🎉 3-Day Free Trial — All premium features unlocked, zero credit card required ● 📚 28+ Expert Guides published and growing every week
Back to Blog
HSC

লেকচার শিট: অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন

By admin 9 views
লেকচার শিট

অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন

একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী

পরিচিতি

এই পাঠে যা শিখবে
  • ক্লোরোপ্লাস্টের গঠন, উৎপত্তি, রাসায়নিক উপাদান ও কাজ ব্যাখ্যা করতে পারবে।
  • সেন্ট্রিওলের গঠন, অবস্থান ও কোষ বিভাজনে ভূমিকা বলতে পারবে।
  • কোষীয় কঙ্কাল, মাইক্রোটিউবিউলস, মাইক্রোফিলামেন্ট ও ইন্টারমিডিয়েট ফিলামেন্টের বৈশিষ্ট্য বুঝতে পারবে।
  • পারঅক্সিসোম, গ্লাইঅক্সিসোম ও কোষগহ্বরের গঠন ও কাজ তুলনা করতে পারবে।
  • নিউক্লিয়াসের বিভিন্ন অংশ—নিউক্লিয়ার এনভেলপ, নিউক্লিওপ্লাজম, নিউক্লিওলাস ও ক্রোমাটিন—চিহ্নিত করতে পারবে।
  • কোষের গঠন ও কাজের পারস্পরিক সম্পর্ক পরীক্ষার খাতায় সঠিকভাবে লিখতে পারবে।

আগে যা জানা দরকার

কোষ হলো জীবদেহের গঠন ও কাজের একক। কোষে সাইটোপ্লাজম, নিউক্লিয়াস এবং বিভিন্ন কোষীয় অঙ্গাণু থাকে। প্রতিটি অঙ্গাণুর নিজস্ব গঠন ও নির্দিষ্ট কাজ আছে। উদ্ভিদকোষ ও প্রাণিকোষের মধ্যে কিছু গাঠনিক পার্থক্যও দেখা যায়।

এই অধ্যায় কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ক্লোরোপ্লাস্ট কীভাবে খাদ্য তৈরি করে, নিউক্লিয়াস কীভাবে কোষের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষীয় কঙ্কাল কীভাবে কোষকে দৃঢ়তা ও চলন দেয়—এসব জানলে জীবনের মৌলিক কার্যক্রম বোঝা সহজ হয়। বাস্তব জীবনে উদ্ভিদের খাদ্য তৈরি, বীজের অঙ্কুরোদগম ও কোষ বিভাজন বুঝতে এ অধ্যায় দরকার। পরীক্ষায় সংজ্ঞা, গঠন, কাজ, পার্থক্য, চিত্র চিহ্নিতকরণ ও সৃজনশীল প্রশ্নে এ বিষয়গুলো বারবার আসে।

এক নজরে

ক্রম বিষয়
১ক্লোরোপ্লাস্ট
২সেন্ট্রিওল
৩কোষীয় কঙ্কাল
৪পারঅক্সিসোম, গ্লাইঅক্সিসোম ও কোষগহ্বর
৫নিউক্লিয়াস

বিষয় 1

ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast)

সবুজ উদ্ভিদকোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু হলো ক্লোরোপ্লাস্ট। এটি সাধারণত পাতার কোষ, ফুলের সবুজ বৃতি ও কচি কাণ্ডে থাকে। ক্লোরোপ্লাস্টে ক্লোরোফিল নামের সবুজ রঞ্জক থাকে। এই রঞ্জকের সাহায্যে উদ্ভিদ সূর্যালোক ব্যবহার করে শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। তাই ক্লোরোপ্লাস্টকে কোষের রান্নাঘর (kitchen of cell) বা শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরির কারখানা বলা হয়।

সংজ্ঞা: দ্বিস্তরবিশিষ্ট আবরণী দ্বারা আবৃত, ক্লোরোফিলযুক্ত এবং সালোকসংশ্লেষণে খাদ্য প্রস্তুতকারী উদ্ভিদ অঙ্গাণুকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে।

সংখ্যা, আকৃতি ও আকার

একটি উদ্ভিদকোষে সাধারণত দুই থেকে একাধিক ক্লোরোপ্লাস্ট থাকতে পারে। উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদকোষে সাধারণত ১০–৪০টি ক্লোরোপ্লাস্ট দেখা যায়। উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদে এগুলো সাধারণত গোলাকার। নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে আকৃতির বৈচিত্র্য বেশি। যেমন—Chlamydomonas-এ পেয়ালাকৃতি, Spirogyra-তে সর্পিলাকার, Oedogonium-এ জালিকাকার, Zygnema-তে তারকাকার এবং Pithophora-তে গোলাকার ক্লোরোপ্লাস্ট দেখা যায়।

কোষের মতো আকৃতির ক্লোরোপ্লাস্টের ব্যাস সাধারণত ৩–৫ মাইক্রন। Spirogyra-এর সর্পিলাকার ক্লোরোপ্লাস্ট সোজা করলে কোষের দৈর্ঘ্যের চেয়েও বেশি লম্বা হতে পারে।

উৎপত্তি: ধাপে ধাপে

  1. নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে পুরোনো ক্লোরোপ্লাস্টের বিভাজনের মাধ্যমে নতুন ক্লোরোপ্লাস্ট তৈরি হয়।
  2. উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদে আদি প্লাস্টিড (proplastid) থেকে ক্লোরোপ্লাস্টের সৃষ্টি হয়।
  3. আদি প্লাস্টিড প্রায় ০.৫ মাইক্রন ব্যাসবিশিষ্ট গোলাকার বস্তু। এটি দ্বিস্তরবিশিষ্ট আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে।
  4. সূর্যালোকের উপস্থিতিতে এর ভেতরের স্তর থেকে ফোঁপকা বা vesicle বের হয়ে স্ট্রোমাতে সাজে।
  5. ফোঁপকাগুলো মিলিত হয়ে ল্যামেলা তৈরি করে। কয়েকটি ল্যামেলা একত্রে গ্রানাম গঠন করে।
  6. এভাবে আদি প্লাস্টিড পরিণত ক্লোরোপ্লাস্টে পরিণত হয়। সূর্যালোক না থাকলে ক্লোরোপ্লাস্ট লিউকোপ্লাস্টে পরিণত হতে পারে এবং সবুজ অংশ বর্ণহীন হয়।
উদাহরণ: Spirogyra-এর ক্লোরোপ্লাস্ট সর্পিলাকার। তাই নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে ক্লোরোপ্লাস্টের আকৃতির বৈচিত্র্য বেশি—এটি মনে রাখবে।

ক্লোরোপ্লাস্টের গঠন

ক্লোরোপ্লাস্টের বাইরের আবরণী দুই স্তরবিশিষ্ট ও আংশিক অপ্রবেশ্য। এর ভেতরের কলয়েডধর্মী তরল অংশকে স্ট্রোমা বলে। স্ট্রোমাতে 70S রাইবোজোম, DNA, RNA এবং বিভিন্ন এনজাইম থাকে। শর্করা তৈরির C₃ বা C₄ চক্রও স্ট্রোমাতে ঘটে।

