🎉 3-Day Free Trial — All premium features unlocked, zero credit card required ● 📚 28+ Expert Guides published and growing every week
Back to Blog
HSC

লেকচার শিট: অধ্যায় ৩: কোষ রসায়ন

By admin 7 views
লেকচার শিট

অধ্যায় ৩: কোষ রসায়ন

একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী

পরিচিতি

এই পাঠে যা শিখবে
  • লিপিডের রাসায়নিক উপাদান ও ক্যারোটিনয়েডস, স্টেরয়েডস ও ভিটামিনের মতো জৈব যৌগ সম্পর্কে জানবে।
  • জীবদেহে লিপিডের গঠনগত, শক্তি-সঞ্চয়ী ও শারীরবৃত্তীয় ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে পারবে।
  • এনজাইমের ধারণা, বৈশিষ্ট্য, রাসায়নিক প্রকৃতি ও নামকরণ শিখবে।
  • এনজাইমের গঠন, সক্রিয় স্থান, কো-ফ্যাক্টর, কো-এনজাইম ও কার্যপ্রক্রিয়া বুঝবে।
  • এনজাইমের শ্রেণিবিন্যাস, কার্যকারিতার প্রভাবক, ব্যবহার ও গুরুত্ব বিশ্লেষণ করতে পারবে।

আগে যা জানা দরকার

জীবদেহের প্রধান জৈব যৌগ হলো কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও লিপিড। প্রোটিনের গঠনকারী একক অ্যামিনো অ্যাসিড; আর এনজাইমের অধিকাংশই প্রোটিন। কোষে নানা বিপাকীয় বিক্রিয়া ঘটে এবং এসব বিক্রিয়ার গতি নিয়ন্ত্রণে এনজাইম কাজ করে। কোষের ঝিল্লি ও বিভিন্ন অঙ্গাণুর গঠনে লিপিডের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

এই অধ্যায় কেন গুরুত্বপূর্ণ?

লিপিড আমাদের খাদ্য থেকে শক্তি, তাপ ও কোষের গঠনগত উপাদান সরবরাহ করে। এনজাইম খাদ্য পরিপাক, শক্তি উৎপাদন, রোগ নির্ণয় ও বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত হয়। পরীক্ষায় এনজাইমের বৈশিষ্ট্য, নামকরণ, গঠন, শ্রেণিবিন্যাস এবং তাপমাত্রা ও pH-এর প্রভাব থেকে সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, সৃজনশীল প্রশ্ন ও বহুনির্বাচনি প্রশ্ন আসে।

এক নজরে

ক্রম আলোচ্য বিষয়
১লিপিডের রাসায়নিক উপাদান ও জৈব যৌগ
২জীবদেহে লিপিডের ভূমিকা
৩এনজাইমের ধারণা, বৈশিষ্ট্য ও নামকরণ
৪এনজাইমের গঠন, কার্যপ্রক্রিয়া ও শ্রেণিবিন্যাস
৫এনজাইমের কার্যকারিতা, ব্যবহার ও গুরুত্ব

লিপিডের রাসায়নিক উপাদান ও জৈব যৌগ

লিপিড (Lipid) জীবদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ জৈব যৌগ। সাধারণত লিপিডকে আমরা চর্বি বা স্নেহজাতীয় পদার্থ হিসেবে চিনলেও সব লিপিডের গঠন একই নয়। লিপিডে প্রধানত কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন থাকে। কিছু লিপিডে নাইট্রোজেনও উপস্থিত থাকে। কোনো কোনো লিপিডে গ্লিসারলের পরিবর্তে অ্যামাইনো অ্যাসিড বা কোলেস্টেরল থাকতে পারে।

সংজ্ঞা: কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন দ্বারা গঠিত এবং অনেক ক্ষেত্রে নাইট্রোজেনসহ বিভিন্ন জৈব যৌগ নিয়ে গঠিত স্নেহজাতীয় পদার্থকে লিপিড বলে।

ফসফোলিপিডের গঠন

ফসফোলিপিড লিপিডের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধরন। এটি ফ্যাটি অ্যাসিড, গ্লিসারল এবং নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থ দিয়ে গঠিত। কোষঝিল্লি ও অধিকাংশ কোষ অঙ্গাণুর গঠনে ফসফোলিপিডের গুরুত্ব রয়েছে।

জৈব যৌগ হিসেবে লিপিডের প্রধান ধরন

  1. ক্যারোটিনয়েডস (Carotenoids): এগুলো আলোক শোষণকারী পিগমেন্ট। পাতায় বিটা-ক্যারোটিন আলো শোষণ করে সালোকসংশ্লেষণে সাহায্য করে। মানবদেহে বিটা-ক্যারোটিন ভেঙে প্রথমে রেটিনালে এবং পরে দুই অণু ভিটামিন-A-তে পরিণত হয়। ভিটামিন-A থেকে রোডপসিন তৈরি হয়। রোডপসিন দৃষ্টিশক্তির জন্য প্রয়োজনীয়।
  2. স্টেরয়েডস (Steroids): স্টেরয়েডের মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যৌগ হলো টেস্টোস্টেরন, ইস্ট্রোজেন, কর্টিসল ও কোলেস্টেরল। টেস্টোস্টেরন ও ইস্ট্রোজেন স্টেরয়েড হরমোন; এগুলো প্রজনন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। কর্টিসল কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন বিপাক, লবণ ও পানির ভারসাম্য এবং রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। কোলেস্টেরল যকৃতে তৈরি হয় এবং কোষীয় ঝিল্লির গঠনে সাহায্য করে। এটি টেস্টোস্টেরন ও অন্যান্য স্টেরয়েড হরমোন তৈরিতে এবং পিত্ত (bile) উৎপাদনেও ভূমিকা রাখে।
  3. লিপিড-দ্রবণীয় ভিটামিন: ভিটামিন A, D, E ও K লিপিডে দ্রবণীয়। ভিটামিন-A-এর উৎস ক্যারোটিনয়েডসমৃদ্ধ খাদ্য, যেমন গাজর, টমেটো, ডিমের কুসুম ও দুধ। এর অভাবে দৃষ্টিশক্তি কমে, রাতকানা হয় এবং বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। ভিটামিন-D অস্থিতে ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে; এর অভাবে অস্থিতে রোগ দেখা দিতে পারে। ভিটামিন-E অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে দেহকে রক্ষা করে। ভিটামিন-K সবুজ শাকসবজি ও কিছু ব্যাকটেরিয়া থেকে পাওয়া যায় এবং রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
উদাহরণ: গাজরে থাকা বিটা-ক্যারোটিন দেহে ভিটামিন-A তৈরিতে সাহায্য করে। ভিটামিন-A থেকে রোডপসিন তৈরি হয়; তাই গাজর দৃষ্টিশক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য।
শিক্ষকের টিপস: লিপিড-দ্রবণীয় ভিটামিন মনে রাখো—“A D E K”। ভিটামিন-C পানিতে দ্রবণীয়; তাই তাকে লিপিড-দ্রবণীয় ভিটামিনের তালিকায় লিখবে না।
পরীক্ষায় যেভাবে আসে: ফসফোলিপিডের উপাদান, বিটা-ক্যারোটিনের কাজ, স্টেরয়েড হরমোনের ভূমিকা এবং A, D, E, K ভিটামিনের উৎস ও অভাবজনিত সমস্যা—এগুলো সংজ্ঞা, সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন বা সৃজনশীল প্রশ্নে আসতে পারে।

দ্রুত যাচাই

১. ফসফোলিপিড কোন কোন উপাদান দিয়ে গঠিত?

