কোষ হলো জীবদেহের গঠন ও কাজের একক। কোষে সাইটোপ্লাজম, নিউক্লিয়াস এবং বিভিন্ন কোষীয় অঙ্গাণু থাকে। প্রতিটি অঙ্গাণুর নিজস্ব গঠন ও নির্দিষ্ট কাজ আছে। উদ্ভিদকোষ ও প্রাণিকোষের মধ্যে কিছু গাঠনিক পার্থক্যও দেখা যায়।
ক্লোরোপ্লাস্ট কীভাবে খাদ্য তৈরি করে, নিউক্লিয়াস কীভাবে কোষের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষীয় কঙ্কাল কীভাবে কোষকে দৃঢ়তা ও চলন দেয়—এসব জানলে জীবনের মৌলিক কার্যক্রম বোঝা সহজ হয়। বাস্তব জীবনে উদ্ভিদের খাদ্য তৈরি, বীজের অঙ্কুরোদগম ও কোষ বিভাজন বুঝতে এ অধ্যায় দরকার। পরীক্ষায় সংজ্ঞা, গঠন, কাজ, পার্থক্য, চিত্র চিহ্নিতকরণ ও সৃজনশীল প্রশ্নে এ বিষয়গুলো বারবার আসে।
| ক্রম | বিষয় |
|---|---|
| ১ | ক্লোরোপ্লাস্ট |
| ২ | সেন্ট্রিওল |
| ৩ | কোষীয় কঙ্কাল |
| ৪ | পারঅক্সিসোম, গ্লাইঅক্সিসোম ও কোষগহ্বর |
| ৫ | নিউক্লিয়াস |
সবুজ উদ্ভিদকোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু হলো ক্লোরোপ্লাস্ট। এটি সাধারণত পাতার কোষ, ফুলের সবুজ বৃতি ও কচি কাণ্ডে থাকে। ক্লোরোপ্লাস্টে ক্লোরোফিল নামের সবুজ রঞ্জক থাকে। এই রঞ্জকের সাহায্যে উদ্ভিদ সূর্যালোক ব্যবহার করে শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। তাই ক্লোরোপ্লাস্টকে কোষের রান্নাঘর (kitchen of cell) বা শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরির কারখানা বলা হয়।
একটি উদ্ভিদকোষে সাধারণত দুই থেকে একাধিক ক্লোরোপ্লাস্ট থাকতে পারে। উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদকোষে সাধারণত ১০–৪০টি ক্লোরোপ্লাস্ট দেখা যায়। উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদে এগুলো সাধারণত গোলাকার। নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে আকৃতির বৈচিত্র্য বেশি। যেমন—Chlamydomonas-এ পেয়ালাকৃতি, Spirogyra-তে সর্পিলাকার, Oedogonium-এ জালিকাকার, Zygnema-তে তারকাকার এবং Pithophora-তে গোলাকার ক্লোরোপ্লাস্ট দেখা যায়।
কোষের মতো আকৃতির ক্লোরোপ্লাস্টের ব্যাস সাধারণত ৩–৫ মাইক্রন। Spirogyra-এর সর্পিলাকার ক্লোরোপ্লাস্ট সোজা করলে কোষের দৈর্ঘ্যের চেয়েও বেশি লম্বা হতে পারে।
ক্লোরোপ্লাস্টের বাইরের আবরণী দুই স্তরবিশিষ্ট ও আংশিক অপ্রবেশ্য। এর ভেতরের কলয়েডধর্মী তরল অংশকে স্ট্রোমা বলে। স্ট্রোমাতে 70S রাইবোজোম, DNA, RNA এবং বিভিন্ন এনজাইম থাকে। শর্করা তৈরির C₃ বা C₄ চক্রও স্ট্রোমাতে ঘটে।
স্ট্রোমাতে থালার মতো ঝিল্লিময় গঠন হলো থাইলাকয়েড। অনেকগুলো থাইলাকয়েড স্তূপাকারে সাজলে গ্রানাম বা গ্রানা তৈরি হয়। পাশাপাশি গ্রানাকে যুক্ত করা নালিকাকে স্ট্রোমা ল্যামেলা বলে। থাইলাকয়েডে ক্লোরোফিল, ক্যারোটিন, ক্যারোটিনয়েড, লিপিড ও এনজাইম থাকে। এখানে ফটোসিনথেটিক ইউনিট ও ATP-synthase অবস্থান করে।
১। ক্লোরোপ্লাস্টের তরল অভ্যন্তরীণ অংশের নাম কী?
