কোষের প্রধান জৈব রাসায়নিক উপাদান হলো কার্বোহাইড্রেট, লিপিড, প্রোটিন ও নিউক্লিক অ্যাসিড।
DNA-তে ডিঅক্সিরাইবোজ এবং RNA-তে রাইবোজ শর্করা থাকে।
মনোস্যাকারাইড হলো সরল শর্করা; এগুলো যুক্ত হয়ে জটিল শর্করা তৈরি করে।
গ্লিসারল, ফ্যাটি অ্যাসিড, অ্যামিনো মূলক ও কার্বক্সিল মূলকের মৌলিক ধারণা মনে রাখবে।
জীবদেহে গ্লুকোজ শক্তির প্রধান উৎস, স্টার্চ ও গ্লাইকোজেন সঞ্চিত খাদ্য, আর সেলুলোজ ও কাইটিন গাঠনিক উপাদান। লিপিড কোষঝিল্লি গঠন, শক্তি সঞ্চয় ও হরমোনের কাজে অংশ নেয়। পরীক্ষায় সংজ্ঞা, শ্রেণিবিভাগ, গঠন-ভিত্তিক পার্থক্য, রাসায়নিক সংকেত ও জৈবিক কাজ থেকে প্রশ্ন আসে। তাই ছক ও তুলনা করে পড়লে সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনি—দুই ধরনের প্রশ্নের প্রস্তুতি হবে।
| ক্রম | আলোচ্য বিষয় |
|---|---|
| ১ | ডিঅক্সিরাইবোজ ও মনোস্যাকারাইড |
| ২ | ডাইস্যাকারাইড ও অলিগোস্যাকারাইড |
| ৩ | পলিস্যাকারাইড ও তাদের ভূমিকা |
| ৪ | কার্বোহাইড্রেট ডেরিভেটিভস ও অ্যামিনো অ্যাসিড |
| ৫ | লিপিডের শ্রেণিবিভাগ ও কাজ |
কার্বোহাইড্রেটের ক্ষুদ্রতম একক হলো মনোস্যাকারাইড (Monosaccharide)। এগুলোকে আর জলীয় বিশ্লেষণ করে সরল শর্করায় ভাঙা যায় না। আজ আমরা ডিঅক্সিরাইবোজ, হেক্সোজ, গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, ম্যানোজ ও গ্যালাক্টোজ বুঝব।
সংজ্ঞা: পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট মনোস্যাকারাইডকে পেন্টোজ এবং ছয় কার্বনবিশিষ্ট মনোস্যাকারাইডকে হেক্সোজ বলে। ডিঅক্সিরাইবোজ হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ পেন্টোজ শর্করা।
ডিঅক্সিরাইবোজের আণবিক সংকেত C5H10O4। এটি একটি বিজারক শর্করা এবং এতে অ্যালডিহাইড মূলক (–CHO) থাকে। রাইবোজের সঙ্গে এর গঠনের মিল আছে; তবে ডিঅক্সিরাইবোজের ২নং কার্বনে –OH মূলকের পরিবর্তে একটি হাইড্রোজেন পরমাণু থাকে। তাই ২নং কার্বনে অক্সিজেন অনুপস্থিত।
ডিঅক্সিরাইবোজের ১নং কার্বনে নাইট্রোজেনযুক্ত ক্ষারক—A, G, C বা T—যুক্ত হলে ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিওসাইড তৈরি হয়। এরপর ৫নং কার্বনে ফসফেট মূলক যুক্ত হলে ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিওটাইড গঠিত হয়। DNA-র নিউক্লিওটাইডে এই শর্করা থাকে। ডিঅক্সিরাইবোজ না থাকলে DNA গঠন সম্ভব নয়।
রাইবোজ RNA-এর গঠন উপাদান, আর ডিঅক্সিরাইবোজ DNA-এর গঠন উপাদান। রাইবোজের সংকেত C5H10O5; এর ২নং কার্বনে –OH থাকে। কিন্তু ডিঅক্সিরাইবোজে সেই –OH নেই।
| বিষয় | রাইবোজ | ডিঅক্সিরাইবোজ |
|---|---|---|
| সংকেত | C5H10O5 | C5H10O4 |
| ২নং কার্বন | –OH আছে | –OH নেই |
| নিউক্লিক অ্যাসিড | RNA | DNA |
ছয় কার্বনবিশিষ্ট মনোস্যাকারাইডকে হেক্সোজ বলে। গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ ও গ্যালাক্টোজ প্রধান হেক্সোজ। গ্লুকোজ বা দ্রাক্ষাশর্করার সংকেত C6H12O6। এতে অ্যালডিহাইড মূলক থাকায় এটি অ্যালডোহেক্সোজ এবং বিজারক শর্করা। পাকা আঙুরে প্রায় ১৫–২০% গ্লুকোজ থাকে। মধু ও কিছু পাকা ফলেও এটি প্রচুর থাকে।
সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে গ্লুকোজ তৈরি করে। আখের রস, মধু, আম এবং স্টার্চ থেকেও গ্লুকোজ প্রস্তুত করা যায়। এটি সাদা, মিষ্টি, দানাদার এবং পানিতে সহজে দ্রবণীয়। রোগীর পথ্য হিসেবে এবং শিরায় ইনজেকশনের মাধ্যমে গ্লুকোজ দেওয়া হয়। নিঃশেষিত শক্তি পুনরুদ্ধার ও কার্বোহাইড্রেট বিপাকে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।
গ্লুকোজের ১নং কার্বনের অ্যালডিহাইড মূলক এবং ৫নং কার্বনের –OH পরস্পরের মধ্যে আন্তঃআণবিক বন্ধন তৈরি করলে চক্রাকার হেমিঅ্যাসিটাল গঠন হয়। ১নং কার্বনে নতুন –OH মূলকের অবস্থান দুই রকম হতে পারে—α অথবা β। তাই α-D-গ্লুকোজ ও β-D-গ্লুকোজ সৃষ্টি হয়।
খোলা শৃঙ্খলের গ্লুকোজে শেষ অসমমিত কার্বনের –OH ডান দিকে থাকলে D-গ্লুকোজ এবং বাম দিকে থাকলে L-গ্লুকোজ বলা হয়। D ও L নামকরণ গঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত; এগুলোকে সরাসরি মিষ্টতা বা আলোর ঘূর্ণনের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবে না। জীবের খাদ্যে প্রধানত D-গ্লুকোজ থাকে।
উদাহরণ: সুক্রোজ ভাঙলে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ পাওয়া যায়। গ্লুকোজে অ্যালডিহাইড মূলক থাকে, কিন্তু ফ্রুক্টোজে কিটো মূলক (>C=O) থাকে।
ফ্রুক্টোজের সংকেতও C6H12O6। এটি একটি কিটোহেক্সোজ ও বিজারক শর্করা। অধিকাংশ ফল ও মধুতে ফ্রুক্টোজ থাকে বলে একে ফলের চিনি বলা হয়। এটি গ্লুকোজের তুলনায় বেশি মিষ্টি এবং সুক্রোজের একটি উপাদান। গ্লুকোজের রিং সাধারণত পাইরানোজ, আর ফ্রুক্টোজের রিং ফিউরানোজ ধরনের।
ম্যানোজ ও গ্যালাক্টোজও হেক্সোজ এবং অ্যালডোজ। গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, ম্যানোজ ও গ্যালাক্টোজের সংকেত একই হলেও গঠন ভিন্ন; তাই তারা গাঠনিক আইসোমার। আপেক্ষিক মিষ্টতা: সুক্রোজ ১০০, গ্লুকোজ ৭৪ এবং ফ্রুক্টোজ ১৭৩।
শিক্ষকের টিপস: “গ্লুকোজে অ্যালডিহাইড, ফ্রুক্টোজে কিটোন”—এই বাক্যটি মনে রাখো। DNA-তে “ডিঅক্সি”, অর্থাৎ ২নং কার্বনে অক্সিজেন কম।
পরীক্ষায় যেভাবে আসে: ডিঅক্সিরাইবোজ ও রাইবোজের সংকেত, ২নং কার্বনের পার্থক্য এবং DNA–RNA-তে তাদের উপস্থিতি লিখতে পারে। আবার গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজের মূলক, মিষ্টতা এবং রিং গঠনের তুলনাও গুরুত্বপূর্ণ।
দ্রুত যাচাই ১: ডিঅক্সিরাইবোজের ২নং কার্বনে কোন মূলক অনুপস্থিত?
দ্রুত যাচাই ২: গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজের একটি প্রধান পার্থক্য লেখো।
দুটি মনোস্যাকারাইড অণু যুক্ত হয়ে ডাইস্যাকারাইড তৈরি করে। আর ৩–১০টি মনোস্যাকারাইড যুক্ত হলে তাকে অলিগোস্যাকারাইড বলা হয়। এই অণুগুলো পরস্পরের সঙ্গে গ্লাইকোসিডিক বন্ধনে যুক্ত থাকে।
প্রথমে দুটি মনোস্যাকারাইডের –OH মূলক কাছাকাছি আসে। এরপর এক অণু পানি অপসারিত হয়। অবশিষ্ট অক্সিজেনের মাধ্যমে দুটি শর্করা যুক্ত হয়। তাই ডাইস্যাকারাইডের বন্ধনকে গ্লাইকোসিডিক বন্ধন বা গ্লাইকোসিডিক লিংকেজ বলা হয়।
প্রধান উদাহরণ হলো—
এক অণু α-D-গ্লুকোজ ও এক অণু β-D-ফ্রুক্টোজ যুক্ত হয়ে সুক্রোজ তৈরি করে। গ্লুকোজের ১নং কার্বনের –OH এবং ফ্রুক্টোজের ২নং কার্বনের –OH থেকে এক অণু পানি বের হয়ে যায়। ফলে একটি অক্সিজেন ব্রিজ বা গ্লাইকোসিডিক বন্ধন গঠিত হয়। সুক্রোজের সংকেত C12H22O11।