উত্তর দেখোফ্যাটি অ্যাসিড, গ্লিসারল ও নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থ দিয়ে ফসফোলিপিড গঠিত।

২. কোন ভিটামিনের অভাবে রাতকানা রোগ হয়?

উত্তর দেখোভিটামিন-A-এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়।

জীবদেহে লিপিডের ভূমিকা

লিপিড (Lipid) জীবদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ জৈব রাসায়নিক পদার্থ। এটি শুধু খাদ্য থেকে শক্তি পাওয়ার উপাদান নয়; কোষের গঠন, তাপ সঞ্চয়, সালোকসংশ্লেষণ এবং বিভিন্ন জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণেও লিপিডের ভূমিকা আছে। লিপিডের বিভিন্ন ধরন—যেমন ফসফোলিপিড, ট্রাইগ্লিসারাইড, ক্যারোটিনয়েড, স্টেরয়েড ও কিছু ভিটামিন—দেহে ভিন্ন ভিন্ন কাজ করে।

সংজ্ঞা ও মূল কথা: জীবদেহে গঠন, শক্তি সঞ্চয়, তাপ সঞ্চয় এবং বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজ সম্পাদনে সাহায্যকারী জৈব যৌগসমূহকে লিপিড বলা হয়। ফসফোলিপিড কোষের আবরণ তৈরি করে, আর ট্রাইগ্লিসারাইড প্রাণীদেহে শক্তি সঞ্চয় করে।

লিপিডের ভূমিকা ধাপে ধাপে

  1. কোষের গঠন: সেলমেমব্রেন বা কোষঝিল্লির প্রধান গঠন উপাদান হলো ফসফোলিপিড। শুধু কোষঝিল্লি নয়, অধিকাংশ কোষীয় অঙ্গাণুর গঠনেও ফসফোলিপিড থাকে। তাই ফসফোলিপিডের অভাবে কোষের স্বাভাবিক গঠন ও কাজ ব্যাহত হয়।
  2. কোষের আবরণ তৈরি: ফসফোলিপিড কোষের চারপাশে আবরণ সৃষ্টি করে। এই আবরণ কোষের ভেতরের উপাদানকে ঘিরে রাখে এবং কোষকে একটি নির্দিষ্ট গঠন দেয়। কোষের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ বজায় রাখতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ।
  3. শক্তি সঞ্চয়: ট্রাইগ্লিসারাইড প্রাণীদেহে শক্তি সঞ্চয় করে। লিপিড থেকে কার্বোহাইড্রেটের তুলনায় অধিক শক্তি পাওয়া যায়। তাই দেহে অতিরিক্ত শক্তি ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য লিপিড হিসেবে সঞ্চিত থাকতে পারে।
  4. তাপ সঞ্চয় ও সুরক্ষা: দেহে সঞ্চিত লিপিড তাপ ধরে রাখতে সাহায্য করে। ফলে দেহের তাপ সহজে বাইরে বেরিয়ে যায় না। অতিরিক্ত ব্যাখ্যাদেহের কিছু অংশে জমা লিপিড অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোকে আঘাতের প্রভাব থেকে কিছুটা রক্ষা করতেও সাহায্য করে।
  5. সালোকসংশ্লেষণে ভূমিকা: ফসফোলিপিড সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উদ্ভিদের আলোক-শোষণকারী ব্যবস্থার সঙ্গে লিপিডজাত পদার্থের সম্পর্ক রয়েছে।
  6. জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ: ক্যারোটিনয়েড, স্টেরয়েড হরমোন এবং ভিটামিন A, D, E ও K জীবদেহের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন, ভিটামিন A দৃষ্টিশক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত, ভিটামিন D অস্থিতে ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে, ভিটামিন E অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং ভিটামিন K রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
উদাহরণ: ট্রাইগ্লিসারাইড প্রাণীদেহে শক্তি সঞ্চয় করে। আবার ফসফোলিপিড সেলমেমব্রেন ও অধিকাংশ অঙ্গাণুর গঠন উপাদান হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ একই শ্রেণির পদার্থ লিপিড হলেও বিভিন্ন ধরনের লিপিডের কাজ ভিন্ন।
শিক্ষকের টিপস: মনে রাখবে—“ফসফোলিপিড গঠন করে, ট্রাইগ্লিসারাইড সঞ্চয় করে, ভিটামিন কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।” ফসফোলিপিডকে শুধু শক্তির উৎস লিখবে না; এর প্রধান ভূমিকা হলো কোষের আবরণ ও অঙ্গাণুর গঠন।
পরীক্ষায় যেভাবে আসে: “জীবদেহে লিপিডের ভূমিকা” প্রশ্নে অবশ্যই ফসফোলিপিডের গঠনগত ভূমিকা, ট্রাইগ্লিসারাইডের শক্তি সঞ্চয়, তাপ সঞ্চয় এবং A, D, E, K ভিটামিনের গুরুত্ব লিখবে।

দ্রুত যাচাই

১। সেলমেমব্রেনের প্রধান গঠন উপাদান কোন লিপিড?

উত্তর দেখোফসফোলিপিড।

২। প্রাণীদেহে শক্তি সঞ্চয়ের প্রধান লিপিড কোনটি?

উত্তর দেখোট্রাইগ্লিসারাইড।

এনজাইমের ধারণা, বৈশিষ্ট্য ও নামকরণ

আমাদের দেহে প্রতি মুহূর্তে অসংখ্য রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। খাদ্য পরিপাক, শক্তি উৎপাদন, বৃদ্ধি ও দেহ গঠন—সব কাজেই এসব বিক্রিয়া দরকার। কিন্তু সাধারণ তাপমাত্রায় এসব বিক্রিয়া খুব ধীরে ঘটত। এনজাইম এই বিক্রিয়াগুলোর গতি বাড়িয়ে জীবদেহকে সচল রাখে। তাই এনজাইমকে জীবদেহের জৈব অনুঘটক (biocatalyst) বলা হয়।

সংজ্ঞা: যে প্রোটিনজাতীয় জৈব পদার্থ অল্প পরিমাণে উপস্থিত থেকে কোনো নির্দিষ্ট রাসায়নিক বিক্রিয়ার হার বাড়ায় এবং বিক্রিয়া শেষে সাধারণত অপরিবর্তিত অবস্থায় মুক্ত হয়, তাকে এনজাইম বা উৎসেচক বলে।

