস্বেদন বলে।

সংজ্ঞা: উদ্ভিদের জীবন্ত বায়বীয় অঙ্গ, বিশেষ করে পাতার পত্ররন্ধ্র, কিউটিকল বা লেন্টিসেলের মাধ্যমে জলীয়বাষ্প নির্গত হওয়ার প্রক্রিয়াই প্রস্বেদন (Transpiration)।

পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদনের ধাপ

উদ্ভিদে প্রস্বেদনের প্রায় ৯৫–৯৮ ভাগ পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে ঘটে। ধাপগুলো লক্ষ্য করো:

  1. মূলরোম মাটি থেকে পানি শোষণ করে।
  2. জাইলেমের মাধ্যমে পানি মূল থেকে কাণ্ড এবং পরে পাতায় পৌঁছায়।
  3. পাতার শিরা-উপশিরা পানি পালিসেড ও স্পঞ্জি প্যারেনকাইমা কোষে পৌঁছে দেয়।
  4. মেসোফিল কোষ পানি শোষণ করে সম্পৃক্ত হয়। পাতার তাপ, চাপ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার প্রভাবে পানির কিছু অংশ জলীয়বাষ্পে পরিণত হয়।
  5. জলীয়বাষ্প আন্তঃকোষীয় ফাঁক ও পত্ররন্ধ্রীয় বায়ুকুঠুরিতে জমা হয়।
  6. রক্ষীকোষ স্ফীত হলে পত্ররন্ধ্র খুলে যায়। সঞ্চিত বাষ্প ব্যাপন প্রক্রিয়ায় পত্ররন্ধ্র দিয়ে বাইরে বের হয়। বাইরের বাতাস শুষ্ক হলে এই ব্যাপন দ্রুত ঘটে।
পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদনের ধাপ1মূলরোম পানি শোষণ2জাইলেমে পানিঊর্ধ্বগমন3মেসোফিলেজলীয়বাষ্প সৃষ্টি4বায়ুকুঠুরিতেবাষ্প সঞ্চয়5পত্ররন্ধ্র দিয়েবাষ্প নির্গমন
রক্ষীকোষের স্ফীতিতে পত্ররন্ধ্র খুললে জলীয়বাষ্প বাইরে যায়।

প্রস্বেদনের হারকে প্রভাবিতকারী কারণ

  • আলো: আলোতে সাধারণত পত্ররন্ধ্র খোলে, তাই প্রস্বেদন বাড়ে। অন্ধকারে পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়ে হার কমে।
  • তাপমাত্রা: তাপমাত্রা বাড়লে পানি দ্রুত বাষ্পে পরিণত হয় এবং বায়ু বেশি জলীয়বাষ্প গ্রহণ করতে পারে। ফলে প্রস্বেদন বাড়ে।
  • আপেক্ষিক আর্দ্রতা: আর্দ্রতা কম হলে বায়ু বেশি বাষ্প গ্রহণ করে, তাই প্রস্বেদন বাড়ে। আর্দ্রতা বেশি হলে হার কমে।
  • বায়ুপ্রবাহ: বাতাস পাতার আশপাশের আর্দ্র বায়ু সরিয়ে দেয়। নতুন শুষ্ক বায়ু জলীয়বাষ্প গ্রহণ করায় প্রস্বেদন বাড়ে।
  • বায়ুমণ্ডলীয় চাপ: চাপ কমলে পানি সহজে বাষ্পে পরিণত হয়; তাই প্রস্বেদন বাড়ে।
  • মাটির পানি: মাটিতে পানি বেশি থাকলে শোষণ বেশি হয় এবং প্রস্বেদনও বাড়ে।

পাতার আয়তন ও সংখ্যা যত বেশি, প্রস্বেদন তত বেশি। পাতলা কিউটিকল, পাতলা কোষপ্রাচীর এবং বেশি পত্ররন্ধ্র প্রস্বেদন বাড়ায়। পুরু কিউটিকল, মোমের আবরণ ও কম পত্ররন্ধ্র প্রস্বেদন কমায়। মেসোফিল টিস্যুতে পানির পরিমাণ বেশি হলে প্রস্বেদনও বেশি হয়।

