জীবদেহের প্রধান জৈব যৌগ হলো কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও লিপিড। প্রোটিনের গঠনকারী একক অ্যামিনো অ্যাসিড; আর এনজাইমের অধিকাংশই প্রোটিন। কোষে নানা বিপাকীয় বিক্রিয়া ঘটে এবং এসব বিক্রিয়ার গতি নিয়ন্ত্রণে এনজাইম কাজ করে। কোষের ঝিল্লি ও বিভিন্ন অঙ্গাণুর গঠনে লিপিডের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
লিপিড আমাদের খাদ্য থেকে শক্তি, তাপ ও কোষের গঠনগত উপাদান সরবরাহ করে। এনজাইম খাদ্য পরিপাক, শক্তি উৎপাদন, রোগ নির্ণয় ও বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত হয়। পরীক্ষায় এনজাইমের বৈশিষ্ট্য, নামকরণ, গঠন, শ্রেণিবিন্যাস এবং তাপমাত্রা ও pH-এর প্রভাব থেকে সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, সৃজনশীল প্রশ্ন ও বহুনির্বাচনি প্রশ্ন আসে।
| ক্রম | আলোচ্য বিষয় |
|---|---|
| ১ | লিপিডের রাসায়নিক উপাদান ও জৈব যৌগ |
| ২ | জীবদেহে লিপিডের ভূমিকা |
| ৩ | এনজাইমের ধারণা, বৈশিষ্ট্য ও নামকরণ |
| ৪ | এনজাইমের গঠন, কার্যপ্রক্রিয়া ও শ্রেণিবিন্যাস |
| ৫ | এনজাইমের কার্যকারিতা, ব্যবহার ও গুরুত্ব |
লিপিড (Lipid) জীবদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ জৈব যৌগ। সাধারণত লিপিডকে আমরা চর্বি বা স্নেহজাতীয় পদার্থ হিসেবে চিনলেও সব লিপিডের গঠন একই নয়। লিপিডে প্রধানত কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন থাকে। কিছু লিপিডে নাইট্রোজেনও উপস্থিত থাকে। কোনো কোনো লিপিডে গ্লিসারলের পরিবর্তে অ্যামাইনো অ্যাসিড বা কোলেস্টেরল থাকতে পারে।
ফসফোলিপিড লিপিডের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধরন। এটি ফ্যাটি অ্যাসিড, গ্লিসারল এবং নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থ দিয়ে গঠিত। কোষঝিল্লি ও অধিকাংশ কোষ অঙ্গাণুর গঠনে ফসফোলিপিডের গুরুত্ব রয়েছে।
১. ফসফোলিপিড কোন কোন উপাদান দিয়ে গঠিত?
২. কোন ভিটামিনের অভাবে রাতকানা রোগ হয়?
লিপিড (Lipid) জীবদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ জৈব রাসায়নিক পদার্থ। এটি শুধু খাদ্য থেকে শক্তি পাওয়ার উপাদান নয়; কোষের গঠন, তাপ সঞ্চয়, সালোকসংশ্লেষণ এবং বিভিন্ন জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণেও লিপিডের ভূমিকা আছে। লিপিডের বিভিন্ন ধরন—যেমন ফসফোলিপিড, ট্রাইগ্লিসারাইড, ক্যারোটিনয়েড, স্টেরয়েড ও কিছু ভিটামিন—দেহে ভিন্ন ভিন্ন কাজ করে।
১। সেলমেমব্রেনের প্রধান গঠন উপাদান কোন লিপিড?
২। প্রাণীদেহে শক্তি সঞ্চয়ের প্রধান লিপিড কোনটি?