এনজাইমের প্রধান বৈশিষ্ট্য

  1. প্রোটিনজাতীয়: অধিকাংশ এনজাইম প্রোটিন। প্রোটিন গঠনকারী অ্যামিনো অ্যাসিডই এনজাইমের মূল উপাদান। কোনো নির্দিষ্ট এনজাইমে অ্যামিনো অ্যাসিডের সংখ্যা ও অনুক্রম নির্দিষ্ট থাকে। এর ফলে এনজাইমের ত্রিমাত্রিক গঠনও নির্দিষ্ট হয়। তবে মনে রাখতে হবে, সব প্রোটিন এনজাইম নয়।
  2. অল্প পরিমাণে কার্যকর: খুব সামান্য পরিমাণ এনজাইমও বিপুল পরিমাণ সাবস্ট্রেটের বিক্রিয়ার গতি বাড়াতে পারে। যে পদার্থের উপর এনজাইম কাজ করে তাকে সাবস্ট্রেট (substrate) বলে।
  3. নির্দিষ্টতা: একটি এনজাইম সাধারণত নির্দিষ্ট সাবস্ট্রেট বা নির্দিষ্ট বিক্রিয়ায় কাজ করে। যেমন, সুক্রেজ সুক্রোজের উপর কাজ করে; অন্য পদার্থের উপর সাধারণত কাজ করে না।
  4. তাপমাত্রা-সংবেদনশীল: সাধারণত ৩৫–৪০°C তাপমাত্রায় এনজাইম বেশি সক্রিয় থাকে। বেশি তাপে এনজাইমের গঠন নষ্ট হতে পারে। কম তাপে সাধারণত নষ্ট হয় না, তবে কার্যকারিতা কমে যায়।
  5. pH-নির্ভর: এনজাইমের কার্যকারিতা pH দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। সাধারণভাবে pH ৬–৯-এর মধ্যে অনেক এনজাইম বেশি সক্রিয় থাকে। অতিরিক্ত অম্ল বা ক্ষার এনজাইমের কার্যকারিতা নষ্ট করতে পারে।
  6. জল ও ধাতব আয়নের প্রভাব: ভেজা পরিবেশে এনজাইম স্বাভাবিকভাবে কাজ করে। Mg²⁺ ও Mn²⁺-এর মতো কিছু ধাতব আয়ন কার্যকারিতা বাড়ায়; আবার Hg, Zn ও Cu কার্যকারিতা কমাতে পারে।
  7. সাম্যাবস্থা অপরিবর্তিত: এনজাইম বিক্রিয়ার গতি বাড়ায়, কিন্তু বিক্রিয়ার সাম্যাবস্থা পরিবর্তন করে না। বিক্রিয়া শেষে এনজাইম সাধারণত অপরিবর্তিত থাকে।

এনজাইমের নামকরণ

এনজাইমের নাম সাধারণত তিনভাবে দেওয়া হয়।

ভিত্তি নিয়ম ও উদাহরণ
সাবস্ট্রেটের ধরন সাবস্ট্রেটের নামের শেষে ‘এজ’ যোগ করা হয়। সুক্রোজ + এজ = সুক্রেজ; ইউরিয়া + এজ = ইউরিয়েজ।
বিক্রিয়ার ধরন হাইড্রোলাইসিস + এজ = হাইড্রোলেজ; অক্সিডেশন + এজ = অক্সিডেজ; রিডাকশন + এজ = রিডাক্টেজ।
সাবস্ট্রেট ও বিক্রিয়ার সমন্বয় সাবস্ট্রেট ও বিক্রিয়ার বৈশিষ্ট্য মিলিয়ে নাম দেওয়া হয়; যেমন বেনজোয়েট-ডিকারবক্সিলেজ।
উদাহরণ: সুক্রেজ এনজাইম সুক্রোজকে ভেঙে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ তৈরি করে। এখানে সুক্রোজ হলো সাবস্ট্রেট। তাই সাবস্ট্রেটের নাম ‘সুক্রোজ’-এর সঙ্গে ‘এজ’ যুক্ত হয়ে এনজাইমের নাম হয়েছে ‘সুক্রেজ’।
শিক্ষকের টিপস: নাম মনে রাখার সহজ নিয়ম—সাবস্ট্রেট বা বিক্রিয়ার নাম + এজ = এনজাইম। তবে সব এনজাইমের নামের শেষে ‘এজ’ থাকে না; তাই নাম দেখে কাজ বুঝলেও উদাহরণটি অবশ্যই মনে রাখবে।
পরীক্ষায় যেভাবে আসে: সংজ্ঞায় অবশ্যই লিখবে—এনজাইম অল্প পরিমাণে কাজ করে, বিক্রিয়ার গতি বাড়ায়, নির্দিষ্টতা দেখায় এবং বিক্রিয়া শেষে সাধারণত অপরিবর্তিত থাকে। “এনজাইম সাম্যাবস্থা পরিবর্তন করে”—এটি ভুল।

দ্রুত যাচাই ১: এনজাইমকে জৈব অনুঘটক বলা হয় কেন?

উত্তর দেখোএনজাইম জীবদেহে রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতি বাড়ায় এবং বিক্রিয়া শেষে সাধারণত অপরিবর্তিত থাকে বলে তাকে জৈব অনুঘটক বলা হয়।

দ্রুত যাচাই ২: সাবস্ট্রেটের নাম অনুসারে ইউরিয়া থেকে কোন এনজাইমের নাম হয়?

উত্তর দেখোইউরিয়া + ‘এজ’ = ইউরিয়েজ।

এনজাইমের গঠন, কার্যপ্রক্রিয়া ও শ্রেণিবিন্যাস

এনজাইম হলো জীবদেহের জৈব অনুঘটক (biocatalyst)। এটি অতি অল্প পরিমাণে থেকে নির্দিষ্ট রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতি বাড়ায়। বিক্রিয়া শেষে এনজাইম সাধারণত অপরিবর্তিত থাকে। অধিকাংশ এনজাইম প্রোটিন দিয়ে গঠিত।

সংজ্ঞা: যে প্রোটিন জীবদেহে অল্পমাত্রায় উপস্থিত থেকে নির্দিষ্ট বিক্রিয়ার হার বাড়ায়, তাকে এনজাইম বলে। এনজাইমের যে অংশে সাবস্ট্রেট যুক্ত হয়ে বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে সক্রিয় স্থান (active site) বলে।

১. এনজাইমের গঠন

সরল এনজাইম: যে এনজাইম সম্পূর্ণভাবে প্রোটিন দিয়ে গঠিত, তাকে সরল এনজাইম বলে। উদাহরণ: সুক্রেজ, পেপসিন।

যৌগিক বা সংযুক্ত এনজাইম: যে এনজাইমের প্রোটিন অংশের সঙ্গে একটি অপ্রোটিন অংশ যুক্ত থাকে, তাকে যৌগিক এনজাইম বলে। এর প্রোটিন অংশের নাম অ্যাপোএনজাইম এবং অপ্রোটিন অংশের নাম প্রস্থেটিক গ্রুপ।

প্রস্থেটিক গ্রুপ ধাতব আয়ন হলে তাকে কো-ফ্যাক্টর বলে। যেমন: Fe²⁺, Mg²⁺, Zn²⁺। প্রস্থেটিক গ্রুপ জৈব অপ্রোটিন পদার্থ হলে তাকে কো-এনজাইম বলে। উদাহরণ: FAD, NAD, NADP ও CoA। কো-এনজাইম ইলেকট্রন গ্রহণকারী বা কোনো পরমাণুর দাতা হিসেবে কাজ করতে পারে।

২. এনজাইমের কার্যপ্রক্রিয়া

এনজাইমের সক্রিয় স্থান ও সাবস্ট্রেটের সম্পর্ককে প্রথমে তালা-চাবি মডেল দিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়। নির্দিষ্ট চাবি যেমন নির্দিষ্ট তালায় বসে, তেমনি নির্দিষ্ট সাবস্ট্রেট নির্দিষ্ট এনজাইমের সক্রিয় স্থানে যুক্ত হয়।

  1. সাবস্ট্রেট সক্রিয় স্থানে যুক্ত হয়।
  2. এনজাইম-সাবস্ট্রেট যৌগ তৈরি হয়।
  3. সাবস্ট্রেট ভেঙে নতুন উৎপাদ (product) তৈরি হয়।
  4. এনজাইম অপরিবর্তিত অবস্থায় মুক্ত হয়।