উদাহরণ: গরম ও শুষ্ক দিনে বাতাস চলাচল করলে পাতার আশপাশের আর্দ্র বায়াু সরে যায়। ফলে জলীয়বাষ্প দ্রুত বাইরে বের হয় এবং প্রস্বেদনের হার বেড়ে যায়।

প্রস্বেদনের অপকারিতা ও উপকারিতা

মাটি শুষ্ক হলে উদ্ভিদ যত পানি শোষণ করে, তার চেয়ে বেশি পানি প্রস্বেদনে বেরিয়ে যেতে পারে। এতে পানি অপচয়, নিস্তেজতা ও ডিহাইড্রেশন ঘটে। অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে উদ্ভিদ মারা যেতে পারে।

তবে প্রস্বেদনের উপকারিতা বেশি। এটি জাইলেমে টান সৃষ্টি করে মূলের পানি শোষণে সাহায্য করে এবং পানি, খাদ্যরস ও খনিজ লবণ ঊর্ধ্বমুখে পরিবহন করে। পাতার তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, সালোকসংশ্লেষণের জন্য পানি সরবরাহ করে এবং কোষ বিভাজন ও দৈহিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

অভিস্রবণ ও ব্যাপন

অভিস্রবণ (Osmosis) হলো বৈষম্যভেদ্য ঝিল্লির মাধ্যমে দ্রাবকের কম ঘন দ্রবণ থেকে বেশি ঘন দ্রবণের দিকে গমন। মূলরোমে পানি প্রবেশে এই প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যাপন (Diffusion) হলো কোনো পদার্থের বেশি ঘন স্থান থেকে কম ঘন স্থানে ছড়িয়ে পড়া। পাতার ভেতরের জলীয়বাষ্পের ঘনত্ব বাইরের চেয়ে বেশি হলে তা পত্ররন্ধ্র দিয়ে বাইরে ব্যাপিত হয়।

শিক্ষকের টিপস: মনে রাখবে—“আলো, তাপ ও বাতাস বাড়লে প্রস্বেদন বাড়ে; আর্দ্রতা বাড়লে প্রস্বেদন কমে।” পানি প্রবেশে অভিস্রবণ, জলীয়বাষ্প বের হওয়ায় ব্যাপন কাজ করে।
পরীক্ষায় যেভাবে আসে: পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদনের ধাপ, প্রস্বেদনের হার নিয়ন্ত্রণকারী ছয়টি কারণ এবং প্রস্বেদনের উপকারিতা–অপকারিতা তুলনা করে লিখতে বলা হয়।

দ্রুত যাচাই

১। প্রস্বেদনের প্রায় কত ভাগ পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে ঘটে?

উত্তর দেখোপ্রায় ৯৫–৯৮ ভাগ।

২। মূলরোমে পানি প্রবেশ এবং পত্ররন্ধ্র দিয়ে জলীয়বাষ্প বের হওয়ার ক্ষেত্রে কোন দুটি প্রক্রিয়া কাজ করে?

উত্তর দেখোমূলরোমে পানি প্রবেশে অভিস্রবণ এবং জলীয়বাষ্প বের হওয়ায় ব্যাপন কাজ করে।

উদাহরণ ও সমাধান

উদাহরণ ১: এপিডার্মাল টিস্যুতন্ত্র শনাক্তকরণ

সমস্যা: একটি উদ্ভিদের পাতার বাইরের আবরণ একসারি ঘনভাবে সন্নিবেশিত প্যারেনকাইমা কোষ দিয়ে গঠিত। কোষগুলোর মাঝে সাধারণত আন্তঃকোষীয় ফাঁক নেই। রক্ষীকোষে ক্লোরোপ্লাস্ট আছে। টিস্যুটি শনাক্ত করো এবং এর কাজ লেখো।

  1. চিহ্নিতকরণ: এটি এপিডার্মিস বা ত্বক। কারণ এটি উদ্ভিদ অঙ্গের বাইরের আবরণ তৈরি করে।
  2. গঠন: এপিডার্মিস সাধারণত একসারি প্যারেনকাইমা কোষ দিয়ে গঠিত। কোষগুলো আয়তাকার ও ঘনভাবে সাজানো।
  3. বিশেষ বৈশিষ্ট্য: পাতার এপিডার্মিসের ওপর কিউটিকল থাকে। রক্ষীকোষ ব্যতীত অধিকাংশ কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে না।
  4. কাজ: এটি অভ্যন্তরীণ টিস্যুকে আঘাত, অতিরিক্ত পানি ক্ষয় ও ছত্রাকের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে গ্যাসের আদান-প্রদান ঘটে। মূলরোম পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করে।