২। অনেকগুলো থাইলাকয়েড স্তূপাকারে সাজলে কী গঠিত হয়?
সবুজ উদ্ভিদকোষে যে প্লাস্টিড থাকে এবং যার সাহায্যে সালোকসংশ্লেষণ ঘটে, তাকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। ক্লোরোপ্লাস্ট সূর্যের আলো ব্যবহার করে শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। তাই একে কোষের রান্নাঘর বা শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরির কারখানা বলা হয়। কার্বন ও নাইট্রোজেন চক্রেও ক্লোরোপ্লাস্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদকোষে সাধারণত ১০–৪০টি ক্লোরোপ্লাস্ট থাকতে পারে। নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে এর সংখ্যা ও আকৃতিতে বেশি বৈচিত্র্য দেখা যায়। ক্লোরোপ্লাস্ট গোলাকার, পেয়ালাকৃতি, সর্পিলাকার, জালিকাকার, তারকাকার, ফিতা বা চাকতিসদৃশ হতে পারে। যেমন, Chlamydomonas-এ পেয়ালাকৃতি এবং Spirogyra-তে সর্পিলাকার ক্লোরোপ্লাস্ট দেখা যায়। গোলাকার বা চাকতিসদৃশ ক্লোরোপ্লাস্টের ব্যাস সাধারণত ৩–৫ মাইক্রন।
নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে পুরোনো ক্লোরোপ্লাস্টের বিভাজনের মাধ্যমে নতুন ক্লোরোপ্লাস্ট তৈরি হয়। উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদে আদি প্লাস্টিড (proplastid) থেকে ক্লোরোপ্লাস্টের উৎপত্তি হয়। ধাপগুলো মনে রাখো:
সূর্যালোক না থাকলে ক্লোরোপ্লাস্ট লিউকোপ্লাস্টে পরিণত হতে পারে। ফলে উদ্ভিদের সবুজ অংশ বর্ণহীন হয়ে যায়।
ক্লোরোপ্লাস্টের বাইরে দ্বিস্তরবিশিষ্ট আংশিক অপ্রবেশ্য আবরণী থাকে। আবরণীর ভেতরের তরল কলয়েডধর্মী অংশকে স্ট্রোমা বলে। স্ট্রোমায় 70S রাইবোজোম, DNA, RNA এবং বিভিন্ন এনজাইম থাকে। শর্করা তৈরির C₃ বা C₄ চক্র স্ট্রোমায় সংঘটিত হয়।
স্ট্রোমায় অসংখ্য থাইলাকয়েড থাকে। অনেকগুলো থাইলাকয়েড স্তূপাকারে সাজলে গ্রানাম তৈরি হয়। দুটি গ্রানামকে সংযোগকারী থাইলাকয়েডের নালিকাকে স্ট্রোমা ল্যামেলি বলে। থাইলাকয়েডে ক্লোরোফিল, ক্যারোটিন, ক্যারোটিনয়েড, লিপিড ও এনজাইম থাকে। এখানেই আলোকনির্ভর সালোকসংশ্লেষণ এবং ATP তৈরির প্রক্রিয়া ঘটে।
১। ক্লোরোপ্লাস্টকে কোষের রান্নাঘর বলা হয় কেন?
২। অনেকগুলো থাইলাকয়েড স্তূপাকারে সাজলে কী তৈরি হয়?