কখনো সাবস্ট্রেট প্রথমে সক্রিয় স্থানে সম্পূর্ণভাবে খাপ খায় না। যুক্ত হওয়ার পর এনজাইমের আকার সামান্য পরিবর্তিত হয়ে সাবস্ট্রেটকে উপযুক্তভাবে ধারণ করে। এই ব্যাখ্যাকে ইনডিউসড ফিট (induced fit) মডেল বলা হয়।

এনজাইমের কার্যপ্রক্রিয়া1এনজাইম +সাবস্ট্রেট2এনজাইম-সাবস্ট্রেটযৌগ3উৎপাদ সৃষ্টি4এনজাইম পুনরায়মুক্ত
সক্রিয় স্থান নির্দিষ্ট সাবস্ট্রেটের সঙ্গে যুক্ত হয়।
উদাহরণ: সুক্রেজ + সুক্রোজ → সুক্রেজ-সুক্রোজ যৌগ → সুক্রেজ + গ্লুকোজ + ফ্রুক্টোজ।

৩. ইনহিবিটর ও অ্যাক্টিভেটর

ইনহিবিটর এনজাইমের কাজ বাধাগ্রস্ত করে। কোনো ইনহিবিটর সক্রিয় স্থানে যুক্ত হয়ে সাবস্ট্রেটকে সেখানে যুক্ত হতে বাধা দেয়। আবার কোনো ইনহিবিটর সক্রিয় স্থান ছাড়া অন্য স্থানে, অর্থাৎ অ্যালোস্টেরিক স্থানে যুক্ত হয়ে সক্রিয় স্থানকে অকার্যকর করে। বিপরীতে, অ্যাক্টিভেটর অ্যালোস্টেরিক স্থানে যুক্ত হয়ে এনজাইমের কার্যকারিতা বাড়াতে পারে।

৪. বিক্রিয়াভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস

  • অক্সিডোরিডাক্টেজ: জারণ-বিজারণ বা ইলেকট্রন স্থানান্তরের বিক্রিয়া ঘটায়। উদাহরণ: সাইটোক্রোম অক্সিডেজ, ফসফোগ্লিসারালডিহাইড ডিহাইড্রোজেনেজ।
  • ট্রান্সফারেজ: একটি পদার্থ থেকে NH₂-এর মতো গ্রুপ অন্য পদার্থে স্থানান্তর করে।
  • হাইড্রোলেজ: পানির সাহায্যে যৌগ ভাঙে। উদাহরণ: সুক্রেজ, ল্যাক্টেজ, মল্টেজ।
  • লাইয়েজ: হাইড্রোলাইসিস বা জারণ-বিজারণ ছাড়াই বন্ধন ভাঙে। উদাহরণ: L-ম্যালেট → ফিউমারেট + পানি।
  • আইসোমারেজ: একই আণবিক সংকেতযুক্ত ভিন্ন গঠনের পদার্থের আন্তঃরূপান্তর ঘটায়। উদাহরণ: গ্লুকোজ-৬-ফসফেট ⇌ ফ্রুকটোজ-৬-ফসফেট।
  • লাইগেজ: ATP-এর সাহায্যে দুই বা ততোধিক সাবস্ট্রেট যুক্ত করে। উদাহরণ: গ্লুটামিন সিনথেটেজ।
শিক্ষকের টিপস: শ্রেণিগুলো মনে রাখো—“অক্সি-ট্রান্স-হাইড্রো-লাই-আইসো-লাইগেজ”। কো-ফ্যাক্টর ধাতব আয়ন, আর কো-এনজাইম জৈব অপ্রোটিন অংশ—এ দুটিকে গুলিয়ে ফেলবে না।
পরীক্ষায় যেভাবে আসে: সরল এনজাইমের সংজ্ঞা, অ্যাপোএনজাইম ও প্রস্থেটিক গ্রুপের পার্থক্য, তালা-চাবি ও ইনডিউসড ফিট মডেল এবং ছয়টি বিক্রিয়াভিত্তিক শ্রেণির উদাহরণ লিখতে হতে পারে।

দ্রুত যাচাই

১। কো-ফ্যাক্টর ও কো-এনজাইমের মধ্যে মূল পার্থক্য কী?

উত্তর দেখোকো-ফ্যাক্টর হলো ধাতব আয়ন; কো-এনজাইম হলো জৈব অপ্রোটিন অংশ।

২। ATP-এর সাহায্যে সাবস্ট্রেট যুক্ত করে কোন শ্রেণির এনজাইম?

উত্তর দেখোলাইগেজ এনজাইম।

এনজাইমের কার্যকারিতা, ব্যবহার ও গুরুত্ব

এনজাইম জীবদেহের বিপাকীয় বিক্রিয়ার গতি বাড়ায়। অল্প পরিমাণ এনজাইমও অনেকবার কাজ করতে পারে এবং বিক্রিয়া শেষে সাধারণত অপরিবর্তিত থাকে। খাদ্য পরিপাক, শক্তি উৎপাদন, দেহের বৃদ্ধি ও বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের সংশ্লেষণে এনজাইম অপরিহার্য।

সংজ্ঞা: এনজাইম হলো জীবদেহে অল্পমাত্রায় উপস্থিত প্রোটিনজাতীয় জৈব অনুঘটক, যা নির্দিষ্ট বিক্রিয়ার হার বৃদ্ধি করে এবং বিক্রিয়া শেষে অপরিবর্তিতভাবে মুক্ত হয়।

এনজাইমের কার্যকারিতার প্রধান প্রভাবক

  1. তাপমাত্রা: সাধারণত ৩৫°C–৪০°C তাপমাত্রায় এনজাইম বেশি সক্রিয় থাকে। ৪০°C-এর উপরে তাপমাত্রায় এনজাইমের গঠন নষ্ট হয়ে কার্যকারিতা কমে যায়। ০°C বা তার নিচে কার্যকারিতা কমলেও এনজাইম সাধারণত নষ্ট হয় না। ৪০°C-কে অনেক এনজাইমের সর্বোত্তম তাপমাত্রা বলা হয়।
  2. pH: প্রত্যেক এনজাইমের একটি নির্দিষ্ট অনুকূল pH থাকে। অতিরিক্ত অম্ল বা ক্ষারীয় পরিবেশে এনজাইমের কার্যকারিতা নষ্ট হতে পারে। পেপসিনের অনুকূল pH ২.০, ইউরিয়েজের ৭.০ এবং ট্রিপসিনের ৮.০।
  3. জল: ভেজা পরিবেশে পানির উপস্থিতিতে এনজাইম স্বাভাবিকভাবে কাজ করে। শুকনো অবস্থায় কার্যকারিতা থাকে না।
  4. ধাতব আয়ন: Mg²⁺ ও Mn²⁺ এনজাইমের কাজ বাড়াতে পারে। Hg, Zn ও Cu-এর উপস্থিতি অনেক সময় কাজ কমিয়ে দেয়।
  5. সাবস্ট্রেটের ঘনত্ব: নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত সাবস্ট্রেটের ঘনত্ব বাড়লে এনজাইমের কার্যকারিতা বাড়ে।
  6. এনজাইমের ঘনত্ব: উপযুক্ত সাবস্ট্রেট উপস্থিত থাকলে এনজাইমের ঘনত্ব বাড়লে বিক্রিয়ার হারও বাড়ে।
  7. ইনহিবিটর: ইনহিবিটর এনজাইমের সক্রিয় স্থান দখল করে বা সক্রিয় স্থান নষ্ট করে; ফলে সাবস্ট্রেট যুক্ত হতে পারে না এবং এনজাইমের কাজ বাধাগ্রস্ত হয়।
উদাহরণ: ক্যাটালেজ হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ভেঙে পানি ও অক্সিজেন তৈরি করে।
2H2O2 —ক্যাটালেজ→ 2H2O + O2