চূড়ান্ত উত্তর: টিস্যুটি এপিডার্মিস। এর প্রধান কাজ হলো সুরক্ষা, পানি ক্ষয় রোধ এবং পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে গ্যাসের আদান-প্রদান নিয়ন্ত্রণ করা।

উদাহরণ ২: পত্ররন্ধ্র ও গাটেশন

সমস্যা: প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্র দিনে ঘাস বা কচুর পাতার কিনারায় পানির ফোঁটা দেখা গেল। ঘটনাটি ব্যাখ্যা করো।

  1. অঙ্গ শনাক্তকরণ: পাতার কিনারায় থাকা বিশেষ পানি নির্গমন অঙ্গকে পানি-প্রস্বেদ বা হাইডাথোড (Hydathode) বলে।
  2. অভ্যন্তরীণ গঠন: হাইডাথোডের নিচে জাইলেমের অগ্রভাগ, একটি গহ্বর এবং এপিথেলিয়াম কোষ থাকে।
  3. প্রক্রিয়া: মাটিতে প্রচুর পানি ও বায়ুতে বেশি আর্দ্রতা থাকলে মূলের চাপ সৃষ্টি হয়। এই চাপের পানি এপিথেলিয়াম কোষের মধ্য দিয়ে তরল অবস্থায় বাইরে আসে।
  4. পরিভাষা: হাইডাথোড দিয়ে তরল পানি ফোঁটা আকারে বের হওয়াকে গাটেশন (Guttation) বলে। এটি প্রস্বেদনের মতো জলীয়বাষ্প আকারে ঘটে না।

চূড়ান্ত উত্তর: পাতার কিনারায় দেখা পানির ফোঁটা গাটেশনের ফল। হাইডাথোডের মাধ্যমে মূলের চাপের পানি তরল অবস্থায় বের হয়ে আসে।

উদাহরণ ৩: ভাসকুলার বান্ডলের প্রকৃতি নির্ণয়

সমস্যা: একটি কাণ্ডের ভাসকুলার বান্ডলে জাইলেম কেন্দ্রের দিকে, ফ্লোয়েম পরিধির দিকে এবং তাদের মাঝখানে ক্যাম্বিয়াম আছে। বান্ডলটির প্রকৃতি নির্ণয় করো।

  1. অবস্থান বিশ্লেষণ: জাইলেম ও ফ্লোয়েম একই ব্যাসার্ধে পাশাপাশি আছে। তাই বান্ডলটি সংযুক্ত (Conjoint)।
  2. দিক নির্ণয়: জাইলেম ভেতরের দিকে এবং ফ্লোয়েম বাইরের দিকে আছে। তাই এটি সমপার্শ্বীয় (Collateral)।
  3. ক্যাম্বিয়াম পরীক্ষা: জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মাঝখানে ক্যাম্বিয়াম থাকায় এটি মুক্ত সমপার্শ্বীয় (Open collateral)।
  4. উদাহরণ: দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ, যেমন বেগুন ও আমজাতীয় উদ্ভিদের কাণ্ডে এ ধরনের বান্ডল দেখা যায়।

চূড়ান্ত উত্তর: বান্ডলটি মুক্ত সমপার্শ্বীয় ভাসকুলার বান্ডল। ক্যাম্বিয়াম থাকায় এটি মুক্ত এবং জাইলেম-ফ্লোয়েম পাশাপাশি থাকায় এটি সমপার্শ্বীয়।

