উদ্ভিদে ক্লোরোফিল থাকলে সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য তৈরি হতে পারে। শৈবাল সাধারণত ক্লোরোফিলযুক্ত ও স্বভোজী, কিন্তু ছত্রাকে ক্লোরোফিল না থাকায় তারা পরভোজী।
সপুষ্পক উদ্ভিদকে ফ্যানেরোগ্যামস এবং অপুষ্পক উদ্ভিদকে ক্রিপ্টোগ্যামস বলা হয়। শৈবাল ও ছত্রাক নিম্নতর ক্রিপ্টোগ্যাম; ব্রায়োফাইটা ও টেরিডোফাইটা উচ্চতর ক্রিপ্টোগ্যাম।
উদ্ভিদের দেহে মূল, কাণ্ড ও পাতার মতো অঙ্গ এবং বিভিন্ন টিস্যু থাকে—এ ধারণা মনে রাখলে Pteris ও টিস্যুর অধ্যায় বুঝতে সুবিধা হবে।
শৈবাল বাস্তুতন্ত্রের খাদ্যশৃঙ্খলে উৎপাদক। ছত্রাক খাদ্য, ওষুধ ও বিভিন্ন রোগের সঙ্গে যুক্ত। লাইখেন পরিবেশদূষণের নির্দেশক হিসেবে কাজ করে। ব্রায়োফাইটা ও টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের বিবর্তন ও স্থলজ অভিযোজন বোঝায়।
পরীক্ষায় সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য, Riccia ও Pteris-এর গঠন, প্রজনন, জীবনচক্র এবং ভাজক-স্থায়ী টিস্যুর শ্রেণিবিভাগ থেকে প্রশ্ন আসে। তাই ধারাবাহিকভাবে পড়া জরুরি।
| ক্রম | আলোচ্য বিষয় |
|---|---|
| ১ | শৈবাল, ছত্রাক ও লাইখেন |
| ২ | ব্রায়োফাইটা ও Riccia |
| ৩ | টেরিডোফাইটা ও Pteris |
| ৪ | Pteris-এর প্রজনন ও জীবনচক্র |
| ৫ | ভাজক ও স্থায়ী টিস্যু |
আজ আমরা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শিখব—শৈবাল, ছত্রাক ও লাইখেন। এদের বাসস্থান, গঠন, পুষ্টি, প্রজনন এবং পরিবেশগত গুরুত্ব বুঝে পড়বে।
শৈবাল হলো ক্লোরোফিলযুক্ত, সরল প্রকৃতির উদ্ভিদ। এদের দেহ এককোষী বা বহুকোষী হতে পারে। এককোষী শৈবাল একা থাকতে পারে, আবার কলোনি গঠন করেও বাস করতে পারে। মিঠা পানি, লবণাক্ত পানি, মাটি এমনকি পাথরের গায়েও শৈবাল জন্মে।
শৈবালে ক্লোরোফিল থাকায় তারা সূর্যালোকের সাহায্যে সালোকসংশ্লেষণ করে নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করে। তাই শৈবাল স্বভোজী। অযৌন ও যৌন—উভয় প্রক্রিয়ায় শৈবালের বংশবৃদ্ধি ঘটে। নীলাভ-সবুজ শৈবালকে বর্তমানে সায়ানোব্যাকটেরিয়া বলা হয়; কারণ এরা আদিকোষী, কিন্তু অন্য শৈবাল প্রকৃতকোষী।
বাস্তুতন্ত্রে শৈবাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যশৃঙ্খলে তারা উৎপাদক হিসেবে কাজ করে। মানুষ ও পশুর খাদ্য হিসেবেও কিছু শৈবালের ব্যবহার আছে।
ছত্রাকে ক্লোরোফিল বা সালোকসংশ্লেষণকারী রঞ্জক পদার্থ থাকে না। তাই ছত্রাক নিজের খাদ্য তৈরি করতে পারে না; তারা পরভোজী। কিছু ছত্রাক মৃতজীবী, কিছু পরজীবী এবং কিছু অপভোজী। ছত্রাক এককোষী বা বহুকোষী হতে পারে। বহুকোষী ছত্রাকের সূক্ষ্ম সুতার মতো গঠনকে হাইফি (Hyphae) বলে। অনেক হাইফি একত্রে মাইসেলিয়াম (Mycelium) গঠন করে।
