🎉 3-Day Free Trial — All premium features unlocked, zero credit card required ● 📚 28+ Expert Guides published and growing every week
Back to Blog
HSC

লেকচার শিট: অধ্যায় ৪: অণুজীব

By admin 7 views
লেকচার শিট

অধ্যায় ৪: অণুজীব

একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী

পরিচিতি

এই পাঠে যা শিখবে
  • ম্যালেরিয়া সৃষ্টিকারী জীবাণু ও ভাইরাসের গঠন, বৈশিষ্ট্য এবং রোগসৃষ্টিতে ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে পারবে।
  • ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য, কক্কাসের বিভিন্ন বিন্যাস এবং দ্বি-ভাজন প্রক্রিয়া বর্ণনা করতে পারবে।
  • শৈবালের বৈশিষ্ট্য, দৈহিক ও কোষীয় গঠন এবং জননের ধরন বুঝতে পারবে।
  • Ulothrix-এর বাসস্থান, গঠন, অযৌন ও যৌন জনন এবং গুরুত্ব লিখতে পারবে।
  • ছত্রাকের বৈশিষ্ট্য, গঠন, উপকারিতা ও অপকারিতা ব্যাখ্যা করতে পারবে।
  • লাইকেনের গঠন, জনন, পরিবেশীয় গুরুত্ব এবং বায়ুদূষণের নির্দেশক হিসেবে ভূমিকা বিশ্লেষণ করতে পারবে।

আগে যা জানা দরকার

কোষ হলো জীবদেহের গঠন ও কাজের মৌলিক একক।
উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য তৈরি করে।
জীবের বংশবৃদ্ধি অযৌন বা যৌন প্রক্রিয়ায় হতে পারে।
কোষপ্রাচীর, সাইটোপ্লাজম, নিউক্লিয়াস ও ক্লোরোপ্লাস্টের মৌলিক ধারণা মনে রাখো।

এই অধ্যায় বাস্তব জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া মানুষের বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করে, আবার ব্যাকটেরিয়া অ্যান্টিবায়োটিক, দই তৈরি ও পানি পরিশোধনে ব্যবহৃত হয়। শৈবাল বাস্তুতন্ত্রের খাদ্যশৃঙ্খলের প্রথম স্তরে থাকে এবং অক্সিজেন যোগ করে। ছত্রাক ও লাইকেন খাদ্য, ঔষধ, সুগন্ধি এবং পরিবেশ পর্যবেক্ষণে কাজে লাগে। পরীক্ষায় সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, তুলনা, চিত্রভিত্তিক গঠন, জননপ্রক্রিয়া ও গুরুত্ব থেকে প্রশ্ন আসে।

এক নজরে

ক্রম আলোচ্য বিষয়
১ম্যালেরিয়া ও ভাইরাস
২ব্যাকটেরিয়া ও দ্বি-ভাজন
৩শৈবালের বৈশিষ্ট্য ও গঠন
৪Ulothrix ও শৈবালের গুরুত্ব
৫ছত্রাক ও লাইকেন

ম্যালেরিয়া ও ভাইরাস

ম্যালেরিয়া

ম্যালেরিয়া একটি পরজীবীজনিত রোগ। এর জীবাণু হলো Plasmodium। মানুষের ম্যালেরিয়ায় Plasmodium falciparum বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সাব-সাহারান আফ্রিকার শিশুরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারও ম্যালেরিয়ার উচ্চঝুঁকির দেশ।

সংজ্ঞা: ম্যালেরিয়া হলো Plasmodium নামক পরজীবীর কারণে সৃষ্ট রোগ, যা সাধারণত স্ত্রী Anopheles মশার মাধ্যমে মানুষের দেহে ছড়ায়।
অতিরিক্ত ব্যাখ্যা

ম্যালেরিয়ার জীবনচক্র বোঝার জন্য দুটি পোষকের কথা মনে রাখবে—মানুষ এবং স্ত্রী Anopheles মশা। মশা কামড়ালে পরজীবীর স্পোরোজয়াইট মানুষের রক্তে প্রবেশ করে প্রথমে যকৃতে যায়। পরে এটি লোহিত রক্তকণিকায় প্রবেশ করে সংখ্যাবৃদ্ধি করে। আক্রান্ত রক্তকণিকা ভেঙে গেলে রোগের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। কিছু পরজীবী গ্যামিটোসাইটে পরিণত হয়। মশা আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ালে এগুলো মশার দেহে যায় এবং পরবর্তী মানুষের দেহে ছড়ানোর উপযোগী পর্যায় সৃষ্টি করে।

ম্যালেরিয়া জীবাণুর জীবনচক্র1স্ত্রী Anophelesমশার কামড়2মানুষের যকৃতে বৃদ্ধি3লোহিত রক্তকণিকায়বৃদ্ধি4গ্যামিটোসাইট সৃষ্টি5মশার দেহে পরবর্তীপর্যায়
ম্যালেরিয়ার জীবনচক্র অভিনয়ের সময় মানুষ ও মশার ভূমিকা আলাদা করে দেখাও।
উদাহরণ: দলগত অভিনয়ে একজন শিক্ষার্থী হবে স্ত্রী Anopheles মশা, একজন হবে মানুষ, আর অন্যরা Plasmodium-এর বিভিন্ন পর্যায়—স্পোরোজয়াইট, রক্তকণিকার পরজীবী ও গ্যামিটোসাইট। প্রথমে মশা মানুষকে কামড়াবে, পরে মানুষকে কামড়ানো মশার দেহে পরজীবীর পরবর্তী পরিবর্তন দেখানো হবে।

ভাইরাস

ভাইরাস অতি ক্ষুদ্র রোগসৃষ্টিকারী অ-কোষীয় বস্তু। এর প্রধান উপাদান হলো নিউক্লিক অ্যাসিড এবং প্রোটিন। নিউক্লিক অ্যাসিডটি DNA অথবা RNA হতে পারে। ভাইরাস নিজে কোষের বাইরে সক্রিয়ভাবে বংশবৃদ্ধি করতে পারে না। জীবকোষের ভেতরে প্রবেশ করলে তার উপাদান ব্যবহার করে সংখ্যা বৃদ্ধি করে। কোষের বাইরে ভাইরাস নিষ্ক্রিয় জড়বস্তুর মতো থাকতে পারে।

ভাইরাসের আকৃতি বিভিন্ন রকম—দণ্ডাকার, গোলাকার, পেন্সিলাকার, ব্যাঙাচি আকৃতির বা ডিম্বাকার। TMV দণ্ডাকার। ইনফ্লুয়েঞ্জা ও HIV গোলাকার। T₂ ভাইরাস ব্যাঙাচি আকৃতির।

RNA-যুক্ত ভাইরাসের উদাহরণ হলো TMV, মানুষের পোলিও ভাইরাস ও ডেঙ্গু ভাইরাস। DNA-যুক্ত ভাইরাসের উদাহরণ হলো T₂ ভাইরাস, TTV ও অ্যাডেনোভাইরাস। ভাইরাস উদ্ভিদ, প্রাণী ও পতঙ্গের নানা রোগ সৃষ্টি করে। HIV-এর কারণে AIDS, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের কারণে ফ্লু, র‍্যাবিস ভাইরাসের কারণে জলাতঙ্ক এবং ভেরিসেলা ভাইরাসের কারণে জলবসন্ত হয়।

T₂ ব্যাকটেরিওফায

T₂ ব্যাকটেরিওফায একটি পরিচিত ভাইরাস। এর দেহে মাথা ও লেজ—এই দুটি প্রধান অংশ থাকে। এর নিউক্লিক অ্যাসিড দ্বিসূত্রক DNA, যাতে প্রায় ৬০,০০০ জোড়া নিউক্লিওটাইড থাকে। এটি ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে এবং ধ্বংস করে। তাই এর নাম ব্যাকটেরিওফায।

শিক্ষকের টিপস: “ভাইরাস বাইরে নিষ্ক্রিয়, কোষের ভেতরে সক্রিয়”—এই বাক্যটি মনে রাখবে। আর DNA বা RNA—দুটির মধ্যে ভাইরাসে সাধারণত একটি থাকে; দুটো একসঙ্গে নয়।
পরীক্ষায় যেভাবে আসে: T₂ ফাযের গঠন, DNA-এর প্রকৃতি, ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসের কারণ এবং DNA-যুক্ত ও RNA-যুক্ত ভাইরাসের উদাহরণ আলাদা করে লিখবে।

দ্রুত যাচাই ১: ভাইরাসকে অ-কোষীয় বলা হয় কেন?