আমাদের দেহে প্রতি মুহূর্তে অসংখ্য রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। খাদ্য পরিপাক, শক্তি উৎপাদন, বৃদ্ধি ও দেহ গঠন—সব কাজেই এসব বিক্রিয়া দরকার। কিন্তু সাধারণ তাপমাত্রায় এসব বিক্রিয়া খুব ধীরে ঘটত। এনজাইম এই বিক্রিয়াগুলোর গতি বাড়িয়ে জীবদেহকে সচল রাখে। তাই এনজাইমকে জীবদেহের জৈব অনুঘটক (biocatalyst) বলা হয়।
এনজাইমের নাম সাধারণত তিনভাবে দেওয়া হয়।
| ভিত্তি | নিয়ম ও উদাহরণ |
|---|---|
| সাবস্ট্রেটের ধরন | সাবস্ট্রেটের নামের শেষে ‘এজ’ যোগ করা হয়। সুক্রোজ + এজ = সুক্রেজ; ইউরিয়া + এজ = ইউরিয়েজ। |
| বিক্রিয়ার ধরন | হাইড্রোলাইসিস + এজ = হাইড্রোলেজ; অক্সিডেশন + এজ = অক্সিডেজ; রিডাকশন + এজ = রিডাক্টেজ। |
| সাবস্ট্রেট ও বিক্রিয়ার সমন্বয় | সাবস্ট্রেট ও বিক্রিয়ার বৈশিষ্ট্য মিলিয়ে নাম দেওয়া হয়; যেমন বেনজোয়েট-ডিকারবক্সিলেজ। |
দ্রুত যাচাই ১: এনজাইমকে জৈব অনুঘটক বলা হয় কেন?
দ্রুত যাচাই ২: সাবস্ট্রেটের নাম অনুসারে ইউরিয়া থেকে কোন এনজাইমের নাম হয়?
এনজাইম হলো জীবদেহের জৈব অনুঘটক (biocatalyst)। এটি অতি অল্প পরিমাণে থেকে নির্দিষ্ট রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতি বাড়ায়। বিক্রিয়া শেষে এনজাইম সাধারণত অপরিবর্তিত থাকে। অধিকাংশ এনজাইম প্রোটিন দিয়ে গঠিত।
সরল এনজাইম: যে এনজাইম সম্পূর্ণভাবে প্রোটিন দিয়ে গঠিত, তাকে সরল এনজাইম বলে। উদাহরণ: সুক্রেজ, পেপসিন।
যৌগিক বা সংযুক্ত এনজাইম: যে এনজাইমের প্রোটিন অংশের সঙ্গে একটি অপ্রোটিন অংশ যুক্ত থাকে, তাকে যৌগিক এনজাইম বলে। এর প্রোটিন অংশের নাম অ্যাপোএনজাইম এবং অপ্রোটিন অংশের নাম প্রস্থেটিক গ্রুপ।
প্রস্থেটিক গ্রুপ ধাতব আয়ন হলে তাকে কো-ফ্যাক্টর বলে। যেমন: Fe²⁺, Mg²⁺, Zn²⁺। প্রস্থেটিক গ্রুপ জৈব অপ্রোটিন পদার্থ হলে তাকে কো-এনজাইম বলে। উদাহরণ: FAD, NAD, NADP ও CoA। কো-এনজাইম ইলেকট্রন গ্রহণকারী বা কোনো পরমাণুর দাতা হিসেবে কাজ করতে পারে।
এনজাইমের সক্রিয় স্থান ও সাবস্ট্রেটের সম্পর্ককে প্রথমে তালা-চাবি মডেল দিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়। নির্দিষ্ট চাবি যেমন নির্দিষ্ট তালায় বসে, তেমনি নির্দিষ্ট সাবস্ট্রেট নির্দিষ্ট এনজাইমের সক্রিয় স্থানে যুক্ত হয়।
কখনো সাবস্ট্রেট প্রথমে সক্রিয় স্থানে সম্পূর্ণভাবে খাপ খায় না। যুক্ত হওয়ার পর এনজাইমের আকার সামান্য পরিবর্তিত হয়ে সাবস্ট্রেটকে উপযুক্তভাবে ধারণ করে। এই ব্যাখ্যাকে ইনডিউসড ফিট (induced fit) মডেল বলা হয়।
ইনহিবিটর এনজাইমের কাজ বাধাগ্রস্ত করে। কোনো ইনহিবিটর সক্রিয় স্থানে যুক্ত হয়ে সাবস্ট্রেটকে সেখানে যুক্ত হতে বাধা দেয়। আবার কোনো ইনহিবিটর সক্রিয় স্থান ছাড়া অন্য স্থানে, অর্থাৎ অ্যালোস্টেরিক স্থানে যুক্ত হয়ে সক্রিয় স্থানকে অকার্যকর করে। বিপরীতে, অ্যাক্টিভেটর অ্যালোস্টেরিক স্থানে যুক্ত হয়ে এনজাইমের কার্যকারিতা বাড়াতে পারে।
১। কো-ফ্যাক্টর ও কো-এনজাইমের মধ্যে মূল পার্থক্য কী?