ইক্ষুর রসে প্রায় ১৫% সুক্রোজ থাকে। রস পরিশোধনের পর চুন মেশানো হয়। এতে অম্লীয় পদার্থ দূর হয় এবং ফসফেট অবক্ষেপিত হয়। পরে উত্তপ্ত ও ঘন করলে চিনি পাওয়া যায়।
সুক্রোজ সাদা, দানাদার, মিষ্টি ও পানিতে দ্রবণীয় কঠিন পদার্থ। এর গলনাঙ্ক ১৮৬° সেলসিয়াস। এটি বিজারক শর্করা নয়। সুক্রোজ মিষ্টান্ন, কার্বোহাইড্রেট এবং বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত হয়।
দুটি β-D-গ্লুকোজ β-1,4 বন্ধনে যুক্ত হলে সেলোবায়োজ তৈরি হয়। সেলুলোজের আংশিক হাইড্রোলাইসিসে সেলোবায়োজ পাওয়া যায়। এটি বিজারক শর্করা। হাইড্রোলাইসিস করলে দুই অণু গ্লুকোজ উৎপন্ন হয়।
দুটি α-D-গ্লুকোজ α-1,4 বন্ধনে যুক্ত হলে ম্যালটোজ তৈরি হয়। স্টার্চের আংশিক ভাঙনে ম্যালটোজ উৎপন্ন হয়। ম্যালটোজও বিজারক শর্করা এবং এর সংকেত C12H22O11।
যেসব কার্বোহাইড্রেটের হাইড্রোলাইসিসে ৩–১০টি মনোস্যাকারাইড পাওয়া যায়, তাদের অলিগোস্যাকারাইড বলে। মনোস্যাকারাইডের সংখ্যার ভিত্তিতে শ্রেণিবিভাগ করা হয়—দুটি হলে ডাইস্যাকারাইড, তিনটি হলে ট্রাইস্যাকারাইড এবং চারটি হলে টেট্রাস্যাকারাইড।
বিজারক শর্করা: মুক্ত অ্যালডিহাইড বা কিটোন মূলক থাকায় যে শর্করা ক্ষারীয় দ্রবণে জারিত হতে পারে, তাকে বিজারক শর্করা বলে। গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, ম্যালটোজ ও সেলোবায়োজ এর উদাহরণ।
অবিজারক শর্করা: মুক্ত অ্যালডিহাইড বা কিটোন মূলক না থাকায় যে শর্করা ক্ষারীয় দ্রবণে জারিত হতে পারে না, তাকে অবিজারক শর্করা বলে। সুক্রোজ এর উদাহরণ। সুক্রোজে গ্লুকোজের ১নং এবং ফ্রুক্টোজের ২নং কার্বন যুক্ত হওয়ায় উভয় কার্যকরী মূলকের মুক্ত অংশ থাকে না। তাই সুক্রোজ বিজারক নয়।
দ্রুত যাচাই ১: সুক্রোজ কোন দুটি মনোস্যাকারাইড দিয়ে গঠিত?
দ্রুত যাচাই ২: ম্যালটোজ ও সেলোবায়োজের বন্ধনের পার্থক্য কী?
অনেকগুলো মনোস্যাকারাইড অণু গ্লাইকোসিডিক বন্ধনে যুক্ত হয়ে পলিস্যাকারাইড তৈরি করে। এগুলো উচ্চ আণবিক ভরবিশিষ্ট কার্বোহাইড্রেট। সাধারণত পানিতে অদ্রবণীয় এবং স্বাদে মিষ্টি নয়। স্টার্চ, সেলুলোজ, গ্লাইকোজেন, কাইটিন ও পেকটিন গুরুত্বপূর্ণ পলিস্যাকারাইড।
গঠনগত পলিস্যাকারাইড জীবদেহের কাঠামো গঠন করে। উদাহরণ—সেলুলোজ ও কাইটিন। সেলুলোজ উদ্ভিদের কোষপ্রাচীর গঠন করে। সঞ্চয়ী পলিস্যাকারাইড জীবদেহে খাদ্য হিসেবে জমা থাকে এবং প্রয়োজনের সময় শক্তি দেয়। উদাহরণ—স্টার্চ ও গ্লাইকোজেন।
স্টার্চ অসংখ্য α-D-গ্লুকোজ অণুর সমন্বয়ে গঠিত। এটি উদ্ভিদের প্রধান সঞ্চিত খাদ্য। ধান, গম, ভুট্টা, যব, আলু, বীজ, ফল ও কন্দে স্টার্চ জমা থাকে। সালোকসংশ্লেষণে উৎপন্ন গ্লুকোজ পরিবর্তিত হয়ে স্টার্চে পরিণত হয়।
স্টার্চ দুটি অংশ নিয়ে গঠিত—অ্যামাইলোজ ও অ্যামাইলোপেকটিন। অ্যামাইলোজে সাধারণত ২০০–১০০০টি গ্লুকোজ অণু α-1,4 বন্ধনে সরল শৃঙ্খলে যুক্ত থাকে। অ্যামাইলোপেকটিনে প্রায় ২০০০–২,০০,০০০টি গ্লুকোজ অণু থাকে; এতে α-1,4 বন্ধনের পাশাপাশি α-1,6 বন্ধনের শাখা থাকে। স্টার্চে প্রায় ২২% অ্যামাইলোজ ও ৭৮% অ্যামাইলোপেকটিন থাকে।
স্টার্চ সাদা, গন্ধহীন ও পাউডারজাতীয়। সাধারণ তাপমাত্রায় পানি, ইথার ও অ্যালকোহলে অদ্রবণীয়। উত্তাপে এটি ডেক্সট্রিন, পরে ম্যালটোজ এবং শেষে D-গ্লুকোজে পরিণত হয়। মুখ ও পরিপাকনালির এনজাইমের সাহায্যে এই ধাপগুলো সম্পন্ন হয়।