উত্তর দেখোভাইরাসের নিজস্ব কোষীয় গঠন নেই; এটি নিউক্লিক অ্যাসিড ও প্রোটিন দিয়ে গঠিত।

দ্রুত যাচাই ২: T₂ ব্যাকটেরিওফাযকে ব্যাকটেরিওফায বলা হয় কেন?

উত্তর দেখোকারণ এটি ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে ও ধ্বংস করে।

ব্যাকটেরিয়া ও দ্বি-ভাজন

আজ আমরা ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য, উপকারিতা, অপকারিতা এবং দ্বি-ভাজন প্রক্রিয়া শিখব। ব্যাকটেরিয়া খুব ছোট জীব। একক বচনে একে ব্যাকটেরিয়াম বলা হয়। এরা এককোষী ও আদিকোষীয় জীব। ব্যাকটেরিয়ার প্রধান সংখ্যাবৃদ্ধির পদ্ধতি হলো দ্বি-ভাজন।

সংজ্ঞা: ব্যাকটেরিয়া হলো এককোষী, আদিকোষীয় ও স্বপোষী জীব, যাদের দেহে দৃঢ় কোষপ্রাচীর থাকে এবং যারা প্রধানত দ্বি-ভাজনের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে।

ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য

  • ব্যাকটেরিয়া এককোষী; অর্থাৎ একটি কোষ দিয়েই তাদের দেহ গঠিত।
  • এরা আদিকোষীয়। তাই এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না।
  • ট্রান্সক্রিপ্ট অনুযায়ী, ব্যাকটেরিয়া স্বপোষীজীবী।
  • মাটি, পানি, বাতাস, জীবদেহের বাইরে এবং জীবদেহের ভেতরে—বিভিন্ন স্থানে এরা বাস করে।
  • এদের দেহে ফ্ল্যাজেলা থাকতে পারে, আবার নাও থাকতে পারে। ফ্ল্যাজেলা থাকলে চলাচলে সাহায্য করে।
  • ব্যাকটেরিয়ার দৃঢ় কোষপ্রাচীর থাকে। এটি কোষকে নির্দিষ্ট আকৃতি ও সুরক্ষা দেয়।

ব্যাকটেরিয়ার উপকারী ও অপকারী ভূমিকা

সব ব্যাকটেরিয়া ক্ষতিকর নয়। কিছু ব্যাকটেরিয়া মানুষের উপকার করে, আবার কিছু ব্যাকটেরিয়া রোগ সৃষ্টি করে। ব্যাকটেরিয়ার কারণে কলেরা, ডায়রিয়া ও আমাশয় হতে পারে।

ব্যাকটেরিয়া থেকে অ্যান্টিবায়োটিক ও প্রতিষেধক টিকা তৈরি করা হয়। দুধ থেকে দই তৈরিতে, পানি পরিশোধনে এবং মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতেও ব্যাকটেরিয়া ব্যবহৃত হয়। তাই ব্যাকটেরিয়াকে কেবল রোগজীবাণু মনে করা ঠিক নয়।

উদাহরণ: দুধে ব্যাকটেরিয়ার ক্রিয়ায় দই তৈরি হয়। আবার কিছু ব্যাকটেরিয়া মাটিতে কাজ করে মাটির উর্বরতা বাড়ায়।

কক্কাসের আকৃতি ও বিন্যাস

গোলাকার ব্যাকটেরিয়াকে কক্কাস বলা হয়। এরা কীভাবে সাজানো থাকে, তার ভিত্তিতে নাম আলাদা হয়।

  • মাইক্রোকক্কাস বা মনোকক্কাস: একা একা থাকে।
  • ডিপ্লোকক্কাস: জোড়ায় জোড়ায় থাকে।
  • স্ট্রেপ্টোকক্কাস: চেইনের মতো সাজানো থাকে।

দ্বি-ভাজন প্রক্রিয়া

দ্বি-ভাজন: যে অযৌন জনন প্রক্রিয়ায় একটি কোষের নিউক্লিয়ার বস্তু ও সাইটোপ্লাজম দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে একটি কোষ থেকে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি হয়, তাকে দ্বি-ভাজন বলে।

ধাপগুলো লক্ষ্য করো:

  1. প্রথমে ব্যাকটেরিয়ার নিউক্লিয়ার বস্তু বিভক্ত হয়।
  2. এরপর সাইটোপ্লাজম দুই ভাগে ভাগ হয়।
  3. কোষের মাঝখানে বিভাজন ঘটে।
  4. শেষে একটি মাতৃকোষ থেকে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি হয়।
ব্যাকটেরিয়ার দ্বি-ভাজন1একটি ব্যাকটেরিয়াকোষ2নিউক্লিয়ার বস্তুবিভাজন3সাইটোপ্লাজম দুইভাগ4দুটি অপত্য কোষ
দ্বি-ভাজনে একটি কোষ থেকে দুটি কোষ সৃষ্টি হয়।

দ্বি-ভাজন অযৌন জনন, কারণ এতে দুটি জননকোষের মিলন ঘটে না। ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যাবৃদ্ধির প্রধান উপায় হিসেবে এই প্রক্রিয়ার গুরুত্ব অনেক।

মেরোজাইগোট

ব্যাকটেরিয়ার যৌন জনন প্রক্রিয়ায় দাতা কোষের আংশিক ক্রোমোসোম গ্রহীতা কোষে প্রবেশ করে। এখানে দাতা কোষকে পুং জনন কোষ এবং গ্রহীতা কোষকে স্ত্রী জনন কোষ হিসেবে বোঝানো হয়েছে। সম্পূর্ণ ক্রোমোসোম না এসে আংশিক ক্রোমোসোম প্রবেশ করে বলে সৃষ্ট জাইগোট দাতা কোষের পূর্ণ বংশগত তথ্য বহন করতে পারে না। এই আংশিক ক্রোমোসোম গ্রহণের ফলে গঠিত জাইগোটকে মেরোজাইগোট বলে। এতে যৌন প্রক্রিয়া ঘটে, কিন্তু সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটে না।

শিক্ষকের টিপস: “দ্বি-ভাজন মানে দ্বি—এক থেকে দুই।” আর মেরোজাইগোট মনে রাখবে: মেরো = আংশিক; তাই এতে সম্পূর্ণ বংশগত তথ্য থাকে না।

পরীক্ষায় যেভাবে আসে: দ্বি-ভাজনকে অযৌন জনন লিখবে এবং অবশ্যই উল্লেখ করবে—নিউক্লিয়ার বস্তু ও সাইটোপ্লাজম দুই ভাগ হয়ে একটি কোষ থেকে দুটি কোষ সৃষ্টি হয়। কক্কাসের বিন্যাসে মনোকক্কাস একক, ডিপ্লোকক্কাস জোড়ায় এবং স্ট্রেপ্টোকক্কাস চেইনের মতো।

দ্রুত যাচাই

১। গোলাকার ও চেইনের মতো সাজানো ব্যাকটেরিয়াকে কী বলা হয়?

উত্তর দেখোস্ট্রেপ্টোকক্কাস।

২। মেরোজাইগোট কেন দাতা কোষের পূর্ণ বংশগত তথ্য বহন করে না?