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এনজাইম ও কাজ

এনজাইমকাজ ও বিক্রিয়া
সেলুলেজসেলুলোজ → সেলুবায়োজ → গ্লুকোজ; উদ্ভিদদেহের সেলুলোজ ভাঙে।
প্রোটিয়েজপ্রোটিন ভেঙে অ্যামিনো অ্যাসিড তৈরি করে; পেপসিন, ট্রিপসিন ও পেপটাইডেজ এর উদাহরণ।
অ্যামাইলেজα-অ্যামাইলেজ স্টার্চকে ডেক্সট্রিনে এবং β-অ্যামাইলেজ ডেক্সট্রিনকে মল্টোজে পরিণত করে।
জাইমেজC6H12O6 → 2C2H5OH + 2CO2; ইস্টে শর্করার গাঁজন ঘটায়।

এনজাইম ও কো-এনজাইমের পার্থক্য

বিষয়এনজাইমকো-এনজাইম
প্রকৃতিবড় প্রোটিন অণুঅপ্রোটিনিক জৈব যৌগ
আণবিক ভরপ্রায় ১২,০০০–১০,০০,০০০ ডালটনপ্রায় ৫০০ ডালটন
তাপসহনশীলতা৫০°C–৬০°C-এ নষ্ট হয়তুলনামূলক বেশি
উদাহরণপ্রোটিয়েজ, লাইপেজATP, NAD, FAD

ব্যবহার ও গুরুত্ব

এনজাইম খাদ্য পরিপাকে সরাসরি কাজ করে এবং বিপাকীয় বিক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে। দেহের বৃদ্ধি, গঠন ও প্রয়োজনীয় রাসায়নিক পদার্থের সংশ্লেষণও এনজাইম নিয়ন্ত্রণ করে। ফলের রস পরিষ্কার করতে পেকটিনেজ, পনির তৈরিতে রেনিন, কাপড়ের দাগ দূর করতে এনজাইম, চামড়া লোমমুক্ত করতে এবং ক্ষত নিরাময়ে এনজাইম ব্যবহৃত হয়।

হজমের সমস্যা হলে পেপসিন, অ্যামাইলেজ ও ট্রিপসিন দেওয়া যায়। রক্তে ইউরিয়া শনাক্তে ইউরিয়েজ এবং ইউরিক অ্যাসিড বিশ্লেষণে ইউরিকেজ ব্যবহৃত হয়। ট্রিপসিনের সাহায্যে ছানি অপারেশন এবং ইউরোকাইনেজের সাহায্যে রক্তের জমাট গলানোর প্রয়োগও রয়েছে।

শিক্ষকের টিপস: “সেলুলেজ–সেলুলোজ, প্রোটিয়েজ–প্রোটিন, অ্যামাইলেজ–অ্যামাইলোজ, ক্যাটালেজ–H2O2”—এভাবে এনজাইমের নাম ও কাজ মিলিয়ে মনে রাখো।
পরীক্ষায় যেভাবে আসে: তাপমাত্রা ও pH এনজাইমের কার্যকারিতার গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক। কো-এনজাইম নিজে এনজাইমের মতো কাজ করে না; এটি এনজাইমের কাজে সহায়তা করে।

দ্রুত যাচাই ১: ক্যাটালেজ কোন পদার্থকে ভাঙে?

উত্তর দেখোহাইড্রোজেন পারঅক্সাইড (H2O2)।

দ্রুত যাচাই ২: ফলের রস পরিষ্কার করতে কোন এনজাইম ব্যবহৃত হয়?

উত্তর দেখোপেকটিনেজ এনজাইম।

উদাহরণ ও সমাধান

নিচের উদাহরণগুলো পরীক্ষায় লেখার উপযোগী করে ধাপে ধাপে সমাধান করা হলো। উত্তর লেখার সময় সংজ্ঞা, কারণ, উদাহরণ এবং প্রয়োজনে রাসায়নিক সমীকরণ উল্লেখ করবে।

উদাহরণ ১: লিপিডের রাসায়নিক উপাদান ও ভূমিকা

সমস্যা: লিপিডের প্রধান রাসায়নিক উপাদান কী? জীবদেহে লিপিডের চারটি ভূমিকা লেখো।

  1. প্রধান উপাদান শনাক্তকরণ: লিপিড সাধারণত কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন দ্বারা গঠিত। কিছু লিপিডে নাইট্রোজেনও থাকতে পারে।
  2. গঠনগত উপাদান: অনেক লিপিডে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারল থাকে। ফসফোলিপিডে ফ্যাটি অ্যাসিড, গ্লিসারল ও নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থ থাকে।
  3. ভূমিকা ১: ফসফোলিপিড কোষঝিল্লি ও অধিকাংশ অঙ্গাণুর গঠনে অংশ নেয়।
  4. ভূমিকা ২: ট্রাইগ্লিসারাইড প্রাণীদেহে শক্তি সঞ্চয় করে। লিপিড থেকে অধিক শক্তি পাওয়া যায় এবং তাপ সঞ্চিত থাকে।
  5. ভূমিকা ৩: ক্যারোটিনয়েড, স্টেরয়েড হরমোন এবং ভিটামিন A, D, E ও K দেহে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে।
  6. ভূমিকা ৪: কোলেস্টেরল কোষীয় ঝিল্লির গঠন, স্টেরয়েড হরমোন ও বাইল তৈরিতে সাহায্য করে।

চূড়ান্ত উত্তর: লিপিডের প্রধান উপাদান C, H ও O; তবে কিছু লিপিডে N থাকে। এটি কোষঝিল্লি গঠন, শক্তি সঞ্চয়, তাপ সংরক্ষণ এবং হরমোন-ভিটামিনের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ।

উদাহরণ ২: এনজাইমের নামকরণ

সমস্যা: সাবস্ট্রেট ও বিক্রিয়ার ধরন অনুসারে এনজাইমের নাম কীভাবে নির্ণয় করা যায়? সুক্রোজ, হাইড্রোলাইসিস এবং অক্সিডেশন থেকে নাম লেখো।

  1. সাবস্ট্রেট শনাক্তকরণ: যে পদার্থের উপর এনজাইম কাজ করে তাকে সাবস্ট্রেট বলে।
  2. নিয়ম প্রয়োগ: সাবস্ট্রেটের নামের শেষে ‘এজ’ যোগ করলে এনজাইমের নাম হয়।
  3. প্রয়োগ: সুক্রোজ + এজ = সুক্রেজ। একইভাবে ইউরিয়া + এজ = ইউরিয়েজ এবং ল্যাকটোজ + এজ = ল্যাকটেজ।
  4. বিক্রিয়ার নাম ব্যবহার: হাইড্রোলাইসিস + এজ = হাইড্রোলেজ। অক্সিডেশন + এজ = অক্সিডেজ। রিডাকশন + এজ = রিডাক্টেজ।