আজ আমরা ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast) সম্পর্কে জানব। এটি উদ্ভিদকোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্লাস্টিড। ক্লোরোপ্লাস্টে ক্লোরোফিল থাকে। তাই এটি সবুজ বর্ণের হয়। পাতার মতো সবুজ অঙ্গে ক্লোরোপ্লাস্ট বেশি দেখা যায়। খাদ্য সংশ্লেষণে সাহায্য করে বলে ক্লোরোপ্লাস্টকে কোষের “রান্নাঘর” বা শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরির কারখানা বলা হয়। কার্বন ও নাইট্রোজেন চক্রেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।
উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদকোষে সাধারণত ১০–৪০টি ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে। তবে একটি কোষে দুইটি থেকে একাধিক ক্লোরোপ্লাস্টও থাকতে পারে। উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদে এগুলো সাধারণত গোলাকার। নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে আকৃতির বৈচিত্র্য বেশি। যেমন—ক্ল্যামাইডোমোনাসে পেয়ালাকৃতি, স্পাইরোজাইরায় সর্পিলাকার, ওডোগোনিয়ামে জালিকাকার এবং জাইগনেমায় তারকাকার ক্লোরোপ্লাস্ট দেখা যায়।
সেল আকৃতির ক্লোরোপ্লাস্টের ব্যাস সাধারণত ৩–৫ মাইক্রন। স্পাইরোজাইরার সর্পিলাকার ক্লোরোপ্লাস্ট সোজা করলে কোষের দৈর্ঘ্যের চেয়েও বেশি লম্বা হতে পারে।
পরিণত ক্লোরোপ্লাস্টের প্রধান অংশ হলো আবরণী ঝিল্লি, স্ট্রোমা, থাইলাকয়েড, গ্রানা, স্ট্রোমা ল্যামেলি, ফটোসিনথেটিক ইউনিট, ATP-synthase, DNA ও রাইবোসোম।
আবরণী ঝিল্লি: ক্লোরোপ্লাস্ট দুটি স্তরবিশিষ্ট আংশিক অপ্রবেশ্য ঝিল্লি দ্বারা আবৃত। এর ঝিল্লিতে ফসফোলিপিডের পরিবর্তে গ্লাইকোলিপিড থাকে।
স্ট্রোমা: আবরণীর ভেতরের কলয়েডধর্মী তরল অংশকে স্ট্রোমা বলে। এতে 70S রাইবোসোম, DNA, RNA এবং বহু এনজাইম থাকে। শর্করা তৈরির C₃ বা C₄ চক্র স্ট্রোমাতেই ঘটে।
থাইলাকয়েড ও গ্রানা: স্ট্রোমায় থাকা চ্যাপ্টা থালার মতো ঝিল্লিযুক্ত গঠন হলো থাইলাকয়েড। ১০–১০০টি থাইলাকয়েড স্তূপাকারে সাজলে গ্রানাম তৈরি হয়। পাশাপাশি গ্রানাকে যুক্ত করে স্ট্রোমা ল্যামেলি। গ্রানার থাইলাকয়েডে ক্লোরোফিল থাকে এবং আলোকনির্ভর সালোকসংশ্লেষণ ঘটে।
দ্রুত যাচাই ১: ক্লোরোপ্লাস্টকে কোষের রান্নাঘর বলা হয় কেন?
দ্রুত যাচাই ২: থাইলাকয়েডের স্তূপকে কী বলা হয়?
কোষের ভেতরে বিপাকীয় ক্রিয়ার ফলে কিছু ক্ষতিকর পদার্থ তৈরি হয়। এর মধ্যে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড বা H2O2 অন্যতম। এটি কোষের জন্য বিষাক্ত। পারঅক্সিসোমের প্রধান কাজ হলো এই ক্ষতিকর পদার্থকে ভেঙে কোষকে রক্ষা করা। প্রাণীর কিডনি ও যকৃত কোষে পারঅক্সিসোম তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।
পারঅক্সিসোম একটি আবরণী দ্বারা আবৃত। এর ব্যাস সাধারণত ০.২–১.৭ μm। ভেতরের অংশ দানাদার প্রকৃতির এবং সেখানে ডিম্বাকার বা দানার মতো স্ফটিক এনজাইম জমা থাকে। এর প্রধান এনজাইম হলো ক্যাটালেজ।
অমসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের বহির্মুখী স্ফীত অংশ বা আউটপকেটিং থেকে পারঅক্সিসোম তৈরি হয়। একে মাইক্রোসোম (microsome) নামেও অভিহিত করা হয়। ১৯৬৭ সালে বেলজিয়ামের সাইটোলজিস্ট ক্রিশ্চিয়ান দ্য দুভ (Christian de Duve) কোষের সাইটোপ্লাজম থেকে পারঅক্সিসোম আবিষ্কার করেন।
রাসায়নিক সমীকরণটি হলো:
পারঅক্সিসোম কোষে অক্সিজেনের ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। অক্সিজেন কোষের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও অতিরিক্ত অক্সিজেন ক্ষতিকর হতে পারে। এ ছাড়া কো-এনজাইম NAD পুনরুৎপাদন এবং DNA ও RNA-এর নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষার ভাঙা ও পুনর্ব্যবহারে পারঅক্সিসোমের ভূমিকা রয়েছে।
১। পারঅক্সিসোম কোন এনজাইমের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত?