উদাহরণ ৪: পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন

সমস্যা: পত্ররন্ধ্র খোলা থাকলে পাতায় প্রস্বেদন কীভাবে ঘটে—ধাপে ধাপে লেখো।

  1. মূলরোম মাটি থেকে পানি শোষণ করে। জাইলেমের মাধ্যমে পানি কাণ্ড, শাখা-প্রশাখা ও পাতায় পৌঁছায়।
  2. পাতার শিরা-উপশিরা পানি পালিসেড ও স্পঞ্জি প্যারেনকাইমা কোষে সরবরাহ করে।
  3. প্যারেনকাইমা কোষের পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে আন্তঃকোষীয় ফাঁক ও সাব-স্টোমাটাল বায়ুকুঠুরিতে জমা হয়।
  4. রক্ষীকোষ স্ফীত হলে পত্ররন্ধ্র খুলে যায়। সঞ্চিত জলীয়বাষ্প পত্ররন্ধ্র দিয়ে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলে বের হয়।

চূড়ান্ত উত্তর: পত্ররন্ধ্র দিয়ে জলীয়বাষ্প বের হওয়াই পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন। উদ্ভিদের মোট প্রস্বেদনের প্রায় ৯৫–৯৮ শতাংশ এই পথে ঘটে।

সংজ্ঞা, সূত্র ও সারসংক্ষেপ

পরিভাষাসংজ্ঞা বা সূত্রকখন ব্যবহার করবে
ত্বকীয় টিস্যুতন্ত্রউদ্ভিদ অঙ্গের বহিঃআবরণ সৃষ্টি করে। কাণ্ডে এপিডার্মিস, মূলে এপিব্লেমা।বহিঃআবরণ ও সুরক্ষা বুঝতে
কিউটিকলকিউটিন বা সুবেরিনের মোমের আস্তরণ।পানির অপচয় ও ছত্রাক প্রতিরোধে
স্টোমা বা পত্ররন্ধ্রদুটি রক্ষীকোষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বিশেষ ছিদ্র; নিচে সাব-স্টোমাটাল বায়ুকুঠুরি থাকে।গ্যাস বিনিময় ও প্রস্বেদনে
গ্রাউন্ড টিস্যুতন্ত্রত্বকীয় ও পরিবহন টিস্যু ছাড়া উদ্ভিদের অন্যান্য অংশ; প্রধানত প্যারেনকাইমা।সঞ্চয়, বিপাক ও দৃঢ়তা ব্যাখ্যায়
মেসোফিলপাতার গ্রাউন্ড টিস্যু; পালিসেড ও স্পঞ্জি প্যারেনকাইমা নিয়ে গঠিত।সালোকসংশ্লেষণে
ভাসকুলার টিস্যুতন্ত্রজাইলেম ও ফ্লোয়েমের সমন্বিত পরিবহন তন্ত্র।পানি, খনিজ ও খাদ্য পরিবহনে
জাইলেম ও ফ্লোয়েমজাইলেম পানি-খনিজ ঊর্ধ্বমুখে বহন করে; ফ্লোয়েম প্রস্তুত খাদ্য পরিবহন করে।পরিবহনের দিক নির্ণয়ে
ভাসকুলার বান্ডলজাইলেম ও ফ্লোয়েমের গুচ্ছ; সংযুক্ত, রেডিয়াল বা কেন্দ্রিক হতে পারে।অভ্যন্তরীণ গঠন শনাক্তে
মুক্ত ও বন্ধ বান্ডলক্যাম্বিয়াম থাকলে মুক্ত, না থাকলে বন্ধ সমপার্শ্বীয় বান্ডল।দ্বিবীজপত্রী ও একবীজপত্রী কাণ্ডে তুলনায়
প্রস্বেদনউদ্ভিদদেহ থেকে জলীয়বাষ্প নির্গমন; প্রায় ৯৫–৯৮% পত্ররন্ধ্রীয়।জল চলাচল ও শীতলীকরণে
গাটেশনহাইডাথোড দিয়ে তরল পানি বিন্দু আকারে বের হওয়া।অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও মাটির পানিতে
সালোকসংশ্লেষণ6CO₂ + 12H₂O → C₆H₁₂O₆ + 6H₂O + 6O₂খাদ্য তৈরির সমীকরণে
ব্যাপন ও অভিস্রবণব্যাপন: বেশি ঘনত্ব থেকে কম ঘনত্বে গমন। অভিস্রবণ: বৈষম্যভেদ্য ঝিল্লির মাধ্যমে দ্রাবকের কম ঘনত্ব থেকে বেশি ঘনত্বে গমন।গ্যাস ও পানি চলাচল ব্যাখ্যায়
মূল কথা: এপিডার্মিস সুরক্ষা দেয়; রক্ষীকোষ পত্ররন্ধ্র নিয়ন্ত্রণ করে। গ্রাউন্ড টিস্যু সঞ্চয়, খাদ্য তৈরি ও দৃঢ়তা দেয়। জাইলেম পানি-খনিজ এবং ফ্লোয়েম খাদ্য বহন করে। ক্যাম্বিয়াম থাকলে বান্ডল মুক্ত। প্রস্বেদন জাইলেমে টান সৃষ্টি করে। আলো, তাপমাত্রা, বায়ুপ্রবাহ ও কম আর্দ্রতা প্রস্বেদন বাড়ায়। হাইডাথোডের তরল পানি নির্গমনকে গাটেশন বলে।