ছত্রাক অযৌন ও যৌন—দুই প্রক্রিয়ায় বংশবৃদ্ধি করে। মানুষের খাদ্য হিসেবে ছত্রাকের ব্যবহার আছে। আবার কিছু ছত্রাক মানুষের বিভিন্ন রোগের কারণ হতে পারে।
লাইখেন কোনো একক জীব নয়। ছত্রাক ও শৈবালের সহাবস্থানের ফলে লাইখেন গঠিত হয়। এখানে উভয় জীব পরস্পরকে সাহায্য করে। ছত্রাক পরিবেশ থেকে পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করে শৈবালকে দেয়। শৈবাল সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য তৈরি করে এবং সেই খাদ্যের অংশ ছত্রাককে দেয়। ছত্রাক শৈবালকে বাসস্থান ও সুরক্ষা প্রদান করে।
লাইখেন মাটির পানি ধারণক্ষমতা বাড়ায় এবং মাটির গঠন উন্নত করে। উঁচু পাহাড় ও গাছের বাকলে জন্মে লাইখেন কখনো কখনো তাদের দৃঢ়তা কমাতে পারে। এটি পরিবেশ দূষণের নির্দেশক বা ইন্ডিকেটর হিসেবেও কাজ করে। গাছের ত্বক, পুরোনো ইটের দেয়াল ও ছাদে দীর্ঘদিন লাইখেন থাকলে আবহাওয়াজনিত ক্ষয় হতে পারে।
পরিবেশ থেকে বিভিন্ন লাইখেন সংগ্রহ করো। কোন গাছ, দেয়াল বা স্থানে পাওয়া গেছে তা লিখে রাখো। সাধারণত ওই স্থানে লাইখেন থাকে কি না পর্যবেক্ষণ করো। শেষে শনাক্তকরণ, বাসস্থান ও পর্যবেক্ষণের তথ্য দিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে শিক্ষকের কাছে জমা দাও।
দ্রুত যাচাই
১। শৈবালকে স্বভোজী বলা হয় কেন?
২। লাইখেনে ছত্রাক ও শৈবাল কীভাবে পরস্পরকে সাহায্য করে?
যেসব উদ্ভিদে ফুল হয়, তাদের সপুষ্পক উদ্ভিদ বা ফ্যানেরোগ্যামস (Phanerogams) বলা হয়। যেমন—সরিষা, গোলাপ, জবা। যেসব উদ্ভিদে কখনো ফুল হয় না, তাদের অপুষ্পক উদ্ভিদ বা ক্রিপ্টোগ্যামস (Cryptogams) বলা হয়। শৈবাল ও ছত্রাক হলো নিম্নতর ক্রিপ্টোগ্যামস। ব্রায়োফাইটা ও টেরিডোফাইটা হলো উচ্চতর ক্রিপ্টোগ্যামস। কারণ এদের দেহ শৈবাল ও ছত্রাকের তুলনায় বেশি উন্নত ও জটিল।
ব্রায়োফাইটার আদিম বৈশিষ্ট্য হলো—গ্যামিটোফাইট হ্যাপ্লয়েড, স্পোরোফাইট ডিপ্লয়েড, সত্যিকার মূল নেই এবং ভাস্কুলার টিস্যু অনুপস্থিত। উন্নত বৈশিষ্ট্যের উদাহরণ হলো Anthoceros-এর ক্যাপসুলে ক্লোরোপ্লাস্ট ও স্টোমাটার উপস্থিতি। ব্রায়োফাইটার তিনটি শ্রেণি হলো—হেপাটিকি (Hepaticae), অ্যাথোসেরোটি (Anthocerotae) ও মসাই (Musci)।
Riccia হেপাটিকি শ্রেণির একটি গণ। এটি সাধারণত পুকুরের পাড়ের মাটি, নদীর তীরের বালি ও আর্দ্র স্থানে জন্মে। Riccia fluitans পানিতে ভাসমান অবস্থায় দেখা যায়। এর থ্যালাস সবুজ, শাখিত ও দ্বিখণ্ডিত। অনেক থ্যালাস একত্রে গুচ্ছাকারে জন্মালে তাকে রোজেট বলে। প্রতিটি শাখার শীর্ষে থাকা খাঁজকে অগ্রীয় খাঁজ বলে। নিচের পৃষ্ঠ থেকে বহুকোষী স্কেল এবং এককোষী মসৃণ ও টিউবারকুলেট রাইজয়েড বের হয়।
দ্রুত যাচাই ১: ব্রায়োফাইটাকে উচ্চতর ক্রিপ্টোগ্যামস বলা হয় কেন?