উত্তর দেখোকারণ গ্রহীতা কোষে দাতা কোষের আংশিক ক্রোমোসোম প্রবেশ করে।

শৈবালের বৈশিষ্ট্য ও গঠন

শৈবাল সাধারণত জলজ জীব। মিঠা পানি ও লোনা পানিতে এরা জন্মে। কিছু শৈবাল স্থলজ বা অর্ধজলজও হতে পারে। পুকুর, খাল, বিল, নদী, সমুদ্র, পাথরের গা এবং অন্য উদ্ভিদের দেহেও শৈবাল জন্মাতে পারে। পৃথিবীতে প্রায় ৩০,০০০ প্রজাতির শৈবাল আছে বলে মনে করা হয়। আকার, আকৃতি ও গঠনে এদের মধ্যে অনেক পার্থক্য দেখা যায়।

সংজ্ঞা: শৈবাল হলো ক্লোরোফিলযুক্ত, সালোকসংশ্লেষণকারী, স্বভোজী ও অপুষ্পক থ্যালাসযুক্ত উদ্ভিদ। এদের দেহে সত্যিকার মূল, কাণ্ড, পাতা ও ভাস্কুলার টিস্যু থাকে না।

শৈবালের প্রধান বৈশিষ্ট্য

  1. শৈবালে ক্লোরোফিল থাকে। তাই এরা সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করে।
  2. এরা এককোষী অথবা বহুকোষী হতে পারে।
  3. দেহে সত্যিকার মূল, কাণ্ড ও পাতা না থাকায় এদের দেহকে থ্যালাস (thallus) বলে।
  4. এদের দেহে ভাস্কুলার টিস্যু নেই।
  5. কোষপ্রাচীর প্রধানত সেলুলোজ দিয়ে গঠিত।
  6. সব শৈবালই ইউক্যারিওটিক; অর্থাৎ সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও বিভিন্ন কোষীয় অঙ্গাণু থাকে।
  7. সবুজ শৈবালে ক্লোরোফিলের সঙ্গে ক্যারোটিনয়েডও থাকতে পারে।

দেহের বিভিন্ন আকৃতি ও গঠন

শৈবালের গঠন বুঝতে হলে উদাহরণসহ ধরনগুলো মনে রাখতে হবে।

গঠনউদাহরণ
সরল এককোষী, ফ্ল্যাজেলাযুক্তChlamydomonas
কলোনিয়ালVolvox, Pandorina
পাতার মতো বহুকোষীUlva
অশাখ ফিলামেন্টাসUlothrix, Spirogyra
শাখাবহুল ফিলামেন্টাসCladophora, Chaetophora
সিফোনেলীয় বা নলাকারVaucheria
জালিকাময়Hydrodictyon

শৈবাল কোষের গঠন

কোষের বাইরে সেলুলোজের কোষপ্রাচীর থাকে। তার ভেতরে সাইটোপ্লাজম, নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজি বস্তু ও রাইবোসোম থাকে। ক্লোরোপ্লাস্টে ক্লোরোফিল থাকে, তাই সালোকসংশ্লেষণ হয়। অনেক শৈবালের ক্লোরোপ্লাস্টে পাইরিনয়েড থাকে; এতে শ্বেতসার সঞ্চিত হয়। শৈবালের সঞ্চিত খাদ্য সাধারণত শর্করা।

প্রধান শৈবাল গোষ্ঠীর তুলনা

গোষ্ঠীপ্রধান রঞ্জকসঞ্চিত খাদ্য ও উদাহরণ
Chlorophytaক্লোরোফিল a, bস্টার্চ; Ulothrix
Chrysophytaফিউকোজ্যান্থিনক্রাইসোল্যামিনারিন; Navicula
Pyrrophytaক্লোরোফিল a, c ও ক্যারোটিনয়েডপ্যারামাইলাম; Gymnodinium
Phaeophytaফিউকোজ্যান্থিনল্যামিনারিন, ম্যানিটল; Sargassum
Rhodophytaফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকোসায়ানিনফ্লোরিডিয়ান স্টার্চ; Polysiphonia

শৈবালের জনন

অঙ্গজ জনন: স্পোর বা গ্যামেট ছাড়াই দেহের অংশ থেকে নতুন শৈবাল তৈরি হয়। এককোষীতে কোষ বিভাজন এবং ফিলামেন্টাস শৈবালে খণ্ডায়ন দেখা যায়।

অযৌন জনন: স্পোরের মাধ্যমে হয়। ফ্ল্যাজেলাযুক্ত সচল স্পোরকে জুওস্পোর বলে; Ulothrix-এ জুওস্পোর দেখা যায়।

যৌন জনন: দুটি গ্যামেটের মিলনে হয়। আইসোগ্যামিতে দুটি গ্যামেট একই রকম, যেমন Ulothrix। অ্যানাইসোগ্যামিতে দুটি গ্যামেট আকারে অসমান, যেমন Pandorina। উগ্যামিতে স্ত্রী গ্যামেট বড় ও নিষ্ক্রিয়, পুরুষ গ্যামেট ছোট ও সচল, যেমন Fucus।

উদাহরণ: Ulothrix হলো শাখাহীন, তন্তুময় সবুজ শৈবাল। এর কোষে ফিতার মতো ক্লোরোপ্লাস্ট ও পাইরিনয়েড থাকে। এটি জুওস্পোরের মাধ্যমে অযৌন এবং আইসোগ্যামির মাধ্যমে যৌন জনন করে।
শিক্ষকের টিপস: “আইসো = সমান”, “অ্যানাইসো = অসমান”, আর “উগ্যামি = বড় স্থির স্ত্রী গ্যামেট”—এইভাবে মনে রাখো। শৈবালকে ছত্রাকের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবে না; শৈবালে ক্লোরোফিল থাকে, ছত্রাকে থাকে না।
পরীক্ষায় যেভাবে আসে: শৈবালের সংজ্ঞা, থ্যালাস দেহ, ভাস্কুলার টিস্যুর অনুপস্থিতি, গোষ্ঠীগুলোর রঞ্জক-সঞ্চিত খাদ্য এবং তিন ধরনের যৌন জননের পার্থক্য ছকসহ লিখতে পারে।

দ্রুত যাচাই ১: শৈবালকে থ্যালাসযুক্ত বলা হয় কেন?

উত্তর দেখোকারণ শৈবালের দেহে সত্যিকার মূল, কাণ্ড ও পাতা সৃষ্টি হয় না।

দ্রুত যাচাই ২: জুওস্পোর ও অ্যানাইসোগ্যামির একটি করে উদাহরণ লেখো।

উত্তর দেখোজুওস্পোর—Ulothrix; অ্যানাইসোগ্যামি—Pandorina।

Ulothrix ও শৈবালের গুরুত্ব

Ulothrix হলো শাখাহীন, তন্তুময় বা ফিলামেন্টাস সবুজ শৈবাল। এটি সাধারণত মিঠা পানির জলাশয়ে জন্মে। এর দেহ এক সারি বেলনাকার কোষ দিয়ে গঠিত। প্রতিটি কোষের ভেতরে ফিতার মতো ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে। তাই Ulothrix সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য তৈরি করতে পারে।

সংজ্ঞা: Ulothrix হলো Chlorophyta বিভাগের Chlorophyceae শ্রেণির একটি শাখাহীন, তন্তুময়, মিঠা পানির সবুজ শৈবাল।

শ্রেণিবিন্যাস ও আবাস

  • বিভাগ (Division): Chlorophyta
  • শ্রেণি (Class): Chlorophyceae
  • বর্গ (Order): Ulothrichales
  • পরিবার (Family): Ulothrichaceae
  • গণ (Genus): Ulothrix

Ulothrix পুকুর, খাল, বিল, হাওড়, নদী-নালা এবং ঝরনার স্রোতযুক্ত স্থানে জন্মে। অধিকাংশ প্রজাতি মিঠা পানির। বাংলাদেশে U. simplex, U. tenerrima ও U. variabilis পাওয়া যায়।

