🎉 3-Day Free Trial — All premium features unlocked, zero credit card required ● 📚 28+ Expert Guides published and growing every week
Back to Blog
HSC

লেকচার শিট: অধ্যায় ৫: শৈবাল ও ছত্রাক

By admin 8 views
লেকচার শিট

অধ্যায় ৫: শৈবাল ও ছত্রাক

একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী

পরিচিতি

এই পাঠে যা শিখবে
  • শৈবাল, ছত্রাক ও লাইখেনের গঠন, বাসস্থান ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারবে।
  • ব্রায়োফাইটা ও রিকশিয়ার বৈশিষ্ট্য, বাসস্থান ও দেহগঠন বর্ণনা করতে পারবে।
  • টেরিডোফাইটার বৈশিষ্ট্য এবং Pteris-এর দেহগঠন শনাক্ত করতে পারবে।
  • Pteris-এর অঙ্গজ, অযৌন ও যৌন প্রজনন ব্যাখ্যা করতে পারবে।
  • Pteris-এর স্পোরোফাইট ও গ্যামিটোফাইটের জীবনচক্র বুঝতে পারবে।
  • ভাজক টিস্যু ও স্থায়ী টিস্যুর বৈশিষ্ট্য, শ্রেণিবিভাগ ও কাজ লিখতে পারবে।

আগে যা জানা দরকার

উদ্ভিদে ক্লোরোফিল থাকলে সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য তৈরি হতে পারে। শৈবাল সাধারণত ক্লোরোফিলযুক্ত ও স্বভোজী, কিন্তু ছত্রাকে ক্লোরোফিল না থাকায় তারা পরভোজী।

সপুষ্পক উদ্ভিদকে ফ্যানেরোগ্যামস এবং অপুষ্পক উদ্ভিদকে ক্রিপ্টোগ্যামস বলা হয়। শৈবাল ও ছত্রাক নিম্নতর ক্রিপ্টোগ্যাম; ব্রায়োফাইটা ও টেরিডোফাইটা উচ্চতর ক্রিপ্টোগ্যাম।

উদ্ভিদের দেহে মূল, কাণ্ড ও পাতার মতো অঙ্গ এবং বিভিন্ন টিস্যু থাকে—এ ধারণা মনে রাখলে Pteris ও টিস্যুর অধ্যায় বুঝতে সুবিধা হবে।

এই অধ্যায় কেন গুরুত্বপূর্ণ?

শৈবাল বাস্তুতন্ত্রের খাদ্যশৃঙ্খলে উৎপাদক। ছত্রাক খাদ্য, ওষুধ ও বিভিন্ন রোগের সঙ্গে যুক্ত। লাইখেন পরিবেশদূষণের নির্দেশক হিসেবে কাজ করে। ব্রায়োফাইটা ও টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের বিবর্তন ও স্থলজ অভিযোজন বোঝায়।

পরীক্ষায় সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য, Riccia ও Pteris-এর গঠন, প্রজনন, জীবনচক্র এবং ভাজক-স্থায়ী টিস্যুর শ্রেণিবিভাগ থেকে প্রশ্ন আসে। তাই ধারাবাহিকভাবে পড়া জরুরি।

এক নজরে

ক্রম আলোচ্য বিষয়
১শৈবাল, ছত্রাক ও লাইখেন
২ব্রায়োফাইটা ও Riccia
৩টেরিডোফাইটা ও Pteris
৪Pteris-এর প্রজনন ও জীবনচক্র
৫ভাজক ও স্থায়ী টিস্যু

শৈবাল, ছত্রাক ও লাইখেন

আজ আমরা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শিখব—শৈবাল, ছত্রাক ও লাইখেন। এদের বাসস্থান, গঠন, পুষ্টি, প্রজনন এবং পরিবেশগত গুরুত্ব বুঝে পড়বে।

শৈবাল (Algae)

শৈবাল হলো ক্লোরোফিলযুক্ত, সরল প্রকৃতির উদ্ভিদ। এদের দেহ এককোষী বা বহুকোষী হতে পারে। এককোষী শৈবাল একা থাকতে পারে, আবার কলোনি গঠন করেও বাস করতে পারে। মিঠা পানি, লবণাক্ত পানি, মাটি এমনকি পাথরের গায়েও শৈবাল জন্মে।

সংজ্ঞা: ক্লোরোফিলযুক্ত এককোষী বা বহুকোষী সরল প্রকৃতির উদ্ভিদকে শৈবাল বলে।

শৈবালে ক্লোরোফিল থাকায় তারা সূর্যালোকের সাহায্যে সালোকসংশ্লেষণ করে নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করে। তাই শৈবাল স্বভোজী। অযৌন ও যৌন—উভয় প্রক্রিয়ায় শৈবালের বংশবৃদ্ধি ঘটে। নীলাভ-সবুজ শৈবালকে বর্তমানে সায়ানোব্যাকটেরিয়া বলা হয়; কারণ এরা আদিকোষী, কিন্তু অন্য শৈবাল প্রকৃতকোষী।

বাস্তুতন্ত্রে শৈবাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যশৃঙ্খলে তারা উৎপাদক হিসেবে কাজ করে। মানুষ ও পশুর খাদ্য হিসেবেও কিছু শৈবালের ব্যবহার আছে।

ছত্রাক (Fungi)

ছত্রাকে ক্লোরোফিল বা সালোকসংশ্লেষণকারী রঞ্জক পদার্থ থাকে না। তাই ছত্রাক নিজের খাদ্য তৈরি করতে পারে না; তারা পরভোজী। কিছু ছত্রাক মৃতজীবী, কিছু পরজীবী এবং কিছু অপভোজী। ছত্রাক এককোষী বা বহুকোষী হতে পারে। বহুকোষী ছত্রাকের সূক্ষ্ম সুতার মতো গঠনকে হাইফি (Hyphae) বলে। অনেক হাইফি একত্রে মাইসেলিয়াম (Mycelium) গঠন করে।

উদাহরণ: বহুকোষী ছত্রাকে অসংখ্য হাইফি পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মাইসেলিয়াম তৈরি করে। ইস্ট এককোষী ছত্রাকের উদাহরণ এবং মাশরুমও ছত্রাকের একটি পরিচিত উদাহরণ।

ছত্রাক অযৌন ও যৌন—দুই প্রক্রিয়ায় বংশবৃদ্ধি করে। মানুষের খাদ্য হিসেবে ছত্রাকের ব্যবহার আছে। আবার কিছু ছত্রাক মানুষের বিভিন্ন রোগের কারণ হতে পারে।

লাইখেন (Lichen)

লাইখেন কোনো একক জীব নয়। ছত্রাক ও শৈবালের সহাবস্থানের ফলে লাইখেন গঠিত হয়। এখানে উভয় জীব পরস্পরকে সাহায্য করে। ছত্রাক পরিবেশ থেকে পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করে শৈবালকে দেয়। শৈবাল সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য তৈরি করে এবং সেই খাদ্যের অংশ ছত্রাককে দেয়। ছত্রাক শৈবালকে বাসস্থান ও সুরক্ষা প্রদান করে।

লাইখেন গঠনের পারস্পরিক সহযোগিতা1ছত্রাক পানি ওখনিজ লবণ শোষণ করে2শৈবালসালোকসংশ্লেষণেখাদ্য তৈরি করে3শৈবাল ছত্রাককেখাদ্য দেয়4ছত্রাক শৈবালকেবাসস্থান দেয়
ছত্রাক ও শৈবালের সহাবস্থানেই লাইখেন সৃষ্টি হয়।

লাইখেন মাটির পানি ধারণক্ষমতা বাড়ায় এবং মাটির গঠন উন্নত করে। উঁচু পাহাড় ও গাছের বাকলে জন্মে লাইখেন কখনো কখনো তাদের দৃঢ়তা কমাতে পারে। এটি পরিবেশ দূষণের নির্দেশক বা ইন্ডিকেটর হিসেবেও কাজ করে। গাছের ত্বক, পুরোনো ইটের দেয়াল ও ছাদে দীর্ঘদিন লাইখেন থাকলে আবহাওয়াজনিত ক্ষয় হতে পারে।

শিক্ষকের টিপস: মনে রাখবে—শৈবাল খাদ্য তৈরি করে, ছত্রাক খাদ্য গ্রহণ করে। লাইখেনে শৈবাল দেয় খাদ্য, ছত্রাক দেয় পানি, খনিজ ও বাসস্থান।
পরীক্ষায় যেভাবে আসে: “লাইখেন কী?”—উত্তরে অবশ্যই লিখবে, ছত্রাক ও শৈবালের সহাবস্থানে লাইখেন গঠিত হয় এবং উভয়ে খাদ্য ও বাসস্থান বিনিময় করে।

দলগত কাজ

পরিবেশ থেকে বিভিন্ন লাইখেন সংগ্রহ করো। কোন গাছ, দেয়াল বা স্থানে পাওয়া গেছে তা লিখে রাখো। সাধারণত ওই স্থানে লাইখেন থাকে কি না পর্যবেক্ষণ করো। শেষে শনাক্তকরণ, বাসস্থান ও পর্যবেক্ষণের তথ্য দিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে শিক্ষকের কাছে জমা দাও।

দ্রুত যাচাই

১। শৈবালকে স্বভোজী বলা হয় কেন?