দ্রুত যাচাই ২: Riccia-এর থ্যালাসের তিনটি অভ্যন্তরীণ অঞ্চল কী?
আজ আমরা টেরিডোফাইটা ও এর পরিচিত উদ্ভিদ Pteris-এর দেহগঠন শিখব। ফার্নজাতীয় উদ্ভিদ আমাদের চারপাশে দেখা যায়। এরা ফুল ও বীজ তৈরি করে না, কিন্তু দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে। তাই এরা ব্রায়োফাইটার চেয়ে উন্নত।
| বিষয় | ব্রায়োফাইটা | টেরিডোফাইটা |
|---|---|---|
| দেহগঠন | সত্যিকার মূল, কাণ্ড ও পাতা নেই | মূল, কাণ্ড ও পাতা সুস্পষ্ট |
| পরিবহন টিস্যু | নেই | আছে |
| প্রধান প্রজন্ম | গ্যামিটোফাইট | স্পোরোফাইট |
প্রথমে মনে রাখবে—এরা ফুল ও বীজহীন উদ্ভিদ। এদের দেহ ট্রাকিওফাইটিক, অর্থাৎ জাইলেম ও ফ্লোয়েমসহ ভাস্কুলার টিস্যু আছে। দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। ভ্রূণ সৃষ্টি হয় এবং ভ্রূণ পরিণত হয়ে নতুন স্পোরোফাইটে বিকশিত হয়। স্পোরোফাইটে স্পোর উৎপন্ন হয়; স্পোর সমবীজী বা অসমবীজী হতে পারে। এদের জীবনচক্রে স্পোরোফাইট প্রধান এবং গ্যামিটোফাইট ক্ষুদ্র ও স্বল্পস্থায়ী।
বাংলাদেশে Pteris একটি পরিচিত ফার্ন। রোদে জন্মাতে পছন্দ করে বলে একে সানফার্ন বলা হয়। পুরাতন বা ভাঙা পাঁচিলের ফাটল, পুরাতন ইটের স্তূপ, গাছের গা এবং মাটির ফাঁকে এটি জন্মে। বাংলাদেশে প্রায় ১৫টি প্রজাতি দেখা যায়। উল্লেখযোগ্য প্রজাতি হলো Pteris vittata ও Pteris longifolia; এর মধ্যে Pteris vittata বেশি জন্মে।
রাইজোম: এটি রূপান্তরিত ভূনিম্নকাণ্ড। মাটির গভীরে থাকে এবং এর বৃদ্ধি অনির্দিষ্ট। রাইজোমের নিচের দিক থেকে সূক্ষ্ম, শাখাবিশিষ্ট অস্থানিক মূল গুচ্ছাকারে বের হয়।
পাতা বা ফ্রন্ড: রাইজোম থেকে পাতাগুলো গুচ্ছাকারে বের হয়। কচি পাতা কুণ্ডলী পাকানো থাকে—এ বিন্যাসকে সার্কিনেট বলে। কুণ্ডলী পাকানো কচি পাতাকে ক্রোজিয়ার বলা হয়। যৌগিক পাতার প্রধান অক্ষ হলো র্যাকিস। র্যাকিসের দুই পাশে পাতার খণ্ড বা পিনা থাকে। বাদামি বর্ণের শল্কপত্র র্যামেন্টা র্যাকিস ও শিরাকে আবৃত করে।
📖 পাঠ্যবইয়ের চিত্র দেখো: Pteris-এর রাইজোম, ফ্রন্ড, র্যাকিস, পিনা ও সার্কিনেট কচি পাতা শনাক্ত করো।
রাইজোম: বাইরে একস্তরীয় এপিডার্মিস। তার ভেতরে দু’স্তরীয় হাইপোডার্মিস এবং এরপর বহুস্তরীয় কর্টেক্স থাকে। কর্টেক্সের ভেতরে এনডোডার্মিসের আবরণ দেখা যায়। ভাস্কুলার বান্ডল অ্যাম্ফিভাসাল—অর্থাৎ কেন্দ্রে জাইলেম এবং তার চারদিকে ফ্লোয়েম থাকে।
র্যাকিস: বাইরের এপিডার্মিসের নিচে স্ক্লেরেনকাইমা কোষবিশিষ্ট হাইপোডার্মিস থাকে। তার ভেতরে বহুস্তরীয় কর্টেক্স। কর্টেক্সে পরিবহন কলাগুচ্ছ বা ভাস্কুলার বান্ডল থাকে। এখানেও বান্ডল অ্যাম্ফিভাসাল প্রকৃতির।
১। টেরিডোফাইটাকে ভাস্কুলার ক্রিপ্টোগ্যাম বলা হয় কেন?