পরীক্ষা প্রস্তুতি

ক. বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ)

১। উদ্ভিদের মূলের বহিরাবরণকে কী বলে?

  • ক) এপিডার্মিস
  • খ) এপিব্লেমা
  • গ) পেরিসাইকল
  • ঘ) এন্ডোডার্মিস

২। রক্ষীকোষের চারদিকে দুটি সহকারী কোষ সমান্তরালভাবে অবস্থান করলে পত্ররন্ধ্রটি কোন ধরনের?

  • ক) ডায়াসাইটিক
  • খ) প্যারাসাইটিক
  • গ) অ্যানিসোসাইটিক
  • ঘ) টেট্রাসাইটিক

৩। পাতার গ্রাউন্ড টিস্যুকে কী বলা হয়?

  • ক) কর্টেক্স
  • খ) মজ্জা
  • গ) মেসোফিল
  • ঘ) পেরিসাইকল

৪। মূলের ভাসকুলার টিস্যুতে প্রোটোজাইলেম পরিধির দিকে এবং মেটাজাইলেম কেন্দ্রের দিকে থাকলে তাকে কী বলে?

  • ক) এন্ডার্ক
  • খ) এক্সার্ক
  • গ) মেসার্ক
  • ঘ) লেপ্টোসেন্ট্রিক

৫। কোন টিস্যু মূল থেকে পাতায় পানি ও খনিজ লবণ পরিবহন করে?

  • ক) ফ্লোয়েম
  • খ) জাইলেম
  • গ) কর্টেক্স
  • ঘ) মজ্জা

৬। জাইলেম কেন্দ্রে এবং ফ্লোয়েম তাকে সম্পূর্ণভাবে ঘিরে রাখলে ভাসকুলার বান্ডলটি কোন ধরনের?

  • ক) লেপ্টোসেন্ট্রিক
  • খ) রেডিয়াল
  • গ) হ্যাড্রোসেন্ট্রিক
  • ঘ) সমদ্বিপার্শ্বীয়

৭। মাটিতে পানির পরিমাণ কমে গেলে সাধারণত প্রস্বেদনের হার কী হয়?

  • ক) বেড়ে যায়
  • খ) কমে যায়
  • গ) অপরিবর্তিত থাকে
  • ঘ) প্রথমে শূন্য, পরে বেড়ে যায়

৮। পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে তরল পানি বিন্দু আকারে বের হওয়াকে কী বলে?

  • ক) প্রস্বেদন
  • খ) ব্যাপন
  • গ) গাটেশন
  • ঘ) অভিস্রবণ

খ. সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

১। এপিডার্মিসের দুটি কাজ লেখো।

২। গ্রাউন্ড টিস্যুতন্ত্র কী? এর প্রধান কাজ কী?

৩। মুক্ত সমপার্শ্বীয় ও বন্ধ সমপার্শ্বীয় ভাসকুলার বান্ডলের পার্থক্য লেখো।

৪। প্রস্বেদন উদ্ভিদের জন্য কীভাবে উপকারী?