উত্তর দেখোক্লোরোফিলের সাহায্যে সালোকসংশ্লেষণ করে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করে বলে শৈবাল স্বভোজী।

২। লাইখেনে ছত্রাক ও শৈবাল কীভাবে পরস্পরকে সাহায্য করে?

উত্তর দেখোছত্রাক শৈবালকে পানি, খনিজ লবণ ও বাসস্থান দেয়; শৈবাল সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে তৈরি খাদ্য ছত্রাককে দেয়।

ব্রায়োফাইটা ও রিকশিয়ার বৈশিষ্ট্য

যেসব উদ্ভিদে ফুল হয়, তাদের সপুষ্পক উদ্ভিদ বা ফ্যানেরোগ্যামস (Phanerogams) বলা হয়। যেমন—সরিষা, গোলাপ, জবা। যেসব উদ্ভিদে কখনো ফুল হয় না, তাদের অপুষ্পক উদ্ভিদ বা ক্রিপ্টোগ্যামস (Cryptogams) বলা হয়। শৈবাল ও ছত্রাক হলো নিম্নতর ক্রিপ্টোগ্যামস। ব্রায়োফাইটা ও টেরিডোফাইটা হলো উচ্চতর ক্রিপ্টোগ্যামস। কারণ এদের দেহ শৈবাল ও ছত্রাকের তুলনায় বেশি উন্নত ও জটিল।

সংজ্ঞা: ব্রায়োফাইটা হলো অপুষ্পক, ভ্রূণী ও অবাসিক উদ্ভিদগোষ্ঠী, যাদের দেহে সত্যিকার মূল, কাণ্ড, পাতা ও ভাস্কুলার টিস্যু থাকে না। এদের জীবনচক্রে গ্যামিটোফাইট প্রধান।
উদ্ভিদের সহজ শ্রেণিবিন্যাস1সপুষ্পকউদ্ভিদ—ফ্যানেরোগ্যামস2অপুষ্পকউদ্ভিদ—ক্রিপ্টোগ্যামস3নিম্নতর: শৈবাল ওছত্রাক4উচ্চতর:ব্রায়োফাইটা ওটেরিডোফাইটা
ব্রায়োফাইটা উচ্চতর ক্রিপ্টোগ্যামসের অন্তর্ভুক্ত।

ব্রায়োফাইটার প্রধান বৈশিষ্ট্য

  1. এরা অপুষ্পক ও ভ্রূণী উদ্ভিদ। দেহটি গ্যামিটোফাইট ও স্পোরোফাইট—এই দুই প্রজন্মে বিভক্ত।
  2. দেহ থ্যালাসময়। তাই দেহকে সত্যিকার মূল, কাণ্ড ও পাতায় ভাগ করা যায় না। তবে মসজাতীয় উদ্ভিদে কাণ্ড ও পাতার মতো অংশ দেখা যায়।
  3. সত্যিকার মূলের পরিবর্তে এককোষী বা কখনো বহুকোষী রাইজয়েড থাকে। রাইজয়েড উদ্ভিদকে মাটিতে আটকে রাখে এবং পানি ও খনিজ লবণ শোষণে সাহায্য করে।
  4. এদের দেহে ভাস্কুলার টিস্যু নেই; দেহ প্যারেনকাইমা টিস্যু দিয়ে গঠিত।
  5. জননাঙ্গ বহুকোষী এবং বন্ধ্যা কোষের স্তর দিয়ে আবৃত। যৌন জনন ওগ্যামাস প্রকৃতির—বৃহৎ নিশ্চল ডিম্বাণুর সঙ্গে ক্ষুদ্র সচল শুক্রাণুর মিলন ঘটে।
  6. নিষেকের ফলে স্ত্রী জননাঙ্গের ভিতরে বহুকোষী ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। স্পোরোফাইট গ্যামিটোফাইটের উপর সম্পূর্ণ বা আংশিক নির্ভরশীল থাকে।
  7. জীবনচক্রে গ্যামিটোফাইট প্রধান এবং স্পোরোফাইট গৌণ। নিষেকের জন্য পানির প্রয়োজন হয়; তাই স্থলে জন্মালেও ব্রায়োফাইটার জনন পানিনির্ভর।

আদিম ও উন্নত বৈশিষ্ট্য

ব্রায়োফাইটার আদিম বৈশিষ্ট্য হলো—গ্যামিটোফাইট হ্যাপ্লয়েড, স্পোরোফাইট ডিপ্লয়েড, সত্যিকার মূল নেই এবং ভাস্কুলার টিস্যু অনুপস্থিত। উন্নত বৈশিষ্ট্যের উদাহরণ হলো Anthoceros-এর ক্যাপসুলে ক্লোরোপ্লাস্ট ও স্টোমাটার উপস্থিতি। ব্রায়োফাইটার তিনটি শ্রেণি হলো—হেপাটিকি (Hepaticae), অ্যাথোসেরোটি (Anthocerotae) ও মসাই (Musci)।

Genus: Riccia

Riccia হেপাটিকি শ্রেণির একটি গণ। এটি সাধারণত পুকুরের পাড়ের মাটি, নদীর তীরের বালি ও আর্দ্র স্থানে জন্মে। Riccia fluitans পানিতে ভাসমান অবস্থায় দেখা যায়। এর থ্যালাস সবুজ, শাখিত ও দ্বিখণ্ডিত। অনেক থ্যালাস একত্রে গুচ্ছাকারে জন্মালে তাকে রোজেট বলে। প্রতিটি শাখার শীর্ষে থাকা খাঁজকে অগ্রীয় খাঁজ বলে। নিচের পৃষ্ঠ থেকে বহুকোষী স্কেল এবং এককোষী মসৃণ ও টিউবারকুলেট রাইজয়েড বের হয়।

উদাহরণ: Riccia-এর রাইজয়েড থ্যালাসকে মাটিতে আটকে রাখে এবং পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করে। স্কেল থ্যালাসকে মাটির সংস্পর্শে রাখে এবং আর্দ্রতা সংরক্ষণে সাহায্য করে।

Riccia থ্যালাসের অভ্যন্তরীণ গঠন

  1. ফটোসিনথেটিক বা আত্মীকরণ অঞ্চল: উপরিভাগে অবস্থিত ক্লোরোপ্লাস্টযুক্ত খাড়া কোষ নিয়ে গঠিত। এখানে সালোকসংশ্লেষণ হয়। কোষগুলোর মধ্যবর্তী বায়ু প্রকোষ্ঠ বায়ুরন্ধ্রের মাধ্যমে বাইরের সঙ্গে যুক্ত থাকে।
  2. সঞ্চয়ী অঞ্চল: ফটোসিনথেটিক অঞ্চলের নিচে থাকে। পানি ধারণকারী কোষে খাদ্য সঞ্চিত থাকে।
  3. নিম্নক: একস্তরীয় কোষ দিয়ে গঠিত। এখান থেকে স্কেল এবং মসৃণ ও টিউবারকুলেট রাইজয়েড বের হয়।
শিক্ষকের টিপস: “রাইজয়েড—ধরে ও শোষে, স্কেল—মাটি ছোঁয়ায় ও আর্দ্রতা রাখে।” আর মনে রাখবে: ব্রায়োফাইটায় গ্যামিটোফাইট প্রধান, স্পোরোফাইট নির্ভরশীল।
পরীক্ষায় যেভাবে আসে: ব্রায়োফাইটার মূলের পরিবর্তে কী থাকে?—রাইজয়েড। Riccia থ্যালাসের খাদ্যসঞ্চয়কারী অংশ কোনটি?—সঞ্চয়ী অঞ্চল।

দ্রুত যাচাই ১: ব্রায়োফাইটাকে উচ্চতর ক্রিপ্টোগ্যামস বলা হয় কেন?

