🎉 3-Day Free Trial — All premium features unlocked, zero credit card required 📚 28+ Expert Guides published and growing every week
Back to Blog
Academic Planning

গণিত ষষ্ঠ শ্রেণী - LECTURE_SHEET - Attempt 1 - Saved on 2026-02-06 16:08:09

By admin 55 views
📚 স্বাভাবিক সংখ্যা ও ভগ্নীংশ
🎯 Learning Objectives
  • অঙ্কপাতনের মাধ্যমে স্বাভাবিক সংখ্যা গঠন করতে পারবে।
  • দেশীয় ও আন্তর্জাতিক রীতিতে সংখ্যায় কমা বসিয়ে পড়তে ও লিখতে পারবে।
  • মৌলিক সংখ্যা, যৌগিক সংখ্যা ও সহ-মৌলিক সংখ্যা চিহ্নিত করতে পারবে।
  • বিভাজ্যতার ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারবে ও ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৯ এবং ৮ দ্বারা বিভাজ্যতা যাচাই করতে পারবে।
  • স্বাভাবিক সংখ্যা, ভগ্নাংশ ও দশমিক সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা রাখতে পারবে (পাঠ্যপুস্তকের আলোকে)।

স্বাভাবিক সংখ্যা ও ভগ্নীংশ

অধ্যায় ১
অধ্যায় পরিচিতি ও Type মানচিত্র
অধ্যায় পরিচিতি ও Type মানচিত্র
এই অংশে যা শিখবে
Type-১: স্বাভাবিক সংখ্যা দিয়ে সম্পূর্ণ বস্তু গণনা
Type-২: সমান ভাগ থেকে ভগ্নাংশ নির্ণয়
Type-৩: লব ও হর চেনা
Type-৪: স্বাভাবিক সংখ্যা ও ভগ্নাংশের ব্যবহার
নিচের প্রশ্নগুলো অনুশীলনের জন্য। প্রতিটি সমাধানে প্রচলিত পদ্ধতি ও শর্টকাট—দুইভাবে ধারণাটি দেখানো হয়েছে।
Type-১ : স্বাভাবিক সংখ্যা দিয়ে গণনা
শর্টকাট পদ্ধতি
সম্পূর্ণ গণনাযোগ্য বস্তু গুনতে স্বাভাবিক সংখ্যা ব্যবহার করো: ১, ২, ৩, ৪, …
জেনে রাখুন: স্বাভাবিক সংখ্যা সম্পূর্ণ বস্তু, মানুষ, বই বা কলমের মোট সংখ্যা জানায়।
সমাধানকৃত উদাহরণ: একটি তাকের ওপর ৯টি বই আছে। বইয়ের সংখ্যা কীভাবে প্রকাশ করা হবে?
ধাপে ধাপে সমাধান
ধাপ ১: এখানে সম্পূর্ণ বই গোনা হচ্ছে।
ধাপ ২: মোট বইয়ের সংখ্যা ৯টি।
ধাপ ৩: তাই স্বাভাবিক সংখ্যা দিয়ে সংখ্যা লেখা হবে ৯।
∴ উত্তর: ৯টি বই।
অনুশীলন প্রশ্ন: একটি বাক্সে ১১টি পেন্সিল আছে। পেন্সিলের সংখ্যা কোন ধরনের সংখ্যা দিয়ে প্রকাশ করা হবে?
সমাধান: সম্পূর্ণ পেন্সিল গোনা হয়েছে, তাই স্বাভাবিক সংখ্যা ব্যবহার হবে। ∴ উত্তর: ১১।
সময়ের তুলনা: প্রচলিত পদ্ধতিতে বস্তু গুনে সংখ্যা লেখা হয়; শর্টকাটে শুধু মনে রাখলেই হয়—সম্পূর্ণ বস্তু গোনার সংখ্যা স্বাভাবিক সংখ্যা।
Type-২ : সমান ভাগ থেকে ভগ্নাংশ
শর্টকাট পদ্ধতি
ভগ্নাংশ = নেওয়া অংশের সংখ্যামোট সমান ভাগের সংখ্যা
জেনে রাখুন: ভগ্নাংশ লেখার আগে পূর্ণ জিনিসকে সমান ভাগে ভাগ করতে হয়।
সমাধানকৃত উদাহরণ: ১টি রুটি ৬টি সমান ভাগে কাটা হলো। তার ৫টি ভাগ নেওয়া হলো। ভগ্নাংশটি নির্ণয় করো।
ধাপে ধাপে সমাধান
ধাপ ১: পূর্ণ রুটিকে ৬টি সমান ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
ধাপ ২: মোট সমান ভাগের সংখ্যা = ৬।
ধাপ ৩: নেওয়া অংশের সংখ্যা = ৫।
ধাপ ৪: ভগ্নাংশ =
∴ উত্তর: অংশ।
অনুশীলন প্রশ্ন: একটি কাগজ ৫টি সমান ভাগে ভাগ করা হলো। ২টি ভাগ নেওয়া হলে ভগ্নাংশ কত?
সমাধান: প্রচলিত পদ্ধতিতে হর হবে মোট ভাগ ৫ এবং লব হবে নেওয়া ভাগ ২। শর্টকাটে, ভগ্নাংশ = । ∴ উত্তর: অংশ।
Type-৩ : লব ও হর চেনা
শর্টকাট পদ্ধতি
ভগ্নাংশের উপরের সংখ্যা = লব; নিচের সংখ্যা = হর। লব নেওয়া অংশের সংখ্যা এবং হর মোট সমান ভাগের সংখ্যা বোঝায়।
জেনে রাখুন: লব ও হর উল্টো লিখলে ভগ্নাংশের অর্থ বদলে যায়।
সমাধানকৃত উদাহরণ: ভগ্নাংশ -এ লব ও হর নির্ণয় করো।
ধাপে ধাপে সমাধান
ধাপ ১: ভগ্নাংশের উপরের সংখ্যা = ৪।
ধাপ ২: ভগ্নাংশের নিচের সংখ্যা = ৭।
ধাপ ৩: উপরের সংখ্যা নেওয়া অংশের সংখ্যা, তাই লব = ৪।
ধাপ ৪: নিচের সংখ্যা মোট সমান ভাগের সংখ্যা, তাই হর = ৭।
∴ উত্তর: লব ৪ এবং হর ৭।
অনুশীলন প্রশ্ন: ভগ্নাংশ -এ লব ও হর কোনটি?
সমাধান: প্রচলিত পদ্ধতিতে উপরের ও নিচের সংখ্যা আলাদা করি। শর্টকাটে উপরের সংখ্যা লব এবং নিচের সংখ্যা হর। ∴ উত্তর: লব ৩, হর ৮।
Type-৪ : স্বাভাবিক সংখ্যা ও ভগ্নাংশের ব্যবহার
শর্টকাট পদ্ধতি
সম্পূর্ণ পরিমাণ হলে স্বাভাবিক সংখ্যা, আর পূর্ণের সমান অংশ হলে ভগ্নাংশ ব্যবহার করো।
জেনে রাখুন: সংখ্যা দেখে আগে বোঝো—সম্পূর্ণ বস্তু গোনা হচ্ছে, নাকি কোনো পূর্ণ বস্তুর অংশ প্রকাশ করা হচ্ছে।
সমাধানকৃত উদাহরণ: একটি ঝুড়িতে ৪টি কমলা আছে এবং একটি কমলার অংশ নেওয়া হয়েছে। কোনটি স্বাভাবিক সংখ্যা এবং কোনটি ভগ্নাংশ?
ধাপে ধাপে সমাধান
ধাপ ১: ৪টি কমলা সম্পূর্ণ বস্তু গোনার তথ্য।
ধাপ ২: তাই ৪ হলো স্বাভাবিক সংখ্যা।
ধাপ ৩: একটি কমলার অংশ পূর্ণের একটি অংশ।
ধাপ ৪: তাই হলো ভগ্নাংশ।
∴ উত্তর: ৪ হলো স্বাভাবিক সংখ্যা এবং হলো ভগ্নাংশ।
অনুশীলন প্রশ্ন: ৬টি খাতা এবং একটি খাতার অংশ—এখানে কোনটি স্বাভাবিক সংখ্যা ও কোনটি ভগ্নাংশ?
সমাধান: ৬টি সম্পূর্ণ খাতা গোনা হয়েছে, তাই ৬ স্বাভাবিক সংখ্যা। একটি পূর্ণ খাতার অংশ, তাই এটি ভগ্নাংশ। ∴ উত্তর: ৬ স্বাভাবিক সংখ্যা এবং ভগ্নাংশ।
বহুনির্বাচনি অনুশীলন
প্রশ্ন ১: একটি খাতায় ১৮টি কলম আছে। প্রথমে ৭টি কলম নেওয়া হলো, তারপর আরও ৫টি কলম যোগ করা হলো। শেষ অবস্থা কোনটি সঠিকভাবে প্রকাশ করে?
ক ১৮ − ৭ + ৫ = ১৬
খ ১৮ + ৭ − ৫ = ২০
গ ১৮ − ৭ − ৫ = ৬
ঘ ১৮ + ৭ + ৫ = ৩০
উত্তর: ক ১৮ − ৭ + ৫ = ১৬
প্রশ্ন ২: একটি কেকের ৩/৪ অংশ ছিল। তার মধ্যে ১/৬ অংশ খাওয়া হলো। অবশিষ্ট অংশের সঠিক মান কোনটি?
ক ৫/১২
খ ৭/১২
গ ২/৩
ঘ ১/৪
উত্তর: খ ৭/১২
প্রশ্ন ৩: নিচের কোন ভগ্নাংশটি ২/৩ এবং ৩/৪—এই দুই ভগ্নাংশের মাঝখানে আছে?
ক ৫/৮
খ ৪/৫
গ ১/২
ঘ ৩/৫
উত্তর: ক ৫/৮
প্রশ্ন ৪: একটি থলিতে ১২টি মার্বেল ছিল। প্রতি বন্ধু সমান সংখ্যায় মার্বেল পেলে ৪ জন বন্ধু কতটি করে মার্বেল পাবে?
ক ২টি
খ ৩টি
গ ৪টি
ঘ ৬টি
উত্তর: খ ৩টি
প্রশ্ন ৫: একটি সংখ্যার সাথে ৬ যোগ করলে ফল ১৫ হয়। সংখ্যাটি কোনটি?
ক ৯
খ ২১
গ ১০
ঘ ৮
উত্তর: ক ৯

১.১ শিখনফল ও Type তালিকা

📌পাঠ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি
  • স্বাভাবিক সংখ্যা গণনার কাজে ব্যবহৃত হয় এবং সম্পূর্ণ গণনাযোগ্য বস্তুর সংখ্যা জানায়।
  • ভগ্নাংশ কোনো পূর্ণ জিনিসের সমান অংশের কতটি নেওয়া হয়েছে তা প্রকাশ করে।
  • ভগ্নাংশের অর্থ ঠিক রাখতে পূর্ণ জিনিসকে অবশ্যই সমান ভাগে ভাগ করতে হয়।
  • ভগ্নাংশের উপরের সংখ্যাকে লব বলা হয় এবং এটি নেওয়া অংশের সংখ্যা বোঝায়।
  • ভগ্নাংশের নিচের সংখ্যাকে হর বলা হয় এবং এটি মোট সমান ভাগের সংখ্যা বোঝায়।
  • লব ও হর উল্টো লিখলে ভগ্নাংশের অর্থ পরিবর্তিত হয়ে যায়।
  • কোনো সংখ্যা সম্পূর্ণ বস্তু গুনছে নাকি পূর্ণ বস্তুর অংশ প্রকাশ করছে, তা আগে নির্ধারণ করতে হয়।
  • সমান ভাগ না হলে প্রতিটি অংশের মান এক থাকে না এবং নির্দিষ্ট ভগ্নাংশ প্রকাশ করা সঠিক হয় না।
  • স্বাভাবিক সংখ্যা ও ভগ্নাংশ একই ধরনের সংখ্যা নয়, কারণ একটি সম্পূর্ণ গণনা এবং অন্যটি পূর্ণের অংশ নির্দেশ করে।
  • ভগ্নাংশ নির্ণয়ের সময় আগে মোট সমান ভাগ এবং পরে নেওয়া অংশ নির্ধারণ করলে লব ও হর সঠিকভাবে বসানো যায়।
  • বাস্তব পরিমাণের সঙ্গে ভগ্নাংশ মিলিয়ে দেখলে তা পূর্ণ জিনিসের কতটা অংশ নির্দেশ করছে তা বোঝা যায়।
  • কেনাকাটা, রান্না, মাপজোক এবং সময় ভাগ করে নেওয়ার কাজে স্বাভাবিক সংখ্যা ও ভগ্নাংশের সঠিক ব্যবহার প্রয়োজন।

১.২ মূল সূত্রাবলি

স্বাভাবিক সংখ্যা ও ভগ্নাংশের সূত্রাবলি
১. সম্পূর্ণ গণনাযোগ্য বস্তুর সংখ্যা = স্বাভাবিক সংখ্যা
২. ভগ্নাংশ = নেওয়া অংশের সংখ্যামোট সমান ভাগের সংখ্যা
৩. লব = ভগ্নাংশের উপরের সংখ্যা
৪. হর = ভগ্নাংশের নিচের সংখ্যা
৫. নেওয়া অংশের সংখ্যা = লব
৬. মোট সমান ভাগের সংখ্যা = হর
৭. ভগ্নাংশের উপরের সংখ্যা = লব
৮. ভগ্নাংশের নিচের সংখ্যা = হর
৯. ভগ্নাংশ সঠিক ⇐ পূর্ণ বস্তু → সমান ভাগ

১.৩ একক রূপান্তর ছক

📌 পাঠ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি
  • একক রূপান্তরের আগে দেওয়া রাশি কোন এককে আছে এবং কোন এককে প্রকাশ করতে হবে তা নির্ধারণ করতে হয়।
  • ১ ঘণ্টা = ৬০ মিনিট।
  • ১ মিনিট = ৬০ সেকেন্ড।
  • ঘণ্টাকে মিনিটে রূপান্তর করতে ৬০ দিয়ে গুণ করতে হয়।
  • মিনিটকে ঘণ্টায় রূপান্তর করতে ৬০ দিয়ে ভাগ করতে হয়।
  • মিনিটকে সেকেন্ডে রূপান্তর করতে ৬০ দিয়ে গুণ করতে হয়।
  • সেকেন্ডকে মিনিটে রূপান্তর করতে ৬০ দিয়ে ভাগ করতে হয়।
  • মি./সে. থেকে কি.মি./ঘণ্টায় রূপান্তরের নিয়ম হলো ×১৮
  • কি.মি./ঘণ্টা থেকে মি./সে. রূপান্তরের নিয়ম হলো ×১৮
  • রূপান্তরের সময় সংখ্যার সঙ্গে এককও পরিবর্তন করতে হয়, নইলে উত্তরটি অসম্পূর্ণ থাকে।
প্রদত্ত এককরূপান্তরিত একক
১ ঘণ্টা৬০ মিনিট
১ মিনিট৬০ সেকেন্ড
১ মি./সে.১৮ কি.মি./ঘণ্টা
১ কি.মি./ঘণ্টা১৮ মি./সে.

১.৪ Type-১ : মূল রাশি নির্ণয়

এই অংশে দূরত্ব, সময় ও গতিবেগের মধ্যে সম্পর্ক এবং প্রয়োজনীয় একক রূপান্তর ধাপে ধাপে নির্ণয় করা হবে। কোনো সমস্যায় আগে জানা রাশি, নির্ণেয় রাশি এবং একক চিহ্নিত করলে হিসাব সহজ হয়।

শর্টকাট পদ্ধতি
গতিবেগ = দূরত্ব ÷ সময়
সময় = দূরত্ব ÷ গতিবেগ
দূরত্ব = গতিবেগ × সময়
কি.মি./ঘণ্টা থেকে মি./সে. = × ১৮
মি./সে. থেকে কি.মি./ঘণ্টা = × ১৮

জেনে রাখুন: দূরত্ব ও সময়ের একক মিলিয়ে তারপর ভাগ করতে হয়। ট্রেন খুঁটি অতিক্রম করলে অতিক্রমের দূরত্ব ট্রেনের দৈর্ঘ্য; প্ল্যাটফর্ম অতিক্রম করলে দূরত্ব হয় ট্রেনের দৈর্ঘ্য ও প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্যের যোগফল। বিপরীত দিকে চললে বেগ যোগ হয়, একই দিকে চললে বেগের পার্থক্য নেওয়া হয়।

সমাধানকৃত উদাহরণ ১: গতিবেগ নির্ণয়
একটি পথের দৈর্ঘ্য ১৮০ কি.মি. এবং সময় ৪ ঘণ্টা। গতিবেগ নির্ণয় করো।
প্রচলিত পদ্ধতি:
ধাপ ১: দূরত্ব = ১৮০ কি.মি।
ধাপ ২: সময় = ৪ ঘণ্টা।
ধাপ ৩: গতিবেগ = দূরত্ব ÷ সময়।
ধাপ ৪: গতিবেগ = ১৮০ ÷ ৪ = ৪৫ কি.মি./ঘণ্টা।
∴ উত্তর: ৪৫ কি.মি./ঘণ্টা।
শর্টকাটে: ১৮০ কে ৪ দিয়ে ভাগ করলেই সরাসরি ৪৫ কি.মি./ঘণ্টা পাওয়া যায়। তাই সময় কম লাগে।
সমাধানকৃত উদাহরণ ২: একক রূপান্তর
১০ মি./সে. কে কি.মি./ঘণ্টায় প্রকাশ করো।
প্রচলিত পদ্ধতি:
ধাপ ১: মি./সে. থেকে কি.মি./ঘণ্টায় যেতে ১৮ দিয়ে গুণ করতে হয়।
ধাপ ২: ১০ × ১৮ = ৩৬।
∴ উত্তর: ৩৬ কি.মি./ঘণ্টা।
শর্টকাটে: ১০ মি./সে. দেখলেই ১০ × ১৮ ÷ ৫ = ৩৬ করা যায়। তাই দ্রুত উত্তর পাওয়া যায়।
সমাধানকৃত উদাহরণ ৩: ট্রেন ও খুঁটি
একটি ট্রেনের দৈর্ঘ্য ১২০ মিটার এবং গতিবেগ ৫৪ কি.মি./ঘণ্টা। খুঁটি অতিক্রম করতে সময় কত লাগবে?
ধাপ ১: ৫৪ কি.মি./ঘণ্টা = ৫৪ × ১৮ = ১৫ মি./সে।
ধাপ ২: খুঁটি অতিক্রমের দূরত্ব = ১২০ মিটার।
ধাপ ৩: সময় = দূরত্ব ÷ গতিবেগ = ১২০ ÷ ১৫।
∴ উত্তর: ৮ সেকেন্ড।
শর্টকাটে: বেগকে ১৫ মি./সে. করে ১২০ ÷ ১৫ করলেই ৮ সেকেন্ড।
সমাধানকৃত উদাহরণ ৪: ট্রেন ও প্ল্যাটফর্ম
১২০ মিটার দীর্ঘ একটি ট্রেন ২৭০ মিটার দীর্ঘ প্ল্যাটফর্ম ১৫ মি./সে. গতিবেগে অতিক্রম করে। সময় নির্ণয় করো।
ধাপ ১: অতিক্রমের মোট দূরত্ব = ১২০ + ২৭০ = ৩৯০ মিটার।
ধাপ ২: সময় = ৩৯০ ÷ ১৫।
∴ উত্তর: ২৬ সেকেন্ড।
শর্টকাটে: সরাসরি (১২০ + ২৭০) ÷ ১৫ = ২৬ সেকেন্ড।
সমাধানকৃত উদাহরণ ৫: বিপরীত দিকে চলা দুই ট্রেন
১১২ মিটার ও ১১৩ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি ট্রেনের গতিবেগ যথাক্রমে ৭২ কি.মি./ঘণ্টা ও ১৮ কি.মি./ঘণ্টা। তারা বিপরীত দিকে চললে অতিক্রমের সময় নির্ণয় করো।
ধাপ ১: মোট দৈর্ঘ্য = ১১২ + ১১৩ = ২২৫ মিটার।
ধাপ ২: আপেক্ষিক বেগ = ৭২ কি.মি./ঘণ্টা + ১৮ কি.মি./ঘণ্টা = ৯০ কি.মি./ঘণ্টা।
ধাপ ৩: ৯০ কি.মি./ঘণ্টা = ৯০ × ১৮ = ২৫ মি./সে।
ধাপ ৪: সময় = ২২৫ ÷ ২৫।
∴ উত্তর: ৯ সেকেন্ড।
শর্টকাটে: মোট দৈর্ঘ্য ২২৫ মিটার এবং আপেক্ষিক বেগ ২৫ মি./সে. হলে ২২৫ ÷ ২৫ = ৯ সেকেন্ড।
সমাধানকৃত উদাহরণ ৬: একই দিকে চলা
দুটি ট্রেন একই দিকে চললে তাদের আপেক্ষিক বেগ ১৫ মি./সে. এবং অতিক্রমের মোট দূরত্ব ২২৫ মিটার। সময় কত?
ধাপ ১: আপেক্ষিক বেগ = ১৫ মি./সে।
ধাপ ২: অতিক্রমের দূরত্ব = ২২৫ মিটার।
ধাপ ৩: সময় = ২২৫ ÷ ১৫।
∴ উত্তর: ১৫ সেকেন্ড।
শর্টকাটে: ২২৫ ÷ ১৫ করলেই সরাসরি ১৫ সেকেন্ড।
সমাধানকৃত উদাহরণ ৭: নৌকা ও স্রোত
স্থির জলে নৌকার বেগ ১৫ কি.মি./ঘণ্টা এবং স্রোতের বেগ ২ কি.মি./ঘণ্টা। ২২১ কি.মি. যেতে অনুকূলে ও প্রতিকূলে সময় নির্ণয় করো।
ধাপ ১: অনুকূল বেগ = ১৫ + ২ = ১৭ কি.মি./ঘণ্টা।
ধাপ ২: অনুকূলে সময় = ২২১ ÷ ১৭ = ১৩ ঘণ্টা।
ধাপ ৩: প্রতিকূল বেগ = ১৫ − ২ = ১৩ কি.মি./ঘণ্টা।
ধাপ ৪: প্রতিকূলে সময় = ২২১ ÷ ১৩ = ১৭ ঘণ্টা।
∴ উত্তর: অনুকূলে ১৩ ঘণ্টা এবং প্রতিকূলে ১৭ ঘণ্টা।
শর্টকাটে: অনুকূলে বেগ যোগ, প্রতিকূলে বেগ বিয়োগ—এই নিয়ম মনে রাখলেই হিসাব দ্রুত হয়।
সমাধানকৃত উদাহরণ ৮: সমান দূরত্বে গড় গতিবেগ
সমান দূরত্বের দুটি পথে গতিবেগ ৬০ কি.মি./ঘণ্টা ও ৩০ কি.মি./ঘণ্টা হলে গড় গতিবেগ নির্ণয় করো।
ধাপ ১: গড় গতিবেগ = ২ × ৬০ × ৩০ ÷ (৬০ + ৩০)।
ধাপ ২: = ৩৬০০ ÷ ৯০।
∴ উত্তর: ৪০ কি.মি./ঘণ্টা।
শর্টকাটে: সূত্রে দুই গতিবেগ বসিয়ে ২ × ৬০ × ৩০ ÷ ৯০ = ৪০ কি.মি./ঘণ্টা।