গ. সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক: একজন শিক্ষার্থী কচু গাছের মূলের প্রস্থচ্ছেদ অণুবীক্ষণ যন্ত্রে পর্যবেক্ষণ করল। সে দেখতে পেল, মূলের বাইরের দিকে একসারি মূলরোমযুক্ত কোষ, তার ভেতরে বহুতর কর্টেক্স এবং একটি সুস্পষ্ট এন্ডোডার্মিস আছে। কেন্দ্রের দিকে জাইলেম ও ফ্লোয়েম পৃথক পৃথক ব্যাসার্ধে অবস্থান করছে। জাইলেমের প্রোটোজাইলেম পরিধির দিকে এবং মেটাজাইলেম কেন্দ্রের দিকে অবস্থিত। একই দিনে সে একটি পাতাকে রৌদ্রোজ্জ্বল ও বায়ুপ্রবাহযুক্ত স্থানে রাখল। কিছুক্ষণ পর পাতাটি নিস্তেজ হয়ে গেল।

ক. জাইলেম কী? [১]

খ. পত্ররন্ধ্রকে উদ্ভিদের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বলা হয় কেন? [২]

গ. উদ্দীপকের মূলের ভাসকুলার বান্ডলের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করো। [৩]

ঘ. উদ্দীপকের পাতাটি নিস্তেজ হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করো। [৪]

উত্তর

ক. MCQ-এর সঠিক উত্তর

  1. খ) এপিব্লেমা
  2. খ) প্যারাসাইটিক
  3. গ) মেসোফিল
  4. খ) এক্সার্ক
  5. খ) জাইলেম
  6. গ) হ্যাড্রোসেন্ট্রিক
  7. খ) কমে যায়
  8. গ) গাটেশন

খ. সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের মডেল উত্তর

১। এপিডার্মিস উদ্ভিদের অভ্যন্তরীণ টিস্যুকে বাইরের আঘাত ও প্রতিকূল অবস্থা থেকে রক্ষা করে। কিউটিকলযুক্ত এপিডার্মিস পানির অপচয় কমায়। আবার পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে গ্যাসের আদান-প্রদান ঘটে। মূলরোম পানি ও খনিজ লবণ শোষণে সাহায্য করে।

২। ত্বকীয় ও ভাসকুলার টিস্যুতন্ত্র বাদে উদ্ভিদদেহের অন্যান্য টিস্যু নিয়ে গ্রাউন্ড বা মৌলিক টিস্যুতন্ত্র গঠিত। এটি প্রধানত প্যারেনকাইমা টিস্যু দিয়ে তৈরি; কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোলেনকাইমা ও স্ক্লেরেনকাইমাও থাকে। এর প্রধান কাজ বিপাকক্রিয়ায় অংশ নেওয়া, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদকে দৃঢ়তা দেওয়া।

৩। মুক্ত সমপার্শ্বীয় ভাসকুলার বান্ডলে জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মাঝখানে ক্যাম্বিয়াম থাকে। তাই এটি গৌণ বৃদ্ধি ঘটাতে পারে। দ্বিবীজপত্রী ও নগ্নবীজী উদ্ভিদের কাণ্ডে এটি দেখা যায়। বন্ধ সমপার্শ্বীয় বান্ডলে জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মাঝখানে ক্যাম্বিয়াম থাকে না। তাই সাধারণত গৌণ বৃদ্ধি ঘটে না। একবীজপত্রী উদ্ভিদের কাণ্ডে এটি দেখা যায়।

৪। প্রস্বেদনের ফলে জাইলেমে টান সৃষ্টি হয়। এই টান মূল থেকে কাণ্ড ও পাতায় পানি এবং দ্রবীভূত খনিজ লবণ উঠতে সাহায্য করে। এটি পাতার তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, কোষে পানি সরবরাহ করে এবং সালোকসংশ্লেষণে সহায়তা করে। তবে অতিরিক্ত প্রস্বেদনে উদ্ভিদ পানি হারিয়ে নিস্তেজ হতে পারে।

গ. সৃজনশীল প্রশ্নের মডেল উত্তর

ক. জাইলেম হলো ভাসকুলার টিস্যুর একটি অংশ, যা মূল থেকে উদ্ভিদের কাণ্ড, পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে পানি ও দ্রবীভূত খনিজ লবণ পরিবহন করে।

খ. পত্ররন্ধ্র দুটি রক্ষীকোষ দ্বারা বেষ্টিত একটি বিশেষ ছিদ্র। এটি খোলা থাকলে উদ্ভিদের অভ্যন্তর ও বাইরের পরিবেশের মধ্যে গ্যাসের আদান-প্রদান হয়। সালোকসংশ্লেষণের সময় পত্ররন্ধ্র দিয়ে CO₂ প্রবেশ করে এবং O₂ বের হয়। একই পথে জলীয়বাষ্প বের হয়ে প্রস্বেদন ঘটে। তাই সালোকসংশ্লেষণ, শ্বসন ও প্রস্বেদনে পত্ররন্ধ্র গুরুত্বপূর্ণ।