২। পারঅক্সিসোমে H2O2 ভেঙে কী উৎপন্ন হয়?
আজ আমরা কোষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু নিউক্লিয়াস সম্পর্কে জানব। নিউক্লিয়াস সাধারণত কোষের মাঝখানে থাকে। কোষ বড় হলে এটি কোষের এক পাশে সরে যেতে পারে। নিউক্লিয়াস কোষের সব ধরনের জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। তাই একে কোষের মস্তিষ্ক বা প্রাণকেন্দ্র বলা হয়।
ইংরেজ বিজ্ঞানী Robert Brown ১৮৩১ সালে অর্কিড উদ্ভিদকোষে নিউক্লিয়াস আবিষ্কার ও নামকরণ করেন। সাধারণত প্রতি কোষে একটি নিউক্লিয়াস থাকে। তবে কিছু কোষে নিউক্লিয়াস থাকে না এবং কিছু কোষে একাধিক নিউক্লিয়াস থাকতে পারে।
একটি আদর্শ নিউক্লিয়াস প্রধানত চারটি অংশ নিয়ে গঠিত। এখন একে ধাপে ধাপে দেখি।
মনে রাখবে: নিউক্লিয়াস হলো কোষের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র, আর ক্রোমোজোম হলো বংশগত বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক।
দ্রুত যাচাই ১: নিউক্লিয়াসকে কোষের মস্তিষ্ক বলা হয় কেন?
দ্রুত যাচাই ২: নিউক্লিয়াসের কোন অংশে জিন থাকে?
এই অধ্যায়ে সংখ্যাগত হিসাবের চেয়ে অঙ্গাণুর গঠন, বৈশিষ্ট্য ও কাজ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিচের উদাহরণগুলো পরীক্ষায় লেখার উপযোগী worked model answer হিসেবে দেওয়া হলো। প্রতিটি উত্তরে প্রথমে পরিচয়, পরে গঠন ও শেষে কাজ লিখবে।
উদাহরণ ১: ক্লোরোপ্লাস্টকে কোষের রান্নাঘর বলা হয় কেন?
চূড়ান্ত উত্তর: ক্লোরোপ্লাস্ট সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে; তাই এটি কোষের রান্নাঘর।
উদাহরণ ২: ক্লোরোপ্লাস্টের গঠন ও কাজের আন্তঃসম্পর্ক ব্যাখ্যা করো।
চূড়ান্ত উত্তর: ক্লোরোপ্লাস্টের প্রতিটি অংশ নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে; তাই এর অন্তর্গঠনই কর্মবিভাগের ভিত্তি।
উদাহরণ ৩: সেন্ট্রিওলের গঠন ও কাজ লেখো।
চূড়ান্ত উত্তর: সেন্ট্রিওল ৯টি ট্রিপলেট মাইক্রোটিউবিউলযুক্ত আবরণীবিহীন নলাকার অঙ্গাণু; এটি স্পিন্ডল, সিলিয়া ও ফ্ল্যাজেলা গঠনে সাহায্য করে।
উদাহরণ ৪: নিউক্লিয়াসকে কোষের মস্তিষ্ক বলা হয় কেন?