দৈহিক গঠন

Ulothrix-এর নিচের প্রান্তের কোষটি লম্বাটে ও সরু। এই কোষের সাহায্যে এটি কোনো বস্তুতে আটকে থাকে। এই আটকানোর অংশকে হোল্ডফাস্ট (holdfast) বলে। দেহের বাকি অংশ এক সারি বেলনাকার কোষে গঠিত।

  1. প্রতিটি কোষের দৃঢ় কোষপ্রাচীর থাকে।
  2. কোষের ভেতরে ফিতাকৃতি বা বেল্ট আকৃতির ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে।
  3. ক্লোরোপ্লাস্টে এক বা একাধিক পাইরিনয়েড থাকে; এখানে শ্বেতসার সঞ্চিত হয়।
  4. কোষের কেন্দ্রে একটি নিউক্লিয়াস থাকে।
  5. কোষে বড় কোষরসাধার বা শূন্যস্থান দেখা যায়।

📖 পাঠ্যবইয়ের চিত্র দেখো: Ulothrix-এর ফিলামেন্ট, হোল্ডফাস্ট এবং একটি কোষের অভ্যন্তরীণ গঠন।

Ulothrix-এর জনন

১. অঙ্গজ জনন: দেহের কোনো অংশ ভেঙে গেলে প্রতিটি খণ্ড বৃদ্ধি পেয়ে নতুন Ulothrix ফিলামেন্ট তৈরি করতে পারে।

২. অযৌন জনন: জুস্পোরের মাধ্যমে অযৌন জনন হয়। কোনো কোষের প্রোটোপ্লাস্ট বিভাজিত হয়ে সাধারণত চার ফ্ল্যাজেলাযুক্ত জুস্পোর তৈরি করে। জুস্পোর কিছুক্ষণ সাঁতার কাটার পর কোনো স্থানে স্থির হয়, আবরণ তৈরি করে এবং বিভাজনের মাধ্যমে নতুন ফিলামেন্ট গঠন করে।

৩. যৌন জনন: Ulothrix-এর যৌন জনন আইসোগ্যামাস। গ্যামিট্যাঞ্জিয়ামের প্রোটোপ্লাস্ট বিভাজিত হয়ে ৮–৩২টি দ্বিফ্ল্যাজেলাযুক্ত সমআকৃতির গ্যামেট তৈরি করে। বিপরীত মেরুর দুটি গ্যামেট মিলিত হয়ে জাইগোট তৈরি করে। জাইগোট শক্ত আবরণে আবদ্ধ হয়ে বিশ্রাম নেয়। পরে মিয়োসিসের মাধ্যমে চারটি জুস্পোর সৃষ্টি হয়। প্রতিটি জুস্পোর থেকে নতুন Ulothrix তৈরি হয়।

Ulothrix-এর যৌন জনন1গ্যামেট সৃষ্টি2দুটি গ্যামেটেরমিলন3জাইগোট ও বিশ্রাম4মিয়োসিস5চারটি জুস্পোর6নতুন Ulothrix
জাইগোটে মিয়োসিসের পর হ্যাপ্লয়েড জুস্পোর তৈরি হয়।
উদাহরণ: Ulothrix-এর জুস্পোর চারটি ফ্ল্যাজেলাযুক্ত এবং যৌন জননের গ্যামেট দুটি ফ্ল্যাজেলাযুক্ত। দুটি গ্যামেট মিলেই জাইগোট তৈরি করে।

Ulothrix-এর জীবনচক্র হ্যাপ্লন্টিক। অর্থাৎ প্রধান উদ্ভিদদেহ হ্যাপ্লয়েড এবং জাইগোট হলো একমাত্র ডিপ্লয়েড দশা। প্রতিকূল পরিবেশে কোষ মিউসিলেজে আবদ্ধ হয়ে সাময়িক পামেলা দশা গঠন করতে পারে। অনুকূল পরিবেশে কোষগুলো মুক্ত হয়ে নতুন উদ্ভিদে পরিণত হয়।

Ulothrix ও শৈবালের গুরুত্ব

শৈবাল জলজ বাস্তুতন্ত্রে উৎপাদক হিসেবে খাদ্যশৃঙ্খলের প্রথম স্তরে থাকে। তারা সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে CO₂ গ্রহণ করে এবং O₂ ত্যাগ করে। Ulothrix পরিবেশে অক্সিজেন যোগ করে। শৈবাল থেকে খাদ্য, আগার-আগার, অ্যালজিন এবং জৈবজ্বালানি তৈরি করা হয়। Botryococcus braunii, Chlorella ও Scenedesmus জৈবজ্বালানি তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে।

অতিরিক্ত পুষ্টির কারণে জলাশয়ে শৈবালের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হলে জলব্লুম সৃষ্টি হয়। এতে পানি দূষিত হয় এবং মাছ মারা যেতে পারে। Cephaleuros virescens চা, কফি ও ম্যান্ডারিনিয়া গাছে রোগ সৃষ্টি করে। Oedogonium মাছের ফুলকার রোগ ঘটাতে পারে। শৈবালের মিউসিলেজ পাথর, ঘাট ও বাথরুমের মেঝে পিচ্ছিল করে।

ব্যবহারিক শনাক্তকরণ

ভেজা নমুনা বা স্থায়ী স্লাইড অণুবীক্ষণ যন্ত্রে পর্যবেক্ষণ করো। শাখাহীন এক সারি কোষ, হোল্ডফাস্ট, ফিতাকৃতি ক্লোরোপ্লাস্ট, পাইরিনয়েড ও কেন্দ্রীয় নিউক্লিয়াস শনাক্ত করলে নমুনাটি Ulothrix বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।

শিক্ষকের টিপস: “হোল্ডফাস্ট ধরে, ক্লোরোপ্লাস্ট খাদ্য গড়ে, পাইরিনয়েড শ্বেতসার জমায়”—এই বাক্যটি মনে রাখো। জলব্লুমকে উপকারী শৈবাল বৃদ্ধি মনে করবে না; অতিরিক্ত বৃদ্ধি বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি করে।
পরীক্ষায় যেভাবে আসে: Ulothrix-এর যৌন জনন আইসোগ্যামাস, জীবনচক্র হ্যাপ্লন্টিক এবং জাইগোটে মিয়োসিস ঘটে—এই তিনটি তথ্য একসঙ্গে লিখবে।

দ্রুত যাচাই

১. Ulothrix-এর কোষে শ্বেতসার কোথায় সঞ্চিত থাকে?

উত্তর দেখোপাইরিনয়েডে শ্বেতসার সঞ্চিত থাকে।

২. Ulothrix-এর যৌন জননে কোন ধরনের গ্যামেট যুক্ত হয়?

উত্তর দেখোসমআকৃতির, দ্বিফ্ল্যাজেলাযুক্ত আইসোগ্যামেট যুক্ত হয়।

ছত্রাক ও লাইকেন

ছত্রাক ও শৈবাল—উভয়ই অপুষ্পক জীব। তবে শৈবালে ক্লোরোফিল থাকে, ছত্রাকে থাকে না। তাই শৈবাল সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য তৈরি করে, কিন্তু ছত্রাক নিজে খাদ্য তৈরি করতে পারে না।

সংজ্ঞা: ছত্রাক হলো ক্লোরোফিলবিহীন, সুকেন্দ্রিক এবং সাধারণত মৃতজীবী অণুজীব। ছত্রাকের সূক্ষ্ম তন্তুর মতো অংশকে হাইফা (hypha) বলে। অসংখ্য হাইফা একত্রে যে জালিকাকার দেহ গঠন করে তাকে মাইসেলিয়াম (mycelium) বলে।