চূড়ান্ত উত্তর: সুক্রোজের এনজাইম সুক্রেজ, হাইড্রোলাইসিসের এনজাইম হাইড্রোলেজ এবং অক্সিডেশনের এনজাইম অক্সিডেজ।

উদাহরণ ৩: এনজাইমের কার্যপ্রক্রিয়া

সমস্যা: সুক্রেজ কীভাবে সুক্রোজকে ভাঙে তা ধাপে ধাপে দেখাও।

  1. সক্রিয় স্থান: এনজাইমের যে অংশে বিক্রিয়া ঘটে তাকে সক্রিয় স্থান (active site) বলে।
  2. সংযুক্তি: সুক্রোজ সাবস্ট্রেট হিসেবে সুক্রেজের সক্রিয় স্থানে যুক্ত হয়। তখন এনজাইম-সাবস্ট্রেট যৌগ গঠিত হয়।
  3. ভাঙন: এনজাইম-সাবস্ট্রেট যৌগ ভেঙে সুক্রোজ থেকে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ সৃষ্টি হয়।
  4. এনজাইমের মুক্তি: বিক্রিয়া শেষে সুক্রেজ অপরিবর্তিত অবস্থায় মুক্ত হয় এবং আবার কাজ করতে পারে।

সমীকরণ: সুক্রেজ + সুক্রোজ → সুক্রেজ-সুক্রোজ যৌগ → সুক্রেজ + গ্লুকোজ + ফ্রুক্টোজ

চূড়ান্ত উত্তর: এনজাইম নির্দিষ্ট সাবস্ট্রেটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যৌগ তৈরি করে, সাবস্ট্রেটকে উৎপাদকে পরিণত করে এবং নিজে অপরিবর্তিত থাকে।

উদাহরণ ৪: এনজাইমের ব্যবহার ও শ্রেণিবিন্যাস

সমস্যা: ক্যাটালেজের কাজ এবং এটি কোন ধরনের এনজাইম—ব্যাখ্যা করো।

  1. সাবস্ট্রেট শনাক্তকরণ: ক্যাটালেজের সাবস্ট্রেট হলো হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড (H2O2)।
  2. বিক্রিয়া: ক্যাটালেজ H2O2-কে ভেঙে পানি ও অক্সিজেন তৈরি করে।
  3. সমীকরণ: 2H2O2 — ক্যাটালেজ → 2H2O + O2
  4. শ্রেণিবিন্যাস: এটি ভাঙন-ধর্মী বিক্রিয়ায় কাজ করে। তাই বিক্রিয়ার ভিত্তিতে এটি হাইড্রোলাইটিক বা হাইড্রোলেজ এনজাইমের সঙ্গে সম্পর্কিতভাবে আলোচনা করা যায়।
  5. গুরুত্ব: প্রাণী ও উদ্ভিদকোষে উৎপন্ন ক্ষতিকর হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ভেঙে তুলনামূলক ক্ষতিহীন পানি ও অক্সিজেনে পরিণত হয়।

চূড়ান্ত উত্তর: ক্যাটালেজ H2O2 ভেঙে H2O ও O2 উৎপন্ন করে এবং কোষকে ক্ষতিকর পারঅক্সাইড থেকে রক্ষা করে।

সংজ্ঞা, সূত্র ও সারসংক্ষেপ

পরিভাষাসংজ্ঞা বা সূত্রকখন ব্যবহার করবে
লিপিডপ্রধানত C, H ও O-যুক্ত জৈব যৌগ; কখনো N থাকে।গঠন ও ভূমিকা লিখতে
ফসফোলিপিডফ্যাটি অ্যাসিড, গ্লিসারল ও নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থের সমন্বয়।কোষঝিল্লির গঠন ব্যাখ্যায়
ক্যারোটিনয়েডআলোকশোষী রঞ্জক; β-ক্যারোটিন থেকে ভিটামিন-A ও রোডপসিন তৈরি হয়।দৃষ্টিশক্তি ও সালোকসংশ্লেষণে
স্টেরয়েডTestosterone, estrogen, cortisol ও cholesterol-জাত লিপিড।হরমোন ও ঝিল্লির ভূমিকা লিখতে
লিপিড-দ্রবণীয় ভিটামিনA, D, E ও K; E অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, K রক্ত জমাটে সাহায্য করে।ভিটামিনের শ্রেণি নির্ণয়ে
এনজাইমজীবদেহের জৈব অনুঘটক; অল্প পরিমাণে বিক্রিয়ার হার বাড়ায় এবং শেষে অপরিবর্তিত থাকে।সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্যে
সাবস্ট্রেটযে পদার্থের উপর এনজাইম কাজ করে।এনজাইমের নামকরণে
সক্রিয় স্থানএনজাইমের যে স্থানে সাবস্ট্রেট যুক্ত হয়ে বিক্রিয়া ঘটে।কার্যপ্রক্রিয়ায়
কার্যপ্রক্রিয়াএনজাইম + সাবস্ট্রেট → এনজাইম-সাবস্ট্রেট যৌগ → এনজাইম + উৎপাদ।ধাপ ও সমীকরণে
উদাহরণসুক্রেজ + সুক্রোজ → গ্লুকোজ + ফ্রুক্টোজ।হাইড্রোলেজ বোঝাতে
কো-ফ্যাক্টর/কো-এনজাইমধাতব আয়ন/জৈব অপ্রোটিন অংশ; উদাহরণ Fe²⁺, Mg²⁺, Zn²⁺ এবং NAD, FAD, ATP।যৌগিক এনজাইমে
ইনহিবিটরএনজাইমের কার্যকারিতা বাধাগ্রস্তকারী পদার্থ।নিয়ন্ত্রণ ব্যাখ্যায়
শ্রেণিবিন্যাসOxidoreductase, transferase, hydrolase, lyase, isomerase ও ligase।বিক্রিয়ার ধরন অনুযায়ী
ক্যাটালেজ2H2O2 → 2H2O + O2H2O2 ভাঙতে
জাইমেজC6H12O6 → 2C2H5OH + 2CO2ইস্টের গাঁজন প্রক্রিয়ায়
অনুকূল অবস্থাসাধারণত ৩৫–৪০°C ও pH ৬–৯; অতিরিক্ত তাপে এনজাইম নষ্ট হয়।কার্যকারিতা ব্যাখ্যায়
মূল কথা:
১. লিপিড কোষঝিল্লি, শক্তি সঞ্চয় ও তাপ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ।
২. ট্রাইগ্লিসারাইড প্রাণীদেহে শক্তি সঞ্চয় করে।
৩. এনজাইম প্রধানত প্রোটিনজাত জৈব অনুঘটক।
৪. এনজাইমের কার্যকারিতা নির্দিষ্ট এবং সাম্যাবস্থা পরিবর্তন করে না।
৫. তাপমাত্রা, pH, জল, ধাতব আয়ন ও ইনহিবিটর এনজাইমের কাজে প্রভাব ফেলে।
৬. Active site ও substrate-এর নির্দিষ্ট সম্পর্কেই এনজাইম-সাবস্ট্রেট যৌগ গঠিত হয়।
৭. এনজাইম খাদ্য পরিপাক, চিকিৎসা, ফলের রস, পনির ও শিল্পে ব্যবহৃত হয়।

পরীক্ষা প্রস্তুতি

নিচের প্রশ্নগুলো অধ্যায় ৩: কোষ রসায়নের লিপিড ও এনজাইম অংশ থেকে তৈরি করা হয়েছে। প্রথমে নিজে উত্তর দাও, তারপর উত্তর মিলিয়ে দেখো।

ক. বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ)

  1. নিচের কোনগুলো লিপিড-দ্রবণীয় ভিটামিন?