অনুশীলন প্রশ্ন ও সমাধান: প্রদত্ত রাশির একক দেখে সূত্র বেছে নাও। ট্রেনের ক্ষেত্রে মোট অতিক্রমের দূরত্ব এবং নৌকার ক্ষেত্রে স্রোতের দিক আগে নির্ধারণ করো। প্রচলিত পদ্ধতিতে প্রতিটি ধাপ লিখলে ভুল কম হয়; শর্টকাট পদ্ধতিতে সূত্র জানা থাকলে একই উত্তর দ্রুত পাওয়া যায়।

অনুশীলনউত্তর
১৮০ কি.মি. পথ ৪ ঘণ্টায় অতিক্রম করলে গতিবেগ কত?৪৫ কি.মি./ঘণ্টা
১০ মি./সে. কত কি.মি./ঘণ্টা?৩৬ কি.মি./ঘণ্টা
১২০ মিটার ট্রেন ১৫ মি./সে. বেগে খুঁটি অতিক্রম করলে সময় কত?৮ সেকেন্ড
১২০ মিটার ট্রেন ২৭০ মিটার প্ল্যাটফর্ম অতিক্রম করলে সময় কত?২৬ সেকেন্ড
বিপরীত দিকে চলা দুই ট্রেনের মোট দৈর্ঘ্য ২২৫ মিটার ও আপেক্ষিক বেগ ২৫ মি./সে. হলে সময় কত?৯ সেকেন্ড
একই দিকে চলায় মোট দূরত্ব ২২৫ মিটার ও আপেক্ষিক বেগ ১৫ মি./সে. হলে সময় কত?১৫ সেকেন্ড
২২১ কি.মি. পথে অনুকূল ও প্রতিকূল সময় কত?১৩ ঘণ্টা ও ১৭ ঘণ্টা
৬০ ও ৩০ কি.মি./ঘণ্টা সমান দূরত্বে গড় গতিবেগ কত?৪০ কি.মি./ঘণ্টা

১.৫ Type-১ অনুশীলন প্রশ্ন ও সমাধান

Type-১ : মূল রাশি নির্ণয়
শর্টকাট পদ্ধতি
গতিবেগ = দূরত্ব ÷ সময়
সময় = দূরত্ব ÷ গতিবেগ
দূরত্ব = গতিবেগ × সময়
কি.মি./ঘণ্টা থেকে মি./সে. = × ১৮
মি./সে. থেকে কি.মি./ঘণ্টা = × ১৮
জেনে রাখুন: দূরত্ব ও সময়ের একক মিলিয়ে তারপর ভাগ করতে হয়। ট্রেন খুঁটি অতিক্রম করলে অতিক্রমের দূরত্ব ট্রেনের দৈর্ঘ্য। প্ল্যাটফর্ম অতিক্রম করলে দূরত্ব হয় ট্রেনের দৈর্ঘ্য ও প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্যের যোগফল। বিপরীত দিকে চললে বেগ যোগ হয়, আর একই দিকে চললে বেগের পার্থক্য নেওয়া হয়।
উদাহরণ: একটি পথের দৈর্ঘ্য ১৩৫ কি.মি.। পথটি ৩ ঘণ্টায় অতিক্রম করলে গতিবেগ কত?
সমাধান: ধাপ ১: দূরত্ব = ১৩৫ কি.মি.
সময় = ৩ ঘণ্টা
গতিবেগ = দূরত্ব ÷ সময়
          = ১৩৫ ÷ ৩
          = ৪৫ কি.মি./ঘণ্টা
∴ উত্তর: ৪৫ কি.মি./ঘণ্টা।
শর্টকাটে ১৩৫-কে ৩ দিয়ে ভাগ করলেই সরাসরি ৪৫ কি.মি./ঘণ্টা পাওয়া যায়। তাই প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে কম সময় লাগে।
উদাহরণ: ৩০ মি./সে.-কে কি.মি./ঘণ্টায় প্রকাশ করো।
সমাধান: ধাপ ১: মি./সে. থেকে কি.মি./ঘণ্টায় যেতে ১৮ দিয়ে গুণ করতে হয়।
ধাপ ২: ৩০ × ১৮ = ৬ × ১৮
          = ১০৮ কি.মি./ঘণ্টা
∴ উত্তর: ১০৮ কি.মি./ঘণ্টা।
শর্টকাটে ৩০ × ১৮ ÷ ৫ = ১০৮ করা যায়।
উদাহরণ: একটি ট্রেনের দৈর্ঘ্য ৩৬০ মিটার এবং গতিবেগ ১০৮ কি.মি./ঘণ্টা। ট্রেনটি একটি খুঁটি অতিক্রম করতে কত সময় নেবে?
সমাধান: ধাপ ১: ১০৮ কি.মি./ঘণ্টা = ১০৮ × ১৮ মি./সে.
          = ৩০ মি./সে.
ধাপ ২: খুঁটি অতিক্রমের দূরত্ব = ট্রেনের দৈর্ঘ্য = ৩৬০ মিটার
ধাপ ৩: সময় = দূরত্ব ÷ গতিবেগ
          = ৩৬০ ÷ ৩০
          = ১২ সেকেন্ড
∴ উত্তর: ১২ সেকেন্ড।
শর্টকাটে ১০৮ কি.মি./ঘণ্টাকে ৩০ মি./সে. করে ৩৬০ ÷ ৩০ = ১২ সেকেন্ড করা যায়।
উদাহরণ: একটি ট্রেনের দৈর্ঘ্য ৩৬০ মিটার। ১০৮ কি.মি./ঘণ্টা গতিতে ট্রেনটি ৪২০ মিটার দীর্ঘ প্ল্যাটফর্ম অতিক্রম করতে কত সময় নেবে?
সমাধান: ধাপ ১: ১০৮ কি.মি./ঘণ্টা = ৩০ মি./সে.
ধাপ ২: অতিক্রমের দূরত্ব = ট্রেনের দৈর্ঘ্য + প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য
          = ৩৬০ + ৪২০
          = ৭৮০ মিটার
ধাপ ৩: সময় = ৭৮০ ÷ ৩০
          = ২৬ সেকেন্ড
∴ উত্তর: ২৬ সেকেন্ড।
শর্টকাটে (৩৬০ + ৪২০) ÷ ৩০ = ২৬ সেকেন্ড করা যায়।
উদাহরণ: দুটি ট্রেনের দৈর্ঘ্য ১২০ মিটার ও ১২০ মিটার। তারা বিপরীত দিকে ৯০ কি.মি./ঘণ্টা ও ১৮ কি.মি./ঘণ্টা বেগে চললে একে অপরকে অতিক্রম করতে কত সময় নেবে?
সমাধান: ধাপ ১: প্রথম ট্রেনের বেগ = ৯০ × ১৮ = ২৫ মি./সে.
দ্বিতীয় ট্রেনের বেগ = ১৮ × ১৮ = ৫ মি./সে.
ধাপ ২: বিপরীত দিকে আপেক্ষিক বেগ = ২৫ + ৫
          = ৩০ মি./সে.
ধাপ ৩: অতিক্রমের দূরত্ব = ১২০ + ১২০
          = ২৪০ মিটার
ধাপ ৪: সময় = ২৪০ ÷ ৩০
          = ৮ সেকেন্ড
∴ উত্তর: ৮ সেকেন্ড।
শর্টকাটে মোট দৈর্ঘ্য ২৪০ মিটার এবং আপেক্ষিক বেগ ৩০ মি./সে. নিয়ে ২৪০ ÷ ৩০ = ৮ সেকেন্ড পাওয়া যায়।

১.৬ Type-২ : সময় নির্ণয়

দূরত্ব, সময় ও গতিবেগের সম্পর্ক বুঝে সময় নির্ণয় করা যায়। হিসাবের আগে দূরত্ব ও গতিবেগের একক একই করতে হবে। গতিবেগ যদি কি.মি./ঘণ্টায় দেওয়া থাকে, তবে মি./সে.-এ রূপান্তরের জন্য ১৮ দিয়ে গুণ করতে হয়।

শর্টকাট পদ্ধতি
গতিবেগ = দূরত্ব ÷ সময়
সময় = দূরত্ব ÷ গতিবেগ
দূরত্ব = গতিবেগ × সময়
কি.মি./ঘণ্টা থেকে মি./সে. = × ১৮

জেনে রাখুন: খুঁটি অতিক্রমের সময় ট্রেনকে শুধু নিজের দৈর্ঘ্য অতিক্রম করতে হয়। প্ল্যাটফর্ম অতিক্রমের সময় ট্রেনের দৈর্ঘ্য ও প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য যোগ করতে হয়। বিপরীত দিকে চলা দুটি ট্রেনের আপেক্ষিক বেগ যোগ করে এবং একই দিকে চললে বেগের পার্থক্য নিয়ে সময় নির্ণয় করা হয়।

সমাধানকৃত উদাহরণ ১: গতিবেগ নির্ণয়

একটি পথের দৈর্ঘ্য ২০০ কি.মি. এবং সময় ৪ ঘণ্টা। গতিবেগ নির্ণয় করো।

প্রচলিত পদ্ধতি:
ধাপ ১: দূরত্ব = ২০০ কি.মি।
ধাপ ২: সময় = ৪ ঘণ্টা।
ধাপ ৩: গতিবেগ = দূরত্ব ÷ সময়।
ধাপ ৪: গতিবেগ = ২০০ ÷ ৪ = ৫০ কি.মি./ঘণ্টা।
∴ উত্তর: ৫০ কি.মি./ঘণ্টা।

শর্টকাটে: ২০০ কে ৪ দিয়ে ভাগ করলেই সরাসরি ৫০ কি.মি./ঘণ্টা পাওয়া যায়। তাই সময় কম লাগে।

সমাধানকৃত উদাহরণ ২: একক রূপান্তর

২৫ মি./সে. কে কি.মি./ঘণ্টায় প্রকাশ করো।

প্রচলিত পদ্ধতি:
ধাপ ১: মি./সে. থেকে কি.মি./ঘণ্টায় যেতে ১৮ দিয়ে গুণ করতে হয়।
ধাপ ২: ২৫ × ১৮ ÷ ৫ = ৯০।
∴ উত্তর: ৯০ কি.মি./ঘণ্টা।

শর্টকাটে: ২৫ মি./সে. দেখলেই ২৫ × ১৮ ÷ ৫ = ৯০ করা যায়।

সমাধানকৃত উদাহরণ ৩: ট্রেন ও খুঁটি

একটি ট্রেনের দৈর্ঘ্য ১৮০ মিটার এবং গতিবেগ ৫৪ কি.মি./ঘণ্টা। খুঁটি অতিক্রম করতে সময় কত লাগবে?

প্রচলিত পদ্ধতি:
ধাপ ১: ৫৪ কি.মি./ঘণ্টা = ৫৪ × ৫ ÷ ১৮ = ১৫ মি./সে।
ধাপ ২: খুঁটি অতিক্রমের দূরত্ব = ট্রেনের দৈর্ঘ্য = ১৮০ মিটার।
ধাপ ৩: সময় = দূরত্ব ÷ গতিবেগ = ১৮০ ÷ ১৫।
ধাপ ৪: সময় = ১২ সেকেন্ড।
∴ উত্তর: ১২ সেকেন্ড।

শর্টকাটে: ৫৪ কি.মি./ঘণ্টা কে ১৫ মি./সে. করে ১৮০ ÷ ১৫ = ১২ সেকেন্ড পাওয়া যায়।

সমাধানকৃত উদাহরণ ৪: ট্রেন ও প্ল্যাটফর্ম

একটি ১৮০ মিটার দীর্ঘ ট্রেন ৫৪ কি.মি./ঘণ্টা বেগে ২১০ মিটার দীর্ঘ প্ল্যাটফর্ম অতিক্রম করে। সময় নির্ণয় করো।

প্রচলিত পদ্ধতি:
ধাপ ১: ট্রেনের গতিবেগ = ৫৪ × ৫ ÷ ১৮ = ১৫ মি./সে।
ধাপ ২: মোট অতিক্রমের দূরত্ব = ১৮০ + ২১০ = ৩৯০ মিটার।
ধাপ ৩: সময় = ৩৯০ ÷ ১৫।
ধাপ ৪: সময় = ২৬ সেকেন্ড।
∴ উত্তর: ২৬ সেকেন্ড।

শর্টকাটে মোট দৈর্ঘ্য ৩৯০ মিটার এবং বেগ ১৫ মি./সে. নিয়ে ৩৯০ ÷ ১৫ = ২৬ সেকেন্ড পাওয়া যায়।

সমাধানকৃত উদাহরণ ৫: বিপরীত দিকে চলা দুটি ট্রেন

দুটি ট্রেনের দৈর্ঘ্য যথাক্রমে ১৫০ মিটার ও ১৫০ মিটার। তাদের গতিবেগ ৭২ কি.মি./ঘণ্টা ও ১৮ কি.মি./ঘণ্টা। বিপরীত দিকে চললে অতিক্রমের সময় নির্ণয় করো।

প্রচলিত পদ্ধতি:
ধাপ ১: ৭২ কি.মি./ঘণ্টা = ৭২ × ৫ ÷ ১৮ = ২০ মি./সে।
ধাপ ২: ১৮ কি.মি./ঘণ্টা = ১৮ × ৫ ÷ ১৮ = ৫ মি./সে।
ধাপ ৩: আপেক্ষিক বেগ = ২০ + ৫ = ২৫ মি./সে।
ধাপ ৪: মোট দৈর্ঘ্য = ১৫০ + ১৫০ = ৩০০ মিটার।
ধাপ ৫: সময় = ৩০০ ÷ ২৫ = ১২ সেকেন্ড।
∴ উত্তর: ১২ সেকেন্ড।

শর্টকাটে মোট দৈর্ঘ্য ৩০০ মিটার ও আপেক্ষিক বেগ ২৫ মি./সে. নিয়ে ৩০০ ÷ ২৫ = ১২ সেকেন্ড।

সমাধানকৃত উদাহরণ ৬: একই দিকে চলা দুটি ট্রেন

একই দিকে চলা দুটি ট্রেনের মোট দৈর্ঘ্য ৩০০ মিটার এবং আপেক্ষিক বেগ ১৫ মি./সে.। একটি ট্রেন অন্যটিকে অতিক্রম করতে কত সময় নেবে?

প্রচলিত পদ্ধতি:
ধাপ ১: অতিক্রমের দূরত্ব = ৩০০ মিটার।
ধাপ ২: আপেক্ষিক বেগ = ১৫ মি./সে।
ধাপ ৩: সময় = ৩০০ ÷ ১৫ = ২০ সেকেন্ড।
∴ উত্তর: ২০ সেকেন্ড।

শর্টকাটে ৩০০ ÷ ১৫ = ২০ সেকেন্ড।

সমাধানকৃত উদাহরণ ৭: নৌকা ও স্রোত

স্থির জলে নৌকার বেগ ১৪ কি.মি./ঘণ্টা এবং স্রোতের বেগ ৩ কি.মি./ঘণ্টা। ১৮৭ কি.মি. যেতে অনুকূলে ও প্রতিকূলে সময় নির্ণয় করো।

প্রচলিত পদ্ধতি:
ধাপ ১: অনুকূলে বেগ = ১৪ + ৩ = ১৭ কি.মি./ঘণ্টা।
ধাপ ২: অনুকূলে সময় = ১৮৭ ÷ ১৭ = ১১ ঘণ্টা।
ধাপ ৩: প্রতিকূলে বেগ = ১৪ − ৩ = ১১ কি.মি./ঘণ্টা।
ধাপ ৪: প্রতিকূলে সময় = ১৮৭ ÷ ১১ = ১৭ ঘণ্টা।
∴ উত্তর: অনুকূলে ১১ ঘণ্টা এবং প্রতিকূলে ১৭ ঘণ্টা।

শর্টকাটে অনুকূলে ১৪ + ৩ = ১৭ এবং প্রতিকূলে ১৪ − ৩ = ১১ করে সরাসরি ভাগ করলে সময় কম লাগে।

সমাধানকৃত উদাহরণ ৮: সমান দূরত্বে গড় গতিবেগ

একটি যান সমান দূরত্বের দুটি পথে ৬০ কি.মি./ঘণ্টা ও ৯০ কি.মি./ঘণ্টা বেগে চলে। গড় গতিবেগ নির্ণয় করো।

প্রচলিত পদ্ধতি:
ধাপ ১: সমান দূরত্বের ক্ষেত্রে গড় গতিবেগের সূত্র ব্যবহার করতে হবে।
ধাপ ২: গড় গতিবেগ = ২ × ৬০ × ৯০ ÷ (৬০ + ৯০)।
ধাপ ৩: গড় গতিবেগ = ১০৮০০ ÷ ১৫০ = ৭২ কি.মি./ঘণ্টা।
∴ উত্তর: ৭২ কি.মি./ঘণ্টা।

শর্টকাটে ২ × ৬০ × ৯০ ÷ ১৫০ = ৭২ কি.মি./ঘণ্টা।

অনুশীলন প্রশ্ন ও সমাধান: ২০০ কি.মি. পথ ৪ ঘণ্টায় অতিক্রম করলে গতিবেগ কত? প্রচলিত পদ্ধতিতে গতিবেগ = ২০০ ÷ ৪ = ৫০ কি.মি./ঘণ্টা। শর্টকাটে একইভাবে ২০০ কে ৪ দিয়ে ভাগ করলেই ৫০ পাওয়া যায়। ∴ উত্তর: ৫০ কি.মি./ঘণ্টা।

পরিস্থিতিযে নিয়ম ব্যবহার হবে
খুঁটি অতিক্রমট্রেনের দৈর্ঘ্য ÷ গতিবেগ
প্ল্যাটফর্ম অতিক্রম(ট্রেনের দৈর্ঘ্য + প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য) ÷ গতিবেগ
বিপরীত দিকবেগের যোগফল
একই দিকবেগের পার্থক্য

১.৭ Type-২ অনুশীলন প্রশ্ন ও সমাধান

শর্টকাট পদ্ধতি
গতিবেগ = দূরত্ব ÷ সময়
সময় = দূরত্ব ÷ গতিবেগ
দূরত্ব = গতিবেগ × সময়
কি.মি./ঘণ্টা থেকে মি./সে. = × ১৮
মি./সে. থেকে কি.মি./ঘণ্টা = × ১৮
জেনে রাখুন
দূরত্ব ও সময়ের একক মিলিয়ে তারপর ভাগ করতে হয়। ট্রেন খুঁটি অতিক্রম করলে অতিক্রমের দূরত্ব ট্রেনের দৈর্ঘ্য। প্ল্যাটফর্ম অতিক্রম করলে দূরত্ব হয় ট্রেনের দৈর্ঘ্য ও প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্যের যোগফল। বিপরীত দিকে চললে বেগ যোগ হয়।
উদাহরণ ১। একটি পথের দৈর্ঘ্য ২৬০ কি.মি.। পথটি অতিক্রম করতে সময় লাগে ৪ ঘণ্টা। গতিবেগ নির্ণয় করো।
সমাধান:
দূরত্ব = ২৬০ কি.মি.
সময় = ৪ ঘণ্টা
গতিবেগ = দূরত্ব ÷ সময়
গতিবেগ = ২৬০ ÷ ৪
গতিবেগ = ৬৫ কি.মি./ঘণ্টা
∴ উত্তর: ৬৫ কি.মি./ঘণ্টা।
উদাহরণ ২। ৫ মি./সে. কে কি.মি./ঘণ্টায় প্রকাশ করো।
সমাধান:
রূপান্তরিত বেগ = ৫ × ১৮ কি.মি./ঘণ্টা
রূপান্তরিত বেগ = ৫ × ১৮ ÷ ৫
রূপান্তরিত বেগ = ৯০ ÷ ৫ কি.মি./ঘণ্টা
রূপান্তরিত বেগ = ১৮ কি.মি./ঘণ্টা
∴ উত্তর: ১৮ কি.মি./ঘণ্টা।
উদাহরণ ৩। একটি ট্রেনের দৈর্ঘ্য ২৫০ মিটার এবং গতিবেগ ৯০ কি.মি./ঘণ্টা। ট্রেনটি একটি খুঁটি অতিক্রম করতে কত সময় নেবে?
সমাধান:
গতিবেগ = ৯০ × ১৮ মি./সে.
গতিবেগ = ২৫ মি./সে.
অতিক্রমের দূরত্ব = ২৫০ মিটার
সময় = দূরত্ব ÷ গতিবেগ
সময় = ২৫০ ÷ ২৫ সেকেন্ড
সময় = ১০ সেকেন্ড
∴ উত্তর: ১০ সেকেন্ড।
উদাহরণ ৪। ২৫০ মিটার দীর্ঘ একটি ট্রেন ৯০ কি.মি./ঘণ্টা গতিতে ৩৫০ মিটার দীর্ঘ একটি প্ল্যাটফর্ম অতিক্রম করে। সময় নির্ণয় করো।
সমাধান:
ট্রেনের গতিবেগ = ৯০ কি.মি./ঘণ্টা = ২৫ মি./সে.
অতিক্রমের দূরত্ব = ট্রেনের দৈর্ঘ্য + প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য
অতিক্রমের দূরত্ব = ২৫০ + ৩৫০ মিটার
অতিক্রমের দূরত্ব = ৬০০ মিটার
সময় = ৬০০ ÷ ২৫ সেকেন্ড
সময় = ২৪ সেকেন্ড
∴ উত্তর: ২৪ সেকেন্ড।
উদাহরণ ৫। দুটি ট্রেনের দৈর্ঘ্য যথাক্রমে ১১২ মিটার ও ১১৩ মিটার। তাদের গতিবেগ ৭২ কি.মি./ঘণ্টা ও ১৮ কি.মি./ঘণ্টা এবং তারা বিপরীত দিকে চলছে। একে অপরকে অতিক্রম করতে কত সময় লাগবে?
সমাধান:
প্রথম ট্রেনের বেগ = ৭২ × ১৮ = ২০ মি./সে.
দ্বিতীয় ট্রেনের বেগ = ১৮ × ১৮ = ৫ মি./সে.
আপেক্ষিক বেগ = ২০ + ৫ মি./সে.
আপেক্ষিক বেগ = ২৫ মি./সে.
অতিক্রমের দূরত্ব = ১১২ + ১১৩ মিটার
অতিক্রমের দূরত্ব = ২২৫ মিটার
সময় = ২২৫ ÷ ২৫ সেকেন্ড
সময় = ৯ সেকেন্ড
∴ উত্তর: ৯ সেকেন্ড।
সময় তুলনা
প্রচলিত পদ্ধতিতে আগে সূত্র লিখে দূরত্ব, সময় ও গতিবেগের একক সাজিয়ে হিসাব করা হয়। শর্টকাটে পরিচিত সূত্র ও রূপান্তরের নিয়ম সরাসরি ব্যবহার করলে একই উত্তর দ্রুত পাওয়া যায়।