চূড়ান্ত উত্তর: নিউক্লিয়াস কোষের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে এবং বংশগত তথ্য ধারণ করে; তাই এটি কোষের মস্তিষ্ক।
| পরিভাষা | সংজ্ঞা বা সূত্র | কখন/কাজে ব্যবহার |
|---|---|---|
| ক্লোরোপ্লাস্ট | সবুজ, দ্বিস্তরী আবরণীবেষ্টিত প্লাস্টিড; “কোষের রান্নাঘর” | সালোকসংশ্লেষণ ও শর্করা প্রস্তুতিতে |
| স্ট্রোমা | ক্লোরোপ্লাস্টের তরল, কলয়েডধর্মী мат্রিক্স; এতে DNA, RNA, 70S রাইবোজোম ও এনজাইম থাকে | C₃ বা C₄ চক্রে শর্করা তৈরিতে |
| থাইলাকয়েড ও গ্রানা | থালার মতো ঝিল্লি; থাইলাকয়েডের স্তূপ হলো গ্রানাম | আলোক-নির্ভর সালোকসংশ্লেষণে |
| স্ট্রোমা ল্যামেলা | দুটি গ্রানাকে যুক্তকারী সূক্ষ্ম নালিকা | গ্রানার মধ্যে সংযোগ রক্ষায় |
| সেন্ট্রিওল | ৯টি ট্রিপলেট মাইক্রোটিউবিউলযুক্ত, আবরণীবিহীন নল | স্পিন্ডল, সিলিয়া ও ফ্ল্যাজেলা গঠনে |
| সাইটোস্কেলিটন | মাইক্রোটিউবিউল, মাইক্রোফিলামেন্ট ও ইন্টারমিডিয়েট ফিলামেন্টের জালিকা | কোষের আকৃতি, দৃঢ়তা ও চলনে |
| পারঅক্সিসোম | Catalase-যুক্ত এক আবরণী অঙ্গাণু; 2H₂O₂ → 2H₂O + O₂ | বিষাক্ত হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড অপসারণে |
| গ্লাইঅক্সিসোম | বীজের লিপিড-সঞ্চয়ী কোষের অঙ্গাণু | লিপিডকে শর্করায় রূপান্তরে |
| কোষ গহ্বর | টোনোপ্লাস্ট-বেষ্টিত কোষরসপূর্ণ গহ্বর | বর্জ্য ধারণ, pH ও পানির চাপ নিয়ন্ত্রণে |
| নিউক্লিয়াস | নিউক্লিয়ার এনভেলপ, নিউক্লিওপ্লাজম, নিউক্লিওলাস ও ক্রোমাটিনযুক্ত প্রাণকেন্দ্র | কোষের কাজ ও বংশগত বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণে |
| ক্রোমাটিন ও ক্রোমোজোম | DNA ও প্রোটিনের সমন্বয়ে ক্রোমাটিন; ঘনীভূত হলে ক্রোমোজোম | বংশগত বৈশিষ্ট্য বহনে |
প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো।
একজন শিক্ষার্থী অণুবীক্ষণ যন্ত্রে একটি সবুজ উদ্ভিদকোষ পর্যবেক্ষণ করল। সে কোষে দ্বিস্তরবিশিষ্ট আবরণীযুক্ত সবুজ অঙ্গাণু, স্ট্রোমা, গ্রানা এবং থাইলাকয়েড দেখতে পেল। একই কোষে একটি সুস্পষ্ট নিউক্লিয়াস ও বড় কোষগহ্বরও ছিল। শিক্ষক আরও জানালেন, কোষের কিছু অঙ্গাণুতে নিজস্ব DNA ও রাইবোজোম থাকে এবং কিছু অঙ্গাণু কোষের ক্ষতিকর পদার্থ ভেঙে ফেলে।
| প্রশ্ন | উত্তর | কারণ |
|---|---|---|
| ১ | খ | ক্লোরোপ্লাস্টে সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে শর্করা তৈরি হয়। |
| ২ | গ | উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদকোষে সাধারণত ১০–৪০টি ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে। |
| ৩ | গ | শর্করা উৎপাদনের C₃ বা C₄ চক্র স্ট্রোমায় ঘটে। |
| ৪ | খ | স্ট্রোমা ল্যামেলি গ্রানাগুলোকে যুক্ত করে। |
| ৫ | গ | সেন্ট্রিওলে ৯টি ট্রিপলেট অনুনালিকা থাকে। |