২। ATP-এর সাহায্যে সাবস্ট্রেট যুক্ত করে কোন শ্রেণির এনজাইম?
এনজাইম জীবদেহের বিপাকীয় বিক্রিয়ার গতি বাড়ায়। অল্প পরিমাণ এনজাইমও অনেকবার কাজ করতে পারে এবং বিক্রিয়া শেষে সাধারণত অপরিবর্তিত থাকে। খাদ্য পরিপাক, শক্তি উৎপাদন, দেহের বৃদ্ধি ও বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের সংশ্লেষণে এনজাইম অপরিহার্য।
| এনজাইম | কাজ ও বিক্রিয়া |
|---|---|
| সেলুলেজ | সেলুলোজ → সেলুবায়োজ → গ্লুকোজ; উদ্ভিদদেহের সেলুলোজ ভাঙে। |
| প্রোটিয়েজ | প্রোটিন ভেঙে অ্যামিনো অ্যাসিড তৈরি করে; পেপসিন, ট্রিপসিন ও পেপটাইডেজ এর উদাহরণ। |
| অ্যামাইলেজ | α-অ্যামাইলেজ স্টার্চকে ডেক্সট্রিনে এবং β-অ্যামাইলেজ ডেক্সট্রিনকে মল্টোজে পরিণত করে। |
| জাইমেজ | C6H12O6 → 2C2H5OH + 2CO2; ইস্টে শর্করার গাঁজন ঘটায়। |
| বিষয় | এনজাইম | কো-এনজাইম |
|---|---|---|
| প্রকৃতি | বড় প্রোটিন অণু | অপ্রোটিনিক জৈব যৌগ |
| আণবিক ভর | প্রায় ১২,০০০–১০,০০,০০০ ডালটন | প্রায় ৫০০ ডালটন |
| তাপসহনশীলতা | ৫০°C–৬০°C-এ নষ্ট হয় | তুলনামূলক বেশি |
| উদাহরণ | প্রোটিয়েজ, লাইপেজ | ATP, NAD, FAD |
এনজাইম খাদ্য পরিপাকে সরাসরি কাজ করে এবং বিপাকীয় বিক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে। দেহের বৃদ্ধি, গঠন ও প্রয়োজনীয় রাসায়নিক পদার্থের সংশ্লেষণও এনজাইম নিয়ন্ত্রণ করে। ফলের রস পরিষ্কার করতে পেকটিনেজ, পনির তৈরিতে রেনিন, কাপড়ের দাগ দূর করতে এনজাইম, চামড়া লোমমুক্ত করতে এবং ক্ষত নিরাময়ে এনজাইম ব্যবহৃত হয়।
হজমের সমস্যা হলে পেপসিন, অ্যামাইলেজ ও ট্রিপসিন দেওয়া যায়। রক্তে ইউরিয়া শনাক্তে ইউরিয়েজ এবং ইউরিক অ্যাসিড বিশ্লেষণে ইউরিকেজ ব্যবহৃত হয়। ট্রিপসিনের সাহায্যে ছানি অপারেশন এবং ইউরোকাইনেজের সাহায্যে রক্তের জমাট গলানোর প্রয়োগও রয়েছে।
দ্রুত যাচাই ১: ক্যাটালেজ কোন পদার্থকে ভাঙে?
দ্রুত যাচাই ২: ফলের রস পরিষ্কার করতে কোন এনজাইম ব্যবহৃত হয়?