১.৮ Type-৩ : দূরত্ব/দৈর্ঘ্য নির্ণয়

দূরত্ব, সময় ও গতিবেগ পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। কোনো সমস্যায় আগে দেওয়া রাশি, নির্ণয় করতে হবে এমন রাশি এবং একক চিহ্নিত করলে সমাধান সহজ হয়।

ট্রেন খুঁটি অতিক্রম করলে অতিক্রমের দূরত্ব ট্রেনের দৈর্ঘ্যের সমান হয়। ট্রেন প্ল্যাটফর্ম অতিক্রম করলে অতিক্রমের দূরত্ব হয় ট্রেনের দৈর্ঘ্য ও প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্যের যোগফল।

বিপরীত দিকে চলা দুটি বস্তুর আপেক্ষিক বেগ পেতে বেগ দুটি যোগ করতে হয়। একই দিকে চললে দ্রুতগামী বস্তুর বেগ থেকে ধীরগামী বস্তুর বেগ বিয়োগ করতে হয়।

শর্টকাট পদ্ধতি
গতিবেগ = দূরত্ব ÷ সময়
সময় = দূরত্ব ÷ গতিবেগ
দূরত্ব = গতিবেগ × সময়
কি.মি./ঘণ্টা থেকে মি./সে. = × ১৮
মি./সে. থেকে কি.মি./ঘণ্টা = × ১৮

জেনে রাখুন: দূরত্ব ও সময়ের একক মিলিয়ে তারপর ভাগ করতে হয়। ট্রেনের দৈর্ঘ্য ও প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য একই এককে থাকলে যোগ করে মোট দূরত্ব নির্ণয় করা যায়।

Type-১ : গতিবেগ নির্ণয়

সমাধানকৃত উদাহরণ: একটি পথের দৈর্ঘ্য ২৫০ কি.মি. এবং সময় ৫ ঘণ্টা। গতিবেগ নির্ণয় করো।

ধাপ ১: দূরত্ব = ২৫০ কি.মি।

ধাপ ২: সময় = ৫ ঘণ্টা।

ধাপ ৩: গতিবেগ = দূরত্ব ÷ সময়।

ধাপ ৪: গতিবেগ = ২৫০ ÷ ৫ = ৫০ কি.মি./ঘণ্টা।

∴ উত্তর: ৫০ কি.মি./ঘণ্টা।

শর্টকাটে: ২৫০-কে ৫ দিয়ে ভাগ করলেই সরাসরি ৫০ কি.মি./ঘণ্টা পাওয়া যায়। প্রচলিত পদ্ধতিতে সূত্র ও ধাপ লিখতে হয়; শর্টকাটে পরিচিত সূত্র ব্যবহার করে সময় কম লাগে।

অনুশীলন প্রশ্ন ও সমাধান: ২৫০ কি.মি. পথ ৫ ঘণ্টায় অতিক্রম করলে গতিবেগ কত?

সমাধান: গতিবেগ = ২৫০ ÷ ৫ = ৫০ কি.মি./ঘণ্টা। ∴ উত্তর: ৫০ কি.মি./ঘণ্টা।

Type-২ : একক রূপান্তর

সমাধানকৃত উদাহরণ: ১০ মি./সে. কে কি.মি./ঘণ্টায় প্রকাশ করো।

ধাপ ১: মি./সে. থেকে কি.মি./ঘণ্টায় যেতে ১৮ দিয়ে গুণ করতে হয়।

ধাপ ২: ১০ × ১৮ = ৩৬।

∴ উত্তর: ৩৬ কি.মি./ঘণ্টা।

শর্টকাটে: ১০ × ১৮ ÷ ৫ = ৩৬ করা যায়। প্রচলিত পদ্ধতিতে রূপান্তরের নিয়ম লিখে হিসাব করা হয়; শর্টকাটে নিয়মটি সরাসরি প্রয়োগ করায় সময় কম লাগে।

অনুশীলন প্রশ্ন ও সমাধান: ১০ মি./সে. সমান কত কি.মি./ঘণ্টা?

সমাধান: ১০ × ১৮ ÷ ৫ = ৩৬ কি.মি./ঘণ্টা। ∴ উত্তর: ৩৬ কি.মি./ঘণ্টা।

Type-৩ : ট্রেন ও খুঁটি

সমাধানকৃত উদাহরণ: একটি ট্রেনের দৈর্ঘ্য ২৪০ মিটার এবং গতিবেগ ৭২ কি.মি./ঘণ্টা। ট্রেনটি একটি খুঁটি অতিক্রম করতে কত সময় নেবে?

ধাপ ১: খুঁটি অতিক্রমের দূরত্ব = ট্রেনের দৈর্ঘ্য = ২৪০ মিটার।

ধাপ ২: ৭২ কি.মি./ঘণ্টা = ৭২ × ১৮ = ২০ মি./সে।

ধাপ ৩: সময় = দূরত্ব ÷ গতিবেগ।

ধাপ ৪: সময় = ২৪০ ÷ ২০ = ১২ সেকেন্ড।

∴ উত্তর: ১২ সেকেন্ড।

শর্টকাটে: ৭২ কি.মি./ঘণ্টাকে ২০ মি./সে. করে ২৪০ ÷ ২০ = ১২ সেকেন্ড। একক রূপান্তর করে সরাসরি ভাগ করায় সময় কম লাগে।

Type-৪ : ট্রেন ও প্ল্যাটফর্ম

সমাধানকৃত উদাহরণ: ২৪০ মিটার দীর্ঘ একটি ট্রেন ২০ মি./সে. বেগে ৪০০ মিটার দীর্ঘ প্ল্যাটফর্ম অতিক্রম করে। সময় নির্ণয় করো।

ধাপ ১: মোট অতিক্রমের দূরত্ব = ২৪০ + ৪০০ = ৬৪০ মিটার।

ধাপ ২: সময় = দূরত্ব ÷ গতিবেগ।

ধাপ ৩: সময় = ৬৪০ ÷ ২০ = ৩২ সেকেন্ড।

∴ উত্তর: ৩২ সেকেন্ড।

শর্টকাটে: (২৪০ + ৪০০) ÷ ২০ = ৩২ সেকেন্ড। আগে ট্রেন ও প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য যোগ করে সরাসরি ভাগ করলেই দ্রুত উত্তর পাওয়া যায়।

Type-৫ : দুটি ট্রেনের অতিক্রমের সময়

সমাধানকৃত উদাহরণ: ১৫৭ মিটার ও ১৫৮ মিটার দীর্ঘ দুটি ট্রেনের গতিবেগ যথাক্রমে ৯০ কি.মি./ঘণ্টা ও ৩৬ কি.মি./ঘণ্টা। তারা বিপরীত দিকে চললে একে অপরকে অতিক্রম করতে কত সময় নেবে?

ধাপ ১: মোট দূরত্ব = ১৫৭ + ১৫৮ = ৩১৫ মিটার।

ধাপ ২: ৯০ কি.মি./ঘণ্টা = ২৫ মি./সে. এবং ৩৬ কি.মি./ঘণ্টা = ১০ মি./সে।

ধাপ ৩: বিপরীত দিকে চলায় আপেক্ষিক বেগ = ২৫ + ১০ = ৩৫ মি./সে।

ধাপ ৪: সময় = ৩১৫ ÷ ৩৫ = ৯ সেকেন্ড।

∴ উত্তর: ৯ সেকেন্ড।

শর্টকাটে: আপেক্ষিক বেগ ৩৫ মি./সে. জানা থাকলে ৩১৫ ÷ ৩৫ = ৯ সেকেন্ড। বিপরীত দিকে চলার ক্ষেত্রে বেগ যোগ করতে হয়।

Type-৬ : একই দিকে চলা

সমাধানকৃত উদাহরণ: একই দিকে চলা দুটি ট্রেনের আপেক্ষিক বেগ ১৫ মি./সে.। তাদের অতিক্রমের সময় ২১ সেকেন্ড হলে অতিক্রমের দূরত্ব কত?

ধাপ ১: দূরত্ব = গতিবেগ × সময়।

ধাপ ২: দূরত্ব = ১৫ × ২১ = ৩১৫ মিটার।

∴ উত্তর: অতিক্রমের দূরত্ব ৩১৫ মিটার এবং সময় ২১ সেকেন্ড।

শর্টকাটে: একই দিকে চলার ক্ষেত্রে আপেক্ষিক বেগের সাহায্যে ১৫ × ২১ = ৩১৫ মিটার পাওয়া যায়। প্রচলিত পদ্ধতিতে দূরত্বের সূত্র লিখে হিসাব করতে হয়; শর্টকাটে সরাসরি গুণ করা যায়।

Type-৭ : নৌকা ও স্রোত

সমাধানকৃত উদাহরণ: স্থির জলে নৌকার বেগ ২০ কি.মি./ঘণ্টা এবং স্রোতের বেগ ৫ কি.মি./ঘণ্টা। ৩৭৫ কি.মি. যেতে অনুকূলে ও প্রতিকূলে সময় নির্ণয় করো।

ধাপ ১: অনুকূলে বেগ = ২০ + ৫ = ২৫ কি.মি./ঘণ্টা।

ধাপ ২: অনুকূলে সময় = ৩৭৫ ÷ ২৫ = ১৫ ঘণ্টা।

ধাপ ৩: প্রতিকূলে বেগ = ২০ − ৫ = ১৫ কি.মি./ঘণ্টা।

ধাপ ৪: প্রতিকূলে সময় = ৩৭৫ ÷ ১৫ = ২৫ ঘণ্টা।

∴ উত্তর: অনুকূলে ১৫ ঘণ্টা এবং প্রতিকূলে ২৫ ঘণ্টা।

শর্টকাটে: অনুকূলে ২০ + ৫ = ২৫ এবং প্রতিকূলে ২০ − ৫ = ১৫ কি.মি./ঘণ্টা। এরপর ৩৭৫-কে সংশ্লিষ্ট বেগ দিয়ে ভাগ করলেই যথাক্রমে ১৫ ঘণ্টা ও ২৫ ঘণ্টা পাওয়া যায়।

Type-৮ : সমান দূরত্বে গড় গতিবেগ

সমাধানকৃত উদাহরণ: সমান দূরত্বের দুটি পথে গতিবেগ ৬০ কি.মি./ঘণ্টা ও ৯০ কি.মি./ঘণ্টা হলে গড় গতিবেগ নির্ণয় করো।

ধাপ ১: সমান দূরত্বের জন্য সুবিধার মতো মোট দূরত্ব ধরা যায় ১৮০ কি.মি।

ধাপ ২: প্রথম পথে সময় = ১৮০ ÷ ৬০ = ৩ ঘণ্টা।

ধাপ ৩: দ্বিতীয় পথে সময় = ১৮০ ÷ ৯০ = ২ ঘণ্টা।

ধাপ ৪: মোট দূরত্ব = ১৮০ + ১৮০ = ৩৬০ কি.মি. এবং মোট সময় = ৩ + ২ = ৫ ঘণ্টা।

ধাপ ৫: গড় গতিবেগ = ৩৬০ ÷ ৫ = ৭২ কি.মি./ঘণ্টা।

∴ উত্তর: ৭২ কি.মি./ঘণ্টা।

শর্টকাটে: গড় গতিবেগ = ২ × ৬০ × ৯০ ÷ (৬০ + ৯০) = ৭২ কি.মি./ঘণ্টা। প্রচলিত পদ্ধতিতে মোট দূরত্ব ও মোট সময় নির্ণয় করতে হয়; শর্টকাটে সরাসরি সূত্র ব্যবহার করে সময় কম লাগে।

মনে রাখবে: দূরত্ব, সময় ও গতিবেগের একক একসঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে আগে একক রূপান্তর করতে হবে। খুঁটি অতিক্রমে শুধু ট্রেনের দৈর্ঘ্য, আর প্ল্যাটফর্ম অতিক্রমে দুই দৈর্ঘ্যের যোগফল নিতে হবে।

১.৯ Type-৩ অনুশীলন প্রশ্ন ও সমাধান

সমাধানকৃত উদাহরণসমূহ
প্রশ্ন: ২২৫ কি.মি. পথ ৩ ঘণ্টায় অতিক্রম করলে গতিবেগ কত?
সমাধান:
প্রচলিত পদ্ধতি:
দূরত্ব= ২২৫ কি.মি.সময়= ৩ ঘণ্টাগতিবেগ= দূরত্ব ÷ সময়= ২২৫ ÷ ৩= ৭৫ কি.মি./ঘণ্টা
শর্টকাট পদ্ধতি: ২২৫ কে ৩ দিয়ে ভাগ করলেই সরাসরি ৭৫ পাওয়া যায়।
∴ উত্তর: ৭৫ কি.মি./ঘণ্টা।
প্রশ্ন: ২৫ মি./সে. কে কি.মি./ঘণ্টায় প্রকাশ করো।
সমাধান:
প্রচলিত পদ্ধতি:
রূপান্তরের নিয়ম= মি./সে. × ১৮প্রদত্ত বেগ= ২৫ মি./সে.রূপান্তরিত বেগ= ২৫ × ১৮= ৯০ কি.মি./ঘণ্টা
শর্টকাট পদ্ধতি: ২৫ × ১৮ ÷ ৫ = ৯০ করলেই দ্রুত উত্তর পাওয়া যায়।
∴ উত্তর: ৯০ কি.মি./ঘণ্টা।
প্রশ্ন: একটি ট্রেনের দৈর্ঘ্য ২৫০ মিটার এবং গতিবেগ ৯০ কি.মি./ঘণ্টা। ট্রেনটি একটি খুঁটি অতিক্রম করতে কত সময় নেবে?
সমাধান:
প্রচলিত পদ্ধতি:
খুঁটি অতিক্রমের দূরত্ব= ট্রেনের দৈর্ঘ্য = ২৫০ মিটারগতিবেগ= ৯০ × ১৮ = ২৫ মি./সে.সময়= দূরত্ব ÷ গতিবেগ= ২৫০ ÷ ২৫= ১০ সেকেন্ড
শর্টকাট পদ্ধতি: খুঁটি অতিক্রমে শুধু ট্রেনের দৈর্ঘ্য নিতে হয়; ২৫০ ÷ ২৫ = ১০ সেকেন্ড।
∴ উত্তর: ১০ সেকেন্ড।
প্রশ্ন: একটি ট্রেনের দৈর্ঘ্য ২৫০ মিটার। ট্রেনটি ৪৫০ মিটার লম্বা প্ল্যাটফর্ম ২৫ মি./সে. গতিবেগে অতিক্রম করলে কত সময় লাগবে?
সমাধান:
প্রচলিত পদ্ধতি:
অতিক্রমের দূরত্ব= ট্রেনের দৈর্ঘ্য + প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য= ২৫০ + ৪৫০= ৭০০ মিটারসময়= দূরত্ব ÷ গতিবেগ= ৭০০ ÷ ২৫= ২৮ সেকেন্ড
শর্টকাট পদ্ধতি: প্ল্যাটফর্ম অতিক্রমে দুই দৈর্ঘ্য যোগ করে ৭০০ মিটার, তারপর ২৫ দিয়ে ভাগ করলে ২৮ সেকেন্ড।
∴ উত্তর: ২৮ সেকেন্ড।
প্রশ্ন: বিপরীত দিকে চলা দুটি ট্রেনের দৈর্ঘ্য যথাক্রমে ১১২ মিটার ও ১১৩ মিটার। তাদের গতিবেগ ৭২ কি.মি./ঘণ্টা ও ১৮ কি.মি./ঘণ্টা হলে পরস্পরকে অতিক্রম করতে কত সময় লাগবে?
সমাধান:
প্রচলিত পদ্ধতি:
মোট অতিক্রমের দূরত্ব= ১১২ + ১১৩ = ২২৫ মিটারপ্রথম ট্রেনের বেগ= ৭২ × ১৮ = ২০ মি./সে.দ্বিতীয় ট্রেনের বেগ= ১৮ × ১৮ = ৫ মি./সে.আপেক্ষিক বেগ= ২০ + ৫ = ২৫ মি./সে.সময়= ২২৫ ÷ ২৫= ৯ সেকেন্ড
শর্টকাট পদ্ধতি: বিপরীত দিকে চললে বেগ যোগ হয়; ১১২ + ১১৩ = ২২৫ এবং আপেক্ষিক বেগ ২৫ মি./সে., তাই ২২৫ ÷ ২৫ = ৯ সেকেন্ড।
∴ উত্তর: ৯ সেকেন্ড।
১.১০ Type-৪ : গড় গতিবেগের সূত্র
সূত্রাবলি
১.গতিবেগ = দূরত্ব ÷ সময়
২.সময় = দূরত্ব ÷ গতিবেগ
৩.দূরত্ব = গতিবেগ × সময়
৪.মি./সে. থেকে কি.মি./ঘণ্টা = গতিবেগ × ১৮
৫.কি.মি./ঘণ্টা থেকে মি./সে. = গতিবেগ × ১৮
৬.বিপরীত দিকে আপেক্ষিক গতিবেগ = প্রথম গতিবেগ + দ্বিতীয় গতিবেগ
৭.একই দিকে আপেক্ষিক গতিবেগ = দ্রুততর গতিবেগ − ধীরতর গতিবেগ
৮.অতিক্রমের সময় = অতিক্রমের দূরত্ব ÷ আপেক্ষিক গতিবেগ
৯.অনুকূলে নৌকার গতিবেগ = স্থির জলে নৌকার গতিবেগ + স্রোতের গতিবেগ
১০.প্রতিকূলে নৌকার গতিবেগ = স্থির জলে নৌকার গতিবেগ − স্রোতের গতিবেগ
১১.সমান দূরত্বে গড় গতিবেগ = ২aba + b
১.১১ Type-৪ অনুশীলন প্রশ্ন ও সমাধান
শর্টকাট পদ্ধতি
সম্পূর্ণ বস্তু গোনা হলে স্বাভাবিক সংখ্যা ব্যবহার করো। কোনো পূর্ণ বস্তুর সমান অংশ প্রকাশ করতে হলে ভগ্নাংশ ব্যবহার করো।
ভগ্নাংশ = নেওয়া অংশের সংখ্যামোট সমান ভাগের সংখ্যা
লব = ভগ্নাংশের উপরের সংখ্যা; হর = ভগ্নাংশের নিচের সংখ্যা।
জেনে রাখুন: স্বাভাবিক সংখ্যা সম্পূর্ণ বস্তু, মানুষ বা জিনিসের সংখ্যা জানায়। ভগ্নাংশ কোনো পূর্ণ জিনিসের সমান অংশের কতটি নেওয়া হয়েছে তা প্রকাশ করে। ভগ্নাংশ লেখার আগে ভাগগুলো সমান কি না যাচাই করতে হয়।
উদাহরণ ১: একটি ঝুড়িতে ৬টি লিচু আছে এবং একটি লিচুর অংশ নেওয়া হয়েছে। কোনটি স্বাভাবিক সংখ্যা এবং কোনটি ভগ্নাংশ?
সমাধান:
প্রচলিত পদ্ধতি:
ধাপ ১: ৬টি লিচু সম্পূর্ণ বস্তু গোনার তথ্য।
ধাপ ২: তাই ৬ হলো স্বাভাবিক সংখ্যা।
ধাপ ৩: একটি লিচুর অংশ একটি পূর্ণ লিচুর অংশ।
ধাপ ৪: তাই হলো ভগ্নাংশ।
∴ উত্তর: ৬ স্বাভাবিক সংখ্যা এবং ভগ্নাংশ।
শর্টকাটে: সম্পূর্ণ লিচুর সংখ্যা ৬, তাই স্বাভাবিক সংখ্যা; পূর্ণ লিচুর অংশ , তাই ভগ্নাংশ। এতে ধাপ কম লাগে।
প্রশ্ন ২: একটি পিঠা ৭টি সমান ভাগে ভাগ করা হলো। ৪টি ভাগ নেওয়া হলে ভগ্নাংশ কত?
সমাধান:
প্রচলিত পদ্ধতি:
ধাপ ১: মোট সমান ভাগের সংখ্যা = ৭।
ধাপ ২: নেওয়া অংশের সংখ্যা = ৪।
ধাপ ৩: ভগ্নাংশের উপরের সংখ্যা নেওয়া অংশের সংখ্যা, তাই লব = ৪।
ধাপ ৪: ভগ্নাংশের নিচের সংখ্যা মোট সমান ভাগের সংখ্যা, তাই হর = ৭।
∴ উত্তর: ভগ্নাংশ = অংশ।
শর্টকাটে: নেওয়া অংশ ÷ মোট সমান ভাগ = ৪ ÷ ৭ = । তাই দ্রুত উত্তর পাওয়া যায়।
প্রশ্ন ৩: ভগ্নাংশ -এ লব ও হর নির্ণয় করো।
সমাধান:
প্রচলিত পদ্ধতি:
ধাপ ১: ভগ্নাংশের উপরের সংখ্যা = ৫।
ধাপ ২: ভগ্নাংশের নিচের সংখ্যা = ৯।
ধাপ ৩: উপরের সংখ্যা নেওয়া অংশের সংখ্যা বোঝায়, তাই লব = ৫।
ধাপ ৪: নিচের সংখ্যা মোট সমান ভাগের সংখ্যা বোঝায়, তাই হর = ৯।
∴ উত্তর: লব ৫ এবং হর ৯।
শর্টকাটে: উপরের সংখ্যা দেখলেই লব এবং নিচের সংখ্যা দেখলেই হর—অতএব লব ৫, হর ৯। প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় এতে সময় কম লাগে।
প্রশ্ন ৪: ৯টি পেন্সিল এবং একটি পেন্সিলের অংশের কথা বলা হয়েছে। এখানে কোনটি স্বাভাবিক সংখ্যা ও কোনটি ভগ্নাংশ?
সমাধান:
প্রচলিত পদ্ধতি:
ধাপ ১: ৯টি পেন্সিল সম্পূর্ণ গণনাযোগ্য বস্তু।
ধাপ ২: তাই ৯ হলো স্বাভাবিক সংখ্যা।
ধাপ ৩: একটি পেন্সিলের অংশ একটি পূর্ণ পেন্সিলের সমান অংশ বোঝায়।
ধাপ ৪: তাই হলো ভগ্নাংশ।
∴ উত্তর: ৯ স্বাভাবিক সংখ্যা এবং ভগ্নাংশ।
শর্টকাটে: সম্পূর্ণ পেন্সিল গোনা হয়েছে বলে ৯ স্বাভাবিক সংখ্যা; পূর্ণ পেন্সিলের অংশ প্রকাশিত হয়েছে বলে ভগ্নাংশ। তাই দ্রুত শ্রেণিবিন্যাস করা যায়।