২। Pteris-এর পাতার খণ্ড এবং প্রধান অক্ষের নাম কী?
Pteris একটি ফার্নজাতীয় অপুষ্পক উদ্ভিদ। এর প্রধান উদ্ভিদদেহ হলো ডিপ্লয়েড (2n) স্পোরোফাইট। এই স্পোরোফাইটে অঙ্গজ ও অযৌন প্রজনন ঘটে। আর স্পোর থেকে গঠিত হ্যাপ্লয়েড (n) প্রোথ্যালাসে যৌন প্রজনন সম্পন্ন হয়। তাই Pteris-এর জীবনচক্রে স্পোরোফাইট ও গ্যামিটোফাইট পর্যায়ক্রমে আসে।
রাইজোমের কোনো অংশ থেকে নতুন অঙ্কুরিত শাখা তৈরি হয়। শাখাটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে তাতে নতুন মূল ও পাতা গজায়। এভাবেই পৃথক নতুন স্পোরোফাইট Pteris উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়।
পরিণত Pteris-এর পাতার পিনা বা পত্রকের নিম্নতলে সারিবদ্ধভাবে ক্ষুদ্র স্পোরাঞ্জিয়াম থাকে। স্পোরাঞ্জিয়ামের গুচ্ছকে সোরাস (sorus) বলে। সোরাস সাধারণত বাদামি ও গোলাকার দেখায়। এর চারদিকে যে আবরণ থাকে তাকে ইনডুসিয়াম (indusium) বলে। পত্রকের ভেতরের দিকে থাকা বিশেষ পত্রককে স্পোরোফিল বলা হয়।
স্পোরোজেনাস টিস্যু থেকে ডিপ্লয়েড (2n) স্পোর মাতৃকোষ সৃষ্টি হয়। মিয়োসিস বিভাজনের ফলে প্রতিটি মাতৃকোষ থেকে হ্যাপ্লয়েড (n) স্পোর তৈরি হয়। একটি স্পোরাঞ্জিয়াম থেকে ৪৮টি স্পোর সৃষ্টি হয়।
স্পোরাঞ্জিয়াম শুকিয়ে গেলে অ্যানুলাসের কোষগুলো এদিক-ওদিক সঞ্চালিত হয়। এর ফলে স্পোরাঞ্জিয়াম খুলে যায় এবং স্পোর দূরে ছড়িয়ে পড়ে।
আর্দ্র পরিবেশে স্পোর অঙ্কুরিত হয়ে মাইটোটিক বিভাজনের মাধ্যমে ছোট, সবুজ, বহুকোষী প্রোথ্যালাস সৃষ্টি করে। এটি Pteris-এর হ্যাপ্লয়েড গ্যামিটোফাইট। প্রোথ্যালাসের নিম্নপৃষ্ঠে এককোষী রাইজয়েড থাকে। রাইজয়েড প্রোথ্যালাসকে মাটির সঙ্গে যুক্ত রাখে এবং খাদ্যরস সরবরাহে সাহায্য করে।
প্রোথ্যালাসে বহুকোষী অ্যান্থেরিডিয়াম ও আর্কিগোনিয়াম সৃষ্টি হয়। অ্যান্থেরিডিয়াম সাধারণত নিম্নপৃষ্ঠে থাকে এবং সেখানে চলনশীল অ্যান্থেরোজয়েড বা শুক্রাণু তৈরি হয়। আর্কিগোনিয়াম থাকে উপরের দিকে; এতে ডিম্বাণু সৃষ্টি হয়।
শিশিরবিন্দু বা বৃষ্টির পানির সাহায্যে অ্যান্থেরোজয়েড সাঁতার কেটে আর্কিগোনিয়ামে পৌঁছায়। একটি অ্যান্থেরোজয়েড ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হলে নিষেক ঘটে এবং ডিপ্লয়েড (2n) জাইগোট বা উস্পোর সৃষ্টি হয়। জাইগোট বিভাজিত হয়ে ভ্রূণ গঠন করে। ভ্রূণ থেকে মূল, পাতা ও অন্যান্য অঙ্গ সৃষ্টি হয়ে নতুন স্পোরোফাইট Pteris গড়ে ওঠে।
১। Pteris-এর স্পোর মাতৃকোষ থেকে হ্যাপ্লয়েড স্পোর কীভাবে সৃষ্টি হয়?