নিচের উদাহরণগুলো পরীক্ষায় লেখার উপযোগী করে ধাপে ধাপে সমাধান করা হলো। উত্তর লেখার সময় সংজ্ঞা, কারণ, উদাহরণ এবং প্রয়োজনে রাসায়নিক সমীকরণ উল্লেখ করবে।
উদাহরণ ১: লিপিডের রাসায়নিক উপাদান ও ভূমিকা
সমস্যা: লিপিডের প্রধান রাসায়নিক উপাদান কী? জীবদেহে লিপিডের চারটি ভূমিকা লেখো।
চূড়ান্ত উত্তর: লিপিডের প্রধান উপাদান C, H ও O; তবে কিছু লিপিডে N থাকে। এটি কোষঝিল্লি গঠন, শক্তি সঞ্চয়, তাপ সংরক্ষণ এবং হরমোন-ভিটামিনের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ।
উদাহরণ ২: এনজাইমের নামকরণ
সমস্যা: সাবস্ট্রেট ও বিক্রিয়ার ধরন অনুসারে এনজাইমের নাম কীভাবে নির্ণয় করা যায়? সুক্রোজ, হাইড্রোলাইসিস এবং অক্সিডেশন থেকে নাম লেখো।
চূড়ান্ত উত্তর: সুক্রোজের এনজাইম সুক্রেজ, হাইড্রোলাইসিসের এনজাইম হাইড্রোলেজ এবং অক্সিডেশনের এনজাইম অক্সিডেজ।
উদাহরণ ৩: এনজাইমের কার্যপ্রক্রিয়া
সমস্যা: সুক্রেজ কীভাবে সুক্রোজকে ভাঙে তা ধাপে ধাপে দেখাও।
সমীকরণ: সুক্রেজ + সুক্রোজ → সুক্রেজ-সুক্রোজ যৌগ → সুক্রেজ + গ্লুকোজ + ফ্রুক্টোজ
চূড়ান্ত উত্তর: এনজাইম নির্দিষ্ট সাবস্ট্রেটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যৌগ তৈরি করে, সাবস্ট্রেটকে উৎপাদকে পরিণত করে এবং নিজে অপরিবর্তিত থাকে।
উদাহরণ ৪: এনজাইমের ব্যবহার ও শ্রেণিবিন্যাস
সমস্যা: ক্যাটালেজের কাজ এবং এটি কোন ধরনের এনজাইম—ব্যাখ্যা করো।
চূড়ান্ত উত্তর: ক্যাটালেজ H2O2 ভেঙে H2O ও O2 উৎপন্ন করে এবং কোষকে ক্ষতিকর পারঅক্সাইড থেকে রক্ষা করে।
| পরিভাষা | সংজ্ঞা বা সূত্র | কখন ব্যবহার করবে |
|---|---|---|
| লিপিড | প্রধানত C, H ও O-যুক্ত জৈব যৌগ; কখনো N থাকে। | গঠন ও ভূমিকা লিখতে |
| ফসফোলিপিড | ফ্যাটি অ্যাসিড, গ্লিসারল ও নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থের সমন্বয়। | কোষঝিল্লির গঠন ব্যাখ্যায় |
| ক্যারোটিনয়েড | আলোকশোষী রঞ্জক; β-ক্যারোটিন থেকে ভিটামিন-A ও রোডপসিন তৈরি হয়। | দৃষ্টিশক্তি ও সালোকসংশ্লেষণে |
| স্টেরয়েড | Testosterone, estrogen, cortisol ও cholesterol-জাত লিপিড। | হরমোন ও ঝিল্লির ভূমিকা লিখতে |
| লিপিড-দ্রবণীয় ভিটামিন | A, D, E ও K; E অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, K রক্ত জমাটে সাহায্য করে। | ভিটামিনের শ্রেণি নির্ণয়ে |
| এনজাইম | জীবদেহের জৈব অনুঘটক; অল্প পরিমাণে বিক্রিয়ার হার বাড়ায় এবং শেষে অপরিবর্তিত থাকে। | সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্যে |