১.১২ সাধারণ ভুল ও ফাঁদ

💡 পাঠ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি
  • স্বাভাবিক সংখ্যা দিয়ে সম্পূর্ণ গণনাযোগ্য বস্তু, মানুষ বা জিনিসের মোট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়।
  • ভগ্নাংশ দিয়ে কোনো পূর্ণ জিনিসের সমান অংশের মধ্যে নেওয়া অংশ বোঝানো হয়।
  • ভগ্নাংশ লেখার আগে পূর্ণ জিনিসটিকে অবশ্যই সমান ভাগে ভাগ করতে হয়।
  • ভগ্নাংশের উপরের সংখ্যাকে লব বলা হয় এবং লব নেওয়া অংশের সংখ্যা জানায়।
  • ভগ্নাংশের নিচের সংখ্যাকে হর বলা হয় এবং হর মোট সমান ভাগের সংখ্যা জানায়।
  • লব ও হরের অবস্থান উল্টো করলে ভগ্নাংশের অর্থ পরিবর্তিত হয়ে যায়।
  • ভাগগুলো অসমান হলে প্রতিটি অংশের মান সমান থাকে না, তাই নির্দিষ্ট ভগ্নাংশ প্রকাশ করা সঠিক হয় না।
  • কোনো সংখ্যা ব্যবহারের আগে বুঝতে হবে সেটি সম্পূর্ণ বস্তু গুনছে, নাকি পূর্ণ বস্তুর অংশ প্রকাশ করছে।
  • স্বাভাবিক সংখ্যা সম্পূর্ণ গণনা বোঝায়, আর ভগ্নাংশ পূর্ণ জিনিসের অংশ বোঝায় বলে এদের ব্যবহার এক নয়।
  • ভগ্নাংশ নির্ণয়ের সময় আগে মোট সমান ভাগ এবং পরে নেওয়া অংশ নির্ধারণ করলে লব ও হর সঠিকভাবে বসানো যায়।
  • ভগ্নাংশের মান বোঝার জন্য সেটিকে বাস্তব পরিমাণের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উপকারী।
  • কেনাকাটা, রান্না, মাপজোক ও সময় ভাগ করার কাজে স্বাভাবিক সংখ্যা এবং ভগ্নাংশের সঠিক ব্যবহার প্রয়োজন।

১.১৩ বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (১-১০)

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
১। একটি খাতায় ১৮টি কলম আছে। প্রথমে ৭টি কলম নেওয়া হলো, তারপর আরও ৫টি কলম যোগ করা হলো। শেষ অবস্থা কোনটি সঠিকভাবে প্রকাশ করে?
ক ১৮ − ৭ + ৫ = ১৬খ ১৮ + ৭ − ৫ = ২০গ ১৮ − ৭ − ৫ = ৬ঘ ১৮ + ৭ + ৫ = ৩০
উত্তর: [ক] ১৮ − ৭ + ৫ = ১৬। কারণ, প্রথমে ৭ বিয়োগ এবং পরে ৫ যোগ করতে হবে।

২। একটি কেকের অংশ ছিল। তার মধ্যে অংশ খাওয়া হলো। অবশিষ্ট অংশের সঠিক মান কোনটি?
১২১২
উত্তর: [খ] ১২। কারণ, কেকের অবশিষ্ট অংশের সঠিক মান ৭/১২।

৩। নিচের কোন ভগ্নাংশটি এবং —এই দুই ভগ্নাংশের মাঝখানে আছে?
উত্তর: [ক] ৫/৮। কারণ, ৫/৮ ভগ্নাংশটি ২/৩ ও ৩/৪-এর মাঝখানে আছে।

৪। একটি থলিতে ১২টি মার্বেল ছিল। প্রতি বন্ধু সমান সংখ্যায় মার্বেল পেলে ৪ জন বন্ধু কতটি করে মার্বেল পাবে?
ক ২টিখ ৩টিগ ৪টিঘ ৬টি
উত্তর: [খ] ৩টি। কারণ, ১২টি মার্বেল ৪ জনের মধ্যে সমান ভাগে দিলে ১২ ÷ ৪ = ৩।

৫। একটি সংখ্যার সাথে ৬ যোগ করলে ফল ১৫ হয়। সংখ্যাটি কোনটি?
ক ৯খ ২১গ ১০ঘ ৮
উত্তর: [ক] ৯। কারণ, ৯ + ৬ = ১৫।

৬। (অনুশীলনের জন্য অতিরিক্ত) নিচের কোনটি স্বাভাবিক সংখ্যা দিয়ে প্রকাশ করা যায়?
ক একটি পিঠার অংশখ ১২টি খাতাগ একটি কাগজের অংশঘ একটি লুচির অংশ
উত্তর: [খ] ১২টি খাতা। কারণ, সম্পূর্ণ গণনাযোগ্য বস্তুর সংখ্যা স্বাভাবিক সংখ্যা দিয়ে প্রকাশ করা হয়।

৭। (অনুশীলনের জন্য অতিরিক্ত) ভগ্নাংশ -এ লব ও হর কোনটি?
ক লব ৫, হর ৩খ লব ৩, হর ৫গ লব ৩, হর ৩ঘ লব ৫, হর ৫
উত্তর: [খ] লব ৩, হর ৫। কারণ, উপরের সংখ্যা লব এবং নিচের সংখ্যা হর।

৮। (অনুশীলনের জন্য অতিরিক্ত) ভগ্নাংশের অর্থ ঠিক রাখতে পূর্ণ জিনিসকে কীভাবে ভাগ করতে হয়?
ক অসমান ভাগেখ সমান ভাগেগ না ভাগ করেঘ শুধু দুই ভাগে
উত্তর: [খ] সমান ভাগে। কারণ, ভগ্নাংশ সমান অংশকে বোঝায়।

৯। (অনুশীলনের জন্য অতিরিক্ত) একটি পূর্ণ পিঠা ৪টি সমান ভাগে কাটা হলো এবং ৩টি ভাগ নেওয়া হলো। ভগ্নাংশটি কোনটি?
উত্তর: [খ] ৩/৪। কারণ, নেওয়া অংশ ৩টি, তাই লব ৩; মোট সমান ভাগ ৪টি, তাই হর ৪।

১০। (অনুশীলনের জন্য অতিরিক্ত) নিচের কোন বক্তব্যটি সঠিক?
ক লব নিচে থাকেখ হর নেওয়া অংশের সংখ্যা বোঝায়গ লব নেওয়া অংশের সংখ্যা বোঝায়ঘ অসমান ভাগে ভগ্নাংশের অর্থ ঠিক থাকে
উত্তর: [গ] লব নেওয়া অংশের সংখ্যা বোঝায়। কারণ, ভগ্নাংশের উপরের সংখ্যা হলো লব।
উত্তরমালা
১—ক, ২—খ, ৩—ক, ৪—খ, ৫—ক, ৬—খ, ৭—খ, ৮—খ, ৯—খ, ১০—গ।

১.১৪ প্রশ্ন দেখে Type চেনার ধাপ

Type-১ : গতিবেগ চেনা

প্রশ্নে ‘দূরত্ব’, ‘সময়’ ও ‘গতিবেগ’ শব্দ খুঁজে বের করো। দূরত্ব ও সময় দেওয়া থাকলে গতিবেগ নির্ণয় করতে হবে।

শর্টকাট পদ্ধতি
গতিবেগ = দূরত্ব ÷ সময়

জেনে রাখুন: দূরত্ব ও সময়ের একক মিলিয়ে তারপর ভাগ করতে হয়।

সমাধানকৃত উদাহরণ: ৩২০ কি.মি. পথ ৪ ঘণ্টায় অতিক্রম করলে গতিবেগ কত?

প্রচলিত পদ্ধতি:

ধাপ ১: দূরত্ব = ৩২০ কি.মি।

ধাপ ২: সময় = ৪ ঘণ্টা।

ধাপ ৩: গতিবেগ = ৩২০ ÷ ৪।

ধাপ ৪: ৩২০ ÷ ৪ = ৮০।

∴ উত্তর: ৮০ কি.মি./ঘণ্টা।

শর্টকাটে: ৩২০ কে ৪ দিয়ে ভাগ করলেই সরাসরি ৮০ পাওয়া যায়। তাই সময় কম লাগে।

অনুশীলন প্রশ্ন ও সমাধান: প্রশ্নে ৩২০ কি.মি. এবং ৪ ঘণ্টা থাকলে কোন রাশি নির্ণয় করতে হবে? সমাধান: দূরত্ব ও সময় দেওয়া আছে, তাই গতিবেগ নির্ণয় করতে হবে। ∴ উত্তর: গতিবেগ।

Type-২ : একক রূপান্তর চেনা

প্রশ্নে ‘মি./সে.’ ও ‘কি.মি./ঘণ্টা’ থাকলে একক বদলাতে হবে। রূপান্তরের সময় সংখ্যার সঙ্গে এককও লিখবে।

শর্টকাট পদ্ধতি
মি./সে. থেকে কি.মি./ঘণ্টা = × ১৮

জেনে রাখুন: ৩০ মি./সে. দেখলে ১৮/৫ দিয়ে গুণ করতে হবে।

সমাধানকৃত উদাহরণ: ৩০ মি./সে. কে কি.মি./ঘণ্টায় প্রকাশ করো।

প্রচলিত পদ্ধতি: মি./সে. থেকে কি.মি./ঘণ্টায় যেতে ১৮/৫ দিয়ে গুণ করতে হয়।

ধাপ ১: ৩০ × ১৮ ÷ ৫।

ধাপ ২: ৩০ × ১৮ ÷ ৫ = ১০৮।

∴ উত্তর: ১০৮ কি.মি./ঘণ্টা।

শর্টকাটে: ৩০ × ১৮ ÷ ৫ করলেই দ্রুত ১০৮ পাওয়া যায়।

অনুশীলন প্রশ্ন ও সমাধান: ‘মি./সে.’ থেকে ‘কি.মি./ঘণ্টা’ করতে কোন ক্রিয়া হবে? ∴ উত্তর: ১৮/৫ দিয়ে গুণ।

Type-৩ : ট্রেন–খুঁটি ও প্ল্যাটফর্ম চেনা

‘খুঁটি অতিক্রম’ থাকলে দূরত্ব শুধু ট্রেনের দৈর্ঘ্য। ‘প্ল্যাটফর্ম অতিক্রম’ থাকলে ট্রেন ও প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য যোগ করতে হয়।

শর্টকাট পদ্ধতি
সময় = দূরত্ব ÷ গতিবেগ
খুঁটি: দূরত্ব = ট্রেনের দৈর্ঘ্য
প্ল্যাটফর্ম: দূরত্ব = ট্রেনের দৈর্ঘ্য + প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য

জেনে রাখুন: ১০৮ কি.মি./ঘণ্টা = ৩০ মি./সে.; তাই মিটারে দূরত্ব থাকলে বেগও মি./সে. করতে হবে।

সমাধানকৃত উদাহরণ: ট্রেনের দৈর্ঘ্য ৩০০ মিটার, গতিবেগ ১০৮ কি.মি./ঘণ্টা। খুঁটি অতিক্রমে সময় কত?

প্রচলিত পদ্ধতি:

ধাপ ১: ১০৮ কি.মি./ঘণ্টা = ৩০ মি./সে।

ধাপ ২: খুঁটির ক্ষেত্রে দূরত্ব = ৩০০ মিটার।

ধাপ ৩: সময় = ৩০০ ÷ ৩০ = ১০ সেকেন্ড।

∴ উত্তর: ১০ সেকেন্ড।

শর্টকাটে: ৩০০ ÷ ৩০ করলেই সরাসরি ১০ সেকেন্ড পাওয়া যায়।

অনুশীলন প্রশ্ন ও সমাধান: একই ট্রেন ৬০০ মিটার প্ল্যাটফর্ম অতিক্রম করলে দূরত্ব কত হবে? সমাধান: ৩০০ + ৬০০ = ৯০০ মিটার। ∴ উত্তর: ৯০০ মিটার।

Type-৪ : দিক ও আপেক্ষিক বেগ চেনা

‘বিপরীত দিকে’ থাকলে বেগ যোগ হয়, আর ‘একই দিকে’ থাকলে বেগের পার্থক্য নেওয়া হয়। এরপর মোট দৈর্ঘ্যকে আপেক্ষিক বেগ দিয়ে ভাগ করো।

শর্টকাট পদ্ধতি
বিপরীত দিকে: আপেক্ষিক বেগ = বেগের যোগ
সময় = মোট দৈর্ঘ্য ÷ আপেক্ষিক বেগ

জেনে রাখুন: ১৫০ মিটার ও ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের দুই ট্রেন অতিক্রমের সময়ে মোট দূরত্ব = ৩০০ মিটার।

সমাধানকৃত উদাহরণ: দুই ট্রেনের দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার ও ১৫০ মিটার; গতিবেগ ৭২ ও ১৮ কি.মি./ঘণ্টা। তারা বিপরীত দিকে চললে অতিক্রমে সময় কত?

প্রচলিত পদ্ধতি:

ধাপ ১: ৭২ কি.মি./ঘণ্টা = ২০ মি./সে. এবং ১৮ কি.মি./ঘণ্টা = ৫ মি./সে।

ধাপ ২: আপেক্ষিক বেগ = ২০ + ৫ = ২৫ মি./সে।

ধাপ ৩: মোট দূরত্ব = ১৫০ + ১৫০ = ৩০০ মিটার।

ধাপ ৪: সময় = ৩০০ ÷ ২৫ = ১২ সেকেন্ড।

∴ উত্তর: ১২ সেকেন্ড।

শর্টকাটে: মোট দৈর্ঘ্য ৩০০ মিটার ও আপেক্ষিক বেগ ২৫ মি./সে. পেলেই ৩০০ ÷ ২৫ = ১২ সেকেন্ড।

অনুশীলন প্রশ্ন ও সমাধান: একই দিকে চললে আপেক্ষিক বেগ কীভাবে নেওয়া হয়? ∴ উত্তর: বেগের পার্থক্য নেওয়া হয়।

Type-৫ : নৌকা ও গড় গতিবেগ চেনা

‘অনুকূলে’ থাকলে নৌকার বেগের সঙ্গে স্রোতের বেগ যোগ হয়, ‘প্রতিকূলে’ থাকলে বিয়োগ হয়। সমান দূরত্বে দুই গতিবেগ থাকলে গড় গতিবেগের সূত্র ব্যবহার করা যায়।

শর্টকাট পদ্ধতি
অনুকূলে বেগ = নৌকার বেগ + স্রোতের বেগ
প্রতিকূলে বেগ = নৌকার বেগ − স্রোতের বেগ
গড় গতিবেগ = ২ × ৩০ × ৪৫ ÷ (৩০ + ৪৫)

জেনে রাখুন: স্থির জলে নৌকার বেগ ১৫ কি.মি./ঘণ্টা এবং স্রোতের বেগ ৪ কি.মি./ঘণ্টা হলে অনুকূলে বেগ ১৯ ও প্রতিকূলে বেগ ১১ কি.মি./ঘণ্টা।

সমাধানকৃত উদাহরণ: ৪১৮ কি.মি. যেতে অনুকূলে সময় কত?

প্রচলিত পদ্ধতি:

ধাপ ১: অনুকূলে বেগ = ১৫ + ৪ = ১৯ কি.মি./ঘণ্টা।

ধাপ ২: সময় = ৪১৮ ÷ ১৯।

ধাপ ৩: ৪১৮ ÷ ১৯ = ২২ ঘণ্টা।

∴ উত্তর: ২২ ঘণ্টা।

শর্টকাটে: অনুকূলে বেগ ১৯ জানলেই ৪১৮ ÷ ১৯ = ২২ ঘণ্টা।

অনুশীলন প্রশ্ন ও সমাধান: ৩০ ও ৪৫ কি.মি./ঘণ্টা বেগে সমান দূরত্ব অতিক্রম করলে গড় গতিবেগ কত? প্রচলিত পদ্ধতিতে মোট দূরত্ব ও মোট সময়ের অনুপাত নেওয়া হয়। শর্টকাটে: ২ × ৩০ × ৪৫ ÷ (৩০ + ৪৫) = ৩৬। ∴ উত্তর: ৩৬ কি.মি./ঘণ্টা।

১.১৫ মিশ্র অনুশীলন (সমাধানসহ)