ছত্রাকের বৈশিষ্ট্য ও জীবনধারা

  • ছত্রাকের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও বিভিন্ন অঙ্গাণু থাকে; তাই তারা সুকেন্দ্রিক।
  • এরা ক্লোরোফিলবিহীন এবং সাধারণত আর্দ্র, উষ্ণ, জৈব খাদ্যসমৃদ্ধ ছায়াময় বা অন্ধকার স্থানে জন্মে।
  • মৃতজীবী ছত্রাক মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ থেকে খাদ্য গ্রহণ করে। পরজীবী ছত্রাক জীবন্ত জীব থেকে খাদ্য নেয়। কিছু ছত্রাক অন্য জীবের সঙ্গে মিথোজীবী হিসেবে থাকে।
  • ছত্রাক হাইফার মাধ্যমে খাদ্য শোষণ করে। প্রথমে হাইফা খাদ্যের উপর এনজাইম নিঃসরণ করে; খাদ্য দ্রবীভূত হলে তা শোষিত হয়।
অতিরিক্ত ব্যাখ্যাছত্রাক অযৌন ও যৌন—উভয় পদ্ধতিতে প্রজনন করতে পারে। অযৌন প্রজননে স্পোর, কুঁড়ি বা খণ্ডীকরণ দেখা যায়। অনুকূল পরিবেশে স্পোর অঙ্কুরিত হয়ে নতুন হাইফা ও মাইসেলিয়াম তৈরি করে। যৌন প্রজননে বিশেষ জননকোষ বা হাইফার মিলনের মাধ্যমে নতুন ছত্রাক সৃষ্টি হয়।

উদাহরণ: Agaricus একটি ছত্রাক। এর দেহে ক্লোরোফিল না থাকায় এটি সালোকসংশ্লেষণ করে খাদ্য তৈরি করতে পারে না।
অতিরিক্ত ব্যাখ্যামানুষের জন্য গুরুত্ব: ছত্রাক মৃত জৈব পদার্থ পচিয়ে পরিবেশে পদার্থের পুনঃচক্রণে সাহায্য করে। কিছু ছত্রাক খাদ্য, অ্যান্টিবায়োটিক ও শিল্পজাত দ্রব্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। আবার কিছু ছত্রাক উদ্ভিদ, প্রাণী ও মানুষের রোগ সৃষ্টি করে এবং খাদ্য নষ্ট করে।

লাইকেন কী?

লাইকেন হলো ছত্রাক ও শৈবালের ঘনিষ্ঠ সহাবস্থানে গঠিত একটি যৌগিক জীব। শৈবাল সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য তৈরি করে, আর ছত্রাক পানি, খনিজ লবণ, আশ্রয় ও সুরক্ষা দেয়। তাই এটি মিথোজীবিতার একটি উদাহরণ।

লাইকেনের ধরন

  • ক্রাস্টোজ: পাতলা আস্তরণের মতো; পাথর, গাছের বাকল বা দেয়ালে শক্তভাবে লেগে থাকে। উদাহরণ—Lecanora incana।
  • ফোলিওজ: চ্যাপ্টা ও পাতার মতো; পৃষ্ঠের সঙ্গে লেগে থাকে।
  • ফ্রুটিকোজ: দণ্ডাকার বা শাখাযুক্ত; কখনও ঝুলে বা খাড়া হয়ে থাকে। উদাহরণ—Usnea, Cladonia।
  • ফিলামেন্টাস: সূক্ষ্ম তন্তুর মতো; শৈবাল অংশ ও ছত্রাকের হাইফা মিলিত থাকে।

ফোলিওজ লাইকেনের অভ্যন্তরীণ গঠন

  1. ঊর্ধ্ব কর্টেক্স: ঘন ছত্রাকীয় হাইফা দিয়ে তৈরি; সাধারণত শৈবাল থাকে না।
  2. শৈবাল স্তর: ছত্রাকের হাইফার মধ্যে শৈবাল থাকে; এখানেই সালোকসংশ্লেষণ হয়।
  3. মেদুলা: শিথিলভাবে বিন্যস্ত ছত্রাকীয় হাইফার পুরু স্তর।
  4. নিম্ন কর্টেক্স: ঘন হাইফা দিয়ে গঠিত। রাইজয়েডের মতো অংশ লাইকেনকে ভূমির সঙ্গে আটকে রাখে।

লাইকেনের জনন

খণ্ডীকরণে লাইকেনের দেহের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে নতুন লাইকেন তৈরি করে। সোরেডিয়া হলো শৈবাল কোষকে ছত্রাকের হাইফা ঘিরে থাকা ক্ষুদ্র দল; বাতাসে ছড়িয়ে উপযুক্ত স্থানে নতুন লাইকেন তৈরি করে। ইসিডিয়া হলো লাইকেনের উপরিভাগের আঙুল বা নবের মতো অংশ, যা বৃষ্টি ও বাতাসে বিচ্ছিন্ন হয়। লাইকেনের যৌন জনন প্রধানত ছত্রাক অংশের দ্বারা সম্পন্ন হয়।

শিক্ষকের টিপস: লাইকেনের স্তর মনে রাখো—“ঊর্ধ্বে সুরক্ষা, মাঝে শৈবাল, নিচে মেদুলা ও কর্টেক্স।” সোরেডিয়া ক্ষুদ্র দল, আর ইসিডিয়া হলো উপরিভাগের বিচ্ছিন্ন অঙ্গ।

লাইকেনের গুরুত্ব ও ক্ষতিকর দিক

  • পাথর ক্ষয় করে ধীরে ধীরে মাটি গঠনে সাহায্য করে।
  • Cladonia ও Cetraria islandica খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
  • Usnic ও Evernic পদার্থ অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
  • Roccella montagnei থেকে লিটমাস প্রস্তুত করা হয়; Evernia ও Ramalina সুগন্ধি ও প্রসাধনীতে ব্যবহৃত হয়।
  • লাইকেন দূষিত বায়ুতে কম জন্মায়, তাই এটি বায়ুদূষণের নির্দেশক।
  • লাইকেন পুরোনো দেয়াল, মার্বেল ও পাথরের সৌধ ক্ষয় করতে পারে।
পরীক্ষায় যেভাবে আসে: “লাইকেনকে মিথোজীবিতার উদাহরণ বলা হয় কেন?”—শৈবাল খাদ্য দেয় এবং ছত্রাক পানি, খনিজ, আশ্রয় ও সুরক্ষা দেয়—এই দুই দিক অবশ্যই লিখবে।

দ্রুত যাচাই

১। হাইফা ও মাইসেলিয়াম কী?

উত্তর দেখোহাইফা হলো ছত্রাকের সূক্ষ্ম তন্তু; অসংখ্য হাইফার সমষ্টিই মাইসেলিয়াম।

২। লাইকেন কীভাবে বায়ুদূষণের নির্দেশক?

উত্তর দেখোলাইকেন দূষিত বায়ু থেকে ভারী ধাতু ও অন্যান্য দূষক শোষণ করে মারা যায়; তাই দূষিত অঞ্চলে লাইকেন কম দেখা যায়।

উদাহরণ ও সমাধান

উদাহরণ ১: ভাইরাস ও T₂-ফাযের গঠন ব্যাখ্যা করো।

  1. সংজ্ঞা: ভাইরাস হলো নিউক্লিক অ্যাসিড—DNA অথবা RNA—এবং প্রোটিন দিয়ে গঠিত রোগসৃষ্টিকারী অতি ক্ষুদ্র অ-কোষীয় বস্তু।
  2. জীবনধারা: জীবকোষের ভিতরে ভাইরাস সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। কিন্তু জীবকোষের বাইরে এটি নিষ্ক্রিয় জড় বস্তুর মতো থাকে।
  3. আকৃতি ও উদাহরণ: TMV দণ্ডাকার, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও HIV গোলাকার এবং T₂ ভাইরাস ব্যাঙাচি-আকৃতির। TMV ও ডেঙ্গু ভাইরাসে RNA থাকে; T₂ ভাইরাসে DNA থাকে।
  4. T₂-ফাযের গঠন: T₂ ব্যাকটেরিওফাযের দেহ মাথা ও লেজ—এই দুই অংশে বিভক্ত। এর নিউক্লিক অ্যাসিড দ্বিসূত্রক DNA, যা ৬০,০০০ জোড়া নিউক্লিওটাইড দিয়ে গঠিত।
  5. নামকরণের কারণ: এটি ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ ও ধ্বংস করে। তাই এর নাম ব্যাকটেরিওফায।