২। Pteris-এর যৌন প্রজননে পানির প্রয়োজন কেন?
উদ্ভিদের বৃদ্ধি মূলত দুই ধরনের টিস্যুর মাধ্যমে ঘটে—ভাজক টিস্যু এবং স্থায়ী টিস্যু। ভাজক টিস্যুর কোষ বারবার বিভাজিত হয়। পরে এসব কোষ পরিণত হয়ে বিভিন্ন কাজের জন্য বিশেষায়িত হলে স্থায়ী টিস্যু তৈরি হয়।
স্থায়ী টিস্যুর কোষ সাধারণত বিভাজনে অক্ষম, পরিণত ও বিশেষায়িত। এতে জীবিত ও মৃত—দুই ধরনের কোষ থাকতে পারে। জীবিত কোষে সাইটোপ্লাজম কম, মৃত কোষে প্রোটোপ্লাজম থাকে না। কোষপ্রাচীর তুলনামূলক পুরু এবং কোষগহ্বর বড় হয়।
জাইলেম মূল থেকে পানি ও খনিজ লবণ পরিবহন করে। ফ্লোয়েম পাতায় প্রস্তুত খাদ্য উদ্ভিদের অন্যান্য অংশে পরিবহন করে।
১। কোন ভাজক টিস্যু উদ্ভিদের ব্যাস বৃদ্ধি করে?
২। জাইলেম ও ফ্লোয়েম কোন ধরনের স্থায়ী টিস্যু?
উদাহরণ ১: লাইখেনকে সহবাসী উদ্ভিদ বলা হয় কেন? পরিবেশে এর দুটি গুরুত্ব লেখো।
চূড়ান্ত উত্তর: ছত্রাক ও শৈবালের পারস্পরিক বাস ও খাদ্য বিনিময়ের ফলে গঠিত জীবকে লাইখেন বলে। মাটির পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ দূষণের নির্দেশক হিসেবে লাইখেনের গুরুত্ব আছে।
উদাহরণ ২: ব্রায়োফাইটার বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো এবং Riccia-র আত্মীকরণ অঞ্চল চিহ্নিত করো।
চূড়ান্ত উত্তর: ব্রায়োফাইটার মূল, কাণ্ড ও পাতার সুস্পষ্ট বিভাজন এবং ভাস্কুলার টিস্যু নেই। Riccia-র থ্যালাসের উপরিভাগের ক্লোরোপ্লাস্টযুক্ত অঞ্চলকে আত্মীকরণ অঞ্চল বলে।
উদাহরণ ৩: Pteris-এর অযৌন জনন ও জীবনচক্র ধারাবাহিকভাবে লেখো।
চূড়ান্ত উত্তর: Pteris-এর জীবনচক্রে ডিপ্লয়েড স্পোরোফাইট ও হ্যাপ্লয়েড গ্যামিটোফাইট পর্যায়ক্রমে আসে। স্পোরোফাইট দীর্ঘস্থায়ী এবং গ্যামিটোফাইট সংক্ষিপ্ত হওয়ায় এটি বিষমরূপী জনুক্রম।
উদাহরণ ৪: ভাজক টিস্যু ও স্থায়ী টিস্যুর মধ্যে পার্থক্য লেখো।
চূড়ান্ত উত্তর: বিভাজনক্ষম ও বৃদ্ধিসাধনকারী টিস্যু হলো ভাজক টিস্যু; পরিণত, বিশেষায়িত ও সাধারণত অবিভাজনক্ষম টিস্যু হলো স্থায়ী টিস্যু।
| পরিভাষা | সংজ্ঞা বা সূত্র | কখন ব্যবহার করবে |