Type-১ : গতিবেগ নির্ণয়
শর্টকাট পদ্ধতি
গতিবেগ = দূরত্ব ÷ সময়
জেনে রাখুন: দূরত্ব ও সময়ের একক মিলিয়ে তারপর ভাগ করতে হয়।
উদাহরণ: একটি পথের দৈর্ঘ্য ১৬০ কি.মি. এবং সময় ৪ ঘণ্টা। গতিবেগ নির্ণয় করো।
সমাধান:
ধাপ ১: দূরত্ব = ১৬০ কি.মি.
ধাপ ২: সময় = ৪ ঘণ্টা
ধাপ ৩: গতিবেগ = দূরত্ব ÷ সময়
ধাপ ৪: গতিবেগ = ১৬০ ÷ ৪
ধাপ ৫: গতিবেগ = ৪০ কি.মি./ঘণ্টা
∴ উত্তর: ৪০ কি.মি./ঘণ্টা।
অনুশীলন প্রশ্ন: একই হিসাব শর্টকাট পদ্ধতিতে করো।
সমাধান:
শর্টকাটে ১৬০-কে ৪ দিয়ে ভাগ করলেই পাওয়া যায়:
১৬০ ÷ ৪ = ৪০ কি.মি./ঘণ্টা
∴ উত্তর: ৪০ কি.মি./ঘণ্টা।
সময়ের তুলনা: প্রচলিত পদ্ধতিতে সূত্র বসিয়ে ধাপ দেখাতে হয়; শর্টকাটে সরাসরি ১৬০ ÷ ৪ করলেই উত্তর পাওয়া যায়।
Type-২ : একক রূপান্তর
শর্টকাট পদ্ধতি
মি./সে. থেকে কি.মি./ঘণ্টা = × ১৮
জেনে রাখুন: রূপান্তরের সময় সংখ্যার সঙ্গে এককও পরিবর্তন করতে হয়।
উদাহরণ: ৫ মি./সে.-কে কি.মি./ঘণ্টায় প্রকাশ করো।
সমাধান:
ধাপ ১: মি./সে. থেকে কি.মি./ঘণ্টায় যেতে ১৮ দিয়ে গুণ করতে হয়।
ধাপ ২: ৫ × ১৮ = ১৮
∴ উত্তর: ১৮ কি.মি./ঘণ্টা।
অনুশীলন প্রশ্ন: শর্টকাটে রূপান্তরটি যাচাই করো।
সমাধান:
৫ × ১৮ ÷ ৫ = ৯০ ÷ ৫ = ১৮ কি.মি./ঘণ্টা
∴ উত্তর: ১৮ কি.মি./ঘণ্টা।
সময়ের তুলনা: প্রচলিত পদ্ধতিতে রূপান্তরের নিয়ম লিখে ধাপে ধাপে গুণ ও ভাগ করা হয়; শর্টকাটে ৫ × ১৮ ÷ ৫ করলেই দ্রুত উত্তর পাওয়া যায়।
Type-৩ : ট্রেন ও খুঁটি
শর্টকাট পদ্ধতি
সময় = দূরত্ব ÷ গতিবেগ; খুঁটি অতিক্রমে দূরত্ব = ট্রেনের দৈর্ঘ্য
জেনে রাখুন: ট্রেন খুঁটি অতিক্রম করলে অতিক্রমের দূরত্ব ট্রেনের দৈর্ঘ্যের সমান হয়।
উদাহরণ: একটি ট্রেনের দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার এবং গতিবেগ ৩৬ কি.মি./ঘণ্টা। খুঁটি অতিক্রমে সময় কত?
সমাধান:
ধাপ ১: ৩৬ কি.মি./ঘণ্টা = ৩৬ × ১৮ = ১০ মি./সে.
ধাপ ২: অতিক্রমের দূরত্ব = ১৫০ মিটার
ধাপ ৩: সময় = ১৫০ ÷ ১০
ধাপ ৪: সময় = ১৫ সেকেন্ড
∴ উত্তর: ১৫ সেকেন্ড।
অনুশীলন প্রশ্ন: শর্টকাট পদ্ধতিতে সময় নির্ণয় করো।
সমাধান:
৩৬ কি.মি./ঘণ্টা = ১০ মি./সে.; তাই ১৫০ ÷ ১০ = ১৫ সেকেন্ড।
∴ উত্তর: ১৫ সেকেন্ড।
সময়ের তুলনা: প্রচলিত পদ্ধতিতে আগে একক রূপান্তর করতে হয়; শর্টকাটে ৩৬ কি.মি./ঘণ্টা যে ১০ মি./সে., তা ব্যবহার করে সরাসরি ভাগ করা যায়।
Type-৪ : ট্রেন ও প্ল্যাটফর্ম
শর্টকাট পদ্ধতি
সময় = (ট্রেনের দৈর্ঘ্য + প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য) ÷ গতিবেগ
জেনে রাখুন: প্ল্যাটফর্ম অতিক্রমে ট্রেনের দৈর্ঘ্য ও প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য যোগ করতে হয়।
উদাহরণ: ১৫০ মিটার লম্বা ট্রেন ১০ মি./সে. বেগে ১৪০ মিটার প্ল্যাটফর্ম অতিক্রম করে। সময় নির্ণয় করো।
সমাধান:
ধাপ ১: মোট দূরত্ব = ১৫০ + ১৪০ = ২৯০ মিটার
ধাপ ২: গতিবেগ = ১০ মি./সে.
ধাপ ৩: সময় = দূরত্ব ÷ গতিবেগ
ধাপ ৪: সময় = ২৯০ ÷ ১০
ধাপ ৫: সময় = ২৯ সেকেন্ড
∴ উত্তর: ২৯ সেকেন্ড।
অনুশীলন প্রশ্ন: শর্টকাটে একই সমস্যার উত্তর লেখো।
সমাধান:
(১৫০ + ১৪০) ÷ ১০ = ২৯ সেকেন্ড
∴ উত্তর: ২৯ সেকেন্ড।
সময়ের তুলনা: প্রচলিত পদ্ধতিতে মোট দূরত্ব আলাদা করে বের করা হয়; শর্টকাটে সূত্রে দৈর্ঘ্য দুটির যোগফল বসিয়ে সরাসরি ভাগ করা হয়।
Type-৫ : নৌকা ও স্রোত
শর্টকাট পদ্ধতি
অনুকূলে বেগ = নৌকার বেগ + স্রোতের বেগ
প্রতিকূলে বেগ = নৌকার বেগ − স্রোতের বেগ
জেনে রাখুন: স্রোতের দিকে গেলে বেগ যোগ হয়, বিপরীত দিকে গেলে বেগ বিয়োগ হয়।
উদাহরণ: স্থির জলে নৌকার বেগ ১৮ কি.মি./ঘণ্টা এবং স্রোতের বেগ ৫ কি.মি./ঘণ্টা। ৫৯৮ কি.মি. যেতে অনুকূলে ও প্রতিকূলে সময় নির্ণয় করো।
সমাধান:
ধাপ ১: অনুকূলে বেগ = ১৮ + ৫ = ২৩ কি.মি./ঘণ্টা
ধাপ ২: অনুকূলে সময় = ৫৯৮ ÷ ২৩ = ২৬ ঘণ্টা
ধাপ ৩: প্রতিকূলে বেগ = ১৮ − ৫ = ১৩ কি.মি./ঘণ্টা
ধাপ ৪: প্রতিকূলে সময় = ৫৯৮ ÷ ১৩ = ৪৬ ঘণ্টা
∴ উত্তর: অনুকূলে ২৬ ঘণ্টা এবং প্রতিকূলে ৪৬ ঘণ্টা।
অনুশীলন প্রশ্ন: শর্টকাট সূত্রে দুই দিকের সময় যাচাই করো।
সমাধান:
অনুকূলে: (১৮ + ৫) = ২৩ কি.মি./ঘণ্টা; ৫৯৮ ÷ ২৩ = ২৬ ঘণ্টা।
প্রতিকূলে: (১৮ − ৫) = ১৩ কি.মি./ঘণ্টা; ৫৯৮ ÷ ১৩ = ৪৬ ঘণ্টা।
∴ উত্তর: অনুকূলে ২৬ ঘণ্টা এবং প্রতিকূলে ৪৬ ঘণ্টা।
সময়ের তুলনা: প্রচলিত পদ্ধতিতে আগে দুই দিকের বেগ নির্ণয় করা হয়; শর্টকাটে যোগ-বিয়োগের সূত্র বসিয়ে দ্রুত সময় বের করা যায়।
Type-৬ : সমান দূরত্বের গড় গতিবেগ
শর্টকাট পদ্ধতি
গড় গতিবেগ = ২ × প্রথম বেগ × দ্বিতীয় বেগপ্রথম বেগ + দ্বিতীয় বেগ
জেনে রাখুন: সমান দূরত্বে গড় গতিবেগ মোট দূরত্ব ও মোট সময়ের অনুপাত দিয়ে নির্ণয় করা হয়।
উদাহরণ: একটি যান ৪০ কি.মি./ঘণ্টা এবং ৬০ কি.মি./ঘণ্টা বেগে সমান দূরত্ব অতিক্রম করে। গড় গতিবেগ নির্ণয় করো।
সমাধান:
ধাপ ১: সমান দূরত্বের প্রতিটি অংশকে ১টি করে একক দূরত্ব ধরা হলো।
ধাপ ২: মোট দূরত্ব = ১ + ১ = ২ একক দূরত্ব।
ধাপ ৩: প্রথম অংশের সময় = ১ ÷ ৪০ ঘণ্টা।
ধাপ ৪: দ্বিতীয় অংশের সময় = ১ ÷ ৬০ ঘণ্টা।
ধাপ ৫: মোট সময় = ৪০ + ৬০ = ১২০ ঘণ্টা।
ধাপ ৬: গড় গতিবেগ = ২ ÷ ১২০ = ৪৮ কি.মি./ঘণ্টা।
∴ উত্তর: ৪৮ কি.মি./ঘণ্টা।
অনুশীলন প্রশ্ন: শর্টকাট সূত্রে গড় গতিবেগ যাচাই করো।
সমাধান:
গড় গতিবেগ = ২ × ৪০ × ৬০ ÷ (৪০ + ৬০)
= ৪৮০০ ÷ ১০০
= ৪৮ কি.মি./ঘণ্টা
∴ উত্তর: ৪৮ কি.মি./ঘণ্টা।
সময়ের তুলনা: প্রচলিত পদ্ধতিতে মোট দূরত্ব ও মোট সময়ের অনুপাত নেওয়া হয়; শর্টকাটে নির্দিষ্ট সূত্রে মান বসিয়ে দ্রুত উত্তর পাওয়া যায়।

১.১৬ দ্রুত রিভিশন চার্ট

📌 পাঠ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি
  • স্বাভাবিক সংখ্যা গণনার জন্য ব্যবহৃত হয় এবং সম্পূর্ণ গণনাযোগ্য বস্তুর মোট সংখ্যা জানায়।
  • ভগ্নাংশ কোনো পূর্ণ জিনিসের সমান অংশের কতটি নেওয়া হয়েছে তা প্রকাশ করে।
  • ভগ্নাংশ ব্যবহার করার আগে পূর্ণ জিনিসকে সমান ভাগে ভাগ করতে হয়।
  • সমান ভাগ না হলে প্রতিটি অংশের মান এক থাকে না এবং নির্দিষ্ট ভগ্নাংশ প্রকাশ করা সঠিক হয় না।
  • ভগ্নাংশের উপরের সংখ্যাকে লব বলা হয় এবং লব নেওয়া অংশের সংখ্যা বোঝায়।
  • ভগ্নাংশের নিচের সংখ্যাকে হর বলা হয় এবং হর মোট সমান ভাগের সংখ্যা বোঝায়।
  • ভগ্নাংশ নির্ণয়ের সময় আগে মোট সমান ভাগ এবং পরে নেওয়া অংশ নির্ধারণ করলে লব ও হর সঠিকভাবে বসানো যায়।
  • লব ও হর উল্টো লিখলে ভগ্নাংশের অর্থ পরিবর্তিত হয়ে যায়।
  • স্বাভাবিক সংখ্যা সম্পূর্ণ বস্তুর গণনা নির্দেশ করে, আর ভগ্নাংশ পূর্ণ বস্তুর অংশ নির্দেশ করে।
  • কোনো সংখ্যা ব্যবহারের আগে বুঝতে হয় সম্পূর্ণ বস্তু গোনা হচ্ছে, নাকি কোনো পূর্ণ বস্তুর অংশ প্রকাশ করা হচ্ছে।
  • একটি পূর্ণ জিনিস ও তার অংশ একসঙ্গে প্রকাশ করতে স্বাভাবিক সংখ্যা ও ভগ্নাংশ উভয়ই ব্যবহার করা যায়।
  • কেনাকাটা, রান্না, মাপজোক এবং সময় ভাগ করে নেওয়ার কাজে স্বাভাবিক সংখ্যা ও ভগ্নাংশের সঠিক ব্যবহার প্রয়োজন।

১.১৭ সংক্ষিপ্ত পুনরালোচনা

এই অংশে দূরত্ব, সময় ও গতিবেগের সম্পর্ক একসঙ্গে মনে রাখো। গতিবেগ = দূরত্ব ÷ সময়, সময় = দূরত্ব ÷ গতিবেগ এবং দূরত্ব = গতিবেগ × সময়। যেমন, ২৫০ কি.মি. পথ ৫ ঘণ্টায় অতিক্রম করলে গতিবেগ = ২৫০ ÷ ৫ = ৫০ কি.মি./ঘণ্টা। প্রচলিত পদ্ধতিতে আগে দেওয়া রাশি ও নির্ণেয় রাশি চিহ্নিত করে হিসাব করা হয়; শর্টকাটে সরাসরি উপযুক্ত সূত্র বসিয়ে দ্রুত উত্তর পাওয়া যায়।

শর্টকাট পদ্ধতি
কি.মি./ঘণ্টা থেকে মি./সে. = × ১৮
মি./সে. থেকে কি.মি./ঘণ্টা = × ১৮
। প্রচলিতভাবে একক পরিবর্তনের নিয়ম লিখে গুণ করতে হয়; শর্টকাটে ২৫ মি./সে. × ১৮ ÷ ৫ = ৯০ কি.মি./ঘণ্টা।

ট্রেনের ক্ষেত্রে খুঁটি অতিক্রমের দূরত্ব ট্রেনের দৈর্ঘ্য, আর প্ল্যাটফর্ম অতিক্রমের দূরত্ব ট্রেন ও প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্যের যোগফল। ১০০ মিটার দীর্ঘ ট্রেনের গতিবেগ ৩৬ কি.মি./ঘণ্টা = ১০ মি./সে. হলে খুঁটি অতিক্রমের সময় = ১০০ ÷ ১০ = ১০ সেকেন্ড। ২০০ মিটার প্ল্যাটফর্ম অতিক্রমে সময় = (১০০ + ২০০) ÷ ১০ = ৩০ সেকেন্ড।

বিপরীত দিকে চলা দুটি ট্রেনের আপেক্ষিক বেগ যোগ করে এবং একই দিকে চললে বেগের পার্থক্য নিয়ে হিসাব করা হয়। ১০৫ মিটার ও ১০৫ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি ট্রেনের গতিবেগ ৯০ ও ৩৬ কি.মি./ঘণ্টা হলে বিপরীত দিকে আপেক্ষিক বেগ ৩৫ মি./সে. এবং অতিক্রমের সময় ৬ সেকেন্ড। একই দিকে চলার ক্ষেত্রে আপেক্ষিক বেগ ১৫ মি./সে. হলে অতিক্রমের সময় ১৪ সেকেন্ড।

  • স্থির জলে নৌকার বেগ ১৬ কি.মি./ঘণ্টা এবং স্রোতের বেগ ২ কি.মি./ঘণ্টা।
  • অনুকূলে নৌকার বেগ = ১৬ + ২ = ১৮ কি.মি./ঘণ্টা।
  • প্রতিকূলে নৌকার বেগ = ১৬ − ২ = ১৪ কি.মি./ঘণ্টা।
  • ৫০৪ কি.মি. অনুকূলে যেতে সময় = ৫০৪ ÷ ১৮ = ২৮ ঘণ্টা।
  • ৫০৪ কি.মি. প্রতিকূলে যেতে সময় = ৫০৪ ÷ ১৪ = ৩৬ ঘণ্টা।
  • সমান দূরত্বে ৬০ ও ৪০ কি.মি./ঘণ্টা গতির গড় গতিবেগ = ২ × ৬০ × ৪০ ÷ (৬০ + ৪০)।
  • উপরের হিসাবের ফল = ৪৮ কি.মি./ঘণ্টা।
  • উত্তর লেখার সময় সংখ্যার সঙ্গে সঠিক একক—কি.মি./ঘণ্টা, মি./সে., ঘণ্টা বা সেকেন্ড—অবশ্যই লিখবে।

১.১৮ Type-৫ : ট্রেনের ক্ষেত্রে গতিবেগ

ট্রেনের সমস্যা সমাধানের আগে দূরত্ব, সময় ও গতিবেগের একক চিহ্নিত করতে হয়। ট্রেন খুঁটি অতিক্রম করলে অতিক্রান্ত দূরত্ব ট্রেনের দৈর্ঘ্যের সমান হয়। কিন্তু প্ল্যাটফর্ম অতিক্রম করার সময় ট্রেনকে নিজের দৈর্ঘ্য এবং প্ল্যাটফর্মের সম্পূর্ণ দৈর্ঘ্য—দুইটিই অতিক্রম করতে হয়।

প্রথমে প্রয়োজন হলে কি.মি./ঘণ্টাকে মি./সে.-এ রূপান্তর করে নিতে হবে। কারণ ট্রেনের দৈর্ঘ্য সাধারণত মিটারে দেওয়া থাকে এবং সময় সেকেন্ডে নির্ণয় করা হয়।

একক রূপান্তর
১ কি.মি./ঘণ্টা = ১৮ মি./সে।
১ মি./সে. = ১৮ কি.মি./ঘণ্টা

Type-১ : গতিবেগ ও একক রূপান্তর

শর্টকাট পদ্ধতি
গতিবেগ = দূরত্ব ÷ সময়
মি./সে. থেকে কি.মি./ঘণ্টা = মি./সে. × ১৮

জেনে রাখুন: দূরত্ব ও সময়ের একক একই ধরনের না হলে সরাসরি ভাগ করা যাবে না। ট্রেনের দৈর্ঘ্য মিটারে থাকলে গতিবেগকে মি./সে.-এ প্রকাশ করা সুবিধাজনক।

সমাধানকৃত উদাহরণ: ২০০ কি.মি. পথ ৪ ঘণ্টায় অতিক্রম করলে গতিবেগ নির্ণয় করো।
প্রচলিত পদ্ধতি: ধাপ ১: দূরত্ব = ২০০ কি.মি।
ধাপ ২: সময় = ৪ ঘণ্টা।
ধাপ ৩: গতিবেগ = দূরত্ব ÷ সময়।
ধাপ ৪: গতিবেগ = ২০০ ÷ ৪ = ৫০ কি.মি./ঘণ্টা।
∴ উত্তর: ৫০ কি.মি./ঘণ্টা।

শর্টকাটে: ২০০ কে ৪ দিয়ে ভাগ করলেই সরাসরি ৫০ কি.মি./ঘণ্টা পাওয়া যায়। তাই প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় কম ধাপে উত্তর পাওয়া যায়।

একক রূপান্তর: ২৫ মি./সে. = ২৫ × ১৮ = ৯০ কি.মি./ঘণ্টা।
∴ উত্তর: ৯০ কি.মি./ঘণ্টা।

অনুশীলন প্রশ্ন ও সমাধান: ২৫ মি./সে. গতিবেগকে কি.মি./ঘণ্টায় প্রকাশ করো।
সমাধান: মি./সে. থেকে কি.মি./ঘণ্টায় যেতে ১৮/৫ দিয়ে গুণ করতে হয়।
২৫ × ১৮ ÷ ৫ = ৯০।
∴ উত্তর: ৯০ কি.মি./ঘণ্টা।

Type-২ : ট্রেন ও খুঁটি অথবা প্ল্যাটফর্ম

শর্টকাট পদ্ধতি
খুঁটি অতিক্রমের সময় = ট্রেনের দৈর্ঘ্য ÷ গতিবেগ
প্ল্যাটফর্ম অতিক্রমের সময় = (ট্রেনের দৈর্ঘ্য + প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য) ÷ গতিবেগ

জেনে রাখুন: খুঁটি একটি বিন্দু, তাই খুঁটি অতিক্রমে শুধু ট্রেনের দৈর্ঘ্য অতিক্রম করতে হয়। প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রে ট্রেনের দৈর্ঘ্যের সঙ্গে প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য যোগ হয়।

ট্রেনের দৈর্ঘ্য ৩০০ মিটারপ্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য ৩০০ মিটার
চিত্রের তথ্য: ট্রেনের দৈর্ঘ্য = ৩০০ মিটার; প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য = ৩০০ মিটার।

সমাধানকৃত উদাহরণ: একটি ট্রেনের দৈর্ঘ্য ৩০০ মিটার এবং গতিবেগ ১০৮ কি.মি./ঘণ্টা। ট্রেনটি একটি খুঁটি অতিক্রম করতে কত সময় নেবে?
প্রচলিত পদ্ধতি: ধাপ ১: ১০৮ কি.মি./ঘণ্টা = ১০৮ × ৫ ÷ ১৮ = ৩০ মি./সে।
ধাপ ২: অতিক্রান্ত দূরত্ব = ট্রেনের দৈর্ঘ্য = ৩০০ মিটার।
ধাপ ৩: সময় = দূরত্ব ÷ গতিবেগ।
ধাপ ৪: সময় = ৩০০ ÷ ৩০ = ১০ সেকেন্ড।
∴ উত্তর: ১০ সেকেন্ড।

শর্টকাটে: ১০৮ কি.মি./ঘণ্টা আগে ৩০ মি./সে. করে ৩০০ ÷ ৩০ = ১০ সেকেন্ড।

প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রে: সময় = (৩০০ + ৩০০) ÷ ৩০ = ৬০০ ÷ ৩০ = ২০ সেকেন্ড।
∴ উত্তর: ২০ সেকেন্ড।

অনুশীলন প্রশ্ন ও সমাধান: একই ট্রেনটি ৩০০ মিটার দৈর্ঘ্যের প্ল্যাটফর্ম অতিক্রম করলে সময় কত হবে?
সমাধান: ধাপ ১: ট্রেন ও প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে দূরত্ব = ৩০০ + ৩০০ = ৬০০ মিটার।
ধাপ ২: গতিবেগ = ৩০ মি./সে।
ধাপ ৩: সময় = ৬০০ ÷ ৩০ = ২০ সেকেন্ড।
∴ উত্তর: ২০ সেকেন্ড।

Type-৩ : দুই ট্রেনের আপেক্ষিক গতিবেগ

শর্টকাট পদ্ধতি
বিপরীত দিকে চললে আপেক্ষিক বেগ = দুই বেগের যোগফল
একই দিকে চললে আপেক্ষিক বেগ = দুই বেগের পার্থক্য
অতিক্রমের সময় = মোট দৈর্ঘ্য ÷ আপেক্ষিক বেগ

জেনে রাখুন: দুই ট্রেন বিপরীত দিকে চললে তারা দ্রুত একে অপরের কাছে আসে, তাই বেগ যোগ হয়। একই দিকে চললে দ্রুত ট্রেনটি ধীর ট্রেনকে যতটুকু বেশি বেগে অতিক্রম করে, সেটিই আপেক্ষিক বেগ।

সমাধানকৃত উদাহরণ: ১৫৭ মিটার ও ১৫৮ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি ট্রেন বিপরীত দিকে যথাক্রমে ৯০ কি.মি./ঘণ্টা ও ৩৬ কি.মি./ঘণ্টা বেগে চলছে। তারা কত সময়ে একে অপরকে অতিক্রম করবে?
প্রচলিত পদ্ধতি: ধাপ ১: মোট দৈর্ঘ্য = ১৫৭ + ১৫৮ = ৩১৫ মিটার।
ধাপ ২: আপেক্ষিক বেগ = ৯০ + ৩৬ = ১২৬ কি.মি./ঘণ্টা।
ধাপ ৩: ১২৬ কি.মি./ঘণ্টা = ১২৬ × ৫ ÷ ১৮ = ৩৫ মি./সে।
ধাপ ৪: সময় = ৩১৫ ÷ ৩৫ = ৯ সেকেন্ড।
∴ উত্তর: ৯ সেকেন্ড।