| ৬ | গ | প্রতিটি মাইক্রোটিউবিউলে ১৩টি প্রোটোফিলামেন্ট থাকে। |
| ৭ | খ | পারঅক্সিসোমের প্রধান এনজাইম ক্যাটালেজ। |
| ৮ | গ | ইন্টারফেজে DNA ও প্রোটিনের জালিকাকে ক্রোমাটিন তন্তু বলে। |
১. আবরণী ঝিল্লি দ্বারা আবৃত কলয়েডধর্মী তরল ম্যাট্রিক্সকে স্ট্রোমা বলে। এতে 70S রাইবোজোম, DNA, RNA এবং অসংখ্য এনজাইম থাকে।
২. নিউক্লিয়াসের কাছে অবস্থিত একটি নলাকার গঠন হলো সেন্ট্রিওল। দুটি সেন্ট্রিওল জোড়ায় জোড়ায় অবস্থান করলে তাদের একত্রে ডিপ্লোসোম বলা হয়।
৩. মাইক্রোফিলামেন্ট হলো অ্যাকটিন ও মায়োসিন প্রোটিননির্মিত সরু, দৃঢ় ও সংকোচনশীল তন্তু। এগুলো কোষের আকৃতি ও দৃঢ়তা বজায় রাখে এবং সাইটোপ্লাজমীয় চলন, ফ্যাগোসাইটোসিস ও পিনোসাইটোসিসে সাহায্য করে।
৪. পারঅক্সিসোমে ক্যাটালেজ এনজাইম থাকে। এই এনজাইম বিষাক্ত 2H2O2-কে 2H2O + O2-এ ভেঙে দেয়। ফলে পানি ও অক্সিজেন উৎপন্ন হয় এবং কোষ হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পায়।
ক. ক্লোরোপ্লাস্ট হলো উদ্ভিদকোষের দ্বিস্তরবিশিষ্ট আবরণীযুক্ত সবুজ অঙ্গাণু, যেখানে সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে শর্করা তৈরি হয়।
খ. স্ট্রোমা হলো ক্লোরোপ্লাস্টের আবরণীর ভেতরের তরল ম্যাট্রিক্স। এতে এনজাইম, DNA, RNA ও 70S রাইবোজোম থাকে। অন্যদিকে, গ্রানা হলো বহু থাইলাকয়েডের স্তূপ। থাইলাকয়েডে ক্লোরোফিল, ক্যারোটিন, লিপিড ও এনজাইম থাকে। তাই স্ট্রোমা মূলত শর্করা তৈরির চক্রের স্থান, আর গ্রানা আলোকশক্তি গ্রহণের সঙ্গে যুক্ত।
গ. ক্লোরোপ্লাস্টের দ্বিস্তরবিশিষ্ট আবরণী অঙ্গাণুটিকে সুরক্ষা দেয়। এর স্ট্রোমায় C₃ বা C₄ চক্র সংঘটিত হয়ে শর্করা তৈরি হয়। গ্রানার থাইলাকয়েডে ক্লোরোফিল ও অন্যান্য রঞ্জক থাকে, যা সূর্যালোক শোষণ করে। থাইলাকয়েড মেমব্রেনে ফটোসিনথেটিক ইউনিট ও ATP-synthase থাকে। এগুলোর সাহায্যে আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয় এবং ADP থেকে ATP তৈরি হয়। স্ট্রোমা ল্যামেলি বিভিন্ন গ্রানাকে যুক্ত রাখে। ফলে ক্লোরোপ্লাস্টের বিভিন্ন অংশ সমন্বিতভাবে সালোকসংশ্লেষণ সম্পন্ন করতে পারে।
ঘ. নিউক্লিয়াস কোষের সব ধরনের জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। এতে ক্রোমোজোম ও জিন থাকে, যা বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন করে এবং RNA ও প্রোটিন সংশ্লেষণে ভূমিকা রাখে। নিউক্লিয়ার এনভেলপের ছিদ্রের মাধ্যমে নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজমের মধ্যে পদার্থের আদান-প্রদান হয়।
কোষগহ্বর টোনোপ্লাস্ট দ্বারা আবৃত থাকে এবং এর ভেতরে কোষরস, পানি, লবণ, শর্করা, বিভিন্ন যৌগ ও রঞ্জক থাকে। এটি বর্জ্য পদার্থ ধারণ করে, কোষের pH নিয়ন্ত্রণ করে এবং অভ্যন্তরীণ পানির চাপ বজায় রাখে।