| সাবস্ট্রেট | যে পদার্থের উপর এনজাইম কাজ করে। | এনজাইমের নামকরণে |
| সক্রিয় স্থান | এনজাইমের যে স্থানে সাবস্ট্রেট যুক্ত হয়ে বিক্রিয়া ঘটে। | কার্যপ্রক্রিয়ায় |
| কার্যপ্রক্রিয়া | এনজাইম + সাবস্ট্রেট → এনজাইম-সাবস্ট্রেট যৌগ → এনজাইম + উৎপাদ। | ধাপ ও সমীকরণে |
| উদাহরণ | সুক্রেজ + সুক্রোজ → গ্লুকোজ + ফ্রুক্টোজ। | হাইড্রোলেজ বোঝাতে |
| কো-ফ্যাক্টর/কো-এনজাইম | ধাতব আয়ন/জৈব অপ্রোটিন অংশ; উদাহরণ Fe²⁺, Mg²⁺, Zn²⁺ এবং NAD, FAD, ATP। | যৌগিক এনজাইমে |
| ইনহিবিটর | এনজাইমের কার্যকারিতা বাধাগ্রস্তকারী পদার্থ। | নিয়ন্ত্রণ ব্যাখ্যায় |
| শ্রেণিবিন্যাস | Oxidoreductase, transferase, hydrolase, lyase, isomerase ও ligase। | বিক্রিয়ার ধরন অনুযায়ী |
| ক্যাটালেজ | 2H2O2 → 2H2O + O2 | H2O2 ভাঙতে |
| জাইমেজ | C6H12O6 → 2C2H5OH + 2CO2 | ইস্টের গাঁজন প্রক্রিয়ায় |
| অনুকূল অবস্থা | সাধারণত ৩৫–৪০°C ও pH ৬–৯; অতিরিক্ত তাপে এনজাইম নষ্ট হয়। | কার্যকারিতা ব্যাখ্যায় |
নিচের প্রশ্নগুলো অধ্যায় ৩: কোষ রসায়নের লিপিড ও এনজাইম অংশ থেকে তৈরি করা হয়েছে। প্রথমে নিজে উত্তর দাও, তারপর উত্তর মিলিয়ে দেখো।
নিচের কোনগুলো লিপিড-দ্রবণীয় ভিটামিন?
ক) B ও C খ) A, D, E ও K গ) B ও D ঘ) C ও K
এনজাইম যে পদার্থের উপর কাজ করে তাকে কী বলে?
ক) কো-এনজাইম খ) ইনহিবিটর গ) সাবস্ট্রেট ঘ) প্রস্থেটিক গ্রুপ
কনজুগেটেড এনজাইমের প্রোটিন অংশের নাম কী?
ক) কো-ফ্যাক্টর খ) অ্যাপোএনজাইম গ) কো-এনজাইম ঘ) ইনহিবিটর
সুক্রোজকে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজে ভাঙতে কোন এনজাইম কাজ করে?
ক) ল্যাকটেজ খ) মল্টেজ গ) সুক্রেজ ঘ) ইউরিয়েজ
পেপসিনের অনুকূলতম pH কত?
ক) ২.০ খ) ৪.৫ গ) ৭.০ ঘ) ৮.০
ক্যাটালেজের সাহায্যে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের বিয়োজনের সঠিক সমীকরণ কোনটি?
ক) H₂O₂ → H₂O + O₂
খ) 2H₂O₂ → 2H₂O + O₂
গ) 2H₂O → 2H₂O₂ + O₂
ঘ) H₂O + O₂ → H₂O₂
গ্লুকোজ-৬-ফসফেট ⇌ ফ্রুকটোজ-৬-ফসফেট রূপান্তরে কোন শ্রেণির এনজাইম কাজ করে?
ক) হাইড্রোলেজ খ) ট্রান্সফারেজ গ) আইসোমারেজ ঘ) লাইগেজ
ইস্টে শর্করা ভেঙে অ্যালকোহল ও কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরিতে কোন এনজাইম কাজ করে?
ক) জাইমেজ খ) প্রোটিয়েজ গ) সেলুলেজ ঘ) ক্যাটালেজ
লিপিডের রাসায়নিক উপাদান কী কী? ফসফোলিপিডের উপাদান উল্লেখ করো।
এনজাইমকে জৈব অনুঘটক বলা হয় কেন?