স্টার্চ খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গ্লুকোজ, অ্যামাইলোজ, কাগজ ও আঠা তৈরিতেও এর ব্যবহার আছে।
অসংখ্য β-D-গ্লুকোজ অণু β-1,4 বন্ধনে যুক্ত হয়ে সেলুলোজ তৈরি করে। এটি উদ্ভিদের কোষপ্রাচীরের প্রধান গঠনগত উপাদান। সেলুলোজ উদ্ভিদকে দৃঢ়তা, সুরক্ষা ও ভার বহনের ক্ষমতা দেয়। এটি বর্ণহীন, গন্ধহীন, স্বাদহীন, তন্তুযুক্ত, শক্ত এবং পানিতে অদ্রবণীয়।
মানুষের পরিপাকনালির এনজাইম সেলুলোজ ভাঙতে পারে না, তাই এটি মানুষের হজম হয় না। গরু, ছাগলসহ কিছু প্রাণীর পরিপাকনালিতে থাকা অণুজীব সেলুলোজ ভাঙতে সাহায্য করে। সেলুলোজ থেকে বস্ত্রের তন্তু, কাগজ, রেয়ন, কৃত্রিম তন্তু, আসবাব ও নির্মাণসামগ্রী তৈরি হয়।
গ্লাইকোজেন প্রাণীদেহের প্রধান সঞ্চয়ী পলিস্যাকারাইড। এর গঠনগত একক α-D-গ্লুকোজ। α-1,4 বন্ধনে মূল শৃঙ্খল এবং α-1,6 বন্ধনে শাখা সৃষ্টি হয়। প্রতি শাখায় সাধারণত ১০–২০টি গ্লুকোজ অণু থাকে। এজন্য গ্লাইকোজেনকে “প্রাণীর স্টার্চ” বলা হয়।
যকৃত ও মাংসপেশিতে গ্লাইকোজেন বেশি সঞ্চিত থাকে। প্রয়োজনে গ্লাইকোজেন ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়াকে গ্লাইকোজেনোলাইসিস বলে। গ্লাইকোজেন পেশিতে শক্তি দেয় এবং যকৃত রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এটি পানিতে দ্রবণীয়; আয়োডিন দ্রবণে লালচে-বেগুনি বর্ণ ধারণ করে।
দ্রুত যাচাই ১: স্টার্চের দুটি উপাদানের নাম কী?
দ্রুত যাচাই ২: গ্লাইকোজেন কোথায় সঞ্চিত থাকে?
কার্বোহাইড্রেট শুধু শক্তি দেয় না; জীবদেহের গঠন ও বংশগতির সঙ্গেও যুক্ত। উদ্ভিদের কোষপ্রাচীরে সেলুলোজের পাশাপাশি হেমিসেলুলোজ থাকে। আবার পোকামাকড়, কাঁকড়া ও মাকড়সার বহিঃকঙ্কালে কাইটিন দেখা যায়। এই পদার্থগুলো জীবদেহকে দৃঢ়তা ও সুরক্ষা দেয়।
হেমিসেলুলোজ: উদ্ভিদের কোষপ্রাচীরে সেলুলোজ ও পেকটিনের সঙ্গে যে পলিস্যাকারাইড থাকে, তাকে হেমিসেলুলোজ বলা হয়। ম্যানান ও জাইলান এর উদাহরণ। এটি কোষপ্রাচীরের গঠনকে দৃঢ় করতে সাহায্য করে। ফলে উদ্ভিদদেহের কাঠামো ও সুরক্ষা বজায় থাকে।
কাইটিন: কাইটিন একটি নাইট্রোজেনযুক্ত পলিস্যাকারাইড। এটি বিভিন্ন প্রাণীর দেহের দৃঢ় বহিঃআবরণ বা বহিঃকঙ্কালের গঠন উপাদান। পোকামাকড়, কাঁকড়া, মাকড়সা প্রভৃতির দেহে কাইটিন থাকে। তাই কাইটিন তাদের দেহকে শক্তি ও সুরক্ষা দেয়।
কাইটিনের গঠনগত একক হলো গ্লুকোসামিনজাত একক। গ্লুকোজের –OH মূলক অ্যামিনো (–NH₂) মূলক দ্বারা প্রতিস্থাপিত হলে গ্লুকোসামিন তৈরি হয়। একইভাবে গ্যালাক্টোজ থেকে গ্যালাক্টোসামিন তৈরি হতে পারে। গ্লুকোসামিনের বহু একক পলিমার হয়ে কাইটিন গঠন করে।
অ্যামিনো অ্যাসিড হলো প্রোটিনের গঠনগত একক। Emil Fischer ও Franz Hofmeister ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে প্রোটিনের গঠনগত একক হিসেবে অ্যামিনো অ্যাসিডের ধারণা প্রতিষ্ঠা করেন। কোনো জৈব যৌগের এক বা একাধিক হাইড্রোজেন পরমাণু অ্যামিনো মূলক দ্বারা প্রতিস্থাপিত হলে অ্যামিনো অ্যাসিড তৈরি হতে পারে।
কার্বক্সিল মূলকের পাশের কার্বনকে α-কার্বন বলা হয়। এই α-কার্বনের সঙ্গে অ্যামিনো মূলক যুক্ত থাকলে তাকে α-অ্যামিনো অ্যাসিড বলে। কোনো কোনো অ্যামিনো অ্যাসিডে দুটি অ্যামিনো মূলক বা দুটি কার্বক্সিল মূলকও থাকতে পারে।
দ্রুত যাচাই ১: কাইটিন কীভাবে গঠিত হয়?