|---|---|---|
| শৈবাল (Algae) | ক্লোরোফিলযুক্ত, সরল, স্বভোজী এককোষী বা বহুকোষী উদ্ভিদ। | বাস্তুতন্ত্রে উৎপাদক হিসেবে। |
| ছত্রাক (Fungi) | ক্লোরোফিলবিহীন পরভোজী উদ্ভিদ; হাইফির সমষ্টি মাইসেলিয়াম। | পুষ্টি ও দেহগঠন বোঝাতে। |
| লাইখেন | ছত্রাক ও শৈবালের সহাবস্থানে গঠিত জীব। ছত্রাক পানি-লবণ ও আশ্রয় দেয়; শৈবাল খাদ্য দেয়। | সহবাস ও দূষণ-সূচক ব্যাখ্যায়। |
| ব্রায়োফাইটা | অপুষ্পক উদ্ভিদ; সত্যিকার মূল ও ভাস্কুলার টিস্যু নেই; গ্যামিটোফাইট প্রধান। | মস ও লিভারওয়ার্টের বৈশিষ্ট্যে। |
| Riccia | থ্যালাসময়, দ্বিখণ্ডিত, সবুজ গ্যামিটোফাইট; রাইজয়েড ও স্কেল থাকে। | ব্রায়োফাইটের উদাহরণে। |
| টেরিডোফাইটা | অপুষ্পক, ভাস্কুলার ও অবীজী উদ্ভিদ; স্পোরোফাইট প্রধান। | ফার্নের বৈশিষ্ট্যে। |
| Pteris | রাইজোম, মূল ও যৌগিক পত্রবিশিষ্ট ফার্ন; পাতার নিচে সোরাস থাকে। | দেহগঠন ও প্রজননে। |
| সোরাস | স্পোরাঞ্জিয়ামের গুচ্ছ; অ্যানুলাস শুকিয়ে স্টোমিয়াম ফাটলে স্পোর ছড়ায়। | Pteris-এর অযৌন জননে। |
| জনুক্রমের সূত্র | 2n স্পোরোফাইট ─মায়োসিস→ n স্পোর ─মাইটোসিস→ গ্যামিটোফাইট; n+n→2n জাইগোট। | Pteris-এর জীবনচক্রে। |
| ভাজক টিস্যু | বিভাজনক্ষম টিস্যু; শীর্ষ, নিবেশিত ও পার্শ্বীয় প্রকার উদ্ভিদের বৃদ্ধি ঘটায়। | দৈর্ঘ্য ও ব্যাস বৃদ্ধিতে। |
| স্থায়ী টিস্যু | পরিণত, বিশেষায়িত ও সাধারণত বিভাজনে অক্ষম টিস্যু; সরল, জটিল ও নিঃসরণী। | উদ্ভিদের গঠন ও কাজ লেখায়। |
প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি বেছে নাও।
শৈবালের প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
ছত্রাকের হাইফিগুলো একত্রে কী গঠন করে?
লাইখেন কোন দুটি জীবের সহাবস্থানে সৃষ্টি হয়?
ব্রায়োফাইটার জীবনচক্রে কোন প্রজন্ম প্রধান?
Riccia-এর থ্যালাসের নিচের দিক থেকে কোনটি উৎপন্ন হয়?
Pteris-এর পাতার ক্ষুদ্র পত্রককে কী বলা হয়?
Pteris-এর স্পোর মাতৃকোষ মায়োসিসের মাধ্যমে কী উৎপন্ন করে?
কোন ভাজক টিস্যুর বিভাজনে উদ্ভিদের ব্যাস বৃদ্ধি পায়?