উত্তর দেখোএদের গঠন শৈবাল ও ছত্রাকের তুলনায় উন্নত ও জটিল বলে।

দ্রুত যাচাই ২: Riccia-এর থ্যালাসের তিনটি অভ্যন্তরীণ অঞ্চল কী?

উত্তর দেখোফটোসিনথেটিক বা আত্মীকরণ অঞ্চল, সঞ্চয়ী অঞ্চল এবং নিম্নক।

টেরিডোফাইটা ও Pteris-এর দেহগঠন

আজ আমরা টেরিডোফাইটা ও এর পরিচিত উদ্ভিদ Pteris-এর দেহগঠন শিখব। ফার্নজাতীয় উদ্ভিদ আমাদের চারপাশে দেখা যায়। এরা ফুল ও বীজ তৈরি করে না, কিন্তু দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে। তাই এরা ব্রায়োফাইটার চেয়ে উন্নত।

সংজ্ঞা: টেরিডোফাইটা হলো অপুষ্পক, অবীজী ও ভাস্কুলার ক্রিপ্টোগ্যাম উদ্ভিদ। এদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত এবং প্রধান উদ্ভিদদেহ হলো ডিপ্লয়েড স্পোরোফাইট।

ব্রায়োফাইটা ও টেরিডোফাইটার পার্থক্য

বিষয় ব্রায়োফাইটা টেরিডোফাইটা
দেহগঠন সত্যিকার মূল, কাণ্ড ও পাতা নেই মূল, কাণ্ড ও পাতা সুস্পষ্ট
পরিবহন টিস্যু নেই আছে
প্রধান প্রজন্ম গ্যামিটোফাইট স্পোরোফাইট

টেরিডোফাইটার প্রধান বৈশিষ্ট্য

প্রথমে মনে রাখবে—এরা ফুল ও বীজহীন উদ্ভিদ। এদের দেহ ট্রাকিওফাইটিক, অর্থাৎ জাইলেম ও ফ্লোয়েমসহ ভাস্কুলার টিস্যু আছে। দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। ভ্রূণ সৃষ্টি হয় এবং ভ্রূণ পরিণত হয়ে নতুন স্পোরোফাইটে বিকশিত হয়। স্পোরোফাইটে স্পোর উৎপন্ন হয়; স্পোর সমবীজী বা অসমবীজী হতে পারে। এদের জীবনচক্রে স্পোরোফাইট প্রধান এবং গ্যামিটোফাইট ক্ষুদ্র ও স্বল্পস্থায়ী।

Pteris-এর আবাসস্থল ও পরিচয়

বাংলাদেশে Pteris একটি পরিচিত ফার্ন। রোদে জন্মাতে পছন্দ করে বলে একে সানফার্ন বলা হয়। পুরাতন বা ভাঙা পাঁচিলের ফাটল, পুরাতন ইটের স্তূপ, গাছের গা এবং মাটির ফাঁকে এটি জন্মে। বাংলাদেশে প্রায় ১৫টি প্রজাতি দেখা যায়। উল্লেখযোগ্য প্রজাতি হলো Pteris vittata ও Pteris longifolia; এর মধ্যে Pteris vittata বেশি জন্মে।

উদাহরণ: পুরাতন ইটের দেয়ালের ফাটলে সূর্যের আলোতে জন্মানো ফার্নটি Pteris হতে পারে। এর মাটির নিচের রাইজোম থেকে মূল ও পাতা বের হয়।

Pteris-এর বাহ্যিক দেহগঠন

রাইজোম: এটি রূপান্তরিত ভূনিম্নকাণ্ড। মাটির গভীরে থাকে এবং এর বৃদ্ধি অনির্দিষ্ট। রাইজোমের নিচের দিক থেকে সূক্ষ্ম, শাখাবিশিষ্ট অস্থানিক মূল গুচ্ছাকারে বের হয়।

পাতা বা ফ্রন্ড: রাইজোম থেকে পাতাগুলো গুচ্ছাকারে বের হয়। কচি পাতা কুণ্ডলী পাকানো থাকে—এ বিন্যাসকে সার্কিনেট বলে। কুণ্ডলী পাকানো কচি পাতাকে ক্রোজিয়ার বলা হয়। যৌগিক পাতার প্রধান অক্ষ হলো র‍্যাকিস। র‍্যাকিসের দুই পাশে পাতার খণ্ড বা পিনা থাকে। বাদামি বর্ণের শল্কপত্র র‍্যামেন্টা র‍্যাকিস ও শিরাকে আবৃত করে।

📖 পাঠ্যবইয়ের চিত্র দেখো: Pteris-এর রাইজোম, ফ্রন্ড, র‍্যাকিস, পিনা ও সার্কিনেট কচি পাতা শনাক্ত করো।

অভ্যন্তরীণ গঠন

রাইজোম: বাইরে একস্তরীয় এপিডার্মিস। তার ভেতরে দু’স্তরীয় হাইপোডার্মিস এবং এরপর বহুস্তরীয় কর্টেক্স থাকে। কর্টেক্সের ভেতরে এনডোডার্মিসের আবরণ দেখা যায়। ভাস্কুলার বান্ডল অ্যাম্ফিভাসাল—অর্থাৎ কেন্দ্রে জাইলেম এবং তার চারদিকে ফ্লোয়েম থাকে।

র‍্যাকিস: বাইরের এপিডার্মিসের নিচে স্ক্লেরেনকাইমা কোষবিশিষ্ট হাইপোডার্মিস থাকে। তার ভেতরে বহুস্তরীয় কর্টেক্স। কর্টেক্সে পরিবহন কলাগুচ্ছ বা ভাস্কুলার বান্ডল থাকে। এখানেও বান্ডল অ্যাম্ফিভাসাল প্রকৃতির।

শিক্ষকের টিপস: “রাইজোমে র‍্যামেন্টা, র‍্যাকিসে পিনা”—এই বাক্যটি মনে রাখো। আর অ্যাম্ফিভাসাল মনে রাখবে: “জাইলেম মাঝে, ফ্লোয়েম পাশে”।
পরীক্ষায় যেভাবে আসে: Pteris-এর রাইজোমের প্রস্থচ্ছেদে এপিডার্মিস → হাইপোডার্মিস → কর্টেক্স → এনডোডার্মিস এবং অ্যাম্ফিভাসাল ভাস্কুলার বান্ডলের ক্রম লিখবে।

দ্রুত যাচাই

১। টেরিডোফাইটাকে ভাস্কুলার ক্রিপ্টোগ্যাম বলা হয় কেন?

উত্তর দেখোএদের দেহে জাইলেম ও ফ্লোয়েমসহ ভাস্কুলার টিস্যু আছে, কিন্তু ফুল ও বীজ নেই।

২। Pteris-এর পাতার খণ্ড এবং প্রধান অক্ষের নাম কী?