কো-ফ্যাক্টর ও কো-এনজাইমের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
এনজাইমের কার্যকারিতায় তাপমাত্রা ও pH-এর প্রভাব ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপক: একটি শিক্ষার্থী লক্ষ্য করল, কোষীয় ঝিল্লির গঠনে ফসফোলিপিড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং ট্রাইগ্লিসারাইড প্রাণীদেহে শক্তি সঞ্চয় করে। সে আরও দেখল, ক্যাটালেজ এনজাইম হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডকে পানি ও অক্সিজেনে ভেঙে দেয়। কিন্তু অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও অনুপযুক্ত pH-তে এনজাইমের কার্যকারিতা কমে যায়। কোনো কোনো পদার্থ এনজাইমের সক্রিয় স্থান দখল করে এনজাইমের কাজ বন্ধ করে দিতে পারে।
লিপিড সাধারণত কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন দ্বারা গঠিত। এতে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারল থাকে। কোনো কোনো লিপিডে নাইট্রোজেনও থাকতে পারে। ফসফোলিপিডে ফ্যাটি অ্যাসিড, গ্লিসারল ও নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থ থাকে।
এনজাইম অল্প পরিমাণে উপস্থিত থেকে জীবদেহের রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতি বৃদ্ধি করে। বিক্রিয়া শেষে এনজাইম সাধারণত অপরিবর্তিত অবস্থায় মুক্ত হয়। তাই এনজাইমকে জীবদেহের জৈব অনুঘটক বলা হয়।
কো-ফ্যাক্টর হলো এনজাইমের সঙ্গে যুক্ত অপ্রোটিন ধাতব আয়ন, যেমন Fe²⁺, Mg²⁺ ও Zn²⁺। কো-এনজাইম হলো অপ্রোটিন জৈব পদার্থ, যেমন FAD, NAD ও CoA। কো-এনজাইম এনজাইমেটিক বিক্রিয়ায় ইলেকট্রন গ্রহণ বা কোনো পরমাণু দানের কাজে অংশ নিতে পারে।
এনজাইম সাধারণত ৩৫°C–৪০°C তাপমাত্রায় বেশি সক্রিয় থাকে। অতিরিক্ত তাপে এনজাইমের গঠন নষ্ট হয় এবং কার্যকারিতা কমে যায়। আবার প্রত্যেক এনজাইমের নির্দিষ্ট অনুকূল pH থাকে। অতিরিক্ত অম্ল বা ক্ষারীয় পরিবেশে এনজাইমের কার্যকারিতা নষ্ট হতে পারে। যেমন, পেপসিনের অনুকূলতম pH ২.০ এবং ট্রিপসিনের ৮.০।
এনজাইমের যে নির্দিষ্ট অংশে সাবস্ট্রেট যুক্ত হয়ে রাসায়নিক বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে সক্রিয় স্থান বলে।
প্রথমত, ফসফোলিপিড কোষঝিল্লি ও অধিকাংশ অঙ্গাণুর গঠনে অংশ নেয়। ফলে কোষের আবরণ ও গঠন বজায় থাকে। দ্বিতীয়ত, ট্রাইগ্লিসারাইড প্রাণীদেহে শক্তি সঞ্চয় করে। লিপিড থেকে অধিক শক্তি পাওয়া যায় এবং দেহে তাপ সঞ্চিত থাকে।
ক্যাটালেজ প্রাণী ও উদ্ভিদকোষে পাওয়া যায়। এটি বিষাক্ত হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডকে ভেঙে পানি ও অক্সিজেন উৎপন্ন করে। বিক্রিয়াটি হলো:
2H₂O₂ —ক্যাটালেজ→ 2H₂O + O₂
এখানে ক্যাটালেজ বিক্রিয়ার গতি বাড়ায়, কিন্তু বিক্রিয়া শেষে নিজে অপরিবর্তিত থাকে। একটি ক্যাটালেজ অণু একই সময়ে বহু H₂O₂ অণুর বিয়োজন ঘটাতে পারে।
এনজাইমের কার্যকারিতা তার ত্রিমাত্রিক গঠন ও সক্রিয় স্থানের উপর নির্ভর করে। অতিরিক্ত তাপমাত্রায় এনজাইমের প্রোটিন গঠন পরিবর্তিত বা নষ্ট হয়। ফলে সক্রিয় স্থান সাবস্ট্রেটের সঙ্গে সঠিকভাবে যুক্ত হতে পারে না। কম তাপমাত্রায় এনজাইম নষ্ট না হলেও বিক্রিয়ার হার কমে যায়।