গ. উদ্দীপকের মূলের জাইলেম ও ফ্লোয়েম পৃথক পৃথক ব্যাসার্ধে অবস্থান করছে। তাই এটি রেডিয়াল বা জড়ীয় ভাসকুলার বান্ডল। মূলের রেডিয়াল বান্ডলে জাইলেম ও ফ্লোয়েম পাশাপাশি থাকলেও একই ব্যাসার্ধে থাকে না। এখানে প্রোটোজাইলেম পরিধির দিকে এবং মেটাজাইলেম কেন্দ্রের দিকে অবস্থিত। এ ধরনের জাইলেম বিন্যাসকে এক্সার্ক বলে। মূলের ভাসকুলার টিস্যুতে সাধারণত এক্সার্ক বিন্যাস দেখা যায়।

ঘ. পাতাটি রৌদ্রোজ্জ্বল ও বায়ুপ্রবাহযুক্ত স্থানে থাকায় প্রস্বেদনের হার বেড়ে যায়। আলো সাধারণত পত্ররন্ধ্র খোলা রাখতে সাহায্য করে। ফলে পাতার ভেতরের জলীয়বাষ্প দ্রুত বাইরে বের হয়ে যায়। আবার বায়ুপ্রবাহ পাতার আশেপাশের আর্দ্র বায়ু সরিয়ে কম আর্দ্র বায়ু নিয়ে আসে। এই কম আর্দ্র বায়ু পাতার জলীয়বাষ্প বেশি গ্রহণ করতে পারে।

প্রস্বেদনের ফলে জাইলেমে পানি উপরের দিকে ওঠে; কিন্তু মাটি থেকে পানি শোষণের হার যদি পানির ক্ষতির তুলনায় কম হয়, তাহলে পাতার কোষে পানির ঘাটতি দেখা দেয়। কোষের স্ফীততা কমে যায় এবং পাতা নিস্তেজ হয়ে পড়ে। মাটিতে পানির প্রাপ্যতা কম থাকলে এই অবস্থা আরও তীব্র হয়। অতএব, উদ্দীপকের পাতার নিস্তেজ হওয়ার প্রধান কারণ হলো রৌদ্র ও বায়ুপ্রবাহে অতিরিক্ত পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন এবং তার তুলনায় কম পানি শোষণ।

সাধারণ ভুল ও রিভিশন

এই অধ্যায়ে টিস্যুতন্ত্র, ভাসকুলার বান্ডল, অভ্যন্তরীণ গঠন ও প্রস্বেদন—সব বিষয় পরস্পর সম্পর্কিত। তাই সংজ্ঞা, অবস্থান, কাজ ও উদাহরণ আলাদা করে মনে রাখো।

ভুল সঠিক
মূলের বহিরাবরণকে এপিডার্মিস বলা। মূলের বহিরাবরণ হলো এপিব্লেমা; কাণ্ড ও পাতার বহিরাবরণ এপিডার্মিস।
পত্ররন্ধ্র শুধু গ্যাস বিনিময় করে। এটি গ্যাস বিনিময়, প্রস্বেদন ও রন্ধ্র খোলা-বন্ধ নিয়ন্ত্রণে অংশ নেয়।
জাইলেম খাদ্য পরিবহন করে। জাইলেম পানি ও খনিজ লবণ পরিবহন করে; ফ্লোয়েম প্রস্তুত খাদ্য পরিবহন করে।
মূল ও কাণ্ডে জাইলেমের বিন্যাস একই। মূলের জাইলেম এক্সার্ক, কাণ্ডের জাইলেম এন্ডার্ক।
সব সমপার্শ্বীয় বান্ডল মুক্ত। ক্যাম্বিয়াম থাকলে মুক্ত, না থাকলে বন্ধ সমপার্শ্বীয়।
রেডিয়াল বান্ডলে জাইলেম-ফ্লোয়েম একই ব্যাসার্ধে থাকে। রেডিয়াল বান্ডলে তারা ভিন্ন ব্যাসার্ধে থাকে।
গাটেশন হলো জলীয়বাষ্প নির্গমন। হাইডাথোড দিয়ে তরল পানি বের হওয়াই গাটেশন।
আর্দ্রতা বাড়লে প্রস্বেদন বাড়ে। আপেক্ষিক আর্দ্রতা কমলে প্রস্বেদনের হার বাড়ে।