দ্রুত যাচাই ২: α-কার্বন ও α-অ্যামিনো অ্যাসিড কী?
লিপিড (Lipid) হলো পানিতে অদ্রবণীয়, কিন্তু জৈব দ্রাবকে দ্রবণীয় জৈব পদার্থ। চর্বি, তেল, মোম, ফসফোলিপিড, স্টেরয়েড ও রাবার—সবই লিপিডের উদাহরণ। লিপিড দেহে শক্তি সঞ্চয় করে, কোষঝিল্লি গঠন করে এবং বিভিন্ন জৈবিক কাজে অংশ নেয়।
লিপিড সঞ্চিত খাদ্য ও শক্তির উৎস। ফসফোলিপিড কোষঝিল্লি ও বিভিন্ন অঙ্গাণুর ঝিল্লি গঠন করে। মোম পাতার কিউটিকল তৈরি করে অতিরিক্ত প্রস্বেদন রোধ করে। লিপিড প্রোটিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে লিপোপ্রোটিন গঠন করে এবং কিছু লিপিড এনজাইমের কো-ফ্যাক্টর বা বাহক হিসেবে কাজ করে।
রাসায়নিক গঠন অনুসারে লিপিড তিন প্রকার—সরল লিপিড, যৌগিক লিপিড এবং উদ্ভূত লিপিড।
ট্রাইগ্লিসারাইড: এক অণু গ্লিসারলের সঙ্গে তিনটি ফ্যাটি অ্যাসিড এস্টার বন্ধনে যুক্ত হলে ট্রাইগ্লিসারাইড তৈরি হয়। ফ্যাটি অ্যাসিডে দ্বৈত বন্ধন না থাকলে তা সম্পৃক্ত; যেমন স্টিয়ারিক অ্যাসিড। এক বা একাধিক দ্বৈত বন্ধন থাকলে তা অসম্পৃক্ত; যেমন লিনোলিক ও লিনোলেনিক অ্যাসিড।
চর্বি: সম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত ট্রাইগ্লিসারাইড, যা ২০° সেলসিয়াসে কঠিন বা অর্ধকঠিন। তেল: অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত ট্রাইগ্লিসারাইড, যা একই তাপমাত্রায় তরল। উভয়ই সঞ্চিত খাদ্য ও শক্তির উৎস। মানুষের দেহে কিছু দ্বৈত বন্ধন তৈরি করতে না পারায় লিনোলিক ও লিনোলেনিক অ্যাসিড খাদ্যে প্রয়োজন; এগুলো অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিড।
মোম: ফ্যাটি অ্যাসিড ও মনোহাইড্রিক অ্যালকোহলের এস্টারকে মোম বলে। এটি সাধারণ তাপমাত্রায় কঠিন ও রাসায়নিকভাবে তুলনামূলক নিষ্ক্রিয়। ফল, পাতা ও ফুলের উপর প্রতিরোধক স্তর তৈরি করে। মোমবাতি ও বিভিন্ন শিল্পপণ্যে মোম ব্যবহৃত হয়।
ফসফোলিপিড: গ্লিসারল, ফ্যাটি অ্যাসিড ও ফসফেট নিয়ে গঠিত। কোষঝিল্লি, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ও নিউক্লিয়ার এনভেলপে থাকে। এটি ঝিল্লির গাঠনিক উপাদান, আয়নবাহক এবং রক্ত জমাট বাঁধার নিয়ন্ত্রক।
গ্লাইকোলিপিড: লিপিডের সঙ্গে কার্বোহাইড্রেট যুক্ত থাকে। উদ্ভিদের ক্লোরোপ্লাস্ট ও প্রাণীকোষের মেমব্রেনে পাওয়া যায়। সালফোলিপিড: গ্লাইকোলিপিডে সালফার থাকলে তাকে সালফোলিপিড বলে; উদ্ভিদে, বিশেষত ক্লোরোপ্লাস্টে, পাওয়া যায়।
স্টেরয়েড: চারটি কার্বন রিংবিশিষ্ট লিপিড। হাইড্রক্সিল গ্রুপযুক্ত স্টেরয়েডকে স্টেরল বলে। কোলেস্টেরল প্রাণীকোষের প্লাজমামেমব্রেনের উপাদান, পিত্তের উপাদান এবং ভিটামিন D-এর পূর্বসূরী। রক্তে LDL বেশি ও HDL কম থাকা ক্ষতিকর; LDL কম এবং HDL বেশি থাকা ভালো।
টারপিন ও টারপিনয়েড: আইসোপ্রিন একক দিয়ে গঠিত যৌগকে টারপিনয়েড বলে। ১০–৪০ কার্বনবিশিষ্ট আইসোপ্রিন যৌগ টারপিন নামে পরিচিত। পুদিনা ও তুলসীতে উদ্বায়ী তেল হিসেবে থাকে; সুগন্ধি ও বার্নিশে ব্যবহৃত হয়। প্রায় ৩০০০–৪০০০ আইসোপ্রিন একক যুক্ত হয়ে রাবার তৈরি করে। রাবার টায়ার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
১। ট্রাইগ্লিসারাইড কীভাবে গঠিত হয়?