উত্তর দেখোপাতার খণ্ডের নাম পিনা এবং প্রধান অক্ষের নাম র‍্যাকিস।

Pteris-এর প্রজনন ও জীবনচক্র

Pteris একটি ফার্নজাতীয় অপুষ্পক উদ্ভিদ। এর প্রধান উদ্ভিদদেহ হলো ডিপ্লয়েড (2n) স্পোরোফাইট। এই স্পোরোফাইটে অঙ্গজ ও অযৌন প্রজনন ঘটে। আর স্পোর থেকে গঠিত হ্যাপ্লয়েড (n) প্রোথ্যালাসে যৌন প্রজনন সম্পন্ন হয়। তাই Pteris-এর জীবনচক্রে স্পোরোফাইট ও গ্যামিটোফাইট পর্যায়ক্রমে আসে।

সংজ্ঞা: যে জীবনচক্রে ডিপ্লয়েড স্পোরোফাইট ও হ্যাপ্লয়েড গ্যামিটোফাইট পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়, তাকে জনুক্রম বা alternation of generation বলে। Pteris-এ দুটি জনু আকৃতি ও গঠনে ভিন্ন; তাই এটি বিষমরূপী জনুক্রম (heteromorphic alternation of generation)।

১. অঙ্গজ প্রজনন

রাইজোমের কোনো অংশ থেকে নতুন অঙ্কুরিত শাখা তৈরি হয়। শাখাটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে তাতে নতুন মূল ও পাতা গজায়। এভাবেই পৃথক নতুন স্পোরোফাইট Pteris উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়।

২. অযৌন প্রজনন: স্পোরের সৃষ্টি

পরিণত Pteris-এর পাতার পিনা বা পত্রকের নিম্নতলে সারিবদ্ধভাবে ক্ষুদ্র স্পোরাঞ্জিয়াম থাকে। স্পোরাঞ্জিয়ামের গুচ্ছকে সোরাস (sorus) বলে। সোরাস সাধারণত বাদামি ও গোলাকার দেখায়। এর চারদিকে যে আবরণ থাকে তাকে ইনডুসিয়াম (indusium) বলে। পত্রকের ভেতরের দিকে থাকা বিশেষ পত্রককে স্পোরোফিল বলা হয়।

  • প্লাসেন্টা: স্পোরাঞ্জিয়ামের গোড়ায় অবস্থিত বিশেষ কোষের গুচ্ছ বা অক্ষ।
  • বৃন্ত (stalk): স্পোরাঞ্জিয়ামের গোড়ার শক্ত দণ্ড।
  • ক্যাপসুল: স্পোরাঞ্জিয়ামের প্রধান আবদ্ধ অংশ; এর ভেতরে স্পোরোজেনাস টিস্যু থাকে।
  • অ্যানুলাস (annulus): ক্যাপসুলের চারদিকে সারিবদ্ধ বিশেষ কোষ।
  • স্টোমিয়াম (stomium): স্পোরাঞ্জিয়ামের দুর্বল রেখা, যা ফেটে স্পোর বের হতে সাহায্য করে।

স্পোরোজেনাস টিস্যু থেকে ডিপ্লয়েড (2n) স্পোর মাতৃকোষ সৃষ্টি হয়। মিয়োসিস বিভাজনের ফলে প্রতিটি মাতৃকোষ থেকে হ্যাপ্লয়েড (n) স্পোর তৈরি হয়। একটি স্পোরাঞ্জিয়াম থেকে ৪৮টি স্পোর সৃষ্টি হয়।

উদাহরণ: শুষ্ক আবহাওয়ায় Pteris-এর পাতা ঝাঁকালে অ্যানুলাসের কোষে টান সৃষ্টি হয়। স্টোমিয়াম ফেটে যায় এবং স্পোর বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।

স্পোরাঞ্জিয়াম শুকিয়ে গেলে অ্যানুলাসের কোষগুলো এদিক-ওদিক সঞ্চালিত হয়। এর ফলে স্পোরাঞ্জিয়াম খুলে যায় এবং স্পোর দূরে ছড়িয়ে পড়ে।

৩. গ্যামিটোফাইট ও যৌন প্রজনন

আর্দ্র পরিবেশে স্পোর অঙ্কুরিত হয়ে মাইটোটিক বিভাজনের মাধ্যমে ছোট, সবুজ, বহুকোষী প্রোথ্যালাস সৃষ্টি করে। এটি Pteris-এর হ্যাপ্লয়েড গ্যামিটোফাইট। প্রোথ্যালাসের নিম্নপৃষ্ঠে এককোষী রাইজয়েড থাকে। রাইজয়েড প্রোথ্যালাসকে মাটির সঙ্গে যুক্ত রাখে এবং খাদ্যরস সরবরাহে সাহায্য করে।

প্রোথ্যালাসে বহুকোষী অ্যান্থেরিডিয়াম ও আর্কিগোনিয়াম সৃষ্টি হয়। অ্যান্থেরিডিয়াম সাধারণত নিম্নপৃষ্ঠে থাকে এবং সেখানে চলনশীল অ্যান্থেরোজয়েড বা শুক্রাণু তৈরি হয়। আর্কিগোনিয়াম থাকে উপরের দিকে; এতে ডিম্বাণু সৃষ্টি হয়।

শিশিরবিন্দু বা বৃষ্টির পানির সাহায্যে অ্যান্থেরোজয়েড সাঁতার কেটে আর্কিগোনিয়ামে পৌঁছায়। একটি অ্যান্থেরোজয়েড ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হলে নিষেক ঘটে এবং ডিপ্লয়েড (2n) জাইগোট বা উস্পোর সৃষ্টি হয়। জাইগোট বিভাজিত হয়ে ভ্রূণ গঠন করে। ভ্রূণ থেকে মূল, পাতা ও অন্যান্য অঙ্গ সৃষ্টি হয়ে নতুন স্পোরোফাইট Pteris গড়ে ওঠে।

Pteris-এর বিষমরূপী জনুক্রম1ডিপ্লয়েড স্পোরোফাইট2স্পোরাঞ্জিয়ামেমিয়োসিস3হ্যাপ্লয়েড স্পোর4প্রোথ্যালাস বাগ্যামিটোফাইট5অ্যান্থেরিডিয়াম ওআর্কিগোনিয়াম6পানিনির্ভর নিষেক7ডিপ্লয়েড জাইগোট ওভ্রূণ8নতুন স্পোরোফাইট
Pteris-এ দীর্ঘ স্পোরোফাইট ও সংক্ষিপ্ত গ্যামিটোফাইট পর্যায় পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়।
শিক্ষকের টিপস: মনে রাখবে—“স্পোরোফাইট স্পোর বানায়, প্রোথ্যালাস গ্যামেট বানায়।” নিষেকের জন্য পানি দরকার, তাই Pteris-এর যৌন প্রজনন পানিনির্ভর।
পরীক্ষায় যেভাবে আসে: সোরাস হলো স্পোরাঞ্জিয়ামের গুচ্ছ; ইনডুসিয়াম হলো সোরাসের আবরণ; অ্যানুলাস স্পোর ছড়াতে সাহায্য করে; আর স্টোমিয়াম ফেটে স্পোর বের হয়।

দ্রুত যাচাই

১। Pteris-এর স্পোর মাতৃকোষ থেকে হ্যাপ্লয়েড স্পোর কীভাবে সৃষ্টি হয়?

উত্তর দেখোমিয়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে ডিপ্লয়েড স্পোর মাতৃকোষ থেকে হ্যাপ্লয়েড স্পোর সৃষ্টি হয়।

২। Pteris-এর যৌন প্রজননে পানির প্রয়োজন কেন?

উত্তর দেখোচলনশীল অ্যান্থেরোজয়েড পানিতে সাঁতার কেটে আর্কিগোনিয়ামে পৌঁছে ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হয়।

ভাজক ও স্থায়ী টিস্যু

উদ্ভিদের বৃদ্ধি মূলত দুই ধরনের টিস্যুর মাধ্যমে ঘটে—ভাজক টিস্যু এবং স্থায়ী টিস্যু। ভাজক টিস্যুর কোষ বারবার বিভাজিত হয়। পরে এসব কোষ পরিণত হয়ে বিভিন্ন কাজের জন্য বিশেষায়িত হলে স্থায়ী টিস্যু তৈরি হয়।

সংজ্ঞা: যে টিস্যুর কোষগুলো বারবার বিভাজিত হতে পারে, তাকে ভাজক টিস্যু (Meristematic tissue) বলে। আর যে টিস্যুর কোষ পরিণত, বিশেষায়িত এবং সাধারণত বিভাজনে অক্ষম, তাকে স্থায়ী টিস্যু (Permanent tissue) বলে।

ভাজক টিস্যুর কাজ

  1. শীর্ষ ভাজক টিস্যুর বিভাজনে উদ্ভিদ লম্বা হয়।
  2. পার্শ্বীয় ভাজক টিস্যুর বিভাজনে কাণ্ড ও মূলের ব্যাস বৃদ্ধি পায়।
  3. ভাজক টিস্যু থেকে স্থায়ী টিস্যু সৃষ্টি হয়।
  4. বিভাজিত কোষ ক্ষতস্থান পূরণে সাহায্য করে।