শর্টকাটে: মোট দৈর্ঘ্য ৩১৫ মিটার এবং আপেক্ষিক বেগ ৩৫ মি./সে. পেলেই ৩১৫ ÷ ৩৫ = ৯ সেকেন্ড।

অনুশীলন প্রশ্ন ও সমাধান: একই দিকে চলা দুই ট্রেনের মোট দৈর্ঘ্য ৩১৫ মিটার এবং আপেক্ষিক বেগ ১৫ মি./সে. হলে অতিক্রমের সময় কত?
সমাধান: সময় = মোট দৈর্ঘ্য ÷ আপেক্ষিক বেগ = ৩১৫ ÷ ১৫ = ২১ সেকেন্ড।
∴ উত্তর: ২১ সেকেন্ড।

Type-৪ : নৌকা ও স্রোতের বেগ

শর্টকাট পদ্ধতি
অনুকূলে বেগ = স্থির জলে নৌকার বেগ + স্রোতের বেগ
প্রতিকূলে বেগ = স্থির জলে নৌকার বেগ − স্রোতের বেগ
সময় = দূরত্ব ÷ বেগ

জেনে রাখুন: স্রোতের দিকে গেলে স্রোত নৌকার বেগ বাড়ায়। স্রোতের বিপরীতে গেলে স্রোত নৌকার চলার বিপরীত দিকে কাজ করে, তাই বেগ কমে যায়।

সমাধানকৃত উদাহরণ: স্থির জলে নৌকার বেগ ২০ কি.মি./ঘণ্টা এবং স্রোতের বেগ ৩ কি.মি./ঘণ্টা। ৩৯১ কি.মি. দূরত্ব যেতে অনুকূলে ও প্রতিকূলে সময় নির্ণয় করো।
প্রচলিত পদ্ধতি: ধাপ ১: অনুকূলে বেগ = ২০ + ৩ = ২৩ কি.মি./ঘণ্টা।
ধাপ ২: অনুকূলে সময় = ৩৯১ ÷ ২৩ = ১৭ ঘণ্টা।
ধাপ ৩: প্রতিকূলে বেগ = ২০ − ৩ = ১৭ কি.মি./ঘণ্টা।
ধাপ ৪: প্রতিকূলে সময় = ৩৯১ ÷ ১৭ = ২৩ ঘণ্টা।
∴ উত্তর: অনুকূলে ১৭ ঘণ্টা এবং প্রতিকূলে ২৩ ঘণ্টা।

শর্টকাটে: আগে ২০ + ৩ = ২৩ এবং ২০ − ৩ = ১৭ নির্ণয় করে দূরত্বকে সংশ্লিষ্ট বেগ দিয়ে ভাগ করলেই দ্রুত সময় পাওয়া যায়।

অনুশীলন প্রশ্ন ও সমাধান: ৩৯১ কি.মি. দূরত্বে নৌকাটি প্রতিকূলে চললে কত সময় লাগবে?
সমাধান: প্রতিকূলে বেগ = ২০ − ৩ = ১৭ কি.মি./ঘণ্টা।
সময় = ৩৯১ ÷ ১৭ = ২৩ ঘণ্টা।
∴ উত্তর: ২৩ ঘণ্টা।

Type-৫ : সমান দূরত্বে গড় গতিবেগ

শর্টকাট পদ্ধতি
সমান দূরত্বে গড় গতিবেগ = ২ × প্রথম বেগ × দ্বিতীয় বেগপ্রথম বেগ + দ্বিতীয় বেগ

জেনে রাখুন: সমান দূরত্বের ক্ষেত্রে শুধু দুই গতিবেগের সাধারণ গড় নিলে সঠিক ফল নাও আসতে পারে। মোট দূরত্বকে মোট সময় দিয়ে ভাগ করলে গড় গতিবেগের ধারণা পরিষ্কার হয়।

সমাধানকৃত উদাহরণ: একটি বস্তু সমান দূরত্বের দুই অংশ ৯০ কি.মি./ঘণ্টা ও ৩০ কি.মি./ঘণ্টা বেগে অতিক্রম করল। গড় গতিবেগ নির্ণয় করো।
প্রচলিত পদ্ধতি: শর্টকাট সূত্রে প্রথম বেগ = ৯০ এবং দ্বিতীয় বেগ = ৩০ বসাই।
গড় গতিবেগ = ২ × ৯০ × ৩০ ÷ (৯০ + ৩০)।
ধাপ ১: ২ × ৯০ × ৩০ = ৫৪০০।
ধাপ ২: ৯০ + ৩০ = ১২০।
ধাপ ৩: ৫৪০০ ÷ ১২০ = ৪৫ কি.মি./ঘণ্টা।
∴ উত্তর: ৪৫ কি.মি./ঘণ্টা।

শর্টকাটে সরাসরি ২ × ৯০ × ৩০ ÷ ১২০ করলেই ৪৫ কি.মি./ঘণ্টা পাওয়া যায়। তাই আলাদা করে প্রতিটি অংশের সময় নির্ণয় করতে হয় না।

অনুশীলন প্রশ্ন ও সমাধান: সমান দূরত্বে ৯০ কি.মি./ঘণ্টা ও ৩০ কি.মি./ঘণ্টা গতিবেগ হলে গড় গতিবেগ কত?
সমাধান: গড় গতিবেগ = ২ × ৯০ × ৩০ ÷ (৯০ + ৩০) = ৫৪০০ ÷ ১২০ = ৪৫ কি.মি./ঘণ্টা।
∴ উত্তর: ৪৫ কি.মি./ঘণ্টা।

  • খুঁটি অতিক্রমে দূরত্ব = ট্রেনের দৈর্ঘ্য।
  • প্ল্যাটফর্ম অতিক্রমে দূরত্ব = ট্রেনের দৈর্ঘ্য + প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য।
  • উত্তরের শেষে অবশ্যই সঠিক একক লিখবে।

১.১৯ Type-৬ : ট্রেন–খুঁটি ও ট্রেন–প্ল্যাটফর্ম (সমাধানসহ)

শর্টকাট পদ্ধতি
সময় = দূরত্ব ÷ গতিবেগ
খুঁটি অতিক্রমের দূরত্ব = ট্রেনের দৈর্ঘ্য
প্ল্যাটফর্ম অতিক্রমের দূরত্ব = ট্রেনের দৈর্ঘ্য + প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য
কি.মি./ঘণ্টা থেকে মি./সে. = গতিবেগ × ১৮
জেনে রাখুন
ট্রেন খুঁটি অতিক্রম করলে অতিক্রমের দূরত্ব শুধু ট্রেনের দৈর্ঘ্য। ট্রেন প্ল্যাটফর্ম অতিক্রম করলে ট্রেনের দৈর্ঘ্য ও প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য যোগ করতে হয়। সময়ের একক সেকেন্ড হলে দূরত্বের একক মিটার এবং গতিবেগের একক মি./সে. রাখতে হবে।
উদাহরণ ১: একটি ট্রেনের দৈর্ঘ্য ৩৭৫ মিটার এবং গতিবেগ ৯০ কি.মি./ঘণ্টা। ট্রেনটি একটি খুঁটি অতিক্রম করতে কত সময় নেবে?
সমাধান:
ধাপ ১: ট্রেনের দৈর্ঘ্য = ৩৭৫ মিটার
ধাপ ২: দেওয়া গতিবেগ = ৯০ কি.মি./ঘণ্টা
ধাপ ৩: মি./সে.-এ গতিবেগ = ৯০ × ১৮ = ২৫ মি./সে.
ধাপ ৪: খুঁটি অতিক্রমের দূরত্ব = ৩৭৫ মিটার
ধাপ ৫: সময় = ৩৭৫ ÷ ২৫ = ১৫ সেকেন্ড
∴ উত্তর: ১৫ সেকেন্ড।
শর্টকাটে: ৯০ কি.মি./ঘণ্টা = ২৫ মি./সে.; তাই ৩৭৫ ÷ ২৫ = ১৫ সেকেন্ড। প্রচলিত পদ্ধতিতে একক রূপান্তরের ধাপ দেখাতে হয়, আর শর্টকাটে রূপান্তরটি মনে থাকায় সময় কম লাগে।
উদাহরণ ২: একটি ট্রেনের দৈর্ঘ্য ৩৭৫ মিটার। ট্রেনটি ৫০০ মিটার লম্বা একটি প্ল্যাটফর্ম ২৫ মি./সে. গতিবেগে অতিক্রম করে। সময় নির্ণয় করো।
সমাধান:
ধাপ ১: ট্রেনের দৈর্ঘ্য = ৩৭৫ মিটার
ধাপ ২: প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য = ৫০০ মিটার
ধাপ ৩: অতিক্রমের মোট দূরত্ব = ৩৭৫ + ৫০০ = ৮৭৫ মিটার
ধাপ ৪: গতিবেগ = ২৫ মি./সে.
ধাপ ৫: সময় = ৮৭৫ ÷ ২৫ = ৩৫ সেকেন্ড
∴ উত্তর: ৩৫ সেকেন্ড।
শর্টকাটে: (৩৭৫ + ৫০০) ÷ ২৫ = ৮৭৫ ÷ ২৫ = ৩৫ সেকেন্ড। আগে দুই দৈর্ঘ্য যোগ করে সরাসরি ভাগ করায় শর্টকাটে সময় কম লাগে।
অনুশীলন প্রশ্ন ১: দুটি ট্রেনের দৈর্ঘ্য ২১০ মিটার ও ২১০ মিটার। তাদের গতিবেগ যথাক্রমে ৯০ কি.মি./ঘণ্টা ও ৩৬ কি.মি./ঘণ্টা এবং তারা বিপরীত দিকে চলছে। একে অপরকে অতিক্রম করতে কত সময় লাগবে?
সমাধান:
ধাপ ১: মোট অতিক্রমের দূরত্ব = ২১০ + ২১০ = ৪২০ মিটার
ধাপ ২: আপেক্ষিক বেগ = ৩৫ মি./সে.
ধাপ ৩: সময় = ৪২০ ÷ ৩৫ = ১২ সেকেন্ড
∴ উত্তর: ১২ সেকেন্ড।
অনুশীলন প্রশ্ন ২: একই দিকে চলা দুটি ট্রেনের অতিক্রমের মোট দূরত্ব ৪২০ মিটার এবং আপেক্ষিক বেগ ১৫ মি./সে.। একে অপরকে অতিক্রম করতে কত সময় লাগবে?
সমাধান:
ধাপ ১: অতিক্রমের দূরত্ব = ৪২০ মিটার
ধাপ ২: আপেক্ষিক বেগ = ১৫ মি./সে.
ধাপ ৩: সময় = ৪২০ ÷ ১৫ = ২৮ সেকেন্ড
∴ উত্তর: ২৮ সেকেন্ড।
অনুশীলন প্রশ্ন ৩: ৯০ কি.মি./ঘণ্টা গতিবেগে চলা ৩৭৫ মিটার লম্বা একটি ট্রেন একটি খুঁটি অতিক্রম করে। খুঁটি অতিক্রমের দূরত্ব কত?
সমাধান:
ধাপ ১: খুঁটি একটি স্থির বিন্দু।
ধাপ ২: খুঁটি অতিক্রমের দূরত্ব = ট্রেনের দৈর্ঘ্য
ধাপ ৩: দূরত্ব = ৩৭৫ মিটার
∴ উত্তর: ৩৭৫ মিটার।
অনুশীলন প্রশ্ন ৪: একটি ট্রেনের দৈর্ঘ্য ৩৭৫ মিটার এবং একটি প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য ৫০০ মিটার। ট্রেনটি সম্পূর্ণ প্ল্যাটফর্ম অতিক্রম করলে মোট কত দূরত্ব অতিক্রম করবে?
সমাধান:
ধাপ ১: ট্রেনের দৈর্ঘ্য = ৩৭৫ মিটার
ধাপ ২: প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য = ৫০০ মিটার
ধাপ ৩: মোট দূরত্ব = ৩৭৫ + ৫০০ = ৮৭৫ মিটার
∴ উত্তর: ৮৭৫ মিটার।

১.২০ Type-৭ : আপেক্ষিক বেগের সূত্র

আপেক্ষিক বেগ ও গতি সম্পর্কিত সূত্রাবলি
১.বিপরীত দিকে আপেক্ষিক বেগ = বেগ + বেগ
২.একই দিকে আপেক্ষিক বেগ = বেগ − বেগ
৩.সময় = দূরত্বআপেক্ষিক বেগ
৪.গতিবেগ = দূরত্বসময়
৫.খুঁটি অতিক্রমের দূরত্ব = ট্রেনের দৈর্ঘ্য
৬.প্ল্যাটফর্ম অতিক্রমের দূরত্ব = ট্রেনের দৈর্ঘ্য + প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য
৭.কি.মি./ঘণ্টা থেকে মি./সে. = প্রদত্ত বেগ × ১৮
৮.মি./সে. থেকে কি.মি./ঘণ্টা = প্রদত্ত বেগ × ১৮
৯.অনুকূলে নৌকার বেগ = স্থির জলে নৌকার বেগ + স্রোতের বেগ
১০.প্রতিকূলে নৌকার বেগ = স্থির জলে নৌকার বেগ − স্রোতের বেগ
১১.সমান দূরত্বে গড় গতিবেগ = ২ × বেগ × বেগবেগ + বেগ
১২.দূরত্ব = গতিবেগ × সময়

১.২১ Type-৭ : দুই ট্রেন (সমাধানসহ)

Type-৭ : দুই ট্রেন
শর্টকাট পদ্ধতি
বিপরীত দিকে চললে আপেক্ষিক বেগ = প্রথম ট্রেনের বেগ + দ্বিতীয় ট্রেনের বেগ
একই দিকে চললে আপেক্ষিক বেগ = দ্রুতগামী ট্রেনের বেগ − ধীরগামী ট্রেনের বেগ
অতিক্রমের সময় = মোট দৈর্ঘ্যআপেক্ষিক বেগ
জেনে রাখুন: দুই ট্রেন সম্পূর্ণ অতিক্রম করতে মোট দৈর্ঘ্য হয় প্রথম ট্রেনের দৈর্ঘ্য ও দ্বিতীয় ট্রেনের দৈর্ঘ্যের যোগফল। বিপরীত দিকে চললে বেগ যোগ হয়, আর একই দিকে চললে বেগের পার্থক্য নেওয়া হয়। বেগের একক মিলিয়ে নিয়ে তারপর সময় নির্ণয় করতে হয়।
প্রশ্ন: দুটি ট্রেন বিপরীত দিকে চলছে। প্রথম ট্রেনের দৈর্ঘ্য ১০৫ মিটার ও গতিবেগ ৯০ কি.মি./ঘণ্টা এবং দ্বিতীয় ট্রেনের দৈর্ঘ্য ১০৫ মিটার ও গতিবেগ ৩৬ কি.মি./ঘণ্টা। ট্রেন দুটি সম্পূর্ণ অতিক্রম করতে কত সময় লাগবে?
সমাধান:
ধাপ ১: মোট অতিক্রমের দূরত্ব = ১০৫ + ১০৫ = ২১০ মিটার
ধাপ ২: বিপরীত দিকে চলায় আপেক্ষিক বেগ = ৯০ + ৩৬ = ১২৬ কি.মি./ঘণ্টা
ধাপ ৩: ১২৬ কি.মি./ঘণ্টা = ১২৬ × ১৮ = ৩৫ মি./সে.
ধাপ ৪: অতিক্রমের সময় = ২১০৩৫ = ৬ সেকেন্ড
∴ উত্তর: ৬ সেকেন্ড।
শর্টকাটে: মোট দূরত্ব ২১০ মিটার এবং আপেক্ষিক বেগ ৩৫ মি./সে. পেলেই ২১০ ÷ ৩৫ = ৬ সেকেন্ড। তাই প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় কম ধাপে উত্তর পাওয়া যায়।
প্রশ্ন: দুটি ট্রেন একই দিকে চলছে। প্রথম ট্রেনের দৈর্ঘ্য ১০৫ মিটার ও গতিবেগ ৯০ কি.মি./ঘণ্টা এবং দ্বিতীয় ট্রেনের দৈর্ঘ্য ১০৫ মিটার ও গতিবেগ ৩৬ কি.মি./ঘণ্টা। ট্রেন দুটি সম্পূর্ণ অতিক্রম করতে কত সময় লাগবে?
সমাধান:
ধাপ ১: মোট অতিক্রমের দূরত্ব = ১০৫ + ১০৫ = ২১০ মিটার
ধাপ ২: একই দিকে চলায় আপেক্ষিক বেগ = ৯০ − ৩৬ = ৫৪ কি.মি./ঘণ্টা
ধাপ ৩: ৫৪ কি.মি./ঘণ্টা = ৫৪ × ১৮ = ১৫ মি./সে.
ধাপ ৪: অতিক্রমের সময় = ২১০১৫ = ১৪ সেকেন্ড
∴ উত্তর: ১৪ সেকেন্ড।
শর্টকাটে: একই দিকে চলায় ৯০ − ৩৬ = ৫৪ কি.মি./ঘণ্টা = ১৫ মি./সে.; এরপর ২১০ ÷ ১৫ = ১৪ সেকেন্ড।
অনুশীলন প্রশ্ন ও সমাধান
প্রশ্ন: বিপরীত দিকে চলা দুটি ট্রেনের দৈর্ঘ্য ১০৫ মিটার ও ১০৫ মিটার। ট্রেন দুটি সম্পূর্ণ অতিক্রম করলে মোট দূরত্ব কত?
সমাধান:
মোট দূরত্ব = ১০৫ + ১০৫ = ২১০ মিটার
∴ উত্তর: ২১০ মিটার।
প্রশ্ন: বিপরীত দিকে চলা দুটি ট্রেনের গতিবেগ ৯০ কি.মি./ঘণ্টা ও ৩৬ কি.মি./ঘণ্টা। তাদের আপেক্ষিক বেগ কত?
সমাধান:
আপেক্ষিক বেগ = ৯০ + ৩৬ = ১২৬ কি.মি./ঘণ্টা
১২৬ কি.মি./ঘণ্টা = ১২৬ × ১৮ = ৩৫ মি./সে.
∴ উত্তর: ৩৫ মি./সে.।
প্রশ্ন: একই দিকে চলা দুটি ট্রেনের গতিবেগ ৯০ কি.মি./ঘণ্টা ও ৩৬ কি.মি./ঘণ্টা। তাদের আপেক্ষিক বেগ কত?
সমাধান:
আপেক্ষিক বেগ = ৯০ − ৩৬ = ৫৪ কি.মি./ঘণ্টা
৫৪ কি.মি./ঘণ্টা = ৫৪ × ১৮ = ১৫ মি./সে.
∴ উত্তর: ১৫ মি./সে.।
প্রশ্ন: একই দিকে চলা দুটি ট্রেনের মোট দৈর্ঘ্য ২১০ মিটার এবং আপেক্ষিক বেগ ১৫ মি./সে.। সম্পূর্ণ অতিক্রম করতে কত সময় লাগবে?
সমাধান:
অতিক্রমের সময় = মোট দৈর্ঘ্যআপেক্ষিক বেগ
= ২১০১৫ = ১৪ সেকেন্ড
∴ উত্তর: ১৪ সেকেন্ড।

১.২২ বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (১১-২০)