২। ফসফোলিপিড ও গ্লাইকোলিপিডের প্রধান পার্থক্য কী?
নিচের উদাহরণগুলোতে সংজ্ঞা, সংকেত, বন্ধন, হাইড্রোলাইসিস এবং জীবদেহে কাজ—সবগুলো ধাপে ধাপে দেখানো হয়েছে। পরীক্ষায় উত্তর লেখার সময় প্রথমে সংজ্ঞা, পরে কারণ বা সমীকরণ, শেষে ভূমিকা লিখবে।
উদাহরণ ১: ডিঅক্সিরাইবোজ ও মনোস্যাকারাইড শনাক্তকরণ
প্রশ্ন: ডিঅক্সিরাইবোজ কী? রাইবোজের সঙ্গে এর দুটি পার্থক্য লেখো। গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজকে কীভাবে শনাক্ত করবে?
চূড়ান্ত উত্তর: ডিঅক্সিরাইবোজ DNA গঠনের অপরিহার্য পেন্টোজ শর্করা। গ্লুকোজ অ্যালডোহেক্সোজ, আর ফ্রুক্টোজ কিটোহেক্সোজ।
উদাহরণ ২: ডাইস্যাকারাইড ও অলিগোস্যাকারাইড
প্রশ্ন: সুক্রোজের হাইড্রোলাইসিস সমীকরণ লেখো এবং বোঝাও কেন সুক্রোজ নন-রিডিউসিং শর্করা।
চূড়ান্ত উত্তর: সুক্রোজ একটি নন-রিডিউসিং ডাইস্যাকারাইড; হাইড্রোলাইসিসে এটি গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ দেয়।
উদাহরণ ৩: পলিস্যাকারাইড, ডেরিভেটিভ ও অ্যামিনো অ্যাসিড
প্রশ্ন: স্টার্চ, সেলুলোজ ও কাইটিনের গঠনগত বা সঞ্চয়ী ভূমিকা ব্যাখ্যা করো। অ্যামিনো অ্যাসিডের সাধারণ গঠন লেখো।
চূড়ান্ত উত্তর: স্টার্চ সঞ্চয়ী, সেলুলোজ গাঠনিক এবং কাইটিন নাইট্রোজেনযুক্ত গাঠনিক পলিস্যাকারাইড।
উদাহরণ ৪: লিপিডের শ্রেণিবিভাগ ও কাজ
প্রশ্ন: চর্বি, তেল, ফসফোলিপিড, গ্লাইকোলিপিড ও স্টেরয়েডের পরিচয় দাও।
চূড়ান্ত উত্তর: লিপিড খাদ্য সঞ্চয়, কোষঝিল্লি গঠন, শক্তি উৎপাদন ও জলক্ষয় রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
| পরিভাষা | সংজ্ঞা বা সূত্র | কখন মনে রাখবে |
|---|---|---|
| ডিঅক্সিরাইবোজ | পেন্টোজ শর্করা; C₅H₁₀O₄। ২নং কার্বনে –OH-এর পরিবর্তে H থাকে। | DNA-এর শর্করা শনাক্ত করতে। |
| মনোস্যাকারাইড | একক শর্করা; যেমন গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, গ্যালাক্টোজ। হেক্সোজের সূত্র C₆H₁₂O₆। | শর্করার মৌলিক একক লিখতে। |
| গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ | গ্লুকোজ অ্যালডোহেক্সোজ; ফ্রুক্টোজ কিটোহেক্সোজ। উভয়ের সূত্র C₆H₁₂O₆। | গাঠনিক আইসোমার ও বিজারক শর্করা বোঝাতে। |
| ডাইস্যাকারাইড | দুটি মনোস্যাকারাইডের ঘনীভবনে সৃষ্টি; সাধারণ সূত্র C₁₂H₂₂O₁₁। | সুক্রোজ, ম্যালটোজ ও ল্যাকটোজের গঠন লিখতে। |
| সুক্রোজের হাইড্রোলাইসিস | C₁₂H₂₂O₁₁ + H₂O → C₆H₁₂O₆ + C₆H₁₂O₆; গ্লুকোজ + ফ্রুক্টোজ। | সুক্রোজকে অবিজারক বলার কারণ ব্যাখ্যা করতে। |
| অলিগোস্যাকারাইড | হাইড্রোলাইসিসে ৩–১০টি মনোস্যাকারাইড দেয়; গ্লাইকোসিডিক বন্ধনে যুক্ত থাকে। | ট্রাইস্যাকারাইড ও টেট্রাস্যাকারাইড শ্রেণিবিন্যাসে। |
| পলিস্যাকারাইড | দশের অধিক মনোস্যাকারাইডের পলিমার; সাধারণত অদ্রবণীয় ও মিষ্টিহীন। | স্টার্চ, সেলুলোজ ও গ্লাইকোজেনের কাজ লিখতে। |
| স্টার্চ ও সেলুলোজ | স্টার্চ সঞ্চয়ী, α-বন্ধনযুক্ত এবং আয়োডিনে নীল। সেলুলোজ গাঠনিক, β-1,4 বন্ধনযুক্ত এবং মানুষের অপাচ্য। | তুলনামূলক প্রশ্নে। |
| কার্বোহাইড্রেট ডেরিভেটিভ | কার্বোহাইড্রেটের মূল গঠনে রাসায়নিক পরিবর্তন বা নতুন মূলক যুক্ত হলে উৎপন্ন পদার্থ; গ্লুকোসামিন থেকে কাইটিন হয়। | কাইটিনের গঠন ও ভূমিকা ব্যাখ্যায়। |