উৎপত্তি অনুসারে শ্রেণিবিভাগ

  • প্রোমেরিস্টেম: মূল বা কাণ্ডের অগ্রভাগের ক্ষুদ্র প্রাথমিক অঞ্চল। এখান থেকে প্রাথমিক ভাজক টিস্যু সৃষ্টি হয় এবং প্রাথমিক বৃদ্ধি শুরু হয়।
  • প্রাথমিক ভাজক টিস্যু: প্রোমেরিস্টেম থেকে উৎপন্ন হয়। মূল ও কাণ্ডের শীর্ষে থাকে এবং উদ্ভিদের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করে।
  • সেকেন্ডারি ভাজক টিস্যু: কোনো স্থায়ী টিস্যু থেকে পরে সৃষ্টি হয়। ক্যাম্বিয়াম এর উদাহরণ। এটি গৌণ বৃদ্ধি ঘটায়।

অবস্থান অনুসারে শ্রেণিবিভাগ

  • শীর্ষ ভাজক: মূল, কাণ্ড ও শাখার শীর্ষে থাকে। দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করে এবং প্রাথমিক স্থায়ী টিস্যু তৈরি করে।
  • ইন্টারক্যালারি বা নিবেশিত ভাজক: কচি স্থায়ী টিস্যুর মাঝখানে, বিশেষত ঘাসের কাণ্ডের মধ্যপর্বের গোড়ায় বা পাতার গোড়ায় থাকে। কাণ্ডের বৃদ্ধি অব্যাহত রাখে।
  • পার্শ্বীয় ভাজক: মূল বা কাণ্ডের পাশে, স্থায়ী টিস্যুর মাঝখানে থাকে। ক্যাম্বিয়াম এর উদাহরণ। এটি কাণ্ড ও মূলের ব্যাস বাড়ায়।

কোষ বিভাজনের ধরন অনুসারে

  • মাস ভাজক: সব তলে বিভাজিত হয়ে দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতায় বৃদ্ধি ঘটায়।
  • প্লেট ভাজক: দুই তলে বিভাজিত হয়ে পাতার মতো সমতল অঙ্গ তৈরি করে। পাতায় দেখা যায়।
  • রিব ভাজক: এক তলে বিভাজিত হয়ে একসারি কোষ সৃষ্টি করে। বর্ধিষ্ণু মূল ও কাণ্ডে দেখা যায়।

কাজ অনুসারে ভাজক টিস্যু

  • প্রোটোডার্ম: উদ্ভিদের বহিরাবরণ বা এপিডার্মিস সৃষ্টি করে।
  • প্রোক্যাম্বিয়াম: পরিবহন টিস্যু—জাইলেম ও ফ্লোয়েম—সৃষ্টি করে।
  • গ্রাউন্ড মেরিস্টেম: প্যারেনকাইমা, কোলেনকাইমা, স্ক্লেরেনকাইমা, মজ্জা ও মজ্জারশ্মি সৃষ্টি করে।
ভাজক টিস্যু থেকে স্থায়ী টিস্যু1ভাজক টিস্যু2কোষ বিভাজন3কোষের পরিণতি4স্থায়ী টিস্যু
ভাজক কোষ পরিণত হয়ে নির্দিষ্ট কাজের স্থায়ী টিস্যু গঠন করে।

স্থায়ী টিস্যুর বৈশিষ্ট্য

স্থায়ী টিস্যুর কোষ সাধারণত বিভাজনে অক্ষম, পরিণত ও বিশেষায়িত। এতে জীবিত ও মৃত—দুই ধরনের কোষ থাকতে পারে। জীবিত কোষে সাইটোপ্লাজম কম, মৃত কোষে প্রোটোপ্লাজম থাকে না। কোষপ্রাচীর তুলনামূলক পুরু এবং কোষগহ্বর বড় হয়।

স্থায়ী টিস্যুর শ্রেণিবিভাগ

  • সরল টিস্যু: একই ধরনের কোষ দিয়ে গঠিত। এর তিন প্রকার—প্যারেনকাইমা, কোলেনকাইমা ও স্ক্লেরেনকাইমা। প্যারেনকাইমা সাধারণত সঞ্চয় ও সালোকসংশ্লেষণে, কোলেনকাইমা নমনীয় দৃঢ়তা দিতে এবং স্ক্লেরেনকাইমা শক্ত দৃঢ়তা দিতে সাহায্য করে।
  • জটিল টিস্যু: একাধিক ধরনের কোষ সম্মিলিতভাবে একই কাজ করে। জাইলেম ও ফ্লোয়েম এর উদাহরণ।
  • ক্ষরণকারী টিস্যু: রেজিন, গাম, তেল, এনজাইম ইত্যাদি নিঃসরণ করে। গ্রন্থি টিস্যু এর অন্তর্ভুক্ত।
অতিরিক্ত ব্যাখ্যা

জাইলেম মূল থেকে পানি ও খনিজ লবণ পরিবহন করে। ফ্লোয়েম পাতায় প্রস্তুত খাদ্য উদ্ভিদের অন্যান্য অংশে পরিবহন করে।

উদাহরণ: ক্যাম্বিয়াম একটি সেকেন্ডারি ও পার্শ্বীয় ভাজক টিস্যু। এর বিভাজনে কাণ্ডের গৌণ বৃদ্ধি হয়, ফলে কাণ্ড ক্রমে মোটা হয়।
শিক্ষকের টিপস: “শীর্ষে লম্বা, পাশে মোটা”—শীর্ষ ভাজক দৈর্ঘ্য বাড়ায়, পার্শ্বীয় ভাজক ব্যাস বাড়ায়। আর প্রোটোডার্ম–বহিরাবরণ, প্রোক্যাম্বিয়াম–পরিবহন, গ্রাউন্ড মেরিস্টেম–ভিতরের স্থায়ী টিস্যু মনে রাখবে।
পরীক্ষায় যেভাবে আসে: সংজ্ঞা, অবস্থান অনুসারে ভাজক টিস্যুর তিন প্রকার, ক্যাম্বিয়ামের ভূমিকা এবং সরল-জটিল-ক্ষরণকারী টিস্যুর শ্রেণিবিভাগ লিখতে বলা হয়।

দ্রুত যাচাই

১। কোন ভাজক টিস্যু উদ্ভিদের ব্যাস বৃদ্ধি করে?

উত্তর দেখোপার্শ্বীয় ভাজক টিস্যু।

২। জাইলেম ও ফ্লোয়েম কোন ধরনের স্থায়ী টিস্যু?

উত্তর দেখোজটিল বা যৌগিক স্থায়ী টিস্যু।

উদাহরণ ও সমাধান

উদাহরণ ১: লাইখেনকে সহবাসী উদ্ভিদ বলা হয় কেন? পরিবেশে এর দুটি গুরুত্ব লেখো।

  1. ধাপ ১: লাইখেন কোনো একক জীব নয়। ছত্রাক ও শৈবাল একত্রে বসবাস করলে লাইখেন সৃষ্টি হয়।
  2. ধাপ ২: ছত্রাক পরিবেশ থেকে পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করে শৈবালকে দেয়। শৈবাল সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য প্রস্তুত করে।
  3. ধাপ ৩: শৈবাল ছত্রাককে খাদ্য দেয় এবং ছত্রাক শৈবালকে বাসস্থান প্রদান করে। তাই এটি সহবাসী উদ্ভিদ।
  4. ধাপ ৪: লাইখেন মাটির পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং মাটির গঠন উন্নত করে। এটি পরিবেশ দূষণের ইন্ডিকেটর হিসেবেও কাজ করে।

চূড়ান্ত উত্তর: ছত্রাক ও শৈবালের পারস্পরিক বাস ও খাদ্য বিনিময়ের ফলে গঠিত জীবকে লাইখেন বলে। মাটির পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ দূষণের নির্দেশক হিসেবে লাইখেনের গুরুত্ব আছে।

উদাহরণ ২: ব্রায়োফাইটার বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো এবং Riccia-র আত্মীকরণ অঞ্চল চিহ্নিত করো।