স্ট্রোমাতে থালার মতো ঝিল্লিময় গঠন হলো থাইলাকয়েড। অনেকগুলো থাইলাকয়েড স্তূপাকারে সাজলে গ্রানাম বা গ্রানা তৈরি হয়। পাশাপাশি গ্রানাকে যুক্ত করা নালিকাকে স্ট্রোমা ল্যামেলা বলে। থাইলাকয়েডে ক্লোরোফিল, ক্যারোটিন, ক্যারোটিনয়েড, লিপিড ও এনজাইম থাকে। এখানে ফটোসিনথেটিক ইউনিট ও ATP-synthase অবস্থান করে।

প্রধান কাজ

  • সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করা।
  • CO₂ সংবদ্ধ করে খাদ্য তৈরিতে অংশ নেওয়া।
  • ADP থেকে ATP তৈরি করা।
  • সালোকসংশ্লেষী ইলেকট্রন পরিবহন ও ফটোরেসপিরেশনে অংশ নেওয়া।
  • নিজস্ব DNA ও রাইবোজোমের সাহায্যে কিছু প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরি করা।
শিক্ষকের টিপস: “স্ট্রোমা = তরল অংশ, থাইলাকয়েড = একক থালা, গ্রানাম = থালার স্তূপ, ল্যামেলা = গ্রানার সংযোগ”—এই ক্রমটি মনে রাখলে গঠন সহজে লেখা যায়।
পরীক্ষায় যেভাবে আসে: ক্লোরোপ্লাস্টকে কোষের রান্নাঘর বলা হয় কেন—উত্তরে ক্লোরোফিল ও সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে শর্করা তৈরির কথা অবশ্যই লিখবে।

দ্রুত যাচাই

১। ক্লোরোপ্লাস্টের তরল অভ্যন্তরীণ অংশের নাম কী?

উত্তর দেখোস্ট্রোমা।

২। অনেকগুলো থাইলাকয়েড স্তূপাকারে সাজলে কী গঠিত হয়?

উত্তর দেখোগ্রানাম বা গ্রানা।

বিষয় 2

ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast)

সবুজ উদ্ভিদকোষে যে প্লাস্টিড থাকে এবং যার সাহায্যে সালোকসংশ্লেষণ ঘটে, তাকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। ক্লোরোপ্লাস্ট সূর্যের আলো ব্যবহার করে শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। তাই একে কোষের রান্নাঘর বা শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরির কারখানা বলা হয়। কার্বন ও নাইট্রোজেন চক্রেও ক্লোরোপ্লাস্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সংজ্ঞা: সবুজ উদ্ভিদকোষের দ্বিস্তরবিশিষ্ট আবরণী দ্বারা আবৃত, ক্লোরোফিলযুক্ত যে অঙ্গাণু সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে শর্করা প্রস্তুত করে, তাকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে।

সংখ্যা, আকৃতি ও আকার

উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদকোষে সাধারণত ১০–৪০টি ক্লোরোপ্লাস্ট থাকতে পারে। নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে এর সংখ্যা ও আকৃতিতে বেশি বৈচিত্র্য দেখা যায়। ক্লোরোপ্লাস্ট গোলাকার, পেয়ালাকৃতি, সর্পিলাকার, জালিকাকার, তারকাকার, ফিতা বা চাকতিসদৃশ হতে পারে। যেমন, Chlamydomonas-এ পেয়ালাকৃতি এবং Spirogyra-তে সর্পিলাকার ক্লোরোপ্লাস্ট দেখা যায়। গোলাকার বা চাকতিসদৃশ ক্লোরোপ্লাস্টের ব্যাস সাধারণত ৩–৫ মাইক্রন।

ক্লোরোপ্লাস্টের উৎপত্তি

নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে পুরোনো ক্লোরোপ্লাস্টের বিভাজনের মাধ্যমে নতুন ক্লোরোপ্লাস্ট তৈরি হয়। উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদে আদি প্লাস্টিড (proplastid) থেকে ক্লোরোপ্লাস্টের উৎপত্তি হয়। ধাপগুলো মনে রাখো:

  1. আদি প্লাস্টিড একটি ছোট, গোলাকার গঠন।
  2. এর ভেতরের আবরণী থেকে ফোঁপকা বা vesicle তৈরি হয়।
  3. ফোঁপকাগুলো স্ট্রোমায় সমান্তরালভাবে সাজে এবং মিলিত হয়ে ল্যামেলা তৈরি করে।
  4. কিছু ল্যামেলা একত্রিত হয়ে গ্রানাম গঠন করে।
  5. সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ক্লোরোফিল তৈরি হলে আদি প্লাস্টিড পূর্ণাঙ্গ ক্লোরোপ্লাস্টে পরিণত হয়।

সূর্যালোক না থাকলে ক্লোরোপ্লাস্ট লিউকোপ্লাস্টে পরিণত হতে পারে। ফলে উদ্ভিদের সবুজ অংশ বর্ণহীন হয়ে যায়।

ক্লোরোপ্লাস্টের উৎপত্তি1আদি প্লাস্টিড2ফোঁপকা তৈরি3ল্যামেলা গঠন4গ্রানাম গঠন5পূর্ণাঙ্গক্লোরোপ্লাস্ট
সূর্যালোক ও ক্লোরোফিলের উপস্থিতিতে আদি প্লাস্টিড থেকে ক্লোরোপ্লাস্ট তৈরি হয়।

গঠন ও কাজের সম্পর্ক

ক্লোরোপ্লাস্টের বাইরে দ্বিস্তরবিশিষ্ট আংশিক অপ্রবেশ্য আবরণী থাকে। আবরণীর ভেতরের তরল কলয়েডধর্মী অংশকে স্ট্রোমা বলে। স্ট্রোমায় 70S রাইবোজোম, DNA, RNA এবং বিভিন্ন এনজাইম থাকে। শর্করা তৈরির C₃ বা C₄ চক্র স্ট্রোমায় সংঘটিত হয়।

স্ট্রোমায় অসংখ্য থাইলাকয়েড থাকে। অনেকগুলো থাইলাকয়েড স্তূপাকারে সাজলে গ্রানাম তৈরি হয়। দুটি গ্রানামকে সংযোগকারী থাইলাকয়েডের নালিকাকে স্ট্রোমা ল্যামেলি বলে। থাইলাকয়েডে ক্লোরোফিল, ক্যারোটিন, ক্যারোটিনয়েড, লিপিড ও এনজাইম থাকে। এখানেই আলোকনির্ভর সালোকসংশ্লেষণ এবং ATP তৈরির প্রক্রিয়া ঘটে।

উদাহরণ: Spirogyra-র ক্লোরোপ্লাস্ট সর্পিলাকার। এটি কোষের দৈর্ঘ্য বরাবর সর্পিলভাবে বিস্তৃত থাকে এবং ক্লোরোফিলের সাহায্যে সালোকসংশ্লেষণ করে।
শিক্ষকের টিপস: “থাইলাকয়েডের স্তূপ = গ্রানাম, গ্রানামগুলোর সংযোগ = ল্যামেলা”—এইভাবে মনে রাখবে। স্ট্রোমা হলো তরল অংশ; গ্রানাম হলো থালার স্তূপ।
পরীক্ষায় যেভাবে আসে: ক্লোরোপ্লাস্টের সংজ্ঞা, উৎপত্তির ধাপ, গ্রানাম-থাইলাকয়েড-ল্যামেলার সম্পর্ক এবং স্ট্রোমার কাজ অবশ্যই লিখবে। ক্লোরোপ্লাস্টে 70S রাইবোজোম ও নিজস্ব বৃত্তাকার DNA থাকে—এটি গুরুত্বপূর্ণ।

দ্রুত যাচাই

১। ক্লোরোপ্লাস্টকে কোষের রান্নাঘর বলা হয় কেন?