| অ্যামিনো অ্যাসিড | প্রোটিনের গঠনগত একক; সাধারণ গঠন R–CH(NH₂)–COOH। | প্রোটিন ও α-অ্যামিনো অ্যাসিডের সংজ্ঞায়। |
| ট্রাইগ্লিসারাইড | ১ অণু গ্লিসারল + ৩ অণু ফ্যাটি অ্যাসিড; এস্টার বন্ধনে যুক্ত। | চর্বি ও তেলের গঠন লিখতে। |
| লিপিডের শ্রেণি | সরল: চর্বি, তেল, মোম; যৌগিক: ফসফোলিপিড, গ্লাইকোলিপিড; উদ্ভূত: স্টেরয়েড, টারপিনয়েড। | শ্রেণিবিভাগের প্রশ্নে। |
উদ্দীপক: একটি উদ্ভিদকোষে সালোকসংশ্লেষণের ফলে উৎপন্ন গ্লুকোজ স্টার্চ হিসেবে সঞ্চিত থাকে। একই কোষের কোষপ্রাচীর সেলুলোজ দিয়ে গঠিত। অপরদিকে, একটি প্রাণীকোষের যকৃত ও পেশিতে গ্লাইকোজেন সঞ্চিত থাকে। উভয় কোষের ঝিল্লিতে ফসফোলিপিড রয়েছে। পরীক্ষায় দেখা গেল, উদ্ভিদকোষের নির্যাসে আয়োডিন যোগ করলে নীল রং সৃষ্টি হয়।
১। খ — ডিঅক্সিরাইবোজের সংকেত C₅H₁₀O₄।
২। গ — সুক্রোজ নন-রিডিউসিং শর্করা।
৩। গ — অলিগোস্যাকারাইডে ৩–১০টি মনোস্যাকারাইড থাকে।
৪। খ — স্টার্চ আয়োডিনের সঙ্গে নীল রং সৃষ্টি করে।
৫। গ — সেলুলোজে β-1,4 গ্লাইকোসিডিক বন্ধন থাকে।
৬। গ — গ্লাইকোজেন প্রাণিদেহের প্রধান সঞ্চিত পলিস্যাকারাইড।
৭। ক — ফসফোলিপিড গ্লিসারল, ফ্যাটি অ্যাসিড ও ফসফেট দিয়ে গঠিত।
৮। গ — সম্পৃক্ত ট্রাইগ্লিসারাইড সাধারণত কঠিন বা অর্ধকঠিন।
১। রাইবোজের সংকেত C₅H₁₀O₅ এবং এটি RNA-এর উপাদান। ডিঅক্সিরাইবোজের সংকেত C₅H₁₀O₄ এবং এটি DNA-এর উপাদান। রাইবোজের ২নং কার্বনে –OH থাকে, কিন্তু ডিঅক্সিরাইবোজের ২নং কার্বনে –OH-এর পরিবর্তে H থাকে।
২। দুটি মনোস্যাকারাইড ঘনীভবন বিক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে যে শর্করা তৈরি করে, তাকে ডাইস্যাকারাইড বলে। সুক্রোজ → গ্লুকোজ + ফ্রুক্টোজ; ম্যালটোজ → গ্লুকোজ + গ্লুকোজ; ল্যাকটোজ → গ্লুকোজ + গ্যালাক্টোজ। যুক্ত হওয়ার সময় এক অণু পানি অপসারিত হয় এবং গ্লাইকোসিডিক বন্ধন সৃষ্টি হয়।
৩। অ্যামিনো অ্যাসিড হলো প্রোটিনের গঠনগত একক। প্রতিটি অ্যামিনো অ্যাসিডে অন্তত একটি অ্যামিনো মূলক (–NH₂), একটি কার্বক্সিল মূলক (–COOH) এবং একটি পরিবর্তনশীল R-গ্রুপ থাকে। সাধারণ গঠন: R–CH(NH₂)–COOH।
৪। সরল লিপিডের উদাহরণ চর্বি, তেল ও মোম। যৌগিক লিপিডে সরল লিপিডের সঙ্গে অতিরিক্ত জৈব বা অজৈব পদার্থ যুক্ত থাকে; উদাহরণ ফসফোলিপিড। মৌলিক লিপিডের হাইড্রোলাইসিসে উৎপন্ন লিপিডকে উদ্ভূত লিপিড বলে; উদাহরণ স্টেরয়েড।
ক। গ্লিসারল, ফ্যাটি অ্যাসিড ও ফসফেটের সমন্বয়ে গঠিত লিপিডকে ফসফোলিপিড বলে। এটি কোষঝিল্লি ও বিভিন্ন কোষ অঙ্গাণুর ঝিল্লির গুরুত্বপূর্ণ গঠনগত উপাদান।
খ। সেলুলোজ উদ্ভিদের কোষপ্রাচীর গঠন করে। অসংখ্য β-D-গ্লুকোজ অণু β-1,4 গ্লাইকোসিডিক বন্ধনে যুক্ত হয়ে সেলুলোজ তৈরি করে। এটি উদ্ভিদকে দৃঢ়তা, সুরক্ষা ও কাঠামো প্রদান করে। তাই সেলুলোজকে গঠনগত পলিস্যাকারাইড বলা হয়।
গ। উদ্দীপকের নির্যাসে নীল রং সৃষ্টি হয়েছে, কারণ এতে স্টার্চ রয়েছে। স্টার্চের অ্যামাইলোজ অংশ আয়োডিন অণুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নীল যৌগ তৈরি করে। তাই আয়োডিন স্টার্চ শনাক্ত করার পরীক্ষায় ব্যবহৃত হয়।