  1. ধাপ ১: ব্রায়োফাইটা অপুষ্পক ও ভ্রূণী উদ্ভিদ। এদের দেহ গ্যামিটোফাইট ও স্পোরোফাইট প্রজন্মে বিভক্ত।
  2. ধাপ ২: এদের সত্যিকার মূল, কাণ্ড ও পাতা নেই। মূলের পরিবর্তে এককোষী বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে বহুকোষী রাইজয়েড থাকে।
  3. ধাপ ৩: ব্রায়োফাইটার দেহে ভাস্কুলার টিস্যু নেই। জীবনচক্রে গ্যামিটোফাইট প্রধান এবং স্পোরোফাইট গ্যামিটোফাইটের উপর নির্ভরশীল।
  4. ধাপ ৪: Riccia-র থ্যালাস সবুজ, শাখিত ও দ্বিখণ্ডিত। এর প্রস্থচ্ছেদে উপর থেকে নিচে আত্মীকরণ অঞ্চল, সঞ্চয়ী অঞ্চল এবং নিম্নক দেখা যায়।
  5. ধাপ ৫: ক্লোরোপ্লাস্টযুক্ত খাড়া কোষের সারি দিয়ে গঠিত উপরের অংশে সালোকসংশ্লেষণ ঘটে। তাই এটিই ফটোসিনথেটিক বা আত্মীকরণ অঞ্চল।

চূড়ান্ত উত্তর: ব্রায়োফাইটার মূল, কাণ্ড ও পাতার সুস্পষ্ট বিভাজন এবং ভাস্কুলার টিস্যু নেই। Riccia-র থ্যালাসের উপরিভাগের ক্লোরোপ্লাস্টযুক্ত অঞ্চলকে আত্মীকরণ অঞ্চল বলে।

উদাহরণ ৩: Pteris-এর অযৌন জনন ও জীবনচক্র ধারাবাহিকভাবে লেখো।

  1. ধাপ ১: পরিণত Pteris স্পোরোফাইটের পত্রকের নিম্নতলে সারিবদ্ধভাবে স্পোরাঞ্জিয়া তৈরি হয়। স্পোরাঞ্জিয়ামের গুচ্ছকে সোরাস বলে।
  2. ধাপ ২: স্পোরোজেনাস টিস্যু থেকে ডিপ্লয়েড স্পোর মাতৃকোষ সৃষ্টি হয়। মায়োসিসের ফলে হ্যাপ্লয়েড স্পোর উৎপন্ন হয়।
  3. ধাপ ৩: অ্যানুলাস শুকিয়ে গেলে স্পোরাঞ্জিয়াম ফেটে যায় এবং স্টোমিয়ামের মাধ্যমে স্পোর বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।
  4. ধাপ ৪: আর্দ্র পরিবেশে স্পোর অঙ্কুরিত হয়ে হ্যাপ্লয়েড প্রোথ্যালাস বা গ্যামিটোফাইট সৃষ্টি করে। প্রোথ্যালাসে অ্যান্থেরিডিয়াম ও আর্কিগোনিয়াম তৈরি হয়।
  5. ধাপ ৫: পানির সাহায্যে সচল শুক্রাণু আর্কিগোনিয়ামে প্রবেশ করে ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হয়। জাইগোট থেকে ভ্রূণ এবং পরে নতুন ডিপ্লয়েড স্পোরোফাইট সৃষ্টি হয়।

চূড়ান্ত উত্তর: Pteris-এর জীবনচক্রে ডিপ্লয়েড স্পোরোফাইট ও হ্যাপ্লয়েড গ্যামিটোফাইট পর্যায়ক্রমে আসে। স্পোরোফাইট দীর্ঘস্থায়ী এবং গ্যামিটোফাইট সংক্ষিপ্ত হওয়ায় এটি বিষমরূপী জনুক্রম।

উদাহরণ ৪: ভাজক টিস্যু ও স্থায়ী টিস্যুর মধ্যে পার্থক্য লেখো।

  1. ধাপ ১: ভাজক টিস্যুর কোষ নিয়মিত বিভাজিত হতে পারে। এই বিভাজনের ফলে উদ্ভিদের দৈর্ঘ্য, ব্যাস ও ক্ষতস্থান পূরণ বৃদ্ধি পায়।
  2. ধাপ ২: অবস্থান অনুসারে ভাজক টিস্যু শীর্ষ, ইন্টারক্যালারি ও পার্শ্বীয়—এই তিন ধরনের।
  3. ধাপ ৩: স্থায়ী টিস্যুর কোষ পরিণত এবং সাধারণত বিভাজনে অক্ষম। এরা নির্দিষ্ট কাজের জন্য বিশেষায়িত।
  4. ধাপ ৪: গঠন ও কাজ অনুযায়ী স্থায়ী টিস্যু সরল, জটিল এবং ক্ষরণকারী—এই তিন ধরনের। সরল টিস্যুর উদাহরণ প্যারেনকাইমা, কোলেনকাইমা ও স্ক্লেরেনকাইমা।
  5. ধাপ ৫: জাইলেম ও ফ্লোয়েম জটিল টিস্যু। জাইলেম পানি ও খনিজ লবণ পরিবহন করে, আর ফ্লোয়েম খাদ্য পরিবহন করে।

চূড়ান্ত উত্তর: বিভাজনক্ষম ও বৃদ্ধিসাধনকারী টিস্যু হলো ভাজক টিস্যু; পরিণত, বিশেষায়িত ও সাধারণত অবিভাজনক্ষম টিস্যু হলো স্থায়ী টিস্যু।

সংজ্ঞা, সূত্র ও সারসংক্ষেপ

পরিভাষা সংজ্ঞা বা সূত্র কখন ব্যবহার করবে
শৈবাল (Algae)ক্লোরোফিলযুক্ত, সরল, স্বভোজী এককোষী বা বহুকোষী উদ্ভিদ।বাস্তুতন্ত্রে উৎপাদক হিসেবে।
ছত্রাক (Fungi)ক্লোরোফিলবিহীন পরভোজী উদ্ভিদ; হাইফির সমষ্টি মাইসেলিয়াম।পুষ্টি ও দেহগঠন বোঝাতে।
লাইখেনছত্রাক ও শৈবালের সহাবস্থানে গঠিত জীব। ছত্রাক পানি-লবণ ও আশ্রয় দেয়; শৈবাল খাদ্য দেয়।সহবাস ও দূষণ-সূচক ব্যাখ্যায়।
ব্রায়োফাইটাঅপুষ্পক উদ্ভিদ; সত্যিকার মূল ও ভাস্কুলার টিস্যু নেই; গ্যামিটোফাইট প্রধান।মস ও লিভারওয়ার্টের বৈশিষ্ট্যে।
Ricciaথ্যালাসময়, দ্বিখণ্ডিত, সবুজ গ্যামিটোফাইট; রাইজয়েড ও স্কেল থাকে।ব্রায়োফাইটের উদাহরণে।
টেরিডোফাইটাঅপুষ্পক, ভাস্কুলার ও অবীজী উদ্ভিদ; স্পোরোফাইট প্রধান।ফার্নের বৈশিষ্ট্যে।
Pterisরাইজোম, মূল ও যৌগিক পত্রবিশিষ্ট ফার্ন; পাতার নিচে সোরাস থাকে।দেহগঠন ও প্রজননে।
সোরাসস্পোরাঞ্জিয়ামের গুচ্ছ; অ্যানুলাস শুকিয়ে স্টোমিয়াম ফাটলে স্পোর ছড়ায়।Pteris-এর অযৌন জননে।
জনুক্রমের সূত্র2n স্পোরোফাইট ─মায়োসিস→ n স্পোর ─মাইটোসিস→ গ্যামিটোফাইট; n+n→2n জাইগোট।Pteris-এর জীবনচক্রে।
ভাজক টিস্যুবিভাজনক্ষম টিস্যু; শীর্ষ, নিবেশিত ও পার্শ্বীয় প্রকার উদ্ভিদের বৃদ্ধি ঘটায়।দৈর্ঘ্য ও ব্যাস বৃদ্ধিতে।
স্থায়ী টিস্যুপরিণত, বিশেষায়িত ও সাধারণত বিভাজনে অক্ষম টিস্যু; সরল, জটিল ও নিঃসরণী।উদ্ভিদের গঠন ও কাজ লেখায়।
মূল কথাগুলো মনে রাখো
  • শৈবাল স্বভোজী, ছত্রাক পরভোজী।
  • লাইখেন হলো ছত্রাক ও শৈবালের সহবাসী সমন্বয়।
  • ব্রায়োফাইটায় গ্যামিটোফাইট প্রধান; টেরিডোফাইটায় স্পোরোফাইট প্রধান।
  • Riccia-র দেহ থ্যালাসময় এবং রাইজয়েড পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করে।
  • Pteris-এর স্পোরাঞ্জিয়ামের গুচ্ছকে সোরাস বলে।
  • পানির সাহায্যে Pteris-এর অ্যান্থেরোজয়েড আর্কিগোনিয়ামে পৌঁছে নিষেক ঘটায়।
  • ভাজক টিস্যু থেকে স্থায়ী টিস্যু সৃষ্টি হয়।
  • জাইলেম ও ফ্লোয়েম হলো জটিল স্থায়ী টিস্যু।

পরীক্ষা প্রস্তুতি

ক. বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ)

প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি বেছে নাও।

  1. শৈবালের প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?