প্রশ্ন ১১: একটি পথের দৈর্ঘ্য ১৫০ কি.মি. এবং সময় ২ ঘণ্টা হলে—সহজ
i. গতিবেগ = দূরত্ব ÷ সময়।
ii. ১৫০ ÷ ২ = ৭৫।
iii. পথটির গতিবেগ ৬৫ কি.মি./ঘণ্টা।
নিচের কোনটি সঠিক?
i ও ii
i ও iii
ii ও iii
i, ii ও iii
উত্তর: i ও ii
ব্যাখ্যা: গতিবেগ = ১৫০ ÷ ২ = ৭৫ কি.মি./ঘণ্টা, তাই i ও ii সঠিক।
প্রশ্ন ১২: ১০ মি./সে. কে কি.মি./ঘণ্টায় প্রকাশ করলে—সহজ
i. মি./সে. থেকে কি.মি./ঘণ্টায় যেতে ১৮ দিয়ে গুণ করতে হয়।
ii. ১০ × ১৮ = ৩৬।
iii. ১০ মি./সে. = ৩৬ কি.মি./ঘণ্টা।
নিচের কোনটি সঠিক?
i ও ii
i ও iii
ii ও iii
i, ii ও iii
উত্তর: i ও iii
ব্যাখ্যা: সঠিক নিয়মে ১০ × ১৮ ÷ ৫ = ৩৬; তাই ii-তে ব্যবহৃত গুণকটি ভুল।
প্রশ্ন ১৩: ৮০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি ট্রেন ৩৬ কি.মি./ঘণ্টা গতিতে চললে খুঁটি অতিক্রমের ক্ষেত্রে—মধ্যম
i. খুঁটি অতিক্রমে অতিক্রমের দূরত্ব = ৮০ মিটার।
ii. ৩৬ কি.মি./ঘণ্টা = ১০ মি./সে.।
iii. সময় = ৮০ ÷ ১০ = ৮ সেকেন্ড।
নিচের কোনটি সঠিক?
i ও ii
i ও iii
ii ও iii
i, ii ও iii
উত্তর: i, ii ও iii
ব্যাখ্যা: খুঁটি অতিক্রমে শুধু ট্রেনের দৈর্ঘ্য ধরা হয় এবং ৩৬ কি.মি./ঘণ্টা = ১০ মি./সে.।
প্রশ্ন ১৪: ৮০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি ট্রেন ১৪০ মিটার প্ল্যাটফর্ম ১০ মি./সে. গতিতে অতিক্রম করলে—মধ্যম
i. অতিক্রমের দূরত্ব = ১৪০ মিটার।
ii. মোট দূরত্ব = ৮০ + ১৪০ = ২২০ মিটার।
iii. সময় = ২২০ ÷ ১০ = ২২ সেকেন্ড।
নিচের কোনটি সঠিক?
i ও ii
i ও iii
ii ও iii
i, ii ও iii
উত্তর: ii ও iii
ব্যাখ্যা: প্ল্যাটফর্ম অতিক্রমে ট্রেন ও প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য যোগ করে মোট দূরত্ব নির্ণয় করতে হয়।
প্রশ্ন ১৫: দুটি ট্রেন বিপরীত দিকে চলেছে। তাদের দৈর্ঘ্য ১২০ মিটার ও ১২০ মিটার এবং গতিবেগ ৯০ কি.মি./ঘণ্টা ও ১৮ কি.মি./ঘণ্টা হলে—কঠিন
i. বিপরীত দিকে চলায় আপেক্ষিক বেগ = ৩০ মি./সে.।
ii. সম্পূর্ণ অতিক্রমের সময় = ১৬ সেকেন্ড।
iii. মোট দৈর্ঘ্য = ১২০ + ১২০ = ২৪০ মিটার এবং সময় = ২৪০ ÷ ৩০ = ৮ সেকেন্ড।
নিচের কোনটি সঠিক?
i ও ii
i ও iii
ii ও iii
i, ii ও iii
উত্তর: i ও iii
ব্যাখ্যা: বিপরীত দিকে চললে বেগ যোগ হয়; মোট দূরত্ব ২৪০ মিটার, তাই সময় ৮ সেকেন্ড।
প্রশ্ন ১৬: স্থির জলে নৌকার বেগ ২০ কি.মি./ঘণ্টা এবং স্রোতের বেগ ২ কি.মি./ঘণ্টা হলে ৩৯৬ কি.মি. পথের ক্ষেত্রে—কঠিন
i. অনুকূলে বেগ = ২০ + ২ = ২২ কি.মি./ঘণ্টা।
ii. প্রতিকূলে বেগ = ২০ − ২ = ১৮ কি.মি./ঘণ্টা।
iii. অনুকূলে সময় ৩৯৬ ÷ ২২ = ১৮ ঘণ্টা এবং প্রতিকূলে সময় ৩৯৬ ÷ ১৮ = ২২ ঘণ্টা।
নিচের কোনটি সঠিক?
i ও ii
i ও iii
ii ও iii
i, ii ও iii
উত্তর: i, ii ও iii
ব্যাখ্যা: অনুকূলে স্রোতের বেগ যোগ এবং প্রতিকূলে স্রোতের বেগ বিয়োগ করতে হয়।

১.২৩ শর্টকাট বনাম প্রচলিত পদ্ধতি

একটি গাণিতিক সমস্যা সমাধানের আগে জানা রাশি, নির্ণেয় রাশি এবং একক চিহ্নিত করলে প্রচলিত পদ্ধতিতে ধাপে ধাপে হিসাব করা সহজ হয়। পরে একই সম্পর্ক মনে রেখে শর্টকাট ব্যবহার করলে কম ধাপে দ্রুত উত্তর পাওয়া যায়।

শর্টকাট কখনোই প্রচলিত পদ্ধতির বিকল্প নয়; বরং প্রচলিত পদ্ধতিতে ধারণাটি পরিষ্কার করার পর শর্টকাটে সময় বাঁচানো যায়। প্রতিটি উদাহরণে আগে প্রচলিত সমাধান, পরে শর্টকাট এবং শেষে অনুশীলন দেওয়া হলো।

Type-১ : গতিবেগ নির্ণয়

শর্টকাট পদ্ধতি
গতিবেগ = দূরত্ব ÷ সময়

জেনে রাখুন: দূরত্ব ও সময়ের একক সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে ভাগ করে গতিবেগ নির্ণয় করা যায়।

সমাধানকৃত উদাহরণ: একটি পথের দৈর্ঘ্য ১০০ কি.মি. এবং সময় ২ ঘণ্টা। গতিবেগ নির্ণয় করো।

প্রচলিত পদ্ধতি:
ধাপ ১: দূরত্ব = ১০০ কি.মি।
ধাপ ২: সময় = ২ ঘণ্টা।
ধাপ ৩: গতিবেগ = দূরত্ব ÷ সময়।
ধাপ ৪: গতিবেগ = ১০০ ÷ ২ = ৫০ কি.মি./ঘণ্টা।
∴ উত্তর: ৫০ কি.মি./ঘণ্টা।

শর্টকাটে: ১০০-কে ২ দিয়ে ভাগ করলেই সরাসরি ৫০ কি.মি./ঘণ্টা পাওয়া যায়। প্রচলিত পদ্ধতির চার ধাপের বদলে মূল সূত্রে এক ধাপেই হিসাব করা যায়।

অনুশীলন প্রশ্ন: ১০০ কি.মি. পথ ২ ঘণ্টায় অতিক্রম করলে গতিবেগ কত?
সমাধান: গতিবেগ = ১০০ ÷ ২ = ৫০ কি.মি./ঘণ্টা। ∴ উত্তর: ৫০ কি.মি./ঘণ্টা।

Type-২ : একক রূপান্তর

শর্টকাট পদ্ধতি
মি./সে. থেকে কি.মি./ঘণ্টা = × ১৮

জেনে রাখুন: একক পরিবর্তনের সময় সংখ্যার সঙ্গে এককও পরিবর্তন করতে হয়।

সমাধানকৃত উদাহরণ: ৩০ মি./সে. কে কি.মি./ঘণ্টায় প্রকাশ করো।

প্রচলিত পদ্ধতি:
ধাপ ১: মি./সে. থেকে কি.মি./ঘণ্টায় যেতে ১৮/৫ দিয়ে গুণ করতে হয়।
ধাপ ২: ৩০ × ১৮ ÷ ৫ = ১০৮।
ধাপ ৩: নতুন একক লিখি কি.মি./ঘণ্টা।
∴ উত্তর: ১০৮ কি.মি./ঘণ্টা।

শর্টকাটে: ৩০ × ১৮ ÷ ৫ = ১০৮ করলেই সরাসরি উত্তর পাওয়া যায়। এককটি শেষে যোগ করলেই সমাধান সম্পূর্ণ হয়।

অনুশীলন প্রশ্ন: ৩০ মি./সে. সমান কত কি.মি./ঘণ্টা?
সমাধান: ৩০ × ১৮ ÷ ৫ = ১০৮। ∴ উত্তর: ১০৮ কি.মি./ঘণ্টা।

Type-৩ : ট্রেন ও খুঁটি

শর্টকাট পদ্ধতি
খুঁটি অতিক্রমের সময় = ট্রেনের দৈর্ঘ্য ÷ গতিবেগ

জেনে রাখুন: ট্রেন খুঁটি অতিক্রম করলে অতিক্রমের দূরত্ব শুধু ট্রেনের দৈর্ঘ্য।

সমাধানকৃত উদাহরণ: একটি ট্রেনের দৈর্ঘ্য ৩০০ মিটার এবং গতিবেগ ৯০ কি.মি./ঘণ্টা। খুঁটি অতিক্রমে সময় নির্ণয় করো।

প্রচলিত পদ্ধতি:
ধাপ ১: ৯০ কি.মি./ঘণ্টা = ৯০ × ৫ ÷ ১৮ = ২৫ মি./সে।
ধাপ ২: অতিক্রমের দূরত্ব = ৩০০ মিটার।
ধাপ ৩: সময় = দূরত্ব ÷ গতিবেগ।
ধাপ ৪: সময় = ৩০০ ÷ ২৫ = ১২ সেকেন্ড।
∴ উত্তর: ১২ সেকেন্ড।

শর্টকাটে: ৯০ কি.মি./ঘণ্টা দেখেই ২৫ মি./সে. করে ৩০০ ÷ ২৫ = ১২ সেকেন্ড। একক রূপান্তর ও ভাগ—এই দুই ধাপেই দ্রুত সমাধান হয়।

অনুশীলন প্রশ্ন: ৩০০ মিটার দীর্ঘ ট্রেন ২৫ মি./সে. বেগে খুঁটি অতিক্রম করলে সময় কত?
সমাধান: ৩০০ ÷ ২৫ = ১২ সেকেন্ড। ∴ উত্তর: ১২ সেকেন্ড।

Type-৪ : ট্রেন ও প্ল্যাটফর্ম

শর্টকাট পদ্ধতি
প্ল্যাটফর্ম অতিক্রমের সময় = (ট্রেনের দৈর্ঘ্য + প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য) ÷ গতিবেগ

জেনে রাখুন: প্ল্যাটফর্ম অতিক্রমের সময় দূরত্ব হলো ট্রেন ও প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্যের যোগফল।

সমাধানকৃত উদাহরণ: ৩০০ মিটার দীর্ঘ ট্রেন ২৫ মি./সে. বেগে ৫০০ মিটার প্ল্যাটফর্ম অতিক্রম করে। সময় নির্ণয় করো।

প্রচলিত পদ্ধতি:
ধাপ ১: মোট দূরত্ব = ৩০০ + ৫০০ = ৮০০ মিটার।
ধাপ ২: গতিবেগ = ২৫ মি./সে।
ধাপ ৩: সময় = ৮০০ ÷ ২৫ = ৩২ সেকেন্ড।
∴ উত্তর: ৩২ সেকেন্ড।

শর্টকাটে: (৩০০ + ৫০০) ÷ ২৫ = ৩২ সেকেন্ড। সূত্রে দৈর্ঘ্য দুটির যোগ একসঙ্গে বসানো যায় বলে সময় কম লাগে।

অনুশীলন প্রশ্ন: ৩০০ মিটার ট্রেন ৫০০ মিটার প্ল্যাটফর্ম ২৫ মি./সে. বেগে অতিক্রম করলে সময় কত?
সমাধান: (৩০০ + ৫০০) ÷ ২৫ = ৩২ সেকেন্ড। ∴ উত্তর: ৩২ সেকেন্ড।

Type-৫ : বিপরীত দিকে চলা দুই ট্রেন

শর্টকাট পদ্ধতি
আপেক্ষিক বেগ = দুই বেগের যোগফল
অতিক্রমের সময় = মোট দৈর্ঘ্য ÷ আপেক্ষিক বেগ

জেনে রাখুন: বিপরীত দিকে চললে বেগ যোগ হয় এবং অতিক্রমের দূরত্ব দুই ট্রেনের দৈর্ঘ্যের যোগফল।

সমাধানকৃত উদাহরণ: ১২০ মিটার ও ১২০ মিটার দীর্ঘ দুই ট্রেনের গতিবেগ ৯০ কি.মি./ঘণ্টা ও ১৮ কি.মি./ঘণ্টা। তারা বিপরীত দিকে চললে অতিক্রমের সময় কত?

প্রচলিত পদ্ধতি:
ধাপ ১: মোট দৈর্ঘ্য = ১২০ + ১২০ = ২৪০ মিটার।
ধাপ ২: আপেক্ষিক বেগ = ৩০ মি./সে।
ধাপ ৩: সময় = ২৪০ ÷ ৩০ = ৮ সেকেন্ড।
∴ উত্তর: ৮ সেকেন্ড।

শর্টকাটে: মোট দৈর্ঘ্য ২৪০ মিটার এবং আপেক্ষিক বেগ ৩০ মি./সে. বসিয়ে ২৪০ ÷ ৩০ = ৮ সেকেন্ড।

অনুশীলন প্রশ্ন: বিপরীত দিকে চলা দুই ট্রেনের মোট দৈর্ঘ্য ২৪০ মিটার এবং আপেক্ষিক বেগ ৩০ মি./সে. হলে সময় কত?
সমাধান: ২৪০ ÷ ৩০ = ৮ সেকেন্ড। ∴ উত্তর: ৮ সেকেন্ড।

Type-৬ : একই দিকে চলা দুই ট্রেন

শর্টকাট পদ্ধতি
আপেক্ষিক বেগ = দুই বেগের পার্থক্য
অতিক্রমের সময় = মোট দৈর্ঘ্য ÷ আপেক্ষিক বেগ

জেনে রাখুন: একই দিকে চললে দ্রুতগামী ও ধীরগামী ট্রেনের বেগের পার্থক্য নিতে হয়।

সমাধানকৃত উদাহরণ: একই দিকে চলা দুই ট্রেনের মোট দৈর্ঘ্য ২৪০ মিটার এবং আপেক্ষিক বেগ ২০ মি./সে.। এক ট্রেন অন্যটিকে অতিক্রম করতে কত সময় নেবে?

প্রচলিত পদ্ধতি:
ধাপ ১: অতিক্রমের দূরত্ব = দুই ট্রেনের মোট দৈর্ঘ্য = ২৪০ মিটার।
ধাপ ২: আপেক্ষিক বেগ = ২০ মি./সে।
ধাপ ৩: সময় = ২৪০ ÷ ২০ = ১২ সেকেন্ড।
∴ উত্তর: ১২ সেকেন্ড।

শর্টকাটে: একই দিকে চলার ক্ষেত্রে সরাসরি ২৪০ ÷ ২০ = ১২ সেকেন্ড। এখানে যোগ নয়, বেগের পার্থক্য ব্যবহার করতে হয়।

অনুশীলন প্রশ্ন: ২৪০ মিটার মোট দৈর্ঘ্যের দুই ট্রেনের আপেক্ষিক বেগ ২০ মি./সে. হলে অতিক্রমের সময় কত?
সমাধান: ২৪০ ÷ ২০ = ১২ সেকেন্ড। ∴ উত্তর: ১২ সেকেন্ড।

Type-৭ : নৌকা ও স্রোত

শর্টকাট পদ্ধতি
অনুকূলে বেগ = নৌকার বেগ + স্রোতের বেগ
প্রতিকূলে বেগ = নৌকার বেগ − স্রোতের বেগ
সময় = দূরত্ব ÷ বেগ

জেনে রাখুন: স্রোতের দিকে গেলে স্রোতের বেগ যোগ হয়, আর স্রোতের বিপরীতে গেলে স্রোতের বেগ বিয়োগ হয়।

সমাধানকৃত উদাহরণ: স্থির জলে নৌকার বেগ ১৪ কি.মি./ঘণ্টা এবং স্রোতের বেগ ৩ কি.মি./ঘণ্টা। ৩৭৪ কি.মি. যেতে অনুকূলে ও প্রতিকূলে সময় নির্ণয় করো।

প্রচলিত পদ্ধতি:
ধাপ ১: অনুকূলে বেগ = ১৪ + ৩ = ১৭ কি.মি./ঘণ্টা।
ধাপ ২: অনুকূলে সময় = ৩৭৪ ÷ ১৭ = ২২ ঘণ্টা।
ধাপ ৩: প্রতিকূলে বেগ = ১৪ − ৩ = ১১ কি.মি./ঘণ্টা।
ধাপ ৪: প্রতিকূলে সময় = ৩৭৪ ÷ ১১ = ৩৪ ঘণ্টা।
∴ উত্তর: অনুকূলে ২২ ঘণ্টা এবং প্রতিকূলে ৩৪ ঘণ্টা।

শর্টকাটে: ১৪ + ৩ = ১৭, তাই ৩৭৪ ÷ ১৭ = ২২ ঘণ্টা; ১৪ − ৩ = ১১, তাই ৩৭৪ ÷ ১১ = ৩৪ ঘণ্টা। প্রথমে দিক অনুযায়ী বেগ ঠিক করলে দ্রুত হিসাব করা যায়।

অনুশীলন প্রশ্ন: ১৪ কি.মি./ঘণ্টা নৌকার বেগ ও ৩ কি.মি./ঘণ্টা স্রোতের বেগ হলে ৩৭৪ কি.মি. যেতে অনুকূলে ও প্রতিকূলে সময় কত?
সমাধান: অনুকূলে ৩৭৪ ÷ ১৭ = ২২ ঘণ্টা; প্রতিকূলে ৩৭৪ ÷ ১১ = ৩৪ ঘণ্টা। ∴ উত্তর: অনুকূলে ২২ ঘণ্টা এবং প্রতিকূলে ৩৪ ঘণ্টা।

Type-৮ : সমান দূরত্বে গড় গতিবেগ

শর্টকাট পদ্ধতি
গড় গতিবেগ = ২ × প্রথম বেগ × দ্বিতীয় বেগপ্রথম বেগ + দ্বিতীয় বেগ

জেনে রাখুন: সমান দূরত্বে দুই ভিন্ন গতিবেগ হলে শুধু দুই বেগের সাধারণ গড় নিলেই সঠিক গড় গতিবেগ পাওয়া যায় না।

সমাধানকৃত উদাহরণ: সমান দূরত্বের দুই অংশে গতিবেগ ৩০ কি.মি./ঘণ্টা ও ৪৫ কি.মি./ঘণ্টা হলে গড় গতিবেগ নির্ণয় করো।

প্রচলিত পদ্ধতি:
ধাপ ১: সূত্রে প্রথম বেগ ৩০ এবং দ্বিতীয় বেগ ৪৫ বসাই।
ধাপ ২: গড় গতিবেগ = ২ × ৩০ × ৪৫ ÷ (৩০ + ৪৫)।
ধাপ ৩: গড় গতিবেগ = ২৭০০ ÷ ৭৫ = ৩৬ কি.মি./ঘণ্টা।
∴ উত্তর: ৩৬ কি.মি./ঘণ্টা।

শর্টকাটে: ২ × ৩০ × ৪৫ ÷ (৩০ + ৪৫) সরাসরি হিসাব করলেই ৩৬ কি.মি./ঘণ্টা পাওয়া যায়। প্রচলিত ব্যাখ্যার পর এই সূত্রটি সময় বাঁচায়।

অনুশীলন প্রশ্ন: সমান দূরত্ব ৩০ কি.মি./ঘণ্টা ও ৪৫ কি.মি./ঘণ্টা গতিবেগে অতিক্রম করলে গড় গতিবেগ কত?
সমাধান: ২ × ৩০ × ৪৫ ÷ (৩০ + ৪৫) = ৩৬ কি.মি./ঘণ্টা। ∴ উত্তর: ৩৬ কি.মি./ঘণ্টা।

  • আগে একক মিলিয়ে নিলে ভাগের হিসাব নির্ভুল হয়।
  • বিপরীত দিকে বেগ যোগ এবং একই দিকে বেগের পার্থক্য নিতে হয়।
  • প্রচলিত পদ্ধতিতে ধারণা বোঝা যায়, আর শর্টকাটে সময় কম লাগে।

১.২৪ ট্রেন সংক্রান্ত সূত্র ছক

📌 পাঠ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি
  • গতিবেগ নির্ণয় করতে দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করতে হয়।
  • সময় নির্ণয় করতে দূরত্বকে গতিবেগ দিয়ে ভাগ করতে হয়।
  • দূরত্ব নির্ণয় করতে গতিবেগকে সময় দিয়ে গুণ করতে হয়।
  • দূরত্ব ও সময়ের একক মিলিয়ে তারপর ভাগ করতে হয়।
  • ১ মি./সে. = ১৮ কি.মি./ঘণ্টা।
  • ১ কি.মি./ঘণ্টা = ১৮ মি./সে।
  • ট্রেন খুঁটি অতিক্রম করলে অতিক্রমের দূরত্ব ট্রেনের দৈর্ঘ্যের সমান হয়।
  • ট্রেন প্ল্যাটফর্ম অতিক্রম করলে অতিক্রমের দূরত্ব ট্রেনের দৈর্ঘ্য ও প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্যের যোগফলের সমান হয়।
  • বিপরীত দিকে চলা দুই ট্রেনের আপেক্ষিক বেগ নির্ণয়ে তাদের বেগ যোগ করতে হয়।
  • একই দিকে চলা দুই ট্রেনের আপেক্ষিক বেগ নির্ণয়ে বড় বেগ থেকে ছোট বেগ বিয়োগ করতে হয়।
  • নৌকা স্রোতের অনুকূলে চললে নৌকার বেগের সঙ্গে স্রোতের বেগ যোগ হয়।
  • নৌকা স্রোতের প্রতিকূলে চললে নৌকার বেগ থেকে স্রোতের বেগ বিয়োগ হয়।
  • সমান দূরত্বে ভিন্ন ভিন্ন গতিবেগে চললে গড় গতিবেগ নির্ণয়ে মোট দূরত্বকে মোট সময় দিয়ে ভাগ করতে হয়।
  • কোনো সূত্রে হিসাব করার সময় সংখ্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এককও লিখতে হয়, নইলে উত্তর অসম্পূর্ণ থাকে।

১.২৫ ট্রেন মিশ্র অনুশীলন (সমাধানসহ)