উত্তর দেখোক্লোরোপ্লাস্ট সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে বলে একে কোষের রান্নাঘর বলা হয়।

২। অনেকগুলো থাইলাকয়েড স্তূপাকারে সাজলে কী তৈরি হয়?

উত্তর দেখোঅনেকগুলো থাইলাকয়েড স্তূপাকারে সাজলে গ্রানাম তৈরি হয়।

বিষয় 3: ক্লোরোপ্লাস্টের গঠন, উৎপত্তি ও কাজ

আজ আমরা ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast) সম্পর্কে জানব। এটি উদ্ভিদকোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্লাস্টিড। ক্লোরোপ্লাস্টে ক্লোরোফিল থাকে। তাই এটি সবুজ বর্ণের হয়। পাতার মতো সবুজ অঙ্গে ক্লোরোপ্লাস্ট বেশি দেখা যায়। খাদ্য সংশ্লেষণে সাহায্য করে বলে ক্লোরোপ্লাস্টকে কোষের “রান্নাঘর” বা শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরির কারখানা বলা হয়। কার্বন ও নাইট্রোজেন চক্রেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।

সংজ্ঞা: সবুজ রঞ্জক ক্লোরোফিলযুক্ত, দ্বিস্তরবিশিষ্ট আবরণী দ্বারা আবৃত যে প্লাস্টিড সালোকসংশ্লেষণে খাদ্য তৈরি করে, তাকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে।

ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা, আকৃতি ও আকার

উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদকোষে সাধারণত ১০–৪০টি ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে। তবে একটি কোষে দুইটি থেকে একাধিক ক্লোরোপ্লাস্টও থাকতে পারে। উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদে এগুলো সাধারণত গোলাকার। নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে আকৃতির বৈচিত্র্য বেশি। যেমন—ক্ল্যামাইডোমোনাসে পেয়ালাকৃতি, স্পাইরোজাইরায় সর্পিলাকার, ওডোগোনিয়ামে জালিকাকার এবং জাইগনেমায় তারকাকার ক্লোরোপ্লাস্ট দেখা যায়।

সেল আকৃতির ক্লোরোপ্লাস্টের ব্যাস সাধারণত ৩–৫ মাইক্রন। স্পাইরোজাইরার সর্পিলাকার ক্লোরোপ্লাস্ট সোজা করলে কোষের দৈর্ঘ্যের চেয়েও বেশি লম্বা হতে পারে।

উৎপত্তি ও গঠন

  1. নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে পুরোনো ক্লোরোপ্লাস্টের বিভাজনের মাধ্যমে নতুন ক্লোরোপ্লাস্ট তৈরি হয়।
  2. উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদে আদি প্লাস্টিড (proplastid) থেকে ক্লোরোপ্লাস্টের উৎপত্তি হয়।
  3. আদি প্লাস্টিড সূর্যালোক পেলে এর ভেতরে ফোঁপকা বা ভেসিকল তৈরি হয়।
  4. ভেসিকলগুলো সমান্তরালভাবে সজ্জিত হয়ে ল্যামেলা তৈরি করে।
  5. কিছু ল্যামেলা একত্রিত হয়ে গ্রানাম তৈরি করে। বিভিন্ন গ্রানাকে যুক্ত করে স্ট্রোমা ল্যামেলি।
  6. সূর্যালোক ও ক্লোরোফিলের উপস্থিতিতে আদি প্লাস্টিড পূর্ণাঙ্গ ক্লোরোপ্লাস্টে পরিণত হয়। আলো না পেলে ক্লোরোপ্লাস্ট লিউকোপ্লাস্টে পরিণত হতে পারে; তখন সবুজ অংশ বর্ণহীন হয়।

পরিণত ক্লোরোপ্লাস্টের প্রধান অংশ হলো আবরণী ঝিল্লি, স্ট্রোমা, থাইলাকয়েড, গ্রানা, স্ট্রোমা ল্যামেলি, ফটোসিনথেটিক ইউনিট, ATP-synthase, DNA ও রাইবোসোম।

আবরণী ঝিল্লি: ক্লোরোপ্লাস্ট দুটি স্তরবিশিষ্ট আংশিক অপ্রবেশ্য ঝিল্লি দ্বারা আবৃত। এর ঝিল্লিতে ফসফোলিপিডের পরিবর্তে গ্লাইকোলিপিড থাকে।

স্ট্রোমা: আবরণীর ভেতরের কলয়েডধর্মী তরল অংশকে স্ট্রোমা বলে। এতে 70S রাইবোসোম, DNA, RNA এবং বহু এনজাইম থাকে। শর্করা তৈরির C₃ বা C₄ চক্র স্ট্রোমাতেই ঘটে।

থাইলাকয়েড ও গ্রানা: স্ট্রোমায় থাকা চ্যাপ্টা থালার মতো ঝিল্লিযুক্ত গঠন হলো থাইলাকয়েড। ১০–১০০টি থাইলাকয়েড স্তূপাকারে সাজলে গ্রানাম তৈরি হয়। পাশাপাশি গ্রানাকে যুক্ত করে স্ট্রোমা ল্যামেলি। গ্রানার থাইলাকয়েডে ক্লোরোফিল থাকে এবং আলোকনির্ভর সালোকসংশ্লেষণ ঘটে।

উদাহরণ: স্পাইরোজাইরার ক্লোরোপ্লাস্ট সর্পিলাকার। তাই স্পাইরোজাইরাকে দেখলে তার সর্পিল ক্লোরোপ্লাস্টের কথা মনে রাখতে হবে।

ক্লোরোপ্লাস্টের কাজ

  • সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করা।
  • বায়ুর CO₂ কোষে সংবদ্ধ করতে সাহায্য করা।
  • আলোকশক্তির সাহায্যে ADP থেকে ATP তৈরি করা।
  • প্রয়োজনীয় কিছু প্রোটিন ও নিউক্লিক অ্যাসিড তৈরি করা।
  • সালোকসংশ্লেষী ইলেকট্রন পরিবহন ও ফটোরেসপিরেশনে অংশ নেওয়া।
শিক্ষকের টিপস: “স্ট্রোমা = শর্করা তৈরির স্থান” এবং “গ্রানা = আলোকপর্বের স্থান”—এইভাবে মনে রাখো। গ্রানা হলো থাইলাকয়েডের স্তূপ, আর ল্যামেলা হলো গ্রানাগুলোর সংযোগকারী অংশ।
পরীক্ষায় যেভাবে আসে: ক্লোরোপ্লাস্টের গঠন লিখলে আবরণী ঝিল্লি, স্ট্রোমা, থাইলাকয়েড, গ্রানা ও স্ট্রোমা ল্যামেলার নাম অবশ্যই লিখবে। স্ট্রোমা ও গ্রানার কাজ গুলিয়ে ফেলবে না।

দ্রুত যাচাই ১: ক্লোরোপ্লাস্টকে কোষের রান্নাঘর বলা হয় কেন?