    • ক) ক্লোরোফিলবিহীন পরভোজী
    • খ) ক্লোরোফিলযুক্ত স্বভোজী
    • গ) কেবল মৃতজীবী
    • ঘ) কেবল পরজীবী
  2. ছত্রাকের হাইফিগুলো একত্রে কী গঠন করে?

    • ক) সোরাস
    • খ) মাইসেলিয়াম
    • গ) প্রোথ্যালাস
    • ঘ) রাইজোম
  3. লাইখেন কোন দুটি জীবের সহাবস্থানে সৃষ্টি হয়?

    • ক) শৈবাল ও ব্যাকটেরিয়া
    • খ) ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া
    • গ) ছত্রাক ও শৈবাল
    • ঘ) মস ও ফার্ন
  4. ব্রায়োফাইটার জীবনচক্রে কোন প্রজন্ম প্রধান?

    • ক) স্পোরোফাইট
    • খ) গ্যামিটোফাইট
    • গ) ভ্রূণ
    • ঘ) জাইগোট
  5. Riccia-এর থ্যালাসের নিচের দিক থেকে কোনটি উৎপন্ন হয়?

    • ক) পিনা ও সোরাস
    • খ) স্কেল ও রাইজয়েড
    • গ) রাইজোম ও পত্র
    • ঘ) অ্যানুলাস ও স্টোমিয়াম
  6. Pteris-এর পাতার ক্ষুদ্র পত্রককে কী বলা হয়?

    • ক) পিনা
    • খ) ফ্রন্ড
    • গ) রাইজয়েড
    • ঘ) প্রোথ্যালাস
  7. Pteris-এর স্পোর মাতৃকোষ মায়োসিসের মাধ্যমে কী উৎপন্ন করে?

    • ক) ডিপ্লয়েড জাইগোট
    • খ) হ্যাপ্লয়েড স্পোর
    • গ) ডিপ্লয়েড ভ্রূণ
    • ঘ) হ্যাপ্লয়েড ডিম্বাণু
  8. কোন ভাজক টিস্যুর বিভাজনে উদ্ভিদের ব্যাস বৃদ্ধি পায়?

    • ক) শীর্ষ ভাজক টিস্যু
    • খ) ইন্টারক্যালারি ভাজক টিস্যু
    • গ) পার্শ্বীয় ভাজক টিস্যু
    • ঘ) রিব ভাজক টিস্যু

খ. সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

  1. লাইখেনকে সহবাসী উদ্ভিদ বলা হয় কেন?
  2. ব্রায়োফাইটা ও টেরিডোফাইটার মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
  3. Riccia-এর থ্যালাসের ফটোসিনথেটিক অঞ্চল ও সঞ্চয়ী অঞ্চলের কাজ লেখো।
  4. ভাজক টিস্যু ও স্থায়ী টিস্যুর মধ্যে পার্থক্য লেখো।

গ. সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক: একটি আর্দ্র পুরাতন ইটের দেওয়ালের ফাটলে প্রথমে সবুজ রঙের ক্ষুদ্র থ্যালাসজাতীয় উদ্ভিদ দেখা গেল। এর কিছুদিন পর একই স্থানে একটি ফার্নজাতীয় উদ্ভিদ জন্মাল। ফার্নটির পাতার নিচে বাদামি বর্ণের সোরাস দেখা যায়। উদ্ভিদটির কাণ্ড রাইজোমজাতীয় এবং পাতা কুণ্ডলী পাকানো অবস্থায় বের হয়। পরবর্তীকালে এর স্পোর থেকে আর্দ্র পরিবেশে প্রোথ্যালাস সৃষ্টি হয়। প্রোথ্যালাসে অ্যান্থেরিডিয়াম ও আর্কিগোনিয়াম তৈরি হয়।

  1. ক) জ্ঞানমূলক প্রশ্ন [১]
    ফার্নের গ্যামিটোফাইটকে কী বলা হয়?
  2. খ) অনুধাবনমূলক প্রশ্ন [২]
    Pteris-এর যৌন জননের জন্য পানি প্রয়োজন হয় কেন?
  3. গ) প্রয়োগমূলক প্রশ্ন [৩]
    উদ্দীপকের ফার্নটির জীবনচক্রে স্পোর থেকে নতুন স্পোরোফাইট সৃষ্টি পর্যন্ত ধাপগুলো ধারাবাহিকভাবে লেখো।
  4. ঘ) উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্ন [৪]
    উদ্দীপকের সবুজ থ্যালাসজাতীয় উদ্ভিদটি যদি Riccia হয় এবং ফার্নটি Pteris হয়, তবে উভয়ের গঠন ও জীবনচক্রের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

ক. MCQ-এর উত্তর

প্রশ্ন সঠিক উত্তর কারণ
১ খ শৈবাল সাধারণত ক্লোরোফিলযুক্ত স্বভোজী উদ্ভিদ।
২ খ হাইফিগুলো একত্রে মাইসেলিয়াম গঠন করে।
৩ গ লাইখেন ছত্রাক ও শৈবালের সহাবস্থানে সৃষ্টি হয়।
৪ খ ব্রায়োফাইটায় গ্যামিটোফাইট প্রজন্ম প্রধান।
৫ খ Riccia-এর থ্যালাস থেকে স্কেল ও রাইজয়েড উৎপন্ন হয়।
৬ ক Pteris-এর পাতার পত্রককে পিনা বলা হয়।
৭ খ মায়োসিসে হ্যাপ্লয়েড স্পোর উৎপন্ন হয়।
৮ গ পার্শ্বীয় ভাজক টিস্যু উদ্ভিদের ব্যাস বৃদ্ধি করে।

খ. সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের মডেল উত্তর

১। লাইখেন ছত্রাক ও শৈবালের সহাবস্থানে গঠিত হয়। ছত্রাক পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করে শৈবালকে দেয় এবং শৈবাল সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য তৈরি করে ছত্রাককে দেয়। তাই একে সহবাসী উদ্ভিদ বলা হয়।

২। ব্রায়োফাইটার সত্যিকার মূল, কাণ্ড ও পাতা নেই; টেরিডোফাইটার মূল, কাণ্ড ও পাতা সুস্পষ্ট। ব্রায়োফাইটায় ভাস্কুলার টিস্যু নেই, কিন্তু টেরিডোফাইটায় ভাস্কুলার টিস্যু আছে। ব্রায়োফাইটায় গ্যামিটোফাইট প্রধান, টেরিডোফাইটায় স্পোরোফাইট প্রধান।

৩। Riccia-এর ফটোসিনথেটিক অঞ্চলে ক্লোরোপ্লাস্টযুক্ত কোষ থাকে এবং সেখানে সালোকসংশ্লেষণ হয়। সঞ্চয়ী অঞ্চলের কোষে পানি ও খাদ্য সঞ্চিত থাকে।

৪। ভাজক টিস্যুর কোষ বিভাজনে সক্ষম এবং এর মাধ্যমে উদ্ভিদের বৃদ্ধি ঘটে। স্থায়ী টিস্যুর কোষ পরিণত ও বিশেষায়িত; সাধারণত তারা বিভাজনে অক্ষম। ভাজক টিস্যু থেকে স্থায়ী টিস্যু সৃষ্টি হয়।

গ. সৃজনশীল প্রশ্নের মডেল উত্তর

ক) ফার্নের গ্যামিটোফাইটকে প্রোথ্যালাস বলা হয়।

খ) Pteris-এর অ্যান্থেরিডিয়ামে উৎপন্ন অ্যান্থেরোজয়েড সচল এবং ফ্ল্যাজেলার সাহায্যে সাঁতার কাটে। শিশির বা বৃষ্টির পানির মাধ্যমে এটি আর্কিগোনিয়ামে পৌঁছে ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হয়। তাই যৌন জননের জন্য পানি প্রয়োজন।