উদ্দীপক: একটি আর্দ্র পুরাতন ইটের দেওয়ালের ফাটলে প্রথমে সবুজ রঙের ক্ষুদ্র থ্যালাসজাতীয় উদ্ভিদ দেখা গেল। এর কিছুদিন পর একই স্থানে একটি ফার্নজাতীয় উদ্ভিদ জন্মাল। ফার্নটির পাতার নিচে বাদামি বর্ণের সোরাস দেখা যায়। উদ্ভিদটির কাণ্ড রাইজোমজাতীয় এবং পাতা কুণ্ডলী পাকানো অবস্থায় বের হয়। পরবর্তীকালে এর স্পোর থেকে আর্দ্র পরিবেশে প্রোথ্যালাস সৃষ্টি হয়। প্রোথ্যালাসে অ্যান্থেরিডিয়াম ও আর্কিগোনিয়াম তৈরি হয়।
| প্রশ্ন | সঠিক উত্তর | কারণ |
|---|---|---|
| ১ | খ | শৈবাল সাধারণত ক্লোরোফিলযুক্ত স্বভোজী উদ্ভিদ। |
| ২ | খ | হাইফিগুলো একত্রে মাইসেলিয়াম গঠন করে। |
| ৩ | গ | লাইখেন ছত্রাক ও শৈবালের সহাবস্থানে সৃষ্টি হয়। |
| ৪ | খ | ব্রায়োফাইটায় গ্যামিটোফাইট প্রজন্ম প্রধান। |
| ৫ | খ | Riccia-এর থ্যালাস থেকে স্কেল ও রাইজয়েড উৎপন্ন হয়। |
| ৬ | ক | Pteris-এর পাতার পত্রককে পিনা বলা হয়। |
| ৭ | খ | মায়োসিসে হ্যাপ্লয়েড স্পোর উৎপন্ন হয়। |
| ৮ | গ | পার্শ্বীয় ভাজক টিস্যু উদ্ভিদের ব্যাস বৃদ্ধি করে। |
১। লাইখেন ছত্রাক ও শৈবালের সহাবস্থানে গঠিত হয়। ছত্রাক পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করে শৈবালকে দেয় এবং শৈবাল সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য তৈরি করে ছত্রাককে দেয়। তাই একে সহবাসী উদ্ভিদ বলা হয়।
২। ব্রায়োফাইটার সত্যিকার মূল, কাণ্ড ও পাতা নেই; টেরিডোফাইটার মূল, কাণ্ড ও পাতা সুস্পষ্ট। ব্রায়োফাইটায় ভাস্কুলার টিস্যু নেই, কিন্তু টেরিডোফাইটায় ভাস্কুলার টিস্যু আছে। ব্রায়োফাইটায় গ্যামিটোফাইট প্রধান, টেরিডোফাইটায় স্পোরোফাইট প্রধান।
৩। Riccia-এর ফটোসিনথেটিক অঞ্চলে ক্লোরোপ্লাস্টযুক্ত কোষ থাকে এবং সেখানে সালোকসংশ্লেষণ হয়। সঞ্চয়ী অঞ্চলের কোষে পানি ও খাদ্য সঞ্চিত থাকে।
৪। ভাজক টিস্যুর কোষ বিভাজনে সক্ষম এবং এর মাধ্যমে উদ্ভিদের বৃদ্ধি ঘটে। স্থায়ী টিস্যুর কোষ পরিণত ও বিশেষায়িত; সাধারণত তারা বিভাজনে অক্ষম। ভাজক টিস্যু থেকে স্থায়ী টিস্যু সৃষ্টি হয়।
ক) ফার্নের গ্যামিটোফাইটকে প্রোথ্যালাস বলা হয়।
খ) Pteris-এর অ্যান্থেরিডিয়ামে উৎপন্ন অ্যান্থেরোজয়েড সচল এবং ফ্ল্যাজেলার সাহায্যে সাঁতার কাটে। শিশির বা বৃষ্টির পানির মাধ্যমে এটি আর্কিগোনিয়ামে পৌঁছে ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হয়। তাই যৌন জননের জন্য পানি প্রয়োজন।
গ) প্রথমে স্পোরাঞ্জিয়ামের স্পোর মাতৃকোষ মায়োসিসের মাধ্যমে হ্যাপ্লয়েড স্পোর সৃষ্টি করে। স্পোর বায়ুর মাধ্যমে ছড়িয়ে আর্দ্র স্থানে অঙ্কুরিত হয়। মাইটোটিক বিভাজনে বহুকোষী হ্যাপ্লয়েড প্রোথ্যালাস সৃষ্টি হয়। প্রোথ্যালাসে অ্যান্থেরিডিয়াম ও আর্কিগোনিয়াম তৈরি হয়। পানির সাহায্যে অ্যান্থেরোজয়েড আর্কিগোনিয়ামে প্রবেশ করে ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হয়ে ডিপ্লয়েড জাইগোট সৃষ্টি করে। জাইগোট থেকে ভ্রূণ এবং পরে মূল, রাইজোম ও পাতা-সহ নতুন ডিপ্লয়েড স্পোরোফাইট সৃষ্টি হয়।