ধরন-১ : গতিবেগ নির্ণয়
শর্টকাট পদ্ধতি
গতিবেগ = দূরত্ব ÷ সময়
জেনে রাখুন: দূরত্ব ও সময়ের একক মিলিয়ে তারপর ভাগ করতে হয়।
সমাধানকৃত উদাহরণ: একটি পথের দৈর্ঘ্য ১৫০ কি.মি.। পথটি অতিক্রম করতে সময় লাগে ৩ ঘণ্টা। গতিবেগ নির্ণয় করো।
প্রচলিত পদ্ধতি:
ধাপ ১: দূরত্ব = ১৫০ কি.মি.
ধাপ ২: সময় = ৩ ঘণ্টা
ধাপ ৩: গতিবেগ = দূরত্ব ÷ সময়
ধাপ ৪: গতিবেগ = ১৫০ ÷ ৩ = ৫০ কি.মি./ঘণ্টা
∴ উত্তর: ৫০ কি.মি./ঘণ্টা।
শর্টকাটে: ১৫০ কে ৩ দিয়ে ভাগ করলেই সরাসরি ৫০ কি.মি./ঘণ্টা পাওয়া যায়। এতে সময় কম লাগে।
অনুশীলন প্রশ্ন: ১৫০ কি.মি. পথ ৩ ঘণ্টায় অতিক্রম করা হলে প্রতি ঘণ্টায় কত দূরত্ব অতিক্রম করা হয়?
সমাধান:
ধাপ ১: প্রতি ঘণ্টায় দূরত্ব = মোট দূরত্ব ÷ মোট সময়
ধাপ ২: প্রতি ঘণ্টায় দূরত্ব = ১৫০ ÷ ৩
ধাপ ৩: প্রতি ঘণ্টায় দূরত্ব = ৫০ কি.মি.
∴ উত্তর: ৫০ কি.মি./ঘণ্টা।
ধরন-২ : একক রূপান্তর
শর্টকাট পদ্ধতি
মি./সে. থেকে কি.মি./ঘণ্টা = মি./সে. × ১৮
জেনে রাখুন: একক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে উত্তরের এককও পরিবর্তন করতে হয়।
সমাধানকৃত উদাহরণ: ১৫ মি./সে. কে কি.মি./ঘণ্টায় প্রকাশ করো।
প্রচলিত পদ্ধতি:
ধাপ ১: মি./সে. থেকে কি.মি./ঘণ্টায় যেতে ১৮ দিয়ে গুণ করতে হয়।
ধাপ ২: ১৫ × ১৮ = ৫৪
∴ উত্তর: ৫৪ কি.মি./ঘণ্টা।
শর্টকাটে: ১৫ × ১৮ ÷ ৫ = ৫৪ করলে দ্রুত একই উত্তর পাওয়া যায়।
অনুশীলন প্রশ্ন: ১৫ মি./সে. বেগে চলা একটি বস্তুর বেগ কি.মি./ঘণ্টায় কত?
সমাধান:
ধাপ ১: বেগ = ১৫ মি./সে.
ধাপ ২: রূপান্তরিত বেগ = ১৫ × ১৮ ÷ ৫
ধাপ ৩: রূপান্তরিত বেগ = ৫৪ কি.মি./ঘণ্টা
∴ উত্তর: ৫৪ কি.মি./ঘণ্টা।
ধরন-৩ : ট্রেন ও খুঁটি বা প্ল্যাটফর্ম
শর্টকাট পদ্ধতি
সময় = দূরত্ব ÷ গতিবেগ
খুঁটি অতিক্রমের দূরত্ব = ট্রেনের দৈর্ঘ্য
প্ল্যাটফর্ম অতিক্রমের দূরত্ব = ট্রেনের দৈর্ঘ্য + প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য
জেনে রাখুন: ৯০ কি.মি./ঘণ্টা = ২৫ মি./সে.।
সমাধানকৃত উদাহরণ: একটি ট্রেনের দৈর্ঘ্য ৩০০ মিটার এবং গতিবেগ ৯০ কি.মি./ঘণ্টা। ট্রেনটি একটি খুঁটি ও ৪৫০ মিটার দীর্ঘ প্ল্যাটফর্ম অতিক্রম করতে কত সময় নেবে?
প্রচলিত পদ্ধতি:
ধাপ ১: ৯০ কি.মি./ঘণ্টা = ৯০ × ১৮ = ২৫ মি./সে.
ধাপ ২: খুঁটি অতিক্রমের দূরত্ব = ৩০০ মিটার
ধাপ ৩: খুঁটি অতিক্রমের সময় = ৩০০ ÷ ২৫ = ১২ সেকেন্ড
ধাপ ৪: প্ল্যাটফর্ম অতিক্রমের দূরত্ব = ৩০০ + ৪৫০ = ৭৫০ মিটার
ধাপ ৫: প্ল্যাটফর্ম অতিক্রমের সময় = ৭৫০ ÷ ২৫ = ৩০ সেকেন্ড
∴ উত্তর: খুঁটি অতিক্রমে ১২ সেকেন্ড এবং প্ল্যাটফর্ম অতিক্রমে ৩০ সেকেন্ড।
শর্টকাটে: আগে ২৫ মি./সে. বেগ নির্ণয় করে ৩০০ ÷ ২৫ এবং (৩০০ + ৪৫০) ÷ ২৫ করলেই দ্রুত উত্তর পাওয়া যায়।
অনুশীলন প্রশ্ন: একই ট্রেন ৯০ কি.মি./ঘণ্টা বেগে চললে ৪৫০ মিটার প্ল্যাটফর্ম অতিক্রমের সময় কত?
সমাধান:
ধাপ ১: ৯০ কি.মি./ঘণ্টা = ২৫ মি./সে.
ধাপ ২: মোট দূরত্ব = ৩০০ + ৪৫০ = ৭৫০ মিটার
ধাপ ৩: সময় = ৭৫০ ÷ ২৫ = ৩০ সেকেন্ড
∴ উত্তর: ৩০ সেকেন্ড।
ধরন-৪ : দুই ট্রেনের আপেক্ষিক বেগ
শর্টকাট পদ্ধতি
বিপরীত দিকে আপেক্ষিক বেগ = বেগের যোগফল
একই দিকে আপেক্ষিক বেগ = বেগের পার্থক্য
অতিক্রমের সময় = মোট দৈর্ঘ্য ÷ আপেক্ষিক বেগ
জেনে রাখুন: বিপরীত দিকে চললে বেগ যোগ হয়, একই দিকে চললে বেগের পার্থক্য নেওয়া হয়।
সমাধানকৃত উদাহরণ: ১৫৭ মিটার ও ১৫৮ মিটার দীর্ঘ দুটি ট্রেনের গতিবেগ যথাক্রমে ৯০ কি.মি./ঘণ্টা ও ৩৬ কি.মি./ঘণ্টা। বিপরীত দিকে চললে তারা কত সময়ে একে অপরকে অতিক্রম করবে?
প্রচলিত পদ্ধতি:
ধাপ ১: ৯০ কি.মি./ঘণ্টা = ২৫ মি./সে.
ধাপ ২: ৩৬ কি.মি./ঘণ্টা = ১০ মি./সে.
ধাপ ৩: বিপরীত দিকে আপেক্ষিক বেগ = ২৫ + ১০ = ৩৫ মি./সে.
ধাপ ৪: মোট দৈর্ঘ্য = ১৫৭ + ১৫৮ = ৩১৫ মিটার
ধাপ ৫: সময় = ৩১৫ ÷ ৩৫ = ৯ সেকেন্ড
∴ উত্তর: ৯ সেকেন্ড।
শর্টকাটে: মোট দৈর্ঘ্য ৩১৫ মিটার এবং আপেক্ষিক বেগ ৩৫ মি./সে. বসিয়ে ৩১৫ ÷ ৩৫ = ৯ করা যায়।
অনুশীলন প্রশ্ন: একই দিকে চলার ক্ষেত্রে আপেক্ষিক বেগ ১৫ মি./সে. হলে অতিক্রমের সময় ২১ সেকেন্ড। অতিক্রমের মোট দৈর্ঘ্য কত?
সমাধান:
ধাপ ১: মোট দৈর্ঘ্য = আপেক্ষিক বেগ × সময়
ধাপ ২: মোট দৈর্ঘ্য = ১৫ × ২১
ধাপ ৩: মোট দৈর্ঘ্য = ৩১৫ মিটার
∴ উত্তর: ৩১৫ মিটার।
ধরন-৫ : নৌকা ও গড় গতিবেগ
শর্টকাট পদ্ধতি
অনুকূলে বেগ = নৌকার বেগ + স্রোতের বেগ
প্রতিকূলে বেগ = নৌকার বেগ − স্রোতের বেগ
গড় গতিবেগ = মোট দূরত্বমোট সময়
জেনে রাখুন: সমান দূরত্বে ভিন্ন গতিবেগ হলে মোট দূরত্বকে মোট সময় দিয়ে ভাগ করতে হয়।
সমাধানকৃত উদাহরণ: স্থির জলে নৌকার বেগ ১৪ কি.মি./ঘণ্টা এবং স্রোতের বেগ ৩ কি.মি./ঘণ্টা। ৩৭৪ কি.মি. যেতে অনুকূলে ও প্রতিকূলে কত সময় লাগবে?
প্রচলিত পদ্ধতি:
ধাপ ১: অনুকূলে বেগ = ১৪ + ৩ = ১৭ কি.মি./ঘণ্টা
ধাপ ২: অনুকূলে সময় = ৩৭৪ ÷ ১৭ = ২২ ঘণ্টা
ধাপ ৩: প্রতিকূলে বেগ = ১৪ − ৩ = ১১ কি.মি./ঘণ্টা
ধাপ ৪: প্রতিকূলে সময় = ৩৭৪ ÷ ১১ = ৩৪ ঘণ্টা
ধাপ ৫: সমান দূরত্বে ৪৫ ও ৩০ কি.মি./ঘণ্টা বেগের গড় = ২ × ৪৫ × ৩০ ÷ (৪৫ + ৩০)
ধাপ ৬: গড় গতিবেগ = ২৭০০ ÷ ৭৫ = ৩৬ কি.মি./ঘণ্টা
∴ উত্তর: অনুকূলে ২২ ঘণ্টা, প্রতিকূলে ৩৪ ঘণ্টা এবং গড় গতিবেগ ৩৬ কি.মি./ঘণ্টা।
শর্টকাটে: ১৪ + ৩, ১৪ − ৩ এবং ২ × ৪৫ × ৩০ ÷ (৪৫ + ৩০) সরাসরি ব্যবহার করলে দ্রুত উত্তর পাওয়া যায়।
অনুশীলন প্রশ্ন: ৩৭৪ কি.মি. পথ অনুকূলে ১৭ কি.মি./ঘণ্টা এবং প্রতিকূলে ১১ কি.মি./ঘণ্টা বেগে অতিক্রম করলে দুই সময়ের পার্থক্য কত?
সমাধান:
ধাপ ১: অনুকূলে সময় = ৩৭৪ ÷ ১৭ = ২২ ঘণ্টা
ধাপ ২: প্রতিকূলে সময় = ৩৭৪ ÷ ১১ = ৩৪ ঘণ্টা
ধাপ ৩: সময়ের পার্থক্য = ৩৪ − ২২ = ১২ ঘণ্টা
∴ উত্তর: ১২ ঘণ্টা।

অধ্যায়ের প্রশ্নব্যাংক : ধাপে ধাপে সমাধান

প্রশ্ন ১
একটি খাতায় ১৮টি কলম আছে। প্রথমে ৭টি কলম নেওয়া হলো, তারপর আরও ৫টি কলম যোগ করা হলো। শেষ অবস্থা কোনটি সঠিকভাবে প্রকাশ করে?
ক) ১৮ − ৭ + ৫ = ১৬
খ) ১৮ + ৭ − ৫ = ২০
গ) ১৮ − ৭ − ৫ = ৬
ঘ) ১৮ + ৭ + ৫ = ৩০
সমাধান :
দেওয়া আছে : শুরুতে কলম = ১৮টি
যা বের করতে হবে : শেষ অবস্থায় কলমের সংখ্যা
সূত্র : শেষ সংখ্যা = শুরুর সংখ্যা − নেওয়া সংখ্যা + যোগ করা সংখ্যা
ধাপ ১ : শেষ সংখ্যা = ১৮ − ৭ + ৫
ধাপ ২ : ১৮ − ৭ = ১১
ধাপ ৩ : ১১ + ৫ = ১৬
উত্তর : ● ক) ১৮ − ৭ + ৫ = ১৬
প্রশ্ন ২
একটি কেকের ৩/৪ অংশ ছিল। তার মধ্যে ১/৬ অংশ খাওয়া হলো। অবশিষ্ট অংশের সঠিক মান কোনটি?
ক) ৫/১২
খ) ৭/১২
গ) ২/৩
ঘ) ১/৪
সমাধান :
দেওয়া আছে : কেকের অংশ = ৩/৪; খাওয়া অংশ = ১/৬
যা বের করতে হবে : অবশিষ্ট অংশ
সূত্র : অবশিষ্ট অংশ = মোট অংশ − খাওয়া অংশ
ধাপ ১ : ৩/৪ − ১/৬
ধাপ ২ : ৩/৪ = ৯/১২ এবং ১/৬ = ২/১২
ধাপ ৩ : ৯/১২ − ২/১২ = ৭/১২
উত্তর : ● খ) ৭/১২
প্রশ্ন ৩
নিচের কোন ভগ্নাংশটি ২/৩ এবং ৩/৪—এই দুই ভগ্নাংশের মাঝখানে আছে?
ক) ৫/৮
খ) ৪/৫
গ) ১/২
ঘ) ৩/৫
সমাধান :
দেওয়া আছে : ভগ্নাংশ দুটি = ২/৩ এবং ৩/৪
যা বের করতে হবে : মাঝখানে থাকা ভগ্নাংশ
সূত্র : একই হরে এনে ভগ্নাংশগুলোর মান তুলনা করতে হবে
ধাপ ১ : ২/৩ = ১৬/২৪
ধাপ ২ : ৩/৪ = ১৮/২৪
ধাপ ৩ : ৫/৮ = ১৫/২৪
ধাপ ৪ : ১৫/২৪, ১৬/২৪-এর চেয়ে ছোট
ধাপ ৫ : তাই ৫/৮, ২/৩ এবং ৩/৪-এর মাঝখানে নয়
উত্তর : ● ক) ৫/৮
[সংরক্ষিত উত্তর ও হিসাবের ফল ভিন্ন — শিক্ষক যাচাই করুন]
প্রশ্ন ৪
একটি থলিতে ১২টি মার্বেল ছিল। প্রতি বন্ধু সমান সংখ্যায় মার্বেল পেলে ৪ জন বন্ধু কতটি করে মার্বেল পাবে?
ক) ২টি
খ) ৩টি
গ) ৪টি
ঘ) ৬টি
সমাধান :
দেওয়া আছে : মোট মার্বেল = ১২টি; বন্ধু = ৪ জন
যা বের করতে হবে : প্রত্যেক বন্ধুর মার্বেল
সূত্র : প্রত্যেকের মার্বেল = মোট মার্বেল ÷ বন্ধুর সংখ্যা
ধাপ ১ : প্রত্যেকের মার্বেল = ১২ ÷ ৪
ধাপ ২ : ১২ ÷ ৪ = ৩
উত্তর : ● খ) ৩টি
প্রশ্ন ৫
একটি সংখ্যার সাথে ৬ যোগ করলে ফল ১৫ হয়। সংখ্যাটি কোনটি?
ক) ৯
খ) ২১
গ) ১০
ঘ) ৮
সমাধান :
দেওয়া আছে : একটি সংখ্যার সঙ্গে ৬ যোগ করলে ফল = ১৫
যা বের করতে হবে : সংখ্যাটি
সূত্র : সংখ্যা = ফল − যোগ করা সংখ্যা
ধাপ ১ : সংখ্যা = ১৫ − ৬
ধাপ ২ : ১৫ − ৬ = ৯
উত্তর : ● ক) ৯
উত্তরমালা
প্রশ্ন নম্বরসঠিক উত্তর
ক) ১৮ − ৭ + ৫ = ১৬
খ) ৭/১২
ক) ৫/৮ — শিক্ষক যাচাই প্রয়োজন
খ) ৩টি
ক) ৯

 

💡 Key Concepts
স্বাভাবিক সংখ্যা (Natural Number): গণনার কাজে ব্যবহার করা সংখ্যাগুলো; যেমন: ১, ২, ৩, ৪, … (শূন্যকে সাধারণত পৃথকভাবে দেখায়)।
অঙ্কপাতন (Place value): দশ-ভিত্তিক রীতি অনুযায়ী ডানদিক থেকে প্রথম স্থান একক, দ্বিতীয় দশক, তৃতীয় শতক ইত্যাদি; বামদিকে প্রতিটি স্থান দশগুণ করে বাড়ে।
দেশীয় সংখ্যাপঠন রীতি: ডানদিক থেকে প্রথম তিন ঘর একক-দশক-শতক, এরপর দুই ঘর করে (হাজার, নিযুত/হাজার আজব, লক্ষ, কোটি ইত্যাদি)। উদাহরণে কমা বসানোর নিয়ম: ডান থেকে তিন অঙ্ক পরে একটি কমা, তারপর দুই অঙ্ক পর পর কমা।
আন্তর্জাতিক সংখ্যাপঠন রীতি: ডান থেকে তিন অঙ্ক পর পর কমা (একক, হাজার, মিলিয়ন, বিলিয়ন …)।
মৌলিক সংখ্যা: ১ ও নিজেকে বাদে অন্য গুণনীয়ক নেই। যৌগিক সংখ্যা: ১ এবং নিজেকে ছাড়া অন্যান্য গুণনীয়ক আছে।
সহমৌলিক সংখ্যা (coprime): দুই বা ততোধিক সংখ্যার সাধারণ গুণনীয়ক যদি শুধু ১ হয়, তবে তারা পরস্পর সহমৌলিক।
বিভাজ্যতার নিয়মগুলো (পাঠ্যপুস্তকের বিবরণ অনুসারে): - 2 দ্বারা বিভাজ্য: সংখ্যার একক অঙ্ক 0,2,4,6 বা 8 হলে। - 5 দ্বারা বিভাজ্য: একক অঙ্ক 0 বা 5 হলে। - 4 দ্বারা বিভাজ্য: সংখ্যা যদিহারে একক ও দশকের অঙ্ক দ্বারা গঠিত শেষ দুই-অঙ্কবিশিষ্ট সংখ্যা ৪ দ্বারা বিভাজ্য হয়। - 8 দ্বারা বিভাজ্য: শেষ তিন অঙ্ক দ্বারা গঠিত সংখ্যা ৮ দ্বারা বিভাজ্য হলে। (পাঠ্যপুস্তকে উদাহরণ এবং বিশ্লেষণ আছে) - 3 দ্বারা বিভাজ্য: সংখ্যার অঙ্কগুলোর যোগফল ৩ দ্বারা বিভাজ্য হলে। - 9 দ্বারা বিভাজ্য: অঙ্কগুলোর যোগফল ৯ দ্বারা বিভাজ্য হলে। - 6 দ্বারা বিভাজ্য: সংখ্যাটি 2 এবং 3 উভয় দ্বারা বিভাজ্য হলে।
🔨 Worked Examples
Q1:
A: ডানদিক থেকে তিন ঘর পরে এবং এরপর দুই ঘর পর পর কমা বসালে: ৯৮,৭৫,৪৭,৩২১। কথায়: আটানব্বই কোটি পঁচাত্তর লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার তিনশ একুশ। (পাঠ্যপুস্তকের উদাহরণ)
Q2:
A: ১৪৭: 1+4+7 = 12। 12 হল 3 দ্বারা বিভাজ্য → ১৪৭ ৩ দ্বারা বিভাজ্য। ১৪৮: 1+4+8 = 13। 13 ৩ দ্বারা বিভাজ্য নয় → ১৪৮ ৩ দ্বারা বিভাজ্য নয়। (পাঠ্যপুস্তকের উদাহরণ)
Q3:
A: ৩+৭+৮ = ১৮। ১৮ ৯ দ্বারা বিভাজ্য → ৩৭৮ ৯ দ্বারা বিভাজ্য। (পাঠ্যপুস্তকের উদাহরণ)
Q4:
A: জায়েফের অঙ্কগুলো দিয়ে বৃহত্তম সংখ্যা = ৮৭৪৩২০; ক্ষুদ্রতম = ২০৩৪৭৮। বিয়োগফল: ৮৭৪৩২০ − ২০৩৪৭৮ = ৬৭০৮৪২। অঙ্কগুলোর যোগফল = 6+7+0+8+4+2 = 27 → ২৭ ৯ দ্বারা বিভাজ্য → ফলে বিয়োগফল ৯ দ্বারা বিভাজ্য। (পাঠ্যপুস্তকের ধাপসমূহ অনুসরণ করে প্রদর্শিত উদাহরণ)
Q5:
A: ৪+৭+৫+১+২ = ১৯। যদি স্থানে x বসানো হয় তাহলে যোগফল হবে ১৯ + x। ১৯ + x যদি ৩ দ্বারা বিভাজ্য হবে, তাহলে x হতে পারে ০, ৩, ৬ বা ৯ (কারণ ১৯+০=১৯ (৩ দ্বারা বিভাজ্য নয়) — পাঠ্যপুস্তকে বিশ্লেষণ অনুযায়ী শূন্যসহ ০,৩,৬,৯ যেকোনোটি বসালে ৩ দ্বারা বিভাজ্য হবে বলে দেখানো হয়েছে)। (পাঠ্যপুস্তকের উদাহরণ অনুযায়ী)
📋 Summary
এই অধ্যায়ে আমরা শিখেছি স্বাভাবিক সংখ্যার ধারণা, দশ-ভিত্তিক অঙ্কপাতন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংখ্যাপঠন রীতি এবং কিভাবে কমা বসিয়ে সংখ্যা পড়তে হয়। মৌলিক, যৌগিক ও সহমৌলিক সংখ্যার সংক্ষিপ্ত পরিচয় পেয়েছি। পাশাপাশি বিভাজ্যতার নিয়ম (২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৮, ৯) ও তাদের ব্যবহার উদাহরণসহ তুলেছি। অধ্যায়ের মূল বিষয় হল অঙ্কপাতন বুঝে নির্ভুলভাবে সংখ্যা গঠন ও পড়া এবং অঙ্কগুলোর মাধ্যমে সংখ্যার বৈশিষ্ট্য নির্ণয় করা।
Related Tools — Try These Next
🔢
CGPA Calculator
Calculate your GPA
📋
MCQ Practice
Stay exam-ready
📚
Question Bank
Past papers
🧠
Assessment Hub
Generate test questions
Browse all 18+ tools →
🎓 Planning to apply? Browse our complete university admission guide → with requirements, fees, and cutoffs for all 22 major universities in Bangladesh.
Kabir — Ask me about admissions! 🎓

AdmissionPaths Support

🟢 Online · How can we help?
🧑
Ask Kabir
Admission advisor · 20+ yrs
💬
Live Support Chat
AI-powered · instant replies
🎫
Submit a Ticket
Response within 24 hours
Browse FAQ
Quick answers
🤖
AdmissionPaths Support
🟢 AI-powered · replies instantly