উত্তর দেখোসালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে ক্লোরোপ্লাস্ট শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে বলে।

দ্রুত যাচাই ২: থাইলাকয়েডের স্তূপকে কী বলা হয়?

উত্তর দেখোথাইলাকয়েডের স্তূপকে গ্রানাম বলা হয়; বহুবচনে গ্রানা।

বিষয় 4

পারঅক্সিসোম (Peroxisome)

কোষের ভেতরে বিপাকীয় ক্রিয়ার ফলে কিছু ক্ষতিকর পদার্থ তৈরি হয়। এর মধ্যে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড বা H2O2 অন্যতম। এটি কোষের জন্য বিষাক্ত। পারঅক্সিসোমের প্রধান কাজ হলো এই ক্ষতিকর পদার্থকে ভেঙে কোষকে রক্ষা করা। প্রাণীর কিডনি ও যকৃত কোষে পারঅক্সিসোম তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।

সংজ্ঞা: পারঅক্সিসোম হলো এক আবরণীবিশিষ্ট ক্ষুদ্র কোষীয় অঙ্গাণু, যার ভেতরে প্রধানত ক্যাটালেজ (catalase) এনজাইম থাকে এবং এটি H2O2-কে পানি ও অক্সিজেনে পরিণত করে।

গঠন ও উৎপত্তি

পারঅক্সিসোম একটি আবরণী দ্বারা আবৃত। এর ব্যাস সাধারণত ০.২–১.৭ μm। ভেতরের অংশ দানাদার প্রকৃতির এবং সেখানে ডিম্বাকার বা দানার মতো স্ফটিক এনজাইম জমা থাকে। এর প্রধান এনজাইম হলো ক্যাটালেজ।

অমসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের বহির্মুখী স্ফীত অংশ বা আউটপকেটিং থেকে পারঅক্সিসোম তৈরি হয়। একে মাইক্রোসোম (microsome) নামেও অভিহিত করা হয়। ১৯৬৭ সালে বেলজিয়ামের সাইটোলজিস্ট ক্রিশ্চিয়ান দ্য দুভ (Christian de Duve) কোষের সাইটোপ্লাজম থেকে পারঅক্সিসোম আবিষ্কার করেন।

কাজটি কীভাবে ঘটে?

  1. কোষের বিভিন্ন বিপাকীয় ক্রিয়ায় H2O2 তৈরি হতে পারে।
  2. H2O2 কোষের জন্য বিষাক্ত হওয়ায় এটি পারঅক্সিসোমে প্রবেশ করে।
  3. পারঅক্সিসোমের ক্যাটালেজ এনজাইম H2O2-এর ওপর কাজ করে।
  4. H2O2 ভেঙে পানি ও অক্সিজেন তৈরি হয়।
  5. ফলে বিষাক্ত পদার্থ দূর হয় এবং কোষ সুরক্ষিত থাকে।

রাসায়নিক সমীকরণটি হলো:

2H2O2 → 2H2O + O2
হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড → পানি + অক্সিজেন
পারঅক্সিসোমে H₂O₂ ভাঙন1H₂O₂ তৈরি2ক্যাটালেজএনজাইমের ক্রিয়া3H₂O ও O₂ উৎপন্ন4কোষ সুরক্ষিত
ক্যাটালেজ এনজাইম H₂O₂-কে বিষমুক্ত পদার্থে পরিণত করে।
উদাহরণ: কিডনি ও যকৃত কোষে বিপাকীয় ক্রিয়া বেশি হওয়ায় সেখানে পারঅক্সিসোমও বেশি থাকে। এসব পারঅক্সিসোমের ক্যাটালেজ এনজাইম H2O2-কে 2H2O ও O2-এ রূপান্তর করে।

পারঅক্সিসোম কোষে অক্সিজেনের ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। অক্সিজেন কোষের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও অতিরিক্ত অক্সিজেন ক্ষতিকর হতে পারে। এ ছাড়া কো-এনজাইম NAD পুনরুৎপাদন এবং DNA ও RNA-এর নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষার ভাঙা ও পুনর্ব্যবহারে পারঅক্সিসোমের ভূমিকা রয়েছে।

শিক্ষকের টিপস: পারঅক্সিসোম মনে রাখবে—“পারঅক্সিসোম পারঅক্সাইড পরিষ্কার করে।” এর প্রধান এনজাইম ক্যাটালেজ; আর ক্যাটালেজের কাজ হলো H2O2 ভাঙা।
পরীক্ষায় যেভাবে আসে: পারঅক্সিসোমের প্রধান এনজাইম কী?—ক্যাটালেজ। H2O2 কীভাবে ভাঙে?—2H2O2 → 2H2O + O2।

দ্রুত যাচাই

১। পারঅক্সিসোম কোন এনজাইমের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত?

উত্তর দেখোক্যাটালেজ এনজাইমের জন্য।

২। পারঅক্সিসোমে H2O2 ভেঙে কী উৎপন্ন হয়?

উত্তর দেখোপানি (H2O) ও অক্সিজেন (O2) উৎপন্ন হয়।

বিষয় 5

নিউক্লিয়াস (Nucleus)

আজ আমরা কোষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু নিউক্লিয়াস সম্পর্কে জানব। নিউক্লিয়াস সাধারণত কোষের মাঝখানে থাকে। কোষ বড় হলে এটি কোষের এক পাশে সরে যেতে পারে। নিউক্লিয়াস কোষের সব ধরনের জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। তাই একে কোষের মস্তিষ্ক বা প্রাণকেন্দ্র বলা হয়।

সংজ্ঞা: প্রকৃত কোষে যে অঙ্গাণু দ্বিস্তরবিশিষ্ট আবরণী দ্বারা আবৃত এবং যার মধ্যে নিউক্লিওপ্লাজম ও ক্রোমাটিন জালিকা থাকে, তাকে নিউক্লিয়াস বলে।

ইংরেজ বিজ্ঞানী Robert Brown ১৮৩১ সালে অর্কিড উদ্ভিদকোষে নিউক্লিয়াস আবিষ্কার ও নামকরণ করেন। সাধারণত প্রতি কোষে একটি নিউক্লিয়াস থাকে। তবে কিছু কোষে নিউক্লিয়াস থাকে না এবং কিছু কোষে একাধিক নিউক্লিয়াস থাকতে পারে।