প্রত্যেক এনজাইমের নির্দিষ্ট অনুকূল pH থাকে। অতিরিক্ত অম্ল বা ক্ষারীয় পরিবেশে সক্রিয় স্থানের গঠন পরিবর্তিত হয়। ফলে এনজাইম-সাবস্ট্রেট যৌগ তৈরি বাধাগ্রস্ত হয় এবং বিক্রিয়ার হার কমে যায়।
ইনহিবিটর হলো এমন পদার্থ, যা এনজাইমের কাজে বাধা দেয়। কোনো ইনহিবিটর সক্রিয় স্থানে আগে যুক্ত হয়ে সাবস্ট্রেটকে সেখানে যুক্ত হতে বাধা দেয়। আবার কোনো ইনহিবিটর সক্রিয় স্থান ছাড়া অন্য স্থানে যুক্ত হয়ে এনজাইমের আকৃতি পরিবর্তন করে। এতে সক্রিয় স্থান অকার্যকর হয় এবং এনজাইম তার নির্দিষ্ট বিক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে না।
পরীক্ষায় নম্বর কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো সংজ্ঞা, উদাহরণ ও বিক্রিয়ার দিক গুলিয়ে ফেলা। নিচের ভুলগুলো বিশেষভাবে মনে রাখো।
| ভুল | সঠিক |
|---|---|
| লিপিড শুধু কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন দিয়ে গঠিত। | লিপিডে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারল থাকে; কখনো নাইট্রোজেনও থাকতে পারে। |
| সব ভিটামিন পানিতে দ্রবণীয়। | A, D, E, K লিপিড-দ্রবণীয়; B ও C পানিতে দ্রবণীয়। |
| এনজাইম বিক্রিয়ায় স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়। | এনজাইম বিক্রিয়ার শেষে অপরিবর্তিত অবস্থায় মুক্ত হয়। |
| এনজাইম ও কো-এনজাইম একই জিনিস। | এনজাইম প্রোটিন; কো-এনজাইম অপ্রোটিনিক জৈব পদার্থ, যেমন NAD ও FAD। |
| সাবস্ট্রেট এনজাইমের যেকোনো স্থানে যুক্ত হয়। | সাবস্ট্রেট নির্দিষ্ট সক্রিয় স্থান (active site)-এ যুক্ত হয়। |
| হাইড্রোলেজ বন্ধন না ভেঙে পানি যোগ করে। | হাইড্রোলেজ পানি যুক্ত করে যৌগ ভাঙে। |
| ক্যাটালেজ গ্লুকোজ ভাঙে। | ক্যাটালেজ 2H2O2 ভেঙে 2H2O ও O2 তৈরি করে। |
উৎসাহ: সংজ্ঞা, পার্থক্য ও বিক্রিয়াগুলো নিয়মিত লিখে অনুশীলন করলে এই অধ্যায়ে ভালো ফল করা সম্ভব।
ADMISSION TEST PREPARATION অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী How to use this sheet ★★★ = the par
ADMISSION TEST PREPARATION অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী How to use this sheet ★★★ = the p
এইচএসসি সাজেশন (একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি) অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন / অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন / অধ্যায় ৩: কোষ রসায়ন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত
লেকচার শিট অধ্যায় ১২: জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পরিচিতি এই পাঠে যা শিখবে বাস্
লেকচার শিট অধ্যায় ১১: জীবপ্রযুক্তি একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পরিচিতি এই পাঠে যা শিখবে কৃষিতে জিনপ্রযুক্তির ব্
লেকচার শিট অধ্যায় ১০: উদ্ভিদ প্রজনন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পরিচিতি এই পাঠে যা শিখবে ডিম্বকের প্রধান অংশ এব