স্টার্চ হলো অ্যামাইলোজ ও অ্যামাইলোপেকটিনের সমন্বয়ে গঠিত পলিস্যাকারাইড। অ্যামাইলোজে গ্লুকোজ অণুগুলো প্রধানত α-1,4 বন্ধনে যুক্ত থাকে। অ্যামাইলোপেকটিনে α-1,4 বন্ধনের পাশাপাশি α-1,6 বন্ধনের মাধ্যমে শাখা সৃষ্টি হয়। স্টার্চের আণবিক সংকেত (C₆H₁₀O₅)ₙ।
ঘ। স্টার্চ, সেলুলোজ ও গ্লাইকোজেন—তিনটিই গ্লুকোজ-গঠিত পলিস্যাকারাইড, কিন্তু তাদের গঠন ও কাজ ভিন্ন।
সুতরাং স্টার্চ উদ্ভিদের সঞ্চিত খাদ্য, সেলুলোজ উদ্ভিদের কাঠামোগত উপাদান এবং গ্লাইকোজেন প্রাণীর সঞ্চিত খাদ্য। আয়োডিন পরীক্ষায় নীল রং পাওয়া যাওয়ায় উদ্দীপকের নির্যাসে স্টার্চের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়।
এই অধ্যায়ে সূত্র, বন্ধন, শ্রেণিবিভাগ ও কাজ গুলিয়ে ফেলা খুব সাধারণ। নিচের ভুলগুলো ভালোভাবে সংশোধন করো।
| ভুল | সঠিক |
|---|---|
| ডিঅক্সিরাইবোজে ২নং কার্বনে –OH থাকে। | ডিঅক্সিরাইবোজে ২নং কার্বনে –OH-এর পরিবর্তে H থাকে; এটি DNA-এর শর্করা। |
| গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজের সংকেত আলাদা। | উভয়ের আণবিক সংকেত C₆H₁₂O₆, কিন্তু গঠন ভিন্ন। |
| ফ্রুক্টোজ অবিজারক শর্করা। | ফ্রুক্টোজ রিডিউসিং সুগার; সুক্রোজ নন-রিডিউসিং সুগার। |
| ম্যালটোজ গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজে গঠিত। | ম্যালটোজ = গ্লুকোজ + গ্লুকোজ; ল্যাকটোজ = গ্লুকোজ + গ্যালাক্টোজ। |
| স্টার্চ ও সেলুলোজের বন্ধন একই। | স্টার্চে α-গ্লাইকোসিডিক এবং সেলুলোজে β-1,4 বন্ধন থাকে। |
| গ্লাইকোজেন উদ্ভিদের সঞ্চিত খাদ্য। | গ্লাইকোজেন প্রাণীর প্রধান সঞ্চিত শর্করা; স্টার্চ উদ্ভিদের সঞ্চিত খাদ্য। |
| অ্যামিনো অ্যাসিডে শুধু –NH₂ থাকে। | অ্যামিনো অ্যাসিডে অন্তত –NH₂ ও –COOH থাকে; R-গ্রুপ ভিন্ন হয়। |
| চর্বি ও তেল একই অবস্থার লিপিড। | চর্বি সাধারণত কঠিন ও সম্পৃক্ত; তেল তরল ও অসম্পৃক্ত। |
নিয়মিত তুলনা করে পড়লে এই অধ্যায়ের সংজ্ঞা, সূত্র ও কাজ সহজেই মনে থাকবে।
ADMISSION TEST PREPARATION অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী How to use this sheet ★★★ = the par
ADMISSION TEST PREPARATION অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী How to use this sheet ★★★ = the p
এইচএসসি সাজেশন (একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি) অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন / অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন / অধ্যায় ৩: কোষ রসায়ন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত
লেকচার শিট অধ্যায় ১২: জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পরিচিতি এই পাঠে যা শিখবে বাস্
লেকচার শিট অধ্যায় ১১: জীবপ্রযুক্তি একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পরিচিতি এই পাঠে যা শিখবে কৃষিতে জিনপ্রযুক্তির ব্
লেকচার শিট অধ্যায় ১০: উদ্ভিদ প্রজনন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পরিচিতি এই পাঠে যা শিখবে ডিম্বকের প্রধান অংশ এব