    ক) B ও C    খ) A, D, E ও K    গ) B ও D    ঘ) C ও K

  2. এনজাইম যে পদার্থের উপর কাজ করে তাকে কী বলে?

    ক) কো-এনজাইম    খ) ইনহিবিটর    গ) সাবস্ট্রেট    ঘ) প্রস্থেটিক গ্রুপ

  3. কনজুগেটেড এনজাইমের প্রোটিন অংশের নাম কী?

    ক) কো-ফ্যাক্টর    খ) অ্যাপোএনজাইম    গ) কো-এনজাইম    ঘ) ইনহিবিটর

  4. সুক্রোজকে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজে ভাঙতে কোন এনজাইম কাজ করে?

    ক) ল্যাকটেজ    খ) মল্টেজ    গ) সুক্রেজ    ঘ) ইউরিয়েজ

  5. পেপসিনের অনুকূলতম pH কত?

    ক) ২.০    খ) ৪.৫    গ) ৭.০    ঘ) ৮.০

  6. ক্যাটালেজের সাহায্যে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের বিয়োজনের সঠিক সমীকরণ কোনটি?

    ক) H₂O₂ → H₂O + O₂

    খ) 2H₂O₂ → 2H₂O + O₂

    গ) 2H₂O → 2H₂O₂ + O₂

    ঘ) H₂O + O₂ → H₂O₂

  7. গ্লুকোজ-৬-ফসফেট ⇌ ফ্রুকটোজ-৬-ফসফেট রূপান্তরে কোন শ্রেণির এনজাইম কাজ করে?

    ক) হাইড্রোলেজ    খ) ট্রান্সফারেজ    গ) আইসোমারেজ    ঘ) লাইগেজ

  8. ইস্টে শর্করা ভেঙে অ্যালকোহল ও কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরিতে কোন এনজাইম কাজ করে?

    ক) জাইমেজ    খ) প্রোটিয়েজ    গ) সেলুলেজ    ঘ) ক্যাটালেজ

খ. সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

  1. লিপিডের রাসায়নিক উপাদান কী কী? ফসফোলিপিডের উপাদান উল্লেখ করো।

  2. এনজাইমকে জৈব অনুঘটক বলা হয় কেন?

  3. কো-ফ্যাক্টর ও কো-এনজাইমের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

  4. এনজাইমের কার্যকারিতায় তাপমাত্রা ও pH-এর প্রভাব ব্যাখ্যা করো।

গ. সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক: একটি শিক্ষার্থী লক্ষ্য করল, কোষীয় ঝিল্লির গঠনে ফসফোলিপিড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং ট্রাইগ্লিসারাইড প্রাণীদেহে শক্তি সঞ্চয় করে। সে আরও দেখল, ক্যাটালেজ এনজাইম হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডকে পানি ও অক্সিজেনে ভেঙে দেয়। কিন্তু অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও অনুপযুক্ত pH-তে এনজাইমের কার্যকারিতা কমে যায়। কোনো কোনো পদার্থ এনজাইমের সক্রিয় স্থান দখল করে এনজাইমের কাজ বন্ধ করে দিতে পারে।

  1. ক. সক্রিয় স্থান (Active site) কী? [১]
  2. খ. জীবদেহে লিপিডের দুটি ভূমিকা ব্যাখ্যা করো। [২]
  3. গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ক্যাটালেজের বিক্রিয়াটি সমীকরণসহ ব্যাখ্যা করো। [৩]
  4. ঘ. অতিরিক্ত তাপমাত্রা, অনুপযুক্ত pH এবং ইনহিবিটর কীভাবে এনজাইমের কাজ ব্যাহত করে—বিশ্লেষণ করো। [৪]

উত্তর

MCQ-এর সঠিক উত্তর

  1. খ) A, D, E ও K
  2. গ) সাবস্ট্রেট
  3. খ) অ্যাপোএনজাইম
  4. গ) সুক্রেজ
  5. ক) ২.০
  6. খ) 2H₂O₂ → 2H₂O + O₂
  7. গ) আইসোমারেজ
  8. ক) জাইমেজ

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের মডেল উত্তর

  1. লিপিড সাধারণত কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন দ্বারা গঠিত। এতে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারল থাকে। কোনো কোনো লিপিডে নাইট্রোজেনও থাকতে পারে। ফসফোলিপিডে ফ্যাটি অ্যাসিড, গ্লিসারল ও নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থ থাকে।

  2. এনজাইম অল্প পরিমাণে উপস্থিত থেকে জীবদেহের রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতি বৃদ্ধি করে। বিক্রিয়া শেষে এনজাইম সাধারণত অপরিবর্তিত অবস্থায় মুক্ত হয়। তাই এনজাইমকে জীবদেহের জৈব অনুঘটক বলা হয়।

  3. কো-ফ্যাক্টর হলো এনজাইমের সঙ্গে যুক্ত অপ্রোটিন ধাতব আয়ন, যেমন Fe²⁺, Mg²⁺ ও Zn²⁺। কো-এনজাইম হলো অপ্রোটিন জৈব পদার্থ, যেমন FAD, NAD ও CoA। কো-এনজাইম এনজাইমেটিক বিক্রিয়ায় ইলেকট্রন গ্রহণ বা কোনো পরমাণু দানের কাজে অংশ নিতে পারে।

  4. এনজাইম সাধারণত ৩৫°C–৪০°C তাপমাত্রায় বেশি সক্রিয় থাকে। অতিরিক্ত তাপে এনজাইমের গঠন নষ্ট হয় এবং কার্যকারিতা কমে যায়। আবার প্রত্যেক এনজাইমের নির্দিষ্ট অনুকূল pH থাকে। অতিরিক্ত অম্ল বা ক্ষারীয় পরিবেশে এনজাইমের কার্যকারিতা নষ্ট হতে পারে। যেমন, পেপসিনের অনুকূলতম pH ২.০ এবং ট্রিপসিনের ৮.০।

সৃজনশীল প্রশ্নের মডেল উত্তর

  1. এনজাইমের যে নির্দিষ্ট অংশে সাবস্ট্রেট যুক্ত হয়ে রাসায়নিক বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে সক্রিয় স্থান বলে।

  2. প্রথমত, ফসফোলিপিড কোষঝিল্লি ও অধিকাংশ অঙ্গাণুর গঠনে অংশ নেয়। ফলে কোষের আবরণ ও গঠন বজায় থাকে। দ্বিতীয়ত, ট্রাইগ্লিসারাইড প্রাণীদেহে শক্তি সঞ্চয় করে। লিপিড থেকে অধিক শক্তি পাওয়া যায় এবং দেহে তাপ সঞ্চিত থাকে।

  3. ক্যাটালেজ প্রাণী ও উদ্ভিদকোষে পাওয়া যায়। এটি বিষাক্ত হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডকে ভেঙে পানি ও অক্সিজেন উৎপন্ন করে। বিক্রিয়াটি হলো:

    2H₂O₂ —ক্যাটালেজ→ 2H₂O + O₂

    এখানে ক্যাটালেজ বিক্রিয়ার গতি বাড়ায়, কিন্তু বিক্রিয়া শেষে নিজে অপরিবর্তিত থাকে। একটি ক্যাটালেজ অণু একই সময়ে বহু H₂O₂ অণুর বিয়োজন ঘটাতে পারে।