নিউক্লিয়াসের গঠন

একটি আদর্শ নিউক্লিয়াস প্রধানত চারটি অংশ নিয়ে গঠিত। এখন একে ধাপে ধাপে দেখি।

  1. নিউক্লিয়ার এনভেলপ: নিউক্লিয়াসটি দুটি আবরণী বা দ্বিস্তরীয় ঝিল্লি দ্বারা আবৃত থাকে। এতে অসংখ্য নিউক্লিয়ার ছিদ্র থাকে। এই ছিদ্রের মাধ্যমে নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজমের মধ্যে বিভিন্ন পদার্থের আদান-প্রদান হয়।
  2. নিউক্লিওপ্লাজম: নিউক্লিয়ার এনভেলপের ভেতরের ঘন ও দানাদার তরল পদার্থকে নিউক্লিওপ্লাজম বলে। এতে ক্রোমাটিন জালিকা ও নিউক্লিওলাস অবস্থান করে।
  3. নিউক্লিওলাস: নিউক্লিয়াসের ভেতরে থাকা ছোট, ঘন ও গোলাকার বস্তু হলো নিউক্লিওলাস। এতে প্রোটিন ও RNA থাকে। এটি বিভিন্ন ধরনের RNA সংশ্লেষণে সাহায্য করে।
  4. ক্রোমাটিন তন্তু: DNA এবং সংশ্লিষ্ট প্রোটিনের সমন্বয়ে ক্রোমাটিন তন্তু গঠিত। কোষ বিভাজনের সময় এগুলো কুণ্ডলিত ও মোটা হয়ে দৃশ্যমান ক্রোমোজোমে পরিণত হয়। ক্রোমোজোমে জিন থাকে, যা জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে।
উদাহরণ: Vaucheria, Botrydium, Sphaeroplea প্রভৃতি শৈবাল এবং Penicillium ছত্রাকে একাধিক নিউক্লিয়াস থাকে। বহু নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট এ ধরনের গঠনকে কোয়েনোসাইট (Coenocyte) বলা হয়।

নিউক্লিয়াসের কাজ

  • কোষের সব জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
  • ক্রোমোজোমের মাধ্যমে বংশগত বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ করে।
  • RNA ও প্রোটিন সংশ্লেষণে সাহায্য করে।
  • কোষ বিভাজনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে।
শিক্ষকের টিপস: মনে রাখবে—“এনভেলপ ঘিরে রাখে, নিউক্লিওপ্লাজম ধারণ করে, নিউক্লিওলাস RNA তৈরি করে, ক্রোমাটিন বংশগতি বহন করে।”
পরীক্ষায় যেভাবে আসে: নিউক্লিয়াসের চারটি অংশের নাম, নিউক্লিয়ার ছিদ্রের কাজ, নিউক্লিওলাসের কাজ এবং ক্রোমাটিন কীভাবে ক্রোমোজোমে পরিণত হয়—এসব প্রশ্ন ভালোভাবে প্রস্তুত করবে।

মনে রাখবে: নিউক্লিয়াস হলো কোষের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র, আর ক্রোমোজোম হলো বংশগত বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক।

দ্রুত যাচাই ১: নিউক্লিয়াসকে কোষের মস্তিষ্ক বলা হয় কেন?

উত্তর দেখোনিউক্লিয়াস কোষের সব ধরনের জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে বলে একে কোষের মস্তিষ্ক বলা হয়।

দ্রুত যাচাই ২: নিউক্লিয়াসের কোন অংশে জিন থাকে?

উত্তর দেখোক্রোমোজোমে জিন থাকে। ক্রোমোজোম ক্রোমাটিন তন্তু থেকে তৈরি হয়।

উদাহরণ ও সমাধান

এই অধ্যায়ে সংখ্যাগত হিসাবের চেয়ে অঙ্গাণুর গঠন, বৈশিষ্ট্য ও কাজ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিচের উদাহরণগুলো পরীক্ষায় লেখার উপযোগী worked model answer হিসেবে দেওয়া হলো। প্রতিটি উত্তরে প্রথমে পরিচয়, পরে গঠন ও শেষে কাজ লিখবে।

উদাহরণ ১: ক্লোরোপ্লাস্টকে কোষের রান্নাঘর বলা হয় কেন?

  1. পরিচয়: ক্লোরোপ্লাস্ট উদ্ভিদকোষের একটি সবুজ, দ্বিস্তরবিশিষ্ট অঙ্গাণু। এতে ক্লোরোফিল থাকে।
  2. গঠন: এটি বহিঃঝিল্লি, অন্তঃঝিল্লি, স্ট্রোমা, থাইলাকয়েড, গ্রানা ও স্ট্রোমা ল্যামেলি নিয়ে গঠিত। গ্রানায় ক্লোরোফিল থাকে এবং স্ট্রোমায় শর্করা তৈরির এনজাইম থাকে।
  3. প্রক্রিয়া: ক্লোরোফিল সূর্যালোক শোষণ করে। সেই শক্তি ব্যবহার করে সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি থেকে শর্করা তৈরি হয়।
  4. সিদ্ধান্ত: খাদ্য বা শর্করা প্রস্তুত করার জন্য ক্লোরোপ্লাস্টকে কোষের রান্নাঘর (kitchen of cell) বা শর্করা জাতীয় খাদ্যের কারখানা বলা হয়।

চূড়ান্ত উত্তর: ক্লোরোপ্লাস্ট সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে; তাই এটি কোষের রান্নাঘর।

উদাহরণ ২: ক্লোরোপ্লাস্টের গঠন ও কাজের আন্তঃসম্পর্ক ব্যাখ্যা করো।

  1. আবরণী: ক্লোরোপ্লাস্ট দুই স্তরবিশিষ্ট আংশিক অপ্রবেশ্য ঝিল্লি দ্বারা আবৃত। এই আবরণী ভেতরের উপাদানকে রক্ষা করে এবং পদার্থের প্রবেশ ও বের হওয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
  2. স্ট্রোমা: স্ট্রোমায় 70S রাইবোজোম, DNA, RNA এবং বিভিন্ন এনজাইম থাকে। শর্করা তৈরির C₃ বা C₄ চক্র এখানে সংঘটিত হয়।
  3. গ্রানা: অনেকগুলো থাইলাকয়েড স্তূপাকারে যুক্ত হয়ে গ্রানা তৈরি করে। থাইলাকয়েডে ক্লোরোফিল ও অন্যান্য রঞ্জক থাকে। সালোকসংশ্লেষণের আলোকনির্ভর অংশ এখানে ঘটে।
  4. স্ট্রোমা ল্যামেলি: দুটি গ্রানাকে সংযুক্ত করে। ফলে গ্রানাগুলোর মধ্যে সংযোগ বজায় থাকে।
  5. সিদ্ধান্ত: আবরণী রক্ষা করে, গ্রানা আলোকশক্তি গ্রহণ করে এবং স্ট্রোমা শর্করা তৈরিতে সাহায্য করে।

চূড়ান্ত উত্তর: ক্লোরোপ্লাস্টের প্রতিটি অংশ নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে; তাই এর অন্তর্গঠনই কর্মবিভাগের ভিত্তি।

উদাহরণ ৩: সেন্ট্রিওলের গঠন ও কাজ লেখো।

  1. অবস্থান ও প্রকৃতি: সেন্ট্রিওল প্রধানত প্রাণিকোষে এবং কিছু উদ্ভিদকোষে নিউক্লিয়াসের কাছে থাকে। এটি আবরণীবিহীন এবং এতে DNA বা RNA থাকে না।
  2. আকার: এটি নলাকার বা বেলনাকার। এর ব্যাস প্রায় ০.১৫–০.২৫ μm। সাধারণত দুটি সেন্ট্রিওল জোড়ায় থাকে; একজোড়াকে ডিপ্লোসোম বলে।
  3. গঠন: প্রতিটি সেন্ট্রিওলে একটি গহ্বরকে ঘিরে ৯টি গুচ্ছ প্রান্তীয় মাইক্রোটিউবিউল থাকে। প্রতিটি গুচ্ছে A, B ও C নামের তিনটি উপনালিকা থাকে।
  4. কাজ: কোষ বিভাজনের সময় সেন্ট্রিওল তন্তুযুক্ত স্পিন্ডল গঠনে সাহায্য করে। এ ছাড়া সিলিয়া ও ফ্ল্যাজেলা সৃষ্টিতেও ভূমিকা রাখে।
  5. সিদ্ধান্ত: সেন্ট্রিওল কোষ বিভাজন ও চলন-সম্পর্কিত গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

চূড়ান্ত উত্তর: সেন্ট্রিওল ৯টি ট্রিপলেট মাইক্রোটিউবিউলযুক্ত আবরণীবিহীন নলাকার অঙ্গাণু; এটি স্পিন্ডল, সিলিয়া ও ফ্ল্যাজেলা গঠনে সাহায্য করে।

উদাহরণ ৪: নিউক্লিয়াসকে কোষের মস্তিষ্ক বলা হয় কেন?