রিভিশন চেকলিস্ট

  • এপিডার্মিস, এপিব্লেমা ও কিউটিকলের সংজ্ঞা লিখতে পারি।
  • ট্রাইকোম, মূলরোম, রক্ষীকোষ ও সহযোগী কোষ শনাক্ত করতে পারি।
  • ছয় ধরনের পত্ররন্ধ্রের বৈশিষ্ট্য বলতে পারি।
  • গ্রাউন্ড টিস্যুতন্ত্রের অঞ্চল ও কাজ ব্যাখ্যা করতে পারি।
  • জাইলেম ও ফ্লোয়েমের উপাদান লিখতে পারি।
  • এন্ডার্ক, এক্সার্ক ও মেসার্কের পার্থক্য করতে পারি।
  • ভাসকুলার বান্ডলের সব প্রকার উদাহরণসহ লিখতে পারি।
  • মূল ও কাণ্ডের অভ্যন্তরীণ গঠন ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করতে পারি।
  • প্রস্বেদনের কারণ, উপকারিতা ও অপকারিতা ব্যাখ্যা করতে পারি।

নিয়মিত সংজ্ঞা, তুলনা ও চিত্রভিত্তিক বিন্যাস অনুশীলন করলে এই অধ্যায়ে ভালো ফল করা সম্ভব।

⚡ Related Tools — Try These Next
📋
MCQ Practice
Topic-wise timed tests
🏛
University Guide
All 22 universities
🧑
Ask Kabir
Expert advisor
🏆
Scholarships
Find funding
Browse all 18+ tools →
🎓 Planning to apply? Browse our complete university admission guide → with requirements, fees, and cutoffs for all 22 major universities in Bangladesh.

সম্পর্কিত পোস্ট / Related posts

HSC
HSC

Admission Test Prep: অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন

ADMISSION TEST PREPARATION অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী How to use this sheet ★★★ = the par

HSC
HSC

Admission Test Prep: অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন

ADMISSION TEST PREPARATION অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী How to use this sheet ★★★ = the p

HSC
HSC

এইচএসসি সাজেশন: অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন / অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন / অধ্যায় ৩: কোষ রসায়ন

এইচএসসি সাজেশন (একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি) অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন / অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন / অধ্যায় ৩: কোষ রসায়ন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত

HSC
HSC

লেকচার শিট: অধ্যায় ১২: জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ

লেকচার শিট অধ্যায় ১২: জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পরিচিতি এই পাঠে যা শিখবে বাস্

HSC
HSC

লেকচার শিট: অধ্যায় ১১: জীবপ্রযুক্তি

লেকচার শিট অধ্যায় ১১: জীবপ্রযুক্তি একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পরিচিতি এই পাঠে যা শিখবে কৃষিতে জিনপ্রযুক্তির ব্

HSC
HSC

লেকচার শিট: অধ্যায় ১০: উদ্ভিদ প্রজনন

লেকচার শিট অধ্যায় ১০: উদ্ভিদ প্রজনন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পরিচিতি এই পাঠে যা শিখবে ডিম্বকের প্রধান অংশ এব

🎓
আরও লেকচার শিট, মডেল টেস্ট ও প্র্যাকটিস — AlphaGenEduMore lecture sheets, board questions and MCQ practice for every class, free on alphagenedu.com
AlphaGenEdu-তে যান →
Kabir — Ask me about admissions! 🎓

AdmissionPaths Support

🟢 Online · How can we help?
🧑
Ask Kabir
Admission advisor · 20+ yrs
💬
Live Support Chat
AI-powered · instant replies
🎫
Submit a Ticket
Response within 24 hours
❓
Browse FAQ
Quick answers
🤖
AdmissionPaths Support
🟢 AI-powered · replies instantly