চূড়ান্ত উত্তর: ভাইরাস কোষীয় গঠনহীন DNA বা RNA-প্রোটিনের বস্তু; আর T₂-ফায হলো মাথা ও লেজযুক্ত DNA-বিশিষ্ট ব্যাকটেরিয়া-আক্রমণকারী ভাইরাস।

উদাহরণ ২: ব্যাকটেরিয়ার দ্বি-ভাজন প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করো।

  1. সংজ্ঞা: দ্বি-ভাজন (Binary fission) হলো অযৌন জনন প্রক্রিয়া, যাতে একটি কোষ থেকে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি হয়।
  2. প্রথম ধাপ: মাতৃকোষের নিউক্লিয়ার বস্তু বা বংশগত পদার্থের অনুরূপ অনুলিপি তৈরি হয়।
  3. দ্বিতীয় ধাপ: নিউক্লিয়ার বস্তু দুটি অংশে বিভক্ত হয়। একই সময়ে সাইটোপ্লাজমও দুই ভাগে ভাগ হতে থাকে।
  4. তৃতীয় ধাপ: কোষের মাঝখানে বিভাজনরেখা বা পৃথকীকরণ তৈরি হয়।
  5. শেষ ধাপ: মাতৃকোষটি সম্পূর্ণভাবে বিভক্ত হয়ে দুটি নতুন ব্যাকটেরিয়া কোষে পরিণত হয়।

চূড়ান্ত উত্তর: ব্যাকটেরিয়ায় দ্বি-ভাজনের মাধ্যমে একটি কোষের নিউক্লিয়ার বস্তু ও সাইটোপ্লাজম দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে দুটি নতুন কোষ তৈরি করে। এটি ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যাবৃদ্ধির প্রধান উপায়।

উদাহরণ ৩: Ulothrix-এর গঠন ও অযৌন জনন লিখো।

  1. বাসস্থান: Ulothrix সাধারণত মিঠা পানির পুকুর, খাল, বিল, হাওড় ও নদী-নালায় জন্মে।
  2. দেহের গঠন: এটি শাখাহীন, তন্তুময় সবুজ শৈবাল। এর দেহ এক সারি বেলনাকার কোষ দিয়ে গঠিত। নিচের হোল্ডফাস্ট কোষের সাহায্যে এটি কোনো বস্তুর সঙ্গে আবদ্ধ থাকে।
  3. কোষীয় বৈশিষ্ট্য: প্রতিটি কোষে কোষপ্রাচীর, নিউক্লিয়াস, ফিতাকৃতি ক্লোরোপ্লাস্ট এবং ক্লোরোপ্লাস্টে এক বা একাধিক পাইরিনয়েড থাকে। পাইরিনয়েডে শ্বেতসার সঞ্চিত হয়।
  4. জুস্পোর সৃষ্টি: কোনো কোষ জুস্পোরাঞ্জিয়ামে পরিণত হয়। এর প্রোটোপ্লাস্ট বিভাজিত হয়ে সাধারণত চার-ফ্ল্যাজেলাযুক্ত জুস্পোর তৈরি করে।
  5. নতুন উদ্ভিদ: জুস্পোর জলে সাঁতার কাটার পর কোনো স্থানে স্থির হয়। পরে ফ্ল্যাজেলা হারিয়ে কোষপ্রাচীর গঠন করে এবং বিভাজনের মাধ্যমে নতুন Ulothrix ফিলামেন্ট সৃষ্টি করে।

চূড়ান্ত উত্তর: Ulothrix হলো শাখাহীন তন্তুময় সবুজ শৈবাল, যা প্রধানত চার-ফ্ল্যাজেলাযুক্ত জুস্পোরের মাধ্যমে অযৌন জনন করে।

উদাহরণ ৪: লাইকেনের গঠন ও পরিবেশগত গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।

  1. সংজ্ঞা: লাইকেন হলো ছত্রাক ও শৈবালের সহাবস্থানে গঠিত একটি সংগঠন। ছত্রাক আশ্রয়, পানি ও খনিজ লবণ দেয়; শৈবাল সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য তৈরি করে।
  2. উপরের কর্টেক্স: ঘন সন্নিবেশিত ছত্রাকীয় হাইফা দিয়ে গঠিত।
  3. শৈবাল স্তর: ছত্রাকের হাইফার মধ্যে শৈবাল অবস্থান করে। এই স্তরটি সাধারণত সবুজ।
  4. মেদুলা: শিথিলভাবে বিন্যস্ত ছত্রাকীয় হাইফা দিয়ে গঠিত পুরু স্তর।
  5. নিচের কর্টেক্স: ঘন হাইফা এবং রাইজয়েড-সদৃশ অংশের সাহায্যে লাইকেন ভূমি বা অন্য পৃষ্ঠে আটকে থাকে।
  6. পরিবেশগত গুরুত্ব: লাইকেন পাথর ক্ষয় করে মাটি তৈরিতে সাহায্য করে। এর মৃতদেহাবশেষ থেকে হিউমাস তৈরি হয়। আবার লাইকেন সালফার ডাই-অক্সাইড ও ভারী ধাতু শোষণ করে; তাই বায়ুদূষণের নির্দেশক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

চূড়ান্ত উত্তর: লাইকেন ছত্রাক-শৈবালের সহাবস্থানের ফল; এটি মাটি গঠন, প্রাথমিক উত্তরাধিকার এবং বায়ুদূষণ শনাক্তকরণে গুরুত্বপূর্ণ।

সংজ্ঞা, সূত্র ও সারসংক্ষেপ

পরিভাষা সংজ্ঞা বা সূত্র কখন ব্যবহার করবে
ম্যালেরিয়াPlasmodium falciparum-সহ Plasmodium পরজীবীজনিত রোগ।রোগের জীবাণু ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল লিখতে।
ভাইরাসDNA অথবা RNA ও প্রোটিন দিয়ে গঠিত অ-কোষীয় রোগসৃষ্টিকারী বস্তু।ভাইরাসের গঠন ও বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যায়।
T₂ ফাযমাথা ও লেজযুক্ত ব্যাকটেরিওফায; দ্বিসূত্রক DNA থাকে।ব্যাকটেরিয়া-আক্রমণকারী ভাইরাসের উদাহরণে।
দ্বি-ভাজনএকটি কোষের নিউক্লিয়ার বস্তু ও সাইটোপ্লাজম ভাগ হয়ে দুটি কোষ সৃষ্টি; এটি অযৌন জনন।ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যাবৃদ্ধি লিখতে।
মেরোজাইগোটব্যাকটেরিয়ায় দাতা কোষের আংশিক বংশগতীয় বস্তু গ্রহণে সৃষ্ট কোষ।ব্যাকটেরিয়ার যৌন প্রক্রিয়ায়।
শৈবালক্লোরোফিলযুক্ত, সালোকসংশ্লেষণকারী স্বভোজী অপুষ্পক থ্যালাসযুক্ত উদ্ভিদ।বৈশিষ্ট্য ও গঠন লিখতে।
জুওস্পোরফ্ল্যাজেলাযুক্ত সচল স্পোর; Ulothrix-এ দেখা যায়।অযৌন জনন ব্যাখ্যায়।
Ulothrixশাখাহীন, তন্তুময়, এক সারি বেলনাকার কোষের সবুজ শৈবাল; ফিতাকৃতি ক্লোরোপ্লাস্ট ও পাইরিনয়েড থাকে।গঠন ও জনন লিখতে।
ছত্রাকক্লোরোফিলবিহীন, সুকেন্দ্রিক জীব; মৃতজীবী, পরজীবী বা মিথোজীবী হতে পারে।শৈবালের সঙ্গে পার্থক্য লিখতে।
হাইফা ও মাইসেলিয়ামছত্রাকের সূতাসদৃশ একক হাইফা; বহু হাইফার জালিকা মাইসেলিয়াম।ছত্রাকের দেহগঠন ব্যাখ্যায়।
লাইকেনছত্রাক ও শৈবালের সহাবস্থান; সোরেডিয়া একটি শৈবালকে ছত্রাকের হাইফা দিয়ে ঘেরা ক্ষুদ্র দল।গঠন, জনন ও গুরুত্বে।
মূল কথা: ভাইরাস কোষের বাইরে নিষ্ক্রিয়, ভেতরে বংশবৃদ্ধিশীল।
ব্যাকটেরিয়ার প্রধান অযৌন জনন দ্বি-ভাজন।
শৈবালে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে, ছত্রাকে থাকে না।
শৈবালের কোষপ্রাচীর প্রধানত সেলুলোজের।
Ulothrix-এর অযৌন জনন জুওস্পোরের মাধ্যমে হয়।
শৈবাল জলজ বাস্তুতন্ত্রে উৎপাদক ও অক্সিজেনের উৎস।
লাইকেন বায়ুদূষণের নির্দেশক।
লাইকেন পাথর ক্ষয় করে মাটি গঠনে সহায়তা করে।