  1. পরিচয়: নিউক্লিয়াস দ্বিস্তরবিশিষ্ট আবরণী দ্বারা আবৃত অঙ্গাণু। এতে নিউক্লিওপ্লাজম, নিউক্লিওলাস ও ক্রোমাটিন তন্তু থাকে।
  2. নিয়ন্ত্রণ: নিউক্লিয়াস কোষের সব ধরনের জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
  3. বংশগতি: এতে ক্রোমোসোম ও জিন থাকে। এগুলো বংশপরম্পরায় জীবের বৈশিষ্ট্য বহন করে।
  4. সংশ্লেষণ: নিউক্লিয়াস RNA ও প্রোটিন সংশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  5. সিদ্ধান্ত: নিয়ন্ত্রণ, বংশগতি ও সংশ্লেষণে কেন্দ্রীয় ভূমিকার জন্য নিউক্লিয়াসকে কোষের মস্তিষ্ক বা প্রাণকেন্দ্র বলা হয়।

চূড়ান্ত উত্তর: নিউক্লিয়াস কোষের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে এবং বংশগত তথ্য ধারণ করে; তাই এটি কোষের মস্তিষ্ক।

সংজ্ঞা, সূত্র ও সারসংক্ষেপ

পরিভাষা সংজ্ঞা বা সূত্র কখন/কাজে ব্যবহার
ক্লোরোপ্লাস্ট সবুজ, দ্বিস্তরী আবরণীবেষ্টিত প্লাস্টিড; “কোষের রান্নাঘর” সালোকসংশ্লেষণ ও শর্করা প্রস্তুতিতে
স্ট্রোমা ক্লোরোপ্লাস্টের তরল, কলয়েডধর্মী мат্রিক্স; এতে DNA, RNA, 70S রাইবোজোম ও এনজাইম থাকে C₃ বা C₄ চক্রে শর্করা তৈরিতে
থাইলাকয়েড ও গ্রানা থালার মতো ঝিল্লি; থাইলাকয়েডের স্তূপ হলো গ্রানাম আলোক-নির্ভর সালোকসংশ্লেষণে
স্ট্রোমা ল্যামেলা দুটি গ্রানাকে যুক্তকারী সূক্ষ্ম নালিকা গ্রানার মধ্যে সংযোগ রক্ষায়
সেন্ট্রিওল ৯টি ট্রিপলেট মাইক্রোটিউবিউলযুক্ত, আবরণীবিহীন নল স্পিন্ডল, সিলিয়া ও ফ্ল্যাজেলা গঠনে
সাইটোস্কেলিটন মাইক্রোটিউবিউল, মাইক্রোফিলামেন্ট ও ইন্টারমিডিয়েট ফিলামেন্টের জালিকা কোষের আকৃতি, দৃঢ়তা ও চলনে
পারঅক্সিসোম Catalase-যুক্ত এক আবরণী অঙ্গাণু; 2H₂O₂ → 2H₂O + O₂ বিষাক্ত হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড অপসারণে
গ্লাইঅক্সিসোম বীজের লিপিড-সঞ্চয়ী কোষের অঙ্গাণু লিপিডকে শর্করায় রূপান্তরে
কোষ গহ্বর টোনোপ্লাস্ট-বেষ্টিত কোষরসপূর্ণ গহ্বর বর্জ্য ধারণ, pH ও পানির চাপ নিয়ন্ত্রণে
নিউক্লিয়াস নিউক্লিয়ার এনভেলপ, নিউক্লিওপ্লাজম, নিউক্লিওলাস ও ক্রোমাটিনযুক্ত প্রাণকেন্দ্র কোষের কাজ ও বংশগত বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণে
ক্রোমাটিন ও ক্রোমোজোম DNA ও প্রোটিনের সমন্বয়ে ক্রোমাটিন; ঘনীভূত হলে ক্রোমোজোম বংশগত বৈশিষ্ট্য বহনে
মূল কথা
  • ক্লোরোপ্লাস্টের গ্রানায় আলোক-নির্ভর এবং স্ট্রোমায় কার্বন বিজারণের ধাপ ঘটে।
  • ক্লোরোপ্লাস্টে ক্লোরোফিল-a প্রায় ৭০% এবং ক্লোরোফিল-b প্রায় ৩০%।
  • সেন্ট্রিওল সাধারণত জোড়ায় থাকে; এক জোড়াকে ডিপ্লোসোম বলে।
  • মাইক্রোটিউবিউলসে ১৩টি প্রোটোফিলামেন্ট থাকে এবং এগুলো টিউবিউলিন-নির্মিত।
  • মাইক্রোফিলামেন্টকে অ্যাকটিন ফিলামেন্টও বলা হয়।
  • নিউক্লিয়াসের নিউক্লিওলাস RNA ও রাইবোজোম-সম্পর্কিত কাজে গুরুত্বপূর্ণ।
  • নিউক্লিয়ার এনভেলপের ছিদ্র দিয়ে নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজমের মধ্যে পরিবহন হয়।
  • গ্লাইঅক্সিসোম অঙ্কুরোদগমের সময় সঞ্চিত লিপিডকে শর্করায় রূপান্তর করে।

পরীক্ষা প্রস্তুতি

ক. বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ)

প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো।

  1. ক্লোরোপ্লাস্টকে কোষের রান্নাঘর বলা হয় কেন?
    ক) এতে কোষরস সঞ্চিত থাকে
    খ) এতে খাদ্য সংশ্লেষিত হয়
    গ) এতে ক্রোমোজোম থাকে
    ঘ) এতে কোষ বিভাজন ঘটে
  2. উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদকোষে সাধারণত কতটি ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে?
    ক) ১–৫টি
    খ) ৫–১০টি
    গ) ১০–৪০টি
    ঘ) ৪০–৮০টি
  3. ক্লোরোপ্লাস্টের কোন অংশে C₃ বা C₄ চক্র সংঘটিত হয়?
    ক) গ্রানাম
    খ) থাইলাকয়েড
    গ) স্ট্রোমা
    ঘ) স্ট্রোমা ল্যামেলি
  4. দুটি পাশাপাশি গ্রানাকে সংযোগকারী নালিকাকে কী বলে?
    ক) থাইলাকয়েড
    খ) স্ট্রোমা ল্যামেলি
    গ) কোয়ান্টোসোম
    ঘ) সেন্ট্রোস্ফিয়ার
  5. সেন্ট্রিওলের প্রাচীর সাধারণত কয়টি ট্রিপলেট অনুনালিকা নিয়ে গঠিত?
    ক) ৬টি
    খ) ৭টি
    গ) ৯টি
    ঘ) ১৩টি
  6. মাইক্রোটিউবিউলসের প্রতিটি নল সাধারণত কতটি প্রোটোফিলামেন্ট নিয়ে গঠিত?
    ক) ৯টি
    খ) ১০টি
    গ) ১৩টি
    ঘ) ৩০টি
  7. পারঅক্সিসোমে থাকা প্রধান এনজাইম কোনটি?
    ক) অ্যামাইলেজ
    খ) ক্যাটালেজ
    গ) পেপসিন
    ঘ) লাইপেজ
  8. নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরে জালিকার মতো তন্তুকে কী বলা হয়?
    ক) নিউক্লিওপ্লাজম
    খ) নিউক্লিওলাস
    গ) ক্রোমাটিন তন্তু
    ঘ) টোনোপ্লাস্ট