পারঅক্সিসোম ক্যাটালেজ এনজাইমের সাহায্যে 2H2O2 → 2H2O + O2 বিক্রিয়া ঘটায়। তাই এটি বিষাক্ত হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ভেঙে কোষকে রক্ষা করে এবং অক্সিজেনের ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। সুতরাং নিউক্লিয়াস নিয়ন্ত্রণ ও বংশগতি, কোষগহ্বর সঞ্চয় ও চাপ নিয়ন্ত্রণ, এবং পারঅক্সিসোম বিষমুক্তকরণের কাজ করে—তিনটি অঙ্গাণু মিলেই কোষের স্বাভাবিক জীবনক্রিয়া বজায় রাখে।
| ভুল | সঠিক |
|---|---|
| ক্লোরোপ্লাস্টকে সব রঙিন প্লাস্টিড বলা। | ক্লোরোপ্লাস্ট সবুজ; ক্রোমোপ্লাস্ট রঙিন এবং লিউকোপ্লাস্ট বর্ণহীন। |
| থাইলাকয়েড ও গ্রানামকে একই মনে করা। | অনেক থাইলাকয়েডের স্তূপ হলো গ্রানাম; গ্রানার সংযোগকারী অংশ স্ট্রোমা ল্যামেলা। |
| সেন্ট্রিওল আবরণীযুক্ত এবং DNA বহন করে লেখা। | সেন্ট্রিওল অনাবৃত; এতে DNA বা RNA থাকে না। |
| মাইক্রোটিউবিউল ও মাইক্রোফিলামেন্টের কাজ গুলিয়ে ফেলা। | মাইক্রোটিউবিউল স্পিন্ডল ও পরিবহনে, মাইক্রোফিলামেন্ট সংকোচন ও কোষীয় চলনে সাহায্য করে। |
| পারঅক্সিসোমে H2O2 জমে থাকে বলা। | ক্যাটালেজ এনজাইম 2H2O2 → 2H2O + O2 করে। |
| টোনোপ্লাস্টকে কোষপ্রাচীর বলা। | টোনোপ্লাস্ট হলো কোষগহ্বরের চারপাশের অর্ধভেদ্য পর্দা। |
| ক্রোমাটিন ও ক্রোমোজোমকে সম্পূর্ণ আলাদা বস্তু ভাবা। | ক্রোমাটিন ঘনীভূত ও কুণ্ডলিত হলে দৃশ্যমান ক্রোমোজোম গঠিত হয়। |
| নিউক্লিওপ্লাজম ও নিউক্লিয়াসকে একই বলা। | নিউক্লিয়াসের ভেতরের ঘন তরল হলো নিউক্লিওপ্লাজম। |
নিয়মিত অনুশীলন করলে এই অধ্যায়ের সংজ্ঞা, গঠন ও কাজভিত্তিক প্রশ্নে অবশ্যই ভালো করবে।
ADMISSION TEST PREPARATION অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী How to use this sheet ★★★ = the par
ADMISSION TEST PREPARATION অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী How to use this sheet ★★★ = the p
এইচএসসি সাজেশন (একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি) অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন / অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন / অধ্যায় ৩: কোষ রসায়ন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত
লেকচার শিট অধ্যায় ১২: জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পরিচিতি এই পাঠে যা শিখবে বাস্
লেকচার শিট অধ্যায় ১১: জীবপ্রযুক্তি একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পরিচিতি এই পাঠে যা শিখবে কৃষিতে জিনপ্রযুক্তির ব্
লেকচার শিট অধ্যায় ১০: উদ্ভিদ প্রজনন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পরিচিতি এই পাঠে যা শিখবে ডিম্বকের প্রধান অংশ এব