পরীক্ষা প্রস্তুতি

ক. বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ)

  1. ভাইরাসের গঠন প্রধানত কোন দুটি উপাদান নিয়ে?
    ক) সেলুলোজ ও ক্লোরোফিল
    খ) নিউক্লিক অ্যাসিড ও প্রোটিন
    গ) হাইফা ও মাইসেলিয়াম
    ঘ) নিউক্লিয়াস ও রাইবোসোম
  2. T₂ ব্যাকটেরিওফাযের নিউক্লিক অ্যাসিড কোনটি?
    ক) একসূত্রক RNA
    খ) দ্বিসূত্রক RNA
    গ) দ্বিসূত্রক DNA
    ঘ) প্রোটিন
  3. ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যাবৃদ্ধির প্রধান পদ্ধতি কোনটি?
    ক) কুঁড়ি সৃষ্টি
    খ) দ্বি-ভাজন
    গ) খণ্ডায়ন
    ঘ) যৌন জনন
  4. গোলাকার ব্যাকটেরিয়াকে কী বলা হয়?
    ক) ব্যাসিলাস
    খ) কক্কাস
    গ) স্পিরিলাম
    ঘ) ভিব্রিও
  5. নিচের কোনটি শৈবালের বৈশিষ্ট্য?
    ক) ক্লোরোফিল থাকে না
    খ) সত্যিকার মূল, কাণ্ড ও পাতা থাকে
    গ) সালোকসংশ্লেষণকারী স্বভোজী
    ঘ) দেহে ভাস্কুলার টিস্যু থাকে
  6. Ulothrix-এর ক্লোরোপ্লাস্টের আকৃতি কেমন?
    ক) তারকাকার
    খ) সর্পিলাকার
    গ) বেল্ট বা ফিতাকৃতি
    ঘ) জালিকাকার
  7. লাইকেনের দেহে ছত্রাক ও শৈবালের সম্পর্ক কী ধরনের?
    ক) পরজীবিতা
    খ) মিথোজীবিতা
    গ) শিকারি সম্পর্ক
    ঘ) প্রতিযোগিতা
  8. বায়ুদূষণের নির্দেশক হিসেবে কোন জীব ব্যবহৃত হয়?
    ক) লাইকেন
    খ) Ulothrix
    গ) Agaricus
    ঘ) Chlamydomonas

খ. সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

  1. ভাইরাসকে অ-কোষীয় বস্তু বলা হয় কেন?
  2. দ্বি-ভাজন কী? এটি ব্যাকটেরিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন?
  3. Ulothrix-এর দৈহিক গঠন সংক্ষেপে লেখো।
  4. লাইকেনের সোরেডিয়াম কী? এর কাজ কী?

গ. সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক: একটি পুকুরের পানিতে পুষ্টি উপাদান বেড়ে যাওয়ায় অল্প সময়ে শৈবালের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটল। ফলে পানির স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হলো এবং কিছু মাছ মারা গেল। পুকুরের পাশে একটি পাথরের গায়ে সবুজ তন্তুময় শৈবাল দেখা গেল। আবার পুরোনো দেয়ালে এমন একটি জীব দেখা গেল, যার দেহে ছত্রাক ও শৈবাল একসঙ্গে বসবাস করছে।

ক) ভাইরাস কী? [১]

খ) লাইকেনকে মিথোজীবী বলা হয় কেন? [২]

গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত তন্তুময় শৈবালটি Ulothrix হলে এর গঠন বর্ণনা করো। [৩]

ঘ) উদ্দীপকের পুকুরে শৈবালের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণ ও পরিবেশগত ফলাফল বিশ্লেষণ করো। [৪]

উত্তর

ক. MCQ-এর সঠিক উত্তর

প্রশ্ন উত্তর সংক্ষিপ্ত কারণ
১ খ ভাইরাস নিউক্লিক অ্যাসিড ও প্রোটিন দিয়ে গঠিত।
২ গ T₂ ফাযে দ্বিসূত্রক DNA থাকে।
৩ খ ব্যাকটেরিয়া প্রধানত দ্বি-ভাজনের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায়।
৪ খ গোলাকার ব্যাকটেরিয়াকে কক্কাস বলা হয়।
৫ গ শৈবাল ক্লোরোফিলযুক্ত স্বভোজী জীব।
৬ গ Ulothrix-এ বেল্ট বা ফিতাকৃতি ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে।
৭ খ লাইকেনে ছত্রাক ও শৈবাল পারস্পরিক উপকারে থাকে।
৮ ক লাইকেন দূষিত পরিবেশে কম জন্মে।

খ. সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের মডেল উত্তর

১. ভাইরাসের নিজস্ব কোষীয় গঠন, সাইটোপ্লাজম, কোষপ্রাচীর ও অঙ্গাণু নেই। তাই এটি অ-কোষীয় বস্তু। জীবকোষের বাইরে ভাইরাস নিষ্ক্রিয় থাকে, কিন্তু জীবকোষের ভিতরে প্রবেশ করলে সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারে।

২. যে অযৌন জনন প্রক্রিয়ায় একটি কোষের নিউক্লিয়ার বস্তু ও সাইটোপ্লাজম দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে, তাকে দ্বি-ভাজন বলে। ব্যাকটেরিয়ার দ্রুত সংখ্যাবৃদ্ধির প্রধান পদ্ধতি হওয়ায় এটি গুরুত্বপূর্ণ।

৩. Ulothrix একটি শাখাহীন, তন্তুময় সবুজ শৈবাল। এর দেহ এক সারি বেলনাকার কোষ দিয়ে গঠিত। গোড়ার কোষটি হোল্ডফাস্টের সাহায্যে কোনো বস্তুর সঙ্গে যুক্ত থাকে। প্রতিটি কোষে কোষপ্রাচীর, নিউক্লিয়াস, বেল্ট বা ফিতাকৃতি ক্লোরোপ্লাস্ট এবং ক্লোরোপ্লাস্টে এক বা একাধিক পাইরিনয়েড থাকে। পাইরিনয়েডে শ্বেতসার সঞ্চিত হয়।

৪. সোরেডিয়াম হলো একটি ক্ষুদ্র দল, যেখানে একটি শৈবাল কোষকে ছত্রাকের হাইফা চারদিক থেকে ঘিরে রাখে। এটি বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং উপযুক্ত পরিবেশে অঙ্কুরিত হয়ে নতুন লাইকেন গঠন করে।

গ. সৃজনশীল প্রশ্নের মডেল উত্তর

ক) ভাইরাস হলো DNA অথবা RNA এবং প্রোটিন দিয়ে গঠিত রোগসৃষ্টিকারী অতি ক্ষুদ্র অ-কোষীয় বস্তু।