  4. এনজাইমের কার্যকারিতা তার ত্রিমাত্রিক গঠন ও সক্রিয় স্থানের উপর নির্ভর করে। অতিরিক্ত তাপমাত্রায় এনজাইমের প্রোটিন গঠন পরিবর্তিত বা নষ্ট হয়। ফলে সক্রিয় স্থান সাবস্ট্রেটের সঙ্গে সঠিকভাবে যুক্ত হতে পারে না। কম তাপমাত্রায় এনজাইম নষ্ট না হলেও বিক্রিয়ার হার কমে যায়।

    প্রত্যেক এনজাইমের নির্দিষ্ট অনুকূল pH থাকে। অতিরিক্ত অম্ল বা ক্ষারীয় পরিবেশে সক্রিয় স্থানের গঠন পরিবর্তিত হয়। ফলে এনজাইম-সাবস্ট্রেট যৌগ তৈরি বাধাগ্রস্ত হয় এবং বিক্রিয়ার হার কমে যায়।

    ইনহিবিটর হলো এমন পদার্থ, যা এনজাইমের কাজে বাধা দেয়। কোনো ইনহিবিটর সক্রিয় স্থানে আগে যুক্ত হয়ে সাবস্ট্রেটকে সেখানে যুক্ত হতে বাধা দেয়। আবার কোনো ইনহিবিটর সক্রিয় স্থান ছাড়া অন্য স্থানে যুক্ত হয়ে এনজাইমের আকৃতি পরিবর্তন করে। এতে সক্রিয় স্থান অকার্যকর হয় এবং এনজাইম তার নির্দিষ্ট বিক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে না।

সাধারণ ভুল ও রিভিশন

পরীক্ষায় নম্বর কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো সংজ্ঞা, উদাহরণ ও বিক্রিয়ার দিক গুলিয়ে ফেলা। নিচের ভুলগুলো বিশেষভাবে মনে রাখো।

ভুল সঠিক
লিপিড শুধু কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন দিয়ে গঠিত। লিপিডে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারল থাকে; কখনো নাইট্রোজেনও থাকতে পারে।
সব ভিটামিন পানিতে দ্রবণীয়। A, D, E, K লিপিড-দ্রবণীয়; B ও C পানিতে দ্রবণীয়।
এনজাইম বিক্রিয়ায় স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়। এনজাইম বিক্রিয়ার শেষে অপরিবর্তিত অবস্থায় মুক্ত হয়।
এনজাইম ও কো-এনজাইম একই জিনিস। এনজাইম প্রোটিন; কো-এনজাইম অপ্রোটিনিক জৈব পদার্থ, যেমন NAD ও FAD।
সাবস্ট্রেট এনজাইমের যেকোনো স্থানে যুক্ত হয়। সাবস্ট্রেট নির্দিষ্ট সক্রিয় স্থান (active site)-এ যুক্ত হয়।
হাইড্রোলেজ বন্ধন না ভেঙে পানি যোগ করে। হাইড্রোলেজ পানি যুক্ত করে যৌগ ভাঙে।
ক্যাটালেজ গ্লুকোজ ভাঙে। ক্যাটালেজ 2H2O2 ভেঙে 2H2O ও O2 তৈরি করে।

রিভিশন চেকলিস্ট

  • লিপিডের রাসায়নিক উপাদান ও ফসফোলিপিডের গঠন বলতে পারি।
  • ক্যারোটিনয়েড, স্টেরয়েড ও লিপিড-দ্রবণীয় ভিটামিনের ভূমিকা লিখতে পারি।
  • জীবদেহে লিপিডের অন্তত পাঁচটি ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে পারি।
  • এনজাইমের সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য ও জৈব অনুঘটক ধারণা লিখতে পারি।
  • সাবস্ট্রেট, সক্রিয় স্থান, induced fit ও inhibitor ব্যাখ্যা করতে পারি।
  • অ্যাপোএনজাইম, কো-ফ্যাক্টর, প্রস্থেটিক গ্রুপ ও কো-এনজাইমের পার্থক্য জানি।
  • এনজাইমের নামকরণের তিনটি ভিত্তি উদাহরণসহ লিখতে পারি।
  • অক্সিডোরিডাক্টেজ, ট্রান্সফারেজ, হাইড্রোলেজ, লাইয়েজ, আইসোমারেজ ও লাইগেজ চিহ্নিত করতে পারি।
  • তাপমাত্রা, pH, জল, ধাতু ও ইনহিবিটরের প্রভাব ব্যাখ্যা করতে পারি।
  • সেলুলেজ, প্রোটিয়েজ, অ্যামাইলেজ, ক্যাটালেজ ও জাইমেজের কাজ লিখতে পারি।

উৎসাহ: সংজ্ঞা, পার্থক্য ও বিক্রিয়াগুলো নিয়মিত লিখে অনুশীলন করলে এই অধ্যায়ে ভালো ফল করা সম্ভব।

⚡ Related Tools — Try These Next
📋
MCQ Practice
Topic-wise timed tests
🏛
University Guide
All 22 universities
🧑
Ask Kabir
Expert advisor
🏆
Scholarships
Find funding
Browse all 18+ tools →
🎓 Planning to apply? Browse our complete university admission guide → with requirements, fees, and cutoffs for all 22 major universities in Bangladesh.

সম্পর্কিত পোস্ট / Related posts

HSC
HSC

Admission Test Prep: অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন

ADMISSION TEST PREPARATION অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী How to use this sheet ★★★ = the par

HSC
HSC

Admission Test Prep: অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন

ADMISSION TEST PREPARATION অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী How to use this sheet ★★★ = the p

HSC
HSC

এইচএসসি সাজেশন: অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন / অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন / অধ্যায় ৩: কোষ রসায়ন

এইচএসসি সাজেশন (একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি) অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন / অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন / অধ্যায় ৩: কোষ রসায়ন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত

HSC
HSC

লেকচার শিট: অধ্যায় ১২: জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ

লেকচার শিট অধ্যায় ১২: জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পরিচিতি এই পাঠে যা শিখবে বাস্

HSC
HSC

লেকচার শিট: অধ্যায় ১১: জীবপ্রযুক্তি

লেকচার শিট অধ্যায় ১১: জীবপ্রযুক্তি একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পরিচিতি এই পাঠে যা শিখবে কৃষিতে জিনপ্রযুক্তির ব্

HSC
HSC

লেকচার শিট: অধ্যায় ১০: উদ্ভিদ প্রজনন

লেকচার শিট অধ্যায় ১০: উদ্ভিদ প্রজনন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পরিচিতি এই পাঠে যা শিখবে ডিম্বকের প্রধান অংশ এব

🎓
আরও লেকচার শিট, মডেল টেস্ট ও প্র্যাকটিস — AlphaGenEduMore lecture sheets, board questions and MCQ practice for every class, free on alphagenedu.com
AlphaGenEdu-তে যান →
Kabir — Ask me about admissions! 🎓

AdmissionPaths Support

🟢 Online · How can we help?
🧑
Ask Kabir
Admission advisor · 20+ yrs
💬
Live Support Chat
AI-powered · instant replies
🎫
Submit a Ticket
Response within 24 hours
❓
Browse FAQ
Quick answers
🤖
AdmissionPaths Support
🟢 AI-powered · replies instantly