গ) প্রথমে স্পোরাঞ্জিয়ামের স্পোর মাতৃকোষ মায়োসিসের মাধ্যমে হ্যাপ্লয়েড স্পোর সৃষ্টি করে। স্পোর বায়ুর মাধ্যমে ছড়িয়ে আর্দ্র স্থানে অঙ্কুরিত হয়। মাইটোটিক বিভাজনে বহুকোষী হ্যাপ্লয়েড প্রোথ্যালাস সৃষ্টি হয়। প্রোথ্যালাসে অ্যান্থেরিডিয়াম ও আর্কিগোনিয়াম তৈরি হয়। পানির সাহায্যে অ্যান্থেরোজয়েড আর্কিগোনিয়ামে প্রবেশ করে ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হয়ে ডিপ্লয়েড জাইগোট সৃষ্টি করে। জাইগোট থেকে ভ্রূণ এবং পরে মূল, রাইজোম ও পাতা-সহ নতুন ডিপ্লয়েড স্পোরোফাইট সৃষ্টি হয়।

ঘ) Riccia হলো ব্রায়োফাইটার সদস্য। এর দেহ থ্যালাসময়; সত্যিকার মূল, কাণ্ড ও পাতা নেই। এর পরিবর্তে রাইজয়েড ও স্কেল থাকে। Riccia-তে গ্যামিটোফাইট প্রধান এবং স্পোরোফাইট গ্যামিটোফাইটের উপর নির্ভরশীল। এর থ্যালাসে ফটোসিনথেটিক, সঞ্চয়ী ও নিম্নক অঞ্চল দেখা যায়।

অন্যদিকে Pteris হলো টেরিডোফাইটার সদস্য। এর স্পোরোফাইট দেহ মূল, রাইজোমজাতীয় কাণ্ড ও পত্রে বিভক্ত। এতে ভাস্কুলার টিস্যু থাকে। Pteris-এর পত্রের নিচে সোরাস থাকে এবং সোরাসে স্পোরাঞ্জিয়াম উৎপন্ন হয়। স্পোর থেকে স্বতন্ত্র প্রোথ্যালাস গঠিত হয়। প্রোথ্যালাসে যৌন জনন ঘটে এবং নিষেকের পরে নতুন স্পোরোফাইট সৃষ্টি হয়।

সুতরাং Riccia-তে গ্যামিটোফাইট প্রধান হলেও Pteris-এ স্পোরোফাইট প্রধান। উভয়ের যৌন জননের জন্য পানি দরকার, কিন্তু Pteris-এর দেহগঠন Riccia-এর তুলনায় অধিক উন্নত ও জটিল।

সাধারণ ভুল ও রিভিশন

ভুল সঠিক
শৈবাল ও ছত্রাক উভয়কেই স্বভোজী বলা। শৈবাল সাধারণত ক্লোরোফিলযুক্ত স্বভোজী; ছত্রাক ক্লোরোফিলবিহীন পরভোজী।
হাইফি ও মাইসেলিয়ামকে একই মনে করা। অনেক হাইফি একত্রে মাইসেলিয়াম গঠন করে।
লাইখেনকে একটি মাত্র উদ্ভিদ বলা। লাইখেন হলো ছত্রাক ও শৈবালের সহবাসী সমন্বয়।
ব্রায়োফাইটার সত্যিকার মূল, কাণ্ড ও পাতা আছে বলা। ব্রায়োফাইটায় সত্যিকার মূল নেই; রাইজয়েড থাকে এবং গ্যামিটোফাইট প্রধান।
Riccia-র ফটোসিনথেটিক অঞ্চল ও সঞ্চয়ী অঞ্চল গুলিয়ে ফেলা। উপরের অংশ ফটোসিনথেটিক, নিচের অংশ সঞ্চয়ী; নিম্নক থেকে স্কেল ও রাইজয়েড বের হয়।
Pteris-এর সোরাসকে একটি স্পোরাঞ্জিয়াম বলা। সোরাস হলো স্পোরাঞ্জিয়ামের গুচ্ছ; ইনডুসিয়াম তা আবৃত করে।
অ্যান্থেরিডিয়ামকে স্ত্রী জননাঙ্গ বলা। অ্যান্থেরিডিয়াম পুংজননাঙ্গ; আর্কিগোনিয়াম স্ত্রীজননাঙ্গ।
ভাজক ও স্থায়ী টিস্যুকে একই ধরনের বলা। ভাজক টিস্যু বিভাজনশীল; স্থায়ী টিস্যুর কোষ সাধারণত বিভাজনে অক্ষম।

রিভিশন চেকলিস্ট

  • শৈবাল, ছত্রাক ও লাইখেনের সংজ্ঞা ও পার্থক্য বলতে পারি।
  • হাইফি, মাইসেলিয়াম এবং লাইখেনে পারস্পরিক খাদ্য-বিনিময় ব্যাখ্যা করতে পারি।
  • ব্রায়োফাইটার প্রধান বৈশিষ্ট্য লিখতে পারি।
  • Riccia-র বাসস্থান, বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ গঠন বর্ণনা করতে পারি।
  • টেরিডোফাইটার বৈশিষ্ট্য ও Pteris-এর দেহগঠন শনাক্ত করতে পারি।
  • সোরাস, স্পোরাঞ্জিয়াম, অ্যানুলাস ও স্টোমিয়ামের সম্পর্ক লিখতে পারি।
  • Pteris-এর স্পোরোফাইট ও গ্যামিটোফাইট পর্যায়ক্রমে সাজাতে পারি।
  • অ্যান্থেরিডিয়াম, আর্কিগোনিয়াম ও নিষেকের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে পারি।
  • ভাজক টিস্যুর শ্রেণিবিভাগ ও কাজ লিখতে পারি।
  • স্থায়ী টিস্যুর সরল, জটিল ও ক্ষরণী শ্রেণি উদাহরণসহ বলতে পারি।

নিয়মিত তুলনামূলক ছক ও জীবনচক্র অনুশীলন করলে এই অধ্যায়ে ভালো ফল করা অবশ্যই সম্ভব।

⚡ Related Tools — Try These Next
📋
MCQ Practice
Topic-wise timed tests
🏛
University Guide
All 22 universities
🧑
Ask Kabir
Expert advisor
🏆
Scholarships
Find funding
Browse all 18+ tools →
🎓 Planning to apply? Browse our complete university admission guide → with requirements, fees, and cutoffs for all 22 major universities in Bangladesh.

সম্পর্কিত পোস্ট / Related posts

HSC
HSC

Admission Test Prep: অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন

ADMISSION TEST PREPARATION অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী How to use this sheet ★★★ = the par

HSC
HSC

Admission Test Prep: অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন

ADMISSION TEST PREPARATION অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী How to use this sheet ★★★ = the p

HSC
HSC

এইচএসসি সাজেশন: অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন / অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন / অধ্যায় ৩: কোষ রসায়ন

এইচএসসি সাজেশন (একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি) অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন / অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন / অধ্যায় ৩: কোষ রসায়ন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত

HSC
HSC

লেকচার শিট: অধ্যায় ১২: জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ

লেকচার শিট অধ্যায় ১২: জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পরিচিতি এই পাঠে যা শিখবে বাস্

HSC
HSC

লেকচার শিট: অধ্যায় ১১: জীবপ্রযুক্তি

লেকচার শিট অধ্যায় ১১: জীবপ্রযুক্তি একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পরিচিতি এই পাঠে যা শিখবে কৃষিতে জিনপ্রযুক্তির ব্

HSC
HSC

লেকচার শিট: অধ্যায় ১০: উদ্ভিদ প্রজনন

লেকচার শিট অধ্যায় ১০: উদ্ভিদ প্রজনন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পরিচিতি এই পাঠে যা শিখবে ডিম্বকের প্রধান অংশ এব

🎓
আরও লেকচার শিট, মডেল টেস্ট ও প্র্যাকটিস — AlphaGenEduMore lecture sheets, board questions and MCQ practice for every class, free on alphagenedu.com
AlphaGenEdu-তে যান →
Kabir — Ask me about admissions! 🎓

AdmissionPaths Support

🟢 Online · How can we help?
🧑
Ask Kabir
Admission advisor · 20+ yrs
💬
Live Support Chat
AI-powered · instant replies
🎫
Submit a Ticket
Response within 24 hours
❓
Browse FAQ
Quick answers
🤖
AdmissionPaths Support
🟢 AI-powered · replies instantly