খ. সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

  1. ক্লোরোপ্লাস্টের স্ট্রোমা কী? এর দুটি উপাদানের নাম লেখো।
  2. সেন্ট্রিওল ও ডিপ্লোসোম বলতে কী বোঝ?
  3. মাইক্রোফিলামেন্টের গঠন ও দুটি কাজ লেখো।
  4. পারঅক্সিসোম কীভাবে কোষকে বিষাক্ত হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড থেকে রক্ষা করে?

গ. সৃজনশীল প্রশ্ন

একজন শিক্ষার্থী অণুবীক্ষণ যন্ত্রে একটি সবুজ উদ্ভিদকোষ পর্যবেক্ষণ করল। সে কোষে দ্বিস্তরবিশিষ্ট আবরণীযুক্ত সবুজ অঙ্গাণু, স্ট্রোমা, গ্রানা এবং থাইলাকয়েড দেখতে পেল। একই কোষে একটি সুস্পষ্ট নিউক্লিয়াস ও বড় কোষগহ্বরও ছিল। শিক্ষক আরও জানালেন, কোষের কিছু অঙ্গাণুতে নিজস্ব DNA ও রাইবোজোম থাকে এবং কিছু অঙ্গাণু কোষের ক্ষতিকর পদার্থ ভেঙে ফেলে।

  1. ক্লোরোপ্লাস্ট কী? [১]
  2. ক্লোরোপ্লাস্টের স্ট্রোমা ও গ্রানার মধ্যে পার্থক্য ব্যাখ্যা করো। [২]
  3. উদ্দীপকে উল্লিখিত সবুজ অঙ্গাণুটির গঠন কীভাবে সালোকসংশ্লেষণে সাহায্য করে—ব্যাখ্যা করো। [৩]
  4. উদ্দীপকের কোষে নিউক্লিয়াস, কোষগহ্বর ও পারঅক্সিসোমের সমন্বিত ভূমিকা বিশ্লেষণ করো। [৪]

উত্তর

ক. MCQ-এর সঠিক উত্তর

প্রশ্ন উত্তর কারণ
১ খ ক্লোরোপ্লাস্টে সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে শর্করা তৈরি হয়।
২ গ উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদকোষে সাধারণত ১০–৪০টি ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে।
৩ গ শর্করা উৎপাদনের C₃ বা C₄ চক্র স্ট্রোমায় ঘটে।
৪ খ স্ট্রোমা ল্যামেলি গ্রানাগুলোকে যুক্ত করে।
৫ গ সেন্ট্রিওলে ৯টি ট্রিপলেট অনুনালিকা থাকে।
৬ গ প্রতিটি মাইক্রোটিউবিউলে ১৩টি প্রোটোফিলামেন্ট থাকে।
৭ খ পারঅক্সিসোমের প্রধান এনজাইম ক্যাটালেজ।
৮ গ ইন্টারফেজে DNA ও প্রোটিনের জালিকাকে ক্রোমাটিন তন্তু বলে।

খ. সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের মডেল উত্তর

১. আবরণী ঝিল্লি দ্বারা আবৃত কলয়েডধর্মী তরল ম্যাট্রিক্সকে স্ট্রোমা বলে। এতে 70S রাইবোজোম, DNA, RNA এবং অসংখ্য এনজাইম থাকে।

২. নিউক্লিয়াসের কাছে অবস্থিত একটি নলাকার গঠন হলো সেন্ট্রিওল। দুটি সেন্ট্রিওল জোড়ায় জোড়ায় অবস্থান করলে তাদের একত্রে ডিপ্লোসোম বলা হয়।

৩. মাইক্রোফিলামেন্ট হলো অ্যাকটিন ও মায়োসিন প্রোটিননির্মিত সরু, দৃঢ় ও সংকোচনশীল তন্তু। এগুলো কোষের আকৃতি ও দৃঢ়তা বজায় রাখে এবং সাইটোপ্লাজমীয় চলন, ফ্যাগোসাইটোসিস ও পিনোসাইটোসিসে সাহায্য করে।

৪. পারঅক্সিসোমে ক্যাটালেজ এনজাইম থাকে। এই এনজাইম বিষাক্ত 2H2O2-কে 2H2O + O2-এ ভেঙে দেয়। ফলে পানি ও অক্সিজেন উৎপন্ন হয় এবং কোষ হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পায়।

গ. সৃজনশীল প্রশ্নের মডেল উত্তর

ক. ক্লোরোপ্লাস্ট হলো উদ্ভিদকোষের দ্বিস্তরবিশিষ্ট আবরণীযুক্ত সবুজ অঙ্গাণু, যেখানে সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে শর্করা তৈরি হয়।

খ. স্ট্রোমা হলো ক্লোরোপ্লাস্টের আবরণীর ভেতরের তরল ম্যাট্রিক্স। এতে এনজাইম, DNA, RNA ও 70S রাইবোজোম থাকে। অন্যদিকে, গ্রানা হলো বহু থাইলাকয়েডের স্তূপ। থাইলাকয়েডে ক্লোরোফিল, ক্যারোটিন, লিপিড ও এনজাইম থাকে। তাই স্ট্রোমা মূলত শর্করা তৈরির চক্রের স্থান, আর গ্রানা আলোকশক্তি গ্রহণের সঙ্গে যুক্ত।

গ. ক্লোরোপ্লাস্টের দ্বিস্তরবিশিষ্ট আবরণী অঙ্গাণুটিকে সুরক্ষা দেয়। এর স্ট্রোমায় C₃ বা C₄ চক্র সংঘটিত হয়ে শর্করা তৈরি হয়। গ্রানার থাইলাকয়েডে ক্লোরোফিল ও অন্যান্য রঞ্জক থাকে, যা সূর্যালোক শোষণ করে। থাইলাকয়েড মেমব্রেনে ফটোসিনথেটিক ইউনিট ও ATP-synthase থাকে। এগুলোর সাহায্যে আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয় এবং ADP থেকে ATP তৈরি হয়। স্ট্রোমা ল্যামেলি বিভিন্ন গ্রানাকে যুক্ত রাখে। ফলে ক্লোরোপ্লাস্টের বিভিন্ন অংশ সমন্বিতভাবে সালোকসংশ্লেষণ সম্পন্ন করতে পারে।