ঘ) Riccia হলো ব্রায়োফাইটার সদস্য। এর দেহ থ্যালাসময়; সত্যিকার মূল, কাণ্ড ও পাতা নেই। এর পরিবর্তে রাইজয়েড ও স্কেল থাকে। Riccia-তে গ্যামিটোফাইট প্রধান এবং স্পোরোফাইট গ্যামিটোফাইটের উপর নির্ভরশীল। এর থ্যালাসে ফটোসিনথেটিক, সঞ্চয়ী ও নিম্নক অঞ্চল দেখা যায়।
অন্যদিকে Pteris হলো টেরিডোফাইটার সদস্য। এর স্পোরোফাইট দেহ মূল, রাইজোমজাতীয় কাণ্ড ও পত্রে বিভক্ত। এতে ভাস্কুলার টিস্যু থাকে। Pteris-এর পত্রের নিচে সোরাস থাকে এবং সোরাসে স্পোরাঞ্জিয়াম উৎপন্ন হয়। স্পোর থেকে স্বতন্ত্র প্রোথ্যালাস গঠিত হয়। প্রোথ্যালাসে যৌন জনন ঘটে এবং নিষেকের পরে নতুন স্পোরোফাইট সৃষ্টি হয়।
সুতরাং Riccia-তে গ্যামিটোফাইট প্রধান হলেও Pteris-এ স্পোরোফাইট প্রধান। উভয়ের যৌন জননের জন্য পানি দরকার, কিন্তু Pteris-এর দেহগঠন Riccia-এর তুলনায় অধিক উন্নত ও জটিল।
| ভুল | সঠিক |
|---|---|
| শৈবাল ও ছত্রাক উভয়কেই স্বভোজী বলা। | শৈবাল সাধারণত ক্লোরোফিলযুক্ত স্বভোজী; ছত্রাক ক্লোরোফিলবিহীন পরভোজী। |
| হাইফি ও মাইসেলিয়ামকে একই মনে করা। | অনেক হাইফি একত্রে মাইসেলিয়াম গঠন করে। |
| লাইখেনকে একটি মাত্র উদ্ভিদ বলা। | লাইখেন হলো ছত্রাক ও শৈবালের সহবাসী সমন্বয়। |
| ব্রায়োফাইটার সত্যিকার মূল, কাণ্ড ও পাতা আছে বলা। | ব্রায়োফাইটায় সত্যিকার মূল নেই; রাইজয়েড থাকে এবং গ্যামিটোফাইট প্রধান। |
| Riccia-র ফটোসিনথেটিক অঞ্চল ও সঞ্চয়ী অঞ্চল গুলিয়ে ফেলা। | উপরের অংশ ফটোসিনথেটিক, নিচের অংশ সঞ্চয়ী; নিম্নক থেকে স্কেল ও রাইজয়েড বের হয়। |
| Pteris-এর সোরাসকে একটি স্পোরাঞ্জিয়াম বলা। | সোরাস হলো স্পোরাঞ্জিয়ামের গুচ্ছ; ইনডুসিয়াম তা আবৃত করে। |
| অ্যান্থেরিডিয়ামকে স্ত্রী জননাঙ্গ বলা। | অ্যান্থেরিডিয়াম পুংজননাঙ্গ; আর্কিগোনিয়াম স্ত্রীজননাঙ্গ। |
| ভাজক ও স্থায়ী টিস্যুকে একই ধরনের বলা। | ভাজক টিস্যু বিভাজনশীল; স্থায়ী টিস্যুর কোষ সাধারণত বিভাজনে অক্ষম। |
নিয়মিত তুলনামূলক ছক ও জীবনচক্র অনুশীলন করলে এই অধ্যায়ে ভালো ফল করা অবশ্যই সম্ভব।
ADMISSION TEST PREPARATION অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী How to use this sheet ★★★ = the par
ADMISSION TEST PREPARATION অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী How to use this sheet ★★★ = the p
এইচএসসি সাজেশন (একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি) অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন / অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন / অধ্যায় ৩: কোষ রসায়ন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত
লেকচার শিট অধ্যায় ১২: জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পরিচিতি এই পাঠে যা শিখবে বাস্
লেকচার শিট অধ্যায় ১১: জীবপ্রযুক্তি একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পরিচিতি এই পাঠে যা শিখবে কৃষিতে জিনপ্রযুক্তির ব্
লেকচার শিট অধ্যায় ১০: উদ্ভিদ প্রজনন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পরিচিতি এই পাঠে যা শিখবে ডিম্বকের প্রধান অংশ এব