খ) লাইকেনে ছত্রাক ও শৈবাল একসঙ্গে বসবাস করে। শৈবাল সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য তৈরি করে ছত্রাককে সাহায্য করে। ছত্রাক পানি, খনিজ লবণ, আশ্রয় ও দেহের কাঠামো প্রদান করে শৈবালকে সাহায্য করে। উভয়ের পারস্পরিক উপকারের জন্য লাইকেনকে মিথোজীবী বলা হয়।

গ) Ulothrix-এর দেহ এক সারি বেলনাকার কোষ দিয়ে গঠিত একটি শাখাহীন তন্তু। নিচের প্রান্তের বিশেষ কোষটি হোল্ডফাস্টের মাধ্যমে পাথর বা অন্য কোনো বস্তুর সঙ্গে আটকে থাকে। প্রতিটি কোষে দৃঢ় কোষপ্রাচীর, নিউক্লিয়াস, বেল্ট বা ফিতাকৃতি ক্লোরোপ্লাস্ট এবং পাইরিনয়েড থাকে। পাইরিনয়েডে শ্বেতসার জমা হয়। Ulothrix অঙ্গজ, অযৌন ও যৌন—তিন পদ্ধতিতে বংশবৃদ্ধি করতে পারে।

ঘ) পুকুরের পানিতে পুষ্টি উপাদান বেড়ে গেলে কিছু শৈবাল বা সায়ানোব্যাকটেরিয়া অস্বাভাবিক দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এই ঘটনাকে ওয়াটার ব্লুম বলে। কৃষিজমির সার, জৈব বর্জ্য বা অন্যান্য পুষ্টি উপাদান পানিতে মিশলে এমন অবস্থা তৈরি হতে পারে।

ওয়াটার ব্লুমের ফলে পানির স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়। শৈবালের অতিরিক্ত বৃদ্ধি পানির আলো ও অক্সিজেনের ভারসাম্যে সমস্যা সৃষ্টি করে। ফলে জলজ প্রাণী ও মাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মাছ মারা যেতে পারে। পানির ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। Oscillatoria, Nostoc ও Anabaena এ ধরনের বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই পুকুরে বর্জ্য ও অতিরিক্ত সার মেশা বন্ধ করে জলাশয়ের পুষ্টি-দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

সাধারণ ভুল ও রিভিশন

পরীক্ষায় ভালো করতে হলে সংজ্ঞা, উদাহরণ, পার্থক্য ও জীবনচক্র গুছিয়ে মনে রাখতে হবে। নিচের ভুলগুলো বিশেষভাবে খেয়াল করো।

ভুল সঠিক
ভাইরাসকে পূর্ণাঙ্গ কোষ মনে করা। ভাইরাস DNA অথবা RNA ও প্রোটিন দিয়ে গঠিত অ-কোষীয় বস্তু।
সব ভাইরাসের নিউক্লিক অ্যাসিড DNA বলা। TMV, পোলিও ও ডেঙ্গু ভাইরাসে RNA; T₂ ফাযে DNA থাকে।
কক্কাসের সব বিন্যাসের নাম গুলিয়ে ফেলা। একক—মাইক্রোকক্কাস, জোড়ায়—ডিপ্লোকক্কাস, শৃঙ্খলে—স্ট্রেপ্টোকক্কাস।
দ্বি-ভাজনকে যৌন জনন বলা। দ্বি-ভাজন ব্যাকটেরিয়ার অযৌন বংশবৃদ্ধি।
শৈবালের সত্যিকার মূল, কাণ্ড ও পাতা আছে বলা। শৈবালের দেহ থ্যালাসযুক্ত এবং ভাস্কুলার টিস্যুবিহীন।
Ulothrix-এর জুস্পোর ও গ্যামেট একই বলা। জুস্পোর সাধারণত চার-ফ্ল্যাজেলাযুক্ত; গ্যামেট দ্বি-ফ্ল্যাজেলাযুক্ত ও আইসোগ্যামাস।
ছত্রাককে সালোকসংশ্লেষণকারী বলা। ছত্রাকে ক্লোরোফিল নেই; তারা মৃতজীবী, পরজীবী বা মিথোজীবী।
লাইকেনকে একটিমাত্র জীব মনে করা। লাইকেন হলো শৈবাল ও ছত্রাকের সহাবস্থান।

রিভিশন চেকলিস্ট

  • ভাইরাসের গঠন ও রোগের উদাহরণ বলতে পারি।
  • T₂-ফাযের মাথা, লেজ ও DNA ব্যাখ্যা করতে পারি।
  • ব্যাকটেরিয়ার আবাস, গঠন ও গুরুত্ব লিখতে পারি।
  • দ্বি-ভাজনের ধাপ ধারাবাহিকভাবে লিখতে পারি।
  • শৈবালের বৈশিষ্ট্য ও দেহের বিভিন্ন আকৃতি শনাক্ত করতে পারি।
  • অঙ্গজ, অযৌন ও যৌন জননের পার্থক্য লিখতে পারি।
  • Ulothrix-এর গঠন, বাসস্থান ও জীবনচক্র ব্যাখ্যা করতে পারি।
  • ছত্রাকের বৈশিষ্ট্য, গঠন ও গুরুত্ব লিখতে পারি।
  • লাইকেনের গঠন, প্রকার, জনন ও পরিবেশীয় গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারি।

উৎসাহ: প্রতিদিন অল্প করে সংজ্ঞা, উদাহরণ ও চিত্রের লেবেল অনুশীলন করলে এই অধ্যায়টি সহজেই আয়ত্ত হবে।

⚡ Related Tools — Try These Next
📋
MCQ Practice
Topic-wise timed tests
🏛
University Guide
All 22 universities
🧑
Ask Kabir
Expert advisor
🏆
Scholarships
Find funding
Browse all 18+ tools →
🎓 Planning to apply? Browse our complete university admission guide → with requirements, fees, and cutoffs for all 22 major universities in Bangladesh.

সম্পর্কিত পোস্ট / Related posts

HSC
HSC

Admission Test Prep: অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন

ADMISSION TEST PREPARATION অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী How to use this sheet ★★★ = the par

HSC
HSC

Admission Test Prep: অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন

ADMISSION TEST PREPARATION অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী How to use this sheet ★★★ = the p

HSC
HSC

এইচএসসি সাজেশন: অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন / অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন / অধ্যায় ৩: কোষ রসায়ন

এইচএসসি সাজেশন (একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি) অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন / অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন / অধ্যায় ৩: কোষ রসায়ন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত

HSC
HSC

লেকচার শিট: অধ্যায় ১২: জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ

লেকচার শিট অধ্যায় ১২: জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পরিচিতি এই পাঠে যা শিখবে বাস্

HSC
HSC

লেকচার শিট: অধ্যায় ১১: জীবপ্রযুক্তি

লেকচার শিট অধ্যায় ১১: জীবপ্রযুক্তি একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পরিচিতি এই পাঠে যা শিখবে কৃষিতে জিনপ্রযুক্তির ব্

HSC
HSC

লেকচার শিট: অধ্যায় ১০: উদ্ভিদ প্রজনন

লেকচার শিট অধ্যায় ১০: উদ্ভিদ প্রজনন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পরিচিতি এই পাঠে যা শিখবে ডিম্বকের প্রধান অংশ এব

🎓
আরও লেকচার শিট, মডেল টেস্ট ও প্র্যাকটিস — AlphaGenEduMore lecture sheets, board questions and MCQ practice for every class, free on alphagenedu.com
AlphaGenEdu-তে যান →
Kabir — Ask me about admissions! 🎓

AdmissionPaths Support

🟢 Online · How can we help?
🧑
Ask Kabir
Admission advisor · 20+ yrs
💬
Live Support Chat
AI-powered · instant replies
🎫
Submit a Ticket
Response within 24 hours
❓
Browse FAQ
Quick answers
🤖
AdmissionPaths Support
🟢 AI-powered · replies instantly