ঘ. নিউক্লিয়াস কোষের সব ধরনের জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। এতে ক্রোমোজোম ও জিন থাকে, যা বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন করে এবং RNA ও প্রোটিন সংশ্লেষণে ভূমিকা রাখে। নিউক্লিয়ার এনভেলপের ছিদ্রের মাধ্যমে নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজমের মধ্যে পদার্থের আদান-প্রদান হয়।

কোষগহ্বর টোনোপ্লাস্ট দ্বারা আবৃত থাকে এবং এর ভেতরে কোষরস, পানি, লবণ, শর্করা, বিভিন্ন যৌগ ও রঞ্জক থাকে। এটি বর্জ্য পদার্থ ধারণ করে, কোষের pH নিয়ন্ত্রণ করে এবং অভ্যন্তরীণ পানির চাপ বজায় রাখে।

পারঅক্সিসোম ক্যাটালেজ এনজাইমের সাহায্যে 2H2O2 → 2H2O + O2 বিক্রিয়া ঘটায়। তাই এটি বিষাক্ত হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ভেঙে কোষকে রক্ষা করে এবং অক্সিজেনের ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। সুতরাং নিউক্লিয়াস নিয়ন্ত্রণ ও বংশগতি, কোষগহ্বর সঞ্চয় ও চাপ নিয়ন্ত্রণ, এবং পারঅক্সিসোম বিষমুক্তকরণের কাজ করে—তিনটি অঙ্গাণু মিলেই কোষের স্বাভাবিক জীবনক্রিয়া বজায় রাখে।

সাধারণ ভুল ও রিভিশন

ভুল সঠিক
ক্লোরোপ্লাস্টকে সব রঙিন প্লাস্টিড বলা। ক্লোরোপ্লাস্ট সবুজ; ক্রোমোপ্লাস্ট রঙিন এবং লিউকোপ্লাস্ট বর্ণহীন।
থাইলাকয়েড ও গ্রানামকে একই মনে করা। অনেক থাইলাকয়েডের স্তূপ হলো গ্রানাম; গ্রানার সংযোগকারী অংশ স্ট্রোমা ল্যামেলা।
সেন্ট্রিওল আবরণীযুক্ত এবং DNA বহন করে লেখা। সেন্ট্রিওল অনাবৃত; এতে DNA বা RNA থাকে না।
মাইক্রোটিউবিউল ও মাইক্রোফিলামেন্টের কাজ গুলিয়ে ফেলা। মাইক্রোটিউবিউল স্পিন্ডল ও পরিবহনে, মাইক্রোফিলামেন্ট সংকোচন ও কোষীয় চলনে সাহায্য করে।
পারঅক্সিসোমে H2O2 জমে থাকে বলা। ক্যাটালেজ এনজাইম 2H2O2 → 2H2O + O2 করে।
টোনোপ্লাস্টকে কোষপ্রাচীর বলা। টোনোপ্লাস্ট হলো কোষগহ্বরের চারপাশের অর্ধভেদ্য পর্দা।
ক্রোমাটিন ও ক্রোমোজোমকে সম্পূর্ণ আলাদা বস্তু ভাবা। ক্রোমাটিন ঘনীভূত ও কুণ্ডলিত হলে দৃশ্যমান ক্রোমোজোম গঠিত হয়।
নিউক্লিওপ্লাজম ও নিউক্লিয়াসকে একই বলা। নিউক্লিয়াসের ভেতরের ঘন তরল হলো নিউক্লিওপ্লাজম।

রিভিশন চেকলিস্ট

  • ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা, আকৃতি, আকার ও উৎপত্তি ব্যাখ্যা করতে পারি।
  • আবরণী, স্ট্রোমা, থাইলাকয়েড, গ্রানা ও ল্যামেলার সম্পর্ক বলতে পারি।
  • ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট ও লিউকোপ্লাস্টের পার্থক্য লিখতে পারি।
  • সেন্ট্রিওলের গঠন, রাসায়নিক উপাদান ও কাজ লিখতে পারি।
  • তিন ধরনের কোষীয় কঙ্কালের গঠন ও কাজ তুলনা করতে পারি।
  • পারঅক্সিসোম ও গ্লাইঅক্সিসোমের কাজ ব্যাখ্যা করতে পারি।
  • কোষগহ্বরের টোনোপ্লাস্ট ও কোষরস শনাক্ত করতে পারি।
  • নিউক্লিয়াসের চারটি অংশ চিত্রসহ চিহ্নিত করতে পারি।
  • ক্রোমাটিন, ক্রোমোজোম, নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিওপ্লাজমের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে পারি।

নিয়মিত অনুশীলন করলে এই অধ্যায়ের সংজ্ঞা, গঠন ও কাজভিত্তিক প্রশ্নে অবশ্যই ভালো করবে।

⚡ Related Tools — Try These Next
📋
MCQ Practice
Topic-wise timed tests
🏛
University Guide
All 22 universities
🧑
Ask Kabir
Expert advisor
🏆
Scholarships
Find funding
Browse all 18+ tools →
🎓 Planning to apply? Browse our complete university admission guide → with requirements, fees, and cutoffs for all 22 major universities in Bangladesh.

সম্পর্কিত পোস্ট / Related posts

HSC
HSC

Admission Test Prep: অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন

ADMISSION TEST PREPARATION অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী How to use this sheet ★★★ = the par

HSC
HSC

Admission Test Prep: অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন

ADMISSION TEST PREPARATION অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী How to use this sheet ★★★ = the p

HSC
HSC

এইচএসসি সাজেশন: অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন / অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন / অধ্যায় ৩: কোষ রসায়ন

এইচএসসি সাজেশন (একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি) অধ্যায় ১: কোষ ও এর গঠন / অধ্যায় ২: কোষ বিভাজন / অধ্যায় ৩: কোষ রসায়ন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত

HSC
HSC

লেকচার শিট: অধ্যায় ১২: জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ

লেকচার শিট অধ্যায় ১২: জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পরিচিতি এই পাঠে যা শিখবে বাস্

HSC
HSC

লেকচার শিট: অধ্যায় ১১: জীবপ্রযুক্তি

লেকচার শিট অধ্যায় ১১: জীবপ্রযুক্তি একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পরিচিতি এই পাঠে যা শিখবে কৃষিতে জিনপ্রযুক্তির ব্

HSC
HSC

লেকচার শিট: অধ্যায় ১০: উদ্ভিদ প্রজনন

লেকচার শিট অধ্যায় ১০: উদ্ভিদ প্রজনন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী · উচ্চমাধমিক জীববিজ্ঞান ১ম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পরিচিতি এই পাঠে যা শিখবে ডিম্বকের প্রধান অংশ এব

🎓
আরও লেকচার শিট, মডেল টেস্ট ও প্র্যাকটিস — AlphaGenEduMore lecture sheets, board questions and MCQ practice for every class, free on alphagenedu.com
AlphaGenEdu-তে যান →
Kabir — Ask me about admissions! 🎓

AdmissionPaths Support

🟢 Online · How can we help?
🧑
Ask Kabir
Admission advisor · 20+ yrs
💬
Live Support Chat
AI-powered · instant replies
🎫
Submit a Ticket
Response within 24 hours
❓
Browse FAQ
Quick answers
🤖
AdmissionPaths Support
🟢 AI-powered · replies instantly